ঢাকা ৬ বৈশাখ ১৪৩১, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

আমরা আঁকি

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৪, ১২:১৬ পিএম
আমরা আঁকি

সামান্থা মেহনাজ বিনীতা
৪র্থ শ্রেণি
ইক্বরা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল
ঢাকা

মাইনুল এইচ সিরাজী এর 'মধ্যরাতের আতঙ্ক'

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৫১ পিএম
মাইনুল এইচ সিরাজী এর 'মধ্যরাতের আতঙ্ক'

আজ আমি বাসায় একা।
এটা আমার জন্য অভূতপূর্ব। ভয়েরও। আমি জানি না রাতটা কীভাবে কাটবে। কোন আতঙ্ক অপেক্ষা করছে আমাকে কাবু করে দেওয়ার জন্য!

আমি অতটা ভিতু নই। কিন্তু আমার ছোট্ট এই জীবনে এমন কিছু ঘটনার মুখোমুখি হয়েছি যে, ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক ছিল। এখন হঠাৎ হঠাৎ সময়ে-অসময়ে সেসব ঘটনা মনে হলে আমি আঁতকে উঠি। আর ভয় পেলে বোধ হয় মানুষের গলাও শুকিয়ে যায়। গলা শুকানোর সঙ্গে আমার আরেকটা উপসর্গ যোগ হয়-মেরুদণ্ড বেয়ে শীতল একটা অনুভূতি খেলা করে। যেন একটা সাপ আমার পিঠ বরাবর নামছে-উঠছে।
আজ রাতে আমি একা। সেই অনুভূতিগুলো আস্তে আস্তে কাজ শুরু করে দিয়েছে।
বেশির ভাগ আতঙ্কের সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটেছে হোস্টেলে। আমাদের কলেজটা পাহাড়ি এলাকায়। হোস্টেলের অবস্থান কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বেশ খানিকটা দূরে। তখন আমি মাত্র হোস্টেলে উঠেছি। বেশি কিছু জানা ছিল না। 
একদিন শহর থেকে ফিরতে রাত হয়ে গিয়েছিল। হোস্টেল গেটের অন্তত আধা কিলোমিটার আগে রিকশা ছেড়ে দিয়েছি। এই জায়গাটা বেশ উঁচু। রিকশা উঠতে চায় না। আমি হাঁটা ধরলাম। মিনিট বিশেক হাঁটলেই হোস্টেলে পৌঁছে যাব।
শীতকাল। ঘন কুয়াশায় ছেয়ে গেছে চারপাশ। মাফলারটা মাথায় আর গলায় ভালো করে পেঁচিয়ে নিলাম। অন্ধকারে সাবধানে হাঁটছি। একটু ভয়ও করছে। কিছুটা সামনে রাস্তার পাশে একটা আগুনের কুণ্ডলী দেখা গেল। নিশ্চয়ই কেউ আগুন পোহাচ্ছে। নিমেষেই ভয় দূর হয়ে গেল আমার। আমি এগিয়ে গেলাম কুণ্ডলীর দিকে।
ভাপা পিঠার দোকান। এক বৃদ্ধ মহিলা মাটির চুলায় পিঠা বানাচ্ছেন। পাটালি গুড়ের ঘ্রাণ আর পিঠার ভাপে মুগ্ধ হয়ে আমি দাঁড়িয়ে গেলাম।
মহিলা জিজ্ঞেস করলেন, ‘পকেটে কত টাকা আছে?’
আমি বললাম, ‘আছে। পিঠার দাম কত?’
‘একটা দশ টাকা।’
‘আমাকে একটা দেন।’
‘দাঁড়াও, বানিয়ে দিচ্ছি।’
মাটির পাত্রে পিঠার উপকরণ সাজালেন মহিলা। চালের গুঁড়া, নারকেল আর পাটালি গুড়। আমি বললাম, ‘গুড় একটু বাড়িয়ে দিয়েন।’ আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন তিনি। আমার বুকটা ধক করে উঠল। এই হাসিটা অন্য রকম। স্বাভাবিক নয়। চোখ-মুখ কিছুই স্বাভাবিক নয়।
হঠাৎ আমার মনে হলো, মহিলা এতক্ষণ যে পিঠাগুলো বানালেন সেগুলো কই? আশপাশে কোনো ক্রেতাকে তো দেখছি না! ঝোঁকের বশে আমি বলেই ফেললাম, ‘আপনার আগের পিঠাগুলো কই?’
মহিলা আবার অস্বাভাবিক মুচকি হেসে বললেন, ‘বেচা হয়ে গেছে। দশ টাকা করে।’
একটা ঢোক গিলে আমি বললাম, ‘কারা কিনল?’
রাস্তার পাশের জঙ্গলের দিকে তর্জনী নির্দেশ করে মহিলা বললেন, ‘ওরা।’
সঙ্গে সঙ্গে ঝম ঝম শব্দ শুনতে পেলাম আমি। জঙ্গলের দিক থেকে আসছে। যেন নূপুর পরে হেঁটে যাচ্ছে কেউ।
এখানে অতিপ্রাকৃত কিছু একটা ঘটছে- এটা মনে হতেই আমি লক্ষ করলাম, চুলায় ফুঁ দিচ্ছেন তিনি, মুখ থেকে আগুন বেরিয়ে জ্বলে উঠছে চুলা! 
আমি বোধ হয় একটা চিৎকার দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু চিৎকারটা বের হয়েছে বলে মনে হয়নি। পিঠের ওপর সাপের আনাগোনাও টের পেয়েছি। 
রাতে সিকিউরিটির লোকজন রাস্তার পাশ থেকে আমাকে উদ্ধার করেছে। পরদিন সকালে এই ঘটনা ঘটার কারণ আদ্যোপান্ত জানতে পারলাম।
আমাদের হোস্টেল ডাইনিংয়ের বাবুর্চি ছিলেন এই মহিলা। দুই পায়ে নূপুর পরতেন। মৃগী রোগ ছিল তাঁর। হোস্টেলের ছাত্রদের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে ওষুধ কিনতেন। সাহায্য নেওয়ার ধরনটা ছিল ব্যতিক্রম। দশ টাকা নিতেন। কমও না, বেশিও না।
কিন্তু তিনি বাঁচতে পারেননি। রান্না করার সময় হঠাৎ মৃগী রোগ দেখা দিয়েছিল। আগুনে পুড়ে মারা যান তিনি।
এরপর হোস্টেলের আশপাশে তাঁকে অনেকেই দেখেছে নানান বেশে। বেশির ভাগ সময় ভাপা পিঠা বানান তিনি। একাকী পথ চলার সময় তিনি দেখা দেন। নূপুরের শব্দও শোনা যায়। ঝম ঝম।
আমাদের হুজুর স্যার বলেন, এটা আসলে জিন। জিনেরা নানান আকৃতি ধারণ করতে পারে-মানুষ, বিড়াল, কুকুর, সাপ। এই জিনটা বাবুর্চি মহিলাকে বেছে নিয়েছে। জিনেরা বাস করে পাহাড়ে, গর্তে, খোলা মাঠে, তিন রাস্তার মোড়ে আর মানুষের বাসাবাড়িতে। ভালো জিন ছাদে অবস্থান করে মানুষকে পাহারা দেয়। খারাপ জিন থাকে বাথরুমে।

আজ সব কথা আমার হুড়মুড়িয়ে মনে আসছে। আজ রাতে বাসায় আমাকে একা থাকতে হবে।
বাবার এক বন্ধু মারা গেছেন সকালে। তাঁর বড় ছেলে বিদেশ থেকে আসতে রাত হবে। সকালে জানাজা। মা-বাবা গেছেন ও বাড়িতে। একা থাকতে যে আমার এত ভয়, মা-বাবা তো জানেন না। আমিও-বা কী করে বলি। কলেজে পড়ি আমি। এসব কথা কি বলা যায়?
দোয়া-দরুদ যা মুখস্থ আছে, সব পড়ে শুয়ে পড়লাম। ঘুম আসবে না জানি। তবু চেষ্টা করতে থাকলাম। প্রথম চেষ্টা উল্টো থেকে ভেড়া গোনা-দশ, নয়, আট...।
না, ঘুম আসছে না। এপাশ-ওপাশ করছি। খাটের শব্দেও আঁতকে উঠছি। বাথরুমে যাওয়া দরকার। কিন্তু হুজুর স্যার যে বললেন বাথরুমে খারাপ জিন থাকে!
উপায় নেই। বিসমিল্লাহ পড়ে বাথরুমের লাইট জ্বালালাম। আয়নায় নিজেকে দেখে চমকে ওঠার জোগাড়। আচ্ছা, এটা আমি তো! নাকি জিন! আমাদের বাড়িতে জিন থাকার সম্ভাবনা কতটুকু? ভাবতে ভাবতে বাথরুম থেকে বেরিয়ে আবার শুয়ে পড়লাম। এবার মনে পড়ল, আমাদের বাড়িটা তিন রাস্তার মোড়ে! সর্বনাশ, জিন তো থাকবেই! ফ্যানের স্পিড বাড়িয়ে আপাদমস্তক কাঁথায় ঢেকে ফেললাম নিজেকে।একটু তন্দ্রা এসেছিল মনে হয়। খস খস শব্দে সেটাও ছুটে গেল। খাটের নিচ থেকে শব্দটা আসছে। কেউ যেন পা ঘষে ঘষে হেঁটে যাচ্ছে। আমার গা কাঁটা দিয়ে উঠল। কী হতে পারে? ইঁদুর-বিড়াল তো এভাবে হাঁটে না। বিড়াল! জিনেরা বিড়ালের বেশ ধরতে পারে। কাঁথা মুড়িয়ে নিজেকে আরও লুকানোর চেষ্টা করলাম। না, বিড়াল হতে পারে না। বিড়াল নিঃশব্দে হাঁটে। অন্য কিছু। সাহস করে উঠে লাইট জ্বালালাম। দুরু দুরু বুকে উঁকি দিলাম খাটের নিচে। নিজেকে বোকা মনে হলো। ফ্যানের বাতাসে ফুলে ওঠা একটা পলিব্যাগ এদিক-ওদিক ছুটছে।
মনে মনে হাসলাম কিছুক্ষণ। মনের বাঘকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। বাসায় কি লেবু আছে? দরকার। গলা শুকিয়ে এসেছে। লেবুর শরবত খাওয়া দরকার। আরও একটা কারণে লেবু থাকা উচিত। বাসায় লেবু থাকলে জিন আসে না। হুজুর স্যার বলেছেন।

ফ্রিজ খুলে লেবু খুঁজছি। ঝুম ঝুম শব্দে কান খাড়া হয়ে গেল। নূপুরের শব্দ। কোত্থেকে আসছে?
ভয় ছাড়িয়ে চিন্তার জট লেগে গেল। মাথাটা ঘুরে উঠল হঠাৎ। তাল সামলানোর আগেই কলিংবেল বেজে উঠল। এত রাতে কে এল আবার। আমার চিন্তা কাজ করছে না। এলোমেলো পায়ে এগিয়ে গিয়ে দরজা খুলে দিলাম। দুজন মানুষ দাঁড়িয়ে মুচকি হাসছেন। বাবার বন্ধু। যিনি আজ সকালে মারা গেছেন। আর বাবুর্চি মহিলাটা।
ঠাস করে দরজা বন্ধ করে দিলাম আমি। বাবা-মা উঠে এসে বললেন, ‘কী রে, এত রাতে দরজা খুলেছিস কেন?’

জাহ্নবী

মাসুম আওয়াল এর 'ব্যাঙ ও বোয়াল রাজা'

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৪৯ পিএম
মাসুম আওয়াল এর 'ব্যাঙ ও বোয়াল রাজা'

ছোট নদীটার পাড়ে গায়ছিল ব্যাঙরা,
গান শুনে ছুটে আসে পুঁটি আর ট্যাংরা
সুরে সুরে দেয় দোল
আসে রূপচাঁদা শোল
আরও আসে কই বেলে নাচপ্রিয় কাচকি
ব্যাঙদের গান মিস করে কোনো মাছ কি!

শিং, পোয়া, মলা এলো বাদ যাবে আর কে?
কালিবাউসের সঙ্গে এলো ফলি ডাড়কে।
গানপ্রিয় মাছগুলো করে কেউ লেট কি!
ছুটে এলো তিতপুঁটি টাটকিনি ভেটকি।

উড়ুক্কু পাঁচচোখা কেউ বাদ যায় না
তোপসে চিতল ডাকে কোরালকে আয় না
অতিথি ইলিশ মাছও ছানাসহ আসল
গলদা ঢেউস আর খয়রারা ভাসল।

এ নদীর রাজা ছিল এক পাজি বোয়ালে
তার মুখে পড়েছ কি নিজ প্রাণ খোয়ালে
রাজার হুকুম শোনো, গান শোনা বন্ধ
এ রাজ্যে নিষিদ্ধ সব সুর ছন্দ।

‘পুরে নিয়ে যাব আজ সবাইকে চোয়ালে’
হুংকার দিল ওই মাছরাজা বোয়ালে।

নদীটার পাড় ধরে হাওয়া বয় বৈরী,
হুংকার শুনে সব পালাতেই তৈরি।
হঠাৎ বোয়াল এসে তাণ্ডব চালাল
বোয়ালের দেখা পেয়ে সব মাছ পালাল।

ফিরে গেল সব্বাই যার যার ডেরাতে
ব্যাঙরাও গান ভুলে হাওয়া হলো সে রাতে।
সবার শান্তি কেড়ে বোয়ালটা থামল,
ছোট নদীটার পাড়ে নীরবতা নামল।

গানহীন দেশ কোনো! ভাবাই তো যায় না!
এমন নিরব নদী কোনো মাছ চায় না।

জাহ্নবী

ডার্ক এনার্জি

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৪৮ পিএম
ডার্ক এনার্জি

কলমের নিপের চেয়েও অনেক ক্ষুদ্র কণা থেকে এক মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর আগে সৃষ্টি হয় আমাদের এই মহাবিশ্বের। এই মহাবিস্ফোরণকে আমরা বিখ্যাত বিগ ব্যাং থিওরি দিয়ে ব্যাখ্যা করতে পারি।

সাধারণত যেকোনো বিস্ফোরণের পরে তা থেকে উৎপন্ন কণাগুলোর ছড়িয়ে পড়ার গতি ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। একইভাবে বিগ ব্যাং বিস্ফোরণের পর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গ্র্যাভিটেশন বলের কারণে মহাবিশ্বের প্রসারণের গতি কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু বিপত্তি ঘটে ১৯৯৮ সালে যখন দুই দল বিজ্ঞানী মহাবিশ্বের প্রসারণের গতি হ্রাসের পরিমাপ করার জন্য হাবল টেলিস্কোপের সাহায্যে (Type 1A supernova) বিস্ফোরণের ওপর পর্যবেক্ষণ করেন। তখন তারা দেখতে পান যে, মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের গতি কমা বা স্থিতিশীল থাকার পরিবর্তে প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর জন্য প্রয়োজন প্রচুর শক্তি যা মধ্যাকর্ষণ এর বিপরীতে ক্রিয়া করবে। কিন্তু তৎকালীন বিজ্ঞানীদের কাছে এটি ছিল অসম্ভব ঘটনা। কারণ তখন বিজ্ঞানীদের কাছে এই প্রসারণের পেছনে ক্রিয়াশীল বল সম্পর্কে কোনো ধারণাই ছিল না। তাই তারা এই অদৃশ্য শক্তির নাম দেন ডার্ক এনার্জি বা তমোশক্তি। আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি, আমাদের মহাবিশ্ব ৬৮ শতাংশ ডার্ক এনার্জি দিয়ে তৈরি।

তবে আইনস্টাইন আগেই ডার্ক এনার্জির অনুমান করতে পেরেছিলেন। এক ধরনের মহাজাগতিক বিকর্ষণকারী শক্তি প্রথম ১৯১৭ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন দ্বারা উন্মোচন করা হয়েছিল এবং এটি একটি শব্দ দ্বারা প্রতিনিধিত্ব করা হয়েছিল, ‘মহাজাগতিক ধ্রুবক’, যা আইনস্টাইন অনিচ্ছাকৃতভাবে তার সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্বে প্রবর্তন করেছিলেন, যাতে মধ্যাকর্ষণ শক্তিকে প্রতিহত করা যায় এবং এমন একটি মহাবিশ্বের জন্য অ্যাকাউন্ট করা যায়, যা স্থির বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল (প্রসারিত বা সংকোচনকারী নয়)। ১৯২০-এর দশকে মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডউইন হাবল আবিষ্কার করেন যে, মহাবিশ্ব স্থির নয় বরং প্রকৃতপক্ষে প্রসারিত হচ্ছে। পরবর্তীতে আমরা বুঝতে পারি, আইনস্টাইনের এই ধ্রুবকই ডার্ক এনার্জি বা অদৃশ্য শক্তি।

ডার্ক এনার্জি নিয়ে বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত গবেষণা করে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত সব থেকে গ্রহণযোগ্য মত অনুসারে, ডার্ক এনার্জি এক ধরনের অ্যান্টি গ্র্যাভিটি, যা স্থান বা স্পেস থেকে উৎপত্তি হয় এবং এর পজিটিভ ফিডব্যাকের কারণে এটি গ্র্যাভিটির বিপরীতে কাজ করে মহাবিশ্বকে সম্প্রসারণ হতে সাহায্য করে। এই প্রসারণের গতি নিয়মিত বৃদ্ধি পাচ্ছে বা ত্বরণ হচ্ছে। ডার্ক এনার্জির উদাহরণ হিসেবে আমরা কৃষ্ণগহ্বরের কথা চিন্তা করতে পারি, যা প্রতি সেকেন্ডে বড় হচ্ছে এবং এতে মানদণ্ডের অবকাশ থাকে না যে, এর বড় হওয়ার পেছনে অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে।

আমাদের জীবনে ডার্ক এনার্জির সরাসরি কোনো প্রভাব নেই। আমরা এটি দেখতে বা অনুভব করতে পারি না, শুধু ধারণা নিতে পারি। কিন্তু কয়েক ট্রিলিয়ন বছর পর এই অদৃশ্য শক্তির কারণে স্পেস এক্সপ্যান্ট হবে খুবই দ্রুত গতিতে যা মহাবিশ্বের গ্র্যাভিটিকে আচ্ছন্ন করে ফেলবে। ফলে আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিসহ অন্যান্য সবল গ্যালাক্সি ভেঙে পড়বে। এমনকি মহাবিশ্বের সব পার্টিকেল ধ্বংস হয়ে যাবে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হবে একটি নতুন ও শীতল মহাবিশ্ব যা সৃষ্টির শুরুতে ছিল।

জাহ্নবী

ফুলেশ্বরী নদীর পাড়ে

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৪৬ পিএম
ফুলেশ্বরী নদীর পাড়ে

সিংহের হঠাৎ মনে হলো সবাই মিলে অনেকদিন কোথাও বেড়াতে যাওয়া হচ্ছে না। এই ভেবে বনের সবাইকে ডেকে বললেন, ‘কতদিন হয়ে গেল আমাদের আনন্দ-উৎসব হয় না। চলো আমরা বনের বাইরে মনোরম, সুন্দর কোনো জায়গায় ঘুরে আসি।’

সিংহের কথা শুনে পেছন থেকে একটা বানর লাফ দিয়ে উঠে বলল, ‘মানে চড়ুইভাতি!’
সিংহ বললেন, ‘চড়ুইভাতিও বলতে পার। বাড়ির বাইরে কোথাও বেড়াতে গেলে জম্পেশ খাওয়াদাওয়াও হবে, তাই না! কোথায় যাওয়া যায় বল দেখি?’
সবার মাঝখানে বসে ছিল যে হরিণটা! সে দাড়িয়ে বলল, ‘বন থেকে তিন গ্রাম দূরে ফুলেশ্বরী নদীর ধারে খেলার মাঠ আছে। সেই মাঠে চড়ুইভাতি খেলতে যেতে পারি। কিন্তু এতগুলো পশুপাখি এতদূর যাব কেমন করে?’
হরিণের পেছন থেকে মাথা বের করে শেয়াল বলল, ‘পঞ্চাশ সিটের একটা বাস ভাড়া করে নিই। আমরা যারা মুরব্বি আছি সবাই সিটে বসলাম, পাখিরা বাসের ছাদে আর বানরগুলো জানালায় ঝুলতে ঝুলতে চলে যাব।’
ছোট্ট একটা বানর তিড়িং করে লাফিয়ে উঠে বলল, ‘অন্যরা ঝুলে ঝুলুক, আমি ঝুলতে পারব না।’
শেয়াল বলল, ‘তোমাকে ঝুলতে হবে না, তুমি ছোট্ট বানর আমার কোলে বসে যেও কেমন!’ শেয়ালের কথা শুনে সবাই হাসে।
কিছু সময় আলোচনা চলল- এতগুলো পশুপাখির খাবার কী হবে? খাবার প্যাকেট করে নিয়ে যাবে নাকি গিয়ে রান্না করবে? রান্নার বাবুর্চি পাবে কোথায়? বিনোদনের ব্যবস্থা কী ইত্যাদি ইত্যাদি। আলোচনা শেষে ঠিক হলো রান্না গিয়েই হবে, সিংহ নিজেই করবে। খেলাধূলার জন্য ফুটবল নিয়ে যাবে। বিনোদন হিসেবে আরও থাকবে গানবাজনার ব্যবস্থা। যাত্রাকালে বাসে নানারকম বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে গানবাজনা চলবে। এতসব আলোচনার মাঝে একটা বাঘ ঝিমুচ্ছিল। সবার কথা শেষ হলে একটুখানি আড়মোরা কেটে সে বলল, ‘খেলাধূলায় পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকা দরকার। অথবা র‌্যাফেল ড্র। এমন একটা চড়ুইভাতির অনুষ্ঠানে পুরস্কারের ব্যবস্থা না থাকলে হয়!’
বাঘের কথাটা বেশ মনে ধরল সিংহের। বললেন, ‘বেশ, কী কী পুরস্কার থাকলে ভালো হয় বলে তুমি মনে করো, বাঘ?’
বাঘ বলল, ‘র‌্যাফেল ড্রতে প্রথম পুরস্কার হোন্ডা। প্রথম পুরস্কারটা আমিই পাব কি না, তাই! হোন্ডা করে বনের এ মাথা থেকে ও মাথা অবধি ঘোরার খুব শখ আমার। দ্বিতীয় পুরস্কার টেলিভিশন। শুনেছি জিওগ্রাফি বলে একটা চ্যানেল আছে, ওখানে আমাদের নাকি খুব দেখায় টেখায়, টেলিভিশনে নিজেকে দেখারও অনেক শখ।’
পাশ থেকে একটা শেয়াল হুক্কা হুয়া আওয়াজ দিয়ে বলল, ‘দ্বিতীয় পুরস্কার টেলিভিশনটা আপনিই পাবেন তাই না বাঘ মামা?’
শেয়ালের কথা শুনে সবাই আবার হাসে। বাঘ শেয়ালকে ধমক দিয়ে চুপ থাকতে বলল। আরও বলল, ‘তৃতীয় পুরস্কার মোবাইল। একটা মোবাইল জরুরি হয়ে গেছে। বনের বাইরে কারও সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখা যাচ্ছে না।’
সব শুনে সিংহ বললেন, ‘হোন্ডা আর টেলিভিশনের ব্যাপারটা বিবেচনা করা যায়, মোবাইল একদম নয়। মোবাইল হাতে পেলে বনের ছোট ছোট পশু-পাখিরা সারা দিন শুধু গেমস খেলবে। এত গেমস খেলা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়।’
বড়রা হাততালি দিয়ে বলল, ‘আপনি ঠিকই বলেছেন সিংহজি।’
একটা সুরেলা কণ্ঠের পাখি দু’কলি গান গেয়ে বলল, ‘আমি বলি কী, প্রথম পুরস্কার গাছের চারা দেওয়া হোক। এক লাখ একটা চারা। বনে গাছপালা কমে আসছে। মাঝে মধ্যে উড়ে এসে মনে হয় বসে একটু আরাম করব সেরকম গাছই খুঁজে পাচ্ছি না।’
পালকজুড়ে হলুদের কারুকাজে ভরা একটা পাখি। সে বলল, ‘দ্বিতীয় পুরস্কার ফসলি বীজ। ফসলের অভাবে মনে হচ্ছে প্রয়োজনমত খাবার জুটছে না।’
সাদা ধবধবে একটা পাখি, মাথায় কালো রঙের চূড়ো তার। সে বলল, ‘তৃতীয় পুরস্কার মোবাইল দেওয়া যেতে পারে, শীতের সময় অতিথি পাখিরা এসে ওদের আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে না। মোবাইলটা থাকলে একটু কথাবার্তা বলতে পারবে।’ পাখিটার কথা শুনে ফের হাসে সবাই।’
সিংহ সবাইকে হাসি থামাতে বলে জানায়- সামনের শুক্রবার তারা চড়ুইভাতি খেলতে ফুলেশ্বরী নদীর পাড়ে যাচ্ছে। এই বলে তাদের মিটিং শেষ হয়।
শুক্রবার বেলা ১১টা নাগাদ পশুপাখিরা বাস ভরে ফুলেশ্বরী নদীর পাড়ে এসে দেখে- এমা! এত এত মানুষ ফুলের মালা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে তাদের বরণ করতে। বলছে- ফুলেশ্বরী নদীর পাড়ে তোমাদের স্বাগতম প্রিয় পশুপাখির দল ’
তারা চড়ুইভাতির অনুষ্ঠানে মানুষদেরও নিমন্ত্রণ করে। মানুষে, পশুপাখি মিলে একসাথে রান্না করে, নাচে-গায় আর ভূরি ভোজে মেতে উঠে। সবশেষে নিজেদের জন্য আনা পুরস্কার গাছের চারা, ফসলের বীজ প্রিয় মানুষদের উপহার দেয়। তারা বুঝতে পারে নিজেদের থেকে এগুলো এখন মানুষেরই বেশি প্রয়োজন।  

জাহ্নবী

দেশে দেশে ঈদ ঐতিহ্য

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২:১৩ পিএম
দেশে দেশে ঈদ ঐতিহ্য
মুম্বাসায় গল্প বলার আসর

ঈদের শাব্দিক অর্থ বার বার ফিরে আসা। অর্থাৎ খুশি বা আনন্দটা বার বার ফিরে আসে বলেই এর নাম ঈদ। দিনের সঙ্গে যেমন রাতের সম্পর্ক রয়েছে, আলোর সঙ্গে যেমন অন্ধকারের যোগাযোগ রয়েছে, তেমনি দুঃখকষ্টের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে আনন্দ, সুখ। যে কোনো সাধনাই কষ্টের। একমাস সিয়াম সাধনাও তেমনি এক কষ্টকর বিষয়। এবং এই কষ্টের পর আল্লাহর তরফ থেকে উপহার হিসেবে বান্দার জন্য দেওয়া হয়েছে খুশি বা ঈদ। এ থেকে বোঝা যায়, জীবনে অনেক রকম কষ্ট আসবে, দুঃখ আসবে। তাই বলে হতাশ হওয়া যাবে না। কারণ কষ্টের পর আনন্দ বা খুশি আসবেই।

পৃথিবীর প্রায় দুইশ কোটি মুসলমান ঈদ আনন্দ উপভোগ করেন। আমরা যেমন ঈদ উল ফিতরকে বলি রোজার ঈদ। আজারবাইজানের লোকেরা বলে ‘রামাজান বায়রামি’। মধ্যপ্রাচ্য এবং এর আশপাশের দেশগুলোতে ঈদ উল ফিতরকে এভাবেই উচ্চারণ করে। ইন্দোনেশিয়ায় বলে ‘লেবারান।’ সেনেগালে বলে ‘করিতি’। তবে যে যেভাবেই বলুক, ঈদ উল ফিতর বিশ্বের সব মুসলমানের জন্য একই রকম আনন্দ ও খুশি নিয়ে হাজির হয়। কেবল আনন্দ উদযাপনের ধরনটা বৈচিত্রময়। পৃথিবীর নানান জাতি-গোষ্ঠী তাদের নিজস্ব রীতি ও ঐতিহ্য অনুসারে ঈদ পালন করে থাকে।

পেলিটা

বিশ্বের অন্যতম মুসলিম দেশ তুরস্ক। আজারবাইজানের মতো ওই দেশেও ঈদ উল ফিতর পরিচিত ‘রামাজান বায়রামি’ অথবা ‘সেকের বায়রামি’ নামে। রামাজান বায়রামি অর্থ রমজানের ভোজ আর সেকের বায়রামি অর্থ মিষ্টান্ন ভোজ। আমাদের দেশের মতোই ঈদের দিন তুরস্কের সবাই নতুন জামা-কাপড় পরে ঈদের নামাজ পড়ে। নামাজ শেষে কোলাকুলি করতে করতে একজন অন্যজন্যকে শুভেচ্ছা জানায় ‘বায়রামিনিজ মুবারক’ বলে। এর অর্থ তোমার ঈদ সুন্দর হোক। তুর্কিরা কোলাকুলির পর ছোটরা বড়দের বাড়িয়ে দেওয়া ডানহাতে চুমু খায়। শিশুরা প্রতিবেশিদের ঘরের দরজায় দরজায় ছুটে বেড়ায়। প্রতিবেশিরা এদিন তাদের ঘরের দরজায় দরজায় তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন বাকলাভা আর তুর্কিশ ডেলাইট, চকোলেট এবং ঈদ সেলামি রেখে দেয়। শিশুরা যার যার প্রয়োজন মতো খাবার খায় আর ঈদ সেলামি নিয়ে নেয়। ঈদ উৎসব পালনের জন্য আমাদের দেশের মতো তিনদিনের সরকারি ছুটি থাকে তুরস্কে।

পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়া। ও দেশের ঈদ উদযাপন তুর্কিদের চেয়ে একটু ভিন্ন। অন্যান্য মুসলিম দেশের মতোই ইন্দোনেশিয়াতেও ঈদের ছুটি থাকে। এই ছুটিতে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে মিলিত হয়। ইন্দোনেশিয়ানদের ঈদ পালনের সবচেয়ে বড় ঐতিহ্য হচ্ছে ‘মুডিক’। ইন্দোনেশিয়ান ভাষায় মুডিক অর্থ নদীপথে যাত্রা করা বা পাল তোলা। সোজা বাংলায় বললে মুডিক মানে বাড়ি ফেরা। ইন্দোনেশিয়ার বড় বড় শহরে অনেক মানুষকে কাজের জন্য থাকতে হয়। কিন্তু ঈদের সময় পরিবারের সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে সবাই বাড়িমুখো হয়। এটাকেই ওরা মুডিক বলে।

তুর্কিদের ঈদের ঐতিহ্যবাহী খাবার বাকালাভা

বাংলাদেশের মানুষও বড় বড় শহর থেকে গ্রামের বাড়িতে কিংবা জন্মভিটায় ঈদ উদযাপন করতে ছুটে আসে। বিষয়টা ঠিক একই রকম। এই ঈদ উল ফিতরের সময় ইন্দোনেশিয়ানদের আরেকটা রীতি খুব উল্লেখযোগ্য। ওটার নাম ‘হালাল বিহালাল।’ তবে এটা ঈদের পরেই পালন করে ওরা। বিষয়টা হচ্ছে ঈদের পর আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী ও প্রতিবেশিদের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর একজন আরেকজনের কাছ থেকে মাফ চেয়ে নেয়। অনেক সময় পরিচিতদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি কিংবা বেয়াদবি বা অন্যায় হয়ে যায়। ঈদের পর দেখা করে সেই ইচ্ছা-অনিচ্ছাকৃত অন্যায়ের জন্য ক্ষমা চাওয়াটার রীতিই হচ্ছে হালাল বিহালাল।

শিশুদের ঈদের সালামি নেওয়ার রেওয়াজও আছে আমাদের মতো। তবে শিশুদের ঈদের সালামি দেওয়া হয় একটু অন্যরকমভাবে। শিশুরা বড়দের সঙ্গে দেখা করতে এলে রঙিন খামের মধ্যে পুরে তাকে ঈদসালামি দেওয়া হয়। ঈদ উপলক্ষ্যে পরিচিত ও আত্মীয়-পরিজনের কবর জিয়ারত করাও ওদের রীতি।

কুডিক

মালয়েশিয়ানরাও কিন্তু ঈদের সময় বাড়িতে ছুটে আসে। তবে মালয়েশিয়ানরা একটু সৌখিন ধরনের রীতি পালন করে। বাড়িতে এসেই তারা ‘পেলিটা’ দিয়ে ঘরদোর সাজিয়ে তোলে। পেলিটা হচ্ছে তেলের বাতি। ঈদ উপলক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী খাবার কেটুপাট, রেনডাং রান্না করে। ঈদে বাড়িতে অতিথি এলে কেটুপাট ও রেনডাং দিয়ে আপ্যায়ণ করে। কেটুপাট হচ্ছে ভাত আর রেনডাং হচ্ছে রান্না করা মাংস। ঈদ উল ফিতরকে মালয়েশিয়ানরা বলে ‘হারি রায়া অ্যাইডিলফিতরি।’ অর্থাৎ ঈদ উল ফিতর উদযাপন। মালয়েশিয়ানদের ঈদ পালনের আরেকটা ঐতিহ্য হচ্ছে, যে কেউ যে কারো বাড়িতে যখন তখন ঢুকতে পারে। অর্থাৎ ঈদের দিনে ওদের বাড়ির সদর দরজা সবসময় খোলা থাকে যে কোনো অতিথির অপেক্ষায়।

আফ্রিকার মুসলিম দেশগুলোতেও প্রায় একই রকমভাবে ঈদ উৎসব পালিত হয়। তেমনি একটি দেশ কেনিয়া। এই কেনিয়া নামক দেশটির একটি প্রদেশ হচ্ছে মম্বাসা। মম্বাসায় ঈদ উদযাপনের রীতি কিন্তু দুনিয়ার অনেক জায়গা থেকে ভিন্ন তবে বেশ মজার। ওদের ভাষায় ‘কুমি লা মউইশো’ মানে রোজা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্থাৎ ঈদের চাঁদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ওদের ঈদ আনন্দ শুরু হয়ে যায়। রাস্তায় রাস্তায় সবাই নেমে আসে উৎসবের আনন্দে। পছন্দের কাপড়চোপড় কেনে- নিজের জন্য, প্রিয়জনের জন্য, পরিবারের সদস্যদের জন্য। আর সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, কিছু কিছু জায়গায় ঈদ উপলক্ষ্যে রাস্তার ওপর বসে যায় গল্প বলার আসর। গল্পবলিয়েরা এদিন শিশুদের আনন্দ দেওয়ার জন্য রূপকথার গল্প শোনান। শিশুদের কাছে এটা বিশেষ আনন্দের। আর এই আনন্দ ঈদ উপলক্ষ্যেই পাওয়া যায়।

জাহ্নবী