আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সভ্যতাকে যতই বিকশিত হোক না কেন, পিতৃতান্ত্রিক সমাজ কাঠামো নারীকে অবরুদ্ধ করে রাখতে চায় চারদেয়ালের অন্তরালে। সামাজিক কুপ্রথা তাকে বন্দি করতে চায় অন্ধ প্রকোষ্ঠে। ঘরে বন্দি সেই নারীও একদিন প্রতিবাদী হয়; হয়তো তার প্রকাশ ক্ষুদ্র। প্রতিবাদী সেই নারীর স্বাধীনতা ও স্বকীয়তার অনুসন্ধান চলে প্রতিদিন।
পৌরাণিক কথকতার পাশাপাশি বাঙালি সমাজ ব্যবস্থার একাল-সেকালে ঘরে বন্দি নারীর শহুরে জীবনকে জলরঙ আর অ্যাক্রেলিকের ক্যানভাসে বিমূর্ত করে তুলেছেন শিল্পী শৈলী শ্রাবন্তী।
তার আঁকা ৪৭টি চিত্রকর্ম নিয়ে সোমবার (২৫ আগস্ট) থেকে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের লা গ্যালারিতে শুরু হয়েছে ৯ দিনব্যাপী প্রদর্শনী ‘এই শহরের হাওয়াবিবি’। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে প্রদর্শনীর দুয়ার।
শৈলী শ্রাবন্তী বলেন, ‘হাওয়াবিবি—এক পৌরাণিক প্রতীকী চরিত্র, যিনি নিঃশব্দে নগরভূমিতে বিচরণ করেন। তিনি সমাজ, সংস্কৃতি ও প্রতীকের মধ্যকার সেই সব শক্তিকে পর্যবেক্ষণ করেন, যা নারীর জীবনের গতিপথ নির্ধারণ করে।’
তিনি জানান, তার শিল্পকর্মে মিশ্র মাধ্যমের পাশাপাশি প্রাচ্যচিত্রের ঐতিহ্যবাহী কৌশল মিলিত হয়েছে সমসাময়িক উপাদানের সঙ্গে—যেমন জলরঙের ওয়াশ, অ্যাক্রিলিক, কলম, মাটি এবং স্থানীয় উপকরণ। এর মধ্য দিয়ে তিনি প্রাচীন ও আধুনিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা অনুসন্ধান করেছেন যা যুগে যুগে নারীর স্বাতন্ত্র্যকে আবদ্ধ করে রেখেছে।
শৈলী শ্রাবন্তী বলেন, ‘নারী জীবনের অভিজ্ঞতায় মিথ, স্মৃতি ও শহুরে জীবন কীভাবে একসূত্রে গাঁথা, তা প্রত্যক্ষ করার জন্য হাওয়াবিবি এক অনন্য দৃষ্টিকোণ হয়ে ওঠে। আমার ছবিগুলো মনে করিয়ে দেবে, প্রতিদিনের জীবনে লুকিয়ে থাকা প্রতিরোধের ক্ষুদ্র অথচ শক্তিশালী প্রকাশগুলোকে। নারী প্রতিদিন স্বাধীনতা, স্বকীয়তা ও কণ্ঠের অবিরাম সন্ধান করে চলেন এমন এক পৃথিবীতে, যা এখনও পিতৃতান্ত্রিক কাঠামোর প্রভাব বহন করছে।’
শৈলী শ্রাবন্তী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে ওরিয়েন্টাল আর্টে বিএফএ ও এমএফএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তার শিল্পচর্চায় সমসাময়িক প্রাচ্যকলা কৌশল ও পৌরাণিক আখ্যানের সমন্বয়ে নারীর বহুমুখী অভিজ্ঞতা প্রতিফলিত হয়েছে। প্রতীকী ও সূক্ষ্ম দৃশ্যভাষার (ভিজ্যুয়াল ফর্ম) মাধ্যমে তিনি সংগ্রাম, সহনশীলতা ও রূপান্তরকে অন্বেষণ করেন। তার শিল্পকর্ম নারীর অবস্থানকে নতুন দৃষ্টিকোণে উপস্থাপন করে।
জয়ন্ত সাহা/