ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩১, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

সামুদ্রিক ভয়ংকর প্রাণী ববিট ওয়ার্ম

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৪, ১২:১৬ পিএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:০৪ এএম
সামুদ্রিক ভয়ংকর প্রাণী ববিট ওয়ার্ম
ববিট ওয়ার্ম

মহাকাশ থেকে গভীর সমুদ্রে কত যে অদ্ভুত আর বৈচিত্র্যময় জীব আছে তার ইয়ত্তা নেই। কৌতূহল আর প্রয়োজনে মানুষ এসবের সন্ধান করে যাচ্ছেন। এই আবিষ্কারের নেশায় বিজ্ঞানীরা খোঁজ চালান সর্বত্র। সেই আবিষ্কার থেকেই উঠে আসে অবাক করা কিছু তথ্য। কখনো কখনো বিজ্ঞানীরা এমন কিছুর মুখোমুখি হন, যা চমকে দেয় সবাইকে। সমুদ্রের গভীরে অনেক প্রাণী সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ তথ্য জানেন না। তবে লাখ লাখ প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে ‘ববিট ওয়ার্ম’ নামে প্রাণী খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, যাকে সমুদ্রের সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণী বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। মজার বিষয় হচ্ছে, এই প্রাণীটির নামকরণ করা হয়েছে একজন নারীর নামের সঙ্গে মিল রেখে, যিনি নিজের স্বামীকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন।

নামকরণের কারণ
সামুদ্রিক এই প্রাণীটির নামকরণ করা হয়েছে লরেনা ববিট নামের এক নারীর নামে। যিনি রাগের কারণে স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে ফেলেছিলেন। ঐ নারীর নামে সাদৃশ্য রেখে এই প্রাণীর নামও রাখা হয়েছে ববিট ওয়ার্ম (Bobbit Worm)। যদিও এই প্রাণীটিকে স্যান্ড-স্ট্রাইকারও বলা হয়, এটির একটি বৈজ্ঞানিক নাম ইউনিস অ্যাফ্রোডিটোইস।

প্রাণীটি দেখতে কেমন?
এই ভয়ংকর প্রাণীটি দেখতে একটি সাপ এবং একটি সেন্টিপিডের মধ্যে মিশ্রণের মতো। এটি আটলান্টিক এবং ইন্দো-প্যাসিফিক মহাসাগরের মতো উষ্ণ সমুদ্রের জলে পাওয়া যায়।

দেখতে ছোট হলেও এই ভয়ংকর শিকারি প্রাণীটি তিন মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। অন্য কোনো প্রাণী থেকে নিজেকে আড়াল করতে এক রহস্যময় উপায়ে এর বিশাল আকারের দেহ লুকিয়ে রাখে। সামুদ্রিক প্রাণী শিকার করার জন্য, এটি নিজেকে সমুদ্রেপৃষ্ঠে এমনভাবে লুকিয়ে রাখে, যেন  তাকে দেখতে না পায়। এরপর সমুদ্রের পৃষ্ঠ থেকে উঠে এসে দ্রুত তাদের শিকার করে।

কতটা বিপজ্জনক


এই প্রাণীটি দেখতে কিছুটা সামুদ্রিক শৈবালের মতো। তবে খুব মারাত্মক। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি যদি কাউকে কামড়ায়, তবে তাকে পঙ্গু করে দিতে পারে। এই প্রাণীটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর চোখ নেই, তবু এটি তার শিকারকে নিখুঁতভাবে লক্ষ করতে পারে। ববিট ওয়ার্ম নিজেকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে। এমনকি যদি টুকরো টুকরো করা হয়, সেই আহত শরীরের অংশগুলোকে নিজ থেকে জোড়া লাগিয়ে নিতে পারে ববিট ওয়ার্ম । সূত্র: ল্যাডবাইবেল

জাহ্নবী

পছন্দের জিনিস সহজ করে মস্তিষ্কের কাজ

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪, ১২:৩০ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ০৮:৫১ পিএম
পছন্দের জিনিস সহজ করে মস্তিষ্কের কাজ
ছবি: সংগৃহীত

মানুষের পছন্দের খাবার, রং, জায়গা, এমনকি মানুষের প্রতি আকর্ষণ- এ সবকিছুর পেছনেই রয়েছে মস্তিষ্কের কার্যকৌশল। বিবর্তনের ফলে মানুষের মস্তিষ্কে এই পছন্দের ধারণা গেঁথে গেছে। আমরা সাধারণত উজ্জ্বল রঙের প্রতি আকৃষ্ট হই। কারণ এগুলো আকাশ ও পানির মতো ইতিবাচক জিনিসের সঙ্গে সম্পর্কিত। আবার গাঢ় রং, যা ময়লা বা রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত- সেগুলো আমরা এড়িয়ে চলি।

আমরা সাধারণত এমন ভৌগোলিক পরিবেশ পছন্দ করি, যা আশ্রয়, সম্পদ ও সুন্দর পরিবেশের ভারসাম্য দিয়ে থাকে। সম্ভবত কারণ, বিবর্তনের ফলে আমাদের পূর্বপুরুষরা এই জায়গায় টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ সাধারণত নিখুঁত চেহারাকে সুন্দর মনে করে। কারণ এটি সুস্থ জিনের লক্ষণ হতে পারে।

পছন্দের ব্যাপারে জিনগত প্রবণতার সঙ্গে সঙ্গে সাংস্কৃতিক প্রভাব ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ছেলেবেলায় হয়তো প্রিয় রং, দেশ, চলচ্চিত্র ও তারকা ইত্যাদি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো। এই উত্তরগুলো নির্বাচনে মিশ্রভাবে কাজ করে মৌলিক প্রবণতা ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার। এসব পছন্দের ক্ষেত্রে বিবর্তনীয় পছন্দ ও ব্যক্তিগত পছন্দের মতো বিষয় মিশ্রণ হয়। কোন ফুটবল দলকে সমর্থন করি বা কোন ছুটির অভিজ্ঞতা মনে রয়েছে, সেগুলো উত্তর নির্বাচনে কাজ করে। এসব পছন্দের তালিকা মনে রাখি ও কথায় কথায় সেগুলো বলি।

পছন্দের আরেকটি কারণ হলো সহজ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কৌশল বা সহজীকরণ। পৃথিবীতে এত বিচিত্র পছন্দের জিনিস আছে যে, সবসময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া ক্লান্তিকর হয়। তাই মস্তিষ্ক শর্টকাট পদ্ধতি ব্যবহার করে। শর্টকাট হিসেবে মস্তিষ্ক পছন্দের জিনিসগুলোকে বেছে নেয়। রেস্টুরেন্ট বা ছুটি কাটানোর জায়গা নির্বাচন, এমনকি কোন পডকাস্ট শুনবেন, সেসব ক্ষেত্রে পছন্দের জিনিসের দিকেই ঝুঁকে পড়ি। এটা সুবিধাজনক ঠিকই, তবে নতুন কিছু চেষ্টা করে দেখার সুযোগ বা সাহসিকতার জন্য এতটা দুর্দান্ত নয়। বিশেষ করে সম্পর্কের ক্ষেত্রে পছন্দের প্রবণতা জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। বাবা-মায়ের যদি একটি সন্তানের প্রতি আরেক সন্তানের চেয়ে বেশি ঝোঁক থাকে অথবা কোনো কর্মকর্তার যদি একজন কর্মচারীকে বেশি পছন্দ করেন, তাহলে তা অন্যায় ও বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে। ব্যক্তি-পছন্দ পক্ষপাতিত্ব তৈরি করে,  আর  পক্ষপাত দুর্নীতি ও বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে। সূত্র: বিবিসি

জাহ্নবী

হাতিরা একে অপরের নাম ধরে ডাকে

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪, ১২:২৮ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ০৮:৫০ পিএম
হাতিরা একে অপরের নাম ধরে ডাকে
ছবি: সংগৃহীত

বহু বছর ধরে আফ্রিকান হাতিদের ওপর গবেষণা চালিয়ে আসছেন গবেষকরা। এ সময় তারা একটি আকর্ষণীয় ঘটনা লক্ষ করেছেন। কখনো কোনো হাতি কোনো দলের সদস্যদের উদ্দেশে ডাক দিলে, ওই দলের সবাই সাড়া দেয়। তবে অনেক সময় একই হাতি যখন একই ধরনের ডাক দেয়, তখন শুধু একটি হাতি সাড়া দেয়।

এরকম হওয়ার কারণ কী হতে পারে? হাতিরা কি একে অপরকে নাম ধরে ডাকছে? নতুন এক গবেষণায় এই প্রশ্নেরই উত্তর মিলেছে। কেনিয়ার আফ্রিকান সাভানা হাতিদের নিয়ে এই গবেষণা করা হয়েছে। নতুন এই গবেষণা প্রতিবেদনটি চলতি মাসে ন্যাচার ইকোলজি অ্যান্ড ইভল্যুশন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষকরা আম্বোসেলি ন্যাশনাল পার্ক এবং সাম্বুরু ন্যাশনাল রিজার্ভে ১০০টিরও বেশি হাতির ডাক বিশ্লেষণ করেছেন। এই ডাকগুলো বেশির ভাগই গর্জন ছিল, যা হাতিদের স্বরযন্ত্র ব্যবহার করে তৈরি করে, ঠিক মানুষের কথা বলার মতো।

একটি মেশিন লার্নিং মডেল ব্যবহার করে গবেষকরা এসব ডাকে এমন কিছু শনাক্ত করেছেন, যা কোনো নির্দিষ্ট হাতিকে ডাকার সময় ব্যবহৃত নামের মতো উপাদান নির্দেশ করে।

এরপর গবেষকরা ১৭টি হাতির কাছে অডিও বাজিয়ে পরীক্ষা করেছেন। এই পরীক্ষায় হাতিরা নিজেদের ডাক ও অন্য কোনো হাতিকে উদ্দেশ্য করে ডাকের প্রতি কীভাবে সাড়া দেয়, তা পর্যবেক্ষণ করেছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, হাতিরা তাদের উদ্দেশ্য করে ডাকা হলে বেশি সাড়া দিয়েছে। যখন তারা এমন ডাক শুনেছে, তখন তারা আরও উৎসাহিত আচরণ করেছে, শব্দের উৎসের দিকে হেঁটে গেছে। অন্যদের উদ্দেশ্য করে ডাকা হলে তার চেয়ে বেশি ডাক দিয়েছে।

প্রকাশিত গবেষণাপত্রটির প্রধান লেখক কর্নেল ইউনিভার্সিটির (সাবেক কলোরাডো স্টেট ইউনির্ভাসিটি) বিহ্যাভিরিয়াল ইকোলজিস্ট মিকি পারডো গবেষণার ফলাফলের আলোকে জানান, ‘হাতিরা একে অপরকে নামের মতো কিছু দিয়ে ডাকাডাকি করে।’

পারডো বলেন, ‘এভাবে একে অপরকে ডাকতে হলে, হাতিদের অবশ্যই নির্দিষ্ট শব্দকে নির্দিষ্ট হাতির সঙ্গে সম্পর্কিত করে শিখতে হবে। এরপর সেই শব্দগুলো ব্যবহার করে ওই নির্দিষ্ট হাতির মনোযোগ আকর্ষণ করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন হয় সামাজিক সম্পর্ক বোঝার সক্ষমতা ও উন্নত শিখার দক্ষতা।’

তিনি আরও বলেন ‘হাতিরা যে একে অপরকে আলাদা আলাদা প্রাণী হিসেবে সম্বোধন করে, এটা তাদের সামাজিক বন্ধনের গুরুত্বকে তুলে ধরে। বিশেষ করে, এই প্রাণীদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক বন্ধন বজায় রাখার গুরুত্বকে তুলে ধরে।’

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্থলজ প্রাণী হাতিদের অত্যন্ত বুদ্ধি, তীক্ষ্ণ স্মৃতিশক্তি, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও উন্নত যোগাযোগের সক্ষমতার জন্য পরিচিতি আছে। আগের গবেষণায় দেখা গেছে, একে অপরকে অভিবাদন জানানোর সময় দৃশ্যমান, শ্রাব্য ও স্পর্শগত ইশারার মতো জটিল আচরণ ব্যবহার করে।