ঢাকা ৬ বৈশাখ ১৪৩১, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

প্রামাণ্যচিত্রে মুক্তিযুদ্ধ তুলে ধরেন কাওসার চৌধুরী

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৪, ০১:০১ পিএম
প্রামাণ্যচিত্রে মুক্তিযুদ্ধ তুলে ধরেন কাওসার চৌধুরী
প্রামাণ্যচিত্র শুটিংয়ের একপর্যায়ে একুশে পদকপ্রাপ্ত নির্মাতা কাওসার চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে অস্ত্র হাতে ধরতে হয়নি বটে; কিন্তু বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য জোগান দিয়ে অনন্য ভূমিকা পালন করেছিলেন সেদিনের ১৬ বছর বয়সী এক তরুণ। বন্দরনগরী চট্টগ্রাম মুক্তির অন্যতম বীর মুক্তিযোদ্ধা কাওসার চৌধুরীর সে লড়াই এখনো অব্যাহত। প্রামাণ্যচিত্রে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা সংরক্ষণ করে তা রেখে যেতে চান নতুন প্রজন্মের জন্য, যে প্রজন্ম শতবর্ষ পর এ ইতিহাস পাঠে ব্রতী হবে।

একুশে পদকপ্রাপ্ত গুণীজন কাওসার চৌধুরী এসেছিলেন খবরের কাগজ কার্যালয়ে। আলাপচারিতায় তার মুক্তিযুদ্ধে যোগদান, প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা হয়ে ওঠা আর অভিনয় জীবন নিয়ে বিস্তারিত উঠে আসে।

তার বয়ানে প্রথমে উঠে আসে একাত্তরের স্মৃতিকথা। একাত্তরে ছিলেন আগ্রাবাদ সরকারি কলোনি হাইস্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী। পরিবারের সঙ্গে চট্টগ্রামের মোগলটুলীর নবী কলোনিতে ভাড়া বাসায় থাকতেন। ২৫ মার্চের ভয়াল কালরাত, ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত সাড়ে ৮টা। জানা গেল, যুদ্ধজাহাজ ‘বাবর’ থেকে চট্টগ্রামে গোলাবর্ষণ করে যাচ্ছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। সে রাতে ঘরহারা মানুষের আর্তনাদ শুনলেন রাতভর। আগ্রাবাদ হোটেলের কাছে তৎকালীন জিন্নাহ রোডে রাত দেড়টার দিকে বেবিট্যাক্সি করে কে যেন বঙ্গবন্ধুর দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করতে শুরু করলেন। ২৭ মার্চ চট্টগ্রাম আক্রমণ করে পাকিস্তানি আর্মি, শুরু হয় গণহত্যার নৃশংসতম অধ্যায়।

কাওসার চৌধুরীর পরিবারসহ আরও অনেক পরিবার তখন কর্ণফুলী পাড়ি দিয়ে প্রথমে শিকলবাহা, পরে আনোয়ারা হয়ে চলে যান মাতারবাড়ী, নিজ বাড়িতে। বড় ভাই মাহবুব কামাল চৌধুরী তখন নন-কমিশনড র্যাংকে ফ্লাইট সার্জেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে। মার্চের শেষভাগে বাড়ি ফিরে আসেন। গ্রামের তরুণদের মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেন তিনি। কাওসার বয়েজ স্কাউটের সদস্য ছিলেন, তা ছাড়া বাবার টু-টু বোর রাইফেলও নিয়মিত চালাতেন। তবে মুক্তিযুদ্ধে তাকে অস্ত্র ধরতে হয়নি। 

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলা আক্রান্ত হয় ১৯৭১ সালের ৬ মে। প্রথমে আক্রমণ হয় মহেশখালীর আদিনাথ মন্দিরে। সেখানে আশ্রিত অনেক হিন্দু পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয়, লুণ্ঠিত হয় ধনসম্পদ। সেদিন মাতারবাড়ীর উল্টো দিকে ঝাপুয়া এলাকা থেকে মর্টার শেল নিক্ষেপ করা হয় মাতারবাড়ীর দিকে। আতঙ্কে দ্বীপ ছেড়ে পালাতে হয় অনেক গ্রামবাসীকে। 

চট্টগ্রামে ফিরে এসে কাওসার চৌধুরীর সঙ্গে দেখা হয় চট্টগ্রাম কমার্স কলেজের ছাত্রলীগ সভাপতি তোহা গাজীর সঙ্গে। তার সঙ্গে খাগড়াছড়ির রামগড় সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতের সাব্রুম এলাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেদিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘রামগড়ে পৌঁছানোর পর আমাদের কাজ হলো শরণার্থীদের পথ চিনিয়ে সীমান্তের ওপারে পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু আমি যেদিন পার হব সীমান্ত, সেদিন প্রচণ্ড আক্রমণ শুরু হলো। আমাকে আবার চট্টগ্রামে ফিরে যেতে হলো।’ 

চট্টগ্রামে ফিরে মুক্তিযোদ্ধা শিবিরে ইনফরমার হিসেবে যুক্ত হলেন। পাশাপাশি নানা অপারেশনে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী হিসেবে গোলাবারুদও বহন করেছেন। কোনো যোদ্ধার ম্যাগজিনে গুলি ফুরিয়ে গেলে তা আবার লোড করে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল তার। অস্ত্র হাতে না নিয়েও রণাঙ্গনের এই বীর মুক্তিযোদ্ধা লড়াই করে গেছেন ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। সেদিন মুক্ত হয় বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। 

মহান মুক্তিযুদ্ধের পর কাওসার চৌধুরী নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ে যুক্ত হন। নিয়মিত অভিনয় শুরু করেন। আলোকচিত্রের প্রতি ছিল তার দারুণ দুর্বলতা। তিনি তখন অত্যাধুনিক সব ক্যামেরা ব্যবহার শুরু করেন। তবে তার প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের হাতেখড়ি হলো বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা আলমগীর কবীরের হাত ধরে। তার প্রতিষ্ঠান থেকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর দেশের রাজনীতিতে ঘটে যায় নাটকীয় পটপরিবর্তন। 

সামরিক শাসক এরশাদ ক্ষমতা দখল করে নিলেন, তখন গণতন্ত্র মুক্তির দাবিতে উত্তাল জনতার নানা অধ্যায় কাওসার চৌধুরীকে আকৃষ্ট করল। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন নিউজ এজেন্সির সঙ্গে কাজ করার সুযোগ মিলেছিল তখন। পরে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে ক্যামেরাপারসন হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়ে যান তিনি।

বিবিসির হয়ে কাজের মাঝেই কাওসার চৌধুরী একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ শুরু করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা, বীরাঙ্গনাদের স্মৃতিকথা নিয়ে তিনি একে একে নির্মাণ করলেন ‘সেদিনের কথা বলতে এসেছি’, ‘বধ্যভূমিতে একদিন’। নব্বইয়ের দশকে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে উত্তাল সময়ের গল্প নিয়ে নির্মাণ করেছেন ‘গণ আদালত’। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ ও আর্কাইভিংয়ের জন্য তিনি এ বছর রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্মারক উৎস আর বধ্যভূমি খুঁজে বেড়ানোর কাজটি এখনো করে চলেছেন ৬৯ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা কাওসার চৌধুরী। এখনো ক্যামেরা, সহকারী, প্রোডাকশন ইউনিট নিয়ে তিনি ছুটে বেড়ান দেশের নানা প্রান্তে। 

একাত্তরের বধ্যভূমিগুলো যখন একে একে আবাসন প্রকল্পের ভিড়ে হারিয়ে যায়, তা ভীষণ পীড়া দেয় তাকে। আলাপচারিতায় বললেন, ‘বাহাত্তরে যে বধ্যভূমিগুলো শনাক্ত করা হয়েছিল, তার অধিকাংশ এখন ভরাট হয়ে গেছে। রায়েরবাজার বধ্যভূমির পাশে ছিল ডিম্বাকৃতির ইটভাটা। তার পাশে খাল, পরে বসিলা গ্রাম। সেই ইটভাটার একটি পিলার তো অন্তত রাখা যেত। তাহলে নতুন প্রজন্ম জানতে পারত, তখন কেমন ছিল রায়েরবাজার।’

বেশ কিছু বধ্যভূমি দখলের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ধর্মীয় অনুভূতির কারণে সেখানে সাংঘাতিক কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। ঢাকার মুসলিম বাজারে যে বধ্যভূমি পাওয়া গিয়েছিল, তার ওপর নির্মাণ করা হয়েছিল মসজিদ। পরে তার পাশে একটি কুয়া খুঁড়তে গিয়ে সেখানে কঙ্কাল আর হাড়গোড় পাওয়া যায়। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টিরা সেদিন সোচ্চার হয়েছিলেন বলে এ বধ্যভূমিতে একটি স্মৃতিস্মারক নির্মাণ করা গেছে। জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম রংপুরের ঘাঘট নদীর তিরে যে স্থানে গণহত্যা করেছিলেন, সেখানে বাড়িঘর হয়ে গেছে। অনেক বধ্যভূমি শনাক্ত করার পর জমির মালিকানা দাবি করে কেউ কেউ এসে বলে এ জমি তার উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া। যেহেতু এই মামলাগুলো ফৌজদারি মামলা না, তাই এসব মামলা দীর্ঘদিন ধরে চলতেই থাকে।’

কবি সঞ্জয় বিরচিত মহাভারত নতুন সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৩৩ এএম
কবি সঞ্জয় বিরচিত মহাভারত নতুন সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন
ছবি: খবরের কাগজ

সুনামগঞ্জে কবি সঞ্জয় বিরচিত মহাভারত নতুন সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করা  হয়েছে। 

সোমবার (১৫ এপ্রিল) রাত ৮টায় শহিদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে মোড়ক উন্মোচন হয়।

এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, শিল্পী-সাহিত্যিক, সরকারি কর্মকর্তা, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ীসহ বিশিষ্টজনরা। 

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. মোহাম্মদ সাদিক, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহসান শাহ্, স্থানীয় সরকার উপপরিচালক দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, শিক্ষাবিদ দীপক রঞ্জন দাশ, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট রোকেস লেইস, শহিদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সালেহ আহমদ, দেশের প্রথম নারী সলিসিটর, জুডিশিয়াল সার্ভিসের সিনিয়র জেলা জজ জেসমিন আরা বেগম, সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি পঙ্কজ দে, সুনামগঞ্জ রামকৃষ্ণ আশ্রম প্রধান হৃদয়ানন্দ মহারাজ লালন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান। 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণাসিন্ধু চৌধুরী বাবুল। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন শহিদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খলিল রহমান।

এ সময় বক্তারা বলেন, মহাকবি সঞ্জয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা না গেলেও তার অনূদিত বাংলা মহাভারতের নিদর্শন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত আছে। গবেষকদের মতে, মহাকবি সঞ্জয় ছিলেন সুনামগঞ্জের অধিবাসী। তাহিরপুর উপজেলার লাউড় এলাকা ছিল তার জন্মস্থান। ভূবনবিখ্যাত জাত মহাকাব্য মহাভারতের সর্বপ্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন মহাকবি সঞ্জয়। সংস্কৃত ভাষায় রচিত মহাভারতের অন্য কোনো ভাষায় এটিই প্রথম অনুবাদ। প্রায় পাঁচশ বছর আগে জন্ম নেওয়া মহাকবি সঞ্জয় বাংলায় মহাভারত অনুবাদের মাধ্যমে আদি জনক-ভাষা সংস্কৃতের সঙ্গে বাংলা ভাষার সম্পর্ককে আরও ভাব-গাম্ভীর্যময় ও দৃঢ় করেন। মহাকবি সঞ্জয়ের সেই প্রয়াসকে এই স্মারকস্তম্ভে স্থাপত্যের ভাষায় প্রতীকায়িত করা হয়েছে।

বাংলায় মহাভারতের আদি অনুবাদক তাহিরপুর অর্থাৎ লাউড়ের মহাকবি সঞ্জয়। মহাকবি সঞ্জয়ের মহাভারতে লাউড়ের নিপতি রাজা ভগদত্ত এবং সৈন্যবাহিনীকে মহাভারতের যুদ্ধে অংশগ্রহণের পরিচয় পাওয়া যায় এবং তিনি রাজা ভগদত্তকে বহুবার ‘লাউড়-ইস্বর’ বলে সম্বোধন করেছেন, ‘অঙ্গবীর পড়িল সকলে দিল ভঙ্গ’। ত্বরিৎ গমন সব ভীমের আতংক॥ তাহা দেখি ভগদত্ত ‘লাউড়-ইস্বর’। চড়ি সুপ্রস্তিক হস্তি দাইল সত্বর।

সঞ্জয়-বিষয়ক এই গবেষণালব্ধ তথ্য বাংলা সাহিত্যচর্চা তথা মধ্যযুগের সাহিত্যের আদি নিদর্শনসমূহের একটি। অধ্যাপক ড. মুনীন্দ্র কুমার ঘোষ সম্পাদিত কবি সঞ্জয় বিরচিত মহাভারত ১৯৬৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত হয় এবং সেখানে গবেষক কবির পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন, সঞ্জয় লাউড়ের এই বরদ্বাজগোত্রীয় বারেন্দ্র ব্রাহ্মণ বংশে জন্মগ্রহণ করেন।

সঞ্জয়সংক্রান্ত এই গবেষণাকর্ম ভারতে সম্পাদিত হওয়ায় আমাদের দেশে এ-বিষয়ক আলোচনা এখনো সীমিত। আমাদের দেশে মহাকবি সঞ্জয়কে নিয়ে আরও গবেষণা আবশ্যক। সুনামগঞ্জের সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রাচীন ইতিহাস আলো করে দাঁড়িয়ে আছেন মহাকবি সঞ্জয়।

অধ্যাপক ডক্টর মুনীন্দ্রকুমার ঘোষের সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশ হয়েছিল ১৯৬৯ সালে। কবি সঞ্জয় বিরচিত মহাভারত সেই বইয়ের নতুন সংস্করণের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ড. মোহাম্মদ সাদিক ও ড. মোস্তাক আহমাদ দীন। 

সিলেট অঞ্চল প্রাচীনকালে যে কয়টি রাজ্যে বিভক্ত ছিল তার অন্যতম লাউড় রাজ্যের রাজধানী ছিল তাহিরপুরের হলহলিয়ায়। এখনো ওখানে রয়েছে প্রাচীন নিদর্শন। হলহলিয়া লাউড় এলাকার নিকটবর্তী। বর্তমান লাউড়ের গড়কে ঘিরে ভারত সীমান্তবর্তী যে বাংলাদেশি ভূখণ্ড বিস্তৃত রয়েছে, সেখানে শ্রীচৈতন্যের অন্যতম পারিষদ অদ্বৈত মহাপ্রভুর জন্মস্থান। মধ্যযুগীয় বৈষ্ণব সাহিত্যের অনেক অমরকীর্তি এই এলাকায় এবং এলাকার মানুষের হাতে রচিত হয়েছে। তবে প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ফলে সেই সব ঐতিহাসিক নিদর্শন লুপ্তপ্রায়।

দেওয়ান গিয়াস/ইসরাত চৈতী/অমিয়/

সংস্কৃতির শহর যশোরে বাংলা বর্ষবরণে প্রাণের ছোঁয়ার আশা

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৩৮ পিএম
সংস্কৃতির শহর যশোরে বাংলা বর্ষবরণে প্রাণের ছোঁয়ার আশা

যশোর শহরের মাওলানা মোহাম্মদ আলী রোড (এম এম আলী) রোডে সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী জেলা শাখা। দেশের অন্যতম বৃহৎ এই সাংস্কৃতিক সংগঠনটির প্রধান ফটক ধরে এগোতেই কানে ভেসে এলো নাচ আর গানের মহড়ার শব্দ। পরে দেখা গেল, পায়ে ঘুঙুর বেঁধে চলছে কচি-কাঁচাদের নাচের মহড়া। প্রশিক্ষক দেখিয়ে দিচ্ছেন নাচের ভঙ্গিসমূহ। কোন জায়গায় কোন তাল। এ যেন নৃত্যকে নিখুঁত করার ঘষামাজার শেষ পর্যায়। আরেকটু পথ এগিয়ে গেলেই আরেকটি কক্ষ। সেখানে তবলা আর হারমনিয়ামের সঙ্গে দলবেঁধে চলছে গানের চর্চা। এসো হে বৈশাখ, এসো এসো....। 

উদীচী কার্যালয় থেকে বেরিয়ে মিনিট তিনিকের পথ এগোতেই পৌর পার্ক। পার্কের ভেতরে আরেক সাংস্কৃতিক সংগঠন চারুপীঠ। সেখানে অনেকে মিলে বাঁশ দিয়ে তৈরি করছেন বিশাল আকৃতির মোরগ ও পুতুল। কাগজ কেটে ফুল, প্যাঁচা, পাখপাখালির আদল গড়ছেন কেউ কেউ। গভীর মনোযোগে কেউবা জলরঙে ছবি আঁকছেন, কেউবা নকশা করছেন কাগজে। নানা আকৃতি ও ধরনের মুখোশে দেওয়া হচ্ছে রং তুলির পরশ।

শুধু এই দুটি সংগঠন নয়, যশোর শহরের অন্তত ২৫টি সাংস্কৃতিক সংগঠন শেষ প্রস্তুতি নিচ্ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে বরণ করে নিতে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন পাঁচ শতাধিক সাংস্কৃতিক কর্মী। বিবর্তন, উদীচী, পুনশ্চ, চাঁদের হাটসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনে চলছে গান, নাচ, নাটক, কবিতা আবৃত্তি ও গীতিনাট্যের মহড়া। বর্ণিল উৎসব ঘিরে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো তৈরি করেছে ভিন্ন আঙ্গিকের আমন্ত্রণপত্রও।
 
সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলা বর্ষবরণে যশোরের ঐতিহ্য চার দশকের বেশি। করোনা সংক্রমণ ও রমজানের কারণে গত চার বছর নববর্ষের উৎসব ছিল অনেকটা ঘরবন্দি ও সংক্ষিপ্ত। এবার ঈদুল ফিতরের পরপরই পহেলা বৈশাখ হওয়ায় আনন্দ দ্বিগুণ হবে বলে মনে করছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। 

পহেলা বৈশাখে বর্ণিল সাজে ঢাক-ঢোলের বাদ্যে মাততে প্রস্তুত হচ্ছে সংগঠনগুলো। বরাবরের মতো এবারও পহেলা বৈশাখে জেলার ঐতিহাসিক টাউন হল ময়দান থেকে সকাল ৯টায় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হবে। এবার পহেলা বৈশাখটি যশোরবাসীকে পরিপূর্ণতা দিতে প্রায় তিন দশক পর যোগ হয়েছে ১০ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। শহরের ঐতিহাসিক টাউন হল ময়দানে ১৩ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত। 

যশোর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু বলেন, ‘কোভিড ও রমজানের কারণে পরপর চার বছর সাড়ম্বরে বৈশাখী উদযাপন করতে পারিনি। এ বছর আমরা চেষ্টা করছি যশোরের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো এবং যশোরের শিল্পী সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে নববর্ষকে একটি বর্ণিল ও বর্ণাঢ্য আয়োজন উপহার দেওয়ার। মঙ্গল শোভাযাত্রা ও বৈকালিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। এ ছাড়াও এবার বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ১০ দিনব্যাপী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আর এ মেলার সঙ্গে থাকবে লোক সাংস্কৃতিক উৎসব। এ সাংস্কৃতিক উৎসবে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে সাংস্কৃতিক কর্মীরা অংশ নেবে। এর মাধ্যামে বৈশাখী যে বাঙালির সার্বজনীন উৎসব এবং সাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার যে প্রচেষ্টা তা এর মাধ্যামে অব্যাহত থাকবে।’

বর্ষবরণের প্রধান অনুষঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রা। স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীদের ভাষ্য, দেশে মঙ্গল শোভাযাত্রা ১৯৮৫ সালে সূচনা হয় সংস্কৃতি যশোর শহর থেকে। সেই সময়ে ঢাকা চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মাহবুব জামাল শামীম আরও দুই সহপাঠীকে নিয়ে যশোরে প্রতিষ্ঠা করেন চারুকলার প্রতিষ্ঠান চারুপীঠ। এই প্রতিষ্ঠানই মঙ্গল শোভাযাত্রার সূতিকাগার।

চারুপীঠের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ বলেন, ‘পয়লা বৈশাখে যশোরের মঙ্গল শোভাযাত্রার বর্ণাঢ্য ইতিহাস আছে। যশোরে প্রথম দিন যে উদ্দীপনায় বর্ণিল শোভাযাত্রা বের করা হয়েছিল, আমরা সেখান থেকে একচুলও সরে আসিনি। এবারও চারুপীঠের পক্ষ থেকে শোভাযাত্রায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’ 

উদীচী যশোর ৫০ বছর ধরে পৌর উদ্যানে নববর্ষের প্রথম প্রভাতে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। যশোর শহরের শত শত মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে নতুন পোশাকে, নতুন সাজে সেই আয়োজনে শামিল হয়। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান খান বিপ্লব জানান, এ বছরও বর্ণাঢ্য প্রস্তুতি তাদের। সকাল ৭টায় পৌর উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। 

বিবর্তন যশোরে সভাপতি নওরোজ আলম খান চপল বলেন, ‘বরাবরের মতো এবারও আমাদের ব্যতিক্রমী আয়োজন থাকছে আমন্ত্রণপত্রে। মিষ্টিমুখ, শোভাযাত্রা, নাটক, নৃত্য সংগীতে সঙ্গে এবার প্রধান আকর্ষণ তোতারাম নাটক মঞ্চায়ন।’ 

এদিকে বাংলা নববর্ষ ঘিরে এবার টাউন হল ময়দানে ১০ দিনব্যাপী লোকজ সাংস্কৃতিক উৎসব ও বৈশাখী মেলার আয়োজন করেছে জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও যশোর ইনস্টিটিউট। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই মেলার সার্বিক বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন সংশ্লিষ্ঠরা। 

কমিটির আহ্বায়ক স্থানীয় সরকার যশোরের উপ-পরিচালক রফিকুল হাসান মেলার মাঠে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে জানান, বাংলা সংস্কৃতি পরিচয়বাহী কবিগান, পটগান, গম্ভীরা, জারিগান, সঙগান যাত্রাপালা, লাঠিখেলা সাপখেলাসহ গ্রাম বাংলার লোকজ আঙ্গিকে ধারাবাহিকভাবে প্রদর্শিত হবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিদিন বিকেলে শিশুদের আর সন্ধ্যার পরে সর্বস্তরের সংস্কৃতিকর্মীরা অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করবেন। জেলা ও উপজেলার মোট ১৩০টি সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশ নেবে এই লোকজ সাংস্কৃতি উৎসবে। 

বাহারি কার্ডে নববর্ষের শুভেচ্ছা ও আমন্ত্রণ:
পহেলা বৈশাখে উৎসব আয়োজনের পাশাপাশি ‘নববর্ষে’র শুভেচ্ছা জানানো চিরায়ত বাংলার রীতি। এই শুভেচ্ছা ও নববর্ষের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর পত্রেও তাই ঠাঁই পেয়েছে বাংলার ঐতিহ্য। যশোরের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো এখন নববর্ষের আমন্ত্রণপত্রকে ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে পরিণত করেছে। জেলার অন্তত ২০টি সংগঠন বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যকে তুলে ধরে বর্ণিল ও বৈচিত্র্যময় শুভেচ্ছা ও আমন্ত্রণপত্র তৈরি করছে। নববর্ষে কার্ড বা শুভেচ্ছাপত্র দেওয়ার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে এখন এক অন্যরকম প্রতিযোগিতায় রূপ দিয়েছে যশোরের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। এ প্রতিযোগিতা নান্দনিকতার প্রতিযোগিতা। ইতিহাস, ঐতিহ্য ধরে রেখে শুভেচ্ছাপত্রকে রঙ, রূপ আর বৈচিত্র্যে ভরে তোলার প্রতিযোগিতা।
 
বির্বতন যশোর কাগজ দিয়ে বাঙালির ঐতিহ্য ঢুলি তৈরি করেছেন। মানুষের মুখবয় ও দুটি হাত দিয়ে ঢোলি ঢোল বাজাচ্ছেন। ঢোলের উপরে লেখা ১৪৩১ বিবর্তন। 

সাংস্কৃতিক সংগঠন তির্যক গ্রাম বাংলার খেজুর গাছ কাটার অনুসঙ্গ ঠুঙ্গি ও গাছি দা। একটি চারকোণা কাঠের ওপরে বাঁশ দিয়ে সুনিপুন কারুকাজের তৈরি ঠুঙ্গি। তার ভিতরে কাঠ দিয়ে তৈরি ‘গাছি দা’। 

এ ছাড়া যশোরের অন্তত ২০টি সংগঠন বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যকে তুলে ধরে বর্ণিল ও বৈচিত্র্যময় শুভেচ্ছা ও আমন্ত্রণপত্র তৈরি করছে।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দিপাঙ্কর দাস রতন বলেন, ‘এক দশকের বেশি সময় ধরে যশোরের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নববর্ষের শুভেচ্ছা ও আমন্ত্রণপত্র বাংলার ঐতিহ্য ধরে রেখে নান্দনিকতায় ভরপুর করে তুলছে। এখন সংগঠনগুলোর মধ্যে আমন্ত্রণপত্রে একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার একটি অলিখিত প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।’

এইচ আর তুহিন/জোবাইাদা/অমিয়/

খবরের কাগজ ঈদসংখ্যা আনন্দঘন লেখক সম্মিলনী

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:৩৮ পিএম
আনন্দঘন লেখক সম্মিলনী
ছবি : খবরের কাগজ

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে খবরের কাগজের ঈদসংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে রবিবার (৭ এপ্রিল)। পত্রিকাটির প্রকাশনার ছয় মাসের মধ্যে ঈদসংখ্যা বাজারে এল। গতকাল শনিবার রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে বর্ণিল এক অনুষ্ঠানে ঈদসংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করেন বিশিষ্ট কবি, কথাসাহিত্যিক ও সংস্কৃতিজনরা। 

খবরের কাগজের এই আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা, বিশিষ্ট লেখক-অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। বিশেষ অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সংস্কৃতিজন ড. আতিউর রহমান ও মঞ্চসারথি আতাউর রহমান, খবরের কাগজের প্রকাশক ও সম্পাদক কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল তাদের নিয়ে ঈদসংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করেন। 

অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘পৃথিবীতে এই পর্যন্ত ১৮টি সভ্যতা এসেছে। মানবসভ্যতা যাযাবর, এই সভ্যতা সব জায়গায় থাকে না। এক জায়গায় আসে, ১০০-২০০ বছর আগে। এই পত্রপত্রিকার মধ্যে মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রার তথ্য লুকিয়ে থাকে।

ড. আতিউর রহমান বলেন, খবরের কাগজের ঈদসংখ্যা সত্যি একটি বৈচিত্র্যময় ঈদসংখ্যা। খবরের কাগজের মূল পত্রিকায় যেমন তারুণ্যের দ্যুতি রয়েছে, তেমনি তার ছাপ পড়েছে ঈদসংখ্যায়। খবরের কাগজ হোক সমাজের প্রতিবিম্ব। 

আতাউর রহমান বলেন, ‘নাটক করতে করতে আমি একদিন লেখক হয়ে গেছি। আমার কবিতার বইও বের হয়েছে। আমি মনে করি, পৃথিবীতে একটি জিনিস টিকে থাকে, সেটি হলো লিখিত শব্দ। আমি আঙুলের ছাপে যা রেখে গেলাম, সেটি চিরঞ্জীব হয়ে থাকে।’ 

অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘৪৮০ পৃষ্ঠার ঈদসংখ্যায় নানা বিষয় বৈচিত্র্যময়তার সঙ্গে উপস্থাপিত হয়েছে। পত্রিকার সম্পাদক, প্রকাশক মোস্তফা কামালের মধ্যে যে নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য দেখেছি, তা বিরল। তিনি সাহসিকতার সঙ্গে, সততার সঙ্গে পত্রিকাটি এগিয়ে নিয়ে চলছেন।’ 
খবরের কাগজের কপি এডিটর কবি হাসান হাফিজের সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের মহাসচিব হারুন হাবীব, কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কথাসাহিত্যিক ইসহাক খান, সাবেক পররাষ্ট্রসচিব মো. তৌহিদ হোসেন, কথাসাহিত্যিক আন্দালিব রাশদী, সুরমা জাহিদ, রেজানুর রহমান, দীপু মাহমুদ, শাহনাজ মুন্নী, মনি হায়দার, অদিতি ফাল্গুনী, স্বকৃত নোমান, মাসউদ আহমাদ, মৃত্যুঞ্জয় রায়।   

দীপু মাহমুদ বলেন, ‘ঈদসংখ্যার অঙ্গসৌষ্ঠব দেখে মনে হয়েছে, আলাদা মমতা আছে। সবে ৬ মাস বয়স হয়েছে পত্রিকাটির। এর মধ্যে যে ঈদসংখ্যাটি বাজারে এনেছে খবরের কাগজ, তাতে আলাদা দরদ আছে। আশা করব, এই দরদ দীর্ঘদিন এ অবস্থায় থাকবে।’ মৃত্যুঞ্জয় রায় বলেন, বানানরীতি, শব্দচয়ন, গ্রাফিকসের কাজ সবকিছুতেই পরিশ্রমের ছাপ রয়েছে। এই ঈদসংখ্যাটি এক কথায় একটি কমপ্লিট ওয়ার্ক। ইসহাক খান বলেন, ‘খবরের কাগজ কোনো দিন ইতিহাস হয়ে গেলে আমরা যারা প্রথম ঈদসংখ্যার লেখক, তারাও ইতিহাসের অংশ হয়ে যাব।’

ঈদসংখ্যার লেখক কবিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিমল গুহ, ফারুক মাহমুদ, নাসির আহমেদ, আসাদ মান্নান, মারুফ রায়হান, জুলফিকার নিউটন, রেজাউদ্দিন স্টালিন, তুষার দাশ, সেলিম মাহমুদ, গোলাম কিবরিয়া পিনু, টোকন ঠাকুর, শাহীন রেজা, সেলিম মাহমুদ, তপন বাগচী, শিহাব শাহরিয়ার, মনির মহিউদ্দিন, ওবায়েদ আকাশ, পিয়াস মজিদ, রোমেন রায়হান। উপস্থিত ছিলেন অন্যপ্রকাশের অন্যতম স্বত্বাধিকারী মাজহারুল ইসলাম। 

কবি বিমল গুহ বলেন, ছয় মাসের পত্রিকাটির ঈদসংখ্যা অসাধারণ হয়েছে। গোলাম কিবরিয়া পিনু বলেন, সম্পাদক মহোদয় নিজেই ফোন করে লেখা চেয়েছিলেন। তিনি মর্যাদার সঙ্গে লেখাটি ছেপেছেন। শিল্পসৌকর্যমণ্ডিত এই ঈদসংখ্যাটি প্রকাশনাও কিন্তু কম চ্যালেঞ্জিং নয়। মারুফ রায়হান বলেন, নান্দনিকতা, উৎকর্ষে এই ঈদসংখ্যাটি প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ার মতো। এই ঈদসংখ্যাটি নিয়ে খবরের কাগজ সাহিত্য সমাজে ছোটখাটো ঢেউ তুলবে। কবি ফারুক মাহমুদ বলেন, ‘এক কথায় মুগ্ধ হয়েছি। কাগজটি ভালো হচ্ছে টের পাচ্ছি।’ কবি পিয়াস মজিদ বলেন, ‘বয়সে নতুন হলেও এই ঈদসংখ্যায় পরিণত বয়সের ছাপ রয়েছে। বৈচিত্র্য রয়েছে। উপন্যাস যদিও ঈদসংখ্যার প্রাণ, তবুও ঈদসংখ্যায় ইতিহাসবিদ আবদুল মমিন চৌধুরীর সাক্ষাৎকার দেখে ভালো লাগছে।’

অনুষ্ঠানে খবরের কাগজের উপ-সম্পাদক এনাম আবেদীন, উপ-সম্পাদক ও ঈদসংখ্যার সম্পাদক ড. এমদাদ হাসনায়েন, প্রধান বার্তা সম্পাদক খালেদ ফারুকী, চিফ রিপোর্টার তৌফিক মারুফ, সহকারী সম্পাদক ড. সারিয়া সুলতানা, ফিচার সম্পাদক খালেদ আহমেদ, বিজ্ঞাপন বিভাগের জিএম মো. মাসুদুর রহমান, সার্কুলেশন বিভাগের ডিজিএম মাসুদ কবির পাভেল, জনসম্পদ বিভাগের প্রধান মিন্টুভূষণ রায়, ব্র্যান্ড অ্যান্ড অ্যাক্টিভেশন আতিয়া সুলতানা, সম্পাদকীয় বিভাগের সানজিদ সকাল, শেহনাজ পূর্ণা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির ইফতার

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৪৩ পিএম
বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির ইফতার
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির ইফতার আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার সকল সদস্যদের নিয়ে এ ইফতারের আয়োজন সম্পন্ন হয়। 

ঢাকা ছাড়াও ঢাকার বাইরের বিভাগ, জেলা, উপজেলায় ইফতার আয়োজন করা হয়েছে।

ইফতারে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদক প্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী এবং নৃত্য পরিচালক আমানুল হক, সেলিনা হক, আইরিন পারভিন লোপা, দুলাল দেবনাথ, সাজু আহমেদ, মুনমুন আহমেদ, মাহফুজুর রহমান, আবদুল মতিন, ফারহানা চৌধুরী বেবী, তাবাসসুম আহমেদ, আতিকুর রহমান উজ্জল, অনিক বোস, কচি রহমান, ফাতেমা বেগম, সালমা মুন্নি, তোফায়েল আহমেদ, শহিদুল ইসলাম বাবু, নূর এ আলম চন্দন আরও অনেক গুণী নৃত্যশিল্পী।

সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা একুশে পদক প্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী মিনু হক।

জয়ন্ত/এমএ/

বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড পেলেন অধ্যাপক যতীন সরকার

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৪, ১০:১০ এএম
বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড পেলেন অধ্যাপক যতীন সরকার
অধ্যাপক ও লেখক ননী গোপাল সরকারের হাত থেকে এই অ্যাওয়ার্ড ও সনদপত্র গ্রহণ করছেন অধ্যাপক যতীন সরকার

প্রশংসনীয় ও গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড পেলেন স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত অধ্যাপক যতীন সরকার। 

শুক্রবার (৫ এপ্রিল) সকালে নেত্রকোনা শহরের সাতপাই নিজ বাসভবন বানপ্রস্থে অধ্যাপক ও লেখক ননী গোপাল সরকারের হাত থেকে এই অ্যাওয়ার্ড ও সনদপত্র গ্রহণ করেন অধ্যাপক যতীন সরকার। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ডের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক মো. রায়হান উদ্দিন সরকার, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু রায়হান, গৌরীপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন শাহীন, সাংবাদিক রেজাউল হাসান সুমন প্রমুখ। 

এ সময় অধ্যাপক যতীন সরকার বলেন, আমার বাড়িতে এসে আমার হাতে সম্মাননা তুলে দিলেন এ জন্য চিরকৃতজ্ঞ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে অ্যাওয়ার্ড নিতে পারলে ভালো লাগত। 

গত ৩০ মার্চ ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের শহিদ সাহাব উদ্দিন মিলনায়তনে দেশের ১৮ জন গুণীব্যক্তিকে বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে বার্ধক্যজনিত কারণে যোগ দিতে পারেননি অধ্যাপক যতীন সরকার। 

বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ও গৌরবোজ্জ্বল অবদানের জন্য এ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। 

অধ্যাপক যতীন সরকার শিল্পকলা, শিক্ষা, ভাষা ও সাহিত্য ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল ও প্রশংসনীয় অবদান রাখায় বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়াড-২০২২ এর জন্য মনোনীত করেছে দ্য ইলেক্টোরাল কমিটি ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড।

ইসরাত চৈতী/অমিয়/