ঢাকা ২ বৈশাখ ১৪৩১, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

ত্বকের ফুসকুড়ি: কারণ লক্ষণ ও চিকিৎসা

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৪১ এএম
ত্বকের ফুসকুড়ি: কারণ লক্ষণ ও চিকিৎসা

ফুসকুড়ি হলো ত্বকের রঙে অস্বাভাবিক পরিবর্তন। এগুলো সাধারণত ত্বকের প্রদাহ থেকে আসে। এর নানা কারণ থাকতে পারে। যেমন- একজিমা, গ্রানুলোমা অ্যানুলারে, লাইকেন প্ল্যানাস এবং পাইটিরিয়াসিস রোজের মতো ত্বকের অবস্থার কারণে সৃষ্টসহ অনেক ধরনের ফুসকুড়ি রয়েছে। ওয়েব এমডি অবলম্বনে জানাচ্ছেন মো. রাকিব

ফুসকুড়িগুলোর লক্ষণ

ত্বকের ফুসকুড়ির লক্ষণগুলো ফুসকুড়িগুলোর কারণ এবং ধরনের ওপর নির্ভর করে। তবে কিছু সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে ফোস্কা পড়া, লাল ভাব, খসখসে বা শুষ্ক ত্বক, ফোলা বা প্রদাহ, ত্বকে চুলকানি, ব্যথা, ভাঙা চামড়ায় সংক্রমণ, বৃত্তাকার আকৃতি নিয়ে ত্বকে লাল বর্ণ ধারণ ইত্যাদি।

ফুসকুড়ির কারণ

নানা কারণে ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ভাইরাল বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, রোসেসিয়া বা একজিমার মতো ত্বকের অবস্থা, মানসিক চাপ, অ্যালার্জি, জ্বর বা হাঁপানির ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক ইতিহাস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এবং বাতের চিকিৎসাসহ কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের সঙ্গে অ্যালার্জি। এ ছাড়া হেপাটাইটিস বি বা হেপাটাইটিস সির মতো রোগ থেকে ফুসকুড়ি 
হতে পারে।

ফুসকুড়ি নির্ণয়

ত্বকের ফুসকুড়ি নির্ণয় বেশ সহজ। ডাক্তার ত্বক পরীক্ষা করে এবং লক্ষণগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে রোগ নির্ণয় করতে পারেন। তবে প্রয়োজনবোধে কিছু পরীক্ষা করা যেতে পারে। এর মধ্যে আছে স্কিন বায়োপসি। আক্রান্ত স্থান থেকে কিছুটা ত্বক নেওয়া হয়। সেটা ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়। 

রক্ত পরীক্ষা। ডাক্তার রোগীর রক্তে অ্যান্টিবডিগুলো দেখে রোগ নির্ণয় করতে পারেন।

এলার্জি পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় রোগী কতটা এলার্জির প্রতি সক্রিয় তা দেখা হয়। 

ফুসকুড়ির চিকিৎসা

চিকিৎসা সাধারণত ফুসকুড়িগুলোর কারণের ওপর নির্ভর করে। তবে সাধারণ কিছু চিকিৎসার মধ্যে আছে ফুসকুড়ি নিরোধক ক্রিম এবং মলম। এ ছাড়া স্টেরয়েড দিয়েও চিকিৎসা চলে। এটা চুলকানি এবং ফুলে যাওয়া ত্বকে সমস্যা কমাতে সহায়তা করে।

ইনজেকশন। ইনজেকশনগুলো নির্দিষ্ট ত্বকের অবস্থা থেকে আসা ফুসকুড়িগুলোর চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয়।

এটি বেশির ভাগ রোগীর চুলকানি দ্রুত পরিষ্কার করে। কর্টিসোন ইনজেকশনগুলো আরও গুরুতর ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

ফটোথেরাপি (লাইট থেরাপি)। এটি কার্যকর চিকিৎসা, যা একজিমা আক্রান্ত রোগীকে সহায়তা করে। ফটোথেরাপি গুরুতর ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয়। বিশেষ লাইট থেকে অতিবেগুনি এ (ইউভিএ) বা অতিবেগুনি বি (ইউভিবি) ব্যবহার করে রোগের চিকিৎসা করা হয়।

ফটোথেরাপির কিছু ঝুঁকি আছে। ত্বক জ্বলে যাওয়া, শুষ্ক ত্বক, চুলকানি এবং ত্বকের সম্ভাব্য অকাল বার্ধক্য এর মধ্যে অন্যতম।

ফুসকুড়িগুলোর জটিলতা

ত্বকে ফুসকুড়িগুলো সাধারণ চিকিৎসায় ভালো হয়ে যায়। তবে এরপরও কিছু সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এর মধ্যে আছে সংক্রমণ। ফুসকুড়ির স্থানে চুলকালে সেখান দিয়ে ব্যাকটেরিয়ার মতো রোগজীবাণু প্রবেশ করে। ফলে সংক্রমণ হতে পারে।

অ্যানাফিল্যাক্সিস। ত্বকের ফুসকুড়ি ছাড়াও কিছু রোগীর মারাত্মক অ্যালার্জি হতে পারে, যা প্রাণঘাতী। এটি অ্যানাফিল্যাক্সিস নামেও পরিচিত। অ্যানাফিল্যাক্সিসে ত্বকে চরম ফোলা ভাব ঘটে। 

ফুসকুড়ি প্রতিরোধের উপায়

ফুসকুড়ি প্রতিরোধ করতে চাইলে মানসিক চাপ কমাতে হবে। উল এবং রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। নিয়মিত ত্বক ময়েশ্চারাইজ করতে হবে। অধিক তাপমাত্রা বা আর্দ্রতা এড়িয়ে চলতে হবে। ঘাম এবং অতিরিক্ত গরম থেকে দূরে থাকতে হবে।

ঘরোয়া সমাধান

শিশুর তাপজনিত ফুসকুড়ি থেকে রক্ষা পেতে বরফের সেঁক খুব কার্যকর। গামলায় ঠাণ্ডা পানি নিয়ে বা আইস ব্যাগ দিয়ে আক্রান্ত স্থানে এক-দুই মিনিট করে দিনে কয়েকবার সেঁক দিন।

ঘরোয়া সমাধান হিসেবে কাঁচা শসাবাটা ব্যবহার করে দেখতে পারেন। কাঁচা শসা বেটে বা পেস্ট করে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে রেখে কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন। দিনে দুই- তিনবার এমন করুন।

নারকেল তেলের সঙ্গে চায়ের তেল (টি ট্রি অয়েল) মিশিয়ে ব্যবহার করলে দারুণ উপকার পাওয়া যায়। এই দুটি তেলের মিশ্রণ ত্বকে লাগিয়ে রেখে ২০-৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

ঘৃতকুমারীর (অ্যালোভেরা) নির্যাসের নানাবিধ উপকারিতার মধ্যে ফুসকুড়ির ঘরোয়া সমাধানও খুব কার্যকর। এতে রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিসেপটিক উপাদান। ফলে অ্যালোভেরার রস আক্রান্ত স্থানে লাগালে হিট র‍্যাশ কমে যায়।

কলি 

বিএসএমএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গরূপে চালুর নির্দেশ

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৪, ১০:৫৮ এএম
বিএসএমএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গরূপে চালুর নির্দেশ
ছবি : সংগৃহীত

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল দ্রুত পূর্ণাঙ্গরূপে চালুর নির্দেশ দিয়েছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক। 

শনিবার (৬ এপ্রিল) এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সভায় তিনি এই নির্দেশ দেন। 

সভায় আন্তর্জাতিকমান বজায় রেখে দেশে শ্রেষ্ঠতম চিকিৎসাসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের প্রয়োজনীয় কাজ দ্রুত সম্পন্নের তাগিদ দেন উপাচার্য। সে সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগ্য ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত করা, সামগ্রিক যন্ত্রপাতির যোগানসহ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল সঠিকভাবে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন তিনি। 

এ সভায় উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল হান্নান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল, সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. আব্দুল্লাহ আল হারুন, উপ-পরিচালক (প্রকল্প) সহযোগী অধ্যাপক ডা. নূর-ই-এলাহী মিম প্রমুখ।

স্কার্ভি একটি সাধারণ সমস্যা

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৪৪ এএম
স্কার্ভি একটি সাধারণ সমস্যা

আস্করবিক অ্যাসিড, যা ভিটামিন সি নামেও পরিচিত। এর দীর্ঘস্থায়ী অভাবের ফলে স্কার্ভি দেখা দেয়। ভিটামিন সি কোলাজেনের গঠনে, শরীরের রক্ত বাহিকাগুলো ও অন্যান্য টিস্যুর অবলম্বনে এবং গঠনে বিশেষ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। মাই উপচার অবলম্বনে জানাচ্ছেন ফখরুল ইসলাম

প্রাথমিকভাবে দেখতে পাওয়া উপসর্গগুলোর মধ্যে আছে দুর্বলতা ও অস্বস্তি অনুভব হওয়া। এ ছাড়া অবসাদ বা ক্লান্তি, বমিবমি ভাব, ডায়রিয়া, জ্বর হতে পারে। পাশাপাশি মায়ালজিয়া (পেশিতে ব্যথা) এবং অস্থিসন্ধিতে ব্যথা থাকতে পারে। খিদে না পাওয়া, চামড়ায় লোমকূপের মধ্যে রক্তপাত, হাত ও পায়ে ব্যথা হওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়।

পরে দেখতে পাওয়া উপসর্গগুলোর মধ্যে আছে অ্যানিমিয়া, মাড়ির সমস্যা, চোখে ফোলা ভাব, খসখসে, শুষ্ক এবং লালচে ত্বক। এ ছাড়া ক্ষতস্থান ধীরে ধীরে ভালো হওয়া, ত্বকে রক্তপাত, চুল রুক্ষ ও নষ্ট হয়ে যাওয়ার সঙ্গে অত্যধিক চুল পড়াও দেখা দিতে পারে। হাড়ের সংযোগস্থলে ও পেশির ভেতরে রক্তপাতের ফলে হাত ও পায়ে ফোলা ভাব থাকতে পারে। অনেক সময় হাড়ের বৃদ্ধির গতি হ্রাস বা বাধাপ্রাপ্ত হয়।

প্রধান কারণ

স্কার্ভি সাধারণত অনুন্নতশীল দেশে দেখতে পাওয়া যায়, যেখানে অপুষ্টি হলো একটি প্রধান সমস্যা। স্কার্ভি এমন খাদ্য দ্বারা সৃষ্ট হয়, যার মধ্যে ভিটামিন সি যথেষ্ট পরিমাণে নেই।

কাদের হয়

ব্যক্তির অপর্যাপ্ত খাবার খাওয়া, বিশেষত যারা অনেক ধরনের খাবারের প্রতি খুঁতখুঁতে, যেসব ব্যক্তির অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা আছে; বয়স্ক, বাচ্চা যাদের মানসিক ও শারীরিক অক্ষমতা আছে, এমন ব্যক্তি যাদের বিশেষ কোনো খাদ্যাভ্যাস বা খাবারের প্রতি পছন্দ-অপছন্দ বা অ্যালার্জি আছে- তাদের মধ্যে এই রোগ দেখা দেয়।

যেসব ব্যক্তি অপুষ্টির সমস্যাজনিত রোগ, যেমন- ম্যালাবসর্পশন ডিসঅর্ডারস, প্রবল ডিসপেপসিয়া, ডায়ালেসিস, প্রদাহজনক মলদ্বারের সমস্যা ও অন্যান্য বিশেষ কোনো রোগের চিকিৎসাধীন আছেন, তাদের মধ্যেও এটা দেখা দেয়।

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

চিকিৎসার ইতিহাস, শারীরিক পরীক্ষা ও উপসর্গের ওপর ভিত্তি করে স্কার্ভি নির্ণয় করা হয়। প্রথমে খাদ্যে ভিটামিন সির অভাবের ইতিহাস খতিয়ে দেখা হয়। তারপর করা হয় প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা। এর মধ্যে আছে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ভিটামিন সি এবং আয়রনের মাত্রা নির্ধারণ। হাত ও পায়ের সংযোগস্থলগুলোর এক্স-রে করা।

যখন রোগী উপসর্গগুলো কমানোর জন্য ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার খায় এবং ভালো ফল পায়, তখন নির্ণয়টি নিশ্চিত হয়।

ভিটামিস সি খাওয়াই এই রোগের প্রধান চিকিৎসা। তাই চিকিৎসক ভিটামিন সি সম্পূরকের পরামর্শ দেন। খাদ্যতালিকার পরিবর্তনের মধ্যে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবারকে যুক্ত করা হয়। 

এগুলো ব্যাপকভাবে উপসর্গগুলোকে কমাতে পারে। পেঁপে, পাতিলেবু এবং কমলালেবু হলো ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল।

কলি 

শ্বাসকষ্ট হলে কী করবেন

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৩৩ এএম
শ্বাসকষ্ট হলে কী করবেন

শ্বাসকষ্ট বা ডিসপনিয়া হলো নিশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া। যদি ঘন ঘন শ্বাসপ্রশ্বাস হয় বা গতি বেড়ে যায় কিংবা শ্বাসের সঙ্গে বাতাস প্রবেশ করতে অসুবিধা হয়, তবেই তা কষ্ট হিসেবে অনুভূত হয়। কেয়ার হাসপাতাল অবলম্বনে জানাচ্ছেন ফারজানা আলম

শ্বাসকষ্ট কী?

বয়স বা লিঙ্গ নির্বিশেষে যে কেউ যেকোনো সময় শ্বাসকষ্ট অনুভব করতে পারে। এটি অনুভব করা যেতে পারে যেন বাতাসের জন্য হাঁপাচ্ছেন, পর্যাপ্ত বাতাস পাচ্ছেন না, বা শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে বা বুকের মধ্যে টান অনুভব করছেন।

শ্বাসকষ্টের কারণগুলোর মধ্যে আছে দীর্ঘ দূরত্বে দৌড়ানো বা জগিং। ব্যায়াম করার সময় শ্বাসকষ্টও হতে পারে। কখনো কখনো শ্বাসকষ্ট হৃদরোগ বা ফুসফুসের সমস্যার কারণে হতে পারে। শারীরিক ব্যায়াম বা চাপের কারণে শ্বাসকষ্ট হয়, তবে সেটা এমনিতেই সেরে যায়।

শ্বাসকষ্টের কারণ

শ্বাসকষ্টের অনেক কারণ থাকতে পারে। যেমন- হাঁপানি, বিষম খাওয়া, এলার্জি, ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ, নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা, ফুসফুসে প্রদাহ বা তরল জমা হওয়া, শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতা বা ভাইরাল সংক্রমণ যেমন কোভিড-১৯, ব্রঙ্কাইটিস ইত্যাদি। এ ছাড়া পালমোনারি হাইপারটেনশন, আংশিক বা সম্পূর্ণ ফুসফুসের অকার্যকারিতা, ফুসফুস ক্যানসার ইত্যাদি।

হৃৎপিণ্ডের সমস্যার কারণে হঠাৎ বা নিয়মিত শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এসব কারণের মধ্যে রয়েছে কার্ডিওমায়োপ্যাথি, অ্যারিথমিয়া, হার্ট ফেইলিউর, হার্টের প্রদাহ।

শ্বাসকষ্টের লক্ষণ

শ্বাসকষ্টের লক্ষণগুলো একেকজনের মধ্যে একেক রকম। এর মধ্যে আছে শব্দ করে শ্বাস নেওয়া, বুক টান টান হওয়া, দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস, উচ্চ হৃৎস্পন্দনের হার বা ধড়ফড়, মনে হচ্ছে জোর করে শ্বাস নেওয়া দরকার এবং একটি গভীর শ্বাস পেতে কঠোর পরিশ্রম।

কখনো কখনো বুকে ব্যথা এবং শ্বাসকষ্টের মতো অন্যান্য উপসর্গ থাকতে পারে, এই ধরনের লক্ষণগুলো উপেক্ষা করা উচিত নয়।

শ্বাসকষ্টের কারণ নির্ণয়

শ্বাসকষ্টের কারণ শনাক্ত করার জন্য ডাক্তার কিছু পরীক্ষার সুপারিশ করতে পারেন। এর মধ্যে আছে বুকের এক্স-রে, কম্পিউটেড টমোগ্রাফি (সিটি) স্ক্যান, রক্তাল্পতা দেখতে রক্ত পরীক্ষা, ফুসফুস ফাংশন পরীক্ষা। এ ছাড়া কার্ডিওপালমোনারি ব্যায়াম পরীক্ষা যা রোগীকে ট্রেডমিলে হাঁটার মাধ্যমে করা যেতে পারে।

শ্বাসকষ্টের জন্য কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে

হঠাৎ করে তীব্র শ্বাসকষ্ট হলে এবং অন্যান্য উপসর্গ যেমন বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট এবং গলায় কিছু আটকে থাকার মতো অনুভূতি হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

শ্বাসকষ্টের ঘরোয়া সমাধান

শ্বাসকষ্ট শুরু হলো প্রাথমিকভাবে ঘরে বসেই চিকিৎসা শুরু করা যেতে পারে। যেমন রোগীকে চেয়ারে বসার সময় সামনের দিকে বসা বা সামনে বাঁকানো। দেয়ালের বিপরীতে দাঁড়িয়ে এবং শ্বাসনালি শিথিল করা, বিশেষ করে হাঁটা বা ওপরে যাওয়ার সময়।

চেয়ার বা টেবিলের সমর্থন নিয়ে দাঁড়ানো এবং শ্বাসনালি খোলার জন্য ঘাড় শিথিল রাখা। কফি পান শ্বাসনালি খুলতেও সাহায্য করতে পারে। এ ছাড়া ধূমপান ত্যাগ এবং তামাকজাত দ্রব্য পরিহার করুন। দূষণকারী, অ্যালার্জেন এবং পরিবেশগত বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।

কলি

রোজায় মেনে চলুন সঠিক খাদ্যাভ্যাস

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১:২৩ এএম
রোজায় মেনে চলুন সঠিক খাদ্যাভ্যাস
ইফতারে রাখতে হবে স্বাস্থ্যকর খাবার। ছবি: এআই

রমজান মাস এলেই আমাদের খাওয়া-দাওয়ার ধুম পড়ে যায়। মানুষ অস্থির হয়ে পড়ে কী খাবে, কী খাবে না। স্বল্প ভোজনের বদলে চলে অতিভোজনের আয়োজন। অন্য সময়ের চেয়ে তৈলাক্ত, ভাজাপোড়া খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে, যা অস্বাস্থ্যকর। এতে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই রমজানে দরকার সঠিক খাদ্যাভ্যাস। জানাচ্ছেন দ্য লিভার সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মবিন খান। অনুলিখন হৃদয় জাহান

ইফতারে যা খাবেন

রমজানে অনেক মুখরোচক খাবার বানিয়ে বিক্রি করা হয়। এসব খাবার স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে তৈরি করা হচ্ছে কি না কিংবা ভেজাল তেল, বেসন ও কৃত্রিম রং মেশানো হয়েছে কি না, সে দিকে নজর দেওয়া উচিত। তাই পারতপক্ষে দোকানের তৈরি ইফতারি ও সাহরি না খাওয়াই ভালো।

যে তেলে খাবার ভাজা হয়, সেই তেল একবারের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ একই তেল বারবার আগুনে ফুটালে তা থেকে পলি নিউক্লিয়ার হাইড্রোকার্বন তৈরি হয়। যার মধ্যে বেনজা পাইরিন নামের পদার্থটি ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে। তাছাড়া অপরিষ্কারভাবে ইফতারি তৈরি করলে পেটের পীড়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সুস্থভাবে বাঁচার জন্য খোলা খাবার না খাওয়াই উচিত। এটা স্বাস্থ্যসম্মতও নয়।

খুব কম ফলই পাওয়া যাবে যা কেমিক্যালমুক্ত। তাছাড়া শরবতের পানি বিশুদ্ধ কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।

ইফতারের জন্য তৈরি প্রায় সব খাবার তেল ও উচ্চ চর্বিযুক্ত। সাধারণত বেশি মুনাফার আশায় এসব খাবার মানসম্মত তেলে ভাজা হয় না। ভাজার সময় সঠিক নিয়মও মেনে চলা হয় না। তাই এসব খাবার স্বাস্থ্যসম্মত নয়।

 রোজাদারের জন্য ইফতারে খেজুর, ঘরের তৈরি বিশুদ্ধ শরবত, কচি শসা, পিঁয়াজু, বুট, ফরমালিন অথবা ক্যালসিয়াম কার্বাইডমুক্ত মৌসুমি ফল থাকা ভালো। কারণ ফলে ভিটামিন ও মিনারেল পাওয়া যায়। ফল খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়, সহজে হজম হয়।

বাসায় রান্না করা নুডলস খেতে পারেন।

বেশি ভাজা-ভুনা, তেহারি, হালিম না খাওয়াই ভালো। কারণ এতে বদহজম হতে পারে।

রুচি পরিবর্তনের জন্য দু-একটি জিলাপি খেতে পারেন।

এখন প্রচণ্ড গরমকাল বলে পরিমাণমতো বিশুদ্ধ পানি পান করা উচিত।

এশা ও তারাবির নামাজের পর অভ্যাস অনুযায়ী পরিমাণমতো ভাত, মাছ অথবা মুরগির মাংস, ডাল ও সবজি খাবেন।

সাহরিতে যা খাবেন

শরীর সুস্থ রাখার জন্য সাহরি খাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাহরির খাবার মুখরোচক, সহজপাচ্য ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়া প্রয়োজন। বেশি তেল, ঝাল ও চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়া একেবারেই উচিত নয়।

ভাতের সঙ্গে মিশ্র সবজি, মাছ, মাংস অথবা ডিম, ডাল থাকা প্রয়োজনীয়।

পাকস্থলীতে অস্বস্তি সৃষ্টি করে এমন খাবার খাওয়া ঠিক নয়। কারণ গুরুপাক খাবার খেলে শরীরের বিপাকক্রিয়া বেড়ে যায়।

বেশি চর্বিজাতীয় খাবার খেলে রোজাকালীন শরীর অসুস্থ লাগতে পারে, ক্লান্তি কিংবা ঘুম আসতে পারে।

রমজান মাস ওজন কমানোর জন্য সুবর্ণ সুযোগ মেদবহুল মোটা মানুষের জন্য। রমজান মাসের রোজাগুলো রেখে এই সুযোগ অবশ্যই গ্রহণ করা উচিত।

যারা ধূমপানে অভ্যস্ত, তাদের জন্য রমজানই ধূমপান ছাড়ার উপযুক্ত সময়।

কলি 

করোনা ভাইরাসের নতুন নেটওয়ার্ক ‘কভিনেট’ চালু করল ডব্লিউএইচও

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৪, ১২:৩১ এএম
করোনা ভাইরাসের নতুন নেটওয়ার্ক ‘কভিনেট’ চালু করল ডব্লিউএইচও
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের নতুন নেটওয়ার্ক ‘কভিনেট’ চালু করেছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। জনস্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিয়ে করোনাভাইরাসের প্রাথমিক ও সঠিক শনাক্তকরণের পাশাপাশি পর্যবেক্ষণ এবং মূল্যায়নে বৈশ্বিক দক্ষতা বাড়ানোই  এই নেটওয়ার্কের  উদ্দ্যেশ্যে।

বুধবার (২৭ মার্চ) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অফিসিয়াল পেইজে এই নেটওয়ার্ক চালু করার কথা জানানো হয়। 

ইতোমধ্যে এর আওতায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ৬টি অঞ্চলের ২১টি দেশের ৩৬টি গবেষণাগার যুক্ত করা হয়েছে।  

সংস্থাটির মতে, বিশ্বব্যাপী যেসব গবেষণাগার দক্ষতার সঙ্গে মানুষ, প্রাণী এবং করোনা ভাইরাস পর্যবেক্ষণ করে, তাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক হল এই কভিনেট। করোনা শুরু হওয়ার প্রথম দিকেই কভিনেটের এই কার্যক্রম বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কভিড-১৯ রেফারেন্স ল্যাবরেটরি নেটওয়ার্কে পুরোদমে শুরু হয়। শুরুর দিকে এই ল্যাব নেটওয়ার্কটি শুধু সারস-কভ-২ ভাইরাসের উপর গবেষণায় যুক্ত ছিল। মূলত এই ভাইরাসটির কারণেই মানুষ কভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়। তবে নেটওয়ার্কটি এখন মারস-কভ এবং সম্ভাব্য ভাইরাসের বৃহৎ পরিসর নিয়ে কাজ করবে বলে জানায় সংস্থাটি।