ঢাকা ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

বৈদ্যুতিক গাড়ি কি সত্যিই পরিবেশবান্ধব?

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৪, ১০:৫৯ এএম
বৈদ্যুতিক গাড়ি কি সত্যিই পরিবেশবান্ধব?

জ্বালানিসাশ্রয়ী হওয়ায় বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বৈদ্যুতিক গাড়ির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বের সব বড় বড় গাড়ি নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান এই বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির দিকে ঝুঁকছে। এ ধরনের যানবাহনে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করা হয় না বলে পরিবেশবান্ধব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বৈদ্যুতিক গাড়ি অন্যান্য যানবাহনের তুলনায় বাতাসে বেশি বিষাক্ত কণা নিঃসরণ করে, যা গ্যাসচালিত গাড়ির তুলনায় পরিবেশের জন্য বেশি ক্ষতিকর হতে পারে।

এ বিষয়ে ‘এমিশন অ্যানালিটিকস’ নামে পরিচালিত গবেষণার ফলাফল ২০২২ সালে প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্টদের নজরে এড়িয়ে যায়। তবে এই গবেষণার ফলাফল উল্লেখ করে সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। এরপরই বিষয়টি নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, বৈদ্যুতিক গাড়ির চাকা ও ব্রেক গ্যাসচালিত গাড়ির টেইলপাইপের তুলনায় ১ হাজার ৮৫০ গুণ বেশি ক্ষতিকর কণা বাতাসে নিঃসরণ করে। টেইলপাইপে ফিল্টার থাকায় গ্যাসচালিত গাড়ি তুলনামূলক কম ক্ষতিকর কণা নির্গত করে। ব্যাটারির কারণে বৈদ্যুতিক গাড়ির ওজন সাধারণ গ্যাসচালিত গাড়ির তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি হয়ে থাকে। এর ফলে টায়ার ও ব্রেক দ্রুত ক্ষয় হয় এবং বাতাসে বিষাক্ত কণার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

গবেষণাটির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া টেক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হেশাম রাখা বলেন, ‘গবেষণার তথ্য আংশিকভাবে সঠিক। বৈদ্যুতিক গাড়ির ওজন বেশি হওয়ার কারণে এর চাকা থেকে বাতাসে বেশি পরিমাণে মাইক্রোপ্লাস্টিক নির্গত করে। তবে এসইউভি গাড়ির ক্ষেত্রেও এটি হয়ে থাকে। বৈদ্যুতিক গাড়ি ও গ্যাসচালিত গাড়ির চাকা থেকে ঠিক কী পরিমাণ মাইক্রোপ্লাস্টিক নিঃসরণ হয়, তা জানা বেশ কঠিন কাজ।’ তার ধারণা, বাতাসে বিষাক্ত কণা নির্গমনের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও গ্যাসচালিত গাড়ির মধ্যে পার্থক্য ২০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

বৈদ্যুতিক গাড়ি ও গ্যাসচালিত গাড়ি থেকে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত কণার পরিমাণ শনাক্তের জন্য নতুন করে গবেষণা শুরু করেছে ভার্জিনিয়া টেক বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। বৈদ্যুতিক গাড়ির পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পেতে নতুন গবেষণার ফলাফলের অপেক্ষা করছে বিশ্ব।

এ.জে/জাহ্নবী

গাড়িতে হাইড্রোজেন জ্বালানি বহনে সক্ষম প্রযুক্তি উদ্ভাবন করল চীন

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০১:৪২ পিএম
গাড়িতে হাইড্রোজেন জ্বালানি বহনে সক্ষম প্রযুক্তি উদ্ভাবন করল চীন
ছবি: সংগৃহীত

চীন প্রথমবারের মতো ভারী যানবাহনে তরল হাইড্রোজেন জ্বালানি বহনে সক্ষম একটি ব্যবস্থা উদ্ভাবন করেছে। ধারণা করা হচ্ছে এই প্রযুক্তি দেশটির পরিবহন খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। প্রযুক্তিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চায়না অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি করপোরেশন (সিএএসসি) চলতি মাসের ১০ তারিখে এ তথ্য জানিয়েছে। নতুন এ সিস্টেমটি ভারী ট্রাকে ব্যবহার করা হবে। এতে একবার হাইড্রোজেন জ্বালানি ভরে ১ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করা যাবে।

বিশ্বে হাইড্রোজেনচালিত যানবাহনের বিকাশে অগ্রগামী দেশে পরিণত হয়েছে চীন। দেশটিতে বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম হাইড্রোজেন ফুয়েলিং স্টেশন নেটওয়ার্ক রয়েছে। এ ছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ লাখ হাইড্রোজেন চালিত যানবাহন রাস্তায় চালানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটি।

মূলত চীনের পরিবহন খাতকে আরও বেশি পরিবেশবান্ধব করার প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এটি। দেশটির সরকার হাইড্রোজেনচালিত যানবাহনের গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার ভারী যানবাহনের জন্য তরল হাইড্রোজেন জ্বালানি ব্যবস্থা উদ্ভাবন করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাটি। এই ব্যবস্থাটি পরিবেশবান্ধব ও প্রথাগত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে। সম্প্রতি ১০০ কেজি তরল হাইড্রোজেন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এ সিস্টেমটি তৈরিতে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থা সিএএসসি জানিয়েছে, আগের চেয়ে এর ধারণক্ষমতা ২০ শতাংশ বেশি হয়েছে। তবে নতুন এ ব্যবস্থায় বাড়তি জায়গা লাগছে না। এ ব্যবস্থায় আগের থেকে ৩০ শতাংশ ব্যয় কমেছে। এ ছাড়া নতুন এ সিস্টেম ১০০ কেজি পর্যন্ত তরল হাইড্রোজেন জ্বালানি ধারণক্ষমতাসহ এই সিস্টেমের গুণমান, হাইড্রোজেন স্টোরেজ ঘনত্ব ও রিফিলের সময়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। এই উদ্ভাবনটি ভারী যানবাহন শিল্পে বিপ্লব ঘটাতে পারে, যা পরিবেশ দূষণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে।

হাইড্রোজেনকে মাইনাস ২৫২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় শীতল করলে পাওয়া যাবে তরল হাইড্রোজেন। এটি একটি উচ্চ শক্তির জ্বালানি, যার বিভিন্ন ব্যবহার রয়েছে। তবে এটি ব্যবহারে বেশ ঝুঁকিও রয়েছে। যানবাহনে তরল হাইড্রোজেন জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের কিছু ঝুঁকি রয়েছে। এটি দ্রুত গরম হয়ে বিস্ফোরিত হতে পারে। তরল হাইড্রোজেন পরিবহন করা কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে থাকে। 

এটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা ট্যাংক ও ট্রাকগুলোয় পরিবহন করতে হয়। তরল হাইড্রোজেন রিফুয়েলিং স্টেশনগুলো সাধারণত গ্যাসোলিন স্টেশনগুলো তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়। এই ঝুঁকিগুলো সত্ত্বেও তরল হাইড্রোজেন শক্তিশালী জ্বালানি, যা পরিবহন শিল্পে বিপ্লব ঘটাতে পারে। সূত্র: সিসিটিভি

শুরু হয়েছে ১৭তম ঢাকা মোটর শো ২০২৪

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০১:৩৫ পিএম
শুরু হয়েছে ১৭তম ঢাকা মোটর শো ২০২৪
ছবি: সংগৃহীত

নতুন গাড়ি ও মোটরসাইকেলসহ নানারকম অটোমোবাইল পণ্য নিয়ে শুরু হয়েছে ৩ দিনব্যাপী ১৭তম ঢাকা মোটর শো-২০২৪। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে শুরু হয়েছে এই আয়োজন।

এ প্রদর্শনী চলাকালে একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘অষ্টম ঢাকা বাইক শো-২০২৪’, ‘সপ্তম ঢাকা অটো পার্টস শো-২০২৪’, ‘ষষ্ঠ ঢাকা কমার্শিয়াল অটোমোটিভ শো-২০২৪’ ও ‘প্রথম ইলেকট্রিক ভেহিকেল বাংলাদেশ এক্সপো-২০২৪’।

অন্যদিকে সেমস-গ্লোবাল ও বাংলাদেশ মোটর স্পোর্টসের যৌথ আয়োজনে বাণিজ্যমেলা প্রাঙ্গণে গতকাল প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয় মোটরবাইক প্রতিযোগিতা ‘প্রথম ডার্ট ট্র্যাক চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৪’। একই সঙ্গে ২৫ মে অনুষ্ঠিত হবে অফ-রোড রেসট্র্যাক সম্পর্কিত বাংলাদেশের জমকালো মোটর স্পোর্টস প্রতিযোগিতা ‘চতুর্থ র‍্যালিক্রস চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৪’। প্রতিযোগিতা দুটি সরাসরি সম্প্রচার করবে টি-স্পোর্টস।