সামাজিক অপরাধের পরিসীমা বিস্তৃত হচ্ছে । খবরের কাগজ
ঢাকা ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

সামাজিক অপরাধের পরিসীমা বিস্তৃত হচ্ছে

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ১১:০৭ এএম
সামাজিক অপরাধের পরিসীমা বিস্তৃত হচ্ছে
মো. সাখাওয়াত হোসেন

মিস্টার রহমান সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে শহরে ২-৩ শতাংশ জায়গা কিনে একটি বাড়ি বানানোর লক্ষ্যে কাজ শুরু করেন। জমির রেজিস্ট্রি পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল, কিন্তু জমি দখল করতে গিয়ে তিনি বেকায়দায় পড়লেন। এলাকার উঠতি বয়সী ছেলেরা এসে বাধা দিল, তারা মহল্লায় নতুন একজনকে জমি দখল করতে দেবে না। উপায়ান্তর না দেখে এলাকার একজন রাজনৈতিক নেতার মধ্যস্থতায় তিনি ছেলেদের সঙ্গে কথা বললেন। রাজনৈতিক নেতার ভাষ্য ছিল, ছেলেদের খুশি করে জায়গা দখলে নিয়ে নিন এবং এটাই এখন অঘোষিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বাধ্য হয়ে রহমান সাহেব ছেলেদের ভালো অঙ্কের উৎকোচ দিয়ে জমি দখলে নেন। পরিস্থিতি এবং বাস্তবতার মিশেলে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারস্থ না হয়ে প্রচলিত নিয়মেই উদ্ভূত সমস্যার সমাধান করেন। 

একটি প্রতিষ্ঠিত ডেভেলপার কোম্পানি বিভাগীয় শহরে ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্দেশ্যে জমি ক্রয় করে এবং নিয়মমাফিক জমি দখলও করে। কিন্তু জমি পাইলিং করার সময় বিপত্তি দেখা দেয়। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে মালিকপক্ষের কাছে হুমকি আসতে শুরু করে এবং কয়েকটি সংঘবদ্ধ গ্রুপ এসে কাজ বন্ধ করতে বাধার সৃষ্টি করে। পরবর্তী সময়ে একই কায়দায় (পূর্বে উল্লিখিত) মালিকপক্ষকে মধ্যস্থতা করতে হয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে। এই প্রভাবশালীরা কিন্তু ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে, সরকার পরিবর্তিত হলেও তাদের প্রভাবের কোনো পরিবর্তন হয় না। এই প্রভাবশালীরা মেকানিজম করে সর্বসময় আধিপত্য ধরে রাখার চেষ্টা করে। বড় বড় শহরে যারা ফ্ল্যাট ব্যবসার কাজে যুক্ত, তারা নির্মাণকাজ শুরুর আগেই প্রভাবশালীদের খুশি করেই কাজ শুরু করে থাকে। এই যে প্রভাবশালীদের খুশি করতে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করতে হয়, সেই খরচের রেশ কিন্তু সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বর্তায়, ফ্ল্যাটের দাম বেড়ে যায়। উল্লিখিত দুটি ঘটনাই সামাজিক অপরাধের প্রকৃষ্ট উদাহরণ এবং এ ধরনের অসংখ্য সামাজিক অপরাধের চিত্র সমাজব্যবস্থায় আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রয়েছে। 

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে এবং সমাজ ক্রমান্বয়ে আরও পরিবর্তিত হবে। সমাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে পরিবর্তনশীলতা। এই পরিবর্তনশীলতাকে ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। কেননা পৃথিবী প্রতিনিয়ত অগ্রগামী এবং অগ্রগামী পৃথিবীর ধারায় আলোকিত ও কল্যাণকর পৃথিবী নির্মাণে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে ভবিষ্যতের স্বার্থে। সে জায়গায় যদি সমাজকে সঠিকভাবে বিনির্মাণে ব্যর্থ হতে হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ পৃথিবী নিয়ে দুশ্চিন্তা ও আতঙ্কের শেষ থাকবে না। বাংলাদেশে শহর এবং গ্রামে উভয় জায়গাতেই সামাজিক অপরাধের প্রকৃতি পরিবর্তিত হচ্ছে এবং সামাজিক অপরাধের সংখ্যাও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটি সমাজ নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়। কাঠামোবদ্ধ সমাজই মূলত একটি সমাজকে স্থিতিশীল ও ইতিবাচক গতির মধ্যে রাখে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত নিয়মনীতির মধ্য দিয়ে যখন সমাজ সামনের দিকে অগ্রসর হয়, চলমান থাকে সেটি প্রকৃত অর্থে কাঠামোবদ্ধ সমাজের নিদর্শন। কাঠামোবদ্ধ সমাজের ধারাকে নস্যাৎ করার প্রক্রিয়া থেকেই সমাজবিরোধী অপকর্মগুলো সাম্প্রতিক সময়কালে ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। 

সমাজকে স্থিতিশীল রাখার তাগিদেই সমাজের মধ্যে সমাজসৃষ্ট অনুশাসন, রীতিনীতি ও নিয়মকানুনের চর্চা অব্যাহত থাকে। এ চর্চাগুলো নানাবিধ কারণে অনুপস্থিত রয়েছে সমাজে। যে সুযোগটিকে কাজে লাগায় উঠতি বয়সী তরুণরা এবং এ তরুণদের নানাভাবে সমর্থন দিয়ে আসছে সমাজে প্রতিষ্ঠিত একটি মহল। শহরাঞ্চলে বহু আগেই সমাজ কাঠামোর পঠিত চর্চা অনুপস্থিত এবং গ্রামাঞ্চলে যৎসামান্য আকারে যতটুকু উপস্থিত ছিল সেটিও কালক্রমে বিলুপ্তির পথে চলে যাচ্ছে। এ অবস্থানের কারণেই মূলত সামাজিক অপরাধের পরিসীমা বিস্তৃত হচ্ছে। সামাজিক অপরাধ মূলত সেসব অপরাধ যা রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত অপরাধ নয়, কিন্তু সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে অপরাধ। সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচিত অপরাধে যাদের সংযুক্ততা পাওয়া যায় পরবর্তী সময়ে এ শ্রেণিটিই রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত অপরাধ কাঠামোতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর আবহ সৃষ্টি করে থাকে। 

Douglas and Waksler, সমাজচ্যুত আচরণগুলোকে একটি চিমনির (ফানেল) মধ্যে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন কারও আচরণ ভুল, অদ্ভুত এবং আশ্চর্য মনে হলে; কারও আচরণ অপছন্দ এবং অরুচির মনে হলে; কেউ মূল্যবোধ এবং নিয়মরীতির ব্যত্যয় ঘটালে; কারও দ্বারা নৈতিক মূল্যবোধ ও নৈতিক নিয়মের ব্যত্যয় হলে; নৈতিক বিচারের মানদণ্ডে কেউ মূল্যবোধ এবং নিয়মরীতির ব্যত্যয় ঘটালে; নৈতিক বিচারে নৈতিক মূল্যবোধ ও নৈতিক নিয়মের ব্যত্যয় হলে; মন্দ আচরণের মাধ্যমে আইনের ব্যত্যয় হলে; আইনকে পাশ কাটিয়ে গুরুতর অপরাধ সম্পন্ন করলে; ব্যক্তিত্বের মধ্যে মানবিক আচরণ অনুপস্থিত থাকা এবং সর্বশেষ কৃতকর্ম প্রকৃত অর্থেই অশুভ হলে উল্লিখিত বিষয়বাদি সমাজচ্যুত আচরণের অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের সমাজচ্যুত আচরণ যাদের চরিত্রে উপস্থিত তাদের মাধ্যমেই সামাজিক অপরাধ সংঘটন সম্ভব এবং সামাজিক অপরাধের প্রবণতা থেকেই মানুষের মধ্যে রাষ্ট্রীয় আইন ভাঙার সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।  

শহরে পরিবেশগত নিরাপদ ব্যবস্থার কারণে অনেক স্থানেই অপরাধের হারও স্থিতিশীল পর্যায়ে রয়েছে, তবে কিছু কিছু জায়গায় বিশেষ করে বস্তি ও তৎসংলগ্ন এলাকা, ভাসমান এলাকা, নদীবিধৌত এলাকা, শ্রমজীবী ও কর্মজীবীদের আবাসস্থল প্রভূত এলাকা ও অঞ্চলে সামাজিক অপরাধের ব্যাপকতা মারাত্মকভাবে পরিলক্ষিত হয়। গ্রামাঞ্চলে কার্ড খেলার নাম করে জুয়া খেলা, ক্যারম বোর্ডে জুয়ার আসর বসানো, বাজি ধরে দাবা খেলাসহ অপ্রদর্শিত সামাজিক নিয়মের ব্যত্যয় দেখা যায় সর্বস্ব। সমাজ যে কাঠামোর মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে সুদীর্ঘকাল ধরে সেটির ব্যত্যয়ের কারণেই সামাজিক অপরাধ পাল্লা দিয়ে বেড়েই চলছে। সমাজে একটি শৃঙ্খলা বজায় ছিল সব সময়, যেখানে সমাজের বয়োজ্যেষ্ঠ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সমাজকে সঠিক পথে পরিচালনার দায়িত্বে থাকতেন। কিন্তু কালের পরিবর্তনে শৃঙ্খল কাঠামোর বিপরীত আমরা একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছি। সমাজের বয়োজ্যেষ্ঠদের সমাজ পরিচালনায় এখন আর দেখা যায় না। কেননা সমাজের শৃঙ্খল পরিস্থিতিকে ভাঙার কারণেই মূলত গণ্যমান্য ও সম্মানিতরা নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। এমনও সময় ছিল পুরো ইউনিয়ন থেকে কোনো অভিযোগ নিকটস্থ থানায় দায়ের করা হতো না। তার মানে কি ওই ইউনিয়নে অনিয়ম বা অন্যায় সংঘটিত হতো না? অবশ্যই হতো কিন্তু সমাজের নিয়মকানুনের দায়বদ্ধতার কারণেই মূলত সামাজিক বিচারেই সমস্যাগুলো নিষ্পত্তি হয়ে যেত। বিচারে বাদী-বিবাদী দুই পক্ষের সুবিধা-অসুবিধা যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতো, যাতে বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষই লাভবান হয়। বর্তমান সমাজে এ শৃঙ্খল ব্যবস্থা অনেক সমাজেই বিলীন হয়ে গেছে, সামান্য একটি ঘটনা ঘটলে থানা-আদালত পর্যন্ত গড়ায় অভিযোগ হিসেবে। 

সামাজিক শৃঙ্খলব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় সারা দেশে কিশোর অপরাধের ব্যাপকতা দেখা যাচ্ছে। স্কুল-কলেজে দেখা যায়, ছেলেরা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বাইরে পিয়ার গ্রুপের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে অনিয়মের চর্চা করছে। আমাদের সমাজেই স্কুল চলাকালীন ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বাইরে আড্ডা দিয়ে সময় কাটানো একসময় অসম্ভব ছিল। কিন্তু সমাজ পরিবর্তিত হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা সমাজবিরোধী অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কিশোর অপরাধে সম্পৃক্ত হচ্ছে। অভিভাবকরাও এ বিষয়ে উদাসীন, স্কুল ফাঁকি দেওয়ায় তারা কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভর করছে। কিন্তু কোচিং সেন্টারের শিক্ষকরা আদৌ শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে? হয়তো পরীক্ষার ফলাফল ভালো করার ক্ষেত্রে তাদের একটি ভূমিকা রয়েছে। কোচিং সেন্টারে শৃঙ্খলার ব্যাপারটি অনুপস্থিত থাকে। কেননা শিক্ষার্থীরা মনে করে এখানে তারা টাকা দিয়ে সেবা গ্রহণ করছে। তৎপ্রেক্ষিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যকার শৃঙ্খলার যে বন্ধন সেটি পুরোপুরি রকমের অনুপস্থিত থাকে এবং শিক্ষক তার শিক্ষার্থীকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়। 

পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যায়, ইভ টিজিং, সেক্সুয়াল হ্যারেসমেন্ট, ব্ল্যাকমেলিং, বুলিং ইত্যাদি রকমের অপকর্ম স্কুলশিক্ষার্থীদের দ্বারা সম্পন্ন হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে সাধারণত শিক্ষকরা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে থাকেন; বিশেষ করে একজন শিক্ষকের মূল কাজ হচ্ছে শিক্ষার্থীর মেধা ও মননকে বিকশিত করার লক্ষ্যে অনুপ্রেরণা প্রদানের মধ্য দিয়ে উদ্ভাবনীমূলক কাজের অনুসন্ধানে সহযোগিতা করা। যেখানে শিক্ষার্থীর জন্য অবাধ সুযোগ এবং অবারিত দ্বার উন্মোচন করা থাকে এবং এ সুবিধাসমূহ পরিপক্ব আকারে নিজের জীবনে খাপ খাইয়ে নেওয়ার মানসে শিক্ষার্থীরা সামনের পথচলায় ইতিবাচকতাকে অনুসরণ করে থাকে। আমরা সবাই জানি, শিক্ষার্থীরা বিশেষ করে কিশোর শিক্ষার্থীরা অনুকরণপ্রিয়, ইতিবাচক কাজের অনুপ্রেরণা একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ পথচলাকে মসৃণ, সুন্দর ও উজ্জ্বল করবে। 

ওপরের আলোচনায় উল্লিখিত সব অপরাধই সামাজিক অপরাধ নয়, রাষ্ট্রীয় আইনে স্বীকৃত অপরাধও রয়েছে। তবে আলোচনায় নিয়ে আসার অন্যতম কারণ হলো, সব অপরাধ সামাজিকভাবেই নিষ্পত্তি হয়ে যেত এবং বাদী-বিবাদী দুই পক্ষই সামাজিকভাবে নিষ্পত্তিকৃত সালিশের মাধ্যমে উপকারভোগী হতো। এসবের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হলে কিংবা সুষ্ঠু সমাজব্যবস্থার হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনতে হলে সমাজকে ঢেলে সাজাতে হবে। সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিপূর্ণরূপে কার্যকর করতে হবে এবং সমাজ স্বীকৃত রীতি, নিয়ম, প্রথা, বিধিবিধানকে মেনে চলার যোগ্য নাগরিক তৈরি করতে পারলেই সামাজিক অপরাধের পরিধি ও ভয়াবহতাকে নিমেষেই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা সম্ভব। 

লেখক: সহকারী অধ্যাপক ও সভাপতি, ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগ, 
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

উত্তেজনা-অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হবে

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ১১:৩১ এএম
উত্তেজনা-অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হবে
মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার

দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা, সেটি এখনো পরিষ্কার না। এ জন্য অপেক্ষা করতে হবে। বর্তমানে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যে রকম সম্পর্ক, তাতে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা- মোসাদের প্রতি অনেকের সন্দেহ হতে পারে। কারণ মোসাদ বিভিন্ন সময়ে ইরানের রাজনীতিক, বিজ্ঞানী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের হত্যা করেছে। এর আগে সিরিয়ায় ইরানি কনস্যুলেটে হামলা চালিয়ে ইরানের ছয়-সাতজন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে। তাই মোসাদ জড়িত থাকতে পারে, এমন সন্দেহ করা অমূলক নয়। 

যদি ইরানের গোয়েন্দারা বুঝতে পারেন যে এটি নাশকতা, তাহলে তারা স্বাভাবিকভাবেই প্রতিশোধ নিতে চাইবে। সেটি হলে এই অঞ্চলে নিশ্চিতভাবে উত্তেজনা বাড়বে। সে ক্ষেত্রে ইরান পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নেবে। সেটি তারা কীভাবে নেবে, তা দেখার বিষয়। এমনকি সেটি সরাসরি যুদ্ধের পর্যায়েও চলে যেতে পারে। 

এমনিতেই ওই অঞ্চলে নানা সংঘাতপূর্ণ ইস্যু রয়েছে। গাজা হত্যাকাণ্ড, হুথি বিদ্রোহীদের হামলা, হিজবুল্লাহ, হামাসের গেরিলা যুদ্ধ; তার ওপর এমন ঘটনা নিঃসন্দেহ অঞ্চলটিতে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করল।

লেখক: নিরাপত্তা বিশ্লেষক

ক্ষমতা কাঠামোতে পরিবর্তন হয়নি

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ১১:২৯ এএম
ক্ষমতা কাঠামোতে পরিবর্তন হয়নি
এম হুমায়ুন কবির

দুর্ঘটনার কারণে ইরানের ক্ষমতাকাঠামোতে পরিবর্তন ঘটেনি। খামেনি সাহেব সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যমণি। কাজেই নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত তেমন নেই। 

দুর্ঘটনায় প্রেসিডেন্ট রাইসি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মৃত্যুতে প্রতিবেশীরাও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। কোনো কোনো প্রতিবেশী তো সহযোগিতাও করছে, যেমন তুরস্ক। ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রও নেতিবাচক কিছু বলেনি বা করেনি। তাই আমার মনে হয় না, এই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা বাড়বে। 

দুর্ঘটনার পর অনেক ধরনের স্পেকুলেশন দেখছি। অনেকে বলছেন, নাশকতাও হতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো পরিষ্কার না। নাশকতার বিষয়টি উড়িয়েও দেওয়া যায় না, আবার ঘটনা না জানা পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তেও আসা যাবে না। শেষ পর্যন্ত যদি নাশকতা বা অন্য কোনো দেশের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তাহলে পরিস্থিতি অবশ্যই অন্য রকম হবে। তবে এখন পর্যন্ত তেমন লক্ষণ নেই।

লেখক: সাবেক রাষ্ট্রদূত

পরিস্থিতি ভিন্ন হবে, নাশকতা হলে

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ১১:২৬ এএম
পরিস্থিতি ভিন্ন হবে, নাশকতা হলে
মুন্সি ফয়েজ আহমেদ

এটি এখন পর্যন্ত একটি নিছক দুর্ঘটনা। ফলে এ নিয়ে তেমন প্রতিক্রিয়া হবে না। পরবর্তী সময়ে যদি কোনোভাবে প্রমাণিত হয় যে বিদেশি সম্পৃক্ততায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে; সে ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অন্য রকম হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। 

তবে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকেও সন্দেহ করার মতো এমন কিছু বলা হয়নি। ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও কিছু বলা হয়নি। এই অবস্থায় উত্তেজনাকর কিছু হবে বলে মনে হয় না। 

ইরান খুব সুশৃঙ্খল একটি দেশ। দুর্ঘটনার পর পরই ভাইস প্রেসিডেন্টকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে মুরুব্বিরা সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন। তাই ইরানের অভ্যন্তরেও উত্তেজনাকর কিছু হবে না। তবে ইব্রাহিম রাইসির অনুপস্থিতি ন্যূনতম হলেও ইরানের এগিয়ে যাওয়ার পথকে বাধাগ্রস্ত করবে। এর বেশি কিছু আপাতত মনে হচ্ছে না।

লেখক: সাবেক রাষ্ট্রদূত

পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়াবে

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ১১:২০ এএম
পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়াবে
অধ্যাপক এম শহীদুজ্জামান

অবশ্যই পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়াবে এই দুর্ঘটনা। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ছিলেন। দুজনই অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। এটা নাশকতা কি না, যদিও সেটা এখনো প্রমাণিত নয়।

নিহত পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনেক নতুন নতুন পরিবর্তন এনেছেন ওই অঞ্চলে। যেমন, ইরান-সৌদি আরব সম্পর্ক স্থাপন বা ইরান-তুরস্ক সম্পর্কের কথাও বলা যায়। এগুলো ইসরায়েলকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিল। 

ঘটনা দেখে মনে হচ্ছে নাশকতা হতেও পারে। সঙ্গে আরও দুটো হেলিকপ্টার ছিল প্রোটেকশনের জন্য। তারা অ্যাটেম্পট নিলে বাঁচাতেও পারত হয়তো, কিন্তু তারা সেটা করেনি। তা ছাড়া আমেরিকা-ইসরায়েল বিশেষ ধরনের ডিভাইস তারা ব্যবহার করে এমন ঘটনা আগেও ঘটিয়েছে।

লেখক: অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক

বাংলাদেশের স্বার্থেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক প্রয়োজন

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ১১:০৪ এএম
বাংলাদেশের স্বার্থেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক প্রয়োজন
মো. তৌহিদ হোসেন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু দুই দিনের বাংলাদেশ সফরে আসেন গত ১৪-১৫ মে। সফরকালে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন এবং পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় মিলিত হন। এ ছাড়া  তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেন। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন ডোনাল্ড লু। 

বাংলাদেশে গত ৭ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মানবাধিকার ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরকারের গভীর মতপার্থক্য দেখা দিয়েছিল। অবাধ, নিরপেক্ষ ও নির্বিঘ্ন নির্বাচনের স্বার্থে ভিসানীতিতে কড়াকড়ি আরোপের ঘোষণা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। নির্বাচনের পরও নির্বাচন সুষ্ঠু ও মানসম্পন্ন হয়নি বলে যুক্তরাষ্ট্র বিবৃতি দিয়েছিল। এমতাবস্থায়, নির্বাচনের পাঁচ মাসের মাথায় ডোলান্ড লুর এবারের সফর দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান অস্বস্তিকর পরিবেশ থেকে এক ধরনের উত্তরণের প্রয়াস বলেই সাধারণভাবে বিশ্বাস করা হচ্ছে।

লুর বক্তব্যেও সেটির আভাস পাওয়া যায়। অস্বস্তি কাটিয়ে দুই দেশের মধ্যে পুনরায় আস্থা স্থাপনের চেষ্টা করছেন বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন ডোনাল্ড লু। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের অনেক বিষয়ে মতভেদ ছিল। আমরা অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন (বাংলাদেশে) অনুষ্ঠানের জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করেছিলাম। এতে কিছু টেনশন তৈরি হয়েছিল। তবে আমরা সামনে তাকাতে চাই, পেছনে নয়। কাজেই সম্পর্ক উন্নয়নের উপায় খুঁজে বের করতে হবে বলেও মনে করেছেন লু। বিষয়গুলো দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

লু বলেন, এই সম্পর্কের পথে অনেকগুলো কঠিন বিষয় রয়েছে, যথা র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা, মানবাধিকার, শ্রম অধিকার। এসবকে পাশে রেখে ব্যবসার পরিবেশের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তনসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আরও বেশকিছু বিষয়কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের বলেন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী। 

ডোনাল্ড লুর সফরে সার্বিক সুর অনেকটাই ইতিবাচক ছিল। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছিল যে, এবারের সফরের মাধ্যমে র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। কিন্তু ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্পষ্টতই বলা হয়েছে যে, তা হচ্ছে না। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেশটার নৈশভোজের সময় বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের অব্যাহত পতনের বিষয়টি লু উল্লেখ করেছেন, এবং মার্কিন বিনিয়োগকারী কোম্পানিগুলো যে তাদের লভ্যাংশ ফেরত নিতে পারছে না এনিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পক্ষান্তরে নাগরিক সমাজের সঙ্গে মতবিনিময়ে লু বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জনগণ এবং তাদের গণতন্ত্র, মানবাধিকার, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি তাদের আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করে।

নির্বাচন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী পর্যায়ে বহিঃরাষ্ট্রগুলোর প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নির্বাচনের আগে চীন, রাশিয়া এবং বিশেষ করে ভারত, সরকারের পক্ষে খুব শক্ত অবস্থান নিয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশগুলো একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য তাদের চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছিল। নির্বাচনের পর পশ্চিমা দেশগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কণ্ঠস্বর অনেকটা স্থিমিত হয়ে আসে। অনুমান করা যায় যে, সরকারের পক্ষে ভারতের শক্ত অবস্থানের কারণে, বাংলাদেশের নির্বাচন ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে সংঘাতময় সম্পর্কে জড়ানো যুক্তরাষ্ট্র নিজ স্বার্থের অনুকূল মনে করেনি। ভূরাজনৈতিক বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য চীনের আধিপত্যরোধ, যাতে ভারত তার সহযোগী।

বাংলাদেশের নির্বাচন যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আশানুরূপ হয়নি, দেশ দুটির মধ্যে পরস্পরের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তো শেষ হয়ে যায়নি। ডোনাল্ড লুর সাম্প্রতিক সফরকে এই প্রেক্ষিত থেকে দেখতে হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে যে বহুমাত্রিক সম্পর্ক যুক্তরাষ্ট্রের আছে, সে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা তারা রক্ষা করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের স্বার্থ হয়তো বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তবে বিভিন্ন ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থও বিদ্যমান। আগামী সময়গুলোতে যে বিষয়গুলো আমাদের সামনে আছে তার মধ্যে অন্যতম নিরাপত্তা ইস্যু। যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা ইস্যুতে যথেষ্ট গুরুত্ব দেবে বলে মনে করা হচ্ছে । 

অর্থনীতির ক্ষেত্রে একটা আশঙ্কা সবসময় ছিল যে, নির্বাচনের পর পশ্চিমা দেশগুলো থেকে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা আসে কি না! এ ক্ষেত্রে ভিসা নিষেধাজ্ঞা কিছু কিছু ক্ষেত্রে কার্যকর হলেও অর্থনীতির ওপর এখন পর্যন্ত কোনো বিরূপ প্রভাব দেখা যায়নি। আগামী দিনগুলোয় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে উভয় পক্ষকেই। যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার কোনো বিকল্প নেই বাংলাদেশের জন্য। একটা বিষয় লক্ষ্যণীয় যে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে যখন টানাপোড়েন থাকে তখন ব্যবসায়ীরাও তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে শঙ্কিত থাকেন। বাংলাদেশ আশা করবে, এই সফরের প্রেক্ষিতে সে আশঙ্কা দূরীকরণের পরিবেশ সৃষ্টি হবে। 

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে আরও কয়েকটি দেশ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত আছে, যেমন ভারত, চীন, মায়ানমার ইত্যাদি। ভারতের সঙ্গে বর্তমান সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান থাকার পরিপ্রেক্ষিতে মনে করা যায় যে, ভারতের নিরাপত্তার প্রয়োজনগুলোকে সরকার হয়তো বেশি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে অন্যান্য দেশের তুলনায়। তবে ভারতের স্বার্থ যে সবসময় বাংলাদেশের সঙ্গে একইরকম হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। লক্ষ্য রাখতে হবে যে, ভারতের স্বার্থ সংরক্ষণের পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বার্থ যেন বিঘ্নিত না হয়। 

নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশের অন্যতম উদ্বেগের বিষয় মায়ানমার পরিস্থিতি। ইতোমধ্যে মায়ানমারের গৃহযুদ্ধ এক নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে। রোহিঙ্গা সমস্যায় আমাদের স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে অতীতে প্রকৃত প্রস্তাবে ভারত বা চীন কোনো ধরনের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেনি। প্রত্যাশিতভাবে, নিজেদের স্বার্থের নিরিখেই তারা তাদের কার্যক্রমকে সীমিত রেখেছে। ভারত, চীন ছাড়াও মায়ানমারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। এমতাবস্থায় রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনে ভারত, চীনের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা লাভের চেষ্টা বাংলাদেশের স্বার্থে অপরিহার্য।

রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপট বিবেচনায় পশ্চিমের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে  ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশের জন্য জরুরি। রপ্তানি পণ্যের বাজার, বিদেশি বিনিয়োগের উৎস, রেমিট্যান্স ইত্যাদি সব বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্ব বাংলাদেশের জন্য অপরিসীম। এ ছাড়া আছে আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ। এসব কথা মাথায় রেখেই সামনের দিনগুলোতে আমাদের বৈদেশিক সম্পর্কের অগ্রাধিকারগুলোকে নির্ধারণ করতে হবে।

লেখক: সাবেক পররাষ্ট্র সচিব