ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
‘বাড়তি জেদ’ নিয়ে খেলছেন বেলিংহ্যাম কসবায় বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি জামায়াতের সংসদ সদস্যকে মাইক্রোওভেন দিতে চাইলেন পার্থ রায়পুরায় সংঘর্ষ: পুলিশের ভেস্ট পরিহিত মরদেহ ভেসে উঠল নদীতে,  নিহত বেড়ে ৪ মাথা ঝুঁকানোর দরকার নেই, নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী চেয়ারের প্রতি সম্মান জানাবেন: স্পিকার বিকাশে পেমেন্ট করে সপ্তাহে ৫০ গ্রাহক পাচ্ছেন টিভি, স্মার্টফোন জেতার সুযোগ বাংলাদেশের বেসরকারি সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১টি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র আধুনিক যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীকে আরও যুগোপযোগী করা হবে: সেনাপ্রধান আধুনিক স্বাদে দেশি টুইস্ট, কেএফসি নিয়ে এল ‘কারি ক্রাঞ্চ’ হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু কিউএস র‍্যাঙ্কিংয়ে আবারও দেশসেরা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি কোমর ব্যথা প্রতিরোধ করা যায় সবকিছু এখনই শেষ হয়ে যায়নি: রোনালদো ইংল্যান্ডের সেট-পিস সামলাতে না পেরে হতাশ ক্রোয়েশিয়া কোচ গরমের তপ্ত সময়ে শরীর ও ত্বকের যত্ন কারাগারে অভিনেতা জাহের আলভী কুমিল্লায় ১৬০০০০ ইয়াবা জব্দ; আটক ৫ কাতার ম্যাচে ফিরছেন কানাডার অধিনায়ক আলফনসো ডেভিস আন্তর্জাতিক ইয়োগা দিবসে বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে ‘ব্লেন্ডার’স চয়েস আনপ্লাগড’ আইসিইউতে চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার ভারতের ‘মাইকেল জ্যাকসন’, শাড়ি পরে মুনওয়াক গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী ফটিকছড়িতে গ্রিড সাবস্টেশন নির্মাণে অচলাবস্থা, বিদ্যুৎসংকট চরমে রাঙ্গুনিয়ায় ভবন থেকে পড়ে ইলেক্ট্রিশিয়ানের মৃত্যু সততার মাপকাঠি কেমন হওয়া উচিত? সোনারগাঁয়ে শপিংমলে আগুন, ক্ষতি প্রায় ২০ লাখ টাকা পাবনার আটঘরিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে  যুবকের মৃত্যু আরেক ধাক্কা খেলেন মমতা ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান সুন্দরবনে কুমিরের হামলায় নারী জেলের মৃত্যু
Nagad desktop

যেদিন জ্বলতে থাকা আংটির রূপ ধারণ করবে সূর্য

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৩, ১১:০৭ এএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:২৫ এএম
যেদিন জ্বলতে থাকা আংটির রূপ ধারণ করবে সূর্য
সূর্যগ্রহণ। ফাইল ছবি

চলতি মাসের ১৪ তারিখে মহাবিশ্বের বিরল সৌন্দর্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ববাসী। সেদিন চাঁদ এমনভাবে সূর্যের সামনে এসে পড়বে- যে গ্রহণের ফলে পৃথিবী থেকে সূর্যকে দেখা যাবে জ্বলতে থাকা আংটির মতো। গবেষকরা এই সূর্যগ্রহণকে ‘রিং অব ফায়ার’ও বলে থাকেন।

তবে এটি কেবল পশ্চিম গোলার্ধের বাসিন্দাদের কাছেই দৃশ্যমান হবে। বাংলাদেশ, ভারত বা পাকিস্তান থেকে ‘রিং অব ফায়ার’ দেখা যাবে না। 

ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ এলাকা থেকেই এই বিরল দৃশ্যের সাক্ষী হওয়া যাবে। ২০১২ সালের পর এই প্রথম দেশটির আকাশে ‘রিং অব ফায়ার’ ধরা দিতে যাচ্ছে। 

দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুরুতে টেক্সাস গালফ উপকূলে এটি দেখা যাবে। এরপর ওরিগন, নেভাদা, উটাহ, নিউ মেক্সিকোতেও দৃশ্যমান হবে। এ ছাড়া ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো ও আরিজোনার কিছু অংশ থেকেও এটি দেখা যাবে।   

এ ছাড়া মেক্সিকোসহ পশ্চিম গোলার্ধের দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার কোটি কোটি মানুষ গ্রহণের ফলে সৃষ্ট সুন্দর সৌর বলয় দেখার বিরল মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে পারবেন।  

যদিও গবেষকদের মতে, খালি চোখে এ সময় সূর্যের দিকে তাকালে চোখের ক্ষতি হতে পারে। অবশ্যই এটি দেখতে চোখে বিশেষ অ্যাকিলিপ্স গ্লাস পরিধান করতে হবে।

নাসার তথ্যমতে, অ্যাকিলিপ্স গ্লাস সাধারণ কালো গ্লাসের থেকে হাজারগুণ বেশি গাঢ়। আর গ্লাসের অবশ্যই আইএসও রেফারেন্স নাম্বার ১২৩১২-২ থাকতে হবে। 

সাধারণত টেলিস্কোপ, বাইনোকুলার বা অন্য যেকোনও অপটিক লেন্স দিয়ে সূর্যের দিকে তাকানোর কোনও পরামর্শ গবেষকরা দেন না। এটি চোখকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। 
অ্যানুলার সূর্যগ্রহণ তখনই হয়, যখন পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যে চাঁদের অবস্থান পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরতম অবস্থানে থাকে। এ সময় চাঁদের পক্ষে সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে রাখা সম্ভব হয় না। 

বিবিসি সায়েন্স ফোকাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃত্তাকার গ্রহণ ঘটতে হলে চাঁদকে অবশ্যই পৃথিবী থেকে যথেষ্ট দূরে থাকতে হবে, যাতে এটি ছোট দেখায়। 

আর পূর্ণ সূর্যগ্রহণ তখনই ঘটে, যখন চাঁদ পৃথিবীর এতই কাছে থাকে যে- এটি আকাশে সূর্যের মতোই বড় দেখায়। 

নাসার আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারীদের নাম চূড়ান্ত

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম
নাসার আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারীদের নাম চূড়ান্ত
বাম থেকে ডানে আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারী আন্দ্রে ডগলাস, লুকা পারমিটানো, র‍্যান্ডি ব্রেসনিক এবং ফ্রাঙ্ক রুবিও। ছবি: নাসা

ইতিহাসের অন্যতম জটিল মহাকাশ অভিযানের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে নাসা। এই অভিযানের নাম আর্টেমিস থ্রি। সম্প্রতি এই মিশনের জন্য চারজন নভোচারীর নাম ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি। আগামী ২০২৭ সালে তারা পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে যাত্রা করবেন। সেখানে স্পেসএক্স ও ব্লু অরিজিনের তৈরি বাণিজ্যিক মুন ল্যান্ডারের ডকিং বা মহাকাশযানের সংযুক্তিকরণ প্রক্রিয়া পরীক্ষা করা হবে।

আর্টেমিস থ্রি মিশনের চার নভোচারীর মধ্যে রয়েছেন নাসার কমান্ডার র‍্যান্ডি ব্রেসনিক। তিনি একজন সাবেক টেস্ট পাইলট। মিশনের পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার নভোচারী লুকা পারমিতানো। তিনি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের প্রথম ইতালীয় কমান্ডার ছিলেন। মিশন বিশেষজ্ঞ হিসেবে থাকছেন নাসার আন্দ্রে ডগলাস ও ফ্র্যাঙ্ক রুবিও। এর মধ্যে ফ্র্যাঙ্ক রুবিও টানা ৩৭১ দিন মহাকাশে থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে সর্বোচ্চ সময় মহাকাশে কাটানোর রেকর্ড গড়েছেন। এছাড়া নাসার ব্যাকআপ ক্রু হিসেবে প্রস্তুত থাকবেন রবার্ট হাইন্স।

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলবে এই মিশন। এটি আগের আর্টেমিস টু মিশনের চেয়ে চার দিন বেশি দীর্ঘ হবে। এই বাড়তি সময়ে নাসা তাদের গুরুত্বপূর্ণ লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম এবং উড্ডয়নের সময় ডকিং ব্যবস্থা ভালোভাবে পরীক্ষা করার সুযোগ পাবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৮ সালে আর্টেমিস ফোর মিশন পরিচালিত হবে। এই মিশনের মাধ্যমে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও চাঁদের বুকে পা রাখবেন মার্কিন নভোচারীরা।

প্রাথমিকভাবে আর্টেমিস থ্রি মিশনের মাধ্যমেই চাঁদে অবতরণের কথা ছিল। কিন্তু ল্যান্ডার রকেটগুলোর প্রস্তুতিগত বিলম্বের কারণে এই মিশনকে পৃথিবীর কক্ষপথের পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে রূপান্তর করা হয়। চাঁদে অবতরণের বিষয়টি এখন আর্টেমিস ফোর এবং আর্টেমিস ফাইভ মিশনের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আর্টেমিস ফাইভ মিশনের মাধ্যমে চাঁদে নাসার স্থায়ী ঘাঁটির ভিত্তি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই অভিযান নাসার ভবিষ্যৎ চন্দ্রাভিযানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চাঁদে পৌঁছাতে স্পেসএক্সের ‘স্টারশিপ’ এবং ব্লু অরিজিনের চন্দ্র অবতরণ যানের ওপর নির্ভর করছে নাসা। সম্প্রতি এই দুই ব্যবস্থার কিছু কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। তবে প্রতিষ্ঠান দুটি জানিয়েছে, তারা সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

মহাকাশযানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাইয়ের পাশাপাশি আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারীরা বিজ্ঞানীদের সঙ্গেও কাজ করবেন। তারা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল, মহাকাশের আবহাওয়া এবং অরবিটাল ড্র্যাগ নিয়ে গবেষণা করবেন। পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে থাকা মহাকাশযানের উচ্চতা সময়ের সঙ্গে কমে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে অরবিটাল ড্র্যাগ বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

নাসার বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী প্রশাসক নিকি ফক্স জানিয়েছেন, আগের মিশনটি শুধু চাঁদকে ঘিরে আবর্তিত হলেও এবারের মিশনটি পৃথিবীর পরিবেশ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবে। এর মাধ্যমে মহাকাশের আবহাওয়া আমাদের বায়ুমণ্ডলকে কীভাবে প্রভাবিত করে এবং মহাকাশভিত্তিক প্রযুক্তিগুলোকে কীভাবে নিরাপদ রাখা যায়, সে সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানা সম্ভব হবে।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে উদ্ভাবনী সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে চান মোশাহিদ

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০২:৪২ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
প্রত্যন্ত অঞ্চলে উদ্ভাবনী সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে চান মোশাহিদ
ছবি: মোহাম্মদ মোশাহিদ মজুমদার

হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নিশাপাট গ্রামের এক সাধারণ পরিবারের ছেলে মোহাম্মদ মোশাহিদ মজুমদার। ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞানের প্রতি ছিল তার তীব্র ঝোঁক। পড়াশোনার পাশাপাশি অব্যবহৃত জিনিসপত্র দিয়ে নতুন কিছু তৈরি করা ছিল তার নেশা। 

মোশাহিদ যখন দশম শ্রেণিতে পড়তেন তখন তার দাদার পুরানো নষ্ট ডিভিডি ভেঙে তার ড্রাইভ ব্যবহার করে মিনি সিএনসি প্লটার মেশিন তৈরি করেছিলেন। এটাই ছিল তার তৈরি করা প্রথম প্রজেক্ট। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি মোশাহিদকে।

২০১৯ সালে হবিগঞ্জের জেকে অ্যান্ড এইচ কে হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০২১ সালে শায়েস্তাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ১০০ শতাংশ স্কলারশিপ পেয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন।

এই ইউনিভাসিটির উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা বিভাগ থেকে ২০২৬ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি মোশাহিদ নাসা (জিএলইই) মিশন প্রজেক্টের টিম বাংলাদেশের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন।

এ ছাড়াও সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রজেক্টেও কাজ করেছেন।

হবিগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান চর্চায় আকৃষ্ট করতে উদ্ভাবনে সরাসরি সম্পৃক্ত করতে কাজ করছেন মোশাহিদ। তাই ২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারি ১১ জন সমমনা বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীকে নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘উদ্ভাবনী বিজ্ঞান ক্লাব’।

এছাড়া তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘শায়েস্তাগঞ্জ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট’, প্রযুক্তিপণ্য বিক্রির প্ল্যাটফর্ম ‘রোবটিক্স শপ বিডি’, প্রশিক্ষণের জন্য ‘রোবটিক্স একাডেমি’ এবং তরুণদের ভাবনা তুলে ধরার জন্য ‘দৈনিক দুর্বার’ দৈনিক যুবকণ্ঠ ও ‘অদম্য ম্যাগাজিন’-এর মতো অনলাইন গণমাধ্যম। তার এই প্রতিটি উদ্যোগই একটি আরেকটির পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে।

তার এসব কাজের স্বীকৃতি হিসেবে মোশাহিদ মজুমদার পেয়েছেন ‘জাতীয় ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড ২০২৩’। এই অ্যাওয়ার্ড দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ যুব সম্মাননা।

মোহাম্মদ মোশাহিদ মজুমদার খবরের কাগজকে বলেন, ‘বিজ্ঞান আমার ধ্যানে জ্ঞানে। বিজ্ঞান নিয়ে উদ্ভাবন আমি সবসময় স্বপ্ন ছিল নিজের অঞ্চলের জন্য ও দেশের জন্য ভিন্ন কিছু করার। তাই আমি আমার গবেষণা ও উদ্ভাবন কোনো একক প্রজেক্ট বা একাডেমিক গবেষণাপত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখিনি। আমার মূল উদ্ভাবন হলো একটি পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম তৈরি করা, যা হবিগঞ্জ তথা বাংলাদেশের হাজারো তরুণকে বিজ্ঞান গবেষণা ও উদ্ভাবনে সরাসরি সম্পৃক্ত করবে।’

বিজ্ঞানমেলা অংশগ্রহণের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে নিজের জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন উল্লেখ করে মোশাহিদ বলেন, ‘স্কুলজীবন থেকে আমি বিজ্ঞানমেলায় অংশগ্রহণ করি। আমি দেখলাম বিজ্ঞানমেলা এলেই কেবল স্কুলগুলোতে নামমাত্র অংশগ্রহণের জন্য তাড়াহুড়ো শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা প্রায়ই ইউটিউব থেকে ধারণা নকল করে কোনোমতে একটি প্রজেক্ট দাঁড় করায়। মেলার পর সেই চর্চার আর কোনো ধারাবাহিকতা থাকে না। আমি চিন্তা করলাম এমন একটি স্থায়ী ঠিকানা তৈরি করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা সারা বছর বিজ্ঞান নিয়ে ভাবতে পারবে, গবেষণা করতে পারবে।’

এই ভাবনা থেকেই মোশাহিদ ২০১৯ সালে ১১ জন সমমনা বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীকে নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘উদ্ভাবনী বিজ্ঞান ক্লাব’।

সংগঠনটি শুরুর দিকের প্রতিকূলতা, সামাজিক ও পারিবারিক সংশয় থাকলেও কোনো কিছুই দমাতে পারেনি মোশাহিদ ও তার দলকে। তাদের নিরলস পরিশ্রমে ক্লাবটি ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১১ জন সদস্য নিয়ে প্রতিষ্ঠাতা করা এই ক্লাব আজ ২৭ হাজারের বিশাল পরিবার। এই ক্লাবের কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়েছে হবিগঞ্জসহ দেশের ২৩৩টিরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

মোশাহিদ গর্বের সঙ্গে বলেন, এই বিজ্ঞান ক্লাবের হাত ধরেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বারবার উচ্চারিত হয়েছে আমার জেলা হবিগঞ্জের নাম। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের অধীনে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ২৭ বারেরও বেশি বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করে আমাদের ক্লাবটি। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বারবার প্রথম হয়ে ক্লাবের সদস্যরা প্রমাণ করেছে, সুযোগ পেলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণরাও ইতিহাস গড়তে পারে।

তিনি বলেন, আমি শুধু ক্লাব নয়, শিক্ষার্থীরা রোবটিক্স, প্রোগ্রামিং, ইলেকট্রনিক্স এবং বিজ্ঞানের বিভিন্ন জটিল বিষয়ে হাতে-কলমে জ্ঞান অর্জন করছে। ক্লাবের সদস্যরা শুধু স্থানীয় পর্যায়েই নয়, জাতীয় পর্যায়েও নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছে।

উদ্ভাবনী বাংলাদেশ তৈরিতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মোহাম্মদ মোশাহিদ মজুমদার বলেন, আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইনোভেশন কালচার বা উদ্ভাবনী সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা চাই,বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে আমাদের আজকের এই কনিষ্ঠ বিজ্ঞানীরা। 

শাকিলা ববি/খাদিজা রুমি/

চীনে ক্রায়োজেনিক প্রযুক্তিতে রকেট ট্যাংক ডোমের উৎপাদনে সাফল্য

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
চীনে ক্রায়োজেনিক প্রযুক্তিতে রকেট ট্যাংক ডোমের উৎপাদনে সাফল্য
অ্যালুমিনিয়াম ক্রায়োজেনিক ফর্মিং প্রযুক্তি তৈরি করেছে চীন।

চীনের একটি গবেষণা দল অত্যাধুনিক ক্রায়োজেনিক বা অতিশীতল ফর্মিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে রকেটের প্রপেল্যান্ট ট্যাংকের গম্বুজ অংশের বড় আকারের উৎপাদন সফলভাবে শুরু করেছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন সময় ৯০ শতাংশেরও বেশি কমেছে, যা মহাকাশ শিল্পে একটি বড় অগ্রগতি।
গবেষণাটি পরিচালনা করেছে তালিয়ান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কারিগরি প্রকৌশল স্কুল। তারা বিশ্বের প্রথম বড় আকারের ক্রায়োজেনিক ফর্মিং প্রেস তৈরি করেছে, যা দুই মিটারের বেশি ব্যাসের অ্যালুমিনিয়াম সংকর ধাতুর একখণ্ড রকেট ট্যাংক ডোম তৈরিতে সক্ষম।
একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে বর্তমানে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বছরে প্রায় ১,০০০টি ট্যাংক ডোম উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে চীনের।
তালিয়ান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কারিগরি প্রকৌশল স্কুলের গবেষক ফান সিয়াওবো বলেন, ‘ক্রায়োজেনিক ফর্মিং-এর মূল চাবিকাঠি হলো বড় প্লেটগুলোকে ক্রায়োজেনিক জোনে শীতল করা। সরঞ্জামটি বড় আয়তনের তরল নাইট্রোজেনের দ্রুত পরিবহন ও সুনির্দিষ্ট তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করেছে। একইসঙ্গে তাপমাত্রা, চাপসহ একাধিক প্যারামিটারের সমন্বিত লোডিং নিয়ন্ত্রণও সম্ভব করেছে। এটি মাইনাস ১৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় তরল নাইট্রোজেন নিয়ন্ত্রণ, শীতলীকরণ এবং বড় যন্ত্রাংশের স্থিতিশীল উৎপাদন সম্ভব করেছে।’
এই প্রযুক্তির মূল বিষয় হলো বৃহৎ ধাতব পাতকে অতি নিম্ন তাপমাত্রায় নিয়ন্ত্রিতভাবে শীতল করা। ফলে আগে যেখানে একটি ট্যাংক ডোম তৈরি করতে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় লাগত, সেখানে এখন তা মাত্র কয়েক ঘণ্টায় সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।
সাধারণভাবে ধাতু অত্যন্ত ঠান্ডায় ভঙ্গুর হয়ে যায়। কিন্তু এই গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট অবস্থায় অ্যালুমিনিয়াম সংকর ধাতু ক্রায়োজেনিক তাপমাত্রায় আরও নমনীয় ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
এই বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করেই দলটি প্রথমবারের মতো অ্যালুমিনিয়াম ক্রায়োজেনিক ফর্মিং প্রযুক্তি তৈরি করেছে।
এই প্রযুক্তিতে মাত্র ৪ মিলিমিটার পুরু অ্যালুমিনিয়াম পাত থেকে এক ধাপে সম্পূর্ণ ট্যাংক ডোম তৈরি করা যায়। উৎপাদিত অংশে পুরুত্বের বিচ্যুতি ০.৩ মিলিমিটারেরও কম। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই অংশগুলো তৈরি হওয়ার পর আর কোনো ওয়েল্ডিং বা মিলিংয়ের প্রয়োজন হয় না। ফলে কাঠামো হয় আরও শক্তিশালী, হালকা এবং নির্ভরযোগ্য।
এই প্রযুক্তিতে তৈরি ট্যাংক ডোম ইতোমধ্যে চীনের লং মার্চ ১২ ও লং মার্চ ৭-এ রকেটের সফল মিশনে ব্যবহার করা হয়েছে।
গবেষণা দলের প্রধান ছি ছাং বলেন, এই প্রযুক্তিতে এমন  ট্যাঙ্ক ডোম তৈরি সম্ভব, যা পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে এটি বিমান, মানববিহীন ব্যবস্থা, নতুন শক্তিচালিত যানবাহন এবং উচ্চগতির রেল শিল্পেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের এই প্রযুক্তি শুধু মহাকাশ শিল্প নয়, বরং উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। সূত্র: সিএমজি

লুপাস চিকিৎসায় যুগান্তকারী সাফল্য, জিন থেরাপিতে সুস্থ ৫ রোগী

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
লুপাস চিকিৎসায় যুগান্তকারী সাফল্য, জিন থেরাপিতে সুস্থ ৫ রোগী
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন হাসপাতালে কার টি-সেল থেরাপির এনএইচএস ট্রায়ালের পর যে রোগীদের মারাত্মক লুপাস রোগ সেরে গিয়েছিল (রেমিশনে গিয়েছিল), কেটি টিঙ্কলার ছিলেন তাদের মধ্যে একজন। ছবি: লুসি নর্থ/পিএ

যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী সাফল্য এসেছে। একটি অভিনব জিন থেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে তীব্র লুপাস রোগে আক্রান্ত পাঁচজন রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ (রেমিশন) হয়ে উঠেছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই চিকিৎসা পদ্ধতি লুপাস রোগীদের চিরতরে আরোগ্য লাভের পথ দেখাতে পারে।

লুপাস একটি দীর্ঘমেয়াদি অটোইমিউন রোগ। এই রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেম উল্টো নিজের সুস্থ টিস্যু ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আক্রমণ করে। এর ফলে কিডনি, ফুসফুস ও হার্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে তীব্র প্রদাহ ও ক্ষতি তৈরি হয়। বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। এদের বেশির ভাগই নারী।

এই গবেষণায় রোগীদের শরীর থেকে টি-সেল বা টি লিম্ফোসাইট নামের এক ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা বের করে নেওয়া হয়। এই কোষগুলো সাধারণত শরীরে সংক্রমিত বা ক্ষতিগ্রস্ত কোষ খুঁজে বের করে ধ্বংস করে। চিকিৎসকরা ল্যাবরেটরিতে এই কোষগুলোকে জিনগতভাবে পরিবর্তন বা মডিফাই করেন, যাতে তারা রোগটিকে চিনে ধ্বংস করতে পারে। পরে ইনফিউশনের মাধ্যমে এই পরিবর্তিত কোষগুলো আবার রোগীর শরীরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এটি রোগীর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নতুন করে সেট বা ‘রিসেট’ করে।

এই পদ্ধতিটির নাম ‘কার (সিএআর) টি-সেল থেরাপি’। এটি ইতোমধ্যে ক্যানসার চিকিৎসায় বড় পরিবর্তন এনেছে। এবার লন্ডনের চিকিৎসকরা তীব্র লুপাসে আক্রান্ত ১৯ থেকে ৫০ বছর বয়সী পাঁচজন এনএইচএস রোগীর ওপর এটি সফলভাবে প্রয়োগ করেছেন। চিকিৎসকরা জানান, এই থেরাপি রোগীদের মাত্র একবারই নিতে হয়। এটি সফল হলে লুপাসের চিকিৎসায় আমূল পরিবর্তন আসবে ও রোগীদের আজীবন ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন থাকবে না।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন হসপিটালস ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট (ইউসিএলএইচ) এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) যৌথ পরিচালনায় এই এনএইচএস ট্রায়াল বা পরীক্ষাটি চালানো হয়। এতে তীব্র লুপাসে আক্রান্ত মোট নয়জন রোগীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তারা এর আগে কোনো চিকিৎসায় সুস্থ হচ্ছিলেন না। তাদের বেশির ভাগেরই ‘লুপাস নেফ্রাইটিস’ ছিল, যা কিডনির একটি মারাত্মক জটিলতা।

পরীক্ষায় ছয়জন রোগীকে কার-টি থেরাপির কম ডোজ ও তিনজনকে বেশি ডোজ দেওয়া হয়। কম ডোজ পাওয়া রোগীদের গড়ে ১১ মাস ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজন মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সুস্থ হয়ে ওঠেন। বেশি ডোজ পাওয়া তিনজনকে এখন পর্যন্ত মাত্র তিন মাস পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা আশা করছেন, তারাও সুস্থ হয়ে উঠবেন। বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে, রোগীদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি হয়েছে ও লুপাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কিডনির কার্যকারিতা স্থিতিশীল বা উন্নত হয়েছে।

ইউসিএলএইচের (ইউসিএলএইচ) বায়োমেডিকেল রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক কার্ল পেগস বলেন, ‘এই ফলাফলগুলো সত্যিই যুগান্তকারী ও লুপাস নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষদের জন্য নতুন আশা জোগাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদিও আরও গবেষণার প্রয়োজন, তবে কার টি-সেল থেরাপি যে ইমিউন সিস্টেম রিসেট করতে পারে এবং রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি অটোইমিউন রোগের চক্র থেকে মুক্ত করতে পারে, তা একটি অসাধারণ অগ্রগতি। যদি বড় পরিসরের গবেষণায় এই ফলাফলের সত্যতা নিশ্চিত হয়, তবে লুপাস নিরাময়ের সম্ভাবনা আর অধরা থাকবে না।’

এই চিকিৎসায় সুস্থ হওয়া ৫২ বছর বয়সী কেটি টিঙ্কলার ৩১ বছর ধরে এই রোগে ভুগছিলেন। ২০ বছর বয়স থেকে তীব্র লুপাসের কারণে তিনি ফিটনেস ইনস্ট্রাক্টরের চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। এই রোগের কারণে তার জয়েন্টগুলো ফুলে যেত এবং প্রচণ্ড ব্যথা হতো। তার কিডনি, ফুসফুস ও হার্টের ক্ষতি হয়েছিল এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। একপর্যায়ে তিনি সেপসিস ও মাল্টি-অর্গান ফেইলিউরের শিকার হন এবং তাকে ইনটেনসিভ কেয়ারে কোমায় রাখা হয়েছিল।

এখন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠা সারে-র গিল্ডফোর্ডের বাসিন্দা কেটি বলেন, ‘আগের জীবন এবং এখনের জীবনের কথা ভাবলে মনে হয় দিন আর রাত।’ তিনি আরও বলেন, ‘লুপাসের কারণে আমার পুরো শরীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। জয়েন্টগুলোতে এত ব্যথা ছিল যে, মাঝেমাঝে আমি হাঁটতে পারতাম না। হাত দিয়ে মগ তুলে নিতে পারতাম না। আমার কিডনি, হার্ট ও ফুসফুস—সবই খারাপের দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু এখন আমার আর এই সমস্যাগুলো নেই। এটি আমার জন্য একটি অলৌকিক ঘটনা। দুই বছর আগের জীবন আর এখনের জীবনের মধ্যে কোনো মিল নেই। নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছে।’
তিন দশকেরও বেশি সময় পর কেটি এখন লুপাসের প্রধান লক্ষণগুলো থেকে মুক্ত। তিনি গত এক দশকের মধ্যে এই প্রথম স্কিইং করতে পেরেছেন এবং নিজের মেয়ের বিয়েতে নাচতেও পেরেছেন।

উড়োজাহাজ প্রযুক্তিতে চীনের নতুন মাইলফলক

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:১২ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:২৩ পিএম
উড়োজাহাজ প্রযুক্তিতে চীনের নতুন মাইলফলক
ছবি সিএমজি


চীনের নিম্ন-আকাশ অর্থনীতি খাতে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেশটির প্রথম নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ইলেকট্রিক ভার্টিক্যাল টেকঅফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং ইভিটিওএল উড়োজাহাজের ইঞ্জিন উৎপাদন লাইনে এসেছে। শুক্রবার পূর্ব চীনের চিয়াংসু প্রদেশের উসি শহরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইঞ্জিন সরবরাহ করা হয়।
চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অ্যারো ইঞ্জিন করপোরেশন অব চায়না এর অ্যারোইঞ্জিন কন্ট্রোল সিস্টেম ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত এইই২৫ নামের এই বৈদ্যুতিক বিমান ইঞ্জিনটি টর্ক ঘনত্বের ক্ষেত্রে দেশের নতুন রেকর্ড গড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশি টর্ক ঘনত্বের ফলে ইঞ্জিনের ওজন কম হয় এবং উড়োজাহাজে বেশি যাত্রী বা পণ্য বহন করা সম্ভব হয়। 
এইই২৫ ইঞ্জিনটি বিমানের ব্যাটারিতে সঞ্চিত বৈদ্যুতিক শক্তিকে রোটর সিস্টেমের জন্য প্রয়োজনীয় উত্তোলন শক্তি  ও থ্রাস্টে রূপান্তর করে।  
ইঞ্জিনটিতে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান—মূল মোটর ও এর কন্ট্রোলার, কুলিং সিস্টেমের মোটর ও কন্ট্রোলার, এবং ভ্যারিয়েবল-পিচ অ্যাকচুয়েটর ও কন্ট্রোলার—একীভূত করা হয়েছে। এর ফলে বিমান নির্মাতারা সহজে ইঞ্জিনটি স্থাপন করে সরাসরি ব্যবহার করতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সাফল্য চীনের বৈদ্যুতিক বিমান ও নগর আকাশ পরিবহন প্রযুক্তির উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যতের বিমান চলাচল ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

সূত্র: সিএমজি