ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কখনোই বন্ধ হবে না বলে জাতিসংঘে ঘোষণা করেছেন দেশটির রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি। তিনি বলেন, পরমাণু অস্ত্রবিস্তাররোধ চুক্তির অধীনে শান্তিপূর্ণ জ্বালানির উদ্দেশ্যে তাদের এই প্রকল্প অনুমোদিত।
রবিবার (২৯ জুন) সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সমৃদ্ধকরণ আমাদের অধিকার, এটি একটি অখণ্ড অধিকার এবং আমরা এই অধিকার বাস্তবায়ন করতে চাই। ইরান আলোচনার জন্য প্রস্তুত, কিন্তু নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ আলোচনার নাম নয়, এটি আমাদের প্রতি একটি নীতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।’
এরপর, ইরাভানি বলেন, ‘তেহরান আলোচনার জন্য প্রস্তুত, কিন্তু এই আগ্রাসনের পর নতুন করে আলোচনা শুরুর মতো কোনো উপযুক্ত পরিবেশ নেই এবং প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক বা আলোচনার জন্য কোনো অনুরোধও নেই।’
জাতিসংঘে ইরানের এই দূত আরও দাবি করেন, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি কিংবা সংস্থার পরিদর্শকদের প্রতি তাদের সরকারের পক্ষ থেকে কোনো হুমকি নেই।
যদিও কিছু ইরানি কর্মকর্তা এই পরিদর্শকদের অভিযুক্ত করেছেন ইসরায়েলের হামলাকে যৌক্তিকতা দিতে তারা সাহায্য করছে। বর্তমানে আইএইএ পরিদর্শকরা ইরানে অবস্থান করছেন, তবে তারা দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছেন না।
এদিকে, সংবাদমাধ্যম আল-মনিটর জানায় , ইরাভানি গত শনিবার বলেন, ‘তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তি হলে ইরান তার ইউরেনিয়ামের মজুদ অন্য দেশে স্থানান্তর করতে পারে।’
ইরাভানি আরও বলেন, ‘২০ শতাংশ এবং ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের স্থানান্তর তেহরানের জন্য কোনও বাধা হবে না। তিনি আরও জানান, বিকল্পভাবে আইএইএ তত্ত্বাবধানে এই উপাদান ইরানেই থাকতে পারে।’
তবে এ সংশ্লিষ্ট কিছু সূত্র বলছে, ইরান সম্ভবত কয়েক মাসের মধ্যেই কয়েকটি সেন্ট্রিফিউজ ঘুরিয়ে ইউরেনিয়াম উৎপাদন শুরু করতে সক্ষম হবে।
গত রবিবারও ট্রাম্প ইরান ফোর্দোতে হামলার আগে ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম (৮৮০ পাউন্ড বা ৬০% সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম) স্থানান্তর করেছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদন নাকচ করে দেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘হামলার আগে ফোর্দোর প্রবেশপথে যেসব যানবাহন দেখা গিয়েছিল সেগুলো সম্ভবত স্থাপনাটি সিল করার জন্য আনা রাজমিস্ত্রিদের বহন করছিল। আর এই মুহূর্তে ওই কক্ষে হাজার হাজার টন পাথর রয়েছে। পুরো জায়গাটি আসলে ধ্বংস হয়ে গেছে।’
সুলতানা দিনা/