ঢাকা ৬ বৈশাখ ১৪৩১, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

হাতের স্পর্শ ছাড়াই দাবা খেলছেন পক্ষাঘাতগ্রস্ত

প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২৪, ১১:৫৯ এএম
হাতের স্পর্শ ছাড়াই দাবা খেলছেন পক্ষাঘাতগ্রস্ত
ছবি : সংগৃহীত

হাতের স্পর্শ ছাড়াই শুধু চিন্তা করে কম্পিউটারে দাবা খেলছেন ২৯ বছর বয়সী নোল্যান্ড আরবাঘ নামের পক্ষাঘাতগ্রস্ত এক ব্যক্তি। আর এমনটি সম্ভব হয়েছে ধনকুবের ইলন মাস্কের ব্রেইন চিপ স্টার্টআপ কোম্পানি নিউরালিংকের তৈরি ডিভাইসের মাধ্যমে। তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যার মস্তিষ্কে পরীক্ষামূলকভাবে এই ডিভাইস স্থাপন করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বৃহস্পতিবারন (২১ মার্চ) নোল্যান্ডের বাসা থেকেই লাইভে আসেন নিউরালিংকের এক কর্মী। সেই ভিডিওতেই তাকে হাতের স্পর্শ ছাড়াই ল্যাপটপে দাবা খেলতে দেখা যায়। এমনকি তিনি কম্পিউটারের মাউসের কারসরও প্রয়োজনমাফিক ব্যবহার করছিলেন। 

নোল্যান্ড একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন। তিনি ঘাড়ের নিচের অংশ নাড়াতে পারতেন না। নিউরালিংক ডিভাইস স্থাপনের আগে তার কম্পিউটার চালাতেও অন্যের সহায়তা লাগত। গত জানুয়ারিতে ডিভাইস স্থাপনের পর এখন তিনি নিজে নিজেই তা পারছেন। 

লাইভে তিনি বলেছেন, ডিভাইস স্থাপনের সার্জারিটাও ছিল খুব সহজ। যেদিন সার্জারি হয়, তার পরদিনই তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। কোনো কগনিটিভ সমস্যাও তাকে মোকাবিলা করতে হয়নি। এমনকি তাকে দেখে বোঝারও উপায় নেই যে তিনি মস্তিষ্কে একটি স্মার্ট ডিভাইস নিয়ে ঘুরছেন।

নিউরালিংকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি মূলত এই খেলাটি (দাবা) ছেড়ে দিয়েছিলাম। আপনারা সবাই (নিউরালিংক) আবার আমাকে দাবা খেলার ক্ষমতা দিয়েছেন। আমি টানা ৮ ঘণ্টাও দাবা খেলতে পারি।’

নিউরালিংকের এত বড় সাফল্যের পরও ইউএস ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের নিউরাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাবেক প্রোগ্রাম ডিরেক্টর কিপ লুডভিগ বলেন, ‘কোম্পানিটি যা দেখিয়েছে তা মোটেও বড় কিছু নয়। তবে এটি বেশ ভালো শুরু। এই প্রযুক্তি বর্তমানে খুব প্রাথমিক স্তরে রয়েছে। এখনো অনেক কিছু শেখার আছে।’

নিউরালিংক মূলত একটি ব্রেইন কম্পিউটার ইন্টারফেস প্রযুক্তিভিত্তিক কোম্পানি। মানুষের মস্তিষ্কের সঙ্গে কম্পিউটার বা স্মার্ট ডিভাইসের সংযোগ সাধন নিয়ে কোম্পানিটি কাজ করে। এর আগে মানুষের মস্তিষ্কে স্থাপনের আগে পরীক্ষামূলকভাবে শূকর ও বানরের মস্তিষ্কেও স্থাপন করা হয়েছিল। 

ইলন মাস্ক এর আগে বলেছিলেন, তার কোম্পানির প্রাথমিক লক্ষ্য যারা পক্ষাঘাতগ্রস্ত বা অন্ধত্বের সমস্যা মোকাবিলা করছে তাদের সহায়তা করা। তবে ভবিষ্যতে এর প্রভাব হবে আরও ব্যাপক। দেখা যাবে, কেউ নতুন কিছু শিখতে চাইলে তার মস্তিষ্কে স্বল্প সময়ের মধ্যেই সেই দক্ষতা লোড করতে পারবে কিংবা এর মাধ্যমে ব্রেইনকে কম্পিউটারেও ডাউনলোড করা যাবে বা তৈরি করা যাবে ডিজিটাল টুইন। সূত্র: নিউরালিংক

নতুন ছায়াপথ খুঁজে পেল হাবল

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৪৬ পিএম
নতুন ছায়াপথ খুঁজে পেল হাবল
ছবি : সংগৃহীত

হাবল টেলিস্কোপকে কাজে লাগিয়ে নতুন এক সর্পিলাকার ছায়াপথের (গ্যালাক্সি) সন্ধান পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ও ইউরোপের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইএসএর গবেষকরা। ‘আইসি ৪৬৩৩’ নামে চিহ্নিত করা সেই ছায়াপথের ছবিও তুলেছেন তারা। 

নাসার প্রতিবেদন অনুসারে, এর অবস্থান আমাদের পৃথিবী থেকে ১০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে। জ্যোতির্বিদরা ধারণা করছেন, শত শত কোটি নক্ষত্র এই গ্যালাক্সির মধ্যে রয়েছে। 

মহাজাগতিক বস্তুগুলোর দূরত্ব এতই বেশি যে, আমাদের প্রচলিত দূরত্ব মাপার একক সেখানে ব্যবহার করা জটিল হয়ে পড়ে। আলো সেকেন্ডে ৩ লাখ ৮ হাজার কিলোমিটার বেগে ছুটে। আর এভাবে এক বছরে যে দূরত্ব অতিক্রম করে- তাই এক আলোকবর্ষ। 

আইসি ৪৬৩৩ ছায়াপথের পুরো চিত্র ধারণ এখনো সম্ভব হয়নি। এর বড় একটি অংশ মহাজাগতিক ধূলিকণার মেঘের পেছনে লুকিয়ে আছে। হাবলের গবেষকরা বলেছেন, এখন পর্যন্ত তারা যেই চিত্র পেয়েছেন- সেখানেই ১০০ কোটির বেশি নক্ষত্র রয়েছে। তবে গ্যালাক্সির বৈশিষ্ট্যগুলো পুরোপুরি বোঝাতে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। কারণ এর জন্য প্রয়োজন আইসি ৪৬৩৩-এর পূর্ণ চিত্র। 

জ্যোতির্বিদরা জানিয়েছেন, আইসি ৪৬৩৩ ছায়াপথটিকে চামেলিওন ১, চামেলিওন ২ ও চামেলিওন ৩ মহাজাগতিক মেঘগুলোই আড়াল করে রেখেছে। নাসা বলছে, এই মেঘগুলোই চামেলিওন তারকা গঠনের অঞ্চল। অর্থাৎ এখান থেকে নক্ষত্রের জন্ম হয়। আর এটি মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির তুলনামূলক কাছে। মাত্র ৫ কোটি আলোকবর্ষ দূরে। সূত্র: এনডিটিভি

রাজশাহীর পদ্মাপাড় থেকে দেখা যাবে ধূমকেতু

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০১:০২ পিএম
রাজশাহীর পদ্মাপাড় থেকে দেখা যাবে ধূমকেতু

৭১ বছর পর আবার আকাশে দেখা যাবে বিখ্যাত ডেভিল কমেট। আগামী ২১ এপ্রিল, রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত রাজশাহীর পদ্মাপাড়ের টি-বাঁধে এই ধূমকেতু দেখার জন্য বিশেষ আয়োজন করেছে বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন ও রাজশাহী অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টার।

এই আয়োজনের মাধ্যমে মহাকাশপ্রেমীদের ডেভিল কমেট দেখানোর পাশাপাশি টেলিস্কোপের সাহায্যে চাঁদ এবং বৃহস্পতি গ্রহও দেখানো হবে। বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

রাজশাহীর টি-বাঁধে গেলেই টেলিস্কোপের সাহায্যে দেখতে পারবেন ধূমকেতুটি। আকাশে মেঘ না থাকলে ধূমকেতু দেখার পাশাপাশি চাঁদ ও বৃহস্পতি গ্রহ দেখতে পারবেন। ধূমকেতুটি ২১ এপ্রিল সূর্যাস্তের সময় থেকে ঘণ্টাখানেক আকাশে অবস্থান করবে। আয়োজনটি সবার জন্য উন্মুক্ত।

ধূমকেতুটির নাম ১২পি/পন্স-ব্রুকস। অনেকটা  গরুর শিংয়ের মতো দেখতে এটি ২৯ কিলোমিটার ব্যাসের। প্রতি ৭১ বছর পরপর এটি দেখা যায়। ২০৯৫ সালের আগে একে আর দেখা যাবে না। ধূমকেতুটি ধূলিকণা, শিলা ও বরফ দিয়ে তৈরি। ১৩৮৫ সালে চীনা জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা প্রথম এ ধূমকেতু দেখতে পান।

এরপর ১৪৫৭ সালে দেখেছিলেন এক ইতালীয় জ্যোতির্বিদ। তবে নামকরণ করা হয়েছে আরও পরে। দুই জ্যোতির্বিজ্ঞানীর নামানুসারে এর নাম রাখা হয়। ১৮১২ সালে ফরাসি জ্যোতির্বিদ জিন-লুই পন্স-এর নামানুসারে ধূমকেতুর প্রথম অংশ ও ১৮৮৩ সালে মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী উইলিয়াম ব্রুকসের নামানুসারে এর দ্বিতীয় অংশের নামকরণ করা হয়েছে।

এ,জে/জাহ্নবী

মহাকাশে হবে কৃত্রিম সূর্যগ্রহণ

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০১:০১ পিএম
মহাকাশে হবে কৃত্রিম সূর্যগ্রহণ

ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ইসরো)-এর সঙ্গে যৌথভাবে ইউরোপের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির (ইসা) সূর্যগ্রহণ সম্পর্কে গবেষণা করতে ‘প্রোবা-৩ (Proba-3)’ মিশন পরিচালিত করছে। এই মিশনে মহাকাশে কৃত্রিম উপায়ে তৈরি হবে সূর্যগ্রহণ। এই মিশনের মহাকাশযান কবে নাগাদ উৎক্ষেপণ করা হবে, তা এখনো জানা যায়নি।

সূর্য আর চাঁদের গ্রহণ নিয়ে মানুষের জানার আগ্রহের শেষ নেই। চলতি মাসেই উত্তর আমেরিকার বিস্তীর্ণ অংশ থেকে দেখা গেছে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। অসংখ্য মানুষ এই গ্রহণ দেখতে আকাশ পানে তাকিয়ে ছিলেন। সূর্য দীর্ঘ চার মিনিট ধরে চাঁদের ছায়ায় ঢাকা ছিল। এটাই ছিল বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ। গ্রহণের মতো মহাজাগতিক ঘটনা নিয়ে এবার নতুন গবেষণা শুরু করছে ইসা ও ইসরো। ইউরোপের মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটির দাবি, তারা মহাকাশে কৃত্রিম উপায়ে গ্রহণ করাতে পারবে। এমনই প্রযুক্তি তৈরি করা হচ্ছে।

ইউরোপের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসা জানিয়েছে, প্রোবা-৩ মিশনটি সৌর আবহাওয়াকে আরও ভালোভাবে বুঝতে সূর্যগ্রহণের কৃত্রিম অনুকরণ তৈরি করবে। বর্তমানে ইসা আমাদের মহাবিশ্বের তারার চারপাশে থাকা বায়ুমণ্ডল, সৌর-জাল সম্পর্কে জানার জন্য দুটি স্যাটেলাইট একসঙ্গে উৎক্ষেপণের মাধ্যমে কৃত্রিম সূর্যগ্রহণ তৈরি করতে কাজ করছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, এই মিশন বাস্তবায়িত হলে এটিই হবে বিশ্বে প্রথম মানবসৃষ্ট কৃত্রিম সূর্যগ্রহণ। প্রোবা-৩ মিশনে দুটি স্যাটেলাইট (কৃত্রিম উপগ্রহ) ব্যবহার করা হবে। উৎক্ষেপণের পর মহাকাশে সেগুলো পাশাপাশি উড়বে। সূর্যের করোনা অংশকে বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এই স্যাটেলাইটগুলো, যা এর আগে কখনো করা হয়নি।

সূর্যগ্রহণের সময়ে চাঁদের ছায়ায় সূর্য ঢাকা পড়ে গেলে, সূর্যের যে অংশটি পৃথিবী থেকে খালি চোখে দেখা যায়, তার নাম করোনা। অন্যান্য সময়ে সূর্যের বাকি অংশের আলোর ঔজ্জ্বল্য করোনাকে ম্লান করে দেয়। গ্রহণের সময় উজ্জ্বল হয় করোনা। এই অংশকে দেখার জন্য বিশেষ করোনাগ্রাফ তৈরি করা হচ্ছে, যা ওই দুই স্যাটেলাইটের মধ্যে থাকবে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সূর্যের এই করোনা অংশটিই মহাকাশের আবহাওয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রোবা হলো প্রজেক্ট অব অনবোর্ড অটোনমি এর সংক্ষিপ্ত রূপ ও লাতিন ভাষায় এর অর্থ লেট’স ট্রাই বা চেষ্টা করা যাক।

কৃত্রিম সূর্যগ্রহণের জন্য ব্যবহৃত স্যাটেলাইট দুটির নাম দেওয়া হয়েছে অকালটার ও করোনাগ্রাফ। দুটিকেই পৃথিবীর উচ্চ কক্ষপথে বসানো হবে। করোনাগ্রাফ মহাকাশযান ও অকালটার মহাকাশযান দুটিকে নির্ধারিত অবস্থানে স্থাপন করা হবে, এদের মধ্যে দূরত্ব হতে পারে কয়েক মিলিমিটার বা ১৪৪ মিটার। আবার এর চেয়েও বেশি দূরত্বে হতে পারে। অকালটার সূর্যের খুব কাছে এমনভাবে অবস্থান করবে, যেন সূর্যের ডিস্কটিকে আড়াল করে দ্বিতীয় স্যাটেলাইটের ওপর একটি ছায়া পড়ে। ঠিক যেমন গ্রহণের সময় চাঁদ পৃথিবীর পৃষ্ঠের ওপরে একটি ছায়া তৈরি করে। তৈরি হবে কৃত্রিম গ্রহণ। এটি কেবল পার্শ্ববর্তী করোনা অংশ পর্যবেক্ষণ করবে এবং অন্য স্যাটেলাইটকে করোনার অঞ্চলের ভেতরের অংশের ছবি তুলতে সাহায্য করবে। ইসার মতে, সূর্যের আলো যদি আটকানো না হয়, তাহলে এই আলোয় যেকোনো পর্যবেক্ষণ টেলিস্কোপই অস্পষ্ট বা আলোহীন হয়ে যাবে এবং করোনা দেখতে পারবে না। করোনার অঞ্চলের ভেতরের অংশের সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্যের ছবি তোলা শেষ হয়ে গেলে, অপারেশন প্রকৌশলীরা স্ট্যাক আলাদা করার জন্য একটি কমান্ড পাঠাবেন। সংস্থাটির মতে, সৌর করোনা সম্পর্কে জানা গেলে, এটি বিজ্ঞানীদের সৌর আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিতে সাহায্য করবে। 
রয়েল অবজারভেটরি অব বেলজিয়ামের একজন জ্যৈষ্ঠ বিজ্ঞানী আন্দ্রেই ঝুকভ বলেন, ‘এটি সূর্যে বাতাসের উৎপত্তি মতো বিভিন্ন বিষয় বুঝতে সাহায্য করবে। এখনো বেশ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি, বিশেষ করে ধীর গতির বাতাস সম্পর্কিত প্রশ্নগুলো।’

তিনি আরও বলেন, ‘ধীর গতির বাতাস পরিবর্তনশীল এবং সব সময় বিবর্তিত হচ্ছে, এটা সমজাতীয় বা অভিন্ন নয়। তাই এটি এখনো স্পষ্ট নয়, এটি কোথা থেকে আসে।’ বর্তমানে স্যাটেলাইট দুটি বেলজিয়ামে চূড়ান্ত সংযোজনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। সেখান থেকে এগুলো আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতে আনা হবে। ভারতের সতিশ ধাওয়ান স্পেস রিসার্চ সেন্টার থেকে পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকেল (পিএসএলভি) রকেটের মাধ্যমে এই মিশনের মহাকাশযান মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হবে। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি জানিয়েছে, এই দুটি স্যাটেলাইট দ্বারা তৈরি সূর্যগ্রহণ পৃথিবী থেকে দেখা যাবে না।

ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির প্রোবা-২ মিশন ইতোমধ্যে মহাকাশে পরিচালনা করছে। চলতি মাসে হওয়া সূর্যগ্রহণ প্রোবা-২-এর মাধ্যমে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। সূর্যের দুই ধরনের ছবি তুলে পাঠিয়েছে ওই মহাকাশযান। এবার সেই প্রোবা সিরিজের তৃতীয় মিশন সম্পন্ন করতে চলেছে সংস্থা দুটি। সূত্র: ইউরেনিউজ

জাহ্নবী

মঙ্গল গ্রহের নমুনা পৃথিবীতে আনতে নাসার নতুন পরিকল্পনা

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৫৯ পিএম
মঙ্গল গ্রহের নমুনা পৃথিবীতে আনতে নাসার নতুন পরিকল্পনা

মঙ্গল গ্রহের নমুনা পৃথিবীতে আনার প্রকল্পটি জটিল ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। গ্রহটির বেশ কিছু নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, যা কন্টেইনারে ভরে রাখা হয়েছে মঙ্গলের মাটিতেই।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে লাল গ্রহটির নমুনা পৃথিবীতে আনার কথা থাকলেও নতুন হিসাব অনুসারে ২০৪০ সালের আগে তা করা সম্ভব হবে না। আবার এর জন্য খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে।

২০২০ সালে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা মঙ্গলের নমুনা সংগ্রহের জন্য পারসিভিয়ারেন্স রোভার পাঠায়। মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটির পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সালে রোভারটি মঙ্গলের জেজেরো কার্টারে সফলভাবে অবতরণ করে। সেই  সঙ্গে রোভারটি সফলভাবে নমুনা সংগ্রহও করেছে। পারসিভিয়ারেন্স মঙ্গল গ্রহের নমুনা সংগ্রহ করে ২৪টি ছোট কন্টেইনার পূর্ণ করেছে। এ পর্যন্ত সব পরিকল্পনামতোই চলেছে। এবার মঙ্গল গ্রহের সংগৃহীত নমুনা পৃথিবীতে আনার পালা। জটিলতা শুরু হয়েছে এখানেই।

প্রথমে এই মিশনের ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৪০ কোটি মার্কিন ডলার। এই খরচের মধ্যে ছিল মঙ্গলের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরে গবেষণার জন্য পৃথিবীতে আনা। প্রাথমিকভাবে ২০৩০ সালের মধ্যে এই নমুনা পৃথিবীতে নিয়ে আসার কথা থাকলেও, পরবর্তীতে এই সময়সীমা বেড়ে দাঁড়ায় ২০৩৩ সালে।  তবে এখন নাসা হিসাব করে দেখেছে, ২০৪০ সালের আগে মঙ্গল থেকে নমুনা আনা সম্ভব হবে না। এদিকে এই মিশনের সম্ভাব্য ব্যয় আগের থেকে বেড়ে ১ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার হয়েছে।

চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল নাসার প্রধান বিল নেলসন বলেছেন, ‘এ মিশনের জন্য ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার অনেক বেশি। তা ছাড়া আমাদের লক্ষ্য ২০৪০ সালের মধ্যে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানো। সেখানে এ সময়ের মধ্যে শুধু নমুনা নিয়ে আসা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই অন্য পরিকল্পনা করতে হবে।’

নাসার বর্তমান পরিকল্পনা অনুসারে, ইউরোপীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসার সহযোগিতায় মঙ্গল গ্রহের দিকে একই সঙ্গে দুটি রকেট উৎক্ষেপণ করা হবে। একটি বহন করবে ল্যান্ডার, অন্যটি অরবিটার। ল্যান্ডারটি মঙ্গলে নেমে পারসিভিয়ারেন্সের সংগৃহীত নমুনাগুলো সংগ্রহ করবে এবং অরবিটারে পাঠাবে। অরবিটার নমুনাগুলো পৃথিবীতে নিয়ে আসবে। তবে এতসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে খরচ হবে বিপুল পরিমাণ অর্থ, আর প্রয়োজন হবে দীর্ঘ সময়ের। তাই নতুন পরিকল্পনা করছে নাসা।

এই সমস্যা সমাধানের জন্য নাসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাহায্য চাইছে। চলতি বছর ১৭ মে-এর মধ্যে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবেদন করতে হবে। নাসা ৯০ দিনের মধ্যে বাছাইকৃত প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম ঘোষণা করবে। সম্ভাব্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে স্পেসএক্স, বোয়িং, লকহিড মার্টিন ও নর্থরোপ গ্রুম্যান। নাসা আশা করছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারির মাধ্যমে খরচ কমিয়ে ও দ্রুত মঙ্গল গ্রহের নমুনা আনা যাবে পৃথিবীতে। নাসা ২০২৪ সালের মধ্যে বেসরকারি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা করছে। তবে পৃথিবীতে লাল গ্রহটির নমুনা আনার জন্য নাসার কাছে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই।

এ,জে/জাহ্নবী

চাঁদের মাটিতে গাছ লাগাবে নাসা

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৪, ১১:২৫ এএম
চাঁদের মাটিতে গাছ লাগাবে নাসা

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা চাঁদের মাটিতে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করেছে। আগামী ২০২৬ সালে নাসার পরিচালিত সম্ভাব্য আর্টেমিস-৩ মিশনে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। এই মিশনে চাঁদের পৃষ্ঠে নভোচারীদের সহায়তায় তিনটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। এর মধ্যে রয়েছে লুনার ইফেক্টস অন অ্যাগ্রিকালচার ফ্লোরা (এলইএএফ) বা লিফ। এ গবেষণার মাধ্যমে চাঁদের মতো স্থানে ফসলের অবস্থা কেমন হতে পারে তা পরীক্ষা করা হবে।

গত ২৬ মার্চে এক বিবৃতিতে আর্টেমিস-৩ মিশনের জন্য নির্ধারণ করা তিনটি পরীক্ষার বিষয়ে জানানো হয়েছে নাসার পক্ষ থেকে। মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটির এক কর্মকর্তা জানান, মহাকাশ বিকিরণ ও আংশিক মধ্যাকর্ষণ চাপে উদ্ভিদের সালোক সংশ্লেষণ, বৃদ্ধি এবং কীভাবে সাড়া দেয় তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো চাঁদে একটি ক্ষুদ্র গ্রিন হাউস স্থাপন করবেন নভোচারীরা। সব পরিকল্পনা ঠিক থাকলে আর্টেমিস-৩ মিশনে চাঁদে গ্রিন হাউস স্থাপন করা হবে।

প্রতীকী ছবি

নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশের তথ্যসহ পরিবেশগত প্যারামিটার থেকে বিজ্ঞানীরা চাঁদ ও চাঁদের বাইরে মানুষের পুষ্টি এবং জীবন ধারণের জন্য চাঁদে জন্মানো উদ্ভিদের ব্যবহার বুঝতে সক্ষম হবে। সম্ভাব্য আর্টেমিস-৩ মিশনে চাঁদের পৃষ্ঠে নভোচারীদের পাঠানোর জন্য বাছাই করা বিজ্ঞানভিত্তিক যন্ত্রের প্রথম সেট দেখিয়েছে নাসা। এর লক্ষ্য চাঁদ সম্পর্কে মানুষের বোঝাপড়ার পরিসর আরও বাড়ানো। পাশাপাশি ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে বিভিন্ন ক্রু মিশনের প্রস্তুতি নেওয়া।

এ মিশনের লক্ষ্য প্রথমবারের মতো চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নভোচারীদের পাঠানো। বিজ্ঞানবিষয়ক ওয়েবসাইট স্পেসএক্সপ্লোরড এটিকে পৃথিবীর বাইরে মানুষের টেকসই উপস্থিতির বড় একটি পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এ মিশনের জন্য বাছাই করা বিভিন্ন যন্ত্র, চাঁদের পরিবেশ, চাঁদের ভেতর কী আছে ও চাঁদে দীর্ঘকাল ধরে মানুষের বসবাসের কার্যকারিতা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবে।

এর আগে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে রোবোটিক চ্যাং ই ৪ মিশনের মাধ্যমে চাঁদের অন্ধকার অংশে তুলা গাছ পাঠিয়েছিল। এ মিশনের উদ্দেশ্য বাছাই করা ‘পেলোড’ প্যাকেজে তিনটি অত্যাধুনিক যন্ত্র রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড বাল্টিমোর কাউন্টির বিজ্ঞানী ড. মেহেদি বেন্নার নেতৃত্বে লুনার এনভায়রনমেন্ট মনিটরিং স্টেশন (এলইএমএস) নামের একটি সিসমোমিটার স্যুট তৈরি করা, যা চন্দ্রপৃষ্ঠের কম্পন নিরীক্ষণ ও চাঁদের কাঠামোগত গঠনে তথ্য সংগ্রহ করবে। এলইএমএস হলো একটি স্বাধীন সিসমোমিটারের স্যুট। এটি স্থাপনের পর দুই বছর পর্যন্ত চাঁদের কম্পন অনুসন্ধান করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের গবেষণা সংস্থা স্পেস ল্যাব টেকনোলজিস, এলএলসির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস্টিন এসকোবারে নেতৃত্ব লুনার ইফেক্টস অন এগ্রিকালচারাল ফ্লোরা (এলইএএফ) পরীক্ষার নকশা তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মহাকাশে ফসল ফলানোর উদ্দেশ্যে চাঁদের পরিবেশগত সম্ভাবনা খুঁজে দেখা হবে।

তৃতীয় যন্ত্রটি হলো লুনার ডাইলেকট্রিক অ্যানালাইজার (এলডিএ)। এটির নেতৃত্বে আছেন ইউনিভার্সিটি অব টোকিওর অধ্যাপক ড. হিদাকি মিয়ামোতোর। আর এর সহযোগী সংস্থা হিসেবে কাজ করছে জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সি (জাক্সা)।

এলডিএ চাঁদের রেগোলিথ পরিমাপ করবে একটি বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র তৈরি করার উদ্দেশ্যে। রেগোলিথ হচ্ছে পুরু স্তরের খণ্ডিত ও বিক্ষিপ্ত শিলা উপাদান, যা চাঁদের সম্পূর্ণ পৃষ্ঠকে ঢেকে রেখেছে। এলডিএ চাঁদের পৃষ্ঠতলের গঠন সম্পর্কেও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবে। এ ছাড়া চাঁদে বরফের মতো উদ্বায়ী বা পরিবর্তনশীল বস্তু শনাক্তকরণের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ গবেষণা, যা চাঁদের সম্ভাব্য বিভিন্ন উপাদান সম্পর্কে তথ্য দেবে নভোচারীদের।

আর্টেমিস ৩ মিশনের মাধ্যমে চাঁদে লিফ, এলইএমএস এবং এলডিএ গবেষণা চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্র পাঠানোর পরিকল্পনা থাকলেও নাসা এটি এখনো নিশ্চিত করেনি। আর্টেমিস-৩ এর ক্রু কারা হবেন সেটির ঘোষণাও এখনো দেওয়া হয়নি। তবে নাসার প্রথমবারের মতো চাঁদে একজন নারী ও একজন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

আর্টেমিস-৩ মিশনের মাধ্যমে ১৯৭২ সালের পর প্রথমবারের মতো মানুষ চাঁদে অবতরণ করবে। ২০২৫ সালে আর্টেমিস-২ মিশনে চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করার জন্য নভোচারী পাঠানো হবে। এদিকে আর্টেমিস-১-এর মাধ্যমে ২০২২ সালে নভোচারী ছাড়াই একটি সফল মিশন সম্পন্ন করেছে নাসা।

এ.জে/জাহ্নবী