ঢাকা ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Khaborer Kagoj

৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ক্যানসার দিবস ক্যানসার প্রতিরোধ ও নিরাময়যোগ্য রোগ

ক্যানসার প্রতিরোধ ও নিরাময়যোগ্য রোগ

আগে বলা হতো, ক্যানসার মানে নো অ্যানসার, অর্থাৎ ক্যানসারের কোন চিকিৎসা নেই এবং মৃত্যু অবধারিত। কিন্তু এখন সে কথা প্রযোজ্য নয়। পৃথিবীব্যাপী মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ এই ক্যানসারকে প্রতিরোধ করা যায়। এমনকি সঠিক চিকিৎসা করালে রোগীও সুস্থ হয়।

সারা বিশ্বেই ক্যানসার একটি জটিল রোগ। পরিসংখ্যান বলছে, ক্যানসারের কারণে প্রায় ১৩ ভাগ মানুষের মৃত্যু ঘটে। এ জন্য নানা কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ক্যানসারে মৃত্যুর হার কমানোর চেষ্টা চলছে।

ক্যানসার কী?

যখন দেহের কোনো স্থানে অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে কোষ বৃদ্ধি হয়ে চাকা বা পিণ্ডের সৃষ্টি হয়, তখনই ক্যানসার রূপ ধারণ করে এবং রক্তনালি ও লসিকানালির মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে মানুষকে অকালমৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়।

গঠন

মানুষের শরীর বা দেহ গঠিত হয়েছে কোটি কোটি কোষের সমন্বয়ে। এসব কোষের মধ্যে কিছু কিছু কোষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে দেহের অন্য স্থানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে যে জটিলতা তৈরি হয়, সেটিই ক্যানসার। দেহের প্রায় সব প্রান্তে এই রোগ ছড়িয়ে জীবন সংকটময় করে তুলতে পারে।

শরীরের বৃদ্ধির সামঞ্জস্যতা, গঠন, চুল ও চোখের রং সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে। এই জিনের সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্যকারিতার জন্যই মানুষ ছোট থেকে বড় হয়।

আবার একপর্যায়ে বৃদ্ধি হওয়াও থেমে যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী কোষসংখ্যা বৃদ্ধিতে যে জিনগুলো ভূমিকা পালন করে থাকে, তার মধ্যে একটি জিন ‘পটোঅনকোজিন’, যা ক্যানসার সৃষ্টিকারী পদার্থ। যেমন- ভাইরাস, রাসায়নিক পদার্থ (কার্সিনোজেন) ইত্যাদি দ্বারা আক্রান্ত হয়ে অনকোজিনে রূপান্তরিত হলে সেই কোষের বৃদ্ধি অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলতে থাকে।

আবার অপ্রয়োজনীয় কোষ সৃষ্টিতে বাধাদানকারী আরেক ধরনের জিন আছে, যার নাম ‘ক্যানসার সাপ্রেসরজিন’। মূলত এই সাপ্রেসরজিনের কার্যকারিতা নিষ্ক্রিয় হলেই ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

কারণ: সুনির্দিষ্ট কোনো কারণে ক্যানসার হয় না। ক্যানসার সৃষ্টিতে অনেক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কারণ থাকে। তবে বংশগত ও পরিবেশগত কারণকেই ক্যানসারের জন্য মূলত দায়ী করা হয়।

বংশগত : প্রমাণ পাওয়া গেছে, ক্যানসারের সঙ্গে জিনগত বা বংশগত সম্পর্ক রয়েছে। তাই পরিবারের কেউ যদি ক্যানসারে আক্রান্ত হন, তাহলে অন্যদেরও ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বংশগত কারণে সাধারণত যেসব ক্যানসার হয়, তার মধ্যে স্তন ক্যানসার, বৃহদন্ত্রে ক্যানসার, শিশুদের চোখের ক্যানসার, কিছু কিছু ক্ষেত্রে কলোরেক্টাল ক্যানসার ইত্যাদি।

পরিবেশগত: পরিবেশগত কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

ভৌত কারণ: রোদে বেশিক্ষণ থাকার কারণে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির কারণে ত্বকের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। এ ছাড়া এক্স-রে, গামা-রে অন্যতম কারণ।

রাসায়নিক পদার্থ: রঙের কারখানা, রাবার বা গ্যাসের কাজে যারা নিয়োজিত, তারা এক ধরনের বিশেষ রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে আসার কারণে ক্যানসারে আক্রান্ত হন। এ ছাড়া ধূমপানের ধোঁয়ায় বিদ্যমান ক্ষতিকর পদার্থ (কারসিনোজেন), রঞ্জক পদার্থ অসম্পূর্ণভাবে পোড়া আমিষ, শর্করা বা চর্বিজাতীয় খাদ্য ইত্যাদিও দায়ী।

ভাইরাস: কিছু কিছু ভাইরাস ক্যানসার সৃষ্টির জন্য দায়ী। যেমন- হিউম্যান পেপিলোমা ভাইরাস, হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাস, এপেস্টেইন বার ভাইরাস ইত্যাদি। জরায়ুমুখের ক্যানসারের জন্য দায়ী করা হয় হিউম্যান পেপিলোমা ভাইরাসকে। লিভার ক্যানসার হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাস দ্বারা হয়ে থাকে। আবার এপেস্টেইন বার ভাইরাস দ্বারা গলার ক্যানসার ও লসিকাগ্রন্থির ক্যানসার হয়।

অন্যান্য কারণ: কিডনি বা পিত্তথলির পাথর থেকেও ক্যানসার হতে পারে। সার্ভিক্স বা বোনের ক্রনিক ইনফেকশন থেকে জরায়ু ও বোনের ক্যানসার হয়। রাসায়নিক বা কেমিক্যাল এজেন্ট, যেমন- এনিলিন ডাইয়ে মূত্রথলির ক্যানসার হয়। খাদ্যে ব্যবহৃত ফরমালিন (পচনরোধক পদার্থ) স্টমাক বা পাকস্থলীর ক্যানসার সৃষ্টি করে। চুলের কলপের ব্যবহারে স্কিন ক্যানসার হতে পারে।

চিকিৎসা

ক্যানসারের ধরন অনুযায়ী শল্যচিকিৎসা, রেডিওথেরাপি বা বিকিরণ চিকিৎসা, কেমোথেরাপি, হরমোন চিকিৎসা ও ইমিউনোথেরাপি, টারগেটেড থেরাপি ইত্যাদির মাধ্যমে সমন্বিতভাবে চিকিৎসা প্রদান করা যায়।

শল্যচিকিৎসা (সার্জারি): স্তন, প্রস্টেট ক্যানসারসহ কিছু চিকিৎসায় সার্জারি রোগীকে বেশি আরোগ্য করে। শরীরের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়া টিউমারের ক্ষেত্রে এর ভূমিকা অবশ্য নগণ্য।

রেডিওথেরাপি : অপারেশনের পরও খালি চোখে দেখা যায় না- এমন কিছু ক্যানসার কোষের সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে দেওয়া হয় রেডিওথেরাপি। বিশেষ করে এ রোগ মস্তিষ্ক বা হাড়ে ছড়িয়ে পড়লে জরুরিভাবে প্রশমন করার জন্য রেডিওথেরাপির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে রেডিওথেরাপি দেওয়া যায় বলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা খুবই কম থাকে।

কেমোথেরাপি ও হরমোন : ক্যানসার রোগীর চিকিৎসায় কেমোথেরাপি ও হরমোনথেরাপি প্রয়োগ করা যায়। সামগ্রিকভাবে শরীরের সর্বত্রই এ রোগের বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য এর ব্যবহার অপরিহার্য। দেখা গেছে, খুবই প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণীত হলে এবং যথোপযুক্ত চিকিৎসা নিলে ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ রোগী ১০ বছরেরও বেশি বেঁচে থাকে। মাঝ পর্যায়ে নির্ণীত হলে এই হার ৫০ থেকে ২৫ শতাংশে নেমে আসে এবং শেষ পর্যায়ে ভালো কিছু করার সুযোগ প্রায় থাকেই না।

অনুলিখন: আতাউর রহমান

কলি

চেম্বার-ডায়াগনস্টিকে অ্যানেসথেশিয়া দেওয়া যাবে না

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:২৫ পিএম
চেম্বার-ডায়াগনস্টিকে অ্যানেসথেশিয়া দেওয়া যাবে না
ছবি : সংগৃহীত

সুনির্দিষ্ট শর্তযুক্ত নিবন্ধিত হাসপাতাল ও ক্লিনিক ছাড়া কোনো চেম্বারে অথবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অ্যানেসথেশিয়া দেওয়া যাবে না। বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে ১০টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন, এখন থেকে সরকারের নির্দিষ্ট শর্ত মেনে বেসরকারি মেডিকেল/ক্লিনিক/ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালাতে হবে। এর কারণ কিছু অসাধু মানুষ সরকারের কোনো রকম নিয়মের তোয়াক্কা না করে শুধু ব্যবসায়িক স্বার্থের জন্য যত্রতত্র নামমাত্র হাসপাতাল/ক্লিনিক/ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলে মানুষের জীবন নিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছেন। নিয়মের বাইরে গিয়ে এগুলো আর চলতে পারবে না। এখনো ১ হাজার ২০০টির ওপর প্রাইভেট স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নিবন্ধন নেই। এদের কাছে ভালো ডাক্তার নেই, নার্স নেই, টেকনিশিয়ান নেই। এরা হাসপাতাল চালাচ্ছে কী দিয়ে? 

মন্ত্রী বলেছেন, প্রায় ১ হাজারটি অনিবন্ধিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং এ রকম অনিবন্ধিত অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রও বন্ধ করার কাজ চলমান। আজকেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে পরিচালক (প্রশাসন) কর্তৃক স্বাক্ষরিত ১০টি বিশেষ নির্দেশনাসহ একটি অফিস আদেশ দেওয়া হয়েছে। এই অফিস আদেশ প্রতিটি প্রাইভেট মেডিকেল/ক্লিনিক/ ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে অবশ্যই মেনে হাসপাতাল চালাতে হবে। এটির অমান্য হলেই নিবন্ধন বাতিলসহ কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেনের নির্দেশে জারি করা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত বেসরকারি মেডিকেল/ক্লিনিক/ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পালনীয় শর্তাবলির অফিস আদেশটি মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশ করা হয়েছে।

১০ নির্দেশনা-

১. বেসরকারি ক্লিনিক/হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্সের কপি ওই প্রতিষ্ঠানের মূল প্রবেশপথের সামনে দৃশ্যমান স্থানে অবশ্যই স্থায়ীভাবে প্রদর্শন করতে হবে;

২. সব বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় তথ্যাদি সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য একজন নির্ধারিত দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা/কর্মচারী থাকতে হবে এবং তার ছবি ও মোবাইল নম্বর দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে;

৩. যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম ডায়াগনস্টিক ও হাসপাতাল হিসেবে আছে, কিন্তু শুধু ডায়াগনস্টিক অথবা হাসপাতালের লাইসেন্স রয়েছে, তারা লাইসেন্স ছাড়া কোনোভাবেই অন্য সেবা দিতে পারবে না;

৪. ডায়াগনস্টিক সেন্টার/প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরির ক্ষেত্রে যে ক্যাটারগরিতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত, শুধু সেই ক্যাটাগরিতে নির্ধারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া কোনোভাবেই অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাবে না এবং ক্যাটাগরি অনুযায়ী প্যাথলজি/মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি ও রেডিওলজি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করতে হবে;

৫. বেসরকারি ক্লিনিক/হাসপাতালের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের প্রকারভেদ ও শয্যাসংখ্যা অনুযায়ী শর্তাবলি বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে;

৬. হাসপাতাল/ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়োজিত সব চিকিৎসকের পেশাগত ডিগ্রির সনদসমূহ, বিএমডিসির হালনাগাদ নিবন্ধন ও নিয়োগপত্রের কপি অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে;

৭. হাসপাতাল/ক্লিনিকের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের অপারেশন/সার্জারি/প্রসিডিউরের জন্য অবশ্যই রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসককে সার্জনের সহকারী হিসেবে রাখতে হবে;

৮. কোনো অবস্থাতেই লাইসেন্সপ্রাপ্ত/নিবন্ধিত হাসপাতাল ও ক্লিনিক ছাড়া চেম্বারে অথবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অ্যানেসথেশিয়া দেওয়া যাবে না। বিএমডিসি স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ অবেদনবিদ ছাড়া যেকোনো ধরনের অপারেশন/সার্জারি/ প্রসিডিউর করা যাবে না;

৯. সব বেসরকারি নিবন্ধিত হাসপাতাল/ক্লিনিকে  প্রসব কক্ষ প্রটোকল অবশ্যই মেনে চলতে হবে এবং

১০. নিবন্ধিতপ্রাপ্ত হাসপাতাল/ক্লিনিকে অপারেশন থিয়েটারে অবশ্যই নির্ধারিত শর্ত মেনে চলতে হবে।

ভোগান্তির আরেক নাম স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৪৪ এএম
ভোগান্তির আরেক নাম স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা

দুর্বল স্মৃতিশক্তি হলো তথ্য সঞ্চয় এবং তা মনে করার ক্ষেত্রে অসুবিধার সম্মুখীন হওয়া। ওয়েব এমডি অবলম্বনে জানাচ্ছেন ফারাজানা আলম

কোনো ব্যক্তিরই সারা জীবন নিখুঁত স্মৃতিশক্তি স্থায়ী হয় না। বার্ধক্যজনিত স্মৃতিশক্তি লোপের ঘটনা সাধারণ ব্যাপার। তবে আপনি যদি গাড়ি চালানো, যেখানে সারা জীবন ধরে রয়েছেন বাড়ি ফেরার সেই রাস্তার মতো তথ্য ভুলে যান, তাহলে এই স্মৃতিশক্তি হ্রাস চিন্তার বিষয়। এক্ষেত্রে চিকিৎসা নেওয়া খুব জরুরি।

লক্ষণ ও উপসর্গ

বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা সাধারণ ঘটনা। তবে নিম্নলিখিত উপসর্গগুলো দেখা গেলে বুঝতে হবে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। যেমন- একই প্রশ্ন বারবার জিজ্ঞাসা করা। এ ছাড়া নির্দেশ অনুসরণে অসুবিধা, চেনা লোকজন ও চেনা জায়গা সম্পর্কে বিভ্রান্তি, একটি পরিচিত জায়গার দিক ভুলে যাওয়া। পাশাপাশি সাধারণ কথোপকথনে অসুবিধা, জরুরি মিটিং এবং কাজকর্মে যোগ দিতে ভুলে যাওয়া এবং একই বয়সের অন্যান্য ব্যক্তির তুলনায় বেশি স্মৃতিশক্তিজনিত সমস্যায় পড়া।

কারণ কী

বিভিন্ন কারণে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হতে পারে। এর মধ্যে বার্ধক্য এটি সাধারণ ব্যাপার। বয়স বাড়লে স্মৃতিশক্তি স্বাভাবিকভাবে কমে আসে। এ ছাড়া অ্যালজাইমার রোগ, স্ট্রোক, মস্তিষ্কে টিউমার এবং মানসিক অবসাদের কারণে স্মৃতিশক্তি কমে যেতে পারে। পাশাপাশি মস্তিষ্কে আঘাত পেলেও অনেক ক্ষেত্রে স্মৃতিশক্তি কমে। কিছু ওষুধ আছে যেগুলো ব্যবহার করলেও এটা হতে পারে।

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা  

দুর্বল স্মৃতিশক্তির কারণগুলো শনাক্ত করার সঙ্গে এর রোগ নির্ণয় যুক্ত। বিভিন্ন পদ্ধতিতে রোগ নির্ণয় করা যায়। যেমন- শারীরিক পরীক্ষা ও ল্যাবরেটরি টেস্ট। এ ছাড়া সাইক্রিয়াটিক এভলিউশন টেস্টের সাহায্যে চিন্তা-ভাবনার পরিবর্তন চিহ্নিত করা যায়। মস্তিষ্কের এক্স-রে, সিটি স্ক্যান এবং এমআরআই করেও রোগ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। স্মৃতিশক্তি দুর্বলতার কারণ বার্ধক্য, নাকি কোনো রোগ- এই পরীক্ষাগুলো সেই সিদ্ধান্তে আসতে সাহায্য করে।
চিকিৎসা পুরোপুরি স্মৃতিশক্তি দুর্বলতার কারণগুলোর ওপর নির্ভর করে হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্মৃতিভ্রংশের কোনো প্রতিকার নেই। তবে ডোনেপেজিল, রিভাস্টিগমাইন, মেমান্টাইন ও গ্যালান্টামাইনের মতো ওষুধগুলো সাময়িকভাবে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।

ঘরোয়া সমাধান

হলুদ গুঁড়া এবং গোলমরিচ গুঁড়া মিশিয়ে খেলে স্মৃতিশক্তি চাঙ্গা হয়। যারা মাছ খান, তাদের স্মৃতিশক্তি অন্যদের তুলনায় কিছুটা শক্তিশালী হয়। কারণ এতে আছে ওমেগা ৩-এর মতো উপাদান। গবেষণায় দেখা গেছে, টেলিভিশন বেশি দেখলে স্মৃতিশক্তি কমে যায়। তাই টিভি কম দেখুন।

কলি

ব্রাডিকার্ডিয়া প্রতিরোধ করুন

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৩৫ এএম
ব্রাডিকার্ডিয়া প্রতিরোধ করুন
ছবি: বিং এআই

একজন স্বাস্থ্যবান প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে এই স্পন্দনের মাত্রা মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ হতে হবে। ব্রাডিকার্ডিয়া বা কম হার্ট রেট বলতে এমন একটা অবস্থা, যেখানে একজন ব্যক্তির হৃদযন্ত্র প্রতি মিনিটে ৬০ বারের কম স্পন্দিত হয়। মাই উপচার অবলম্বনে জানাচ্ছেন ফখরুল ইসলাম।

সাধারণত ক্রীড়াবিদ ও বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে কম হৃৎস্পন্দনের মাত্রা দেখা যায়। পাশাপাশি তরুণ ও স্বাস্থ্যবান ব্যক্তিদের মধ্যেও ব্রাডিকার্ডিয়া দেখা যায়। এটা স্বাভাবিক, যদি না অন্যান্য আরও কিছু ক্ষতিকর উপসর্গ থাকে।

ব্রাডিকার্ডিয়ার লক্ষণ

ব্রাডিকার্ডিয়ার সঙ্গে যুক্ত সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে আছে দুর্বলতা ও পরিশ্রান্তি। পাশাপাশি রোগী মাঝে মাঝে অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। থাকতে পারে বমি বমি ভাব। এ ছাড়া রোগী ঘামতে পারে। হতে পারে শ্বাসকষ্ট। অনেক ক্ষেত্রে রক্তচাপ কম হতে পারে। অল্প থেকে বেশি বুকে ব্যথাও হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ ধরনের উপসর্গ নাও দেখা যেতে পারে।

ব্রাডিকার্ডিয়ার কারণ

নানা কারণে ব্রাডিকার্ডিয়া হতে পারে। এর মধ্যে আছে হার্ট অ্যাটাক। এ ছাড়া অটোইমিউন রোগ (যখন রোগপ্রতিরোধক ব্যবস্থা স্বাস্থ্যকর শরীরকলাগুলোকে আক্রমণ করে) যেমন- প্রণালিবদ্ধ লুপাস, ফোলা বাত এবং স্কেলেরোডার্মা। পাশাপাশি মাস্কুলার ডিস্ট্রফি (ক্ষয় রোগ), হার্টে সংক্রমণ, হার্টের সার্জারি ও স্লিপ অ্যাপনিয়া (ঘুমের সময় শ্বাস নেওয়ার সমস্যা)।

জেনেটিক বা জিনগত কারণেও এটি হতে পারে। বয়স বাড়লেও ব্রাডিকার্ডিয়া হতে পারে। সাইনোআট্রিয়্যাল নোড বা যে স্নায়ুতন্ত্রগুলো নিয়মিত হৃৎস্পন্দনের ছন্দগুলোর জন্য দায়ী, তার অকার্যকারিতার জন্যও এটা হতে পারে।

কিছু ওষুধ যেমন বেটা ব্লগারসের মতো ওষুধ, ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লগারস (দুটোই উচ্চ রক্তচাপ কমানোর জন্য ব্যবহৃত হয়) এবং অ্যান্টি-অ্যারিমিক ওষুধ (শব্দযুক্ত, অনিয়মিত, দ্রুত হৃৎস্পন্দনের জন্য) থেকেও ব্রাডিকার্ডিয়া হয়ে থাকে।

হাইপোথাইরয়েডিজম বা শরীরে কম মাত্রার থাইরয়েড হরমোনের উপস্থিতি, কম শারীরিক তাপমাত্রা বা হাইপোথারমিয়া থেকেও ব্রাডিকার্ডিয়া হয়। এ ছাড়া মস্তিষ্কে আঘাত, সুষুম্নাকাণ্ড বা স্নায়ুতে আঘাত এবং শরীরে পটাসিয়াম স্তরের অসামঞ্জস্য থেকেও ব্রাডিকার্ডিয়া হতে পারে।

নির্ণয় এবং চিকিৎসা

ব্রাডিকার্ডিয়ার কারণগুলো জানার জন্য ডাক্তার শারীরিক অবস্থার পূর্ব ইতিহাস ও কী কী ওষুধ খাচ্ছেন, তা জানতে চাইতে পারেন। হৃৎস্পন্দনের গতি ধীর হলে শারীরিক পরীক্ষা করতে দিতে পারেন। ব্রাডিকার্ডিয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে ডাক্তার বিশেষ ধরনের পরীক্ষা করতে পারেন, যেমন- ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম (ইসিজি), যা হৃৎস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা ধরতে পারে।

অন্য পরীক্ষাও করতে হতে পারে, যেমন- রক্ত পরীক্ষা (হাইপোথাইরয়েডিজম বা ইলেক্ট্রোলাইট অসামঞ্জস্য শনাক্ত করার জন্য), স্লিপ অ্যাপনিয়া পরীক্ষা, ইলেক্ট্রোফিজিওলজি পরীক্ষা (অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনের আসল কারণ জানতে) এবং মানসিক চাপের জন্য পরীক্ষা (মানসিক চাপে হৃদযন্ত্র কীভাবে কাজ করছে, তা জানতে)।

ব্রাডিকার্ডিয়া রুটিন চেকআপের সময়েও নির্ণয় হতে পারে, যদি রোগী আগে কোনো উপসর্গ অনুভব নাও করে থাকেন।

ব্রাডিকার্ডিয়ার কারণের ওপর উপসর্গগুলোর ধরনের রকমফের নির্ভর করে। যদি কোনো নির্দিষ্ট ওষুধের কারণে হৃৎস্পন্দনের গতি হ্রাস হয়, তা হলে ওষুধের মাত্রা কমিয়ে দেওয়া হয় বা তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সাইনাস নোড ডিসফাংশানের ক্ষেত্রে হৃৎস্পন্দনের গতি স্বাভাবিক করতে পেসমেকার ব্যবহার করা হয়।

ব্র্যাডিকার্ডিয়া প্রতিরোধ করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো হৃৎপিণ্ডের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমানো। আপনার যদি হৃৎপিণ্ডের কোনো রোগ থাকে, তাহলে ব্র্যাডিকার্ডিয়া প্রতিরোধ করার জন্য সঠিকভাবে চিকিৎসা পদ্ধতি মেনে চলুন। এ ছাড়া নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মেনে চলুন।

ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস: নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং কম চর্বিযুক্ত খাদ্যগ্রহণ করুন। বেশি পরিমাণে ফলমূল, শাকসবজি ও শস্যজাতীয় খাবার গ্রহণের অভ্যাস করুন।

শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ: শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের ওজন বৃদ্ধি পেলে হৃৎপিণ্ডের স্পন্দনের হার হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

রক্তচাপ ও কলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা: জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ করে রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

ধূমপান ত্যাগ করা: আপনি যদি নিজে থেকে ধূমপান ত্যাগ না করতে পারেন, তাহলে এ ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

অ্যালকোহল ত্যাগ করা: অ্যালকোহল গ্রহণ হৃৎপিণ্ডের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই হৃৎরোগের ঝুঁকি কমানোর জন্য অ্যালকোহল গ্রহণ সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ করা উত্তম। অ্যালকোহল গ্রহণ করলেও পরিমিত মাত্রায় গ্রহণ করা উচিত। এ ব্যাপারে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

শারীরিক ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: হৃৎপিণ্ডের ঝুঁকি কমানোর জন্য শারীরিক ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন। এ জন্য কিছু কৌশলও শিখে নিতে পারেন।

নিয়মিত চেকআপ: হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর জন্য নিয়মিত শরীরের চেকআপ করান। শরীরে কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে সে ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কলি

সাধারণ সমস্যা: প্রোটিনের অভাব

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৩০ এএম
সাধারণ সমস্যা: প্রোটিনের অভাব
ছবি: বিং এআই

মানুষের শরীরের বৃদ্ধির জন্য অতিপ্রয়োজনীয় উপাদান প্রোটিন। এর অভাব খুবই সাধারণ সমস্যা, বিশেষ করে নিরামিষভোজীদের জন্য। প্রতি বছর হাজার হাজার শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক প্রোটিনের অভাবজনিত রোগে ভোগে। মাই উপচার অবলম্বনে জানাচ্ছেন মো. রাকিব।

লক্ষণ এবং উপসর্গ

মানবদেহের খুব প্রয়োজনীয় কিছু হরমোন এবং এনজাইম উৎপাদনের জন্য প্রোটিন দরকার। এ ছাড়া টিস্যু বা শরীরকলা গঠনের জন্যও প্রোটিন জরুরি। প্রোটিনের অভাবের ফলে সদ্যোজাত শিশু এবং বাচ্চাদের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়।

কিছু সাধারণ লক্ষণ এবং উপসর্গ দেখে এই সমস্যা চিহ্নিত করা যায়। যেমন- ত্বকের নিচে পানি জমা হয়, যার কারণে জায়গাটা ফোলা বা স্ফীত দেখায়। এটি কসিয়রকরের একটি বিশেষ লক্ষণ।

যদি জরুরি প্রোটিন গ্রহণ করা না হয় তাহলে লিপোপ্রোটিনের উৎপাদন থেমে যেতে পারে। ফলে শরীরে মেদ জমতে থাকে। এ অবস্থার ফল হলো স্থূলতা। পাশাপাশি প্রতিনিয়ত লিভারে মেদ জমতে থাকে, যা চরম পর্যায়ে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

ত্বক, চুল এবং নখের অবিচ্ছেদ্য অংশ প্রোটিন। এর অভাবে চুল পড়ে। এ ছাড়া ত্বক শুষ্ক হয়। ত্বকে আঁশের মতো অংশ দেখা দিতে পারে। নখে সাদা ভাব বা নখে শিরা ওঠা ভাব দেখা দিলে তা প্রোটিনের অভাবের কারণে হতে পারে।

এ ছাড়া প্রোটিনের অভাব থেকে অবসাদ হতে পারে। পাশাপাশি পেশিতে ব্যথা এবং হাড়ের সন্ধিতে ব্যথা, পেশির ক্ষয় দেখা দেয়।

প্রোটিনের অভাবের কারণ

প্রোটিনযুক্ত খাবার না খেলে শরীরে প্রোটিনের অভাব দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া শরীরে ঠিকমতো প্রোটিন শোষিত না হলে বা নির্দিষ্ট কিছু রোগের কারণে প্রোটিন সঠিকভাবে সংশ্লেষিত না হলে প্রোটিনের অভাব দেখা দেয়। অন্য কারণগুলোর মধ্যে আছে...

অপুষ্টি

উন্নয়নশীল অথবা অনুন্নত দেশে প্রোটিনের অভাবের সবচেয়ে বড় কারণ হলো অপুষ্টি। সেখানে খাদ্যতালিকায় যথাযথ পরিমাণে প্রোটিন থাকে না।

কিডনি সঠিকভাবে কাজ না করা

কিডনি ঠিকমতো কাজ করার ফলে শরীর থেকে প্রোটিন বেরিয়ে যায়। বিশেষ করে কিডনির নেফ্রনগুলো সঠিকভাবে কাজ না করলে মূত্রের মাধ্যমে প্রোটিন শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়াকে আটকাতে পারে না।

চিকিৎসাজনিত সমস্যা

প্রদাহজনিত অন্ত্রের রোগ যেমন আলসারেটিভ কোলাইটিস অথবা ক্রোন’স রোগ, যা অন্ত্রের ক্ষতিসাধন করে। এটা হলে শরীরে প্রোটিন শোষণে বাধা দেয়।

রোগ নির্ণয় 

রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে প্রোটিনের মাত্রা অনুসন্ধান করলে রোগ ধরা পড়ে। এ ছাড়া লিভার এবং কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা করেও প্রোটিনের অভাব বোঝা যায়।

চিকিৎসা

সুষম খাদ্যতালিকা বজায় রাখলে শরীরে প্রোটিনের অভাব অটোমেটিক পূরণ হয়ে যায়। তাই প্রোটিনের অভাবে ভুগলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করা জরুরি। যেখানে ব্যক্তির ওজন এবং সমস্যার গুরুত্ব অনুযায়ী কোন ধরনের খাবার খাবে তা উল্লেখ থাকে।

আমিষভোজীদের জন্য লাল মাংস হলো প্রোটিনের ভরপুর উৎস। অন্যদিকে যারা নিরামিষভোজী তাদের জন্য বাদাম, বীজজাতীয় খাদ্য, সয়াবিন, মসুর ডাল এবং শিমের বিচি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে গুরুতর ক্ষেত্রে কিছু সম্পূরক খাদ্য এবং ওষুধও দেওয়া হতে পারে। বিশেষ কোনো রোগের কারণে প্রোটিনের অভাব হলে সেই রোগটি সারিয়ে দিলে এমনিতেই প্রোটিনের অভাব মিটে যায়।

কলি

ত্বকের জটিল রোগ শ্বেতি

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:২৩ এএম
ত্বকের জটিল রোগ শ্বেতি

শ্বেতি বা ধবল কিংবা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ভিটিলিগো হচ্ছে ত্বকের একটি অটোইমিউন ডিজিজ। আমাদের ত্বকের রং বজায় রাখার জন্য মেলানিন নামের একটি উপাদান আছে। এই মেলানিন শরীরের যেসব স্থানে উৎপাদন হয় না, সেই স্থানটি সাদা হয়ে যায়। এটাই শ্বেতি রোগ।সাধারণত রোগটি হলে শরীরের একস্থান থেকে অন্যস্থানে ছড়াতে শুরু করে। এটা শুধু ত্বকই নয়; চুল, এমনকি মুখের অভ্যন্তরীণ প্রাচীরকেও আক্রান্ত করতে পারে।

কাদের রোগটি হওয়ার আশঙ্কা বেশি

নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যেকোনো মানুষের যেকোনো বয়সে শ্বেতি হতে পারে। সাধারণত ত্রিশ বছর বয়সের আগেই ত্বকের রোগটি সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। অন্যদিকে যদি কোনো ব্যক্তি অটোইমিউন ডিজিজ, এডিসন ডিজিজ অথবা থাইরয়েড ডিজঅর্ডারে আগে থেকেই আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তবে শ্বেতি হওয়ার আশঙ্কা এমনিতেই বেড়ে যায়।

শ্বেতির কারণ

এখন পর্যন্ত শ্বেতি রোগের কারণ চিকিৎসাবিজ্ঞানে নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়।

অটোইমিউনিটি: শতকরা ৭০ ভাগ মানুষের ক্ষেত্রে শ্বেতির কারণ অটোইমিউনিটি। এক্ষেত্রে রোগীর নিজস্ব ইমিউন সিস্টেম নিজের মেলানোসাইট কোষগুলোকে বহিরাগত আক্রমণকারী ভেবে ভুল করে। এর ফলে উক্ত ব্যক্তির শরীরের রোগপ্রতিরোধকারী কোষগুলো নিজের দেহের মেলানোসাইট কোষগুলোকে ধ্বংস করার জন্য অ্যান্টিবডি তৈরি করে। ফলে শরীরে, বিশেষত ত্বকে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

জেনেটিক মিউটেশন: প্রায় ৩০টির বেশি জিন শ্বেতি রোগের জন্য দায়ী বলে ধারণা করা হয়।

মানসিক চাপ: শারীরিক ও মানসিক চাপের প্রভাব মেলানোসাইট কোষগুলোর ওপর পড়ে। যেকোনো ধরনের শারীরিক আঘাত পেলে এই চাপ আরও বেড়ে যায়। ফলে মেলানোসাইট কোষ থেকে মেলানিন উৎপাদন কমে যায় অথবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

পরিবেশের প্রভাব: সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির বিকিরণ এবং বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে আমাদের দেহের মেলানোসাইট কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে শ্বেতি বা ভিটিলিগোর আবির্ভাব হয়।

শ্বেতির প্রকারভেদ

দেহে রোগের তীব্রতা, ধরন ও স্থায়িত্বের ভিত্তিতে শ্বেতিকে বেশ কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়।

১. যখন শরীরের অনেকাংশে একসঙ্গে সাদা সাদা দাগ দেখা যায়, তখন তাকে সাধারণ শ্বেতি বলে। এগুলো সাধারণত একসঙ্গে বাড়তে থাকে।

২. যদি শরীরের মাত্র একটি পাশ বরাবর বিবর্ণতা দেখা যায়, তাহলে তাকে সেগমেন্টাল ভিটিলিগো বলে। এগুলো সাধারণত অল্প বয়সে শুরু হয় এবং এক বা দুই বছর থাকার পর বন্ধ হয়ে যায়।

৩. যখন শরীরের একটি মাত্র জায়গায় রোগ সীমাবদ্ধ থাকে, তখন তাকে লোকালাইজড ভিটিলিগো বলে।

৪. কিছু ক্ষেত্রে শুধু মুখ ও হাতে শ্বেতি হয়। এ ধরনের ক্ষেত্রে রোগটিকে অ্যাক্রোফিসিয়াল ভিটিলিগো বলে।

৫. মুখ, নাক এবং যৌনাঙ্গের মিউকোসাকে আক্রান্ত করলে সেটাকে মিউকোসাল ভিটিলিগো বলে।
চিকিৎসা

সত্যি বলতে শ্বেতির কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। সে কারণে শতভাগ মুক্তির কোনো নিশ্চয়তাও নেই। ব্যক্তিবিশেষের প্রয়োজনীয়তার ওপর নির্ভর করে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নেওয়া যেতে পারে।

ফটোথেরাপি: এই পদ্ধতি ত্বকের রং ফেরাতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির বি লাইট এবং এ লাইট ব্যবহার করে বিশেষ পদ্ধতিতে শ্বেতির চিকিৎসা করা হয়।

ডিপিগমেন্টেশন থেরাপি: এ পদ্ধতিতে শ্বেতি রোগে আক্রান্ত ত্বকের অংশগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে স্বাভাবিক ত্বকের রংকে ফিকে করে সমতা আনার চেষ্টা করা হয়।

কাউন্সেলিং: শ্বেতি রোগীর জন্য কাউন্সেলিং খুবই জরুরি। কারণ রোগী আত্মবিশ্বাসের অভাবে মানসিক রোগগ্রস্ত হয়ে পড়লে ইমিউন সিস্টেম ভেঙে রোগের তীব্রতা বেড়ে যেতে পারে।

ওষুধ: রোগের শুরুতে কিছু ক্রিম ও ওষুধ ব্যবহার করলে রোগের তীব্রতা কমে যেতে পারে।

এ ছাড়া অধিক সমস্যার ক্ষেত্রে অটোলোগাস মেলানোসাইট ট্রান্সপ্লান্ট, স্কিন গ্রাফটিং, পাঞ্চ গ্রাফটিং ইত্যাদি পদ্ধতি রয়েছে। এ পদ্ধতির মাধ্যমে রোগীর শরীরের সুস্থ অংশ থেকে চামড়া নিয়ে আক্রান্ত অংশ ঢেকে রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়।

প্রতিরোধ

শ্বেতি বা ভিটিলিগো হওয়ার আশঙ্কা বিভিন্নভাবে কমানো যায়। এর মধ্যে রয়েছে- নিরাপদে সকালের সূর্যের আলো শরীরে লাগানো। শরীরে আঘাত যাতে না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখা। অতিরিক্ত মানসিক চাপ এড়িয়ে চলা। প্রতিদিন নিয়ম করে একটি মানসম্পন্ন ময়েশ্চারাইজার ত্বকে ব্যবহার করা।

ইতোমধ্যে কারও শরীরে হরমোনজনিত সমস্যা বা অটোইমিউন রোগ থাকলে সেটাকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।

শ্বেতি বা ভিটিলিগো প্রাণহানিকর রোগ নয়। এটি সংক্রামক রোগও নয়। তবু এর সঙ্গে জড়িত নানা কুসংস্কার থাকার কারণে রোগীর ওপর ভীষণ মানসিক চাপ পড়ে। 

রোগীকে সুস্থ রাখতে হলে এ ধরনের পরিস্থিতি যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। কারণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে স্বাভাবিক জীবন উপভোগ করা প্রতিটি মানুষের অধিকার।

কনসালট্যান্ট (চর্ম ও যৌন রোগ), শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, গাজীপুর

কলি