হেপাটাইটিস-সি থেকে নিরাপদ থাকুন । খবরের কাগজ
ঢাকা ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

হেপাটাইটিস-সি থেকে নিরাপদ থাকুন

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৪, ১১:৫২ এএম
হেপাটাইটিস-সি থেকে নিরাপদ থাকুন

হেপাটাইটিস-সি ভাইরাসের (এইচসিভি) কারণে হওয়া লিভারের প্রদাহকে হেপাটাইটিস-সি বলে। প্রাথমিকভাবে এই সংক্রমণ সঞ্চারিত হয় রক্তের মাধ্যমে। হেলথ লাইন অবলম্বনে জানাচ্ছেন মো. রাকিব।

হেপাটাইটিস-সি রোগটি তীব্র সংক্রমণ হিসেবে বৃদ্ধি পেতে পারে। ৮০ শতাংশের ক্ষেত্রে  দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেয়। তীব্র সংক্রমণ সর্বাধিক ছয় মাস পর্যন্ত হয় এবং কোনো চিকিৎসা ছাড়াই সেরে ওঠা সম্ভব। অন্যদিকে, দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থায়ী হয় এবং তার থেকে সিরোসিস ও কার্সিনোমা (ক্যানসার) হতে পারে।

রোগের লক্ষণ

রোগটির মাত্রা খুব বেড়ে গেলে নানা লক্ষণ দেখা দেয়। লক্ষণগুলো ফুটে উঠতে সাধারণত দুই সপ্তাহ থেকে ছয় মাস সময় লাগে। ৮০ শতাংশ সংক্ৰমিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে উপসর্গ দেখা না দিলেও, তারা কিন্তু অনুভব করতে পারেন। এর মধ্যে আছে দুর্বলতা, বমি বমি ভাব ও বমি। এ ছাড়া খিদে কমে যাওয়া, চোখ এবং ত্বক হলদেটে হয়ে পড়ার পাশাপাশি তলপেটে অস্বস্তি থাকতে পারে।

হেপাটাইটিস-সি এর কারণ

হেপাটাইটিস-সি ভাইরাস বিভিন্ন উপায়ে অন্যের দেহ থেকে রোগীর দেহে আসতে পারে। এর মধ্যে আছে সুচ এবং ব্যক্তিগত সামগ্রী ভাগাভাগি করে ব্যবহার। যেমন মাদক কারবারিরা রেজর ভাগাভাগি করে। এ ছাড়া হাসপাতালে সংক্রমিত সুচ এবং সিরিঞ্জ ব্যবহার, চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত না করে ব্যবহার এবং ভাইরাসবাহী রক্ত অন্যকে দান।

এ ছাড়া অনিরাপদ যৌনমিলন, আক্রান্ত মায়ের থেকে সন্তানের দেহে এটা আসতে পারে। তবে দূষিত খাদ্য ও পানি এবং গৃহস্থালী সামগ্রীর মিলেমিশে ব্যবহারের মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়ায় না।

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

উল্লেখিত উপসর্গগুলো দেখা গেলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে। চিকিৎসক যকৃতের এনজাইমের মাত্রা চিহ্নিত করার জন্য রক্ত পরীক্ষার পাশাপাশি ভাইরাস শনাক্ত করার জন্য এইচসিভি অ্যান্টিবডি (অ্যান্টি-এইচসিভি) এবং এইচসিভি রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (এইচসিভি আরএনএ) পরীক্ষা করাতে পারেন। এই পরীক্ষার মাধ্যমে ভাইরাস এক সপ্তাহের মধ্যে শনাক্ত করা সম্ভব।

অন্যদিকে লিভারের ক্ষতির পরিমাণ শনাক্ত করতে লিভারের বায়োপসি করা হয়। থেরাপি শুরু হওয়ার আগে এইচসিভি জেনোটাইপ পরীক্ষাও করা হয়। হেপাটাইটিস-সি সংক্রমণের চিকিৎসায় ডাইরেক্ট অ্যাক্টিং অ্যান্টিভাইরালস হলো সবচেয়ে নতুন ওষুধ, এতে চিকিৎসা করতে তিন মাস সময় লাগে। পাশাপাশি চিকিৎসকরা প্রচলিত অন্যান্য চিকিৎসাও করে থাকেন।

বর্তমানে এই সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য কোনোরকম টিকা নেই। তবে ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়া কমানো গেলে (সংক্রমিত ব্যক্তির সঙ্গে সুচ ও সিরিঞ্জ ভাগাভাগি করে ব্যবহার, ব্লাড ট্রান্সফিউশন এবং যৌন সম্পর্ক এড়িয়ে চলা) এই রোগের প্রাদুর্ভাব অনেকটা কমানো সম্ভব।

কলি

উইলমস টিউমার সম্পর্কে জানুন

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৪, ০৫:৪৩ পিএম
উইলমস টিউমার সম্পর্কে জানুন

উইলমস টিউমার হলো এক ধরনের এমব্রায়োনাল বা ভ্রূণসংক্রান্ত রেনাল বা কিডনির ক্যানসার। এটি শিশুদের মধ্যে দেখা দেওয়া সবচেয়ে সাধারণ প্রাণঘাতী নিওপ্লাজম (ক্যানসারযুক্ত টিউমার)। জানাচ্ছেন ফখরুল ইসলাম

লক্ষণ এবং উপসর্গ
প্রায় সবসময়ই শিশু ১০ বছর বয়সে পৌঁছানোর আগেই টিউমারটি হতে দেখা যায়। উইলমস টিউমারের সাধারণ উপসর্গগুলো হলো তলপেটে প্রতীয়মান পিণ্ডের উপস্থিতি। এ ছাড়া তলপেটে ব্যথা, ক্ষুধামান্দ্য, বমনেচ্ছা ও বমি। এর পাশাপাশি হেমাচুরিয়া বা প্রস্রাবে রক্তের উপস্থিতি, হেপাটোমেগালি বা লিভার বৃদ্ধি পাওয়া, অ্যাসাইটিস বা তলপেটে তরল জমা এবং কনজেস্টিভ হার্ট ফেইলিওর। অনেক সময় রোগীর রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি ডিসমরফিজম বা অস্বাভাবিক শারীরিক গঠনও দেখতে পাওয়া যায়।

কারণ
উইলমস টিউমার হলো একটি বিরল রোগ এবং জিনগত কারণ এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উইলমস টিউমারের প্যাথোজেনেসিস বোঝার ক্ষেত্রে সাবস্ট্যানশিয়াল জেনেটিক্স এবং আণবিক গবেষণার অবদান রয়েছে। ক্রোমোজোমের পরিবর্তন উইলমস টিউমারের সঙ্গে যুক্ত।

রোগ নির্ণয়
উইলমস টিউমার বিভিন্নভাবে নির্ণয় করা হয়। এর মধ্যে আছে তলপেটের উপরের অংশে ফোলাভাবের উপস্থিতি। এ ছাড়া চিকিৎসাগত ইতিহাস এবং পারিবারিক ইতিহাস, তলপেট এবং শ্রোণীর আলট্রাসনোগ্রাফি, শিশুদের মধ্যে হাইপোগ্লাইকেমিয়া (রক্তে শর্করা কম), কম্পিউটেড টোমোগ্রাফি (সিটি) স্ক্যান, কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি)। এ ছাড়া রেনাল (কিডনি) ফাংশন টেস্ট, মূত্র বিশ্লেষণ, লিভারের ফাংশন টেস্ট করে এই রোগ ধরা যায়। উইলমস টিউমারের চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি এবং রেডিওথেরাপি। অস্ত্রোপচারের ভূমিকাটি জটিল, কারণ এতে টিউমারটি ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ট্র্যান্সপেরিটোনিয়াল রেডিক্যাল রিমুভাল, এক ধরনের অস্ত্রোপচার যাতে পেট কেটে কিডনিকে বাদ দেওয়া হয়। এটি ইউনিল্যাটেরাল রেনাল টিউমারের জন্য সবচেয়ে ভালো অস্ত্রোপচারের পদ্ধতি। অনেক ক্ষেত্রে কিডনি আংশিক বাদ দেওয়া এবং কেটে দেওয়াও হয়। একবার বাদ দেওয়া হলে খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে যায়।  সূত্র: মাইউপচার

কলি

চুল পড়লে কী করবেন

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৪, ০৫:৪১ পিএম
চুল পড়লে কী করবেন

সাধারণত দিনে আমাদের ১০০টা চুল পড়ে, কিন্তু যদি আপনি তার চেয়ে বেশি চুল পড়তে দেখেন (১২০-১৫০ বা আরও বেশি) বা মাথার ত্বকের কোনো জায়গা খালি হয়ে যেতে দেখেন, তবে আপনার তখনই চুলের ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অলিভা ক্লিনিক অবলম্বনে জানাচ্ছেন ফারজানা আলম

চুল পড়ার শ্রেণিভেদ
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা চুল পড়াকে নিম্নলিখিত শ্রেণিতে ভাগ করেন।

অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেশিয়া: এটি খুব সাধারণ সমস্যা। মহিলা ও পুরুষ উভয়েই এই রোগের শিকার হতে পারেন। এটি খুব তাড়াতাড়ি শুরু হতে পারে যেমন টিনএজ বয়সে এবং বয়সের সঙ্গে এর ঝুঁকি বেড়ে যায়।

মেল প্যাটার্ন বল্ডনেস: একটি বিশেষ বিন্যাস অনুযায়ী চুল পড়া শুরু হয়। প্রথমে কপালের দুই পাশ থেকে। সময়ের সঙ্গে হেয়ারলাইন পিছিয়ে ‘M’ আকৃতি ধারণ করে। ব্রহ্মতালুর চুলও পাতলা হয়ে আংশিক বা পুরো ফাঁকা হয়ে যেতে পারে।
ফিমেল প্যাটার্ন বল্ডনেস: এতে চুল মাথার ওপরের দিক থেকে ফাঁকা হওয়া শুরু হয় এবং মাঝখানের সিঁথি ক্রমশ চওড়া হয়ে যায়। তবে হেয়ারলাইন পেছায় না। কখনো কখনো পুরো মাথায় টাক পড়ে যেতে পারে।

টেলোজেন এফ্লুভিয়াম: এটি সারা মাথায় চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। কোনো একটি ঘটনার ফলে তিন মাস পরে শুরু হয় এবং মাস ছয়েকের মধ্যে সাধারণত নিজেই কমে যায়।

অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটা: এ ধরনের চুল পড়াতে মাথার ত্বকের কিছু বিক্ষিপ্ত জায়গায় গোল করে টাক পড়ে যায়। তবে বাকি চুল স্বাভাবিক থাকে। অনেক সময় পুরো মাথাতেই টাক পড়ে যেতে পারে। এতে শরীরের প্রতিরক্ষা শক্তি দেহের সুস্থ টিস্যুর ক্ষতি করে তাকে নষ্ট করে দেয়।

ট্রাইকোটিলোম্যানিয়া: এই রোগে বারবার চুল ধরে টানার ফলে চুল পড়ে যায়। ডাক্তাররা এই রোগকে ঝোঁক নিয়ন্ত্রণ রোগের তালিকায় ফেলেন।

ইনভল্যুশনাল অ্যালোপেশিয়া: স্বাভাবিক বয়স বৃদ্ধির জন্য যে চুল পড়া। এর মূল কারণ হলো চুলের বৃদ্ধির অ্যানাজেন পর্বটির সময় হ্রাস পাওয়া। এতে যত তাড়াতাড়ি চুল পড়ে, অত তাড়াতাড়ি নতুন চুল গজিয়ে উঠতে পারে না।

স্কারিং অ্যালোপেশিয়া: একে সিকাট্রিশিয়াল অ্যালোপেশিয়াও বলা হয়। এটি খুব বেশি দেখা যায় না। এতে বিভিন্ন অসুখের ফলে মাথার ত্বকে প্রদাহ বা ক্ষতচিহ্ন তৈরি হয়ে নতুন চুল গজানোর স্বাভাবিক ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।

চুল পড়ার কারণ
চুল পড়া শুরু হওয়ার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে, যেমন-

বংশগত: পরিবারে কারও চুল পড়ার ইতিহাস থাকলে অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেশিয়া হওয়ার সম্ভাবনা হতে পারে। ফলে পুরুষরা টাক পড়া বা হেয়ারলাইন পিছিয়ে যাওয়া লক্ষ করতে পারেন এবং মহিলারা সিঁথি চওড়া হয়ে যাওয়া ও চুলের ফাঁক দিয়ে মাথার ত্বক দেখা যাওয়ার সমস্যায় ভুগতে পারেন।

হরমোনের সমস্যা: গর্ভাবস্থা বা মেনোপজের সময় হরমোনের তারতম্যর ফলে চুল পড়া শুরু করতে পারে। এ ছাড়া গর্ভনিরোধক বড়ি খেলে, প্রসবের পরে বা হিস্টারেক্টমি (গর্ভাশয় কেটে বাদ দেওয়া) হলে অ্যানাজেন পর্যায়টি ছোট হয়ে গিয়ে চুল পড়তে পারে। ইনসুলিন রেসিস্ট্যান্স আরেকটি কারণ। পুরুষদের ক্ষেত্রেও চুল পড়ার পেছনে হরমোনের তারতম্য থাকতে পারে।

ভুল জীবনশৈলী: স্ট্রেস, বাজে খাদ্যাভ্যাস, অপুষ্টি এবং ভুল জীবনশৈলী অনুসরণের কারণে চুল পড়তে পারে।

ওষুধ: ক্যানসারের কেমোথেরাপি চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে চুল পড়তে পারে।

টেনে চুল বাঁধা ও চুলে রাসায়নিক চিকিৎসা করানো: টেনে চুল বাঁধা যেমন ঝুঁটি বাঁধার ফলে হেয়ার ফলিকলে টান পড়ে চুল পড়া বেড়ে যেতে পারে। ব্লিচ, রং দিয়ে চুলের রাসায়নিক চিকিৎসা করালে চুল সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে যেতে পারে।

অন্যান্য কারণ: অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত কারণের মধ্যে পড়ে দীর্ঘস্থায়ী অসুখ যেমন- থাইরয়েডের রোগ, লুপাস এবং পলিসিস্টিক ওভারিয়ান ডিজিজ। ক্র্যাশ ডায়েট, চিন্তায় নিয়মিত চুল টানা বা মাথা চুলকানোর অভ্যাস, দ্রুত ওজন কমানো, ইনফেকশন, চুলের রঙে অ্যালার্জি, চুলের কসমেটিক্স, সেবোরিক ডার্মাটাইটিস বা সোরিয়াসিস জাতীয় রোগের কারণে হঠাৎ করে চুল পড়া শুরু হতে পারে।

লক্ষণ ও উপসর্গ
ক্রমাগত অতিরিক্ত চুল পড়া।

ব্রহ্মতালুর চুল পাতলা হয়ে যাওয়া।

গোলাকৃতি আকারে বিভিন্ন জায়গায় টাক পড়া।

ফাঙ্গাল ইনফেকশনের জন্য হঠাৎ করে চুল উঠে যাওয়া, সঙ্গে ব্যথা বা চুলকানি।

 বিক্ষিপ্তভাবে চুল গজানো।

‘M’ আকারে হেয়ারলাইন ক্রমশ পিছিয়ে যাওয়া।

রোগ নির্ণয়
বিশেষজ্ঞরা চুল পড়ার কারণ চিহ্নিত করতে মেডিকেল হিস্ট্রি খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ এবং ট্রাইকোস্কোপির সাহায্য নেন। খুব বেশি চুল পড়ার কারণে নিয়ে সন্দেহ থাকলে ডাক্তার বায়োপসি করার পরামর্শ দিতে পারেন যাতে একটি উপযুক্ত চিকিৎসাপদ্ধতি নির্দিষ্ট করা যায়।

প্রতিরোধ ও চিকিৎসা
চুল পড়া থামাতে এই সহজ টিপসগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে।

উগ্র রাসায়নিক দেওয়া সামগ্রী চুলে লাগাবেন না। তাপ দিয়ে চুল স্টাইল করার সরঞ্জাম যেরকম স্ট্রেটনার বা পার্মিং আয়রন ব্যবহার করবেন না।

 সুস্থ চুল পরিচর্যার রুটিন মেনে চলুন এবং হালকা শ্যাম্পু দিয়ে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার চুল পরিষ্কার করুন। কতবার শ্যাম্পু করা উচিত তা আপনার চুলের প্রকৃতি ও ময়লা এবং পলিউশন চুলে কতটা প্রভাব ফেলছে তার উপর নির্ভর করে।

প্রয়োজনীয় নিউট্রিয়েন্ট ও ভিটামিন যেমন আয়রন, ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি, প্রোটিন আর ভিটামিন ই সহ একটি ব্যালান্সড ডায়েট খান।

সুস্থ জীবনশৈলী মেনে চলুন। নিয়মিত ব্যায়াম, যোগাসন এবং মেডিটেশন করে চাপমুক্ত জীবন উপভোগ করুন।

এমনভাবে চুল বাঁধবেন না যাতে চুলের গোড়ায় বেশি টান পড়ে।

ঘরোয়া সমাধান

দই: ২ চামচ দইয়ের সঙ্গে ১ চামচ মধু এবং ১ চামচ লেবুর রস নিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। মিশ্রনটা ভালো করে চুলে লাগিয়ে কম করে ৩০ মিনিট রেখে দিন। চুলটা ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে একবার করলে চুল পড়ার হার কমতে শুরু করবে।

নারকেল দুধ: এক কাপ নারকেল দুধ নিয়ে ধীরে ধীরে স্কাল্পে লাগান। টাওয়াল দিয়ে মাথাটা ঢেকে ২০ মিনিট রেখে ভালো করে চুলটা ধুয়ে ফেলুন। এমনটা সপ্তাহে কয়েকবার করলেই দেখবেন চুল পড়া কমতে শুরু করবে।

পেঁয়াজের রস: একটা পেঁয়াজ থেকে রস সংগ্রহ করে নিন। তারপর সেই রস সরাসরি মাথায় লাগিয়ে মাসাজ করুন। ৩০ মিনিট পরে শ্যাম্পু করে নিন। প্রসঙ্গত, সপ্তাহে ২-৩ বার এই পদ্ধতিতে চুলের পরিচর্যা করলে ফল পাবেন একেবারে হাতে-নাতে।

বিটরুট: পরিমাণ মতো বিটরুট পাতা নিয়ে পানিতে সেদ্ধ করে নিন। তারপর পাতাগুলো গুঁড়ো করে নিয়ে মেথির সঙ্গে মিশিয়ে স্কাল্পে লাগান। এই মিশ্রনটি ২০ মিনিট মাথায় লাগিয়ে রাখলে চুল পড়ার হার একেবারে কমে যায়। 

মেথি: মেথি বীজ নিয়ে এক গ্লাস পানিতে এক রাত ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন বীজগুলো বেটে পেস্ট বানান। সেই পেস্টটা ভালো করে মাথায় লাগিয়ে ৪০ মিনিট রেখে দিয়ে ধুয়ে নিন।

নিম পাতা: ১০-১২টা নিম পাতা পানিতে ফুটিয়ে নিন। সেই পানি দিয়ে ভালো করে চুল ধুয়ে নিন। এমনটা করলেই দেখবেন উপকার মিলতে শুরু করেছে।

অ্যালোভেরা: পরিমাণ মতো অ্যালোভেরা জেল নিয়ে স্কাস্পে লাগিয়ে নিন। আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করে কুসুম গরম পানি দিয়ে ভালো করে মাথাটা ধুয়ে নিন।

কলি 

পুরুষের রোগ গাইনেকোমাস্টিয়া

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৪, ০৫:৩৬ পিএম
পুরুষের রোগ গাইনেকোমাস্টিয়া

গাইনেকোমাস্টিয়া শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ গাইনেক ও মাস্টস থেকে। এখানে গাইনেক অর্থ হলো মেয়েদের মতো আর মাস্টস অর্থ হলো স্তন। অর্থাৎ মেয়েদের মতো স্তন। গাইনেকোমাস্টিয়া প্রকৃত পক্ষে পুরুষদের স্তন গ্রন্থি টিস্যু বৃদ্ধির সঙ্গে স্তন বৃদ্ধির একটি অবস্থা। রোগটি সব বয়সের পুরুষের মধ্যে দেখা যায়, তবে নবজাতক, বয়ঃসন্ধিকালে এবং বৃদ্ধ বয়সে বেশি দেখা যায়। টেস্টোস্টেরন (পুরুষ যৌন হরমোন) এবং ইস্ট্রোজেন (মহিলা যৌন হরমোন) হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে গাইনেকোমাস্টিয়া হয়। জানাচ্ছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সাবেক বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ

গাইনেকোমাস্টিয়া কয়েক প্রকারের হয়ে থাকে। এর মধ্যে আছে-

১। সিডো-গাইনেকোমাস্টিয়া  
শৈশবে এই সিডো- গাইনেকোমাস্টিয়ার সূত্রপাত ঘটে, স্তনে অতিরিক্ত চর্বি ডিপোজিশনের কারণে। এ ধরনের গাইনেকোমাস্টিয়ার চিকিৎসায় সাধারণত খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক ব্যায়ামকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়। সার্জারির প্রয়োজন হয় না।

২। জুভেনাইল গাইনেকোমাস্টিয়া
বয়ঃসন্ধিকালের ট্রানজিশনাল সময়ে জুভেনাইল গাইনেকোমাস্টিয়ার উদ্ভব ঘটে। এ ধরনের গাইনেকোমাস্টিয়ার চিকিৎসা সার্জারির মাধ্যমেই করতে হয়। অনেক সময় ছোট হলে সাধারণত সুস্থ হয়ে যায়।

৩। ড্রাগ ইন্ডিউসড গাইনেকোমাস্টিয়া
বিভিন্ন রকম ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতে বা খাদ্যশস্য, দুধ বা মাছ-মাংসে পরোক্ষভাবে প্রয়োগ করা হরমোনের প্রভাবে এ ধরনের গাইনেকোমাস্টিয়া হয়ে থাকে, যার একমাত্র চিকিৎসা সার্জারি। যে ওষুধের কারণে এটি হয়েছে সে ওষুধ বন্ধ করে দিলে আর বৃদ্ধি পায় না। তবে যতটুকু বৃদ্ধি পেয়েছে সেটি সার্জারির মাধ্যমেই চিকিৎসা করতে হয়।
গবেষণা বলছে আরও কিছু ওষুধের ব্যবহার ড্রাগ ইন্ডিউসড গাইনেকোমাস্টিয়ার কারণ হিসেবে চিহ্নিত
অ্যান্টি-অ্যান্ড্রোজেন ওষুধ: এই ওষুধগুলো বর্ধিত প্রোস্টেট, প্রোস্টেট ক্যানসার এবং অন্য ব্যাধিগুলোর চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ হলো স্পিরোনোল্যাক্টোন, ফিনাস্টেরাইড এবং ফ্লুটামিড।
অ্যানাবলিক স্টেরয়েড এবং অ্যান্ড্রোজেন: এই ওষুধগুলো বিলম্বিত বয়ঃসন্ধি, পেশি ক্ষয় এবং অন্য রোগের কারণে হরমোনের ঘাটতির চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়।
এইডসের জন্য ওষুধ: এইচআইভি রোগীদের জন্য কিছু ওষুধ, যেমন এফাভিরেঞ্জ, ইস্ট্রোজেনের মতো বৈশিষ্ট্যযুক্ত এবং গাইনেকোমাস্টিয়া হতে পারে।
অ্যান্টি-অ্যাংজাইটি ওষুধ: ডায়াজেপামের মতো ওষুধ সেবনের ফলে গাইনেকোমাস্টিয়া হতে পারে।
অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার (ADHD) ওষুধ: অ্যাডেরালের মতো ওষুধ যাতে অ্যামফেটামাইন থাকে সেগুলো গাইনেকোমাস্টিয়া হতে পারে।
অ্যান্টিবায়োটিক: সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত ওষুধগুলো গাইনেকোমাস্টিয়া হতে পারে।
ট্রাইসাইক্লিক এন্টিডিপ্রেসেন্টস স্তনকে বড় করে তুলতে পারে।
কেমোথেরাপির ওষুধ: ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ সেবনের ফলে গাইনেকোমাস্টিয়া হতে পারে।
আলসারের ওষুধ: সিমেটিডিনের মতো ওষুধ স্তন বড় করতে পারে।
পেট খালি করার ওষুধ: মেটোক্লোপ্রামাইডের মতো ওষুধ স্তন বড় করতে পারে।
হার্টের ওষুধ: ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার এবং ডিগক্সিনের মতো ওষুধগুলো গাইনেকোমাস্টিয়ার জন্য দায়ী হতে পারে।কেমোথেরাপির ওষুধ: ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ সেবনের ফলে গাইনেকোমাস্টিয়া হতে পারে।
আলসারের ওষুধ: সিমেটিডিনের মতো ওষুধ স্তন বড় করতে পারে।
পেট খালি করার ওষুধ: মেটোক্লোপ্রামাইডের মতো ওষুধ স্তন বড় করতে পারে।
হার্টের ওষুধ: ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার এবং ডিগক্সিনের মতো ওষুধগুলো গাইনেকোমাস্টিয়ার জন্য দায়ী হতে পারে।

৪। সিস্টেমিক ডিজিজ গাইনেকোমাস্টিয়া
শারীরিক নানা জটিল অসুখের প্রভাবেও গাইনেকোমাস্টিয়া হয়ে থাকে, যাকে বলা হয় ‘সিস্টেমিক ডিজিজ গাইনেকোমাস্টিয়া’। এ ধরনের রোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো Cushing’s Syndrome এবং Cirrhosis Liver।
স্তনের সাইজ ও ধরন অনুযায়ী ৪টি গ্রেডে গাইনেকোমাস্টিয়াকে ভাগ করা হয়।
গ্রেড ১ - অতিরিক্ত ত্বক ছাড়া স্তনের সামান্য বৃদ্ধি
গ্রেড ২ - অতিরিক্ত ত্বক ছাড়া মাঝারি মাপের বৃদ্ধি
গ্রেড ৩ - অতিরিক্ত ত্বক সমেত মাঝারি বৃদ্ধি
গ্রেড ৪ - অতিরিক্ত ত্বক সমেত ভালো বৃদ্ধি

গাইনেকোমাস্টিয়ার ঝুঁকির কারণগুলো কী কী? 
কিছু কারণ গাইনেকোমাস্টিয়া হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। এই কারণগুলো হলো বার্ধক্য, অ্যাথলেটিক পারফরম্যান্সের উন্নতির জন্য অ্যানাবলিক স্টেরয়েড ব্যবহার করা, লিভারের ব্যাধি, কিডনি ফেইলিওর, থাইরয়েড রোগ, টিউমার, ক্লাইনফেল্টার সিন্ড্রোমের মতো স্বাস্থ্যের অবস্থা। এ ছাড়া অ্যান্টি-এন্ড্রোজেন, অ্যান্টি-অ্যাংজাইটি ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টস, অ্যান্টি-আলসার ওষুধ, এডিএইচডির ওষুধ, এইডসের ওষুধ ইত্যাদি ব্যবহার। অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন, অবৈধ ওষুধের ব্যবহার, ল্যাভেন্ডার তেলের মতো ভেষজ পণ্যের ব্যবহার এবং অ্যালকোহল এবং বিনোদনমূলক ওষুধের ব্যবহারও গাইনেকোমাস্টিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। এসব ওষুধের মধ্যে আছে মারিজুয়ানা, মদ, অ্যামফিটামাইনস, হেরোইন, অ্যানাবলিক স্টেরয়েড (পেশি নির্মাণ এবং অ্যাথলেটিক কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত) ও মেথাডোন।

গাইনেকোমাস্টিয়ার লক্ষণ
গাইনেকোমাস্টিয়ায় আক্রান্ত অনেক পুরুষের কোনো উপসর্গ নাও থাকতে পারে। যাইহোক, তাদের মধ্যে কিছু নিম্নলিখিত উপসর্গ আছে যেমন- ব্যথা, স্তনের টিস্যু ফোলা, স্তনের কোমলতা, স্তনের সংবেদনশীলতা এবং স্তনবৃন্ত স্রাব।

কীভাবে গাইনেকোমাস্টিয়া নির্ণয় করবেন
শারীরিক পরীক্ষা: ডাক্তার প্রথমে রোগীকে শারীরিকভাবে পরীক্ষা করবেন। রোগীর সম্পূর্ণ চিকিৎসা ইতিহাস এবং পারিবারিক ইতিহাসসহ রোগীর লক্ষণগুলো উল্লেখ করা হয়।
রক্ত পরীক্ষা: রক্তে হরমোনের মাত্রা এবং অন্তর্নিহিত সংক্রমণের উপস্থিতি পরীক্ষা করার জন্য একটি রক্ত পরীক্ষা কার্যকর।
স্তন আল্ট্রাসাউন্ড: শব্দ তরঙ্গ স্তন বৃদ্ধির স্পষ্ট ছবি পেতে ব্যবহার করা হয়।
ম্যামোগ্রাম: এটি স্তনের টিস্যুর কোনো পরিবর্তন বা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পরীক্ষা করতে সাহায্য করে।
কম্পিউটারাইজড টোমোগ্রাফি (সিটি) স্ক্যান এবং ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং (এমআরআই) স্ক্যান: এগুলো শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ যেমন স্তন টিস্যুর স্পষ্ট ছবি পেতে ইমেজিং পরীক্ষা করা হয়।
টেস্টিকুলার আল্ট্রাসাউন্ড: টেস্টিসের আশপাশের এলাকার স্পষ্ট ছবি তৈরি করতে শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়।
টিস্যু বায়োপসি: সন্দেহভাজন টিস্যু বৃদ্ধির একটি ছোট নমুনা এক্সাইজ করা হয় এবং কোনো ক্যানসার কোষের উপস্থিতি পরীক্ষা করার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। এই পরীক্ষা সাধারণত স্তন ক্যানসার বাতিল করার জন্য করা হয়।

গাইনেকোমাস্টিয়ার চিকিৎসা কী?
সিডো-গাইনেকোমাস্টিয়া ব্যতীত অন্যান্য গাইনেকোমাস্টিয়ার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সার্জারি একমাত্র চিকিৎসা পদ্ধতি। যদিও এটি শারীরিক অসুবিধার থেকে সামাজিক বিড়ম্বনাটাই বেশি। এ ক্ষেত্রে প্লাস্টিক সার্জারি করলে সাধারণত দাগ থাকে না।

গাইনেকোমাস্টিয়া কীভাবে প্রতিরোধ করবেন
গাইনেকোমাস্টিয়া প্রতিরোধ করার জন্য কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্যে আছে বিনোদনমূলক ওষুধের ব্যবহার এড়িয়ে চলা, অ্যালকোহল সেবন না করা, ডাক্তার দ্বারা নির্ধারিত স্টেরয়েড ব্যবহার এড়িয়ে চলা, বডি বিল্ডিং পরিপূরক এবং ওষুধ এড়ানো, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, সুষম খাদ্য খাওয়া এবং ব্যায়াম নিয়মিত করা।

কলি

বিষণ্নতা, রোগ নাকি স্বাভাবিক অবস্থা?

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৪, ০৫:৩৩ পিএম
বিষণ্নতা, রোগ নাকি স্বাভাবিক অবস্থা?
প্রতীকী ছবি

বিষণ্নতা সাধারণত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মানসিক অবস্থা , যা দৈনন্দিন কার্যকলাপে (যেমন- ঘুম, খাওয়ার, চিন্তা ও আচরণে ) প্রভাব ফেলে। অবস্থা বেধে বিষণ্নতা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা।  উদাহরণ স্বরূপ, -  কোন একজনের নিকট আত্মীয় মারা যাওয়ায় সে বিষণ্ন অথবা কেউ বড় ধরনের  আর্থিক ক্ষতিতে বিষণ্ন কিংবা কেউ উদ্দেশ্য বা পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়ে বিষণ্ন বা অন্য যেকোনো কারণেই বিষণ্ন , যা কিনা মানুষের আবেগ ও হরমোন জনিত খুবই স্বাভাবিক অবস্থা। তবে কমপক্ষে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বিষণ্নতার অন্যতম উপসর্গগুলোর উপস্থিতি মানসিক অসুস্থতা বলে গণ্য হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বদৌলতে জানা গেছে, বিশ্বের ২৬৪ মিলিয়ন মানুষ বিষণ্নতা রোগে আক্রান্ত এবং আমাদের দেশে প্রায় ৭% (৬.৭%) মানুষ এ রোগের শিকার (২০১৮ সালের জরিপ ও গবেষণা অনুসারে)।

বিষণ্নতার কারণ
কোন একটি কারণে বিষণ্নতা হবে এমনটা বলা বেশ শক্ত । বরং অনেকগুলো কারণ এর সমন্বয়ে বিষণ্নতা রোগ হতে পারে।মূলত মস্তিষ্কের জৈব-রাসায়নিক পদার্থের ভারসাম্যহীনতাই বিষণ্নতার মূল কারণ । নানা গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে জানা গেছে আমাদের মস্তিষ্কের নানা জৈব-রাসায়নিক  পদার্থ যেমন,- এপিনেফ্রিন,নর-এপিনেফ্রিন,গ্লুটামেট, গামা অ্যামাইনোবিউটারিক এসিড ,কর্টিসল,ডোপামিন ইত্যাদির  ভাষ্যহীনতা বিষণ্নতা সৃষ্টি করে। এছাড়াও বিভিন্ন এন্ডোক্রাইন রোগ সমূহ, যেমন- থাইরয়েড ,প্যারো-থাইরয়েড ,ডায়াবেটিস কিংবা হাইপোথ্যালামো-পিটুইটারি-থাইরয়েড  ও হাইপোথ্যালামো-পিটুইটারি-অ্যাক্সিস এর ভারসাম্যহীনতা বিষণ্নতার কারণ হতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় পাওয়া গেছে জিনগত ত্রুটি বিষণ্নতা রোগের অন্যতম কারণ । অর্থাৎ,করো পিতা-মাতা ও নিকট আত্মীয়র ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতা থাকলে, সেই ব্যক্তির বিষণ্নতা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। মস্তিষ্কের গঠন জনিত কয়েকটি কারণও বিষণ্নতার জন্য দায়ী হিসেবে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

কীভাবে বুঝবেন আপনি বিষণ্নতায় ভুগছেন
DSM-V (মার্কিন চিকিৎসক সমিতি এর পুস্তক) এ বিষণ্নতা যাচাইয়ের একটি মানদণ্ড প্রকাশিত হয়েছে। যেটির মাধ্যমে আপনিও আপনার বিষণ্নতা যাচাই করতে পারবেন। নিচের প্রশ্নগুলি পড়ুন এবং হ্যাঁ /না এ উত্তর করুন।

১.আপনার কি ইদানিং খুব বেশি মন খারাপ থাকে?
২. আপনার ভেতর কি নেতিবাচক চিন্তা আসে ?

যেমন -
*আমার দ্বারা কিছুই হবে না 
*আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে 
*আমার বেঁচে থাকার কোন অর্থ নেই 
*আমার মরে গেলেই বুঝি ভালো হতো ...ইত্যাদি 
৩.আপনি আগে যেসব কাজে আনন্দ, উৎসাহ বা আগ্রহ পেতেন /ভাল লাগতো সেগুলো ইদানিং আর ভালো লাগেনা ?
৪.আপনার দৈনন্দিন কাজকর্ম কি ধীরগতিতে চলছে/ব্যাহত হচ্ছে ?
৫.আপনার শরীরের ওজন,খাওয়া বা ঘুম কি অনেকটাই কমে গেছে /বেড়ে গেছে ?
৬.উপরোক্ত কারণগুলোর জন্য কি আপনার সামাজিক ,পারিবারিক ও কর্মক্ষেত্রে অসুবিধা সৃষ্টি হচ্ছে?
উপরোক্ত প্রশ্নগুলির কোন একটির উত্তর যদি হ্যাঁ হয় এবং তা যদি কমপক্ষে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে হয়ে থাকে তবে আপনি বিষণ্নতা রোগে আক্রান্ত। 

চিকিৎসা
প্রচলিত চিকিৎসা মতে বিষণ্নতা রোগের চিকিৎসায় ঔষধ এবং সাইকোথেরাপি দুইটি পদ্ধতির উল্লেখ আছে। বিষণ্নতা চিকিৎসায় দুটি পদ্ধতি সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ । এবং  দুটির  সমন্বয়েই কেবলমাত্র বিষণ্নতার ইতি টানা সম্ভব।
 সাইকোথেরাপির মাধ্যমে রোগীর নেতিবাচক চিন্তা ও মনোভাবের পরিবর্তন ঘটিয়ে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। বিষণ্নতা চিকিৎসায় যেসব ঔষধ ব্যবহার করা হয় সেগুলোকে আমরা এন্টিডিপ্রেসেন্ট  বলি। বাজারের নানা ধরনের এন্টিডিপ্রেসেন্ট পাওয়া যায়। বিষণ্নতা সম্পূর্ণ নিরাময় যোগ্য একটি রোগ। আপনার বিষণ্নতা যাচাই করুন । প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। হাসি-খুশিময় সুস্থ জীবন উপভোগ করুন। মনে রাখবেন,  সুস্থ জীবন আপনার অধিকার 

ডা:  মাহফিজুর রহমান 
রেজিস্টার 
মনোরোগ বিভাগ 
গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা। 

যদি সবসময় ক্লান্ত থাকেন

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৪, ০২:০২ পিএম
যদি সবসময় ক্লান্ত থাকেন

ক্লান্তিকে সবচেয়ে ভালো বর্ণনা করা যায় আলস্য ও অবসাদ হিসেবে। যাদের মধ্যে এই উপসর্গগুলো এবং নিদ্রালুভাব দেখতে পাওয়া যায় তাদের ক্লান্ত বলা যায়। এই নিষ্ক্রিয়তা এবং আলস্য হতে পারে মানসিক অথবা শারীরিক, যা ওই ব্যক্তির অন্তর্নিহিত শারীরিক বা মানসিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। মাইউপচার অবলম্বনে জানাচ্ছেন মো. রাকিব

ক্লান্ত ব্যক্তি সাধারণত একটু অন্যমনস্ক থাকেন এবং খুব ধীরে চলাফেরা করেন। অন্যান্য যে উপসর্গ দেখা যেতে পারে সেগুলো হলো- মেজাজের দ্রুত পরিবর্তন, শ্রান্তি, জীবনীশক্তির অভাব এবং দুর্বল চিন্তাশক্তি। এ ছাড়া ক্লান্ত ব্যক্তির মধ্যে তৎপরতার অভাবও দেখতে পাওয়া যায়।

প্রধান কারণ
শারীরিক কিছু অসুস্থতা, যেমন- জ্বর বা ফ্লু, দুর্বলতা এবং ক্লান্তিভাব সাধারণভাবেই দেখতে পাওয়া যায়। এ ছাড়া অন্য যেসব অসুখের ক্ষেত্রে এটি দেখা যায় সেগুলো হলো- হাইপারথাইরয়েডিসম বা উচ্চ থাইরয়েডের সমস্যা অথবা হাইপোথাইরয়েডিসম বা নিম্ন থাইরয়েডের সমস্যা। এ ছাড়া স্ট্রোক, গর্ভাবস্থা, অত্যধিক মদ্যপান, জ্বর, মেনিনজাইটিস ও মস্তিষ্কে আঘাত। পাশাপাশি কিডনির সমস্যা, লাইম রোগ, শরীরে পানিশূন্যতা, কম ঘুম বা অসম্পূর্ণ পুষ্টি থেকেও এটা হতে পারে। এ ছাড়া মানসিক সমস্যা যেমন- বিষণ্নতা, উদ্বেগ, গর্ভাবস্থা-পরবর্তীকালীন বিষণ্নতা বা প্রি-মেনস্ট্রুয়্যাল সিনড্রোম বা মাসিকচক্রের পূর্ববর্তীকালীন সমস্যা এবং অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ও অন্যান্য কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে ক্লান্তি আসতে পারে।

রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা
ক্লান্তি নির্ণয়ের জন্য রোগীর সম্পূর্ণ চিকিৎসাগত ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষা প্রয়োজন। হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের পরীক্ষাও করা হতে পারে। এ ছাড়া চিকিৎসক রোগীর মানসিক সচেতনতা এবং অন্ত্রের শব্দ ও ব্যথার পরীক্ষা করতে পারেন। সম্ভাব্য কোনো অসুখের জন্য রোগী ক্লান্তিতে ভুগছেন, তা জানতে একাধিক টেস্ট ও ইমেজিং স্টাডি বা প্রতিবিম্বকরণ করা হয়ে থাকে।

ক্লান্তির চিকিৎসা করার আগে এর অন্তর্নিহিত কারণ নির্ণয় করা প্রয়োজন। কারণ জানা গেলে তার ওপর নির্ভর করে এর চিকিৎসা শুরু করা যায়। চিকিৎসক এর জন্য ওষুধ দিতে পারেন, যেমন- মানসিক সমস্যার কারণে ক্লান্তি হলে এন্টিডিপ্রেসেন্ট দেওয়া হয়। পরিমাণমতো পানি পান, পরিমিত ঘুম, সুষম খাদ্যগ্রহণ ও মানসিক চাপ কমানোর মতো কিছু সহজ পদ্ধতি ক্লান্তি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

কলি