ঢাকা ৫ শ্রাবণ ১৪৩১, শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪

ত্বকের ফুসকুড়ি: কারণ লক্ষণ ও চিকিৎসা

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৪১ এএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৪, ১২:১৯ এএম
ত্বকের ফুসকুড়ি: কারণ লক্ষণ ও চিকিৎসা
শরীরে ছোট ছোট ফুসকুড়ির প্রতিকী ছবি

ফুসকুড়ি হলো ত্বকের রঙে অস্বাভাবিক পরিবর্তন। এগুলো সাধারণত ত্বকের প্রদাহ থেকে আসে। এর নানা কারণ থাকতে পারে। যেমন- একজিমা, গ্রানুলোমা অ্যানুলারে, লাইকেন প্ল্যানাস এবং পাইটিরিয়াসিস রোজের মতো ত্বকের অবস্থার কারণে সৃষ্টসহ অনেক ধরনের ফুসকুড়ি রয়েছে। ওয়েব এমডি অবলম্বনে জানাচ্ছেন মো. রাকিব

ফুসকুড়িগুলোর লক্ষণ

ত্বকের ফুসকুড়ির লক্ষণগুলো ফুসকুড়িগুলোর কারণ এবং ধরনের ওপর নির্ভর করে। তবে কিছু সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে ফোস্কা পড়া, লাল ভাব, খসখসে বা শুষ্ক ত্বক, ফোলা বা প্রদাহ, ত্বকে চুলকানি, ব্যথা, ভাঙা চামড়ায় সংক্রমণ, বৃত্তাকার আকৃতি নিয়ে ত্বকে লাল বর্ণ ধারণ ইত্যাদি।

ফুসকুড়ির কারণ

নানা কারণে ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ভাইরাল বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, রোসেসিয়া বা একজিমার মতো ত্বকের অবস্থা, মানসিক চাপ, অ্যালার্জি, জ্বর বা হাঁপানির ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক ইতিহাস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এবং বাতের চিকিৎসাসহ কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের সঙ্গে অ্যালার্জি। এ ছাড়া হেপাটাইটিস বি বা হেপাটাইটিস সির মতো রোগ থেকে ফুসকুড়ি 
হতে পারে।

ফুসকুড়ি নির্ণয়

ত্বকের ফুসকুড়ি নির্ণয় বেশ সহজ। ডাক্তার ত্বক পরীক্ষা করে এবং লক্ষণগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে রোগ নির্ণয় করতে পারেন। তবে প্রয়োজনবোধে কিছু পরীক্ষা করা যেতে পারে। এর মধ্যে আছে স্কিন বায়োপসি। আক্রান্ত স্থান থেকে কিছুটা ত্বক নেওয়া হয়। সেটা ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়। 

রক্ত পরীক্ষা। ডাক্তার রোগীর রক্তে অ্যান্টিবডিগুলো দেখে রোগ নির্ণয় করতে পারেন।

এলার্জি পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় রোগী কতটা এলার্জির প্রতি সক্রিয় তা দেখা হয়। 

ফুসকুড়ির চিকিৎসা

চিকিৎসা সাধারণত ফুসকুড়িগুলোর কারণের ওপর নির্ভর করে। তবে সাধারণ কিছু চিকিৎসার মধ্যে আছে ফুসকুড়ি নিরোধক ক্রিম এবং মলম। এ ছাড়া স্টেরয়েড দিয়েও চিকিৎসা চলে। এটা চুলকানি এবং ফুলে যাওয়া ত্বকে সমস্যা কমাতে সহায়তা করে।

ইনজেকশন। ইনজেকশনগুলো নির্দিষ্ট ত্বকের অবস্থা থেকে আসা ফুসকুড়িগুলোর চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয়।

এটি বেশির ভাগ রোগীর চুলকানি দ্রুত পরিষ্কার করে। কর্টিসোন ইনজেকশনগুলো আরও গুরুতর ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

ফটোথেরাপি (লাইট থেরাপি)। এটি কার্যকর চিকিৎসা, যা একজিমা আক্রান্ত রোগীকে সহায়তা করে। ফটোথেরাপি গুরুতর ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয়। বিশেষ লাইট থেকে অতিবেগুনি এ (ইউভিএ) বা অতিবেগুনি বি (ইউভিবি) ব্যবহার করে রোগের চিকিৎসা করা হয়।

ফটোথেরাপির কিছু ঝুঁকি আছে। ত্বক জ্বলে যাওয়া, শুষ্ক ত্বক, চুলকানি এবং ত্বকের সম্ভাব্য অকাল বার্ধক্য এর মধ্যে অন্যতম।

ফুসকুড়িগুলোর জটিলতা

ত্বকে ফুসকুড়িগুলো সাধারণ চিকিৎসায় ভালো হয়ে যায়। তবে এরপরও কিছু সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এর মধ্যে আছে সংক্রমণ। ফুসকুড়ির স্থানে চুলকালে সেখান দিয়ে ব্যাকটেরিয়ার মতো রোগজীবাণু প্রবেশ করে। ফলে সংক্রমণ হতে পারে।

অ্যানাফিল্যাক্সিস। ত্বকের ফুসকুড়ি ছাড়াও কিছু রোগীর মারাত্মক অ্যালার্জি হতে পারে, যা প্রাণঘাতী। এটি অ্যানাফিল্যাক্সিস নামেও পরিচিত। অ্যানাফিল্যাক্সিসে ত্বকে চরম ফোলা ভাব ঘটে। 

ফুসকুড়ি প্রতিরোধের উপায়

ফুসকুড়ি প্রতিরোধ করতে চাইলে মানসিক চাপ কমাতে হবে। উল এবং রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। নিয়মিত ত্বক ময়েশ্চারাইজ করতে হবে। অধিক তাপমাত্রা বা আর্দ্রতা এড়িয়ে চলতে হবে। ঘাম এবং অতিরিক্ত গরম থেকে দূরে থাকতে হবে।

ঘরোয়া সমাধান

শিশুর তাপজনিত ফুসকুড়ি থেকে রক্ষা পেতে বরফের সেঁক খুব কার্যকর। গামলায় ঠাণ্ডা পানি নিয়ে বা আইস ব্যাগ দিয়ে আক্রান্ত স্থানে এক-দুই মিনিট করে দিনে কয়েকবার সেঁক দিন।

ঘরোয়া সমাধান হিসেবে কাঁচা শসাবাটা ব্যবহার করে দেখতে পারেন। কাঁচা শসা বেটে বা পেস্ট করে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে রেখে কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন। দিনে দুই- তিনবার এমন করুন।

নারকেল তেলের সঙ্গে চায়ের তেল (টি ট্রি অয়েল) মিশিয়ে ব্যবহার করলে দারুণ উপকার পাওয়া যায়। এই দুটি তেলের মিশ্রণ ত্বকে লাগিয়ে রেখে ২০-৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

ঘৃতকুমারীর (অ্যালোভেরা) নির্যাসের নানাবিধ উপকারিতার মধ্যে ফুসকুড়ির ঘরোয়া সমাধানও খুব কার্যকর। এতে রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিসেপটিক উপাদান। ফলে অ্যালোভেরার রস আক্রান্ত স্থানে লাগালে হিট র‍্যাশ কমে যায়।

কলি 

দেশে প্রথমবার অপারেশন ছাড়া হার্টের অ্যাওর্টিক ভালভ প্রতিস্থাপন

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৪, ১০:৩৯ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৪, ১০:৩৯ পিএম
দেশে প্রথমবার অপারেশন ছাড়া হার্টের অ্যাওর্টিক ভালভ প্রতিস্থাপন
ছবি : সংগৃহীত

দেশে হৃদযন্ত্রের রক্তনালি সুরক্ষিত (করোনারি প্রটেকশন) করে হৃদযন্ত্রে ইন্টারভেনশনাল পদ্ধতিতে অ্যাওর্টিক ভালভ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে হৃদযন্ত্রের চিকিৎসায় দেশে নতুন এক দিগন্তের সূচনা হলো। অপারেশন ছাড়াই অ্যাওর্টিক ভালভ প্রতিস্থাপন একটি জটিল পদ্ধতি। 

প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. আফজালুর রহমানের নেতৃত্বে গত ১১ জুলাই এ সাফল্য আসে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আফজালুর রহমানের বর্তমান কর্মস্থল রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে এ চিকিৎসা হয়।

ডা. মো. আফজালুর রহমান রবিবার (১৪ জুলাই) খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই নিয়মিত ইন্টারভেনশনাল পদ্ধতিতে হৃদযন্ত্রে কৃত্রিম ভালভ প্রতিস্থাপন করে আসছি। তবে হৃদযন্ত্রের প্রধান রক্তনালি সুরক্ষিত করে দেশে এবারই প্রথম আমরা সাফল্যের সঙ্গে অপারেশন ছাড়া হৃদযন্ত্রে অ্যাওর্টিক ভালভ প্রতিস্থাপন করলাম। এই চিকিৎসা নেওয়া রোগী সুস্থ আছেন। রোগীর বয়স ৭৫ বছর।’

অ্যাথেনার সেমিনার : মাদকাসক্তি, অপরাধ নাকি মানসিক রোগ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৪, ০২:০৯ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৪, ০২:০৯ পিএম
অ্যাথেনার সেমিনার : মাদকাসক্তি, অপরাধ নাকি মানসিক রোগ
অ্যাথেনার পক্ষ থেকে অধ্যাপক ডা. অরূপ রতন চৌধুরী অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল কে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম ও অ্যাথেনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. ইফতেখার ই আলম সিদ্দিকী শোভন।

অ্যাথেনা লিমিটেড মানসিক ও মাদকাসক্তি চিকিৎসা এবং মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ কেন্দ্রর উদ্যোগে ১০ জুলাই 'মাদকাসক্তি, অপরাধ নাকি মানসিক রোগ? এর প্রতিকার' শীর্ষক একটি গোল টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এই বৈঠকে মাদকাসক্তিকে অপরাধ বা নৈতিক সংকট হিসেবে না দেখে এটি একটি মানসিক রোগ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া, এই রোগের প্রতিকার ও মাদক নির্মূলের নানান দিক নিয়ে বক্তব্য রাখেন বক্তারা। 

মাদক নিয়ন্ত্রণে খেলার মাঠের গুরুত্ব তুলে ধরেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। 

তাজুল ইসলাম আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে কোনো মাদক তৈরি হয় না। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বাংলাদেশে মাদক প্রবেশ করে। তাহলে কেন আমরা মাদকের প্রবেশ পথগুলো বন্ধ করতে পারছি না? মাদকের প্রবেশ পথগুলো চিহ্নিত করতে হবে। একইসঙ্গে মাদক ব্যবসা বা মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে মাদক নির্মূল করতে হবে।’

মাদকের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামাজিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে মাদকের শারীরিক ও মানসিক প্রভাব সম্পর্কে তথ্যসমূহ সহজভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্বও তিনি তার বক্তব্যে তুলে ধরেন।  

অ্যাথেনা লিমিটেডের ৫ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সামাজিক সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এই গোল টেবিল বৈঠক এর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য জারা জাবীন মাহবুব। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেন্টাল হেলথ কাউন্সেলর নুসরাত সাবরিন চৌধুরী।

প্যানেলিষ্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান, সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বিশিষ্ট চিকিৎসাবিদ ডা. অরূপ রতন চৌধুরীসহ আরও অনেকে।  

প্রত্যেক বক্তাই মাদকের ক্ষতিকারক দিকগুলোর তুলে ধরার সাথে সাথে মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে না দেখে তার চিকিৎসার উপর জোর দেয়ার বিষয় তুলে ধরেন তাদের বক্তব্যে। 

আলোচনার পাশাপাশি মাদকবিরোধী আন্দোলনে বলিষ্ট ভূমিকা পালন করার জন্য অ্যাথেনার পক্ষ থেকে অধ্যাপক ডা. অরূপ রতন চৌধুরী অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল কে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম ও অ্যাথেনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. ইফতেখার ই আলম সিদ্দিকী শোভন। 

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্ট এর সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) অধ্যাপক ডা: মো. আজিজুল ইসলাম সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন।

ক্ষত হতে পারে যে কারও

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৪, ০১:৫৪ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৪, ০১:৫৯ পিএম
ক্ষত হতে পারে যে কারও

ত্বকে ক্ষত একটি সাধারণ সমস্যা। এটা যে কারও হতে পারে। ক্ষত হলে রক্তপাত এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বেশির ভাগ ক্ষতই ত্বকের ওপরের স্তরে হতে দেখা যায় এবং সেগুলো ক্ষুদ্র হয়। কোনো কোনো ক্ষত গুরুতর হয় এবং ত্বকের গভীরের টিস্যুকে প্রভাবিত করে। ওয়েব এমডি অবলম্বনে লিখেছেন আরাফাত বেলাল

যেকোনো ধরনের আঘাত থেকে ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে। এটা থেকে হালকা বা গুরুতর রক্তপাত হয়। আক্রান্ত অংশ নীলচে বা লালচে হয়ে যায়। আক্রান্ত অংশে ব্যথা হতে পারে। অনেক সময় সেখানে প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে।

কারণ
যখন ত্বকে কোনো কিছুর আঁচড় কেটে যায়, তখন যে অগভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয় তাকে অ্যাব্রেশন বলে। ট্রমা বা কোনো বস্তুর সঙ্গে সংঘর্ষ হলে যে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয় তাকে ল্যাকারেশন বলে। এ ছাড়া কোনো ধারাল বস্তু, যেমন ছুরির মাধ্যমে রেখার মতো যে খোলা ক্ষতের সৃষ্টি হয় তাকে ইনসিজন বলে। কোনো সুচাল বস্তু যেমন নখ, সুচ বা দাঁতের মাধ্যমে (পশু বা মানুষের) ক্ষত হলে তাকে পাংচারড ক্ষত বলে। বাইরে থেকে তীব্র বেগে কোনো বস্তু যেমন বুলেট শরীরে প্রবেশ করলে, পেনিট্রেটিং টাইপ খোলা ক্ষতের সৃষ্টি করে।

চিকিৎসা
যদি ক্ষত থেকে রক্তপাত হতে থাকে, তাহলে তা বন্ধ করার জন্য পরিষ্কার ব্যান্ডেজ দিয়ে সামান্য চাপ দেওয়া হয়। সংক্রমণের আশঙ্কা কমাতে, ক্ষত সৃষ্টিকারী বস্তুকে ক্ষতস্থান থেকে অপসারণ করা হয় এবং ক্ষতস্থান ভালোভাবে ধোয়া হয়। ক্ষতস্থানে অবশিষ্ট কোনো ডেব্রিস বা ভগ্নাবশেষের অপসারণ করার জন্য স্টেরাইল সল্যুশন দিয়ে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করা হয়।

ক্ষতস্থানের ওপর অ্যান্টিবায়োটিক মলমের পাতলা আস্তরণ প্রয়োগ করা হয়। স্টেপল, স্টেরাইল ব্যান্ডেজ ড্রেসিং, সেলাই বা স্কিন অ্যাডেসিভ ব্যান্ডের সাহায্যে ক্ষতস্থান বন্ধ করা হয়। যদি শেষ ৫ বছরে টিটেনাসের ভ্যাকসিন না নেওয়া হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে টিটেনাস শট বা ইনজেকশন দেওয়া হয়। বিশেষত যেসব ক্ষত পশু বা মানুষের কামড়ে তৈরি হয়েছে, সেগুলোর জন্য টিটেনাসের ভ্যাকসিন নেওয়া জরুরি।

 কলি

সমস্যার নাম পটাশিয়ামের অভাব

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৪, ০১:৫০ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৪, ০২:০১ পিএম
সমস্যার নাম পটাশিয়ামের অভাব

পটাশিয়ামের অভাব বা ঘাটতি একটি বিরল অবস্থা, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় হাইপোক্যালেমিয়া নামে পরিচিত। এই অবস্থায় শরীরে নানা ধরনের লক্ষণ এবং উপসর্গ দেখা দেয়। মাই উপচার অবলম্বনে জানাচ্ছেন মো. রাকিব

লক্ষণ এবং উপসর্গ
পটাশিয়ামের অভাবে প্রথম এবং সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গ হলো সারা শরীরে দুর্বলতা এবং ক্লান্তি। অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে আছে খাবার হজমে সমস্যা। এ ছাড়া পেশিতে টান এবং আড়ষ্টতা, বুক ধড়ফড় করা (লক্ষণীয়ভাবে দ্রুত, অনিয়মিত এবং জোরালো হৃদস্পন্দন), শ্বাস নিতে সমস্যা, অঙ্গপ্রত্যঙ্গে অসাড় অথবা ঝিঁঝি ভাব।

কারণ
নানান চিকিৎসাজনিত অবস্থা এবং ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলে পটাশিয়ামের অভাব হতে পারে। এ ছাড়া ডায়রিয়া এবং বমির গুরুতর ঘটনা থাকলে, বিপুল পরিমাণ রক্ত শরীর থেকে বেরিয়ে গেলে, কিডনি খারাপ বা কিডনির বিকলতা দেখা দিলে, লিউকোমিয়া (ব্লাড ক্যানসারের একটি ধরন) হলে পটাশিয়ামের অভাব দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি হাঁপানি এবং এমফিসেমার ব্যবহৃত ওষুধের ফলে পটাশিয়ামের ঘাটতি হতে পারে।

রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা
উপরে উল্লিখিত উপসর্গগুলো নিয়ে হাজির হলে চিকিৎসক কিছু পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিতে পারেন। যেমন- রক্ত পরীক্ষা। এর সাহায্যে রক্তপ্রবাহে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং অন্যান্য খনিজ উপাদানের মাত্রা দেখা যেতে পারে।

হৃৎপিণ্ডের অনিয়মিত স্পন্দনের ক্ষেত্রে ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রামের (ইসিজি) পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। কারণ পটাশিয়ামের ঘাটতি হৃদস্পন্দনে প্রভাব ফেলতে পারে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থা এবং উপসর্গের উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে চিকিৎসক বিভিন্ন ধরনের ওষুধের পরামর্শ দেবেন। যদি রক্তপ্রবাহে পটাশিয়ামের পরিমাণ বিপজ্জনকভাবে কম না হয়, তা হলে চিকিৎসক পটাশিয়ামের ভারসাম্য ফেরাতে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ অথবা পটাশিয়াম লবণযুক্ত সিরাপ দিতে পারেন।

যদি অবস্থা গুরুতর হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যদি দ্রুত হৃদস্পন্দনের সমস্যা অনুভব করেন, তবে তার (পুরুষ অথবা মহিলা) শিরায় পটাশিয়ামের সম্পূরক প্রদান করা হয়। পটাশিয়ামের ঘাটতির বিপদ এড়াতে যতটা সম্ভব মদ্যপান এড়িয়ে চলা উচিত এবং সুষম খাদ্যতালিকা মেনে চলা উচিত।

পটাশিয়ামের ঘাটতি মেটাতে যা খাবেন
 প্রতিদিন একটি করে কলা খেলেই পটাশিয়ামের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। পুষ্টিবিদরা বলেন, মাঝারি মাপের একটি কলায় ৪০০ থেকে ৪৫০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম রয়েছে। যা শারীরবৃত্তীয় কাজ সম্পন্ন করার জন্য যথেষ্ট।

 মিষ্টি আলুতে যথেষ্ট পরিমাণ পটাশিয়াম রয়েছে।

ভিটামিন সির ঘাটতি পূরণ করতে শীতে কমলালেবু খুব ভালো একটা ফল। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না, পটাশিয়ামের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলো কমলালেবু। একটি কমলালেবুতে প্রায় ২৩০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে।

পুষ্টিবিদরা বলেন, নিয়মিত এক কাপ পালংশাক খেতে পারলে শরীরে পটাশিয়ামের অভাব হবে না। প্রায় ৮০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম রয়েছে এই শাকে।

 কলি

সুস্থ থাকার এক ডজন উপায়

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৪, ০১:৪৫ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৪, ০১:৪৫ পিএম
সুস্থ থাকার এক ডজন উপায়

গবেষণায় দেখা গেছে, আজীবন সুস্বাস্থ্যের গোপন চাবিকাঠি হলো ‘লাইফস্টাইল মেডিসিন’, যা খুবই সহজ। কেবল আপনার ডায়েটে কিছু স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন আনুন এবং নিয়মিত ব্যায়াম করুন। সেই সঙ্গে কীভাবে নিজেকে স্ট্রেস-ফ্রি রাখতে পারবেন, সেটা শিখুন। অনকো ওয়েবসাইট অবলম্বনে  জানাচ্ছেন ফখরুল ইসলাম

নিজের সুস্বাস্থ্য কীভাবে বজায় রাখবেন তার সঠিক পদ্ধতি বেছে নেওয়া জরুরি। কয়েকটি সাধারণ ধাপ অনুসরণ করলে সহজেই শরীর সুস্থ ও ফিট রাখা সম্ভব। চলুন দেখে নেই সেগুলো।

ব্যায়াম
নিয়মিত শরীরচর্চা বার্ধক্য ঠেকাতে পারে। এটি দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে, রক্তচাপ স্বাভাবিক করে, চর্বিহীন পেশি উন্নত করে, কোলেস্টেরল কমায় এবং হাড়ের ঘনত্ব উন্নত করে।

বাড়ির চারপাশে জগিং করুন, বাড়ির বা প্রতিবেশীর বাচ্চাদের সঙ্গে পার্কে হাঁটুন, দড়ি লাফের অভ্যাস করুন বা খেলাধুলা করুন, হাইকিং পছন্দ হলে সেটাও করতে পারেন।

ব্যায়াম শরীরে এন্ডোরফিন রিলিজ করে, যা সামগ্রিকভাবে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাকে বাড়ায়। এভাবে নিয়মিত ব্যায়াম শুধু শারীরিকভাবে ফিট থাকতে সাহায্য করে না, বরং বিষণ্নতা, উদ্বেগ এবং মানসিক অসুস্থতার ঝুঁকিও কমায়।

সঠিক খাবার খান
সারা দিনে অন্তত পাঁচটি সবজি খাদ্যতালিকায় রাখুন। সেগুলো পছন্দমতো কাঁচা, সেদ্ধ বা ভেজে খেতে পারেন।
ডায়েটে শাকসবজির পরিমাণ বেশি হলে ফুসফুস, কোলন, স্তন, জরায়ু, খাদ্যনালি, পাকস্থলী, মূত্রাশয়, অগ্ন্যাশয় এবং ডিম্বাশয়ের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কমায়। সঠিক খাবার ওজন ঠিক রাখবে, লক্ষ্যে স্থির রাখতে সাহায্য করবে।

খাদ্যতালিকা থেকে কোমল পানীয়, ক্যান্ডি, চিপসের মতো প্রক্রিয়াজাত খাবার বাদ দিন। কারণ এগুলো শরীরে পুষ্টি জোগায় না, বরং শরীরে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালোরি পৌঁছে দেয়।

চা এবং কফির আকারে প্রতিদিন কতটা ক্যাফেইন গ্রহণ করছেন সেদিকে খেয়াল রাখুন। প্রতিদিন দুই কাপের বেশি খেলে তা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। 

পর্যাপ্ত পানি পান করুন
সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা খুবই প্রয়োজন। পানি ডিটক্সিফাই করে, হজমে সাহায্য করে, কেমোথেরাপির ফলাফলে সাহায্য করে, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, পেশিকে শক্তি জোগায় এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। চাইলে ডায়েটে ডাবের পানি এবং তাজা ফলের রসও অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

মেডিটেশন
মেডিটেশন বা ধ্যানের সুদূরপ্রসারী এবং দীর্ঘস্থায়ী উপকারিতা রয়েছে। এটি মানসিক চাপ কমায় এবং আরও ভালোভাবে সংযোগ স্থাপন করতে দেয়, লক্ষ্যে স্থির রাখে এবং ব্যথা দূর করে। পর্যাপ্ত অনুশীলন, মননশীলতা, মস্তিষ্ককে স্থির রাখা এবং নিজের প্রতি সদয় হওয়া জীবনের অভ্যাসে পরিণত হতে পারে।

নিয়মিত ডাক্তারের কাছে যান
আপনি পুরোপুরি সুস্থবোধ করলেও আপনার শরীর সুস্থ আছে তো? নিজের জন্য সময় বের করে অবশ্যই পরীক্ষা করে দেখুন। এটি যেকোনো রোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। স্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমে যায়, শরীরকে নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ঘুমাতে সাহায্য করতে পারে।

সঠিক ওজন বজায় রাখুন
যদিও সবার শরীরের আকার, আয়তন, ওজন এক নয়; তবে শরীরের ওজন ঠিক আছে কি-না জানার জন্য ‘বডি মাস ইনডেক্স’-এর সাহায্য নিন।

ওজন কমানোর অনেক উপায় রয়েছে, তবে কোনটি আপনার জন্য সঠিক- সেটা বেছে নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে আপনি কোনো ভালো ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নিতে পারেন। 

রাতে ভালো ঘুমান
বিশ্রাম এবং মেডিটেশন, ঘুমানোর আগে এক গ্লাস উষ্ণ দুধ রাতে ভালো ঘুমাতে সাহায্য করতে পারে। ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক আগেই খাবার খাবেন না। শোবার ঘর অন্ধকার রাখুন এবং সমস্ত স্ট্রেস ঝেড়ে ফেলে ঘুমাতে যান। অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি থেকে নিজেকে দূরে রাখাই ভালো।

অ্যালকোহল পান করবেন না
অ্যালকোহল শরীরে টক্সিনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, হৃৎপিণ্ড এবং ফুসফুসের গতি অনিয়মিত করে তোলে, মস্তিষ্ক নিজেকে ত্বরান্বিত করে এবং লিভার এটিকে বিপাক করার চেষ্টা করে ওভারড্রাইভ করে।

এসব ছাড়াও আরও খারাপ দিক রয়েছে- যা মানসিক স্বাস্থ্য, শরীরের ওজন, ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলে। অ্যালকোহল শরীরে ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।   

তামাক থেকে দূরে থাকুন
ধূমপান ক্যানসারের অন্যতম কারণ, যা চাইলে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। পুরুষদের মধ্যে ক্যানসারের ৫০ শতাংশ ধূমপানের সঙ্গে সম্পর্কিত। যদি এই অভ্যাস ছাড়তে সমস্যা হয়, তা হলে কাউন্সেলিংয়ের সাহায্য নিতে পারেন। কেন ধূমপান ছেড়ে দেওয়া উচিত, চাইলে সে বিষয়ে অনলাইনে পড়ে নিতে পারেন।

ঘরে রান্না করুন এবং বাইরের খাবার এড়িয়ে চলুন
চেষ্টা করুন সহজ সিম্পল খাবার রান্না করে খেতে। তাতে সময়ও বাঁচবে, আবার শরীরের জন্যও উপকারী হবে। প্রয়োজনে ছুটির দিনে একবার বসে সপ্তাহের খাবার মেনু ঠিক করে নিন, তাতে আপনার সুবিধে হবে। পূর্ব পরিকল্পনা আপনাকে অতিরিক্ত ফ্যাট, চিনি এবং লবণযুক্ত খাবার এড়াতে সাহায্য করবে এবং আপনাকে অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর রাখবে। 

দাঁতের কথা ভুলবেন না
মুখের স্বাস্থ্যও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মুখকে অবহেলা করলে দাঁতের সমস্যা এবং মাড়ির রোগ যেমন প্রদাহ এবং প্লাক তৈরি হতে পারে। পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, দাঁতের সুস্বাস্থ্য হৃদরোগ, নিউমোনিয়া, অস্বাস্থ্যকর গর্ভাবস্থা, অ্যালজাইমার এবং ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের ঝুঁকি কমায়। মুখের মধ্যে কোনো অস্বাভাবিক চিহ্ন, আলসার বা ক্ষত রয়েছে কি-না দেখুন। সেক্ষেত্রে ডেন্টিস্ট বা সাধারণ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

মাঝেমধ্যেই বাইরে যান
আপনি যদি ডেস্কে কাজ করেন, তা হলে আপনার জীবনধারায় পরিবর্তন করার সময় এসেছে। কারণ পেশিগুলোকে নড়াচড়া করতে এবং নমনীয় করতে একটানা কাজ না করে মাঝেমধ্যে বিরতি নিন এবং চলাফেরা করুন। অফিসের কাজের পর প্রয়োজনে জিমে জয়েন করুন। বাচ্চাদের বা প্রিয় পোষ্যকে নিয়ে পার্কে বেড়াতে যান। প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলুন, সহকর্মীদের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করুন।

কলি