ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
মাতামুহুরীতে ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সহোদরের মৃত্যু জাপানে ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্প শক্তিশালী এল নিনোর আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ ‘প্রাকৃতিক সুস্থতার জন্য হিজামা একটি অনন্য সুন্নত’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবিক নেতায় পরিণত হয়েছেন: এমপি ফখরুল স্বাধীন সাংবাদিকতায় অপতথ্য ও গুজব বড় চ্যালেঞ্জ: প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এআই দিয়ে প্রবেশপত্র তৈরি, পরীক্ষার্থীসহ সহযোগীকে অর্থদণ্ড চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার পেলেন ৬ লেখক নিয়োগ দেবে এসএমসি, রয়েছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা মতলবে ছেলের হাতে মা খুন প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় আটক যুবদল নেতা বহিষ্কার আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন রিয়াদ মাহরেজ জার্মানি-নাগেলসম্যানের বিচ্ছেদ! থাইল্যান্ডে ধর্মীয় শোভাযাত্রা দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ সাদাপাথরে নিখোঁজ চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার পাকিস্তানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত অন্তত ৪০ জাল যার-জল তার‌: প্রতিমন্ত্রী টুকু র‌্যাগিংয়ের দায়ে হাবিপ্রবির ৭২ শিক্ষার্থীকে শোকজ ফুটবলের উৎপত্তি প্রসঙ্গে আলাস্কার পাগল স্ল্যাকে১ ফুটবল খেলা চলছে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় ব্লু কার্বন ফাইন্যান্স জরুরি: পরিবেশমন্ত্রী টেড হিউজ ও মিরোস্লাভ হোলুবের কবিতা কৌতুকপ্রিয়তা আর সমাজ-নিরীক্ষণ প্রতিবন্ধীদের জন্য ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালু করবে সরকার: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী গ্রামে আমাদের বিশেষ আকর্ষণ ছিল পদ্মার নৌকাভ্রমণ খামেনির মরদেহ নেওয়া হয়েছে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া দেশে বন্যা হতে পারে জুলাই-আগস্টে: এফএফডব্লিউসি ‘আত্মতুষ্টি আপনাকে শেষ করে দিতে পারে’, অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে দেওয়ার পর স্পেন কোচ

আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলার রায় আগামী ১৫ তারিখের মধ্যে হতে পারে

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:৫৩ পিএম
আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলার রায় আগামী ১৫ তারিখের মধ্যে হতে পারে
ছবি: খবরের কাগজ

মাগুরায় শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় আগামী মাসের ১৫ তারিখে হতে পারে বলে জানিয়েছেন রাষ্টপক্ষের আইনজীবী মনিরুল ইসলাম মুকুল। 

বুধবার (৩০ এপ্রিল) চতুর্থ দিনের মতো মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদেরকে এ তথ্য জানান তিনি। 

এর আগে সকাল ১০টার পরে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আসামিদের হাজির করা হয়।

আদালতে হাজির হওয়ার সময় হিটু শেখ সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নাই। আমার বিটার বউরে (ছেলের স্ত্রী) ধরেন সঠিক তথ্য পেয়ে যাবেন। সে টিকটক করে, তারে ধরেন।’ 

গত রবিবার (২৭ এপ্রিল) থেকে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রথম দিনে তিনজন, দ্বিতীয় দিনে তিনজন, তৃতীয় দিনে ১০ জন ও আজ (বুধবার) তিনজন চিকিৎসকের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। এ নিয়ে চারদিনে ১৯ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হলো। 

মামলার শুরু থেকে আসাসি পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকলেও গত রবিবার লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আসামিদের আবেদনের প্রেক্ষিতে অ্যাডভোকেট সোহেল আহমেদকে নিয়োগ দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে মামলার বাদিসহ ৩৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হবে বলে জানা যায়। 

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলায় শিশুটির বোনের শ্বশুরকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯/২ ধারায় (ধর্ষণের ফলে মৃত্যুর অপরাধ), শিশুটির বোনের স্বামী ও ভাশুরকে দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারার দ্বিতীয় অংশ (ভয়ভীতি প্রদর্শন) এবং বোনের শাশুড়ির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় (অপরাধের আলামত নষ্টের অভিযোগ) অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। 

রাষ্টপক্ষের আইনজীবী মনিরুল বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর এ মামলার চতুর্থ দিনের মতো আজ সাক্ষ্যগ্রহণ করা হলো। আজ মেডিকেল এক্সপার্ট তিনজন চিকিৎসককে সাক্ষ্য নেওয়ার জন্য হাজির করা হয়েছিল। তারা তাদের সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী তাদেরকে জেরা করেছেন। পরে আগামী ৪ মে বিজ্ঞ আদালত বাকি সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ করে এ মামলার একটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার করতে পারব।’

আদালতে আসামিরা নিজেদেরকে নির্দোষ দাবি করছে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আসামি যে পাগলের প্রলাপ করছে এ বিষয়ে আমার মন্তব্য করার সুযোগ নেই। কারণ সে যখন দেখছে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে, ভেতরে ভীতি কাজ করার কারণেই সে পাগলের মত আবোল-তাবোল বলছে।’ 

মামলার রায় আনুমানিক কত দিনের মধ্যে হতে পারে এমন প্রশ্নে আইনজীবী মনিরুল বলেন, ‘আমরা আশা করছি, যদি সবকিছু ঠিক থাকে আগামী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে মামলার রায় হবে বলে আপনাদেরকে জানাতে পারি। আশা করছি, ১৫ তারিখের মধ্যে রায় সম্পন্ন হবে।’

গত ৬ মার্চ মাগুরা সদরের নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের বাড়িতে বেড়াতে গেলে শিশু আছিয়াকে বোনের শ্বশুর হিটু শেখ ধর্ষণ করে হত্যার চেষ্টা করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা যায় শিশুটি। এ ঘটনায় আছিয়ার মা আয়েশা আক্তার বাদী হয়ে মামলা করেন। এ মামলায় ১৩ এপ্রিল পুলিশ চার্জশিট দাখিল করে। পরে ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে বিচারকাজ শুরু হয়।

শ্রাবন/পপি/

দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যা, স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যা, স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত

দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যার পর ছয় টুকরো করে লাশ গুমের অভিযোগে ফাতেমা বেগম শিল্পীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকার ১৬তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নাজমুন নাহার নিপু এ রায় দেন।

হত্যার দায়ে আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া লাশ গুমের দায়ে সাত বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তাকে তিন মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। রায়ের পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আদালতের অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর খন্দকার শফি নেওয়াজ নাসির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, বিচার চলাকালে ২৬ জনের মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ১২ মার্চ মামলায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়। ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক কাজী শরীফুল ইসলাম ফাতেমার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৩০ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের আমতলী এলাকায় একটা নীল রঙের ড্রামের মধ্যে বনানী থানা-পুলিশ এক ব্যক্তির মস্তকবিহীন দেহ উদ্ধার করে। একই দিন রাত ১১টার পর মহাখালী বাস টার্মিনালের এনা কাউন্টারের কাছে একটা ব্যাগের মধ্যে উরু থেকে খণ্ডিত দুইটি পা এবং কাঁধ থেকে খণ্ডিত দুইটি হাতের অংশ উদ্ধার করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা-পুলিশ। দুই দিনে আলাদা আলাদা স্থান থেকে লাশের ছয় টুকরো উদ্ধার করা হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তৎপরতায় ১২ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার হয় ফাতেমা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে পুলিশকে জানায়, পারিবারিক কলহ, টাকা-পয়সা বণ্টন ও একাধিক বিয়েকে কেন্দ্র করে ময়না মিয়া ওরফে শাকিলের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়। এক পর্যায়ে পরিকল্পনা করে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে নিস্তেজ করে। জবাইয়ের পর দেহকে ছয়টি টুকরো করে।

লাল রঙের একটি কাপড়ের ব্যাগে মাথা, শরীরের মূল অংশ নীল রঙের পানির ড্রামে এবং খণ্ডিত দুই পা ও দুই হাতকে একটি বড় কাপড়ের ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখে। এরপর ১ হাজার ৩০০  টাকায় রিকশা ভাড়া করে প্রথমে আমতলী এলাকায় শরীরের মূল অংশ ফেলে দেয়, পরে মহাখালী এনা বাস কাউন্টারের সামনে খণ্ডিত দুই হাত, দুই পা ভর্তি ব্যাগ রেখে বাসায় আসে। সেখান থেকে খণ্ডিত মস্তকের ব্যাগটি বনানী ১১ নম্বর ব্রিজের পূর্ব পাশ থেকে গুলশান লেকে ফেলে দেয়।

পরে আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় ফাতেমা।

নিহত ময়না মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী নাসরিন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ১ জুন মামলা করেন।

এম এ জলিল উজ্জ্বলে/এএফ

ময়মনসিংহে শিক্ষার্থী হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম
ময়মনসিংহে শিক্ষার্থী হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহে প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈকত হাসান আকাশ হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও দুই আসামিকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১-এর বিচারক মো. শামছউদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।

ময়মনসিংহের আদালত পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান বলেন, রায়ে এনামুল হক ও নাজমুল হককে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে এনামুল হক পলাতক। এ ছাড়া জিয়াউল হক ও জুলহাস উদ্দিনকে সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার অষ্টধার উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈকত হাসান আকাশের সঙ্গে একই এলাকার জিয়াউল হকের মেয়ে জেসমিন আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে জিয়াউল হক সম্পর্কটি মেনে নিতে না পেরে পরিকল্পিতভাবে আকাশকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন।

২০২১ সালের ১৯ মে রাতে জেসমিন আক্তার মোবাইল ফোনে আকাশকে তাদের বাড়িতে দেখা করতে ডাকেন। আকাশ বন্ধু রাশিদুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। এরপর তিনি আর বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। দুই দিন পর স্থানীয় লোকজন জেসমিনদের বাড়ির পাশের একটি বাঁশঝাড়ে টয়লেটের সামনে আবর্জনা ফেলার গর্তে মাটির সঙ্গে রক্তের চিহ্ন দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি খুঁড়ে পচাগলা ও গলাকাটা অবস্থায় একটি মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আকাশের বাবা আকরাম হোসেন মরদেহটি তার ছেলের বলে শনাক্ত করেন।

ঘটনার পরদিন ২২ মে আকাশের বাবা আকরাম হোসেন কোতোয়ালী মডেল থানায় জিয়াউল হক, জুলহাস উদ্দিন, এনামুল হক, নাজমুল হক, নেজামুল হক, রুমান, হযরত আলী, আনিছ, আব্দুল লতিফ, অজুফা, রুজিনা, নার্গিস, রাহাতুল জান্নাত ও জেসমিন আক্তারসহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ, প্রমাণ উপস্থাপন এবং বিচারিক পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

কামরুজ্জামান মিন্টু/আজহার/

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে জটিলতা কাটল

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:৫০ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:১৪ এএম
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে জটিলতা কাটল

দেশের ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর কোনো আইনি বাধা রইল না। 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রধান শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত একটি মামলার বিষয়ে আপিল বিভাগ এই রায় দিয়েছেন।

এর আগে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছিলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের সংকট দূর করতে ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে আটকে রয়েছে। এই জটিলতা নিরসনে সরকার কাজ করছে।

অমিয়/

সিলেটে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ: ১৪ বছর পর দুজনের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:০৫ এএম
সিলেটে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ: ১৪ বছর পর দুজনের মৃত্যুদণ্ড
সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালত

সিলেটে নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনার প্রায় ১৪ বছর পর মামলার রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্তদের ১ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার সিলেট শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক বেগম রুবাইয়া ইয়াসমিন এ রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন সিলেটের বিশ্বনাথের শাহবাজপুর গ্রামের মো. জয়নাল ও কাদিরগাঁও গ্রামের মো. নাজিমুদ্দিন। এর মধ্যে জয়নাল ধর্ষিত স্কুলছাত্রীর মামাতো ভাই।

সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি নুর আহমদ জানিয়েছেন, রায় প্রদানের সময় আদালত কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে আদালতের এ রায় সময়োপযোগী। বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত হলেও প্রত্যাশিত রায় হয়েছে। এ ধরনের রায় সমাজে অপরাধপ্রবণ ও দুষ্কৃতকারীদের জন্য কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর বিশ্বনাথের ওই সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী নানাবাড়ি গিয়েছিল। সেখানে জয়নাল ও নাজিমুদ্দিন তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে একটি কক্ষে রেখে অন্য কক্ষে গেলে জয়নালের ব্যবহৃত মুঠোফোন থেকে পরিবারে খবর দেয় স্কুলছাত্রী। খবর পেয়ে স্কুলছাত্রীর মা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।

ঘটনার পরদিনই স্কুলছাত্রীকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়। পরে এ ঘটনায় বিশ্বনাথ থানায় দুজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন স্কুলছাত্রীর বাবা। 

পরবর্তী সময়ে ২০১৩ সালের ৪ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে গতকাল আদালতে এ রায় দেন। মামলায় ১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।

দুর্নীতির মামলায় বেনজীরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন ছয়জন

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
দুর্নীতির মামলায় বেনজীরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন ছয়জন
সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদে। ছবি: সংগৃহীত

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পলাতক পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আরও ছয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ পঞ্চম আদালতে বিচারাধীন এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিলো।

সংশ্লিষ্ট বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। আগামি ১৬ জুলাই পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা রেজিস্ট্রার মো.আব্দুল হাফিজ, চাঁদপুর হাজীগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রার এস এম মোস্তাফিজুর রহমান, নওগা মহাদেবপুরের সাব-রেজিস্টার মো. রফিকুল ইসলাম, ভোলা চরফ্যাশনের সাব-রেজিস্ট্রার কাওসার খান, বন অধিদফতরের উপপরিচালক মো. আব্দুস সালাম, বাড্ডার সাব রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম।

দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম জানান, চার্জশিটভুক্ত ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। আসামি পলাতক থাকায় তার পক্ষে সাক্ষিদের জেরা করার আইনগত সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।

গত ১৩ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এর আগে ৩ মে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

বেনজীরের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত এগারো কোটি টাকার সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থপাচারের অভিযোগে গত বছরের ৩০ নভেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম।

চার্জশিটে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন।

তবে তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। এতে মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে। বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে বেনজীর আহমেদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেন।

বেনজীর আহমেদ এসব অর্থের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন।

২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর এ মামলাটি দায়ের করে দুদক।

প্রসঙ্গত, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর দায়ের করা বেশ কয়েকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের জারি করা রেড নোটিশের প্রেক্ষিতে গত ১২ জুন ইন্টারপোলের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) বাংলাদেশ সরকারকে ইমেইল করে বেনজীরের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে।‌

কুটনৈতিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দ্রুতই তাকে দেশে ফেরত আনা সম্ভব হবে বলে গত ২৩ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

বেনজির ও তার স্ত্রী-কন্যাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়াসহ নামে-বেনামে দেশে-বিদেশে থাকা সমস্ত স্থাবর অস্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হয়। জব্দ করা হয়েছে তাদের আয়কর নথিও।

গত বছরের ৪ মে সপরিবার দেশ ছাড়া বেনজীরের দুবাইয়ে আবাসন ও সোনার ব্যবসায় বিনিয়োগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়।

এম এ জলিল উজ্জ্বল/এএফ