ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ চলে গেলেও কক্সবাজারে রেখে গেছে ক্ষতচিহ্ন। এর প্রভাবে দেয়াল ও মাটিচাপায় জেলায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে শতাধিক মানুষ। হাজার হাজার ঘরবাড়ি, গাছপালা বিধ্বস্ত হয়েছে।
বুধবার (২৫ অক্টোবর) সরেজমিন দেখা যায়, কক্সবাজারের রাস্তায় রাস্তায় পড়ে আছে গাছ। প্রধান সড়কের ঝাউতলায় বড় একটি শিশুগাছ সড়কের ওপরে উপড়ে রয়েছে। তাই প্রধান সড়কের এই অংশটি বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়াও বেশ কয়েকটি সড়কের ওপরে গাছ পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে কক্সবাজারে। এতে ভোগান্তিতে রয়েছেন জেলাবাসী।
শহরের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ১ নম্বর ওয়ার্ডের সমিতি পাড়ায় গিয়ে দেখা গেছে, অনেক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত। সেখানে বিধ্বস্ত ঘরের সামনে বসে আছেন রেহেনা বেগম (৪৮)। তিনি বলেন, ‘কুতুবদিয়া থেকে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে এখানে চলে এসেও রেহায় নেই। সব উড়িয়ে নিয়ে গেছে। আমার আর কোনো সম্বল নেই’।
আব্দুল কাদের নামের এক বৃদ্ধ বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় এলেই আমাদের ওপর দিয়ে যায়। আল্লাহ ছাড়া আমাদের আর কেউ দেখার নেই। কী করব বুঝতে পারছি না।’
কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী জানান, কক্সবাজার পৌরসভায় ১৫ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১, ২, ৩ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ক্ষতির পরিমাণ বেশি। আমরা ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের বলেছি ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করতে। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করা হবে।
এদিকে কক্সবাজারের মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায়ও তাণ্ডব চালিয়েছে হামুন। স্থানীয় সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক খবরের কাগজকে বলেন, ‘মহেশখালী-কুতুবদিয়ায় ২০ হাজারের অধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে নেটওয়ার্ক সংযোগও নেই। রাস্তাঘাটে গাছ উপড়ে পড়ায় অনেক জায়গায় গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে।’
বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল কাদের গণি জানিয়েছেন, ‘অনেক বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে এবং ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে গেছে। তাই বিদ্যুৎ পুরোপুরি ঠিক হতে দুদিন সময় লাগবে। আমরা কয়েকটি ভাগে ভাগ হয়ে কাজ করছি।’
জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, ‘পুরো কক্সবাজার জেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি তিনজন নিহত হয়েছেন। হামুন সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে গেছে প্রকৃতির ওপর। বৈদ্যুতিক খুঁটিসহ ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে। আমরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বের করার চেষ্টা করছি। কক্সবাজার জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণের ব্যবস্থা করব’।
এমএ/