ঢাকা ২২ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
রাবিতে ১০ লাখ টাকা বৃত্তি দেওয়ার আশ্বাস ভূমিমন্ত্রীর হোটেল আমারি ঢাকায় শুরু হলো ইন্টারন্যাশনাল লাঞ্চ বুফে নোয়াখালীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড বাংলা কিউআর প্রচারে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের র‌্যালি শেরপুরে শাশুড়ির ভরসায় পরীক্ষা দিলেন পুত্রবধূ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজের সুযোগ স্ত্রীকে হত্যা করে থানায় জিডি করতে গেলেন স্বামী, তারপর... দারাজে ৭.৭ সুপার সেভিংস সেল: বিশাল ছাড়, জ্যাকপট পুরস্কার ও কেনাকাটার দারুণ সুযোগ হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু সাঙ্গু নদীর উজানে ভ্রমণে সতর্কতা, আটকা দেড় শতাধিক পর্যটক নিম্নচাপের প্রভাবে হাতিয়ায় ফিরেছে শত শত মাছ ধরার ট্রলার পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ অধ্যায়ের ১৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র আজ বিশ্ব চুমু দিবস মেঘদূতের বার্তা নিয়ে আসে কদম চাঁদপুরে শর্টগান ও ১২ রাউন্ড গুলি জব্দ ঈশ্বরদীতে র‍্যাবের অভিযানে দেশি-বিদেশি অস্ত্র জব্দ, গ্রেপ্তার ৪ প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ যুবরাজের ক্রিশ্চিয়ান সার্ভিস সোসাইটিতে চাকরির সুযোগ, পদ ৩৫০ ঈশ্বরগঞ্জে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপিত শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে আইনি বাধা নেই: রুমিন ফারহানা গাজায় যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলের হামলা, নিহত ৪ ইয়ামাল জানালেন তার কঠিন প্রতিপক্ষের নাম ধামরাইয়ে গ্যাসের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ পানছড়িতে ইউপিডিএফ-জেএসএসের গোলাগুলি, ৩ জন নিহত চারঘাট-বাঘায় কোনো কাঁচা রাস্তা থাকবে না: এমপি চাঁদ চিটাগাং চেম্বার সভাপতির সাথে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধিদলের মতবিনিময় শ্রীলঙ্কায় কারাগারে সংঘর্ষে নিহত ২৫, আহত শতাধিক ইনডোর প্লেগ্রাউন্ডগুলোর কাছে একজন মায়ের অনুরোধ বাঁশখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ যুবকের মৃত্যু মৃত্যুর পর মরদেহ এফডিসিতে না নেওয়ার অনুরোধ রোজিনার

পাহাড়ি ফল বাহারি মেলা

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৪, ১১:০৫ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৪, ০৩:৩৬ পিএম
পাহাড়ি ফল বাহারি মেলা
বেইলি রোডের শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রে সাত দিনব্যাপী পাহাড়ি ফল মেলা শুরু হয়েছে। ছবি: খবরের কাগজ

কলার নাম সূর্যমুখী। মেঝের ওপর কাঁদি কাঁদি লাল রঙের সুস্বাদু এই কলা স্তূপ করে রাখা। মোচা অবস্থায় এরা সূর্যমুখী ফুলের মতোই সকাল থেকে সূর্যের গতিপথের দিকে ফিরে থাকে। বিশেষ রঙ আর বৈশিষ্ট্যের কারণে এ জাতের কলার নামকরণ করা হয়েছে সূর্যমুখী কলা।

আরও আছে চম্পা ফল। আকারে বাতাবি লেবুর মতো বড় সবুজ রঙের মসৃণ আবরণের এই ফল নজর কাড়ে প্রথম দর্শনেই। আছে বেতের বড় বড় ঝুড়ি ভর্তি রাম্বুটান, লংগান, আনারস, রাঙগুই আম, চিয়াংমাই আম, কিং অফ চাকাপাদ আম, লাল ড্রাগন ফল, বড় আকারের লটকন, পাকা পেঁপে, কাউফল, পেয়ারা, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ধরনের রসালো ফল।

তবে এসব সুস্বাদু ফল কেউ কিনতে চাইলেই রাজধানী ঢাকার বাজারে খুঁজে পাবেন না। কারণ এসব ফলের বিশেষত্ব হলো এগুলো বৃহত্তর বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে সমতলের বেড়ে ওঠা কেমিক্যালযুক্ত ফল নয়, বরং সুদূর সবুজ পাহাড়ের প্রাকৃতিক তরতাজা ফল।  

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শনিবার (৬ জুলাই) রাজধানীতে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী পাহাড়ি ফলের মেলা।

যান্ত্রিক শহরের বুকে এ যেন এক টুকরো পাহাড়ের চিত্র। ঢাকার প্রাণকেন্দ্র বেইলি রোডের শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রে করা হয়েছে এ মেলার আয়োজন। চলবে আগামী ১২ জুলাই শুক্রবার পর্যন্ত। সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এই মেলা। 

শনিবার মেলায় ঘুরে দেখা যায় স্টলভর্তি থরে থরে সাজানো স্বাদে গুণে ভরপুর এসব ফল। পাহাড়ি ফলের স্বাদ ও গন্ধের টানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে এসেছেন নানা বয়সী শত শত মানুষ। বেলা ১১ টায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের  প্রধান অতিথি হিসেবে মেলা উদ্বোধন করার পরপরই মানুষ ভিড় করে কিনে নেন পাহাড়ি এসব ফল। 

স্টলভেদে এসব ফল মান ও আকৃতির উপর ভিত্তি করে বিক্রি হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন দামে। সূর্যমুখী কলা স্টলভেদে ২৫০-৩০০ টাকা ডজন, পাহাড়ি বড় জাতের লটকন ১০০-১২০ টাকা কেজি, চম্পা ফল সাইজ অনুযায়ী ১০০-১৫০ টাকা, পাহাড়ের জনপ্রিয় ও সুস্বাদু আম রাঙগুইর কেজি ১০০-১২০  টাকা, ব্যানানা ম্যাংগো ২৫০ টাকা, চিয়াং মাই ৬০০ টাকা, কিং অব চাকাপাদ আম ৮০০ টাকা, পাহাড়ি ড্রাগন ফল ৪০০ টাকা, পাহাড়ি পেঁপে ১০০-১২০ টাকা, আনারস প্রতি পিস ১৫-৪০ টাকা, রাম্বুটান ৪০০ টাকা কেজি। বিভিন্ন ফল বিভিন্ন দরে বিক্রি করা হচ্ছে। 

এগুলো ছাড়াও রয়েছে পাহাড়ে উৎপন্ন ঐতিহ্যবাহী বিন্নি চাল, জুমের চাল, বাঁশের কোরাল, জুমের মিষ্টিকুমড়া, পাহাড়ি কাজুবাদাম, আচার, পাহাড়ি মরিচ, পাহাড়ি মধু, চিংড়ির বালাচাও, পাহাড়ি নারিকেল, তেজপাতা, শুকনা রোজেলাসহ নানারকম পাহাড়ি খাবার।  
অনুমা বনরূপা ফলভাণ্ডারের বিক্রেতা সুদীপ্ত চাকমা বলেন, ‘পাহাড়ি এসব ফলের স্বাদ,গুণ ও গন্ধ সমতলের ফলের চেয়ে অনেক ভিন্ন। এসব ফল সম্পূর্ণ বিষমুক্ত আর টাটকা। কিছু কিছু ফল আছে, যেগুলো সমতলের চেয়ে পাহাড়ি মাটিতে বেশি ভালো হয়।’ আবার কিছু ফল আছে যেগুলো পার্বত্য অঞ্চলের স্থানীয় লোকজন ছাড়া দেশের অন্য এলাকার মানুষ চেনেন না। এই পাহাড়ি ফল মেলায় তার অংশগ্রহণ করার উদ্দেশ্য, পাহাড়ি ফলগুলোকে দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরা।  

মিনাক্ষী স্টোরের মিনাক্ষী চাকমা খবরের কাগজকে বলেন, ‘পাহাড়ের মানুষের খাদ্যাভ্যাস আর চাষ পদ্ধতি দেশের অন্যান্য জায়গার মানুষের চেয়ে অনেক ভিন্ন। আমাদের পাহাড়ের জুমের চাল, বিন্নি চাল, জুমের মিষ্টিকুমড়া, বাঁশের কোরাল, পাহাড়ি মধু যে কেউ চাইলেই সহজে সংগ্রহ করতে পারে না। পাহাড়ি এলাকা ছাড়া অন্য বাজারে এসব পাওয়া যায় না। কিন্তু এ মেলায় এসে যে কেউ চাইলে সহজেই এগুলো কিনতে পারবেন। আমরা চাই আমাদের পাহাড়ি সংস্কৃতি ও খাবার সম্পর্কে মানুষ জানুক।’

মেলায় এসে পাহাড়ের জনপ্রিয় রাঙগুই আম কিনছিলেন সরকারি চাকরিজীবী ফারুক আহমেদ।

তিনি জানান, পাহাড়ি আবহাওয়া, মানুষ আর প্রকৃতির মতো পাহাড়ের ফলগুলোও অসাধারণ। কিন্তু ঢাকার ভেতর চাইলেও তো এসব ফল পাওয়া যায় না বা চাইলেই সহজে পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়া যায় না। তাই মেলা থেকেই অপূর্ব স্বাদের এসব ফল কিনছি। বাসায় বাচ্চাদের পাহাড়ি ফলের স্বাদ ও গুণের সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেওয়া যাবে।

সৃজন পাঠচক্রে ‘সংস্কৃতি: দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়’

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:২১ পিএম
সৃজন পাঠচক্রে ‘সংস্কৃতি: দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়’

সম্প্রতি বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে শিল্পসাহিত্যের সংগঠন ‘সৃজন’-এর পাঠচক্র। এবারের পাঠচক্রের প্রথম পর্বে বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও বিতার্কিক রাজীব সরকারের প্রবন্ধগ্রন্থ ‘সংস্কৃতি: দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়’ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট গবেষক ও লেখক ড. কুদরত-ই-হুদা এবং বিশিষ্ট গবেষক ও লেখক ড. নূর-ই আলম সিদ্দিকী। আলোচনার শুরুতেই ড. নূর-ই আলম সিদ্দিকী বলেন, সুকুমার বৃত্তির পরিচর্যাহীনতা মানুষকে সৃজনশীলতা থেকে দূরে রাখে। ফলে সুযোগ সন্ধানী দৃষ্টি প্রভাব বিস্তার করে এবং সৃষ্টি হয় বিচ্ছিন্নতা, যা মানুষকে সভ্যতা থেকে পেছনে ঠেলে দেয়। তখন ভেতরের মনস্তত্ত্ব মুনাফার জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠে এবং সত্যকে দূরে সরিয়ে দেয়। এই অন্ধকার হতে মুক্তি পেতে বই পড়া ও সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব তাই অপরিহার্য। রাজীব সরকারের বইটিতে সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সংকট তুলে ধরা হয়েছে।

‘সংস্কৃতি: দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়’ বই নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় ড. কুদরত-ই-হুদা বলেন, গ্রন্থটিতে এ অঞ্চলে সংস্কৃতির যে প্রভাবশালী স্বরূপ তার রূপায়ণ ঘটেছে। পাঠবিমুখ এ প্রতিকূল সময়ে লেখকের সংস্কৃতি চর্চার নিরলস প্রচেষ্টাকে তিনি সাধুবাদ জানান।

দুজনের আলোচনা শেষে ‘সংস্কৃতি: দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়’ বইটি নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে লেখক রাজীব সরকার বলেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে একটি দেশ উন্নত হতে পারে না। দেশের মানুষের চিন্তা-চেতনা যদি পরিশীলিত, উদার ও মানবিক না হয় তবে সব উন্নয়ন ব্যর্থ হয়ে যাবে। এ লক্ষ্যে সংস্কৃতিচর্চার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনই শিক্ষাকে পূর্ণাঙ্গ করতে পারে। সংস্কৃতি চর্চাকে শুধু রাজধানীতে সীমাবদ্ধ না রেখে তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত করতে তিনি আহ্বান জানান।

পাঠচক্রের দ্বিতীয় পর্বে সৃজন আয়োজিত মা দিবসের গল্প প্রতিযোগিতায় বিজয়ী প্রথম দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। প্রথম পুরস্কার বিজয়ী কাজী আজমিরী, দ্বিতীয় পুরস্কার বিজয়ী আল মামুন তালুকদার, তৃতীয় পুরস্কার বিজয়ী ফারহানা আশা। পুরস্কার গ্রহণ শেষে বিজয়ীরা তাদের স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

পাঠচক্রের শেষ পর্বের আয়োজনে ছিল কবি সফিকুল ইসলামের স্বরচিত একক কবিতা পাঠ এবং পঠিত কবিতার ওপর আলোচনা। সফিকুল ইসলামের পড়া সাতটি কবিতা মুগ্ধ হয়ে শুনেছেন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা।

সফিকুল ইসলামের কবিতা নিয়ে কবি, গল্পকার ও প্রাবন্ধিক প্রফেসর ড. আনোয়ারুল হক বলেন, কবি সফিকুল ইসলামের কবিতা সময়ের, আমাদের প্রতিদিনের আয়না। রাষ্ট্রের, সমাজের, নিজের চেহারা দেখার দিনলিপি। এই কবির ভাষা সহজ সরল এবং দৃষ্টিভঙ্গি সরস প্রজ্ঞার। কোনো আড়াল না রেখে তার কবিতার কথন স্পষ্ট কথাটাই বলেন। তার কবিতার বিষয় চক্ষুষ্মান, যা কিছু সামনে আছে তার সব এবং সবশেষে মানুষ। তাকে কবিতার ভুবনে সুস্বাগতম। সন্দেহ নেই, তিনি এই ভুবনে স্থায়ী হতেই এসেছেন অন্তর তাগিদে, মানবিক বোধে তাড়িত হয়ে। কবি সফিকুল ইসলামকে অভিনন্দন সুখপাঠ্য সুশ্রাব্য কবিতা শোনানোর জন্য।

সফিকুল ইসলামেরর কবিতা নিয়ে লেখক ও গবেষক ড. সেলিম আকন্দ বলেন, এই কবি সমাজের সমস্যা এবং সংকটকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তার কবিতায় অন্যায়ের বিরুদ্ধতা আছে। সুন্দরের প্রার্থনা আছে। তার অবস্থান ন্যায়ের পক্ষে। এই কবি কবিতায় যদি আরও বেশি মনোনিবেশ করেন, তাহলে তার হাত দিয়ে বাংলা কবিতা সমৃদ্ধ হতে পারে।

পঠিত কবিতার ওপর আলোচনা করতে গিয়ে কবি ও কথাসাহিত্যিক আহমেদ বাসার বলেন, সফিকুল ইসলামের কবিতায় বিরূপ সমাজ বাস্তবতা, স্বার্থান্বেষী মহলের অপতৎপরতা, মানবিক বিপর্যয় ও হৃদয়ের উষ্ণ অনুভব প্রকাশিত হয়েছে। কবিতাগুলো বক্তব্যপ্রধান এবং দৈনন্দিন কথোপকথনের ঢঙে লেখা। ফলে খুব সহজেই পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণে সক্ষম।

সৃজন পাঠচক্রের এই মনোমুগ্ধকর আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন কবি মজিদ মাহমুদ, লেখক ও গবেষক হুসাইন মোহাম্মদ জাকি, কবি জুননু রাইন, কবি কাব্য সুমী সরকার, কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার ফরিদুল ইসলাম নির্জন, কথাসাহিত্যিক খালিদা তালুকদার, কবি পলিয়ার ওয়াহিদ, নাট্যনির্মাতা মিতুল খান, কবি শারমিন হক, কবি সুলেখা আক্তার, কবি মোহাম্মদ ইমদাদ হোসেন, তৌহিদ আহাম্মেদ লিখন প্রমুখ। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনা ও সঞ্চালনায় ছিলেন কাজী সিনথিয়া জেরিন।

মোমেনার জন্মদিনে কোয়ান্টাম মঞ্চে ‘গোধূলিবেলায়’

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
মোমেনার জন্মদিনে কোয়ান্টাম মঞ্চে ‘গোধূলিবেলায়’
গোধূলি বেলায়’ নাটকে মোমেনা চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

মঞ্চনাটকের অন্যতম গুণী শিল্পী মোমেনা চৌধুরীর জন্মদিনে মঞ্চস্থ হয়েছে নাটক ‘গোধূলিবেলায়’।

 শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে ওয়াইএমসিএ ভবনে মঞ্চস্থ হয় নাটকটির। এটি শিল্পীর দ্বিতীয় একক নাটক। 

কোয়ান্টামের মাসিক ‘মিডিয়া সাদাকায়ন’ শেষে ঈদ পুনর্মিলন উপলক্ষে ‘গোধূলিবেলায়’ এর ১২তম মঞ্চায়নটি মঞ্চস্থ হয়। এটি মোমেনা চৌধুরীর লেখা দ্বিতীয় মঞ্চনাটক।

মোমেনা অভিনীত প্রথম একক নাটক ‘লাল জমিন’ দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হওয়ার পর এটি দ্বিতীয় একক। শূন্যন রেপার্টরি থিয়েটার মঞ্চে এনেছে নাটকটি। মোমেনা চৌধুরীর রচনায় নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন শামীম সাগর।

২০২৫ সালের জুনে নিউ ইয়র্কের জ্যামাইকা আর্টস সেন্টারে উদ্বোধনী মঞ্চস্থ হয়েছিল নাটকটি।

 মাহমুদুল আলম/এসএন

সুরের মূর্ছনায় ফিরল বর্ষার স্নিগ্ধতা

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ পিএম
সুরের মূর্ছনায় ফিরল বর্ষার স্নিগ্ধতা
ছায়ানট মিলনায়তনে সুফিয়া কামাল স্মারক বর্ষার অনুষ্ঠানে শিল্পীদের সম্মিলিত নৃত্যগীত পরিবেশনা। ছবি: খবরের কাগজ

বাইরে গনগনে রোদ, ভ্যাপসা গরমে নগরবাসীর নাভিশ্বাস অবস্থা। প্রকৃতিতে বর্ষার বৃষ্টির দেখা মিলুক বা না মিলুক, সুরের ধারা আর ছন্দের লহরী যেন বর্ষাকে নিয়ে এল ছায়ানটের আঙিনায়।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় সংগীতায়ন ছায়ানট আয়োজন করেছিল বর্ষার গানের অনুষ্ঠান। এই আয়োজনটি নিবেদিত ছিল ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি সুফিয়া কামালের স্মৃতির উদ্দেশ্যে।

পাকিস্তানের বৈরী সময়ে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের অনুপ্রেরণা ও নির্ভয়ে এগিয়ে চলার ‘বাতিঘর’ সুফিয়া কামালকে স্মরণ করা হয় পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়।

অনুষ্ঠানের সূচনা পর্বে ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা স্মরণ করিয়ে দেন, বর্ষা কেবল একটি ঋতু নয়, এটি জীবনের অন্তহীন প্রবাহের এক চিরন্তন উৎসব। তিনি বলেন, ‘বর্ষা আজ শুধু আকাশ থেকে ঝরে পড়বে না, নেমে আসুক আমাদের অনুভবে, আমাদের সংগীতে, আমাদের সম্মিলিত চেতনায়’।

ছায়ানট মিলনায়তনের ভেতরে তখন যেন বর্ষার নিজস্ব ভাষা তৈরি হয়েছে। শিল্পীরা একে একে পরিবেশন করেন বর্ষার নানা রাগ-রাগিণীর সুর। সম্মেলক নৃত্যগীত ‘চঞ্চল শ্যামল এলো গগনে’ দিয়ে শুরু হওয়া এই আয়োজনে মর্তুজা কবির মুরাদের বাঁশির সুরে মূর্ত হয়ে ওঠে প্রকৃতির ব্যাকুলতা। 

এরপর একে একে শোনা যায় ‘ভবনে আসিল অতিথি’, ‘আজি ঝড়ের রাতে’, ‘বরষা ঐ এলো বরষা’ কিংবা ‘বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল’-এর মতো চিরায়ত সব সুর।

শুধু গানেই নয়, রবীন্দ্রনাথের ‘ছিন্নপত্র’ পাঠ ও সুফিয়া কামালের ‘সাঁঝের মায়া’ আবৃত্তিতে অনুষ্ঠানের আবেশ আরও নিবিড় হয়ে ওঠে। সেতার ও যন্ত্রসঙ্গীতের মূর্ছনায় শ্রোতারা যেন হারিয়ে গিয়েছিলেন মেঘের গর্জন আর বৃষ্টির টুপটাপ শব্দের মাঝে।

বাইরের অসহ্য ভ্যাপসা গরমের বিপরীতে ছায়ানটের এই সুর ধারায় নিজেকে সমর্পণ করে উপস্থিত শ্রোতারা যেন খুঁজে পেলেন প্রতীক্ষিত শীতলতা। সম্মেলক গান, ‘রিমঝিম ঘন ঘন রে’ কিংবা ‘এসো শ্যামল সুন্দর’- সব মিলিয়ে বর্ষার এই আয়োজন যেন হয়ে উঠল প্রকৃতির অন্তহীন নব সৃজনের এক সার্থক উদযাপন।

জয়ন্ত সাহা/এএফ

চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার পেলেন ৬ লেখক

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০২:৩১ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার পেলেন ৬ লেখক
ছবি: খবরের কাগজ

দেশের ৬ গুণী লেখক পেলেন চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বেলা ১১টায় চাঁদপুর শহরের একটি অভিজাত চাইনিজ রেস্টুরেন্টের হলে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার প্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন চর্যাপদ একাডেমির মহাপরিচালক অ্যাডভোকেট কবি রফিকুজ্জামান রণি।

এ সময় তিনি বলেন, দুই বছরের পুরস্কার এক সঙ্গে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। ২০২৫-এ কবিতায় রহমান হেনরী, কথাসাহিত্যে আকিমুন রহমান, শিশুসাহিত্যে এনায়েত রসুল চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন।

২০২৬-এ কবিতায় জরিনা আখতার, প্রবন্ধসাহিত্যে প্রণব মজুমদার, নাটকে মোস্তফা কামাল যাত্রা পেয়েছেন চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার।  

একাডেমির সভাপতি আয়েশা আক্তার রুপার সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক শিউলী মজুমদার, সদস্য সচিব কামরুন্নাহার বিউটি, জুড়িবোর্ডের সদস্য সচিব নন্দিতা দাস, একাডেমি নিয়ন্ত্রণ পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুল্লা কাহাফ, পরিচালক ফেরারী প্রিন্স, নির্বাহী পরিচালক আইরিন সুলতানা লিমা, বিজ্ঞান ও আইসিটি পরিচালক রাসেল ইব্রাহীম, প্রচার ও প্রকাশনা পরিচালক নাজমুল ইসলাম ও প্যাপিরাস পাঠাগারের প্রধান পরিচালক মিজানুর রহমান স্বপন।

সভাপতি আয়শা আক্তার রুপা বলেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা রফিকুজ্জামান রণি বলেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি উপ-কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশবরেণ্য লেখকদের উপস্থিতিতে পুরস্কার প্রদানের আয়োজনটি সম্পন্ন করতে পারবো।

২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছর নিয়মিত এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। ইতোপূর্বে আশরাফ আহমদ, নাহিদা আশরাফী, হাসান আলী, শহীদুল্লাহ ফরায়জী, মোহাম্মদ আজাদ হোসেন, হোসেন দেলওয়ার, মিল্টন খন্দকার, হাসনাত আমজাদ, গৌরাঙ্গ সাহা, রকিব লিখন, জামসেদ ওয়াজেদ, মজিদ মাহমুদ, হামিদ কায়সার, তপন বাগচী, মনি হায়দার, বীরেন মুখার্জী, মিলু শামস, স্বরূপ রতন দত্ত, ফারহানা রহমান, রকিবুল হাসান, মাসুদুল হক, পারভীন সুলতানা, হেনরী স্বপন, নিলুফা আক্তার, মামুন রশীদ এবং প্রত্যয় হামিদসহ দেশের অনেক গুণীজনের হাতে উঠেছে এ পুরস্কার।

এবারের আয়োজনে অনুষ্ঠান পার্টনার কনসেপ্ট আইএলটিএস অ্যান্ড স্পোকেন সেন্টার চাঁদপুর ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল ফোকাস মোহনা ডট কম।

ফয়েজ/থিওটোনিয়াস/

মঙ্গোলিয়ার ‘নাদাম ফেস্টিভ্যালে’ সিলেটের রাজীব চৌধুরী

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
মঙ্গোলিয়ার ‘নাদাম ফেস্টিভ্যালে’ সিলেটের রাজীব চৌধুরী
রাজীব চৌধুরী

মঙ্গোলিয়ার জাতীয় ঐতিহ্যবাহী ‘নাদাম ফেস্টিভ্যালে’ বাংলাদেশ থেকে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দিচ্ছেন সিলেটের চৈতন‍্য প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী ও ভ্রমণলেখক রাজীব চৌধুরী। 

মঙ্গোলিয়ার আর্টস কাউন্সিলের আমন্ত্রণে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটোরের উদ্দেশ্যে রওনা করেছেন। আগামীকাল তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন এই উৎসব মঙ্গোলিয়ার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও যাযাবর ঐতিহ্যের প্রতীক। উৎসবে ঐতিহ্যবাহী কুস্তি, ঘোড়দৌড়, তীরন্দাজি, লোকসংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। 

সফরকালে রাজীব চৌধুরী ১০ থেকে ১২ জুলাই অনুষ্ঠিত নাদাম ফেস্টিভ্যালের বিভিন্ন আয়োজন পর্যবেক্ষণ করবেন। এছাড়া তিনি গোবি মরুভূমি, প্রাচীন মঙ্গোল সাম্রাজ্যের রাজধানী কারাকোরাম এবং উলানবাটোরের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থাপনা পরিদর্শন করবেন।

মঙ্গোলিয়া রওনার আগে রাজীব চৌধুরী খবরের কাগজকে জানান, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য মঙ্গোলিয়ার সংস্কৃতি, ইতিহাস ও যাযাবর জীবনধারা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন এবং নাদাম ফেস্টিভ্যালকে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বাংলা ভাষার পাঠকদের কাছে তুলে ধরা।

সফর শেষে তিনি মঙ্গোলিয়াকে নিয়ে ভ্রমণবিষয়ক লেখা ও প্রতিবেদন এবং  ভিডিও স্টোরি প্রকাশ করবেন বলে জানান।

সিলেটের চৈতন্য প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী রাজীব চৌধুরী এর আগে কপ সম্মলনে আমন্ত্রিত হয়ে ব্রাজিলসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। পাশাপাশি তিনি ভারত ও নেপাল পরিভ্রমণ করে সেখানকার দুটো পর্বত আরোহনে অংশ নেন। 

ভ্রমণ ছাড়াও রাজীব চৌধুরী বাংলাদেশের পরিবেশবাদী ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

অমিয়/