ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শান্তি নিদ্রা আব্বার সেই ম্লান হাসিটা আমাকে তাড়া করে বেড়িয়েছে বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ পানির বোতল যে বই কেউ ছাপতে চায়নি সেই বইয়ের বুকার জয় ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে ভর্তি আরও ১৯ শিশু বেড়েছে মুরগি, কাঁচা মরিচ-কাঁচা পেঁপের দাম বাতাসে যেন আগুনের হলকা, কষ্টে প্রাণিকুল তিন ক্যাটাগরিতে রিটেইল এশিয়া অ্যাওয়ার্ডস পেল এপেক্স ফুটওয়্যার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও যাত্রীবাহী বাস পড়ল পদ্মা নদীতে চুয়াডাঙ্গায় পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার খুলনায় হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড় গোপালগঞ্জে দুই বাসের সংঘর্ষ, নিহত ২ ৬ ঘণ্টা পরে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম-সিলেটের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক কর্মস্থলে গরমে হাঁসফাঁস ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে আসছে ত্রৈমাসিক ব্যবস্থা পর্যটন খাতে তাপের প্রভাব বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনের খসড়া অনুমোদন ইসলামী ব্যাংকের অধিকাংশ শাখায় কলমবিরতি হয়নি নাটোরে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু বেলকুচিতে বাসচাপায় অটোভ্যানের ৩ যাত্রী নিহত বন্ধ শিল্প ও প্রতিষ্ঠান সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল ফেনীতে প্রখর রোদে দুর্ভোগে খেটে খাওয়া মানুষ বজ্রপাতে চার জেলায় নিহত ১০ দিলারার রেকর্ড গড়া ইনিংসে বাংলাদেশের জয় কৃষ্ণচূড়ার রাঙা মঞ্জরি ৫ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল তৃণমূলে বিদ্রোহের নেপথ্যে ‘ভাইপোবিরোধী’ হাওয়া বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ ৫ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ৫ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
Nagad desktop

শতবর্ষের আলোয় উজ্জ্বল পাঁচ বরণীয়: শ্রদ্ধার্ঘ্য ‘রোহিণী’র

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০০ এএম
শতবর্ষের আলোয় উজ্জ্বল পাঁচ বরণীয়: শ্রদ্ধার্ঘ্য ‘রোহিণী’র
রোহিণী’র প্রচ্ছদ

সমকালীন বিষয়কে চিরকালীন করে তোলার প্রচেষ্টা ও সেই প্রচেষ্টার অনিন্দ্য উজ্বল দৃষ্টান্ত পাঠকের দরবারে পৌঁছে দেওয়ার মহার্ঘ কাজটি ধারাবাহিকভাবে করে চলেছে ‘রোহিণী’। সম্পাদক  পার্থপ্রতিম পাঁজার স্বতন্ত্র ভাবনায় ‘রোহিণী’র প্রতিটি সংখ্যাই হয়ে ওঠে বিশেষ সংখ্যা। রোহিণী ও হাতে গোনা কয়েকটি পত্রিকার ঔজ্জ্বল্য অবলীলায় মুছে দেয়, লিটল ম্যাগের চিরকেলে তকমা। বাজার চলতি বাণিজ্যিক পত্র-পত্রিকাগুলিকে প্রায়শই পিছনে ঠেলে দিয়ে ভাবনা-চিন্তা ও তার সম্যক বিন্যাসে ক্রমশ অগ্রণী ভূমিকা নিচ্ছে রোহিণী। 

২০২৬ সালে যে নতুন বছরকে পেলাম আমরা, আপামর বাঙালির কাছে এই সালটির মহিমাই আলাদা। এক সঙ্গে চারজন বাঙালির প্রাণের মানুষ ও ইতালি তথা বিশ্বখ্যাত নাট্যকার ও নাট্যব্যক্তিত্ব দারিও ফো’র জন্মশতবর্ষ হচ্ছে এই সালে। যাঁরা জন্মেছিলেন ঠিক আজি হতে শতবর্ষ আগে। বাঙালির প্রাণের মানুষ এই চারজন হলেন, বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক উত্তমকুমার, বাংলার ক্ষণজন্মা কবি, যিনি তাঁর ক্ষণকালের জীবদ্দশায় সর্বহারার কবি আখ্যায় ভূষিত হয়ছিলেন, সেই কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য, প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও হাজার চুরাশির মা মহাশ্বেতা দেবী, ও অপরূপ গদ্যভাষার ভাস্কর ও ব্যতিক্রমী কবি মণীন্দ্র গুপ্ত। এঁদের জন্মশতবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলির মহার্ঘ ডালা সাজিয়েছেন পার্থপ্রতিম পাঁজা তাঁরই সম্পাদিত ‘রোহিনী’ পত্রিকায়। সেই মহিমা নিয়েই ‘রোহিণী’ পত্রিকা স্বাতন্ত্রে উজ্জ্বল ও ভাস্বর। 

আবারও বলতে হয়, পত্রিকাকে বিষয়ভিত্তিক করে লিটল ম্যাগের ধারণাটাই আমূল বদলে দিয়েছে গুটিকয়েক পত্রিকা। ‘রোহিণী’ তার প্রথম সারিতে উঠে এসেছে। সেই রোহিণীই নতুন বছর ২০২৬-এর বইমেলা সংখ্যায় প্রথমার স্তম্ভে উঠে বিজয়ধ্বজা উড়িয়ে দিয়েছে। নিবিড় নিষ্ঠা, সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও একাগ্র আন্তরিকতা দিয়ে কীভাবে পত্রিকাকে ঔজ্জ্বল্য এনে দিতে হয়, সম্পাদক  পার্থপ্রতিম পাঁজা তর্জনী তুলে মহামান্য পাঠককে তা দেখিয়েও দিলেন। 

উত্তমকুমারকে যত দেখা যায়, তত নতুন মনে হয়। তাঁর সম্পর্কে মানুষের জানার আকাঙ্খাও যেন ফুরাবে না। সম্পাদক সেই সত্যকে সম্যক অনুধাবন করে চিরনতুন মহানায়কের যারপরনাই অনাবিষ্কৃত দিকগুলি উন্মোচনের জন্য তেরোজন বিদগ্ধ ও বিশিষ্টজনকে কলম ধরিয়ে দিয়েছেন। এঁদের মধ্যে প্রথমেই রয়েছেন সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়। তিনি লিখছেন,... ইহলোকে তিনিই উত্তম। প্রমথেশ বড়ুয়া থেকে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় সকলেই ছদ্মবেশী দেবতা।...আসলে ইতিহাস ছাড়া উত্তমকুমারের স্থায়ী সঙ্গিনী কেউই নেই। না সুচিত্রা, না সুপ্রিয়া ও মাধবী, না অপর্ণা অথবা অরুন্ধতী।  এভাবেই গোটা প্রবন্ধজুড়ে সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় তাঁর গভীর মননশীল গূঢ় দ্যোতনায় চমৎকৃত করেছেন। ‘প্রেমিক উত্তম’ শীর্ষক মনোজ্ঞ লেখাটি লিখেছেন, শঙ্করলাল ভট্টাচার্য। 

তাছাড়াও উত্তমকুমারকে নিয়ে কলম ধরেছেন, রতনকুমার নন্দী, সৈয়দ হাসমত জালাল, ঋতব্রত ভট্টাচার্য, রাজীব শ্রাবণ, শঙ্কর ঘোষ, সিদ্ধার্থ সিংহ, অরুণ অধিকারী, সুমন ভট্টাচার্য, অংশুমান চক্রবর্তী, দেবল চক্রবর্তী, উপগুপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায়। 

মহাশ্বেতা দেবীর জন্মশতবর্ষে কালি ও কলমে অর্ঘ্য দিলেন, বাঁধন সেনগুপ্ত, তপোধীর ভট্টাচার্য, তপন বন্দ্যোপাধ্যায়, সুমহান বন্দ্যোপাধ্যায়, বীরেন শাসমল, দেবাঞ্জন চক্রবর্তী, উমা মাজি মুখোপাধ্যায়, চৈতালী ব্রহ্ম,সালেহা খাতুন, প্রীতম চক্রবর্তী, অভিনব গুপ্ত, বাসুদেব মোশেল, অরিন্দম আচার্য, কালীপদ চক্রবর্তী, বিবর দত্ত, শঙ্খ অধিকারী, সৌরভকুমার ভূঞ্যা ও পার্থপ্রতিম পাঁজা। 

বাঁধন সেনগুপ্ত তাঁর লেখায় বিজন ভট্টাচার্যর হাত ধরে খুকুদি অর্থাৎ মহাশ্বেতা দেবীর পরিসরে নিয়ে গেছেন পাঠককে। সত্তরের উত্তাল দিনেই লেখকের মহাশ্বেতা দেবীর সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ঘটে। একটা জ্বলন্ত সময়কেও ছুঁয়ে হাজার চুরাশির মাকে প্রতিষ্ঠা দিয়ে গেলেন লেখক।

সুকান্ত ভট্টাচার্যকে নিয়ে কলম ধরেছেন, পবিত্র সরকার। তাঁর লেখায় কিছুটা বিতর্কের ধরণে তত্ত্বের কথা আছে। সুকান্তর বিভিন্ন কবিতায় অংশবিশেষ উল্লেখ করে তিনি সুগভীর তত্ত্বকথা বলেছেন। চন্দন নাথও তাঁর লেখায় সুকান্ত শুধুমাত্র ‘কবি’ হয়ে উঠতে চাননি। হয়ে উঠতে চেয়েছেন একজন সংগঠক। 

১৯৪৬ সালে মেজো বউদি রেণু দেবীকে সুকান্ত তাঁর মনের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি কবি বলে নির্জনতাপ্রিয় হব, আমি কি সেই ধরণের কবি? আমি যে জনতার কবি হতে চাই...কবির চেয়ে বড় কথা আমি কমিউনিস্ট।’

কবি চন্দন নাথের লেখার মতো এই একই প্রসঙ্গ ধরা পড়ে সোমঋতা মল্লিকের লেখাতেও। তবে সোমঋতা কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের সর্বহারা ও সাধারণ মানুষের কবি হয়ে ওঠার আশ্চর্য ক্ষমতাকে বোঝাতে বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলামকেও তাঁর প্রবন্ধের প্রতিপাদ্য বিষয় করেছেন। তাঁর প্রবন্ধের শিরোনামই তা বলে দেয়, ‘নজরুল ও সুকান্ত : বিদ্রোহের দুই স্বর’। 

তিনি সুকান্তর কবিতার লাইনের উদ্ধৃতি দেওয়ার আগে নজরুলের কবিতার উদ্ধৃতি তুলে ধরে বলেছেন, নজরুল ও সুকান্তর ভাবনা কোথায় যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। দুই কবিই সোজাসাপটা ঝাপটা দিয়ে গেছেন তাঁদের কাব্যে। সাধারণ মানুষকে তা সততই আন্দোলিত করেছে। অনেকে নাক উঁচু করলেও স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘বিদগ্ধ বাগবিন্যাসের যেমন মূল্য আছে, সহজ, সরল, তীব্র ও ঋজু বাক্যের মূল্যও কিছু কম নয়...’

স্বয়ং সম্পাদক পার্থপ্রতিম পাঁজাও একটি অভিনব বিষয় তুলে ধরেছেন তাঁর মননশীল প্রবন্ধে। তিনি লিখেছেন, ‘বাংলা ভাষায় প্রথম পথনাটকের পতাকাবাহী : সুকান্ত ভট্টাচার্য’। নিঃসন্দেহে বিষয়টি অভিনব। সুকান্ত ভট্টাচার্য কবিতা ও তাঁর বিদ্রোহী মন-চেতনার প্রসঙ্গ এলেও এই দিকটি মনে হয় অনাবিষ্কৃতই ছিল। সেই দিকটি উন্মোচিত হল সম্পাদকের কলমের আলোয়। 

কবি ও চিত্রশিল্পী শ্যামল জানা লিখেছেন, প্রগতিশীল চেতনার উল্লেখযোগ্য কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য। তাছাড়া সুকান্তকে নিয়ে কলম ধরেছেন, আনসার উল হক, ইমানুল হক, হাননান আহসান, নির্মল করণসহ ঊনিশজন। 

কবি মণীন্দ্র গুপ্তকে নিয়ে কলম ধরেছেন, শ্যামলকান্তি দাশ, সুমন গুণ, পূর্বা মুখোপাধ্যায়, অংশুমান কর, গৌতম মণ্ডল, তাপস রায়, সুদীপ্ত মাজি, প্রবীর মণ্ডলসহ পনেরজন কবি। শ্যামলকান্তি দাশ একগুচ্ছ কবিতা লিখেছেন কবি মণীন্দ্র গুপ্তের কথা মনে রেখে। সুমন গুণ লিখেছেন, মণীন্দ্র গুপ্ত : আসক্ত পৌরুষ। অংশুমান কর লিখেছেন, মণীন্দ্র গুপ্তর কবিতায় কাহিনির ব্যবহার। গৌতম মণ্ডল লিখেছেন, অস্তিত্ব ও অনুচ্চার: মণীন্দ্র গুপ্তর কবিতায় নিবিড় পাঠ। 

জন্মশতবর্ষের শেষ ব্যক্তিত্ব ইতালির বিশ্বখ্যাত নাট্যকার দারিও ফো। শুরুতেই স্বয়ং দারিও ফো-র বক্তৃতা সরাসরি শোনার ব্যক্তিগত অনন্য অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছেন বাংলাদেশের প্রণম্য নাট্য ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। তারপর দারিও ফো: থিয়েটারের জীবন্ত ম্যাজিশিয়ান লিখেছেন চন্দন সেন। 

প্রবীর গুহ লিখেছেন, দারিও ফো থিয়েটার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রান্তরে নিয়ে গেলেন। সৌমেন্দু ঘোষ লিখেছেন, এক বিস্ময়কর নাট্যজন: দারিও ফো। বাংলাদেশের আর এক স্বনামধন্য নাট্য ব্যক্তিত্ব আবদুস সেলিম লিখেছেন, দারিও ফো ও ফ্র্যাঙ্কা রামে দম্পতির যৌথ নারীবাদ, নাট্যযুদ্ধ বিষয়ে। দারিও ফো’কে নিয়ে কলম ধরেছেন, সৌমিত্রকুমার চ্যাটার্জী ও কৃশানু ব্যানার্জীও। 

৫৪৪ পাতার এই পত্রিকাটি অবশ্যই ব্যক্তিগত সংগ্রহে রাখার মতো। পরিচ্ছন্ন ও ঝকঝকে ছাপা। সুন্দর একটি প্রচ্ছদ এঁকেছেন শুভঙ্কর রায়। অলঙ্করণও করেছেন শুভঙ্কর। একটি মননশীল সম্পাদকীয় লিখেছেন পার্থপ্রতিম পাঁজা। 

‘রোহিণী’
সম্পাদক: পার্থপ্রতিম পাঁজা
প্রকাশক: রোহিণী নন্দন, কলকাতা-১২
দাম: ৪৯৯ টাকা।

৬ ঘণ্টা পরে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম-সিলেটের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:৫০ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
৬ ঘণ্টা পরে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম-সিলেটের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফুটবল খেলা নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে বন্ধ থাকা ট্রেন চলাচল ছয় ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত ১টা ৫০ মিনিটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

জানা গেছে, প্রায় ১৪-১৫ দিন আগে পৌর এলাকার পঞ্চবটী ও জগন্নাথপুরের তরুণদের মধ্যে একটি ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই ফুটবল খেলায় দুই গ্রামবাসীর ছেলেদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জগন্নাথপুরের সোহেল মিয়ার ছেলে লিয়ামকে (১৭) পঞ্চবটীর ছেলেরা মেরে আহত করে।

মারামারির খবর জগন্নাথপুর এলাকায় ছড়িয়ে পরলে ভৈরব রেলস্টেশনের ১ ও ২ নম্বর প্লাটফর্ম দখল করে দুই গ্রামবাসী সংঘর্ষে জড়ায়। ঘটনার খবর পেয়ে প্রথমে রেলওয়ে পুলিশ, ভৈরব থানা পুলিশ, র‍্যাব, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবুও এ ঘটনায় প্রায় ছয় ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়ে পাঁচটি ট্রেন।

ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আবু ইউসুফ বলেন, রাত ১টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী মহানগর গোধূলি ট্রেন চলাচলের মধ্য দিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ কে এম মামুনুর রশিদ (ইউএনও) বলেন, আমরা ধৈর্য সহকারে চেষ্টা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছি। যারা রাষ্ট্র ও রেলের সম্পত্তি ক্ষতি সাধনের সঙ্গে জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

নাঈম/

বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ স্মারক গ্রন্থের জন্য লেখা আহ্বান

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ স্মারক গ্রন্থের জন্য লেখা আহ্বান
মোহাম্মদ আবদুর রউফ। ছবি: সংগৃহীত

বরেণ্য ব্যক্তিত্ব বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ-এর কর্মময় জীবন নিয়ে স্মারক গ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে বারাকাহ ফাউন্ডেশন।

প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে আমৃত্যু কাজ করে গেছেন। 

নাগরিক সমাজের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব বিচারপতি রউফ দেশ-জাতির কল্যাণে সবসময় বলিষ্ঠ কন্ঠ ছিলেন। ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি ইন্তেকাল করেন। 

দেশ-বিদেশে তার অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা এই স্মারক গ্রন্থে লেখা, স্মৃতিচারণ, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের ছবি ও তথ্য দিয়ে অংশ নিতে পারেন। নির্বাচিত লেখা ও বিষয় অন্তর্ভুক্ত হবে। 

আগামি ৯ জুনের মধ্যে লেখা, ছবি ও তথ্য পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে। 

ঠিকানা: দি বারাকাহ ফাউন্ডেশন, ১৮ শহিদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার রেলগেট, ঢাকা-১২১৭ 
ই-মেইল: [email protected] 

হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর: ০১৩২১ ১৪৩৫২৮, ০১৩২১ ১৪৩৫২০ নাম্বারে তথ্য পাঠাতে পারেন।

 

এসএন/

১৪ সংগঠনের বিবৃতি নজরুলের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’-এর শতবর্ষ উদযাপনে দেশব্যাপী কর্মসূচির আহ্বান

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
নজরুলের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’-এর শতবর্ষ উদযাপনে দেশব্যাপী কর্মসূচির আহ্বান
আঁকা: নিয়াজ চৌধুরী তুলি


জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী গান ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার’-রচনার শতবর্ষ পূর্তি হয়েছে। এ উপলক্ষে ১৪টি সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় কবির ‘কাণ্ডারি হুঁশিয়ার’ গান ও কবিতার শতবর্ষ পালনের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

সংকটময় সামাজিক বাস্তবতায় কবি নজরুলের সৃষ্টিসম্ভার ও সাম্যবাদী চেতনার প্রাসঙ্গিকতাকে বিশেষভাবে স্মরণ করে এই যৌথ বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের প্যাডে ১৪টি সংগঠনের পক্ষে এক যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই কথা জানানো হয়েছে। 

সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ নজরুলসঙ্গীত সংস্থা,  জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদ, জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থা, বাংলাদেশ সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, জাতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষা আন্দোলন; বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী উল্লেখ্যযোগ্য।

বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯২৬ সালে আত্মধ্বংসী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ক্ষুব্ধ ও বিচলিত হয়ে কাজী নজরুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে এই কালজয়ী গানটি রচনা করেন এবং এতে সুরারোপ করেন। ওই বছরের ২২ মে কৃষ্ণনগরে আয়োজিত প্রাদেশিক সম্মেলনে তিনি প্রথম গানটি গেয়ে শোনান।  পরবর্তীতে ‘কাণ্ডারি হুঁশিয়ার’ শিরোনামে গানটি ‘বঙ্গবাণী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ‘কালিকলম’ পত্রিকায় এর নজরুল-কৃত স্বরলিপি প্রকাশ পায়। 

১৯২৬ সালের জুন মাসেই নজরুল ঢাকায় এসে মুসলিম সাহিত্য সমাজের বার্ষিক অধিবেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই গানটি পরিবেশন করেছিলেন।  
যৌথ বিবৃতিতে সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজকে ধর্মাদর্শকে বিকৃত করে অধর্মাচার মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে, সমাজমানস কলুষিত করে হিংসা-বিদ্বেষ ও ঘৃণা সঞ্চার করছে। অপর ধর্ম, অপর বিশ্বাস ও অপর আচারকে সহিষ্ণুভাবে আঘাত হানছে। এসময় নজরুলের ‘কাণ্ডারি হুঁশিয়ার’ আমাদের সতর্ক করে দিচ্ছে।  এই গানের শতবর্ষ উদযাপনের মধ্য দিয়ে বর্তমান সংকট থেকে মুক্তির দিশা খুঁজে পাওয়া সম্ভব।’

জয়ন্ত সাহা/এসএন

নওগাঁয় সড়ক দুর্ঘটনায় যুবদল নেতা নিহত

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম
নওগাঁয় সড়ক দুর্ঘটনায় যুবদল নেতা নিহত
দুর্ঘটনায় নিহত যুবদল নেতা পলাশ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁয় সড়ক দুর্ঘটনায় যুবদল নেতা পলাশ হোসেন (৩৩) নিহত হয়েছেন। তিনি বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়ন যুবদলের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। 

সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যার দিকে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া জিয়া নগরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

স্বজনরা জানান, বিকেলে পলাশ ও পাহাড়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিল্লুর রহমান মাস্টার বগুড়া থেকে মোটর সাইকেলে নওগাঁয় আসছিলেন। সন্ধ্যার কিছু আগে জেলার দুপচাঁচিয়া জিয়া নগর অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজির সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পলাশ মারা যান। তার সঙ্গে থাকা জিলু রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয়রা। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বদলগাছী থানার ওসি (তদন্ত) নজরুল ইসলাম জানান, মরদেহ এখনও দুপচাঁচিয়া পুলিশ হেফাজতেই আছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে মরদেহ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। 

হারুন/নাঈম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশি বাধায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’র প্রদর্শনী বন্ধ

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশি বাধায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’র প্রদর্শনী বন্ধ
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় দর্শকনন্দিত 'বনলতা এক্সপ্রেস' সিনেমোর প্রদর্শনী বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ ও প্রশাসন।

শনিবার (৩০ মে) রাতে কসবা উপজেলার তালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুলিশ গিয়ে প্রদর্শনী বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন আয়োজক আদিব রেজা রঙ্গণ।

তিনি তালতলা গ্রামের বাসিন্দা এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)- এর শিক্ষার্থী।

এর আগে শনিবার বিকেলে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের বিরোধীতার কারণে জেলা সদরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে 'বনলতা এক্সপ্রেস'- এর প্রদর্শনী স্থগিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সিনেমাটি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল সংগঠনটি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা সদরে প্রদর্শনী স্থগিত হওয়ার কারণে কসবার তালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে 'বনলতা এক্সপ্রেস' সিনেমা প্রদর্শনীর আয়োজন করে কার্টুনিস্ট আদিব রেজা রঙ্গণ। তবে সিনেমা প্রদর্শনী শুরুর আগমুহূর্তে কসবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানজিল কবির ও কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানার নেতৃত্বে পুলিশ গিয়ে প্রদর্শনী বন্ধ করে দেয়।

প্রদর্শনীর আয়োজক আদিব রেজা রঙ্গণ বলেন, আমাদের পারিবারিক একটি প্রীতিভোজের আয়োজন ছিল। ভোজ শেষে রাত ১১টায় সিনেমা প্রদর্শনীর কথা ছিল। এজন্য পর্দা এবং চেয়ার প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু প্রদর্শনী শুরুর ১৫ মিনিট আগে পুলিশ আসে। ৫-৭ গাড়ি পুলিশ এসেছিল। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং থানার ওসিও ছিলেন। তারা জানায় যে, সিনেমাটা নিয়ে জেলা শহরে বিতর্ক চলছে। সেজন্য এটা বন্ধ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ওনাদেরকে আমি বুঝিয়েছি যে সিনেমাটাতে অশ্লীল কিছু নেই। বিতর্কের কোনো কারণ নেই। কিন্তু তারা শেষ পর্যন্ত আমাদের প্রদর্শন করতে দেয়নি।

তবে ৫-৭ গাড়ি পুলিশ নিয়ে সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধের অভিযোগ অস্বীকার করে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, আমাদের একজন অফিসার ও দুইজন কনস্টেবল এবং আমি ও এসিল্যান্ড গিয়েছিলাম। ৭ গাড়ি পুলিশ কোথায় পাব? এতো পুলিশ আমার থানাতেও নেই। সিনেমা প্রদর্শনীর অনুমতি আছে কিনা- সেট জানার জন্যই আমরা গিয়েছিলাম। কিন্তু অনুমতি না থাকায় তারাই প্রদর্শনী বন্ধ করে দেয়।

কসবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানজিল কবির বলেন, ওখানে রাতের বেলা একটা প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়েছিল মনে হয়। একজন অভিযোগ করে সেখানে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে। তখন থানা পুলিশ বিষয়টি অবগত হয়। কিন্তু আমরা সেখানে গিয়ে সিনেমা প্রদর্শনীর কিছু দেখতে পাইনি। পরবর্তীতে ওনারাও বলেছেন যে এখানে কোনো আয়েজন নাই, সবকিছু সরিয়ে নিচ্ছি।

আজিজুল সঞ্চয়/এসএন