ঢাকা ১১ বৈশাখ ১৪৩১, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

নবাবী আমলের গল্প

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:০২ পিএম
নবাবী আমলের গল্প

–আজ কিসের গল্প শুনবি?
–চোরের
–কী রকম চোর?
–দারুণ। মানে যেরকম চোর আজকাল আর দেখা যায় না, যেরকম চুরি এখন আর কোথাও হয় না। বেশ আলাদা ধরনের কিছু চাই!
–হুঁ, তাহলে তো দেখছি একেবারে নবাবী আমলে চলে যেতে হয়। আচ্ছা, তাই সই। কিন্তু কেবল চোরের গল্পই বলতে হবে? চোর ধরার কথা শুনতে চাসনে?
–বারে! চোর যদি ধরাই না পড়ল, তবে আর চোরের গল্প কিসের?
–আচ্ছা, ঠিক আছে। শোন– এক যে ছিল পান্তা-চোর, তার জ্বালায় কেউ ঘরে পান্তা ভাত রাখতে পারত না। রান্নাঘরের দরজা যত শক্ত করেই বন্ধ থাক, খেয়ে সে যাবেই। আর জানিস তো, সেই নবাবী আমলে সবাই রাত্তিরে পান্তা ভিজিয়ে রাখত, আর সকালে হুসহাস করে নেবু আর কাঁচা লঙ্কা দিয়ে সেই ভাত খেত। এখন হয়েছে কী, এক বুড়ি–
–এই থাম, আর গল্প বলতে হবে না। রামোঃ, শেষে পান্তাবুড়ির গল্প আরম্ভ করলি? সেই ক্ষুর, গোবর, শিঙিমাছ…
–মোটেই না, কে বলেছে 
পান্তাবুড়ির গল্প?
–তা ছাড়া আর কী! পান্তা-চোর এসেছে, বুড়ি এসেছে, পান্তাবুড়ির আর বাকি রইল কী?
–তাই বুঝি? তবে উঠে পড় এখান থেকে, কেটে পড় এক্ষুনি। তাদের মোটে গল্প বলবই না। বুড়ি আর পান্তো থাকলেই পান্তাবুড়ি? এতই যদি মগজ, তাহলে আমার কাছে কেন এসেছিস গল্প শুনতে?
–আচ্ছা আর কোনো কথা বলব না। তুই 
বলে যা।
–মনে থাকে যেন হুঁ! এখন হয়েছে কী, জানিস? এক বুড়ির পান্তো তো চোরে হামেশা খেয়ে যাচ্ছে। বুড়িও গল্পের মতোই গোবর রাখল, শিঙিমাছ রাখল, ক্ষুর পাতল–কিন্তু চোরের কিচ্ছুটি হল না। সে হাঁড়ি থেকে শিঙিমাছটা নিয়ে গেল রান্না করে খাবে বলে, আর ক্ষুরটা নিয়ে গেল দাড়ি কামানোর জন্যে। আর যাওয়ার সময় বুড়ির ঘরের দোরে খড়ি দিয়ে লিখে গেল: আমাকে গল্পের সেই চোর পাও নাই যে ইচ্ছা করিলেই বোকা বানাইতে পারিবে।–কী রে, কেমন শুনছিস?
–বেড়ে।
–পান্তাবুড়ির গল্পের মতো লাগছে?
–না না, কে বলে! কিন্তু তারপর?
–হুঁ, দাঁড়া না। নবাবী আমলের গল্প কিনা, অনেকদিন হয়ে গেছে, একটু ভেবে-চিন্তে বলি। হাঁ, মনে পড়েছে। বুড়ি তো রেগে-কেঁদে খুব দাপাদাপি করল, শাপশাপান্ত করল, কিন্তু তাতে চোরের কী আর হবে বল দিকি? শেষকালে বুড়ি নিরুপায় হয়ে, গিয়ে হাজির হল কাজী সাহেবের কাছে।
–কাজী সাহেব?
–হ্যাঁ-হ্যাঁ, নবাবী আমলে ওঁরাই তো ছিলেন দণ্ডমুণ্ডের কর্তা–এসব ওঁরাই দেখাশুনো করতেন। তাই বুড়ি কাজীর কাছে গেল। বুদ্ধিমান আর দয়ালু বলে কাজী সাহেবের খুব নামডাক ছিল, তিনি পান্তো চোরের গল্প শুনলেন, অনেক বার বললেন, ওয়াহ-ওয়াহ, একবার বললেন, বহুত মসিব্বত, তারপর চোখ বুজে নিজের মেহেদী রাঙানো শাদা দাড়িতে হাত বুলাতে লাগলেন।
–এই, মুসিব্বত মানে কী রে?
–বোধহয়, ঝঞ্জাট। কিন্তু ও-সব নবাবী আমলের শব্দ, আমি অত-শত মানে জানব কী করে? তোরা বরং ইস্কুলের মৌলবী সাহেবকে জিজ্ঞেস করিস। যাই হোক, কাজী সাহেব মেহেদী রাঙানো দাড়িতে হাত বুলিয়ে কখনও বলতে লাগলেন, ইয়াহ, কখনও বললেন, ওয়াহ, একবার বললেন, বহুত পোঁচদাগী, আবার বললেন, জালিম, শেষে চোখ খুলে বললেন, ফতে!
–ফতে? মানে?
–মানে ফিনিশ।
–কে ফিনিশ হল?
–আঃ, থাম না, সবটা শুনেই নে আগে। অত বকর বকর করিস কেন?
–আচ্ছা, মুখ বন্ধ করেছি। বলে যা।
কাজী সাহেব খুশি হয়ে বললেন, ওয়াহ ফতে। শোনো বুড়ি, কাল তোমার পান্তার হাঁড়ি আমার এখানে নিয়ে আসবে। আমি 
তাতে ওষুধ মিশিয়ে দেব। ধন্যবাদ বলে বুড়ি 
চলে গেল।
–বুঝেছি, আর বলতে হবে না। কাজী সাহেব পান্তো ভাতে বিষ মিশিয়ে দিলেন, আর তাই খেয়ে চোরটা…
–উঁহু, উঁহু! অর্ধেকটা কেবল বুঝেছিস। বুড়ির হাঁড়ি খেয়ে চোরটা অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল, ধরাও পড়েছিল, কিন্তু কাজী সাহেব ওষুধ মেশাননি, কোনও বিষও নয়। সেই নবাবী আমলে মানুষ এত ছোটলোক ছিল না, তা জানিস?
–বিষ নয়, ওষুধ নয়, তবে চোরটা অজ্ঞান হল কী খেয়ে?
–কেন? পান্তোর সঙ্গে কাজী সাহেব মিশিয়ে দিয়েছিলেন এক মুঠো ঘি-চপচপে মোগলাই পোলাও। রাজা বাদশারা যা খেয়ে থাকে।
–সে তো অতি চমৎকার। তাই খেয়ে?
–হুঁ, তাই খেয়ে। আরে, পান্তো-খাওয়া চোরের নাড়িতে মোগলাই জর্দা-পোলাও সহ্য হয় কখনও? মুখে দিয়েই চোরের মাথা ঘুরে গেছে, তিন দিন পরে তার জ্ঞান হয়। আনাড়িরা যদি জর্দা কিংবা দোক্তা খেতে যায়, তাহলে তার যা হয়, তাই।
–যাঃ, বাজে কথা। গল্প তো নয়, স্রেফ গুল। 
–গুল? তবে শুনছিলি কেন বসেবসে? পালা পালা এক্ষুনি এখান থেকে গেট আউট!

কলি 

আধুনিক বুলি

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:০০ পিএম
আধুনিক বুলি

আধুনিক পরিসংখ্যান
আপনি জানেন কি, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ৩২ কোটি? 
তার মানে?
হ্যাঁ মানে, ১৬ যোগ ১৬। ৩২ কোটি। দেখেন না, দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলই দাবি করে ১৬ কোটি জনগণ তাদের সঙ্গে আছে!

আধুনিক শিক্ষানীতি
সহজ বিষয় পড়ার দরকার নেই, এমনিতেই পারব। কঠিন বিষয় পড়ার দরকার নেই, জীবনেও পারব না।

আধুনিক রসায়ন
শিক্ষক : যদি তোমার বেস্টফ্রেন্ড এবং তোমার গার্লফ্রেন্ড একসঙ্গে পানিতে ডুবে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকে, তাহলে তুমি কাকে বাঁচাবে?
ছাত্র : কাউকে না। মরতে দেব দুজনকেই।
শিক্ষক: কেন?
ছাত্র : তারা দুজন পানিতে একসঙ্গে কী করতে গিয়েছিল!

আধুনিক সম্পর্ক
সদ্য বিবাহিত স্বামী তার নতুন বউয়ের নাম মোবাইলে সেভ করল ‘মাই লাইফ’ নামে।
এক বছর পর সেটা পরিবর্তন করে লিখল ‘মাই ওয়াইফ’।
দুই বছর পর লিখল ‘মাই হোম’।
পাঁচ বছর পর পরিবর্তন করে লিখল ‘হিটলার’।

আধুনিক প্রেম
প্রেমিক-প্রেমিকা ঠিক করল তারা আত্মহত্যা করবে। উঁচু পাহাড় থেকে প্রথমে ছেলেটি ঝাঁপ দিল, কিন্তু মেয়েটি দিল না। মেয়েটি চোখ বন্ধ করে বলল, ভালোবাসা অন্ধ।
এদিকে ঝাঁপ দেওয়ার পর ছেলেটি প্যারাসুট খুলে বলল, প্রকৃত ভালোবাসা কখনো মরে না।

আধুনিক দর্শন
জীবন নিয়ে হতাশ ভার্সিটিপড়ুয়া এক ছাত্র আত্মহত্যা করতে রেললাইনের ওপর শুয়ে পড়ল। ট্রেন খুব কাছে চলে আসছে এমন সময় সে রেললাইন থেকে লাফ দিয়ে সরে পড়ল।
ধুর, আত্মহত্যা করতে আসছি, এইটা তো ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিই নাই।
বি.দ্র. ফেসবুক মানুষের আয়ু বাড়ায়। 

আধুনিক প্রযুক্তি
কাজের বুয়া : খালাম্মা, ছোট্ট বাবুরে তো খুঁইজা পাইতাছি না।
গৃহিণী : কী বলছিস? জলদি ‘ছোট্ট বাবু’ লিখে গুগলে 
সার্চ দে।

আধুনিক যুক্তিবাদ
একটি কাক গাছের ডালে চুপচাপ বসে ছিল। তাকে দেখে একটি খরগোশ সেই গাছের নিচে এসে চুপচাপ বসে থাকল। এ সময় একটি শিয়াল এসে খরগোশটিকে খেয়ে ফেলল।
বি.দ্র. যদি কিছু না করে বসে থাকতে চাও তো আগে প্রমোশন নিয়ে সবার ওপরে উঠে যাও।

কলি

অভিযোগ

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:৫৭ পিএম
অভিযোগ

হত্যার অভিযোগে বিচার হচ্ছিল এক লোকের। তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ বেশ শক্ত, তবে একটাই সমস্যা, যাকে খুন করা হয়েছে তার লাশ পাওয়া যায়নি। আসামিপক্ষের উকিল বুঝলেন, সম্ভবত তার মক্কেলের শাস্তি হয়ে যাবে। সেজন্য একটা বুদ্ধি করলেন তিনি। জুরির উদ্দেশে বললেন, ‘জুরি বোর্ডের মাননীয় সদস্যবৃন্দ, আপনাদের সবাইকে আমি একটি বিস্ময় উপহার দিতে যাচ্ছি।

এখন থেকে এক মিনিটের মধ্যে যিনি খুন হয়েছেন বলা হচ্ছে সেই ব্যক্তি দরজা দিয়ে ঢুকবে।’ এই বলে তিনি আদালতের প্রবেশপথের দিকে তাকালেন। তার দেখাদেখি জুরি বোর্ডের সদস্যসহ সবাই উদগ্রীব হয়ে প্রবেশপথের দিতে তাকাল। এভাবে এক মিনিট পেরিয়ে গেল, কিন্তু কেউ এল না।

এবার উকিল বললেন, ‘আসলে এ কথাটি আমি বানিয়ে বানিয়ে বলেছিলাম, কিন্তু দেখা গেল, আপনারা সবাই উদগ্রীব হয়ে দরজার দিকে তাকিয়েছেন। তার মানে, আসলেই ওই ভদ্রলোক মারা গেছেন কি না, তা নিয়ে আপনাদের মনেও সন্দেহ আছে। অতএব, আমি অনুরোধ করছি, আপনারা আমার মক্কেলকে নির্দোষ বলে রায় দিন।’

তবুও জুরি বোর্ডের সদস্যরা বললেন আসামি দোষী।

‘কিন্তু,’ প্রতিবাদের সুরে উকিল বললেন, ‘তার অপরাধ নি  ‘তবে আপনার মক্কেল একবারও তাকায়নি।’

কলি

রঙ্গ ছড়ার ছররা হিটে ফিট

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:৫৪ পিএম
হিটে ফিট

গরম গরম
শাস্তি চরম।
দেড় শ’ টেকায় ডাব কিনি
সাইজখানাও খুব মিনি!
হিটের চোটে মরছে মানুষ
ঘর বাহিরে থাকছে না হুঁশ-
সব ইশকুল বন্ধ
নাই জীবনের ছন্দ।
কিছু কিছু জিনিসপাতির
মর্জি ও দাম চড়া,
গরিব গুরবো মানুষগুলান
খাচ্ছে হোঁচট, ধরা!
এই যে গরম, এর পিছনে
কারসাজি কার খবর নেও,
পাকড়ো তাকে, তলব করো
আমজনতায় শান্তি দেও।

কলি

চায়নাফেরত তমাল ভাই

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:৩৭ পিএম
চায়নাফেরত তমাল ভাই

গ্রামের খালাতো ভাই তমাল ছয় বছর পর চায়না থেকে দেশে ফিরেই দেমাগে মাটিতে পা রাখছেন না। মুখে সারাক্ষণ চায়নার গল্প। চায়নার রাস্তা কত সুন্দর, চায়নার স্কুল-কলেজ কত সুন্দর, চাইনিজ ক্যারাটে, চাইনিজ খাবার হেনতেন।

যাইহোক, গ্রামের বাড়িতে পা দিয়েই তমাল ভাই প্রথম যে কথাটা বললেন তা হচ্ছে, এসি নাই? আমার তো গরম লাগছে।

অথচ তিনি খুব ভালো করেই জানেন তাদের বাড়িতে এসি নাই, এখানেই তার জন্ম এখানেই তার বেড়ে ওঠা। কিন্তু ভাবটা এমন করলেন যেন তিনি

এসির মধ্যেই পয়দা হয়েছেন, এসির মধ্যেই বড় হয়েছেন।

কল থেকে পানি তুলতে গিয়েও আরেক বিপত্তি। বাংলাদেশের গ্রামের আচার ব্যবস্থার আরেক দফা পিণ্ডি চটকাতে চটকাতে চাপকল থেকে পানি তুলতে লাগলেন তমাল ভাই।

আমি পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। গম্ভীর গলায় বললাম, দুপুরে কী খাবা? সাপ?

তমাল ভাইয়া রাগী চোখে আমার দিকে খানিকক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললেন, চায়না নিয়ে মজা করবি না। চায়নাদের যে আচার ব্যবস্থা, যে আতিথেয়তা তার ধারে-কাছেও তোরা নাই

সাপ খাবা কি না বলো। আমাদের দেশে আর কিছু না থাক চায়নাদের পছন্দের এই একটা খাদ্য আছে। গ্রামের পুকুরে প্রচুর সাপ আছে।

তমাল ভাই ধমক দিয়ে বললেন, চুপ কর!

আমি চুপ করলাম না। আগ্রহের সঙ্গে বললাম, কী ধরনের সাপ খেতে তোমরা পছন্দ করো? অজগর নাকি চন্দ্রবোড়া? এখানকার পুকুরে অবশ্য প্রচুর ঢোঁড়া সাপ আছে। ওইগুলার স্বাদ কেমন? একটা ধরে দেই খাও।

তমাল ভাইয়া কথা না বাড়িয়ে পাশ কাটিয়ে চলে গেলেন।

কিন্তু আমি ঠিক করেছি তাকে সাপ না খাইয়ে ছাড়ব না।‌ চায়না থেকে এসেছে। এখানে তার যত্ন নেওয়ার মতো সাপ ছাড়া আর কিছুই নেই।

বাড়িতে গেলাম। গিয়ে দেখি তমাল ভাইয়া চেটেপুটে কই মাছের ঝোল দিয়ে ভাত খাচ্ছেন। যদিও চায়নার মানুষের এসব ভালো লাগার কথা না।
ততক্ষণে গ্রামের এক পাগলকে দিয়ে আমি সাপ ধরিয়ে এনেছি। সে তমাল ভাইয়ার প্লেটের পাশে সাপ রাখতে রাখতে বলল, আপাতত এইটা খান। পরে আরও ব্যবস্থা করছি। আমাদের এসি নাই তো কী হয়েছে। সাপ তো আছে।

তমাল ভাইয়া লাফ মেরে ওঠে কোনোমতে বমি আটকিয়ে কলঘরের দিকে দৌড় দিলেন।

সেই পাগল ও সাপ হাতে তার পেছন পেছন দৌড়।

'সাপ খাবি না? সাপ খা। পুড়িয়ে খা, না হয় ভর্তা করে খা।’

চাইনিজ ফেরত তমাল ভাইয়া পাগলের হাত থেকে বাঁচার জন্য এদিক-ওদিক ছুটতে ছুটতে একটা গাছের অর্ধেকটা ওঠে পড়লেন। পাগল গিয়ে তার এক ঠ্যাং ধরে টানতে লাগল।

তমাল ভাইয়া আমার দিকে তাকিয়ে চিৎকার করলেন, লাবণ্য বাঁচা।

আমি এগোলাম না। নিচ থেকে গম্ভীর গলায় বললাম, চায়নিজ ক্যারাটে ট্রাই করো।

কলি

ফেসবুক যদি সরকারি প্রতিষ্ঠান হতো!

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৫৭ এএম
ফেসবুক যদি সরকারি প্রতিষ্ঠান হতো!

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক যদি সরকারি কোনো অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হতো তাহলে অবশ্যই যে ঘটনাগুলো ঘটত তা একটু কল্পনা করে নিই।

ডোমেইন নেম: ফেসবুকের বর্তমান ডোমেইন নেম www.facebook.com। ফেসবুক যদি সরকারের অধীনে থাকত তাহলে এর বর্তমান ডোমেইন নেমের পরিবর্তে আপনাকে ক্লিক করতে হতো www.facebook.gov.bd এই অ্যাড্রেসে।

পরিচালনা: ফেসবুক পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের ভার দেওয়া হতো যুব এবং কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঘাড়ে। এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী পদাধিকার বলে ফেসবুকের মহাপরিচালক (সিইও না) হিসেবে কাজ করতেন। ফেসবুক কীভাবে ব্যবহার করতে হয় তা শেখার জন্য যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর দেশব্যাপী ডিপ্লোমা কোর্স চালু করত।

হেড অফিস: স্বাভাবিকভাবে ফেসবুকের হেড অফিস হতো সচিবালয়ে। সেখানে ফেসবুকের জন্য দুটি কামরা বরাদ্দ দেওয়া হতো। তবে সার্ভার রাখার জন্য কারওয়ান বাজার কিংবা চানখারপুলে জমি কিনে ভবন বানানো হতো। এই জমি কিনতে গিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি করতেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দুর্নীতি তদন্তে নামত দুদক।

সার্ভার কেনা: ফেসবুক ব্যবহারকারীদের লাখ লাখ ছবি, ভিডিও, গান রাখার জন্য প্রয়োজন হাজার হাজার সার্ভার। ফেসবুক যদি সরকারের হাতে থাকত তাহলে তারা গুটি কয় মান্ধাতার আমলের পুরোনো সার্ভার দিয়ে কাজ চালানোর চেষ্টা করত। ফলস্বরূপ ছবি কিংবা ভিডিও আপলোডে সমস্যায় পড়তেন ব্যবহারকারীরা। সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নিজে হস্তক্ষেপ করতেন। জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে কুইক রেন্টাল সার্ভার দিয়ে সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করা হতো।

অ্যাকাউন্ট খোলা: ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য প্রয়োজন হতো দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি (প্রথম শ্রেণির গেজেটেড অফিসার কর্তৃক সত্যায়িত), নমিনির ছবি (অ্যাকাউন্ট খুলতে আগ্রহী ব্যক্তি কর্তৃক সত্যায়িত), জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে পাসপোর্টের ফটোকপি, মহাপরিচালক-ফেসবুক বরাবর ২৫০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট এবং আয়কর শনাক্তকরণ নাম্বার। প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দেওয়ার ১০ কর্মদিবস পর পাওয়া যেত ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড।

ফুটপাথে উৎপাত: ফেসবুকের হেড অফিসের সামনে দালাল থাকত। স্বাভাবিকভাবেই এদের প্রধান হতেন ফেসবুক মহাপরিচালকের শালা কিংবা ভায়রা। দালালরা ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার বিনিময়ে দ্রুত নতুন ব্যবহারকারীকে ফেসবুক ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড বের করে দিত।

কঠোর আইন: ফেসবুকে ফেক আইডিধারীদের প্রতিরোধে কঠোর আইন করত সরকার। অপরাধীদের দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা হতো। অপরাধ প্রমাণিত হলে ছয় মাস থেকে দশ বছর পর্যন্ত জেল, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের জেল পর্যন্ত হতে পারত।

নতুন ফিচার: সরকার ফেসবুকে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ফিচার যোগ করতেন। এ ব্যাপারে আর্থিক সাহায্য নেওয়ার জন্য বিশ্বব্যাংক, জাইকা এবং মালয়েশিয়ান কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো। বরাবরের মতো বিশ্বব্যাংক এই খাতে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অর্থ দেওয়া থেকে বিরত থাকত।

মামলা: ফেসবুক টাইম লাইন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এই মর্মে হাইকোর্টে রিট মামলা করা হতো। শুনানিকালে বিচারক কয়েকবার বিব্রত হতেন। ফলে মামলার ভাগ্য ঝুলে যেত। তবে ব্যাপারটায় খুশি হতেন উকিলরা। কারণ রায়ে যত দেরি, তত শুনানি, তত টাকা।

ভোগান্তি: ব্যান্ডউইথ কম থাকায় ফেসবুকের হোম পেজে ঢোকা হতো বিরাট কষ্টকর ব্যাপার। ইউআরএলে অ্যাড্রেস লিখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হতো হোম পেজের জন্য। যদিওবা কেউ ঢুকতে পারত তাহলে দেখত এর প্রোফাইলে ওর ছবি, ওর প্রোফাইলে তার ছবি বসিয়ে রেখেছে কর্তৃপক্ষ। ছবি সংক্রান্ত এই জটিলতা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য দিনের পর দিন ফেসবুক দপ্তরে ঘোরাঘুরি করতে হতো।

টেন্ডারবাজি: ফেসবুকের যাবতীয় টেন্ডার পাওয়ার জন্য ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যে চলত রেষারেষি। এরকম পরিস্থিতিতে ছাত্রশিবির কোনো টেন্ডার না পেয়ে ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চার মতো ছটফট করত।

অর্থ সংগ্রহ: নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য ফেসবুককে ব্যবহার করা হতো। প্রতিটি ছবি আপলোডের জন্য এক টাকা, প্রতিটি স্ট্যাটাসের জন্য ৫০ পয়সা এবং প্রতিটি কমেন্টসের জন্য ২৫ পয়সা হারে কর্তন করে ওই অর্থ দিয়ে সেতু বানানো হতো। বর্ণিত সব অর্থের সঙ্গে ১৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হতো।

সাইট হ্যাকিং: ভারতীয় হ্যাকাররা বাংলাদেশ সরকারের ওয়েবসাইটগুলো হ্যাক করে মজা পায়। ফেসবুক সরকারের অধীনে থাকলে অন্যান্য সরকারি সাইটের সঙ্গে সঙ্গে তারা ফেসবুকও হ্যাক করত।

নির্বাচন: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বলেই হয়তো ফেসবুকের মহাপরিচালক সবার মধ্যে অচিরেই জনপ্রিয় হয়ে যেতেন। ফলস্বরূপ তার মধ্যে আবির্ভাব হতো দেশপ্রেম করার বাসনা। ইতোমধ্যে দুর্নীতি করে ভালো পয়সা কামিয়েছেন তিনি। তাই দেরি না করে মাদারীপুর-৪ আসন থেকে এমপি নির্বাচনে দাঁড়িয়ে যেতেন।

কলি