মাগুরায় শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় আগামী মাসের ১৫ তারিখে হতে পারে বলে জানিয়েছেন রাষ্টপক্ষের আইনজীবী মনিরুল ইসলাম মুকুল।
বুধবার (৩০ এপ্রিল) চতুর্থ দিনের মতো মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদেরকে এ তথ্য জানান তিনি।
এর আগে সকাল ১০টার পরে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আসামিদের হাজির করা হয়।
আদালতে হাজির হওয়ার সময় হিটু শেখ সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নাই। আমার বিটার বউরে (ছেলের স্ত্রী) ধরেন সঠিক তথ্য পেয়ে যাবেন। সে টিকটক করে, তারে ধরেন।’
গত রবিবার (২৭ এপ্রিল) থেকে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রথম দিনে তিনজন, দ্বিতীয় দিনে তিনজন, তৃতীয় দিনে ১০ জন ও আজ (বুধবার) তিনজন চিকিৎসকের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। এ নিয়ে চারদিনে ১৯ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হলো।
মামলার শুরু থেকে আসাসি পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকলেও গত রবিবার লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আসামিদের আবেদনের প্রেক্ষিতে অ্যাডভোকেট সোহেল আহমেদকে নিয়োগ দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে মামলার বাদিসহ ৩৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হবে বলে জানা যায়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলায় শিশুটির বোনের শ্বশুরকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯/২ ধারায় (ধর্ষণের ফলে মৃত্যুর অপরাধ), শিশুটির বোনের স্বামী ও ভাশুরকে দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারার দ্বিতীয় অংশ (ভয়ভীতি প্রদর্শন) এবং বোনের শাশুড়ির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় (অপরাধের আলামত নষ্টের অভিযোগ) অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
রাষ্টপক্ষের আইনজীবী মনিরুল বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর এ মামলার চতুর্থ দিনের মতো আজ সাক্ষ্যগ্রহণ করা হলো। আজ মেডিকেল এক্সপার্ট তিনজন চিকিৎসককে সাক্ষ্য নেওয়ার জন্য হাজির করা হয়েছিল। তারা তাদের সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী তাদেরকে জেরা করেছেন। পরে আগামী ৪ মে বিজ্ঞ আদালত বাকি সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ করে এ মামলার একটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার করতে পারব।’
আদালতে আসামিরা নিজেদেরকে নির্দোষ দাবি করছে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আসামি যে পাগলের প্রলাপ করছে এ বিষয়ে আমার মন্তব্য করার সুযোগ নেই। কারণ সে যখন দেখছে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে, ভেতরে ভীতি কাজ করার কারণেই সে পাগলের মত আবোল-তাবোল বলছে।’
মামলার রায় আনুমানিক কত দিনের মধ্যে হতে পারে এমন প্রশ্নে আইনজীবী মনিরুল বলেন, ‘আমরা আশা করছি, যদি সবকিছু ঠিক থাকে আগামী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে মামলার রায় হবে বলে আপনাদেরকে জানাতে পারি। আশা করছি, ১৫ তারিখের মধ্যে রায় সম্পন্ন হবে।’
গত ৬ মার্চ মাগুরা সদরের নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের বাড়িতে বেড়াতে গেলে শিশু আছিয়াকে বোনের শ্বশুর হিটু শেখ ধর্ষণ করে হত্যার চেষ্টা করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা যায় শিশুটি। এ ঘটনায় আছিয়ার মা আয়েশা আক্তার বাদী হয়ে মামলা করেন। এ মামলায় ১৩ এপ্রিল পুলিশ চার্জশিট দাখিল করে। পরে ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে বিচারকাজ শুরু হয়।
শ্রাবন/পপি/