ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
গাছ লাগান, সওয়াব কামান পাসপোর্ট ও বিদেশযাত্রার প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে জটিলতা দূর, বাংলাদেশে টিভির পর্দায় দেখা যাবে ফুটবল বিশ্বকাপ মাস্টার বাড়ি কোরবানির চামড়া বিক্রিতে ধস বড়বাড়ি সীমান্তে ১০ নারী-পুরুষকে পুশইনের চেষ্টা কৃষি শব্দকোষ নড়াইলে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫ ঝিনাইদহের এসপি প্রত্যাহার টাঙ্গাইলে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে আবারও সংঘর্ষ ঝিনাইদহে গাছ থেকে ঝুলন্ত নারীর মরদেহ উদ্ধার জীবনধারা বদলান, বিদ্যুৎ সাশ্রয় করুন সোনারগাঁয় মেঘনা টোলপ্লাজায় লরির ধাক্কায় আহত ৬ খবরের কাগজে পদোন্নতি-বাণিজ্যের প্রতিবেদন প্রকাশ: তদন্তে নেমেছে আইন মন্ত্রণালয় ফরিদপুরে হামে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১ মেধাবীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রবণতা কী বার্তা দিচ্ছে পারিশ্রমিক না পেয়ে ম্যাচ বয়কট ব্রাদার্সের ক্রিকেটারদের অস্তিত্ব সংকটে হাঁড়িধোয়া নদী উত্তরবঙ্গ শিল্পোন্নত হোক দীনেশচন্দ্র সেন ও লোককাহিনির মঞ্চ-পরিবাহন মোস্তফা কামালের বিষাদ বসুধা স্বাধীনতার অবিনাশী ছাত্র ও যুব নেতৃত্ব চাকরি দিচ্ছে ওয়ালটন, রয়েছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: জীবনযাত্রা হবে আরও ব্যয়বহুল বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ক্ষুধা লাগলে মায়ের চিতায় ছুটে যান ৩ ভাই নওগাঁ সীমান্তে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের নেইমারকে ছাড়াই খেলবে ব্রাজিল সুন্দর পুরুষ টিভিতে আজকের খেলা
Nagad desktop

বাঙালির মননের প্রতিভূ কাজী নজরুল ইসলাম

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৫, ০৮:২৪ এএম
বাঙালির মননের প্রতিভূ কাজী নজরুল ইসলাম
অলংকরণ: নিয়াজ চৌধুরী তুলি

বাঙালির মননের এবং বাংলাদেশের জাতিসত্তার প্রতিভূ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। বাঙালির ব্যক্তি মানসের সকল ভাবানুভূতি, প্রেম-ভালোবাসা, আনন্দ-বেদনা, অর্জন-বিসর্জন, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, আন্দোলন-সংগ্রাম, দুর্যোগ-দুর্বিপাক এবং জাতীয় ক্ষেত্রে বড় বড় যে সব অর্জন ও প্রাপ্তি রয়েছে তার প্রধান প্রেরণাদাতা কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি আমাদের রণ-সংগীতের রচয়িতা। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সঙ্গে তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছেন। তার কবিতা, সংগীত, গল্প, প্রবন্ধ এবং অনুবাদ কর্ম শুধু সাহিত্য কর্ম হিসেবে নয়, অনিঃশেষ উদ্দীপনা ও পরম প্রেরণা হিসেবে বিরাট ভূমিকা পালন করছে। 

১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে এক অতি দরিদ্র পরিবারে কাজী নজরুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন। দারিদ্র্যের কারণে বারবার তার পড়াশোনা বিঘ্নিত হয়। মক্তবে পড়াশোনাকালে ওই মক্তবেই শিক্ষকতা করেন। পাশাপাশি মুয়াজ্জিনের চাকরি করেন। অর্থ উপার্জনের জন্য লেটো গানের দলে যোগ দেন। সেখানে গান লিখেন, অভিনয় করেন। স্কুলের গণ্ডি পেরোবার আগেই ১৯১৭ সালে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। সেনাবাহিনীতে থাকার সময় সাহিত্যিক হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে। করাচি থেকে কলকাতায় ফিরে কবি ও লেখক হিসেবে তিনি সুনাম অর্জন করেন। বিদ্রোহী কবিতা প্রকাশের পর তার সুখ্যাতি ভারতীয় উপমহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। ক্রমে তিনি পরিচিতি পান কবি, সংগীতজ্ঞ, ছোট গল্পকার, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সম্পাদক, সুরকার, বংশীবাদক, গায়ক এবং অভিনেতা হিসেবে। অগ্নিবীণা, বাঁধনহারা, বিষের বাঁশি, প্রলয়োল্লাস, ধূমকেতু ইত্যাদি তার প্রধানস্থানীয় গ্রন্থের পাশাপাশি গান, তিনটি উপন্যাস, ১৯টি ছোট গল্প এবং পাঁচটি প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন।

তিনি তার সুগঠিত স্বাস্থ্য, ডাগর চোখ, বাবরি চুল, আত্মভোলা বোহেমিয়ান স্বভাব এবং প্রাণখোলা হাসির জন্য বিখ্যাত ছিলেন। ধূমকেতু পত্রিকায় ১৯২২ সালের ২৬শে সেপ্টেম্বর তার ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতাটি প্রকাশিত হলে ব্রিটিশ সরকার নজরুলকে একই সালের ২৩ নভেম্বর গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে রাজদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়। ১৯২৩ সালের ৭ জানুয়ারি আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিনি জবানবন্দি দেন। এটি বাংলা সাহিত্যে রাজবন্দির জবানবন্দি নামে মর্যাদা লাভ করে। ব্রিটিশ সরকার তাকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়। এর প্রতিবাদে তিনি অনশন করেন। জেলখানায় থাকা অবস্থায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ‘বসন্ত’ নাটকটি নজরুলকে উৎসর্গ করেন। এই খুশিতে জেলে বসে তিনি আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে কবিতাটি রচনা করেন। 

শৈশবে ধর্মীয় শিক্ষায় দীক্ষিত হলেও তিনি বড় হয়েছেন ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক সত্তা নিয়ে। যেখানে তিনি অনাচার, অবিচার, শোষণ ও নির্যাতন দেখেছেন, সেখানেই তিনি তার প্রতিবাদের কলম ধরেছেন। গেয়েছেন সাম্য ও মানবতার গান। তিনি যেমন বিদ্রোহী কবি ছিলেন, তেমনি ছিলেন প্রেমের কবি। নিজেই তার এ দ্বৈতসত্তার কথা তিনি উচ্চারণ করেছেন- মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আরেক হাতে রণ-তূর্য। প্রেম ও দ্রোহের পাশাপাশি মানবেন্দ্রীয়র যত রকম অনুভূতি আছে, সব রকম অনুভূতি নিয়ে তিনি সাহিত্য রচনা করেছেন। 

কাজী নজরুল ইসলাম প্রকৃত অর্থে ছিলেন প্রতিভাধর সৃষ্টিশীল কবি। রবীন্দ্র যুগে তিনি নতুন একটি স্বতন্ত্র কাব্যধারা সৃষ্টি করেছিলেন। তিনিই প্রথম আরবি ও ফারসি শব্দযোগে বাংলা কবিতায় নতুন প্রাণপ্রবাহ সৃষ্টি করেছেন। তিনি প্রথম কবি যিনি শ্যামা সংগীত রচনা করেছেন, আবার ইসলামিক গজল রচনা করেছেন। তাকে ছাড়া মুসলমানের রোজা শুরু হয় না, ঈদ শুরু হয় না। আবার হিন্দুদের কীর্তন তাকে ছাড়া অসম্পূর্ণ থেকে যায়। মূলত দ্রোহ ও প্রেমের পাশাপাশি বাঙালি নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ। তা সত্ত্বেও তিনি ধর্মান্ধ হিন্দু ও মুসলমানদের দ্বারা বারবার আক্রান্ত হয়েছেন। তাকে কাফের ফতোয়া দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি আসলে হিন্দু মুসলমান জাতির মহামিলন কামনা করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘কেউ বলেন আমার বাণী যবন, কেউ বলেন কাফের, আমি বলি ও দুটোর কোনোটাই না। আমি শুধু হিন্দু মুসলমানকে এক জায়গায় ধরে নিয়ে হ্যান্ডশেক করানোর চেষ্টা করেছি, গালাগালিকে গলাবলিতে পরিণত করার চেষ্টা করেছি।’

১৯৪২ সালে তিনি স্নায়বিক অসুস্থতায় মারাত্মক আক্রান্ত হন। ফলে আকস্মিকভাবে তার সক্রিয়তার অবসান ঘটে। ১৯৭২ সালে কলকাতা থেকে তাকে ঢাকায় আনা হয়। ১৯৭৬ সালে তাকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়। তাকে অভিষিক্ত করা হয় বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে। ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডিলিট ডিগ্রিতে ভূষিত করে। দেওয়া হয় একুশে পদক এবং স্বাধীনতা পুরস্কার। ভারত সরকার তাকে পদ্মভূষণ খেতাবে ভূষিত করে। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় তার জীবনাবসান ঘটে। 

মূলত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি, জাতিসত্তার কবি, প্রাণের কবি, সার্বভৌম এবং ভালোবাসার কবি। বাংলা সাহিত্যকে তিনি অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছেন। আজ ৫০তম প্রয়াণ দিবসে কবির প্রতি সহস্র প্রণতি ও প্রতীতি রইল।

৬ ঘণ্টা পরে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম-সিলেটের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:৫০ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
৬ ঘণ্টা পরে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম-সিলেটের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফুটবল খেলা নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে বন্ধ থাকা ট্রেন চলাচল ছয় ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত ১টা ৫০ মিনিটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

জানা গেছে, প্রায় ১৪-১৫ দিন আগে পৌর এলাকার পঞ্চবটী ও জগন্নাথপুরের তরুণদের মধ্যে একটি ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই ফুটবল খেলায় দুই গ্রামবাসীর ছেলেদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জগন্নাথপুরের সোহেল মিয়ার ছেলে লিয়ামকে (১৭) পঞ্চবটীর ছেলেরা মেরে আহত করে।

মারামারির খবর জগন্নাথপুর এলাকায় ছড়িয়ে পরলে ভৈরব রেলস্টেশনের ১ ও ২ নম্বর প্লাটফর্ম দখল করে দুই গ্রামবাসী সংঘর্ষে জড়ায়। ঘটনার খবর পেয়ে প্রথমে রেলওয়ে পুলিশ, ভৈরব থানা পুলিশ, র‍্যাব, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবুও এ ঘটনায় প্রায় ছয় ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়ে পাঁচটি ট্রেন।

ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আবু ইউসুফ বলেন, রাত ১টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী মহানগর গোধূলি ট্রেন চলাচলের মধ্য দিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ কে এম মামুনুর রশিদ (ইউএনও) বলেন, আমরা ধৈর্য সহকারে চেষ্টা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছি। যারা রাষ্ট্র ও রেলের সম্পত্তি ক্ষতি সাধনের সঙ্গে জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

নাঈম/

বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ স্মারক গ্রন্থের জন্য লেখা আহ্বান

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ স্মারক গ্রন্থের জন্য লেখা আহ্বান
মোহাম্মদ আবদুর রউফ। ছবি: সংগৃহীত

বরেণ্য ব্যক্তিত্ব বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ-এর কর্মময় জীবন নিয়ে স্মারক গ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে বারাকাহ ফাউন্ডেশন।

প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে আমৃত্যু কাজ করে গেছেন। 

নাগরিক সমাজের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব বিচারপতি রউফ দেশ-জাতির কল্যাণে সবসময় বলিষ্ঠ কন্ঠ ছিলেন। ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি ইন্তেকাল করেন। 

দেশ-বিদেশে তার অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা এই স্মারক গ্রন্থে লেখা, স্মৃতিচারণ, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের ছবি ও তথ্য দিয়ে অংশ নিতে পারেন। নির্বাচিত লেখা ও বিষয় অন্তর্ভুক্ত হবে। 

আগামি ৯ জুনের মধ্যে লেখা, ছবি ও তথ্য পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে। 

ঠিকানা: দি বারাকাহ ফাউন্ডেশন, ১৮ শহিদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার রেলগেট, ঢাকা-১২১৭ 
ই-মেইল: [email protected] 

হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর: ০১৩২১ ১৪৩৫২৮, ০১৩২১ ১৪৩৫২০ নাম্বারে তথ্য পাঠাতে পারেন।

 

এসএন/

১৪ সংগঠনের বিবৃতি নজরুলের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’-এর শতবর্ষ উদযাপনে দেশব্যাপী কর্মসূচির আহ্বান

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
নজরুলের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’-এর শতবর্ষ উদযাপনে দেশব্যাপী কর্মসূচির আহ্বান
আঁকা: নিয়াজ চৌধুরী তুলি


জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী গান ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার’-রচনার শতবর্ষ পূর্তি হয়েছে। এ উপলক্ষে ১৪টি সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় কবির ‘কাণ্ডারি হুঁশিয়ার’ গান ও কবিতার শতবর্ষ পালনের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

সংকটময় সামাজিক বাস্তবতায় কবি নজরুলের সৃষ্টিসম্ভার ও সাম্যবাদী চেতনার প্রাসঙ্গিকতাকে বিশেষভাবে স্মরণ করে এই যৌথ বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের প্যাডে ১৪টি সংগঠনের পক্ষে এক যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই কথা জানানো হয়েছে। 

সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ নজরুলসঙ্গীত সংস্থা,  জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদ, জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থা, বাংলাদেশ সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, জাতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষা আন্দোলন; বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী উল্লেখ্যযোগ্য।

বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯২৬ সালে আত্মধ্বংসী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ক্ষুব্ধ ও বিচলিত হয়ে কাজী নজরুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে এই কালজয়ী গানটি রচনা করেন এবং এতে সুরারোপ করেন। ওই বছরের ২২ মে কৃষ্ণনগরে আয়োজিত প্রাদেশিক সম্মেলনে তিনি প্রথম গানটি গেয়ে শোনান।  পরবর্তীতে ‘কাণ্ডারি হুঁশিয়ার’ শিরোনামে গানটি ‘বঙ্গবাণী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ‘কালিকলম’ পত্রিকায় এর নজরুল-কৃত স্বরলিপি প্রকাশ পায়। 

১৯২৬ সালের জুন মাসেই নজরুল ঢাকায় এসে মুসলিম সাহিত্য সমাজের বার্ষিক অধিবেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই গানটি পরিবেশন করেছিলেন।  
যৌথ বিবৃতিতে সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজকে ধর্মাদর্শকে বিকৃত করে অধর্মাচার মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে, সমাজমানস কলুষিত করে হিংসা-বিদ্বেষ ও ঘৃণা সঞ্চার করছে। অপর ধর্ম, অপর বিশ্বাস ও অপর আচারকে সহিষ্ণুভাবে আঘাত হানছে। এসময় নজরুলের ‘কাণ্ডারি হুঁশিয়ার’ আমাদের সতর্ক করে দিচ্ছে।  এই গানের শতবর্ষ উদযাপনের মধ্য দিয়ে বর্তমান সংকট থেকে মুক্তির দিশা খুঁজে পাওয়া সম্ভব।’

জয়ন্ত সাহা/এসএন

নওগাঁয় সড়ক দুর্ঘটনায় যুবদল নেতা নিহত

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম
নওগাঁয় সড়ক দুর্ঘটনায় যুবদল নেতা নিহত
দুর্ঘটনায় নিহত যুবদল নেতা পলাশ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁয় সড়ক দুর্ঘটনায় যুবদল নেতা পলাশ হোসেন (৩৩) নিহত হয়েছেন। তিনি বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়ন যুবদলের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। 

সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যার দিকে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া জিয়া নগরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

স্বজনরা জানান, বিকেলে পলাশ ও পাহাড়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিল্লুর রহমান মাস্টার বগুড়া থেকে মোটর সাইকেলে নওগাঁয় আসছিলেন। সন্ধ্যার কিছু আগে জেলার দুপচাঁচিয়া জিয়া নগর অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজির সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পলাশ মারা যান। তার সঙ্গে থাকা জিলু রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয়রা। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বদলগাছী থানার ওসি (তদন্ত) নজরুল ইসলাম জানান, মরদেহ এখনও দুপচাঁচিয়া পুলিশ হেফাজতেই আছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে মরদেহ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। 

হারুন/নাঈম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশি বাধায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’র প্রদর্শনী বন্ধ

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশি বাধায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’র প্রদর্শনী বন্ধ
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় দর্শকনন্দিত 'বনলতা এক্সপ্রেস' সিনেমোর প্রদর্শনী বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ ও প্রশাসন।

শনিবার (৩০ মে) রাতে কসবা উপজেলার তালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুলিশ গিয়ে প্রদর্শনী বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন আয়োজক আদিব রেজা রঙ্গণ।

তিনি তালতলা গ্রামের বাসিন্দা এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)- এর শিক্ষার্থী।

এর আগে শনিবার বিকেলে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের বিরোধীতার কারণে জেলা সদরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে 'বনলতা এক্সপ্রেস'- এর প্রদর্শনী স্থগিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সিনেমাটি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল সংগঠনটি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা সদরে প্রদর্শনী স্থগিত হওয়ার কারণে কসবার তালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে 'বনলতা এক্সপ্রেস' সিনেমা প্রদর্শনীর আয়োজন করে কার্টুনিস্ট আদিব রেজা রঙ্গণ। তবে সিনেমা প্রদর্শনী শুরুর আগমুহূর্তে কসবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানজিল কবির ও কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানার নেতৃত্বে পুলিশ গিয়ে প্রদর্শনী বন্ধ করে দেয়।

প্রদর্শনীর আয়োজক আদিব রেজা রঙ্গণ বলেন, আমাদের পারিবারিক একটি প্রীতিভোজের আয়োজন ছিল। ভোজ শেষে রাত ১১টায় সিনেমা প্রদর্শনীর কথা ছিল। এজন্য পর্দা এবং চেয়ার প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু প্রদর্শনী শুরুর ১৫ মিনিট আগে পুলিশ আসে। ৫-৭ গাড়ি পুলিশ এসেছিল। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং থানার ওসিও ছিলেন। তারা জানায় যে, সিনেমাটা নিয়ে জেলা শহরে বিতর্ক চলছে। সেজন্য এটা বন্ধ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ওনাদেরকে আমি বুঝিয়েছি যে সিনেমাটাতে অশ্লীল কিছু নেই। বিতর্কের কোনো কারণ নেই। কিন্তু তারা শেষ পর্যন্ত আমাদের প্রদর্শন করতে দেয়নি।

তবে ৫-৭ গাড়ি পুলিশ নিয়ে সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধের অভিযোগ অস্বীকার করে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, আমাদের একজন অফিসার ও দুইজন কনস্টেবল এবং আমি ও এসিল্যান্ড গিয়েছিলাম। ৭ গাড়ি পুলিশ কোথায় পাব? এতো পুলিশ আমার থানাতেও নেই। সিনেমা প্রদর্শনীর অনুমতি আছে কিনা- সেট জানার জন্যই আমরা গিয়েছিলাম। কিন্তু অনুমতি না থাকায় তারাই প্রদর্শনী বন্ধ করে দেয়।

কসবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানজিল কবির বলেন, ওখানে রাতের বেলা একটা প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়েছিল মনে হয়। একজন অভিযোগ করে সেখানে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে। তখন থানা পুলিশ বিষয়টি অবগত হয়। কিন্তু আমরা সেখানে গিয়ে সিনেমা প্রদর্শনীর কিছু দেখতে পাইনি। পরবর্তীতে ওনারাও বলেছেন যে এখানে কোনো আয়েজন নাই, সবকিছু সরিয়ে নিচ্ছি।

আজিজুল সঞ্চয়/এসএন