ঢাকা ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Khaborer Kagoj

অদ্ভুত রহস্যঘেরা মায়াস্বর

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৩০ পিএম
অদ্ভুত রহস্যঘেরা মায়াস্বর
প্রিয় পুতুল চার্লি ম্যাকার্থির সঙ্গে ভেন্ট্রিলোকুইস্ট এডগার বার্গেন

মায়াস্বর বা ভেন্ট্রিলোকুইজম এমন এক ধরনের কলা, যেখানে একজন ব্যক্তি তার কণ্ঠকে এমনভাবে ব্যবহার করে, মনে হয় যে শব্দটি অন্য কোনো উৎস থেকে আসছে। সাধারণত একটি পুতুলের মুখ থেকে শব্দ আসছে বলে মনে হয়। এই কলার মাধ্যমে মায়াস্বরী বা ভেন্ট্রিলোকুইস্ট এবং পুতুলের মাঝে মজাদার কথোপকথন হয়।

বিভিন্ন ধর্মে এই ভেন্ট্রিলোকুইজমের ব্যবহার দেখা যায়। মূলত প্ল্যানচেটে মৃত আত্মা হাজিরের কাজে ভেন্ট্রিলোকুইজম সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়েছে। ধীরে ধীরে বিদ্যাটি সবার কাছে জাদুবিদ্যা হিসেবে ধরা দেয়। এর পর থেকেই মূলত মঞ্চে মায়াস্বরের ব্যবহার শুরু হয়। চীনও এর জন্য খুব প্রসিদ্ধ ছিল। এখানে ‘কৌজি’ নামে এটি পরিচিত ছিল। মায়াস্বরের বিস্তার ও অগ্রগতি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘটেছে। ইউরোপে মায়াস্বর মূলত বাচ্চাদের বিনোদনের জন্য ব্যবহার হয়েছে।

বিভিন্ন নথিপত্রে ১৭৫৩ সালে ইংল্যান্ডে ভেন্ট্রিলোকুইজম সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যায়। আধুনিক ভেন্ট্রিলোকুইজমের জনক হিসেবে ফ্রেড রাসেলকে মনে করা হয়। যিনি ১৮৮৬ সালে লন্ডনে পুতুলের সঙ্গে কথপোকথনের মাধ্যমে ভেন্ট্রিলোকুইজমের মঞ্চায়ন শুরু করেন।

এডগার বার্গেন তার প্রিয় পুতুল চার্লি ম্যাকার্থির সঙ্গে ১৯৩০-এর দশকে হাস্যরসাত্মক ভেন্ট্রিলোকুইজমের নতুন রূপ জনপ্রিয় করে তোলেন। জেফ ডানহাম ও শ্যারি লুইসসহ অনেক বিখ্যাত বিনোদন ব্যক্তিত্ব বর্তমানে  ভেন্ট্রিলোকুইজমের সাথে যুক্ত রয়েছেন।

এই কলাটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে পরিচিত হয়। ফ্রান্সে একে লা ভেন্ট্রিলোকুইজম, ইংল্যান্ডে ডামি অ্যাক্ট বলা হয়। এটি আমেরিকায় খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আমেরিকার মায়াস্বরীরা মানুষ, পশুপাখি, ফল, সবজি, বক্সসহ বিভিন্ন ধরনের পুতুল ব্যবহার করেন। এই পুতুলগুলো মায়াস্বরীর হাতে বা কোলে বসে থাকা ছাড়াও মায়াস্বরীর পাশে বা দূরে থাকে। এই কলার মাধ্যমে তারা বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন ও দর্শকদের বিনোদন দেন।

মায়াস্বরীর কলাকৌশল  দক্ষতা ও অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে। এই কলার জন্য মায়াস্বরীরা কিছু বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেন। তাদের কণ্ঠস্বর এমনভাবে পরিবর্তন করেন, যেন মনে হয় শব্দটি তাদের কণ্ঠ থেকে নয়, বরং পুতুলের কণ্ঠ থেকে আসছে। কণ্ঠস্বর পরিবর্তনের জন্য তারা বিভিন্ন ধরনের কণ্ঠস্বর ব্যবহার করেন। তাদের মুখের নড়া-চড়া কমানোর জন্য বিশেষ ধরনের দাঁত ব্যবহার করেন। তবে সমবসময় নয়। তাদের পুতুলের মুখ নাড়ানোর সমন্বয় করার জন্য বিভিন্ন ধরনের পুতুল ব্যবহার করেন। মায়াস্বরীরা তাদের পুতুলের সঙ্গে কথোপকথন করার জন্য বিভিন্ন বিষয় ও চরিত্র নির্বাচন করেন। তাদের শব্দের উচ্চারণ সঠিক করার জন্য বিশেষ ধরনের শব্দ ব্যবহার করেন। এ ক্ষেত্রে নাসিক্য ধ্বনি ব্যবহার করা, উপসর্গ বা প্রত্যয়যোগে বেশি শব্দের ব্যবহার করা হয়।

মায়াস্বর বা ভেন্ট্রিলোকুইজম একটি অদ্ভুত ও মজার হলেও এর সম্পর্কে অনেকের কাছে কিছু ভুল ধারণা রয়েছে। কিছু লোক মনে করেন মায়াস্বরীরা তাদের পেট থেকে কথা বলেন। কিন্তু এটি সত্য নয়। তাদের কণ্ঠ দিয়েই কথা বলেন। শুধু তাদের কণ্ঠস্বর পরিবর্তন করে শব্দটি অন্য কোনো উৎস থেকে আসছে বলে মনে হয়।

জাহ্নবী

 

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো রোবটিক্স প্রতিযোগিতা

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:১৯ পিএম
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো রোবটিক্স প্রতিযোগিতা

সম্প্রতি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হলো দুই দিনব্যাপীটেকস্প্রেকট্রা .নামের রোবটিক্স ইভেন্ট। বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক ক্লাবের তত্ত্বাবধানে স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ইনফিনিক্স এই রোবটিক্স ইভেন্টের আয়োজন করে, যেখানে ৫০০ এর বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয়। রোবট বানানো প্রোগ্রামিং নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পান এই আয়োজনে।

অনুষ্ঠান শুরু হয় আইডিয়া কম্পিটিশিনের মাধ্যমে। শিক্ষার্থীরা এখানে রোবটিক প্রযুক্তি নিয়ে তাদের উদ্ভাবনী চিন্তাগুলো তুলে ধরেন। রোবটিক প্রযুক্তি প্রদর্শনের এই আয়োজনে সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করেসকারবটলাইন-ফলোয়িং রোবট রেসনামের প্রতিযোগিতা দুটি। শিক্ষার্থীদের বানানো রোবটগুলো এই প্রতিযোগিতায় দ্রুততার সাথে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। রোবটের এমন আচরণ মোহিত করে উপস্থিত দর্শকদের। সবচেয়ে বেশি গোল করার জন্যসকারবটনামের গেমটিতে একটি বল নিয়ে লড়াই করে বেশ কয়েকটি রোবট।

অন্যদিকে, অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ লাইন-ফলোয়িং রোবট রেসে সবার আগে ফিনিশ লাইনে পৌঁছাতে দৌড়ায় আরও কয়েকটি রোবট। মাত্র সেন্টিমিটার প্রস্থের একটি ট্র্যাকে এই প্রতিযোগিতায় নামে রোবটগুলো।

মূলত, নতুন ধরনের রোবট তৈরি করে অগ্নি-নির্বাপণ যাতায়াত ব্যাবস্থায় নানা সমস্যা সমাধান করতে টেকস্পেকট্রা . আয়োজন করা হয়। ইনিফিনিক্সের মাধ্যমে এমন একটি উদ্ভাবনী প্লাটফর্ম পায় আগ্রহী উদ্যোগী শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশের গেমিং রোবটিকস ইন্ডাস্ট্রির সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের ইঙ্গিতও পাওয়া যায় এই সফল আয়োজনের মাধ্যমে।

সামুদ্রিক স্তন্যপায়ীরা কীভাবে পানির নিচে ঘুমায়?

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:২৪ পিএম
সামুদ্রিক স্তন্যপায়ীরা কীভাবে পানির নিচে ঘুমায়?
সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীদের বলা হয় সিটাসিয়ান। এদের মধ্যে তিমি, ডলফিন ও সিলমাছ উল্লেখযোগ্য। এরা সমুদ্র অর্থাৎ পানির নিচে বাস করলেও শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য বাতাসের প্রয়োজন হয়। তাই কিছুক্ষণ পরপরই এরা পানির ওপরে ভেসে ওঠে শ্বাস নেওয়ার জন্য। এখন প্রশ্ন হলো সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীরা ঘুমায় কীভাবে? সামুদ্রিক স্তন্যপায়ীরা চাইলেই নিশ্চিন্তে পানির নিচে ঘুমাতে পারে না। আবার পানির ওপরেও এরা বেশিক্ষণ ভেসে থাকতে পারে না। এতে একদিকে শিকারির ভয় রয়েছে। অন্যদিকে বেশিক্ষণ পানির ওপরে থাকলে তাদের শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
 
তাহলে কীভাবে ঘুমায় জানার জন্য ২০২৩ সালে এক গবেষণা শুরু করে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার একদল গবেষক। তারা সমুদ্রের নিচে ঘুমিয়ে থাকা স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের ‘ইউনিভার্সিটি অব সেইন্ট অ্যান্ড্রুজ’-এর জীববিজ্ঞানী প্যাট্রিক মিলার এই প্রশ্নটির জবাব খুঁজে পেয়েছেন। বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘লাইভ সায়েন্স’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্যাট্রিক মিলার জানান, মানুষের মতো সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীরা মস্তিষ্কের সম্পূর্ণ অংশ একবারে বন্ধ করে ঘুমায় না। পানির নিচে ঘুমের সময় তাদের মস্তিষ্কের অর্ধেক অংশ বন্ধ এবং বাকি অর্ধেক অংশ খোলা থাকে। ঘুমন্ত ডলফিনের মস্তিষ্ক স্ক্যান করে দেখা যায়, এদের মস্তিষ্কের একটি অংশ যখন গভীর ঘুমে থাকে, অন্য অংশটি তখন সজাগ ও সতর্ক থাকে। এই ধরনের ঘুম ‘ইউনিহেমিস্ফিয়ারিক স্লিপ’ নামে পরিচিত। এমনকি ঘুমের সময় এদের চোখ বন্ধ এবং অপর চোখ খোলা থাকে। এতে আরেকটি সুবিধা হচ্ছে তিমির তার দল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিও কম থাক। ঘুমের সময় তিমিরা সমুদ্রের ঠিক নিচের পৃষ্ঠে এদের নাক উঁচু করে রাখে। আর এই সময় তাদের কোনো ধরনের সাড়াশব্দও পাওয়া যায় না, যার মানে তারা গভীর ঘুমে মগ্ন আছে।
 
তিমি অক্সিজেনের জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠের ওপরে ফিরে আসার আগে পানির নিচে প্রায় ২০ মিনিট পর্যন্ত বিশ্রাম নিতে পারে। একবার তিমি শ্বাস নেওয়ার পরে এরা আবারও ঘুমের জন্য পানির নিচে নেমে আসে। এভাবে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত তিমিরা এভাবে ঘুম বা বিশ্রাম নেয়। সিটাসিয়ান প্রাণীর মধ্যে ডলফিন, তিমি ও পোর্পোইজ প্রজাতি ইউনিহেমিস্ফিয়ারিক স্লিপের মাধ্যমে ঘুমায়। তবে সব ধরনের সিটাসিয়ান ইউনিহেমিস্ফিয়ারিক স্লিপের মাধ্যমে ঘুমায়, বিষয়টি এমন নয়। কোনো কোনো প্রাণী আবার ‘বিহেমিস্ফিয়ারিক স্লিপ’ পদ্ধতিতে ঘুমায় যেখানে মস্তিষ্কের উভয় দিকই ঘুমিয়ে পড়ে। ঠিক যেমন মানুষ ও অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণী ঘুমায়। এই তালিকায় রয়েছে সিলমাছ। সিলমাছ ঘুমের জন্য প্রায় এক হাজার ফুট (প্রায় ৩০০ মিটার) গভীরে ডুব দেয়। তখন তাদের মস্তিষ্কের কাজ করার গতি কমে যায় ও দ্রুত এরা ঘুমিয়ে পড়ে, যা ‘র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট (আরইএম)’ নামে পরিচিত। ঘুমানোর সময় সিলমাছের শরীর উল্টে গিয়ে ক্রমশ একটি ধীরগতির বৃত্তের মতো ঘুরতে থাকে। গবেষকদের ধারণা, মানুষের মতো সিলমাছও ঘুমের সময় প্যারালাইজড হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। গভীর ঘুমের সময়ে শিকারির হাত থেকে রক্ষা পেতে ‘এলিফ্যান্ট সিল’ (হাতির মতো দেখতে সিল মাছ) সমুদ্রে দৈনিক মাত্র দুই ঘণ্টার ঘুমায়।
 
সূত্র: লাইভ সায়েন্স
জাহ্নবী
 
 
 

এবার গ্রহাণুর পৃষ্ঠে মিলেছে পানির অণু

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:২২ পিএম
এবার গ্রহাণুর পৃষ্ঠে মিলেছে পানির অণু

মহাকাশের বিভিন্ন গ্রহে দীর্ঘদিন ধরেই পানির খোঁজ করছিলেন বিজ্ঞানীরা। অবশেষে প্রথমবারের মতো একটি গ্রহাণুর পৃষ্ঠে পানির অণু খুঁজে পেয়েছেন তারা। গ্রহাণুগুলো হলো গ্রহের গঠন প্রক্রিয়ার অবশিষ্টাংশ। প্ল্যানেটারি সায়েন্স জার্নালে এই আবিষ্কারের বিষয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণা দলটির প্রধান আনিসিয়া অ্যারেডোন্ডো এই সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, ‘আমরা দুটি উল্কাপিণ্ডে এমন বৈশিষ্ট্য আবিষ্কার করেছি, যা থেকে স্পষ্টভাবে পানির অণু পাওয়া গেছে। এই গবেষণার ওপর ভিত্তি করে আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি।’ সাউথওয়েস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মতে, শুষ্ক বা সিলিকেট গ্রহাণু সূর্যের কাছাকাছি তৈরি হয়। বরফের মতো কিছু পদার্থ একত্রিত হয়ে দূরের গ্রহাণু তৈরি করে। ফলে এটাও একটা কারণ হতে পারে, সেখানে পানির সন্ধান পাওয়ার। তবে এই পানির অণু কোথা থেকে এল, তা নিয়ে আরও গবেষণা চলমান রয়েছে।

পৃথিবীর বাইরে অন্য গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে কি না, দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা। ১৯৯৮ সালে মরক্কোয় একটি উল্কাপিণ্ড পড়েছিল। সেটির রাসায়নিক বিশ্লেষণ করে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছিল ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’ পত্রিকায়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, মরক্কোর সেই উল্কাতেও পানির অণু ছিল। সঙ্গে ছিল অ্যামাইনো অ্যাসিডের অণুও। সেই থেকে মহাকাশে ঘুরে বেড়ানো বিভিন্ন উল্কাপিণ্ডে চলতে থাকে পানির সন্ধান। অবশেষে দুটি উল্কাপিণ্ডে পানির অণু সন্ধান করে সাফল্য পেলেন বিজ্ঞানীরা।

জাহ্নবী

মহাকাশে প্রথম কাঠের কৃত্রিম উপগ্রহ

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:২০ পিএম
মহাকাশে প্রথম কাঠের কৃত্রিম উপগ্রহ
জাপান কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট তৈরিতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল। ধাতুর পরিবর্তে ম্যাগনোলিয়া কাঠ দিয়ে ‘লিগনোস্যাট’ নামে একটি কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরি করেছে জাপানি বিজ্ঞানীরা। কৃত্রিম উপগ্রহটি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, কাঠের তৈরি হলেও এটি যথেষ্ট টেকসই।
 
কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয় ও কাঠের বাড়ি-আসবাব তৈরির প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো ফরেস্ট্রি একযোগে কাঠের তৈরি উপগ্রহটি তৈরিতে কাজ করেছে। মহাকাশে দূষণ কমাতে কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরিতে ধাতব পদার্থের বদলে পরিবেশবান্ধব কাঠের মতো বিকল্প উপাদান কাজে লাগানো যায় কি না, সে ধারণা থেকেই লিগনোস্যাট তৈরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাকাশবিষয়ক প্রকৌশলী তাকাও দোই বলেন, ধাতব কৃত্রিম উপগ্রহগুলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসার সময় সেগুলো পুড়ে অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের ক্ষুদ্র কণা সৃষ্টি করে। যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। এ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে গবেষকরা কাঠ দিয়ে কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরির পদক্ষেপ নিয়েছেন। কিছুদিনের মধ্যেই কাঠের কৃত্রিম উপগ্রহটি আনুষ্ঠানিকভাবে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করার পরিকল্পনা করেছে জাপানি গবেষকরা।
 
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
জাহ্নবী

দুশ্চিন্তা নিয়ন্ত্রণ করবে ভাইরাস

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:১৮ পিএম
দুশ্চিন্তা নিয়ন্ত্রণ করবে ভাইরাস
ভাইরাস বিষয়টি সব সময় আতঙ্কের নয়। জীববিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সব ভাইরাস মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর নয়। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের পেটে বা অন্ত্রে থাকা কিছু ভাইরাস মানুষের মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। নেচার মাইক্রোবায়োলজিতে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, অন্ত্রে থাকা ভাইরাসের একটি ধরন নিয়ে গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে, ভাইরাসটি ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রামিত করে প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে।
 
গবেষকরা প্রাথমিকভাবে ইঁদুরের অন্ত্রে থাকা একটি ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করেন। ইঁদুর কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে ভাইরাসটির গঠনে কী কী পরিবর্তন হয়, তা পর্যবেক্ষণ করেন তারা। ভাইরাসটি মানসিক চাপের হরমোনের মাত্রা কমাতে সক্ষম। মানুষের অন্ত্রে থাকা ভাইরাসও এমন আচরণ করতে পারে- ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। দুশ্চিন্তা করার সময় আমরা যে মানসিক চাপ অনুভব করি, তা কাটাতেও এ ভাইরাসের ভূমিকা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি সঠিক হলে নতুন এই গবেষণা মানসিক চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে মানসিক চাপ সম্পর্কিত রোগের কার্যকর ওষুধ তৈরিতে বিশেষ অবদান রাখবে গবেষণাটি।
 
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
জাহ্নবী