ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩১, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

শখের গাড়ি সাজাতে যা যা লাগবে

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:০৯ পিএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:০২ এএম
শখের গাড়ি সাজাতে যা যা লাগবে

অনেক দিনের স্বপ্ন নিজের একটা গাড়ি হবে। একদিন স্বপ্নটা পূরণ হয়ে গেল। অনেক শখের গাড়িটি কিনে ফেললেন। এবার মনের মতো করে শখের গাড়িটি সাজানোর পালা। বর্তমান সময়ে যানজটে গাড়িতে অনেক সময় কাটাতে হয়। চলমান পথে এই ভ্রাম্যমাণ নীড়কে রুচিশীল উপায়ে সাজানো যায়। গাড়ির ভেতরে জায়গা কম থাকে, কথাটি মাথায় রেখে সাজসজ্জা করতে হবে। এই সীমিত জায়গার জন্য এমন সব জিনিস কিনতে হবে যা ভেতরের জায়গা কমাবে না, বরং গাড়ির সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি কাজেও লাগবে। জানাচ্ছেন আবরার জাহিন

সিট কভার


নিয়মিত গাড়ি ব্যবহারের জন্য সিট কভার লাগানো অপরিহার্য হয়ে পড়ে। গাড়ির ভেতরের সৌন্দর্য অনেকটাই নির্ভর করে গাড়ির সিট কভারের ওপর। সিট কভার দেখতে নান্দনিক হলে গাড়ির ভেতরের পরিবেশ বহুগুণে মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে। সিট কভার পছন্দ করার সময় ময়লার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। এমন রঙের সিট কভার বাছাই করতে হবে যা দ্রুত ময়লা হয় না। ময়লা হলেও চোখে পড়বে না। পছন্দের সঙ্গে মানানসই রং, ভালো মানের কাপড় দিয়ে সিট কভার বানান।রেডিমেড বা নিজের পছন্দমতো বানিয়ে নিতে পারেন।

ফ্লোর ম্যাট


গাড়ির যত্নে ফ্লোর ম্যাটের গুরুত্ব অনেক। বাজারে বিভিন্ন ধরনের ফ্লোর ম্যাট পাওয়া যায়। এর মধ্যে পছন্দমতো ফ্লোর ম্যাট বেছে নিন। এটি ব্যবহারে গাড়ির ভেতর সরাসরি কাদা, পানি ও ময়লা পড়ে না। বাজারে কার্পেট, রাবার, থ্রি-ডি, প্রিমিয়াম ফ্যাব্রিক ফ্লোর ম্যাটসহ নানা ধরনের ফ্লোর ম্যাট পাওয়া যায়।

স্টিয়ারিং কভার


গাড়ি চালোনায় স্বাচ্ছন্দ্য থাকা জরুরি। আর এই গাড়ি চালানোকে আরামদায়ক করতে পারে স্টিয়ারিং কভার। এই স্টিয়ারিং কভার গাড়ি চালানোয় স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে। বাজারে চামড়ার বা সিনথেটিকের দেশি-বিদেশি নানা রকম স্টিয়ারিং কভার পাওয়া যায়। মান ও ডিজাইন ভেদে বিভিন্ন দামের হয়ে থাকে। নিজের পছন্দ, আরাম ও সামর্থ্য অনুযায়ী স্টিয়ারিং কভার কিনুন।

মোবাইল স্ট্যান্ড/হোল্ডার


গাড়ি চালানোর সময় কল বা মেসেজ আসে। এ সময় বারবার পকেট বা ব্যাগ থেকে মোবাইল বের করা ঝামেলা মনে হয়। আর গাড়ি চালানোর সময় অন্য দিকে নজর দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণও বটে। এতে যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ড্যাশবোর্ড বা উইন্ডোতে সুন্দর একটি মোবাইল স্ট্যান্ড বা হোল্ডার যুক্ত করে এর সমাধান করা যায়। এ ছাড়া গাড়ি চালানোর সময় জিপিএস বা গুগল ম্যাপ দেখার জন্য মোবাইল হোল্ডার বেশ কাজে দেয়। সহজে কল কেটে দেওয়া বা ড্রাইভ করার সময় জরুরি কথা বলতে গাড়িতে সুন্দর মোবাইল স্ট্যান্ড বা হোল্ডার প্রয়োজন। যদিও গাড়ি চালানোর সময় যথাসম্ভব মোবাইলে কথা বলা বাদ দেওয়া উচিত।

কি ফাইন্ডার
অনেক সময় চাবি খুঁজে পাওয়া যায় না। খুব সহজে চাবির রিং খুঁজে পাওয়ার জন্য রিংয়ের সঙ্গে কি ফাইন্ডার যুক্ত করুন।

সিট বেল্ট কভার


নিরাপত্তার জন্য সিটবেল্ট ব্যবহার করতে হয়। তবে সিটবেল্ট বারবার ব্যবহারের নোংরা হয়ে যায়। এটি পরিষ্কার করা একটু কষ্টকর হয়। তাই সিটবেল্টে কভার ব্যবহার করুন। বিভিন্ন ডিজাইনের সিটবেল্ট কভার পাওয়া যায়।

কার সান শেড


অনেক সময় গাড়িতে চলাফেরার সময় সূর্যের আলো চোখে পড়ে। তীব্র আলোয় গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে যায়। গাড়িতে বসে থাকতেও ভালো লাগে না। এ জন্য সান শেড ব্যবহার করতে পারেন। 

কার চার্জার


গাড়িতে চলাচলের সময় মোবাইলের চার্জ শেষ হয়ে যাওয়া অসুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। গাড়িতে উঠে দেখলেন মোবাইলে চার্জ শেষ। অথচ মোবাইল চার্জ করার অন্য কোনো উপায়ও নেই। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যার সমাধান করবে কার চার্জার। এটি ইউএসবি পোর্ট আছে এমন যেকোনো গাড়িতেই ব্যবহার করা যায়। এর মাধ্যমে মোবাইল, ট্যাব, পাওয়ার ব্যাংকসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস চার্জ করার জন্য ব্যবহার করা যায়। এটি ছোট আকারের ও হালকা ওজনের হয়ে থাকে। বাজারে বিভিন্ন দামের কার চার্জার পাওয়া যায়।

কার পারফিউম
গাড়ির ভেতরের পরিবেশকে সুগন্ধযুক্ত ও সতেজ রাখার জন্য গাড়িতে সুগন্ধির ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। এক্ষেত্রে স্প্রে কর যায় এমন সুগন্ধি ব্যবহার করুন। এ ছাড়া ড্যাশবোর্ডে, এসি ভেন্টে আটকে রাখলে সুগন্ধ ছড়ায় এমন কার পারফিউমও ব্যবহার করা যায়। এগুলো বিভিন্ন রং, ফুল, ফল, পশুপাখিসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় আকারের পাওয়া যায়। যা সুগন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি শোপিসের মতো শোভাও বাড়ায়। বিভিন্ন ধরনের কার পারফিউম পাওয়া যায়। স্প্রে বোতল ব্যবহার করা সহজ ও দ্রুত সুগন্ধ ছড়ায়। এছাড়া জেলও ব্যবহার করা যায়।ল দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে স্প্রের তুলনায় কম  সুগন্ধ ছড়ায়। এ ছাড়া ভেন্ট ক্লিপ এসি ভেন্টে আটকে রাখা যায়। দীর্ঘস্থায়ী সুগন্ধের জন্য জেল বা ডিফিউজার ব্যবহার করুন। পছন্দ অনুযায়ী তীব্র বা হালকা সুগন্ধের পারফিউম কিনুন। অ্যালকোহলমুক্ত পারফিউম ব্যবহার করুন। বিকল্প সুগন্ধি হিসেবে গাড়ির ভেতরে প্রাকৃতিক ফুল রাখুন। যা সুবাসের সঙ্গে গাড়ির ভেতরে শোভা বাড়াবে। 

নেক পিলো
দীর্ঘ যাত্রায় বসে থেকে অনেকের ঘাড় ও কাঁধে ব্যথা হতে পারে। এই সমস্যার দারুণ সমাধান নেক পিলো। এটি ঘাড়ের স্বাভাবিক ভঙ্গি বজায় রাখে। এই বালিশ দেখতে ঘোড়ার খুরের আকৃতির হয়। বেশি নরম বা শক্ত না হয় এমন বেছে নিন। এটি ঘাড়ে জড়িয়ে ঘুমালে অপ্রস্তুত অবস্থায় ঘাড় বেঁকে ব্যথা পাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে না। বিভিন্ন দাম ও মানের নেক পিলো বাজারে পাওয়া যায়।

টিস্যু বক্স কভার
গাড়িতে টিস্যু বক্স থাকা অত্যাবশ্যক। তবে সাধারণ কাগজের টিস্যু বক্স গাড়ির ভেতরে নকশার সঙ্গে মানানসই নাও হতে পারে। এ জন্য টিস্যু বক্স কভার ব্যবহার করুন। ফ্যাশনেবল টিস্যু বক্স কভার ভেতরের পরিবেশ আকর্ষণীয় করে তোলে। আবার ময়লা থেকে টিস্যুগুলোকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। বিভিন্ন রং, ডিজাইনে এটি পাওয়া যায়। গাড়িতে ভিতরের নকশার সঙ্গে মানানসই টিস্যু বক্স কভার রাখুন। চামড়া, কাপড়, কাঠসহ নানা ধরনের, নানা দামের টিস্যু বক্স কভার কিনতে পাওয়া যায়। 

ব্যাকপেইন রিলিফ কুশন
বেশি সময় গাড়ি চালালে পিঠে ও কোমরে ব্যথা হতে পারে। আর যাদের আগে থেকেই ব্যথার সমস্যা আছে, তাদের জন্যও দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানো বেশ কষ্টকর হয়। এরকম সমস্যায় আরাম পেতে গাড়িতে রাখতে পারেন ব্যাকপেইন রিলিফ কুশন। এটি দেখতে জালিযুক্ত ও পিঠের আকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাঁকানো হয়। এটি রাবারের সাহায্যে গাড়ির সিটের সঙ্গে আটকে রাখা যায়।

মিরর হ্যাঙ্গিং
গাড়ির সামনের আয়না নানা ধরনের অনুষঙ্গ দিয়ে সাজানো যায়। কারে ঝুলানো যায় এমন জিনিসপত্রও বাজারে পাওয়া যায়। অনেকে আবার নিজের পছন্দের জিনিসও ঝুলিয়ে রাখতে ভালোবাসেন। সুন্দর চাবির রিং, ছোট পুতুল, শোপিস, প্রিয়জনের ছবি, ধর্মীয় নাম, উক্তি কিংবা তসবিহ দিয়েও সাজানো যায় গাড়ির সামনের এই অংশ।

সফট টয়
ছোট প্রাইভেট কারের পেছনের ব্যাক উইন্ডোর সামনের ছোট্ট খালি অংশে অনেকে ছোট বালিশ, কুশন বা সফট টয় রাখতে পছন্দ করেন। এগুলো গাড়ির সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায়। এগুলো মাথা বা পিঠের পেছনে রেখে আরাম করা যায়। গাড়ির আকার ও পেছনে জায়গার বিষয় মাথায় রেখে এসব কিনুন। 

সিটব্যাক স্টোরেজ
সাধারণত গাড়ির সামনের দুই সিটের পেছনেই একটি করে কোনো কিছু রাখার ব্যবস্থা থাকে। তবে মাত্র দুটি পকেট অনেকের কাছে কম মনে হতে পারে। আবার জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখাও কষ্টকর হতে পারে। এক্ষেত্রে কিনে নিতে পারেন বেশি পকেটসহ সিটব্যাক স্টোরেজ।

নিজের গাড়ি মনের মতো সাজাতে পারলে যেমন বেশ ভালো লাগে, তেমনি উন্নত রুচির পরিচয় দেয়। রাজধানী ঢাকার বাংলামোটর, মগবাজার, মহাখালীর কার পার্টস মার্কেটসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় এসব জিনিস পাবেন। চাইলে অনলাইন থেকেও এসব কিনতে পারবেন।

জাহ্নবী

জিপের তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘ওয়াগনিয়ার এস’

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪, ১২:৩৫ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ০৮:৩০ পিএম
জিপের তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘ওয়াগনিয়ার এস’

বর্তমানে বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইলেকট্রিক ভেহিকেলের (ইভি) বাজার প্রতিনিয়ত বড় হচ্ছে, সঙ্গে বাড়ছে উৎপাদন ব্যবস্থা। গাড়ি নির্মাতাগুলোও এ বাজারে যুক্ত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আমেরিকান গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জিপ দেশটির বাজারে ‘ওয়াগনিয়ার এস’ মডেলের নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি উন্মোচন করেছে।

ওয়াগনিয়ার এস মডেলের গাড়িটির সর্বোচ্চ গতি হবে প্রতি ঘণ্টায় ৩০০ মাইল। গাড়িতে রয়েছে ১০০ কিলোওয়াটের ব্যাটারি, যা মাত্র ২৩ মিনিটে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করা যায়। ফোর হুইল ড্রাইভ সুবিধার গাড়িটি সর্বনিম্ন ৩ দশমিক ৪ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতি তুলতে পারে। ড্যাশবোর্ডে রয়েছে ৪৫ ইঞ্চি পর্দার বিশাল ডিজিটাল ডিসপ্লে। গাড়িতে রয়েছে ‘অটো’, ‘স্পোর্ট’, ‘ইকো’, ‘স্নো’ ও ‘স্যান্ড’ নামের পাঁচটি ড্রাইভ মোড, যা সব ধরনের রাস্তায় চালানোর উপযোগী করে তুলেছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সাধারণ ইভির তুলনায় ওয়াগনিয়ার এস মডেলের গাড়ি ৩৫ শতাংশ নিঃশব্দে চলবে। গাড়িটি চলতি বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ বাজারে আসবে। এটির জন্য গাড়িপ্রেমীদের খরচ করতে হবে ৭১ হাজার ৯৯৫ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮৪ লাখ ২৩ হাজার টাকা (১ ডলার = ১১৭ টাকা ধরে)। বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা রয়েছে জিপ ব্র্যান্ডের গাড়ির। আকর্ষণীয় ডিজাইন, জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব হওয়ায় জিপের তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়িটি জনপ্রিয়তা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে জার্মানির গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভক্সওয়াগেনের ইলেকট্রিক ভেহিকেল বিক্রিতে ধীরগতির কারণে কৌশল পরিবর্তন করছে। ইভির পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানটি প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিকেল বা পিএইচইভি মডেল তৈরি করার পরিকল্পনা করছে। একই পথে হাঁটছে আরেক আমেরিকান গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফোর্ড। ইউরোপজুড়ে ২০৩০ সালের মধ্যে শুধু বিদ্যুৎচালিত গাড়ি বিক্রির পরিকল্পনা করেছিল ফোর্ড। এই অঞ্চলে ইলেকট্রিক গাড়ির বিক্রি আশানুরূপ না হওয়ায়, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানিটি আগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করছে।

আবরার জাহিন/জাহ্নবী

 

টয়োটার হাইড্রোজেনচালিত গাড়ি

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪, ১২:৩৪ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ০৮:২৮ পিএম
টয়োটার হাইড্রোজেনচালিত গাড়ি

বিশ্বখ্যাত জাপানের গাড়ি নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান টয়োটা পরীক্ষামূলকভাবে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলনির্ভর পিকআপ মডেলের ‘টয়োটা হিলাক্স’ তৈরি করেছে। বর্তমানে এই গাড়িগুলো বিভিন্ন ধরনের রাস্তায় চালিয়ে পরীক্ষা চলছে। যুক্তরাজ্যে এই পিকআপ ট্রাকের প্রোটোটাইপ নির্মাণ শেষ করেছে টয়োটা ম্যানুফ্যাকচারিং ইউকে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রকল্পটি এখন শেষপর্যায়ে রয়েছে। 

এ প্রকল্পের আওতায় মোট ১০টি প্রোটোটাইপ গাড়ি তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি দিয়ে গাড়ির সুরক্ষা, কর্মক্ষমতা, কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব পরীক্ষা চলছে। এই পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে টয়োটা বাস্তব পরিস্থিতিতে গাড়িগুলোর ডেটা সংগ্রহ করছে। বাকি পাঁচটি গাড়ি গ্রাহক ও গণমাধ্যমে প্রদর্শনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। আগামী প্যারিস অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক গেমসেও গাড়িগুলো প্রদর্শিত হবে।

১৯৯২ সাল থেকে টয়োটা হাইড্রোজেনচালিত যানবাহনের বিকাশে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি আশা করছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ইউরোপ বিশ্বের বৃহত্তম হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলনির্ভর গাড়ির বাজার হবে।

টয়োটা জানিয়েছে, হিলাক্স প্রোটোটাইপ প্রকল্প মহাদেশজুড়ে হাইড্রোজেন প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর আরও বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

এটি সাধারণ হিলাক্সের মতো দেখতে, তবে এতে মিরাই এফসিইভি গাড়ির প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। গাড়িটির দৈর্ঘ্য ৫৩২৫ মিমি, প্রস্থ ১৮৫৫ মিমি এবং উচ্চতা ১৮১০ মিমি।

গাড়িটিতে তিনটি উচ্চ চাপের হাইড্রোজেন জ্বালানি ট্যাংক রয়েছে। প্রতিটি ট্যাংকে ২ দশমিক ৬ কেজি হাইড্রোজেন ধারণ করার সক্ষমতা রয়েছে। ট্যাংকগুলো ল্যাডার-ফ্রেম চেসিসের মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে।

টয়োটার হাইড্রোজেনচালিত হিলাক্সের প্রোটোটাইপে ৩৩০টি সেলের সমন্বয়ে গঠিত একটি পলিমার ইলেকট্রোলাইট ফুয়েল সেল স্ট্যাক রয়েছে, যা গাড়ির সামনের অ্যাক্সেলের ওপরে। এ ছাড়া গাড়িতে ১ দশমিক ২ কিলোওয়াট-আওয়ারের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি রয়েছে, যা ফুয়েল সেলের উৎপাদিত বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করে। এই ব্যাটারি হাইড্রোজেন ট্যাংকের ওপরে পেছনের দিকে রয়েছে, যেন এর জন্য কেবিনের জায়গা কমে না যায়।
রিয়ার-হুইল ড্রাইভ প্রোটোটাইপটির পেছনের অ্যাক্সেলে একটি ইলেকট্রিক মোটর রয়েছে, যা ১৩৪ কিলোওয়াট শক্তি ও ৩০০ নিউটন-মিটার টর্ক উৎপাদন করে। টয়োটার দাবি, হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলের মাধ্যমে টয়োটা হিলাক্স টানা ৬০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ চলতে পারে। যা একটি ব্যাটারিচালিত হিলাক্সের চেয়ে বেশি। হাইড্রোজেন সেল ওজনে হালকা হওয়ায় কম জ্বালানি খরচে বেশি পথ পাড়ি দেওয়ার পাশাপাশি বেশি পণ্যও পরিবহন করা যাবে।

প্রকল্পটি ২০২২ সালের শুরুর দিকে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। এই প্রকল্পে যুক্তরাজ্য সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়েছিল টয়োটা। এ ছাড়া প্রকল্পটিতে বিভিন্ন কনসোর্টিয়াম অংশীদার যোগ দেয়, যার মধ্যে রয়েছে: ইঞ্জিনিয়ারিং ও পরিবেশগত পরামর্শদাতা ফার্ম রিকার্ডো; ইউরোপীয় থার্মোডাইনামিক্স; ইঞ্জিনিয়ারিং সেবা ফার্ম ডি২এইচ অ্যাডভান্সড টেকনোলজি এবং অটোমোটিভ ঝুঁকি বুদ্ধিমত্তা সংস্থা থ্যাচাম রিসার্চ।

২০২৩ সালের প্রথমদিকে গাড়ি তৈরির কাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের জুন থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ১০টি গাড়ি তৈরি করা হয়। গাড়ি নির্মাতাপ্রতিষ্ঠানটি এখনো জানায়নি কবে নাগাদ সাধারণ মানুষের কাছে হাইড্রোজেনচালিত হিলাক্স বিক্রি বা লিজের জন্য প্রস্তুত হবে। 
হাইড্রোজেনচালিত হিলাক্স তৈরির পাশাপাশি টয়োটা তার জনপ্রিয় পিকআপ ট্রাকের একটি ব্যাটারিচালিত সংস্করণও প্রকাশ করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ২০২৫ সালের শেষের দিকে গ্রাহকদের জন্য নির্মিত এই গাড়ি থাইল্যান্ডে উৎপাদন করা হবে

আবরার জাহিন/জাহ্নবী

টেসলার ‘ফুল সেলফ ড্রাইভিং’ সফটওয়্যার পরীক্ষার অনুমতি চীনে

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪, ১২:৩২ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ০৮:২৯ পিএম
টেসলার ‘ফুল সেলফ ড্রাইভিং’ সফটওয়্যার পরীক্ষার অনুমতি  চীনে

আমেরিকার বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান টেসলা স্বয়ংক্রিয় চালকবিহীন গাড়িতে ‘ফুল সেলফ ড্রাইভিং’ (এফএসডি) সফটওয়্যারের পরীক্ষা চালাবে চীনে। প্রতিষ্ঠানটির ১০টি গাড়িতে এ সফটওয়্যার পরীক্ষামূলক চালানোর অনুমতি দিয়েছে সাংহাই কর্তৃপক্ষ। দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য সাংহাই অবজার্ভার এক প্রতিবেদনে এ বিষয়টি জানিয়েছে। 

টেসলার এই ফুল সেলফ ড্রাইভিং সফটওয়্যারটি চীনে সফলভাবে চালু হলে, দেশটির অন্য গাড়ি নির্মাতাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে তারা। এমনকি বিশ্বের বৃহত্তম গাড়ি বাজারে চালকবিহীন প্রযুক্তির গাড়ি বিকাশে প্রতিযোগিতা বাড়বে। ফলে কম দামে চালক সহায়ক সিস্টেমের বাজারে গাড়ি নির্মাতাদের লড়াই আরও জোরদার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

টেসলা চার বছর ধরে চীনে সীমিত কিছু ফিচার নিয়ে এফএসডি সফটওয়্যারটি সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে চালু করেছে। গত এপ্রিল মাসে টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অঘোষিত সফর করেন। যেখানে তিনি সম্ভবত এফএসডি সফটওয়্যার চালু নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানা যায়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স গত মে মাসে জানায়, টেসলা চলতি বছরে এফএসডি চালু করার জন্য চীনা কর্তৃপক্ষের কাছে এটির নিবন্ধন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

একই মাসে চীনের সরকারি গণমাধ্যম জানায়, টেসলা সাংহাইয়ে তাদের ‘মেগাপ্যাক’ এনার্জি স্টোরেজ ব্যাটারি তৈরির জন্য একটি কারখানার নির্মাণ শুরু করেছে। এ ছাড়া চীনে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে টেসলার প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করা হয়।

দ্য সাংহাই অবজার্ভার আরও জানিয়েছে, সাংহাইয়ের অর্থনৈতিক হাব নানহুই নিউ সিটি টেসলার এনার্জি স্টোরেজের চারপাশে সরবরাহ ব্যবস্থাকে জোরদার করবে। এ ছাড়া টেসলা সাংহাই লিংগাংয়ের সঙ্গে স্থানীয় বাণিজ্যিকীকরণের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সূত্র: রয়টার্স

আবরার জাহিন/জাহ্নবী

ঈদে বাইকযাত্রায় সঙ্গে রাখবেন যেসব কাগজপত্র

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৪, ০৯:৫৯ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৪, ০৯:৫৯ পিএম
ঈদে বাইকযাত্রায় সঙ্গে রাখবেন যেসব কাগজপত্র

ঈদে বাড়ি যাচ্ছেন বাইকে চড়ে। যাত্রপথে বাইকের কাগজপত্র সম্পর্কিত ঝামেলা এড়িয়ে চলতে যা যা প্রয়োজন হবে:

ড্রাইভিং লাইসেন্স 
যানাবাহন চালনার দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে ড্রাইভিং লাইসেন্স। এটি রাস্তায় চলাচলরত সাধারণ মানুষসহ অন্য গাড়ি ও সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিতে যানবাহন চালানোর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে। তাই বাইকে চলাচলের সময় চালককে অবশ্যই সঙ্গে ড্রাইভিং লাইসেন্স রাখতে হবে। এতে পুলিশ অথবা যেকোনো আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর যেকোনো হয়রানি এড়াতে পারবেন। 

রেজিস্ট্রেশন নম্বর
ঝামেলাহীনভাবে মোটরসাইকেল চালাতে রেজিস্ট্রেশন নম্বর গুরুত্বপূর্ণ। রেজিস্ট্রেশন নম্বর বাইকের বৈধতার সঙ্গে আপনার মালিকানা নিশ্চিত করে। বাইক ডাম্পিংয়ের অনেক বেশি আশঙ্কা থাকে রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছাড়া চালালে।

ট্যাক্স টোকেন
ট্যাক্স টোকেন মূলত বাংলাদেশের রাস্তায় বৈধভাবে বাইক চালানোর অনুমতিপত্র। তাই বাইকযাত্রায় ট্যাক্স টোকেন সঙ্গে রাখুন।  

ইনস্যুরেন্স
ইনস্যুরেন্স বাইকের জন্য রক্ষাকবচ। বাংলাদেশর আইন অনুযায়ী রাস্তায় বৈধভাবে বাইক চালাতে বাইকের ইনস্যুরেন্স বাধ্যতামূলক। এটিও সঙ্গে রাখুন।

জরুরি পরিস্থিতি
যদি আপনার বাইকে কোনো ত্রুটি দেখা দেয়, তাহলে নিরাপদ জায়গায় থামুন এবং মেরামতের চেষ্টা করুন। যদি নিজে মেরামত করতে না পারেন, তাহলে সাহায্যের জন্য স্থানীয়দের শরণাপন্ন হন।

যদি আহত হন, তাহলে প্রাথমিক চিকিৎসা নিন এবং দ্রুত ডাক্তারের কাছে যান। যদি আবহাওয়ার অবস্থা খারাপ হয়, তাহলে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিন। সঠিক প্রস্তুতি, সচেতনতা এবং সাবধানতা অবলম্বন করে বাইকযাত্রা নিরাপদ ও আনন্দময় করে তুলতে পারেন। মনে রাখবেন, সাবধানতা অবলম্বনই সফল ভ্রমণের মূল চাবিকাঠি।