রিঅ্যাডমিশন ইফেক্ট । খবরের কাগজ
ঢাকা ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

রিঅ্যাডমিশন ইফেক্ট

প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৪, ১১:১৪ এএম
রিঅ্যাডমিশন ইফেক্ট

ছোটবেলা থেকেই পত্রিকা পড়ার অভ্যাস। তখন থেকে ইচ্ছা ছিল সাংবাদিক হব। সেই ইচ্ছা থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্স পড়ার স্বপ্ন দেখতাম। উচ্চ মাধ্যমিক পাসের পর আমার প্রথম ঢাকায় আসা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কোচিং করার উদ্দেশ্যে। স্কুল-কলেজ লাইফের ফাঁকিবাজির ধারা কোচিং টাইমেও বজায় রাখলাম। ভর্তি পরীক্ষার জন্য বাপের টাকার শ্রাদ্ধ করে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া সবগুলো ভার্সিটির ফরম তুললাম। পরীক্ষা দিতে গিয়ে দেশ ভ্রমণ করাও হলো। এতকিছুর ভিড়ে মূল কাজটাই হচ্ছিল না। প্রতিটি ভার্সিটির রেজাল্ট বের হওয়ার পর দেখতাম, আমার রোলটা ওয়েটিং লিস্টের লেজের দিকে। শেষ পর্যন্ত ঢাকাতেই এমন একটা সাবজেক্টে চান্স পেলাম, যেটাকে আমি আজীবন ভয় পেতাম।

মান বাঁচাতে ভর্তি হলেও মনের মধ্যে জিদ চেপে থাকল। বাংলাতে আমাকে পড়তেই হবে। তাই ক্লাসে সেভাবে উপস্থিত না হয়ে পরবর্তী সেশনে ভর্তি পরীক্ষার জন্য পড়াশোনা করতে থাকলাম। আমার ফাটা কপাল আরেকটু ফাটিয়ে নেক্সট ভর্তি পরীক্ষার আগে বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকেন্ড টাইম অ্যাডমিশনের নিয়মটাই তুলে দিল। ততদিনে আমি আমার অনার্সের রেগুলার কোর্স থেকে নন কলেজিয়েট হয়ে গেছি। কপালের পিণ্ডি চটকিয়ে অপছন্দের সেই বিষয়েই রি-অ্যাডমিশন নিতে বাধ্য হলাম।

নতুন জুনিয়র ব্যাচের সঙ্গে ক্লাস করতে হলেও নিজের সিনিয়র মুড ধরে রাখতাম সবার সঙ্গে। ওরা ফ্রেন্ডলি মিশতে চাইলেও নিজেকে বড় ভাই হিসেবে উপস্থাপন করতাম। এভাবেই আমাদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা সামনে চলে এল।

ক্লাসের পড়াশোনায় আমার মনোযোগ ঠিকঠাক কোনোকালেই ছিল না। তাই পরীক্ষার আগে টেনশনে আমার মাথা ঘুরাত, বমি পেত। হাতে-পায়ে শক্তি পেতাম না।

প্রথম পরীক্ষার দিন হলে ঢুকে পজিশনমতো একটা সিটে বসলাম। মানে যেখান থেকে অন্য কারও খাতা কপি করা সহজ হয়। পরীক্ষা শুরু হওয়ার ২০ মিনিট আগে একটা ছেলে খুব ফিটফাট হয়ে হাতে কয়েকটা পেপার নিয়ে পরীক্ষার হলে এল। প্রতি বেঞ্চে গিয়ে নিজের রোল খুঁজতে লাগল। একটু ভ্যাবলামতো দেখে আমার সিনিয়রিটি মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। একটু র‌্যাগ দিয়ে বাজিয়ে দেখতে ইচ্ছে হলো। আমি তাকে কাছে ডাকলাম, এই এদিকে আয়।

কাছে এলে বললাম, নতুন আইটেম নাকি রে? পড়াশোনা কিছু করেছিস? আমার পাশে বস। দুজন মিলিয়ে লিখব।

সে আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বের হয়ে গেল। আমি ভাবলাম খুব ভয় পেয়েছে। আজ মনে হয় পরীক্ষা দেবে না।

আমাকে অবাক করে দিয়ে ছেলেটা একটু পরই রুমে ফিরে এল। এবার তার হাতে আমাদের জন্য অ্যান্সার স্ক্রিপ্ট এবং প্রশ্নপত্র। এসেই লেকচার ডায়াসের সামনে দাঁড়িয়ে বলল, ডিয়ার স্টুডেন্টস, আপনারা নির্দিষ্ট সিটে বসবেন দয়া করে। আমি এখনই আপনাদের পরীক্ষার খাতাগুলো দিয়ে দেব। আপনারা ঠিক ঠিক নাম এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখে ফেলবেন।

৪৪০ ভোল্টের শক খেয়ে আমি খিঁচ মেরে গেলাম। পুরো পরীক্ষার সময়টা খাতা থেকে চোখ তুলতে পারলাম না। পরে শুনলাম স্যার আমাদের লেকচারার হিসেবে জয়েন করেই এমফিল করার জন্য দেশের বাইরে ছিলেন। সাত দিন আগে দেশে ফিরেছেন।

জাহ্নবী

রবীন্দ্রনাথ যদি এ যুগে জন্মাতেন

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ০৭:২৭ পিএম
রবীন্দ্রনাথ যদি এ যুগে জন্মাতেন

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যদি এই যুগে জন্মাতেন, তাহলে পরিস্থিতি কেমন হতো? সেটাই জানাচ্ছেন মো. রাকিব

ফেসবুকে তার এক বা একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকত! অল্প দিনেই ফেসবুক চ্যাট, স্ট্যাটাস দেওয়া, বিভিন্নজনের ছবিতে লাইক দেওয়া এবং অসংখ্য গ্রুপের সদস্য হতেন। তার প্রকাশিত লেখার কাটিং বিভিন্ন বন্ধুকে ট্যাগ করতেন। এই করতে করতে সময় কেটে যেত। আসল কাজ লেখালেখি তেমন একটা হতো না! বড়জোর নির্মলেন্দু গুণের মুঠোফোনের কাব্যের আদলে ফেসবুক কাব্য লেখার চেষ্টা করতেন!

তার ভক্ত ও অনুরাগীরা সরকারের কাছে দাবি জানাত, রবীন্দ্রনাথের নামে একটি সড়কের নামকরণ করার জন্য। কিন্তু সরকার কিছুতেই এ দাবি মেনে নিত না। ফলে ভক্তরা কঠোর আন্দোলনে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হতো। ভক্তদের একাংশ হতাহত হয়ে হাসপাতালে ঠাঁই নিত। পরদিন দৈনিকের পাতায় শিরোনাম হতো- পুলিশের হাতে মার খেল রবি ঠাকুরের ভক্তরা!

সোনার তরীর মতো লেখা পড়ে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠত- রবীন্দ্রনাথ নির্ঘাত আওয়ামী লীগ করেন। নইলে তিনি এই নামে বই লিখলেন কেন। তবে নৌকাডুবি প্রকাশ হওয়ার পর তাদের ক্রোধ কিছুটা মিটত।

কবিতা লিখলে মোটামুটি ১৪ লাইনে আর গল্প ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ শব্দে লিখতে বাধ্য করতেন পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদকরা। শব্দসংখ্যা বেড়ে গেলে সেই লেখা কেটেছেটে বনসাই স্টাইলে ছোট করতেন অথবা অনন্তকালের জন্য ঝুলিয়ে রাখতেন। সম্পাদক দয়ালু হলে কিঞ্চিৎ বড় গল্পটাই ঈদসংখ্যায় উপন্যাস হিসেবে চালিয়ে দিতেন!

ফ্ল্যাপ লিখে দেওয়ার জন্য তার বাসায় নব্য লেখকরা ভিড় জমাতেন। তরুণীরা চেষ্টা করতেন, রূপের মায়াজালে গুরুর মন ভজাতে!

প্রতি বছর ঈদ ও পূজা সংখ্যায় কমসে কম তার ১০টি উপন্যাস ও ৩০টি কবিতা ছাপা হতো! বেশি লিখতে গিয়ে যে পুনরাবৃত্তি করে ফেলতেন, তা নিজেও টের পেতেন না!

কাগজ-কলমের দিন শেষ। এখন কম্পিউটারের যুগ। তাই তিনিও লিখতেন কম্পিউটারে। কিন্তু কম্পিউটার ভাইরাস অ্যাটাকজনিত কারণে যখন বিগড়ে যেত, তখন বলতেন- দাও ফিরে সেই অরণ্য, লও এই সভ্যতা!

গল্প-কবিতায় সাময়িক ইস্তফা দিয়ে টেলিভিশন চ্যানেলের জন্য ধারাবাহিক নাটক, এক ঘণ্টার নাটক ও টেলিফিল্মের চিত্রনাট্য নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন। কখনো কখনো চরিত্র ভালোভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য নিজেই শুটিং স্পটে হাজির হতেন!

বিভিন্ন সংগঠন তাকে পদক দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগত। তিনিও এসব পদক সংগ্রহ করে ভাঁড়ার ঘরে রেখে দিতেন। পরে সাক্ষাৎকারে এবং বইয়ের ফ্ল্যাপে যখন পুরস্কারপ্রাপ্তির তালিকায় নামগুলো থাকত না, পদকদাতারা মনে মনে গোস্বা হতেন!

তার নামের আগে নানা বিশেষণ যুক্ত হতো- শক্তিশালী কবি, জীবনঘনিষ্ঠ ঔপন্যাসিক, মননশীল প্রাবন্ধিক, চিন্তাশীল গবেষক...!

সকাল বিকেল টেলিভিশন ভবনে ছুটতে হতো স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করার জন্য। কবিতা আবৃত্তি করতেন ঠিকই, কিন্তু টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ অনারিয়ামের চেক দিতে গড়িমসি করত!

তার গান এবং কবিতার মিউজিক ভিডিও হতো। কখনো সখনো তিনি নিজেই মডেল হতেন!

বাংলা একাডেমির একুশে বইমেলায় নিয়মিত আসতেন। বইতে অটোগ্রাফ দিয়ে বই বিক্রিতে বড়সড় প্রভাব রাখতেন!

সতীর্থ লেখকরা ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে তার নামে কুৎসা রটাত- ছ্যা ছ্যা, তিনি নাকি কবিগুরু! আরে তার তো বাক্যই হয় না। ব্যাকরণেরও তোয়াক্কা করেন না! তার মতো লেখকের জানা উচিত, ব্যাকরণ না জেনে লেখা ঠিক না!

ছাত্রদল-ছাত্র লীগের লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি তাকে পীড়িত করত। ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি পত্রিকার সম্পাদকীয় পাতায় জ্বালাময়ী কলাম লিখতেন। তা পড়ে ছাত্রনেতারা কবিগুরুকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করতেন!

রঙ্গব্যঙ্গর মতো ফান পেজগুলোর জন্য রম্যগল্প নিতে তার বাসায় ভিড় জমত।

কলি

ওয়েটার কাস্টমার

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ০৭:২১ পিএম
ওয়েটার কাস্টমার

এক লোক রেস্টুরেন্টে খেতে বসে স্যুপ অর্ডার দিল। বিগত দুই-তিন বছর সে এখানেই স্যুপ খেয়ে আসছে। স্যুপ টেবিলে রাখার পর খেতে গিয়ে, সে ওয়েটারকে ডাক দিল। ওয়েটার আসলে সে বলল, ‘দয়া করে তুমি স্যুপটা একটু টেস্ট করো।’
কেন স্যার? কোনো সমস্যা?
টেস্ট করো।
স্যার আপনি আজ এতদিন ধরে এখানে স্যুপ খাচ্ছেন, কোনো দিন তো সমস্যা হয়নি। কী হলো আজ?
তুমি টেস্ট করো।
স্যার লবণ কি ঠিকমতো হয়নি?
তুমি টেস্ট করো।
স্যার চিকেন কি সঠিক পরিমাণে পড়েনি?
টেস্ট করো।
স্যার স্যুপ কি ঠাণ্ডা হয়ে গেছে?
‘আরে ব্যাটা! টেস্ট করতে বলছি টেস্ট কর।’ চেঁচিয়ে উঠল লোকটি।
ওকে, ওকে স্যার। আমি টেস্ট করছি।
স্যুপ টেস্ট করতে গিয়ে ওয়েটার অবাক হয়ে বলল, ‘ও মাই গড! চামচই তো দেওয়া হয়নি।’

কলি

অনলাইনে আড্ডা

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ০৭:১৮ পিএম
অনলাইনে আড্ডা

কফি হাউসের বদলে যদি অনলাইনে এ আড্ডা হতো, তাহলে গানটা এমন হতো। লিখেছেন ফারজানা আলম

ফেসবুকের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই, আজ আর নেই
কোথায় হারিয়ে গেল নেট প্যাকেজগুলো সেই, আজ আর নেই।
নিখিলেশ হোয়াটসঅ্যাপে
মইদুল ভাইবারে
নেই তারা আজ কোনো খবরে,
গ্রান্ডের গিটারিস্ট
গোয়ানিজ ডিসুজা
ঘুমিয়ে আছে যে আজ টুইটারে।
কাকে যেন ভালোবেসে
আঘাত পেয়ে যে শেষে
শাদি.কমে আছে রমা রায়।
অমলটা ধুঁকছে দুরন্ত অরকুটে
জীবন করেনি তাকে ক্ষমা হায়!

ফেসবুকের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই, আজ আর নেই
কোথায় হারিয়ে গেল নেট প্যাকেজগুলো সেই, আজ আর নেই।
সুজাতাই আজ শুধু সবচেয়ে সুখে আছে
শুনেছি যে ডিএসএলআরে ফটো তোলে স্বামী তার
লাইক আর কমেন্টে আগাগোড়া মোড়া সে
ফেসবুকে ছবিগুলো দামি তার।
আর্ট কলেজের ছেলে, নিখিলেশ সান্যাল
এফবিতে ছবি আপলোড করত,
আর চোখ ভরা কথা নিয়ে, নির্বাক স্রোতা হয়ে
ডিসুজাটা বসে লাইক মারত!

কলি

তিন চোরের একদিন

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ০৭:১৪ পিএম
তিন চোরের একদিন

গভীর রাত। ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ছাড়া চারদিকে আর কোনো সাড়াশব্দ নেই। এ রকম পরিস্থিতিতে আবুল বেপারী হাজির হয়েছেন এক নারিকেল বাগানের সামনে। উদ্দেশ্য নারিকেল চুরি করা। ২০ বছর ধরে তিনি এ পেশায় আছেন। চুরি করে তিনি সংসার চালান।

অনেক নারিকেল ধরেছে এমন একটা গাছ দেখে তরতর করে উপরে উঠে পড়লেন আবুল বেপারী। কোমর থেকে দা বের করে এক কাঁদি নারকেল কেটে নিচে নামিয়ে রেখে আবার উপরে উঠলেন। পরের কাঁদি নারিকেল কাটতে গিয়েই ঘটল দুর্ঘটনা। পা পিছলে গেল। পতন ঠেকাতে হাতের দা ফেলে নারিকেলের কাঁদি জাপটে ধরলেন। ঝুলতে থাকলেন সেটা ধরেই বেশ কিছুক্ষণ ঝোলার পর আবুল বেপারী লক্ষ করলেন পাশের গ্রামের কালু চোরাও নারিকেল চুরি করতে এসেছেন। আবুল বেপারী তাকে ডাকলেন, ‘কালু...ও কালু’।
ডাক শুনে কালু চোরা প্রথমে ভাবলেন ভূত। দৌড় দিতে যাবেন এমন সময় আবুল বেপারী বললেন, ‘আরে ভয় পাইস না। আমি আবুল বেপারী।’
কালু: আরে আবুল ভাই, আপনে?
আবুল: হ ভাই। আমিও চুরি করতে আসছি। কিন্তু এখন ফাইসা গেছি। আমারে বাঁচা।
আবুলকে ঝুলতে দেখে কালু চোরা যা বোঝার বুঝে ফেললেন। মনে মনে ভাবলেন, ইনকাম করার এটা একটা দারুণ সুযোগ। তিনি বললেন, ‘বাঁচাতে পারি তবে এক শর্তে।’
আবুল: আমি যেকোনো শর্ত মানতে রাজি আছি। বল কী শর্ত?
কালু: আমারে নগদ ৫০০ টাকা দেওয়া লাগব।
আবুল: আচ্ছা দিব। তাড়াতাড়ি বাঁচা।
কালু চোরা দেরি করলেন না। আবুল যে গাছে ঝুলছেন সেই গাছ বেয়ে উঠতে শুরু করলেন। জায়গামতো পৌঁছে যেই না আবুলের পা ধরে গাছের দিকে আনতে চেষ্টা করলেন, অমনি কালুর পা-ও পিছলে গেল। পতন ঠেকাতে তিনি আবুলের পা জাপটে ধরলেন। ঝুলতে থাকলেন সেটা ধরে।
আবুল: এটা কী হলো কালু?
কালু: আমার পা-ও পিছলে গেছে।
আবুল: হায় রে! এখন আমরা দুজনই নারিকেলের কাঁদি ধরে ঝুলছি। কে বাঁচাবে আমাদের? আজকে চুরি করতে আসাই ঠিক হয়নি। 
একটু পরে সেখানে হাজির হলেন গেদু। তিনিও চোর। তবে পেশায় নতুন। নারিকেল চুরি করতে অন্যদের মতো তিনিও সেখানে হাজির হয়েছিলেন। তিনি বললেন, ‘ভাই সাহেব, আপনারা ওপরে কী করবার লাগছেন?’
আবুল: আরে গেদু যে! তুই এইখানে?
গেদু: হ, আসছিলাম চুরি করতে। তা আপনারা উপরে কী করেন? ঝুলাঝুলি খেলবার লাগছেন নাকি?
কালু: আবুল ভাইরে বাঁচাতে গিয়ে আমিও ফেসে গেছি ভাই। আমাদের জলদি বাঁচান।
গেদুও সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে ছাড়লেন না। তিনি বললেন, ‘এক শর্তে বাঁচাব। আমাকে নগদ এক হাজার টাকা দেওয়া লাগবে।’
আবুল: কোনো ব্যাপার না। দেব এক হাজার টাকা। বেঁচে থাকলে অনেক টাকা ইনকাম করা যাবে।
গেদু দেরি করলেন না। গাছ বেয়ে উঠতে শুরু করলেন। প্ল্যান করলেন, প্রথমে নিচে ঝুলতে থাকা কালুকে উদ্ধার করবেন। তারপর আবুলকে। প্ল্যান অনুযায়ী এক হাতে কালুর পা ধরলেন। সেটাকে টেনে যেই না গাছের দিকে আনতে যাবেন, অমনি তার অপর হাত ফসকে গেল। পতন ঠেকাতে কালুর পা আঁকড়ে ধরলেন। তারপর ঝুলতে লাগলেন সেটা ধরে।
অবস্থাটা এমন দাঁড়াল, নারিকেলের কাঁদি ধরে ঝুলছেন আবুল। তার পা ধরে ঝুলছেন কালু। আর কালুর পা ধরে ঝুলছেন গেদু।
এ রকম পরিস্থিতিতে আবুলের মাথায় বাড়তি আয়ের চিন্তা এল। তিনি হাঁক দিলেন, ‘তোরা আমার কাছে কে কয় টাকা পাবি?’
কালু: আমি পামু ৫০০ টাকা।
গেদু: আমি এক হাজার টাকা।
আবুল: এবার বল, তোরা দুজনে আমাকে দুই হাজার টাকা করে দিবি? নয়তো আমি হাত ছেড়ে দেব। রাজি?

কলি

 

অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৪, ০৩:৫১ পিএম
অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ

অভিযোগ আছে, নামি-দামি হোটেলগুলোতেও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ। বিশেষ করে খাবার রাখার স্থান ও রান্নাঘর নোংরা। কিন্তু কেন এই অবস্থা। সম্ভাব্য কারণ জানাচ্ছেন মো. রাকিব

ধনী-দরিদ্রের মাঝে সাম্যাবস্থা আনয়ন করার জন্যই দামি হোটেলের পরিবেশও অপরিচ্ছন্ন। ব্যাপার হচ্ছে, সস্তা হোটেলের পরিবেশ তো এমনিতেই খারাপ। তাই দামি হোটেলের পরিবেশ ইচ্ছা করেই খারাপ করে রাখা হয় যাতে ধনীরা বুঝতে পারে এ দেশের গরিবরা কতটা কষ্ট করে হোটেলে খায়। গরিবদের দুঃখ অনুধাবন করানোর জন্যই নোংরা পরিবেশ বজায় রাখা হয়েছে।

সরকারকে সাহায্য করার জন্যই ইচ্ছা করে দামি হোটেলের পরিবেশ খারাপ করে রাখা হয়েছে। বুঝিয়ে বলছি। সরকারের বাজেটে লাখ কোটি টাকার ঘাটতি। এ অবস্থায় অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে সরকারি লোকরা হোটেলকে জরিমানা করে যেন টুপাইস কামাতে পারে এবং বাজেটের ঘাটতি লাঘব করতে পারে, সেজন্যই নোংরা পরিবেশ।

ক্ষুদ্র প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করার জন্যই দামি হোটেলের পরিবেশ নোংরা রাখা হয়েছে। আসলে মাছি তেলাপোকা কেন্নো এদেরও তো ইচ্ছা করে দামি হোটেলে খেতে। কিন্তু সেখানকার পরিবেশ যদি পরিচ্ছন্ন রাখা হয় তাহলে এরা খাবে কীভাবে। সে কারণেই পোকাদের সুবিধার্থে দামি হোটেলের পরিবেশ নোংরা রাখা হয় যেন পোকারা এসে ভরপেট খেতে পারে।

কলি