ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩১, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

ঘটনাগুলো নজরুল-জীবনের

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ১২:১৯ পিএম
আপডেট: ২৪ মে ২০২৪, ১২:১৯ পিএম
ঘটনাগুলো নজরুল-জীবনের
গান শেখাচ্ছেন নজরুল। ১৭ বছর বয়সে নজরুল

একবার এক ইংরেজ পরিবারকে ইংরেজিতে ঠিকানা বুঝিয়ে বলতে ভীষণ কষ্ট হয়েছিল নজরুলের। সঙ্গে ছিলেন বাল্যবন্ধু শৈলজানন্দ। তখনই প্রতিজ্ঞা করলেন ইংরেজিতে কথা বলা শিখতে হবে। দুই বন্ধু মিলে শুরু করলেন ইংরেজি খবরের কাগজ পড়া। লাইব্রেরি থেকে ইংরেজি গল্পের বই এনে পড়া। সঙ্গে নিয়ে বসলেন ডিকশনারি। কয়েক দিন খুব চেষ্টা-টেষ্টা চলল। ডিকশনারি খুঁজে খুঁজে অর্থ বের করতে করতেই হাঁপিয়ে গেলেন তারা। এটা নয় ওটা। ওটা নয় সেটা। এমনি করে করে লাইব্রেরি থেকে মোটা মোটা ইংরেজি বই এনে লাইব্রেরি প্রায় ফাঁকা করে ফেললেন দুই বন্ধু। বন্ধু শৈল তো চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এদিকে নজরুল কিন্তু লাইব্রেরি থেকে বই এনে পাতা উল্টিয়েও দেখলেন না। মোটা বইগুলো তার ডুগিতবলা বাজানোর জন্যই বেশি কাজে লাগতে থাকল। শেষে বই পড়ে ইংরেজি শেখার কথা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেললেন। তাই বলে ইংরেজিতে কথা বলা শেখার ভূত কিন্তু মাথা থেকে গেল না। নতুন বুদ্ধি আঁটলেন। ইংরেজিতে কথা বলতে হলে তাদের চাই একজন ইংরেজ। ইংরেজের সঙ্গে কথা বলতে বলতে তারাও ইংরেজের মতো ঝরঝরে ইংরেজি বলবেন। খুঁজতে খুঁজতে মিস্টার শেকার নামে এক ইংরেজকে পেয়েও গেলেন। এত সহজে ইংরেজি শেখার সুযোগ থাকতে বই পড়ার কষ্ট করতে যাবেনই বা কেন? ব্যাস, ইংরেজ তো পাওয়া গেল। এবার শুধু খাতির করার পালা। খাতির করতে গিয়ে দুই বন্ধু ইংরেজিতে কথা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ইংরেজ কিন্তু সমানে বাংলায় কথা বলে চললেন। বাংলায় কথা বলতে পেরে ইংরেজ মোটেও ইংরেজি বলছেন না। মহা মুশকিলে পড়লেন দুই বন্ধু। ইংরেজ যখন, ইংরেজি তো বলবেই। এই ভেবে দুজনে তার সঙ্গে খাতির করে বেশ ক’দিন খুব ঘন ঘন তাদের বাড়ি গেলেন। সাহেবের পরিবারের মানুষগুলোর সঙ্গে আলাপ-সালাপও হলো অনেক। আলাপ পরিচয় খাতির সবই হলো, কিন্তু তারা যে সব কথাই বাংলায় বলে! ইংরেজিতে কথাই বলে না। নজরুল বললেন, এরা নিশ্চয় অন্য জাত। আর তা না হলে এরা বাংলাদেশে থেকে বাংলা শিখে ইংরেজি ভুলে গেছে।

নজরুল আর মুজফফর আহমেদ এক সময় বাড়ি ভাড়া নিলেন ৮/এ, টার্নার স্ট্রিটে। এটি ছিল নবযুগ অফিসের খুব কাছে। মাত্র দু-মিনিটের পথ। বাড়ির মাসিক ভাড়া ছিল দশ টাকার কিছু কম। মুসলমানদের বস্তি এলাকার মধ্যে তাদের বাড়িটিই ছিল একতলা পাকা বাড়ি। সেখানে নজরুল এলাকার বয়স্কা মহিলাদের সঙ্গে খাতির জমিয়ে ফেললেন। নানান রকমের খালা জুটে গেল নজরুলের। যাদের গায়ের রং ফর্সা, তারা আবার তার রাঙা খালা হয়ে উঠল। এই খালারা কিন্তু তাকে বেশ ভালোবাসত। প্রায়ই তারা রান্না করা তরকারি দিয়ে যেত।

কাজী নজরুলের অনেক গানই তখন আব্বাসউদ্দীনের গলায় রেকর্ড করা হয়েছিল। তিনি নজরুলকে ইসলামি গান লেখার জন্য রাজি করাতে চেষ্টা করলেন এভাবে- “একদিন কাজিদাকে বললাম, ‘কাজিদা, একটা কথা মনে হয়। এই যে পিয়ারু কাওয়াল, কাল্লু কাওয়াল এরা উর্দু কাওয়ালি গায়, এদের গানও শুনি অসম্ভব বিক্রি হয়, এই ধরনের বাংলায় ইসলামি গান দিলে হয় না? তারপর আপনি তো জানেন কীভাবে কাফের কুফর ইত্যাদি বলে বাংলায় মুসলমান সমাজের কাছে আপনাকে আপাঙক্তেয় করে রাখবার জন্য আদা-জল খেয়ে লেগেছে একদল ধর্মান্ধ! আপনি যদি ইসলামি গান লেখেন তা হলে মুসলমানের ঘরে ঘরে আবার উঠবে আপনার জয়গান।’ কথাটা তার মনে লাগল।” নজরুল সঙ্গে সঙ্গে রাজি হলেও রাজি হলেন না গ্রামোফোন কোম্পানির রিহার্সাল ইন-চার্জ ভগবতী বাবু। তাকে রাজি করাতে অবশ্য ছয় মাস সময় লেগেছিল। ভগবতী বাবু রাজি হতেই শিল্পী আব্বাসউদ্দীন গান লেখানোর ব্যবস্থা করে ফেললেন। পাশের ঘরে কাজিদা আছেন- শুনেই আব্বাসউদ্দীন গিয়ে বললেন, ‘ভগবতী বাবু রাজি হয়েছেন।’ তখন সেখানে ইন্দুবালা গান শিখছিলেন নজরুলের কাছে। নজরুল বলে উঠলেন, ‘ইন্দু তুমি বাড়ি যাও, আব্বাসের সঙ্গে কাজ আছে।’ ইন্দুবালা চলে গেলেন। সঙ্গে সঙ্গেই আব্বাসউদ্দীন এক ঠোংগা পান আর চা আনতে পাঠালেন। পান আর চা নিয়ে দরজা বন্ধ করে আধঘণ্টার ভেতরই নজরুল লিখে ফেললেন, ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।’ সঙ্গে সঙ্গেই সুরসংযোগ করে আব্বাসউদ্দীনকে শিখিয়েও দিলেন গানটি। পরের দিন ঠিক একই সময় আব্বাসউদ্দীনকে আসতে বললেন। পরের দিন লিখলেন, ‘ইসলামের ওই সওদা লয়ে এলো নবীন সওদাগর।’ তারপর থেকেই নজরুল একের পর এক ইসলামি গান লিখে চলেছেন। গান শুনলে যারা কানে আঙুল দিয়ে রাখত, তাদের কানেও গেল ‘নাম মোহাম্মদ বোল রে মন নাম আহমেদ বোল,’ ‘আল্লাহ আমার প্রভু আমার নাহি নাহি ভয়,’ ‘আল্লা নামের বীজ বুনেছি,’ ‘ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলো রে দুনিয়ায়।’ এ রকম আরও অনেক ইসলামি গান মুগ্ধ হয়ে শুনতে শুরু করল কান থেকে হাত নামিয়ে বাংলার মুসলমানরা। বাংলার মুসলমানের ঘরে ঘরে জেগে উঠল নতুন এক উন্মাদনা।    
 
একদিন স্টুডিওতে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন বেশ কয়েকজন শিল্পী ও কবি। আড্ডার বিষয় ছিল, টাকা থাকলে প্রিয়ার জন্য কে কী করতেন? কেমন উপহার দিতেন? কত দামি অলংকার কিনতেন? আড্ডা বেশ জমে উঠেছে। এমন সময় কাজী নজরুল এলেন। আড্ডার গল্পসল্প শুনলেন কিছুক্ষণ। কিন্তু কিছুই বললেন না। হঠাৎ হারমোনিয়ামটা টেনে নিলেন। আর বাজাতে বাজাতে সুর তুলে নতুন এক গান গাইতে শুরু করলেন-
মোর প্রিয়া হবে এসো রানী
দেব খোঁপায় তারার ফুল।
কর্ণে দোলাব তৃতীয়া তিথির
চৈতী চাঁদের দুল।
কণ্ঠে তোমার পরাবো বালিকা,
হংস-সারির দুলানো মালিকা।
বিজলী জরির ফিতায় বাঁধিব
 মেঘ-রং এলা চুল।
 জোছনার সাথে চন্দন দিয়ে
মাখাব তোমার গায়,
রামধনু হতে লাল রং ছানি 
আলতা পরাব পায়।
আমার গানের সাত-সুর দিয়া,
তোমার বাসর রচিব প্রিয়া।
 তোমারে ঘেরিয়া গাহিব আমার
কবিতার বুলবুল।।
গান শেষে নজরুল সবার উদ্দেশে বললেন, কী? কয় টাকা লাগল বধূকে সাজাতে। 

জাহ্নবী

 

মানবিক জাকির

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪, ০১:০৩ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৪, ০১:০৩ পিএম
মানবিক জাকির
দুঃস্থদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন জাকির ও তার দল

লক্ষ্মীপুর জেলার মো. জাকির হোসেন। এলাকায় পরিচয় মানবিক জাকির নামে। সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জেই তার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। ছোটবেলা থেকেই আশপাশের মানুষের জীবন সংগ্রাম আর দুঃখ-দুর্দশার সঙ্গে তার নিবিড় পরিচয়। ফেসবুকে ‘মানবিক শওকত’-এর কার্যক্রমগুলো তার মনে দারুণভাবে দাগ কাটে। ভাবতে থাকেন কীভাবে অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানো যায়। সময়টা ছিল ২০২২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি। জাকির তখন একাদশ শ্রেণির ছাত্র। আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মানবসেবা ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠনের কার্যক্রম শুরু করেন। পাশে ছিল রাফসান জানী শুভ, শাকিল মাহমুদ, আরমান হোসেন, তারেক হোসেন ও ফজলে রাব্বি।

সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার রায় তিন মাস পর ২০২২ সালের মে মাসে সিলেটে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। সেই বন্যাদুর্গতদের জন্য ৩৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদানের মধ্য দিয়ে জাতীয় কোনো দুর্যোগে তাদের অবদানের সূচনা। অসহায়দের মাঝে খাদ্যসামগ্রী, শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ, ঈদ ও ইফতারসামগ্রী বিতরণ, শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, সবজি ডোনেট বক্সের মাধ্যমে হতদরিদ্রদের মাঝে সবজি পৌঁছে দেওয়া, রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, স্যালাইন পানি বিতরণসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

মানবসেবার শুরুটা নিজেদের পকেট খরচের স্বল্প টাকায় শুরু করলেও বর্তমানে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের অনুদান পাচ্ছেন তারা। সে কারণে তাদের সেবা কার্যক্রম হয়েছে আরও বেগবান। সম্প্রতি তাদের মানবসেবা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে একটি অসহায় পরিবারকে ঘর উপহার দেওয়া হয়েছে; যা পর্যায়ক্রমে আরও বিস্তৃত হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. জাকির হোসেন। জাকির হোসেন বলেন, ‘আমাদের বয়সী কেউ কেউ অসৎ সাহচর্যে গিয়ে মদ, গাঁজা, ইয়াবা সেবনসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। আমরা এই ভেবে গর্বিত যে, আমরা তাদের মতো নই। তাদের মতো অসামাজিক কাজে সম্পৃক্ত না থেকে বরং সামাজিক ও মানবিক কাজে নিজেদের যুক্ত রাখতে পেরেছি। 
মানবসেবা ফাউন্ডেশনের বয়স মাত্র দুই বছর। কাজের সময়টা খুব বেশি নয়। তবু তারা কাজ করেন পরিকল্পনা মাফিক। তাদের কার্যক্রমগুলো অনেকটাই সাজানো-গোছানো। প্রায় ৩০ জন সক্রিয় সদস্যের মাধ্যমে মানবিক সেবা যথাসাধ্য পৌঁছে দিচ্ছেন দুস্থ অসহায়দের দোরগোড়ায়। জাকিরের ইচ্ছে, সব গৃহহীনের মাঝে ঘর, হতদরিদ্র অসহায়দের মাঝে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো সব মৌলিক সুবিধা যেন পৌঁছায়। নিজ এলাকার গণ্ডি পেরিয়ে আশপাশের অঞ্চলেও যেন এমন সেবা পৌঁছানো যায় সে বিষয়টা নিয়েও তারা ভাবছেন। হয়তো খুব বেশি দূরে নয়, এভাবে মানবসেবা কার্যক্রম চালিয়ে গেলে অচিরেই পুরো দেশ তাদের সেবার আওতায় চলে আসবে। জাকির হোসেন ও তার দলবল সেটাই আশা করেন।

জাহ্নবী

বিশ্বজয়ী পাঁচ বিজ্ঞানী যখন তরুণ ছিলেন

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪, ০১:০১ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৪, ০১:০১ পিএম
বিশ্বজয়ী পাঁচ বিজ্ঞানী যখন তরুণ ছিলেন

পৃথিবীর বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের সবাই পড়াশোনা শেষ করার পর কাজে মনোনিবেশ করেছেন তা নয়, স্কুলে পড়া অবস্থায়, বা স্কুল থেকে কলেজে ওঠার পরপরই অনেকে ইতহাস সৃষ্টিকারী দারুণ সব জিনিস আবিষ্কার করে ফেলেন। বয়স কম বলে যদি তাদের অবজ্ঞা করা হতো তাহলে আজ আমরা বিজ্ঞানের অনেক আবিষ্কার ও অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতাম। একাগ্র চেষ্টা আর জ্ঞানের প্রতি সুতীব্র তৃষ্ণার কারণে বিশ্ববাসী তাদের আবিষ্কার দিয়ে নিজেদের এগিয়ে নিয়েছে অনেক দূর। এমন পাঁচজন বিজ্ঞানী আছেন যারা তরুণ বয়সেই আগামীর পৃথিবীকে আরও সুন্দর পথ বিনির্মাণ শুরু করেছিলেন। এই পাঁচ বিজ্ঞানীর তরুণ বয়সের গল্প শোনাচ্ছেন হাসিবুল হোসেন শান্ত

আইজ্যাক নিউটন 
পড়ালেখার প্রতি একাগ্রতা আর বিভিন্ন বিষয়ে ভালো ফলাফলের কারণে স্কুলের সবাই নিউটনকে দেখে মুগ্ধ হতো। ওই বয়সে সবাই টুকটাক কিছু যন্ত্রপাতি আবিষ্কার করে বটে, কিন্তু নিউটনের মেধা ছিল অন্য পর্যায়ে। যদিও নিউটনের মা চেয়েছিলেন ছেলে কৃষিকাজে মনোযোগ দিক। এজন্য স্কুল থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে এসেছিলেন ছেলেকে। শিক্ষকরা নিউটনের ভালো ফলাফলের বিষয়টা মাকে বোঝালেন; বললেন ছেলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সম্ভাবনার কথা। নিউটনের মা ছেলের ইচ্ছার মূল্য দিলেন। ১৬৬১ সালে স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে পা রাখলেন ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটিতে। নানা রকম বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন নিউটন। আলোকবিদ্যা আর রং বিন্যাস বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন নিউটন।

অ্যালবার্ট আইনস্টাইন
তরুণ বয়সেই গণিত এবং বিজ্ঞানের প্রতি আইনস্টাইনের প্রবল আগ্রহ তাকে অন্য ছাত্রদের তুলনায় স্বতন্ত্র করে তোলে। জুরিখের সুইস ফেডারেল পলিটেকনিকের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন বটে, তবে আশানুরূপ ভালো ফলাফল করতে পারেননি। তবে গণিত আর পদার্থবিদ্যায় তাক লাগানো রেজাল্ট ছিল তার। আইনস্টাইন ভর্তি হন সুইজারল্যান্ডের আরাউ অঞ্চলে অবস্থিত আরউ ক্যান্টনাল স্কুলে, যেখানে পদার্থবিদ্যা আর গণিত বিষয়ে বরাবরই সর্বোচ্চ নম্বর পেতেন। আইনস্টাইনের থিওরি অব রিলেটিভিটির কথা কে না জানে? আমরা বর্তমানে কোথাও যাওয়ার জন্য গুগল ম্যাপের আশ্রয় নিই। আইনস্টাইন যদি জেনারেল থিওরি অব রিলেটিভিটি তত্ত্ব না দিতেন, তাহলে পৃথিবীর অরবিটের সঙ্গে “জিপিএস” বা গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমের সিনক্রোনাইজেশন করতে পারতাম না আমরা, গুগল ম্যাপও পেতাম না। 

অ্যারিস্টটল
তরুণ বয়সেই অ্যারিস্টটল জ্ঞানের প্রায় সব শাখাতেই বিচরণ শুরু করেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে প্লেটোর একাডেমিতে পড়াতে শুরু করেন অ্যারিস্টটল। সেখানে প্রায় ২০ বছর অধ্যায়ন করেন তিনি। পদার্থবিদ্যা, গণিত, জীববিজ্ঞান, দর্শনসহ বিভিন্ন বিষয়ে অ্যারিস্টটলের অবদান আধুনিক জ্ঞানবিজ্ঞানকে সমৃদ্ধ করেছে। মজার বিষয় হলো, মুরগির ডিম থেকে কীভাবে বাচ্চার জন্ম হয়, তার ক্রমধারা বিজ্ঞানের ভাষায় প্রথম ব্যাখ্যা করেছিলেন অ্যারিস্টটল। 

গ্যালিলিও গ্যালিলি
বাতাসের ঝাপটায় শুধু ঝাড়বাতি কেন, অনেককিছুই এদিক ওদিক দুলতে পারে, তাই না? এত অবাক হওয়ার কী আছে? কিন্তু এই সাধারণ বিষয়টিই ভাবিয়ে তুলেছিল ডাক্তারি পড়তে থাকা এক তরুণকে। বিখ্যাত বিজ্ঞানী গ্যালিলিও ডাক্তারি পড়ছিলেন ইতালির ইউনিভার্সিটি অব পিসাতে। তখন তার বয়স মাত্র ১৭ বছর। বাতাসে ঝাড়বাতির নাড়াচাড়া দেখেই তিনি আবিষ্কার করে ফেললেন পদার্থ বিদ্যার এক দারুণ অবদান- সরল দোলক বা সিম্পল পেন্ডুলাম। এরপর ডাক্তারি ছেড়ে গণিতবিদ্যায় মনোনিবেশ করেন। তার সফলতার ফল তো আজ দুনিয়ার মানুষের কাজে লাগছে।

ব্লেইজ প্যাসকেল
এখনকার কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপে এমন একটি টুলস্ আছে, যা আবিষ্কৃত হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ৩৫০ বছর আগে, ভাবা যায়? আমরা প্রতিদিনের কাজে যে ক্যালকুলেটর ব্যবহার করি সেটার আবিষ্কারক এক ফরাসি পদার্থবিদ, গণিতবিদ ব্লেইজ প্যাসকেল; মাত্র ১৬ বছর বয়সে ক্যালকুলেটরের প্রোটোটাইপ বানিয়ে মেকানিকেল ক্যালুকুলেটর তৈরির দরজা উন্মুক্ত করেন। ১৬৪২ সালে তিনি আবিষ্কার করেন অ্যারিথমেটিক মেশিন বা ‘প্যাসকেলাইন’। ফ্রান্সের রুয়েন শহরের ট্যাক্স কালেক্টর ছিলেন ব্লেইজ প্যাসকেলের বাবা এতিয়েন প্যাসকেল। ট্যাক্স হিসাব-নিকাশে বাবার সুবিধা করে দেওয়ার জন্যই এই মহতী কাজে হাত লাগান তরুণ প্যাসকেল। ক্যালকুলেটর ছাড়া বর্তমানে কি চলে?

জাহ্নবী

নেপালের টিনএজার

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪, ১২:৫৮ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৪, ১২:৫৮ পিএম
নেপালের টিনএজার

নেপাল অর্থনৈতিকভাবে একটি দুর্বল দেশ। নেপালের মূল আয় পর্যটন। বিশেষ করে হিমালয়কে ঘিরে সবকিছুর আয়োজন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের টিনএজারদের জীবন এবং শহর অঞ্চলের টিনএজারদের জীবনযাপনের ধরন স্বাভাবিকভাবেই এক নয়। যেমন গ্রামাঞ্চলের বেশির ভাগ ছেলে টিনএজারদের একটা স্বপ্ন থাকে বড় হয়ে সে শেরপা হবে। শেরপা হলো যারা হিমালয় জয় করতে যায়, সেই সব অভিযাত্রীর সঙ্গী হয়ে একটা নির্দিষ্ট উচ্চতা অবধি এগিয়ে দিয়ে আসে। বিশেষ করে শহর ও গ্রাম নির্বিশেষে অনেক ছেলের স্বপ্ন থাকে দেশের সৈনিক হওয়া বা ব্রিটিশ সেনাদলে নাম লেখানো। ব্রিটেনে এখনো গোর্খা ব্রিগেড আছে, যারা মূলতঃ নেপাল থেকে যায়। বিশেষ করে ছেত্রী, গুরং, মাগার, রাই ও লিম্বু সম্প্রদায়ের যুবকরা ব্রিটিশ গোর্খা রেজিমেন্টে যাওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে। যদিও সৈনিক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার অতীব কঠিন পথ পার হয়ে যেতে হয়। গোর্খা সৈন্যদলে যোগ দেওয়ার মূল কারণ, এটা পারিবারিক ও সামাজিকভাবে খুব সম্মানের সঙ্গে নেওয়া হয়। বিদেশে অ্যাডভেঞ্চার, সঙ্গে উচ্চ বেতন- এসবই নেপালি যুবকদের একাজে যাওয়ার জন্য উৎসাহ জোগায়। আবার শহর অঞ্চলের ছেলেমেয়েরা স্বপ্ন দেখে ডাক্তার, প্রকৌশলী বা অন্য পেশাজীবী হওয়ার।

নেপালে প্রাথমিক শিক্ষায় প্রবেশের বয়স পাঁচ। শুরু হয় বেসিক এডুকেশন পর্যায়। এই ধাপটি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বিস্তৃত। এরপর মাধ্যমিক স্তর হলো নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি। কিন্তু নেপালেও উপমহাদেশের অন্যান্য দেশের মতো মেয়েদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং খাবারের ক্ষেত্রেও বৈষম্যের শিকার হতে হয়। শহর অঞ্চলেও ছেলেদের উচ্চশিক্ষার জন্য পাঠানো হয় আর মেয়েদের ক্ষেত্রে চিন্তা করা হয় বিয়ের কথা। গ্রাম অঞ্চলে এই বৈষম্য চরম।

নেপালি টিনএজারদের খুব বেশি পড়ালেখার চাপ নিতে হয়। পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের বিষয়ে বাবা-মা ও সমাজের একটা বড় ধরনের চাপ থাকে। অন্যের এই চাওয়া-পাওয়াটা অনেক ছেলেমেয়েকে বিষণ্নতার দিকে ঠেলে দেয়। নেপালে দারিদ্র্য একটা বড় সমস্যা। দারিদ্রতার কারণে স্বল্প আয়ের পরিবার থেকে আসা টিনএজাররা যথাযথ শিক্ষা নিয়ে বড় হয়ে ওঠার সুযোগটা কমই পায়। আর এর ফলে তাদের জীবনও বিকশিত হতে পারে না। আইনগত বিধিনিষেধ থাকলেও বিষণ্নতা বা যথাযথ মানসিক ও আর্থিক সমর্থন না পাওয়ার কারণে অনেক ছেলেমেয়ে জীবনসংগ্রামে টিকতে না পেরে হাল ছেড়ে দেয়। এরপর তারা অ্যালকোহল, তামাকজাত বস্তু ও ড্রাগের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে। ভূমিকম্প, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের দরুন ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগও নেপালি টিনএজারদের জীবন ওলটপালট করে দেয়। যেমন ২০১৫ সালের ভয়ংকর ভূমিকম্পে ৯ হাজার স্কুল পুরোপুরি বা ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এতে করে ১০ লাখ ছেলেমেয়ের লেখাপড়ায় বিপর্যয় নেমে আসে। প্রাকৃতিক কারণে অভিভাবকদের মৃত্যুও টিনএজারদের জীবনে অবর্ণনীয় দুঃখকষ্ট বয়ে আনে। এ ছাড়া মাঝেমধ্যে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাও টিনএজারদের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত করে।  

নেপালের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশেষ করে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের গ্রামগুলোতে একটি কুপ্রথা পালন করা হয়, এর নাম ‘চৌপদী’। মেয়েদের পিরিয়ডের সময় তাদের মূল বসবাসের ঘরের বাইরে একটি কুঁড়েঘরে বা গরুর ঘরে রাখা হয়। এসব হতভাগা মেয়ের অভিভাবক মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে, এ সময় মেয়েরা হয়ে যায় অপবিত্র এবং মূল ঘরে রাখলে পরিবারের অমঙ্গল হবে! এ কুপ্রথার দরুণ অল্পবয়সী মেয়েরা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। বিশেষ করে ঠাণ্ডাজনিত রোগে কাবু করে ফেলে। নিমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে এমন ঘটনাও আছে।

নেপালে ‘টানি বিবাহ’ নামে একটি প্রথা আছে, যেখানে একবার একটা মেয়েকে অপহরণ করে ঘরে তুলতে পারলেই হলো, তাতে সেই পুরুষের বিয়ে করার অধিকার জন্মে যায়, মেয়েটির ইচ্ছা থাকুক আর না থাকুক। নেপালে ‘ছোট্টি বাসনে’ নামে আরেকটি বিবাহ প্রথা বহু বছর ধরে প্রচলিত আছে। ‘ছোট্টি বাসনে’ প্রথায় কোনো একজন ছেলে আসবে মেয়েটির গ্রামে। ছেলেটি মেয়েটির বাড়ি আসবে বা কোনো খোলা জায়গায় মেয়েটিকে দেখে গান গাইবে, নাচবে মেয়েটির ভালোবাসা পাওয়ার জন্য। তখন মেয়েটির মা-বাবা সঙ্গে থাকতে পারে। ছেলেটি মেয়েটিকে বিয়ের প্রস্তাব দেবে। মেয়েটি যদি রাজি হয় তাহলে বিয়ে সেখানেই ফাইনাল। সবই ঠিক আছে। কিন্তু আসলে মেয়েটির মতামতকে পাত্তা দেওয়া হয় না। তার এ বিয়েতে সম্মতি আছে কি না? কিন্তু এভাবে কোনো ছেলে প্রস্তাব দিলে ছেলেটির মেয়েটিকে বিয়ে করতেই হয়। এসব প্রথাকে গ্রামবাসী মেনে চলে। গ্রামের জনপ্রতিনিধিরাও পুলিশকে এসব কু-প্রথার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে দেয় না। মেয়েরাই এসব কুপ্রথার একমাত্র শিকার। মেয়েদের বিরুদ্ধে যায় এমন অনেক কু-প্রথা বিরাজমান আছে নেপালে।

বিষয়গুলো এতই বৈষম্যমূলক যে, এসব কুসংস্কারকে বাধা দেওয়ার জন্য আইন পাস করা হয়েছে। কিন্তু তাতে এসব কু-প্রথা পালন বন্ধ করা যায়নি। এসব রয়েই গেছে। যেহেতু দরিদ্র পরিবারে অভাবের কারণে অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার জন্য বাবা-মাই অস্থির হয়ে পড়েন, সে ক্ষেত্রে দেখা যায় মেয়েরা অনেক সময় তাদের কোনো পছন্দের পাত্রের সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। সেখানেও তারা বেশির ভাগ সময় আরও প্রতিকূল অবস্থার শিকার হয়। অল্প বয়স্ক স্বামীর যথাযথ উপার্জন এবং দায়িত্ব নেওয়ার মতো মানসিক পরিপক্বতা না থাকায় নাবালিকা মেয়েটি শেষ পর্যন্ত উপায়ান্তর খুঁজে পায় না। নেপালিদের মধ্যে বিবাহপূর্ব যৌনতাকে সমর্থন করা হয় না। তার পরও ১৮-১৯ বছরের মধ্যে ছেলেমেয়েদের অনেকেরই যৌনতার অভিজ্ঞতা হয়ে যায়।

নেপালে পারিবারিক মূল্যবোধকে মূল্যায়ন করা হয়। মেয়েরা বাড়ির কাজে মাকে সাহায্য করবে, ছেলেরা বাবাকে। পরিবারের বড়দের সম্মান করাও নেপালি টিনএজারদের অবশ্য কর্তব্য। ছেলেমেয়েরা বিয়ে বা চাকরি পাওয়া পর্যন্ত বাবা-মায়ের পরিবারেই থাকে। মেয়েরা তো অবশ্যই বিয়ে পর্যন্ত বাবা-মায়ের সঙ্গেই থাকে।

নেপালে আছে বহুবিধ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব। এসব উৎসবে টিনএজাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। এসব উৎসব তাদের নিজ সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার ও ঐতিহ্যের প্রতি পরিচয় করিয়ে দেয়। সর্বোপরি নেপালের টিনএজাররা ঐতিহ্যগত সংস্কৃতি ও আধুনিক সমাজের রীতিনীতি দ্বারা প্রভাবিত। তবে আস্তে আস্তে হলেও নেপালি সমাজে পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে, যা টিনএজারদের হাত ধরেই আসছে।

জাহ্নবী

বিলিয়নিয়ার  লিভিয়া

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৪, ১২:৩০ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৪, ১২:৩০ পিএম
বিলিয়নিয়ার  লিভিয়া

খুব অল্প বয়সে বিলিয়নিয়ার হওয়া কি চাট্টিখানি কথা! কজন পারে? এটা কিন্তু বিশাল বড় এক অর্জন। এই অর্জন এমনি এমনি আসে না। এর সঙ্গে রয়েছে নানান কিছু। যেমন কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা, সুযোগের সঠিক ব্যবহার, দূরদর্শী চিন্তাভাবনা, পারিবারিক কাঠামো। শুধু তাই নয়, এর পাশাপাশি নিজেকে সেই অবস্থানে উন্নীত করার স্বপ্ন, মানসিকতা ও যোগ্যতাও থাকতে হয়। আর এত কিছুর সমন্বয় ঘটিয়েই তবেই টিনএজ বয়সে বিলিয়নিয়ার হওয়া যায়। যেমনটা ঘটেছে ব্রাজিলের লিভিয়ার ক্ষেত্রে।

২০২৪ সালে ফোবর্স বিলিয়নিয়ারদের তালিকায় পৃথিবীর সবচেয়ে কমবয়সী বিলিয়নিয়ার হিসেবে যার নাম এসেছে, তার বয়স মাত্র উনিশ বছর। নাম তার লিভিয়া ভয়েট। লিভিয়ার জন্ম ২০০৪ সালের ১০ জুলাই ব্রাজিলে।

প্রতিবছর পৃথিবীর সেরা পঁচিশ ধনী তরুণের তালিকা জানায় ফোবর্স, যাদের বয়স ৩৩ বছরের কম। ২০২৪ সালের এরকম সেরা ২৫ ধনীর মোট সম্পদের পরিমান ১১০ বিলিয়ন ডলার। আর সবচেয়ে কমবয়সী বিলিয়নিয়ার হিসেবে লিভিয়ার সম্পদের পরিমাণ ১.১ বিলিয়ন ডলার। ধনী হিসেবে বিশ্বে তার অবস্থান ২৬৪৮তম। লিভিয়া এখন বাস করে ব্রাজিলের ফ্লোরিয়োনোপোলিসে।

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বৈদ্যুতিক মোটর নির্মাতাদের একজন উত্তরাধিকারী। ডব্লিউইজি বা ওয়েগ ইলেকট্রিক কোম্পানির সবচেয়ে বেশি শেয়ার হোল্ডার লিভিয়া। তার দাদা ওয়ার্নার রিকার্ডো ভয়েট ছিলেন এই প্রতিষ্ঠানের একজন সহ-উদ্যোক্তা। বাকি দুই উদ্যোক্তা ছিলেন ইগোন জোয়াও ডা সিলভা এবং জেরাল্ডো ওয়ার্নিংহাস। দশটি দেশে কারখানাসহ এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম রয়েছে। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটির রেভিনিউ ছিল ৬ বিলিয়ন ডলার।

যেহেতু লিভিয়া এখনও ব্রাজিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কাজেই সবচেয়ে বেশি শেয়ার থাকার পরেও এখনও ওই প্রতিষ্ঠানের বোর্ড মেম্বার হওয়ার আসন দখল করতে পারেনি। তবে কোম্পানির সবচেয়ে বড় শেয়ার হোল্ডার হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের তার অবস্থান সুরক্ষিত।

ওদিকে লিভিয়ার বড় বোন ডোরা ভয়েটের নামও উঠে এসেছে তরুণ বিলিয়নিয়ারের তালিকায়। ২০২৪ সালের নতুন সাত বিলিয়নিয়ারদের মধ্যে ডোরাও একজন। ডোরার বয়স ২৬ বছর। ডোরা অবশ্য ২০২০ সালেই আর্কিটেকচারের ওপর ডিগ্রি অর্জন করেছে।

কলি

 

শ্যামল করি শিক্ষালয়

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৪, ১২:২৭ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৪, ১২:২৭ পিএম
শ্যামল করি শিক্ষালয়
সন্দ্বীপে তরুণদের বৃক্ষরোপণ

ঢাকা শহরে কাঁটাবনের মোড় থেকে নীলক্ষেতের দিকে যেতে রাস্তার ধারে পড়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. আমিন উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। খুব স্বল্প জায়গার ওপর ২০১৪ সালে গড়ে তোলা হয়েছে বিদ্যালয় ভবনটি। সে বিদ্যালয়ের সামনে এক চিলতে ফাঁকা জায়গা। কিন্তু সীমানা ধরে লাগানো হয়েছে বহেড়া, আমলকী, আম, কদম, কৃষ্ণচূড়া, আতা, কাঁঠাল, বিলিম্বি, নিম, পেয়ারা, জারুল, নারিকেল, সুপারি, চালতা, কাঠগোলাপ, কামিনি নানা গাছ। গাছগুলো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণকে করে তুলেছে ছায়াময়-মায়াময়।

 স্কুলের শিশুরা গরমের মধ্যেও সেসব গাছের ছায়ার শীতলতায় প্রাণ জুড়াচ্ছে, খেলছে, ছোটাছুটি করছে। গ্রীষ্মের দিনে কৃষ্ণচূড়া ও জারুল গাছগুলো ফুলের শোভা দিচ্ছে। এসব দৃশ্য দেখতে দেখতে ছোটবেলায় ফিরে যেতে ইচ্ছে করে। ঢাকা শহরের মধ্যে যেখানে জায়গার অভাব, সেখানে যদি স্কুলপ্রাঙ্গণে এভাবে গাছ লাগিয়ে শ্যামল করা যায়; গ্রামের শিক্ষালয়- যেখানে রয়েছে প্রচুর উন্মুক্ত স্থান, সেখানে কেন গাছের চারা লাগানো হয় না? গ্রামের অনেক স্কুলপ্রাঙ্গণেই রয়েছে ফুটবল খেলার মতো বিশাল মাঠ। সেখানে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা খেলাধুলা করে। সেসব জায়গা ওদের খেলার জন্য রেখে মাঠের চারপাশে সীমানা বরাবর অনেক গাছ লাগিয়ে সবুজে-শ্যামলে ভরে দেওয়া যায়।

এ রকমই এক দৃষ্টান্ত পেলাম সন্দ্বীপের একদল তরুণের কাছ থেকে। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় একদল তরুণ ‘শ্যামল করি শিক্ষালয়’ স্লোগান নিয়ে নেমেছে স্কুলপ্রাঙ্গণকে সবুজ-শ্যামল করার ব্রত নিয়ে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাংলাদেশ কাউন্সিল ফর নেচার কনজারভেশনের কয়েকজন তরুণ সদস্য নিজেরাই নিজেদের স্কুলগুলোতে এ বছর থেকে গাছের চারা লাগাতে শুরু করেছে। দলের সদস্য মো. নজরুল ইসলাম জানান, আমরা যে যে স্কুলে পড়েছি, সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা দলের সদস্যরা আমাদের সেসব স্কুলে এ বছর গাছের চারা লাগাব। সন্দ্বীপে এক সময় বিশটি ইউনিয়ন ছিল, ভাঙনে সাতটি ইউনিয়ন বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বর্তমানে তেরোটি ইউনিয়নে প্রায় ২৫০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই কিছু না কিছু গাছের চারা লাগানোর সুযোগ আছে। কিন্তু সব শিক্ষালয়ে তো আর আমরা গাছের চারা লাগাতে পারব না। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা যে যে স্কুলে পড়েছি, সেটা তো আমাদের স্কুল। সেখানকার প্রাঙ্গণ আর শিক্ষকরা আমাদের অত্যন্ত পরিচিত আপনজন। তাই আমরা এসব স্কুলের আঙিনায় গাছের চারা লাগাব।

সেই তরুণ দলের ভাবনার মধ্যে বেশকিছু আইডিয়া পেলাম। প্রথমে তারা সিদ্ধান্ত নেয় যে কোন স্কুলে গাছ লাগাবে। সে স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ও গাছের চারা লাগাতে তাদের উদ্বুদ্ধ করে। এরপর সেখানে গিয়ে দেখে, কোথায় কি গাছ আছে আর কোথায় গাছের চারা লাগানোর সুযোগ আছে? কোথায় কি কি গাছ লাগাবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে চারা সংগ্রহ করে। নিজেরাই সেসব চারা সংগ্রহ করে। শিক্ষক এবং সে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা মিলে সেসব চারা লাগায়। চারা লাগানো বড় কথা নয়। সেগুলো টিকিয়ে রাখাই হলো আসল কথা। সে জন্য প্রতিটি চারা লাগানোর পর সেগুলোর পরিচর্যার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের ৩-৪ জনের ছোট ছোট দলকে দায়িত্ব দিয়ে আসে। ছাত্র-ছাত্রীদের দলের সদস্যরা পালাক্রমে সেসব গাছের যত্ন নেয়- তারা চারাগাছে পানি দেয়। এতে সেসব ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে একদিকে যেমন পরিবেশ সংরক্ষণের বোধ জন্মে, তেমনি শৈশব থেকে প্রকৃতি ও গাছপালার প্রতি তাদের মমতাও তৈরি হয়।

এসব গাছ বড় হবে, ওরাও বড় হবে। একদিন স্কুল থেকে সেসব ছাত্র-ছাত্রী চলে যাবে, কিন্তু গাছগুলো বড় হয়ে সেখানেই থাকবে। পরের ছাত্র-ছাত্রীরা সেসব গাছের তলায় দাঁড়িয়ে আরাম পাবে, ফল পাবে। বহু বছর পর যদি তারা কেউ ওই স্কুলে যায়- এসব দৃশ্য দেখে তাদেরও নিশ্চয়ই ভালো লাগবে। 
এ রকম স্বপ্ন নিয়েই নিজেরাই নিজেদের ‘শ্যামল করি শিক্ষালয়’ ব্রত নিয়ে তারা এগিয়ে এসেছে পনেরোজন প্রকৃতিবন্ধু তরুণ। তাদের এ আইডিয়া তো সবার মধ্যেই সঞ্চারিত হতে পারে। সন্দ্বীপের সব শিক্ষালয়ে পড়ুয়া অনেক তরুণ আছে, তারাও নিজেদের উপজেলার সব শিক্ষালয়ের যেখানে যতটুকু সুযোগ আছে, সেখানে গাছ লাগানোর এ মৌসুমে এগিয়ে আসতে পারে।

এই তরুণ দলটি পূর্ব সন্দ্বীপ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পঞ্চাশটি গাছের চারা লাগানোর পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিয়েছে, চারা লাগানো শুরুও করেছে। এ মৌসুমেই ধাপে ধাপে সেখানে এসব চারা লাগানো হবে। যদি একটি স্কুলে গড়ে ৫০টি করেও গাছের চারা লাগানো যায়, তা হলে সন্দ্বীপের ২৫০ শিক্ষালয়ের প্রাঙ্গণে সাড়ে বারো হাজার গাছের চারা লাগানো যাবে। যেসব স্কুলে সীমানাপ্রাচীর আছে, সেসব স্কুলে সেসব প্রাচীরের কোল ধরে গাছগুলো লাগালে উন্মুক্ত স্থানের খুব বেশি অসুবিধা হবে না। আবার প্রাঙ্গণ প্রাচীরবেষ্টিত থাকায় চারাগুলোও প্রাথমিক সুরক্ষা পাবে।

যেসব স্কুলে প্রাচীর নেই, সেসব স্কুলের চারদিকে সীমানার কাছে সারি করে এক সারিতে বিভিন্ন গাছের চারা লাগানো যেতে পারে। সেক্ষেত্রে চারাগাছগুলো রক্ষার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।

এই দৃষ্টান্ত যদি দেশের প্রায় ৪২ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুসরণ করা যায়, তা হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষালয়গুলো সবুজে-শ্যামলে ভরে যাবে। এবার সরকারেরও সেরূপ নির্দেশনা রয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এ বছরই প্রথম সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ এবং যথাযথভাবে তা বাস্তবায়নের জন্য এক নোটিশ জারি করেছে। আমরা তার প্রতিপালন করতে পারি। তরুণরাই পারে সবকিছু বদলে দিতে। কেননা তারাই দেশের পরিবর্তনের নায়ক ও শক্তি।

 কলি