ঢাকা ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Khaborer Kagoj

কুকুরের জন্য বিষ চকলেট!

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৩, ১১:৩৪ এএম
কুকুরের জন্য বিষ চকলেট!
চকলেট কুকুরের জন্য বিষাক্ত খাবার

চকলেট খেতে কে না পছন্দ করে? মিষ্টি স্বাদের এই খাবার মানুষের জন্য বেশ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। তবে আপনি কি জানেন, কুকুর চকলেট হজম করতে পারে না? চকলেট কুকুরের জন্য বিষাক্ত খাবার। চকলেট খেলে কুকুর বমি করে। অনেক সময় মৃত্যুও ঘটতে পারে মানুষের বিশ্বস্ত বন্ধু কুকুরের।

কোকো গাছের (থিওব্রোমা ক্যাকো) তেতো বীজ থেকে চকলেট তৈরি করা হয়। কোকো বা কোকোয়া দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন উপত্যকার উদ্ভিদ। মধ্য আমেরিকার আরও কয়েকটি দেশে এর চাষ সম্প্রসারিত হয়েছে। এখন আফ্রিকার আইভরি কোস্ট, ঘানা, নাইজেরিয়া ও ক্যামেরুনে কোকোয়া চাষ হচ্ছে।

এশিয়ায় মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও নিউগিনিতে চাষের সূচনা হয়েছে। দক্ষিণ ভারত ও উড়িষ্যা রাজ্যেও কোকো গাছের চাষ দেখা যায়।কোকোয়ার ফুল ছোট, হালকা গোলাপি ও সাদা। ফল আকারে অনেকটা নাশপাতি ফলের মতো। পাকা ফলের ভেতরে পেঁপের মতো ফাঁকা আর সারি সারি ছোট ছোট বীজ থাকে। 

এই বীজে মিথাইলক্সানথাইনস নামে পরিচিত পদার্থের একটি গ্রুপ রয়েছে। এই শ্রেণির যৌগগুলো অ্যালকালয়েড, একটি শ্রেণির ক্যাফেইন এবং থিওব্রোমিনের মতো নিউরোস্টিমুল্যান্ট রয়েছে। মিথাইলক্সানথাইনসগুলো শরীর উদ্দীপ্ত এবং ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। পুষ্টিবিদের মতে, চকলেট আমাদের মানসিক চাপ কমাতে ভূমিকা রাখে।

চকলেটের থিওব্রোমাইন মানুষের জন্য বিষাক্ত নয়। কিন্তু কুকুরেরে জন্য বিষাক্ত। থিওব্রোমিন কুকুরের পাকস্থলিতে বিপাকক্রিয়া সম্পন্ন করতে অনেক সময় লাগে। কুকুরের পেটে এই উপাদান অস্থিরতা সৃষ্টি করে। যার ফলে খিঁচুনি দেখা দেয়। আমেরিকান সোসাইটি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ক্রুয়েলটি টু অ্যানিম্যালস (এএসপিসিএ) কুকুরের জন্য চকলেট বিষাক্ত বস্তু হিসেবে ঘোষণা করেছে।

মিথাইলক্সানথাইন, থিওব্রোমাইন এবং ক্যাফিন পদার্থ কুকুরের জন্য ক্ষতিকর। ২০ মিলিগ্রাম চকলেট খেলে বিষক্রিয়ার হালকা লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়। আবার ৬০ মিলিগ্রাম চকলেট কুকুরের পেটে গেলে অধিক বিষক্রিয়া শুরু হয়। তখন খিঁচুনি, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনসহ মৃত্যুও ঘটতে পারে।

চকলেটের উচ্চ চর্বি এবং চিনির সামগ্রীর কারণে ডায়রিয়াও হতে পারে। চকলেট খাওয়ার ছয় থেকে বারো ঘণ্টার মধ্যে কুকুরের বিষক্রিয়া হতে পারে। খিঁচুনি, কাপুনি, পানি শূন্যতা, বমি ইত্যাদি লক্ষণ দেখলে বুঝে নিতে হবে কুকুরের পেটে চকলেটের বিষক্রিয়া শুরু হয়েছে। এমনটা হলে কুকুরকে দ্রুত পশু চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে।

কুকুরের জন্য বিষাক্ত এই থিওব্রোমিন মানুষের ক্ষতি করতে পারে না কেন? এমন প্রশ্ন মনে আসাই স্বাভাবিক।থিওব্রোমিন মানুষের পেটে গেলে মানবদেহে থাকা CYP1A2 এবং CYP2E1 এনজাইম একে ভেঙে ফেলে। যার ফলে থিওব্রোমিন দ্রুত মানবদেহে বিপাক হয় এবং হজম হয়। 

এগুলো কুকুরের শরীরে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করলেও মানবদেহে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। তাই চকলেট খেলে আমাদের ভালো লাগে। মিল্ক চকলেটের তুলনায় গাঢ় চকলেটে তিনগুণ বেশি থিওব্রোমিন থাকে। 

কুকুরকে এই উপাদানবিহীন চকলেট দেওয়া যেতে পারে। চকলেটের বিকল্প হিসেবে কুকুরকে ক্যারোব দেওয়া যেতে পারে। এটা কুকুরের জন্য নিরাপদ। 

সূত্র: সায়েন্স এবিসি।

কলি

সামুদ্রিক স্তন্যপায়ীরা কীভাবে পানির নিচে ঘুমায়?

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:২৪ পিএম
সামুদ্রিক স্তন্যপায়ীরা কীভাবে পানির নিচে ঘুমায়?
সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীদের বলা হয় সিটাসিয়ান। এদের মধ্যে তিমি, ডলফিন ও সিলমাছ উল্লেখযোগ্য। এরা সমুদ্র অর্থাৎ পানির নিচে বাস করলেও শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য বাতাসের প্রয়োজন হয়। তাই কিছুক্ষণ পরপরই এরা পানির ওপরে ভেসে ওঠে শ্বাস নেওয়ার জন্য। এখন প্রশ্ন হলো সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীরা ঘুমায় কীভাবে? সামুদ্রিক স্তন্যপায়ীরা চাইলেই নিশ্চিন্তে পানির নিচে ঘুমাতে পারে না। আবার পানির ওপরেও এরা বেশিক্ষণ ভেসে থাকতে পারে না। এতে একদিকে শিকারির ভয় রয়েছে। অন্যদিকে বেশিক্ষণ পানির ওপরে থাকলে তাদের শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
 
তাহলে কীভাবে ঘুমায় জানার জন্য ২০২৩ সালে এক গবেষণা শুরু করে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার একদল গবেষক। তারা সমুদ্রের নিচে ঘুমিয়ে থাকা স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের ‘ইউনিভার্সিটি অব সেইন্ট অ্যান্ড্রুজ’-এর জীববিজ্ঞানী প্যাট্রিক মিলার এই প্রশ্নটির জবাব খুঁজে পেয়েছেন। বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘লাইভ সায়েন্স’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্যাট্রিক মিলার জানান, মানুষের মতো সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীরা মস্তিষ্কের সম্পূর্ণ অংশ একবারে বন্ধ করে ঘুমায় না। পানির নিচে ঘুমের সময় তাদের মস্তিষ্কের অর্ধেক অংশ বন্ধ এবং বাকি অর্ধেক অংশ খোলা থাকে। ঘুমন্ত ডলফিনের মস্তিষ্ক স্ক্যান করে দেখা যায়, এদের মস্তিষ্কের একটি অংশ যখন গভীর ঘুমে থাকে, অন্য অংশটি তখন সজাগ ও সতর্ক থাকে। এই ধরনের ঘুম ‘ইউনিহেমিস্ফিয়ারিক স্লিপ’ নামে পরিচিত। এমনকি ঘুমের সময় এদের চোখ বন্ধ এবং অপর চোখ খোলা থাকে। এতে আরেকটি সুবিধা হচ্ছে তিমির তার দল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিও কম থাক। ঘুমের সময় তিমিরা সমুদ্রের ঠিক নিচের পৃষ্ঠে এদের নাক উঁচু করে রাখে। আর এই সময় তাদের কোনো ধরনের সাড়াশব্দও পাওয়া যায় না, যার মানে তারা গভীর ঘুমে মগ্ন আছে।
 
তিমি অক্সিজেনের জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠের ওপরে ফিরে আসার আগে পানির নিচে প্রায় ২০ মিনিট পর্যন্ত বিশ্রাম নিতে পারে। একবার তিমি শ্বাস নেওয়ার পরে এরা আবারও ঘুমের জন্য পানির নিচে নেমে আসে। এভাবে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত তিমিরা এভাবে ঘুম বা বিশ্রাম নেয়। সিটাসিয়ান প্রাণীর মধ্যে ডলফিন, তিমি ও পোর্পোইজ প্রজাতি ইউনিহেমিস্ফিয়ারিক স্লিপের মাধ্যমে ঘুমায়। তবে সব ধরনের সিটাসিয়ান ইউনিহেমিস্ফিয়ারিক স্লিপের মাধ্যমে ঘুমায়, বিষয়টি এমন নয়। কোনো কোনো প্রাণী আবার ‘বিহেমিস্ফিয়ারিক স্লিপ’ পদ্ধতিতে ঘুমায় যেখানে মস্তিষ্কের উভয় দিকই ঘুমিয়ে পড়ে। ঠিক যেমন মানুষ ও অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণী ঘুমায়। এই তালিকায় রয়েছে সিলমাছ। সিলমাছ ঘুমের জন্য প্রায় এক হাজার ফুট (প্রায় ৩০০ মিটার) গভীরে ডুব দেয়। তখন তাদের মস্তিষ্কের কাজ করার গতি কমে যায় ও দ্রুত এরা ঘুমিয়ে পড়ে, যা ‘র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট (আরইএম)’ নামে পরিচিত। ঘুমানোর সময় সিলমাছের শরীর উল্টে গিয়ে ক্রমশ একটি ধীরগতির বৃত্তের মতো ঘুরতে থাকে। গবেষকদের ধারণা, মানুষের মতো সিলমাছও ঘুমের সময় প্যারালাইজড হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। গভীর ঘুমের সময়ে শিকারির হাত থেকে রক্ষা পেতে ‘এলিফ্যান্ট সিল’ (হাতির মতো দেখতে সিল মাছ) সমুদ্রে দৈনিক মাত্র দুই ঘণ্টার ঘুমায়।
 
সূত্র: লাইভ সায়েন্স
জাহ্নবী
 
 
 

এবার গ্রহাণুর পৃষ্ঠে মিলেছে পানির অণু

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:২২ পিএম
এবার গ্রহাণুর পৃষ্ঠে মিলেছে পানির অণু

মহাকাশের বিভিন্ন গ্রহে দীর্ঘদিন ধরেই পানির খোঁজ করছিলেন বিজ্ঞানীরা। অবশেষে প্রথমবারের মতো একটি গ্রহাণুর পৃষ্ঠে পানির অণু খুঁজে পেয়েছেন তারা। গ্রহাণুগুলো হলো গ্রহের গঠন প্রক্রিয়ার অবশিষ্টাংশ। প্ল্যানেটারি সায়েন্স জার্নালে এই আবিষ্কারের বিষয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণা দলটির প্রধান আনিসিয়া অ্যারেডোন্ডো এই সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, ‘আমরা দুটি উল্কাপিণ্ডে এমন বৈশিষ্ট্য আবিষ্কার করেছি, যা থেকে স্পষ্টভাবে পানির অণু পাওয়া গেছে। এই গবেষণার ওপর ভিত্তি করে আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি।’ সাউথওয়েস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মতে, শুষ্ক বা সিলিকেট গ্রহাণু সূর্যের কাছাকাছি তৈরি হয়। বরফের মতো কিছু পদার্থ একত্রিত হয়ে দূরের গ্রহাণু তৈরি করে। ফলে এটাও একটা কারণ হতে পারে, সেখানে পানির সন্ধান পাওয়ার। তবে এই পানির অণু কোথা থেকে এল, তা নিয়ে আরও গবেষণা চলমান রয়েছে।

পৃথিবীর বাইরে অন্য গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে কি না, দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা। ১৯৯৮ সালে মরক্কোয় একটি উল্কাপিণ্ড পড়েছিল। সেটির রাসায়নিক বিশ্লেষণ করে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছিল ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’ পত্রিকায়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, মরক্কোর সেই উল্কাতেও পানির অণু ছিল। সঙ্গে ছিল অ্যামাইনো অ্যাসিডের অণুও। সেই থেকে মহাকাশে ঘুরে বেড়ানো বিভিন্ন উল্কাপিণ্ডে চলতে থাকে পানির সন্ধান। অবশেষে দুটি উল্কাপিণ্ডে পানির অণু সন্ধান করে সাফল্য পেলেন বিজ্ঞানীরা।

জাহ্নবী

মহাকাশে প্রথম কাঠের কৃত্রিম উপগ্রহ

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:২০ পিএম
মহাকাশে প্রথম কাঠের কৃত্রিম উপগ্রহ
জাপান কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট তৈরিতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল। ধাতুর পরিবর্তে ম্যাগনোলিয়া কাঠ দিয়ে ‘লিগনোস্যাট’ নামে একটি কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরি করেছে জাপানি বিজ্ঞানীরা। কৃত্রিম উপগ্রহটি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, কাঠের তৈরি হলেও এটি যথেষ্ট টেকসই।
 
কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয় ও কাঠের বাড়ি-আসবাব তৈরির প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো ফরেস্ট্রি একযোগে কাঠের তৈরি উপগ্রহটি তৈরিতে কাজ করেছে। মহাকাশে দূষণ কমাতে কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরিতে ধাতব পদার্থের বদলে পরিবেশবান্ধব কাঠের মতো বিকল্প উপাদান কাজে লাগানো যায় কি না, সে ধারণা থেকেই লিগনোস্যাট তৈরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাকাশবিষয়ক প্রকৌশলী তাকাও দোই বলেন, ধাতব কৃত্রিম উপগ্রহগুলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসার সময় সেগুলো পুড়ে অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের ক্ষুদ্র কণা সৃষ্টি করে। যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। এ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে গবেষকরা কাঠ দিয়ে কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরির পদক্ষেপ নিয়েছেন। কিছুদিনের মধ্যেই কাঠের কৃত্রিম উপগ্রহটি আনুষ্ঠানিকভাবে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করার পরিকল্পনা করেছে জাপানি গবেষকরা।
 
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
জাহ্নবী

দুশ্চিন্তা নিয়ন্ত্রণ করবে ভাইরাস

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:১৮ পিএম
দুশ্চিন্তা নিয়ন্ত্রণ করবে ভাইরাস
ভাইরাস বিষয়টি সব সময় আতঙ্কের নয়। জীববিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সব ভাইরাস মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর নয়। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের পেটে বা অন্ত্রে থাকা কিছু ভাইরাস মানুষের মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। নেচার মাইক্রোবায়োলজিতে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, অন্ত্রে থাকা ভাইরাসের একটি ধরন নিয়ে গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে, ভাইরাসটি ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রামিত করে প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে।
 
গবেষকরা প্রাথমিকভাবে ইঁদুরের অন্ত্রে থাকা একটি ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করেন। ইঁদুর কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে ভাইরাসটির গঠনে কী কী পরিবর্তন হয়, তা পর্যবেক্ষণ করেন তারা। ভাইরাসটি মানসিক চাপের হরমোনের মাত্রা কমাতে সক্ষম। মানুষের অন্ত্রে থাকা ভাইরাসও এমন আচরণ করতে পারে- ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। দুশ্চিন্তা করার সময় আমরা যে মানসিক চাপ অনুভব করি, তা কাটাতেও এ ভাইরাসের ভূমিকা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি সঠিক হলে নতুন এই গবেষণা মানসিক চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে মানসিক চাপ সম্পর্কিত রোগের কার্যকর ওষুধ তৈরিতে বিশেষ অবদান রাখবে গবেষণাটি।
 
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
জাহ্নবী

 

চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপনের নতুন ভবিষ্যৎ ‘সোরা’

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৩৭ এএম
চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপনের নতুন ভবিষ্যৎ ‘সোরা’
সোরার তৈরী ভিডিও থেকে নেওয়া স্থিরচিত্র

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) লেখকদের স্থান দখল করতে পারে। এই আতঙ্কে কর্মসংস্থান হারানোর ভয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন হলিউডের স্ক্রিপ্ট রাইটাররা। তাদের দাবি ছিল, চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট লেখায় ব্যবহার করা যাবে না কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি। তবে সে আন্দোলনে যোগ দিতে দেখা যায়নি ড্রোন পাইলট, থ্রিডি অ্যানিমেটরদের। এসব পেশার মানুষজন নিজেদের হয়তো এআই থেকে নিরাপদই ভেবেছিলেন। খুব সম্ভবত তাদেরও এবার রাস্তায় নামার সময় হয়েছে। 

গত শুক্রবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই তাদের নতুন প্রোডাক্ট সোরার কার্যকলাপ প্রকাশ করেছে। লেখা থেকে এবার ছবিতেই সীমাবদ্ধ নয়, সোরা পুরো এক মিনিটের ভিডিও তৈরি করতে পারে। আপনাকে একজন ব্যবহারকারী হিসেবে লিখে দিতে হবে আপনি কী চান।

এই প্রযুক্তি নিয়ে এরই মধ্যে ভিডিও প্রকাশ করেছে টেক রিভিউয়ার এমকেএইচবিডি। তিনি প্রযুক্তির এই নাটকীয় উন্নয়নে যেমন উচ্ছ্বসিত, একই সঙ্গে শঙ্কিত। গত বছরের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি ভিডিও ও এ বছরের সোরার চমকের ব্যবধান খালি চোখেই স্পষ্ট। সোরার তৈরি ভিডিওর লাইটিং, কালার কারেকশন, চরিত্রের গঠন সবই একেবারে যেন বাস্তব। যার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে ধারণা নেই, তার পক্ষে কখনোই অনুমান করা সম্ভব নয় যে এগুলো এআইয়ের তৈরি হতে পারে। 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার একটি ড্রোনশটের ভিডিও দেখিয়ে এমকেএইচবিডি খোলাখুলিই বলেছে, সম্ভবত ড্রোন ফুটেজের জন্য কোনো ড্রোন পাইলটের দ্বারস্থ হওয়া লাগবে না। একই সঙ্গে থ্রিডি অ্যানিমেটরদের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। আপনি যদি লেখার মাধ্যমেই অ্যানিমেশন তৈরি করতে পারেন, আপনি কেন অ্যানিমেটরকে কাজে নেবেন? 

তবে এখনো সোরাকে উন্মুক্ত করেনি ওপেনএআই। শুধু কিছু ভিডিও তারা প্রকাশ করেছে। কোম্পানিটির সিইও স্যাম অল্টম্যান এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখার আহ্বান জানিয়েছেন, যেগুলো দিয়ে ভিডিও বানিয়ে প্রকাশ করা হবে। 

সোরা আপাতত সর্বোচ্চ এক মিনিটের ভিডিও তৈরি করতে পারে। তবে অনেক নেটিজেনই এখন প্রশ্ন তুলছেন। ভবিষ্যতে কি পুরো চলচ্চিত্র তৈরি করতে পারবে এটি?

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তরিকুল ইসলাম পনির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, যেসব কোম্পানি স্টক ফুটেজ নিয়ে কাজ করে, সোরার কারণে তারা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি বিজ্ঞাপন মূল ধারায় চলে আসবে। 

সফটওয়্যার প্রকৌশলী ও তথ্যপ্রযুক্তি গবেষক জেমাম আহমেদ সোরার বিষয়ে বলেন, এমন সময় খুব কাছেই, যখন হয়তো পিডিএফ বই দিলেই চলচ্চিত্র বা টিভি সিরিজ বানিয়ে দেবে সোরা। 

যেহেতু এটি এরই মধ্যে এক মিনিটের ভিডিও তৈরি করতে পারে, তার মানে এই জেনারেটিভ এআইয়ের পক্ষে এখনই টেলিভিশন বা অনলাইনের জন্য ভিডিও বিজ্ঞাপন তৈরি করা সম্ভব। 

সে ক্ষেত্রে চলচ্চিত্র বা বিজ্ঞাপন নির্মাণের ভবিষ্যৎই-বা কী? একটি কম্পিউটার থাকলে আপনিও কি হতে পারবেন একজন চলচ্চিত্র পরিচালক। এসব প্রশ্নের উত্তর হয়তো এই দশকেই পাওয়া যাবে।