ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে স্পেনের একাদশে ২ পরিবর্তন আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে জাকিয়া খান চন্দনার পরাবাস্তববাদী চিত্রপ্রদর্শনী নজরুল বর্ষের উদ্বোধনী আয়োজনে দর্শক সংকট বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত কালকিনিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ৫ ড্রেজার জব্দ ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৮ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার সহকারী সচিব হলেন ৩৪ কর্মকর্তা জাবিতে কালেমা খচিত পতাকা টানানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটি, চার শিক্ষার্থীকে শোকজ নৌবহরে যুক্ত হলো জাপানের পাঁচটি পেট্রোল বোট সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে গোসলে নেমে নিখোঁজ চিকিৎসক টঙ্গীতে চাঁদা দাবি করায় যুবদল নেতাসহ ১৯ জনের নামে মামলা, গ্রেপ্তার ১১ ঈশ্বরগঞ্জে অজ্ঞাত যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার সিরিয়ায় বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৫, আহত অন্তত ১৬ জুন মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ ‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী অবশেষে ইরানকে ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়তে বাধ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র কাতারে আটকে থাকা অর্থে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনবে ইরান এইচএসসির আগেই থেমে যাচ্ছে শিক্ষা সোনারগাঁয় ফুটপাত দখল করে পার্কিং করায় ১৪ জনকে কারাদণ্ড মুক্তির আগেই বাজিমাত চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থীর বিষয়ে আদালতের রায় দেখে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন আত্মিক প্রশান্তি লাভের দারুণ উপায় ৫৪ বছরে প্রথমবার জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যে সরকার-বিরোধী দল: চিফ হুইপ তিস্তা প্রকল্প বাংলাদেশ যত দ্রুত চাইবে চীন সেভাবে কাজ করবে: রাষ্ট্রদূত ফরিদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত অন্তত ২০ দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যা, স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড ভার্চুয়াল শত্রুতার বলি আমার প্রিয় ঠিকানা হালদা নদীর সব মাছেই মিলছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কণা বর্তমান কোচিং স্টাফ থাকলে দলে ফিরবেন না পেপে গুয়ে! ঢাবিতে ২৭৭ প্রজাতির ১৭ হাজারের বেশি গাছ আছে

আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে আরসা-আরএসও

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৩, ০৮:০০ এএম
আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:০৭ পিএম
আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে আরসা-আরএসও
র‌্যাবের হাতে আরসার দুই সদস্য গ্রেপ্তার। মোহাম্মদ ইউনূছ (বামে লাল টি-শার্ট) ও সালমান মুরব্বি (ডানে)। ছবি : খবরের কাগজ

অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হতো নির্জন পাহাড়ের টর্চার সেলে (কাচারি সেল)। যেখানে নেওয়ার পর চলত পাশবিক নির্যাতন। যাদের অর্থের জন্য অপহরণ করা হতো, তাদের মুক্তিপণ না দেওয়া পর্যন্ত চলত নির্যাতন।

আর যারা আরসার নির্দেশ মানে না, তাদের ওপর চলত ধারাবাহিক নির্যাতন ও হত্যার পরিকল্পনা। এভাবেই এক এক করে ৩৪টি ক্যাম্পে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসার) ছয় টর্চার সেলের সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব। 

এ ছাড়া রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) নামে আরেকটি সশস্ত্র গ্রুপ এখন আরসার বড় প্রতিপক্ষ। ২৩০ ইয়াবার আখড়ার নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও ক্যাম্পে দুই সশস্ত্র গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে বাড়ছে নানা অপরাধ।

আরসার কাচারি সেলের প্রধান মো. ওসমান প্রকাশ সালমান মুরব্বিসহ দুজনকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানিয়েছেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, চারটি একনলা বন্দুক, দুটি এলজি, পাঁচ রাউন্ড ১২ বোর কার্তুজসহ বিপুল পরিমাণ টর্চার সেলের সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, গত এক বছরে র‌্যাবের অভিযানে অন্তত ৭২ জন আরসা কমান্ডার গ্রেপ্তার হয়েছে। যারা ক্যাম্পে আরসার বিভিন্ন শাখা-উপশাখার প্রধানের দায়িত্ব পালন করে আসছিল। অভিযানের মুখে কমে গেছে অস্ত্র পাচার ও অপহরণ বাণিজ্য। আরসাপ্রধান আতাউল্লাহর নির্দেশে বিভিন্ন ক্যাম্পের নেতৃত্বদানকারীদের হত্যার পরিকল্পনা, হামলা, ভয়ভীতি দেখাত সদস্যরা।

র‌্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘গ্রেপ্তার সালমান মুরব্বি ও তার সহযোগী ইউনূছকে উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের পার্শ্ববর্তী একটি পাহাড়ি এলাকা থেকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে সালমান একাধিক হত্যা মামলার আসামি।’ 

কে এই সালমান মুরব্বি?

২০১৭ সালে বাংলাদেশের ক্যাম্পে আসার পর আরসার ওলামা কাউন্সিলের অন্যতম সদস্য ও কমান্ডার মৌলভি মোস্তাক আহমদ ও মৌলভি আবু রায়হানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর আরসায় যোগ দেন সালমান। এরপর আরসার শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে অস্ত্র চালানোসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নেন। পর্যায়ক্রমে তিনি ১৩ নম্বর ক্যাম্পের ব্লক জিম্মাদার, হেড জিম্মাদার, পরে আরসার ওলামা বডির নেতৃত্ব লাভ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপ তৈরি করে আরসাপ্রধান আতাউল্লাহ জুনুনী ও সেকেন্ড ইন কমান্ড ওস্তাদ খালেদের নির্দেশবার্তা পৌঁছে দিতেন। বিনিময়ে পেতেন মোটা অঙ্কের টাকা। 

এ ছাড়া সাধারণ রোহিঙ্গা বিচারের নামে নির্যাতন, ভিন্নমতাদর্শীদের টর্চার সেলে নির্যাতন ও টার্গেট কিলিংয়ের পরিকল্পনা করতেন। এসব করে পববর্তী সময়ে আরসার টার্গেট কিলিংয়ের প্রধান বনে যান সালমান মুরব্বি।

এ ছাড়া তার নেতৃত্বে আরসার ৩০-৩৫ জন সদস্য রয়েছেন। তারা কুতুপালং ক্যাম্প ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় খুন, অপহরণ, ডাকাতি, মাদক, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। এসবের জন্য মিয়ানমার থেকে দুর্গম সীমান্ত অঞ্চল দিয়ে অস্ত্র আনা-নেওয়া করেন সালমান। এমনকি মিয়ানমার থেকে মাদক আনার ক্ষেত্রে রোহিঙ্গা শিবির ও সংলগ্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের থেকে চাঁদা নিতেন তিনি। কেউ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে গুলি করে হত্যা করতেন।

আরসার বিশেষ কাচারি সেলের ৬ প্রধান

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের মুখে আরসার কার্যক্রমে পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে ৩৩ রোহিঙ্গা শিবিরকে ছয়টি জোনে বিভক্ত করে কাচারি সেল করেছে তারা। যেখানে নিয়ে চলে অমানবিক নির্যাতন, মুক্তিপণ বাণিজ্যসহ নানা অপরাধ। গ্রেপ্তার সালমানের নেতৃত্বে এসব সেলের প্রধান হিসেবে রয়েছেন মাস্টার কামাল, মাস্টার ইউনূছ, জাফর আলম, মৌলভি যুবায়ের, মাস্টার আবুল হাশিম, মাস্টার সলিম। যারা বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গা ও স্থানীয় লোকজনের অপহরণ করে টর্চার সেলে পৈশাচিক নির্যাতন চালাতেন এদের মধ্যে মোহাম্মদ ইউনূছ (২৪) ২০১৭ সালে আরসার সামরিক শাখার প্রধান ছমি উদ্দিনের মাধ্যমে আরসায় যোগ দেন।

অস্ত্র চালনা, মার্শাল আর্ট ও রণকৌশলে সিদ্ধহস্ত ইউনূছ ২০১৮ সালে ক্যাম্প-১৫তে আরসার হেড জিম্মাদার ও টর্চার সেলের সদস্য হন। সেখান থেকে তাকে বিশেষ সদস্যের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কারণ তিনি নির্যাতনে বেশ পারদর্শী। যা অন্য কোনো সদস্য পারেন না। ইউনূছের নেতৃত্বে সাত-আটজনের একটি ‘নেট গ্রুপ’ রয়েছে। যারা নিয়মিত ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে শীর্ষ নেতাদের রিপোর্ট দিতেন।

বড় অস্ত্র সোশ্যাল মিডিয়া

র‌্যাব বলছে, এই সন্ত্রাসীগোষ্ঠী নিজেদের শক্তি জানান দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারী অস্ত্রের ছবি ব্যবহার করছে। এই অস্ত্রগুলো মিয়ানমার থেকে তারা নিয়ে আসে। সন্ত্রাসী কার্যক্রম শেষে আবার অস্ত্রগুলো সীমান্তের পাহাড়ি অঞ্চল কিংবা মিয়ানমারে তাদের সদস্যদের কাছে রেখে আসে।

র‌্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘আরসার প্রধান আতাউল্লাহ জুনুনীর ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অব্যাহত অভিযানে এই সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর সাংগঠনিক কার্যক্রম অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। শীর্ষ নেতারা আত্মগোপনে চলে গেছে।’

এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যানুযায়ী, অপহৃত ভুক্তভোগীর পরিবার পর্যন্ত পৌঁছানো এবং টাকার লেনদেনে মিডিয়াম্যান (মধ্যস্থতাকারী) হিসেবে কাজ করেন কিছু স্থানীয়। র‌্যাব তাদের তালিকা করেছে। শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ক্যাম্পে ২৩০ ইয়াবার আখড়া

রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে ইয়াবা বিক্রির অন্তত ২৩০টি আখড়া রয়েছে। চাঁদার বিনিময়ে আখড়ার সুরক্ষা দেন আরসা, আরএসওসহ পাঁচ-ছয়টি রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর সদস্যরা। আখড়া থেকে সুবিধাজনক সময়ে ইয়াবা ও আইসের চালান সরবরাহ হয় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ মাদকের চালান আনে নবী হোসেন ও মুন্না বাহিনী।

রোহিঙ্গা নেতারা জানান, কয়েক বছর আগেও আরসার সহযোগিতায় বালুখালী আশ্রয় শিবিরের মাদকের কারবার নিয়ন্ত্রণ করত নবী হোসেনের বাহিনী। বছর দুয়েক ধরে আরসাকে বাদ দিয়ে আরএসওর সহযোগিতায় মাদকের কারবার চালাচ্ছে নবী হোসেন বাহিনী। উখিয়ার মধুরছড়া, লম্বাশিয়া, ময়নারঘোনা আশ্রয় শিবিরও নিয়ন্ত্রণ করে আরসা। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এখন আরসা ও আরএসও মুখোমুখি অবস্থানে। চাঁদার দাবিতে অপহরণের ঘটনাও ঘটছে অহরহ। এতে সাধারণ রোহিঙ্গারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

কেন বাড়ছে অপরাধ?

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির আছে ৩৩টি। প্রায় আট হাজার একর বনভূমির ওপর গড়ে তোলা এই আশ্রয় শিবিরগুলোতে বসবাসকারী রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ১২ লাখ। এর মধ্যে আট লাখ এসেছে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পরের কয়েক মাসে।

শরণার্থীদের নিরাপত্তায় আশ্রয় শিবিরের চারদিকে লাগানো হয় কাঁটাতারের বেড়া। স্থাপন করা হয় ৩০টির বেশি পর্যবেক্ষণ চৌকি। তার পরও প্রায় প্রতিদিন আশ্রয় শিবিরগুলোতে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। গত আট মাসে নিহত ৫৬ রোহিঙ্গার মধ্যে ১৭ রোহিঙ্গা মাঝি (নেতা), ২১ আরসা সদস্য, ৩ আরএসও সদস্য ও ১ জন স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন। খুন হওয়া অন্যরা সাধারণ রোহিঙ্গা।

দক্ষিণ এশিয়ার জন্য হুমকি হতে পারে আরসা

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসাসহ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর অপরাধ কার্যক্রম নতুন কিছু নয়। এটি আমাদের এ অঞ্চলের জন্যই হুমকি। তাদের দ্রুত সার্ভিল্যান্সে আনা জরুরি। না হয় পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।’

তিনি বলেন, ‘এই ঘটনাগুলো ফোর্সিং করে ব্যবস্থা নিতে। বিষয়টি কফি আনান কমিশনের প্রতিবেদনেও বলেছে। রোহিঙ্গাদের যদি পুনরায় প্রত্যাবাসন না করা হয় তাহলে আজকে আরসা, কাল আরেক গোষ্ঠী- এভাবে ক্যাম্প ঘিরে সন্ত্রাসবাদের সৃষ্টি হবে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া যাবে না।’

এমএ/এআর

নজরুল বর্ষের উদ্বোধনী আয়োজনে দর্শক সংকট

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
নজরুল বর্ষের উদ্বোধনী আয়োজনে দর্শক সংকট
মাগুরায় আয়োজিত নজরুল বর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। ছবি: খবরের কাগজ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মাগুরায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে ঘিরে আয়োজন ছিল জাঁকজমকপূর্ণ। পরিবেশিত হয় নজরুলসংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য। তবে আয়োজনের তুলনায় দর্শক উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো কম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অধিকাংশ দর্শক ছিলেন নার্সিং ইনস্টিটিউট ও বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণার্থী ও শিক্ষার্থী। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে তাদের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং সাধারণ দর্শকের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলকভাবে খুবই সীমিত।

এ নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত অনেকেই প্রশ্ন তোলেন—জেলায় যেখানে অসংখ্য সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে, সেখানে জাতীয় পর্যায়ের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনেও কেন স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অংশগ্রহণ এত কম?

জেলা শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে জেলা অডিটোরিয়ামে  আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন (পিপিএম-সেবা), সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম কবির এবং সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. আলফাজ উদ্দিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ইমতিয়াজ হোসেন।

জেলা কালচারাল অফিসার পার্থ প্রতিম দাস জানান, প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি সারাদেশে একযোগে ‘নজরুল বর্ষ’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। এর অংশ হিসেবে মাগুরায় তিন দিনব্যাপী আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, বিতর্ক ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতাসহ নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরবর্তীতে বছরব্যাপী কর্মশালা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, নাটক ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চলবে।

দর্শক উপস্থিতি কম হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে আকাশ সংস্কৃতি, মোবাইলনির্ভর বিনোদন এবং প্রযুক্তির প্রভাব রয়েছে। তবে জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে প্রচার-প্রচারণার কোনো ঘাটতি রাখা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, জেলার প্রায় ৫০টি সক্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠনের মধ্যে অনুদানপ্রাপ্ত ৩২টিসহ সব সংগঠনকে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে এবং লিখিতভাবে অনুষ্ঠানের বিষয়ে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়। এরপরও প্রত্যাশিত সংখ্যক দর্শক উপস্থিত হননি।

পার্থ প্রতিম দাস বলেন, আমরা অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারি, সবাইকে জানাতে পারি। কিন্তু ঘর থেকে বের হয়ে অনুষ্ঠানে আসার মানসিকতা একজন সংস্কৃতিসেবীকেই তৈরি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠানের মান আরও উন্নত করার সুযোগ অবশ্যই আছে। তবে দর্শককেও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হবে।

তরুণ প্রজন্মকে সংস্কৃতিমুখী করে তুলতেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠানে আনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার মতে, এই বয়স থেকেই যদি তাদের মধ্যে নজরুলচর্চা ও সাংস্কৃতিক অনুরাগ তৈরি করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে তারা নিয়মিত দর্শক ও সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে গড়ে উঠবে।

তবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন সংস্কৃতিকর্মীর মতে, শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় সংস্কৃতিমনা মানুষ ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে আয়োজনটি আরও প্রাণবন্ত হতে পারত।

এদিকে সম্প্রতি জেলা পর্যায়ে প্রায় ৮০ জন শিল্পীকে সরকারি অনুদানের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলার ৩২টি সাংস্কৃতিক সংগঠন নিয়মিত সরকারি অনুদান পাচ্ছে। কিন্তু জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকীর মতো একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক আয়োজনে সেই শিল্পী ও সংগঠনগুলোর বড় অংশের দৃশ্যমান উপস্থিতি ছিল না বলেই মনে করেছেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই। তাদের মতে, অনুদানপ্রাপ্ত শিল্পী ও সংগঠনের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করলে দর্শক সংখ্যা যেমন বাড়ত, তেমনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও ইতিবাচক বার্তা যেত।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জেলা কালচারাল অফিসার পার্থ প্রতিম দাস বলেন, অনুদানপ্রাপ্ত সংগঠনগুলোর আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ অবশ্যই প্রত্যাশিত। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় তাদের বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কিন্তু সব সংগঠন থেকে প্রত্যাশিত উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। বিষয়টি ভবিষ্যতে মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও বিবেচনায় রাখা যেতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীদের একাংশের মতে, দর্শক সংকটের পেছনে কেবল মানুষের অনাগ্রহ নয়, প্রচার-প্রচারণার কার্যকারিতা, অনুষ্ঠান আয়োজনের ধরণ, সময় নির্বাচন এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়—এসব বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সংগঠন ও শিল্পীদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে জেলার সাংস্কৃতিক পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠতে পারে।

তিন দিনব্যাপী উদ্বোধনী কর্মসূচি শেষে বছরজুড়ে বিভিন্ন কর্মশালা, সেমিনার, নাটক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের পরিকল্পনা রয়েছে জেলা শিল্পকলা একাডেমির। সংশ্লিষ্টদের আশা, আগামী আয়োজনগুলোতে স্থানীয় দর্শক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও অনুদানপ্রাপ্ত শিল্পীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।

কাসেমুর রহমান/নাঈম

কালকিনিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ৫ ড্রেজার জব্দ

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
কালকিনিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ৫ ড্রেজার জব্দ
ছবি: খবরের কাগজ

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার বাঁশগাড়ি ইউনিয়নে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) উপজেলার কানুরগাঁও, খাসের হাট, সূর্যমনি ও কাচিকাটা চ্যানেলে এ অভিযান চালানো হয়। প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল উল আরেফিন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের খবর পেয়ে অবৈধভাবে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে মোট পাঁচটি ড্রেজার জব্দ করা হয়।

জব্দ করা ড্রেজারগুলো স্থানীয় ইউপি সদস্য নূর ইসলামের জিম্মায় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা করার জন্য কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল উল আরেফিন জানিয়েছে, নদী ও চ্যানেল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

রফিকুল/এএফ

সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে গোসলে নেমে নিখোঁজ চিকিৎসক

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম
সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে গোসলে নেমে নিখোঁজ চিকিৎসক
নিখোঁজ চিকিৎসক ডাক্তার সুব্রত সাহা বিকাশ। ছবি: খবরের কাগজ

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রে গোসল করতে নেমে সুব্রত সাহা বিকাশ (৩৩) নামে এক চিকিৎসক নিখোঁজ হয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বেলা আড়াইটার দিকে সাদাপাথরে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, চার বন্ধু মিলে ঢাকা থেকে সিলেটের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র দেখতে এসেছিলেন ডাক্তার সুব্রত সাহা বিকাশ ও তার বন্ধুরা।

বৃহস্পতিবার সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রে যান তারা। সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রে বিজিবির ক্যাম্পের সামনে গোসল করতে নামেন তাদের মধ্যে তিনজন। নদীতে সাঁতার কাটতে কাটতে একপর্যায়ে পানির প্রবল স্রোতের মধ্যে চলে যান তারা। এ সময় অন্য দুজন সাঁতরে উঠতে পারলেও সুব্রত প্রবল স্রোতে পানির নিচে তলিয়ে যান। সুব্রত লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার মিহির লাল সাহার ছেলে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ডুবুরিরা তাকে উদ্ধারে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কাজ করেছেন। কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিন মিয়া, ট্যুরিস্ট পলিশ, ও ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বশীলরা।

এ ব্যাপারে ভোলাগঞ্জ ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আব্দুল কাইয়ুম বলেন, সাদাপাথরে গোসল করতে নেমে এক পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তাকে উদ্ধারে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত কাজ করেছে। কিন্তু তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আগামীকাল আবার তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।

এএফ/

টঙ্গীতে চাঁদা দাবি করায় যুবদল নেতাসহ ১৯ জনের নামে মামলা, গ্রেপ্তার ১১

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম
টঙ্গীতে চাঁদা দাবি করায় যুবদল নেতাসহ ১৯ জনের নামে মামলা, গ্রেপ্তার ১১
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের টঙ্গীতে ঝুট ব্যবসায়ীর কাছে দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে কারখানার মালামাল নামাতে বাধা, সশস্ত্র মোটরসাইকেল মহড়া, অস্ত্র ও ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্য সচিব নাজমুল হোসেন মণ্ডলসহ ১৯জনকে এজাহারনামীয় এবং আরও ৭০-৮০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলার বাদী নূরজ্জামান জামাল জানান, পাগাড় পাঠানপাড়া এলাকার ফাইজা বাটন অ্যান্ড জিপার লিমিটেড কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবৎ বাতিলকৃত কার্টুন, পলি, ড্রাম, পুরাতন লােহা-লক্কড় ও অন্যান্য মালামালের ব্যবসা করে আসছি। কিছুদিন যাবৎ যুবদল নেতা নাজমুল হোসেন মণ্ডলের নেতৃত্বে একটি চক্র আমার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অপারগতা জানালে তারা আমার ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে ২৮ জুন আমার লোকজন কারখানা থেকে বাতিলকৃত মালামাল নামাতে গেলে ৭০-৮০জনের একটি সশস্ত্র বাহিনী মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে ফাইজা বাটন অ্যান্ড জিপার কারখানার চারপাশে ঘেরাও করে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে। একপর্যায়ে যুবদল নেতা নাজমুল হোসেন মণ্ডলসহ আরও কয়েকজন তাদের দাবিকৃত ২০ লাখ টাকা দিতে বলে। টাকা না দেওয়ায়, তারা উত্তেজিত হয়ে ওঠে ও গাড়িতে মালামাল লোড করতে বাধা দেয় এবং আমার লোকজনকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। 

ঘটনাটি পুলিশ প্রশাসনের নজরে এলে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গত মঙ্গলবার ও বুধবার রাতে টঙ্গীর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

গ্রেপ্তাররা হলেন- মনোয়ার হোসেন (২৮), কাজী তৌহিদুল, সজীব (৩৫), রনি খাঁ (৩৯), রিয়াজন ওরফে রাজন (৩০), জাহাঙ্গীর শেখ ওরফে জমির (২৭), জহির (৩৩), বায়জিদ (২৯), রাজিব হাসান (২৯), হোসাইন (৩৪), রাসেল ওরফে খাবরী (২৮), সাগর ওরফে নয়ন (২০)।

এ ব্যাপারে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পলাশ/নাঈম

ঈশ্বরগঞ্জে অজ্ঞাত যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
ঈশ্বরগঞ্জে অজ্ঞাত যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে কাঁচামাটিয়া নদের সেতুর পাশ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়ন বাজার সংলগ্ন কাঁচামাটিয়া  ব্রিজের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা বুধবার রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার মধ্যে যেকোনো সময় দুর্বৃত্তরা অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে মরদেহটি ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে যায়। মরদেহের মাথার বাম পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন এবং ঘাড়ে গভীর ক্ষতের দাগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয়রা মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল করে।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। ময়মনসিংহ পিবিআইয়ের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে কাজ শুরু করেছেন বলে জানান তিনি।

পুলিশ আরও জানায়, নিহত ব্যক্তিকে প্রায়ই উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ভবঘুরের মতো ঘোরাফেরা করতে দেখা যেত।

ফয়সল/এএফ