ঢাকা ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
এইচএসসি ও সমমানের প্রথম দিনের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত চাঁদপুরে আষাঢ়েও ইলিশের সরবরাহ কম বন্ধুরা বাজি ধরলে আপনার অংশ নেওয়া কি ঠিক হবে? বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ৬টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র রোনালাদোর চাওয়া ‘ঘরের মাঠের আবহ’ ঈশ্বরদীতে অবৈধভাবে মাটি কাটায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দুদকের চেয়ারম্যান-কমিশনার পদে আগ্রহীদের জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার সময় চিৎকার করায় চাচাতো ভাইকে খুন সিলেট বিভাগে ৯৬টি কেন্দ্রে  প্রথম দিনের এইচএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন স্পেনকে হারাতে ইয়ামালকে থামানোই মূল লক্ষ্য: রাঙ্গনিক মোহাম্মদ শাহিন উদ্দিন রোটারী ক্লাব অব সোনারগাঁও ঢাকার সভাপতি নির্বাচিত শার্শায় মাদরাসাছাত্রীকে কুপ্রস্তাব শিক্ষকের, থানায় অভিযোগ চাঁদপুরে ঝুঁকিতে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধ সড়ক ঠাকুরগাঁও থেকে নিখোঁজ চার স্কুলছাত্রী সিলেটে উদ্ধার গরীব ছাত্রের জন্য বরাদ্দ সাইকেল নাতিকে উপহার দিলেন জামায়াত নেতা ঈশ্বরদীতে এইচএসসি পরীক্ষায় অনুপস্থিত ৬১ লেখক-সাংবাদিক এম দিলদার উদ্দিন আর নেই জুলাই-আগস্টে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়তে পারে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিশ্বকাপে লাল কার্ডের আপিলের সুযোগ নেই, বাড়তে পারে শাস্তি শাহজালালে বিমানের ফ্লাইট থেকে ১৯ কেজি স্বর্ণ জব্দ সংবাদ সম্মেলনেই বাবার মৃত্যুর খবর পেলেন কঙ্গো কোচ দেসাব্রে উচ্চতা নিয়ে উদ্বিগ্ন টুখেল রূপগঞ্জে তৌহিদী জনতার ওপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন রাঙামাটিতে ইয়াবাসহ সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য গ্রেপ্তার সরকার রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী ভয়াবহতা রুখতে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে চাঁদপুরের পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকরা বিদ্যুৎসংকটে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত চীন: ইয়াও ওয়েন চট্টগ্রাম ওয়াসায় খুলেছে পদোন্নতির জট কাশিয়ানীতে বাসের ধাক্কায় যুবক নিহত

শান্তি পরিবহনে জিম্মি খাগড়াছড়িবাসী

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:০০ এএম
আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:২৪ পিএম
শান্তি পরিবহনে জিম্মি খাগড়াছড়িবাসী
খাগড়াছড়িবাসীতে একমাত্র দূরপাল্লার বাস বলতে আছে কেবল শান্তি পরিবহন। ছবি : খবরের কাগজ

খাগড়াছড়িতে চলছে শান্তি পরিবহনের একচ্ছত্র আধিপত্য। এই পরিবহনের বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। চালক ও স্টাফদের অসদাচরণ, চেয়ারকোচ গাড়িতে যত্রযত্র যাত্রী ওঠানামা ও পণ্য পরিবহন, খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম রুটে একচেটিয়া যাতায়াত ব্যবস্থা, গাড়ি চালানো অবস্থায় চালকের ধূমপান, বেপরোয়া গতির ফলে দুর্ঘটনার কবলে পড়া, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালানো-এমন অভিযোগের পাহাড় রয়েছে এই পরিবহনটির বিরুদ্ধে। 

জানা যায়, ১৯৯০ সালে ‘খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি’ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় শান্তি পরিবহনের পথচলা। তখন খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কে চলতো এই পরিবহনের হাতেগোনা কয়েকটি মিনিবাস। ২০০৩ সালে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়কে চারটি চেয়ার কোচ সংযোজনের মাধ্যমে পরিবহনটির নবযাত্রা শুরু হয়। ২০০৪ সালে খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নাম পরিবর্তন করে ‘খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ’ নামকরণ করা হয়। এরপর একে একে এই গ্রুপে যুক্ত হতে থাকেন নবীন পরিবহন ব্যবসায়ীরা। ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে সংগঠনের কলেবর। বাড়তে থাকে নতুন পরিবহনের সংখ্যা।

বর্তমানে খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ছাড়াও ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ময়মনসিংহ, বরিশাল, রংপুর, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম ও সিলেটসহ ৫০টির বেশি জেলায় নিয়মিত যাতায়াত করছে শান্তি পরিবহনের চেয়ার কোচ। 

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য মতে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এখন তাদের নিয়মিত চলাচল করা পরিবহনের সংখ্যা আছে ১৮০টি। এর মধ্যে চেয়ার কোচ ১৪০টি এবং মিনিবাস রয়েছে ৪০টি। এরমধ্যে প্রতিদিন ২২টি নৈশকোচ যাতায়াত করছে খাগড়াছড়ি-ঢাকা রুটে। এই পরিবহনে চালক, সুপারভাইজার, সহকারী এবং কাউন্টারের কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে অন্তত আড়াই হাজার মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। এর বেশির ভাগই খাগড়াছড়ির বাসিন্দা। 

অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের সংগঠন হওয়ায় নিজেদের খেয়াল খুশিমতো পরিবহন পরিচালনা করছেন তারা। সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি ও অভিযোগের কথা কেউই আমলে নিচ্ছে না। তবে এমন পরিবহন চায় না যাত্রী সাধারণ। তাদের চাওয়া নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও সৌহার্দপূর্ণ আন্তরিক সেবা। 

চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবী মাসুদ রানার বাড়ি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায়। শান্তি পরিবহনের নিয়মিত এই যাত্রী বলেন, ‘খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়কে শান্তি ছাড়া আর কোনো পরিবহন চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না। একচ্ছত্র আধিপত্যের কারণেই যাত্রীসেবার মান উন্নত হচ্ছে না। সব ধরনের পরিবহনকে এই সড়কে চলাচলের অবাধ সুযোগ দেওয়া হলে প্রতিযোগিতামূলক বাজার সৃষ্টি হবে। যাত্রীরাও ভালো সেবা পাবেন।’

খাগড়াছড়ি সদরের বাসিন্দা মো. ফরহাদ মিয়া বলেন, ‘প্রায়ই দেখা যায় অদক্ষ ড্রাইভার দিয়ে গাড়ি চালায় এই পরিবহনটি। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় হতাহতদের কখনো হাসপাতালে গিয়ে খোঁজখবরও নেয় না পরিবহন সংগঠনটির নেতারা। এমনকি চিকিৎসার জন্য কোনো রকম সহায়তাও দেওয়া হয় না।’

দীঘিনালা উপজেলার বাসিন্দা আফিফা আফনান বলেন, ‘শান্তি পরিবহনের চালক ও স্টাফদের ব্যবহার খুবই অশালীন। এ ছাড়া গাড়ি চলা অবস্থায় চালক সিটে বসেই ধূমপান করেন। এটি নারী যাত্রীদের জন্য বেশ অস্বস্তিকর ব্যাপার।’

সজীব আহমেদ নামে আরেক যাত্রী বলেন, ‘চেয়ার কোচ বাস হওয়া সত্ত্বেও ট্রাকের মতোই এ পরিবহনে মালামাল নেওয়া হয়। এমনকি যাত্রীদের সঙ্গে কোনো পণ্য থাকলে সেটার জন্যও জোর করে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করেন তারা।’

গ্রিন লাইন পরিবহনের কেন্দ্রীয় মহাব্যবস্থাপক আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘আমরা খাগড়াছড়ি থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত যাত্রীসেবা চালু করতে চেয়েছিলাম। প্রায় দেড় বছর আগে জেলা আঞ্চলিক পরিবহন কমিটি (আরটিসি) অনুমতিও দিয়েছিল। তবে খাগড়াছড়ি পরিবহন মালিক গ্রুপের নানামুখী বাধার কারণে এখন পর্যন্ত তা আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি।’ 

ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) সুপ্রিয় দেব বলেন, ‘শান্তি পরিবহনের যেসব গাড়ি খাগড়াছড়ি রুটে চলাচল করছে তার মধ্যে কয়েকটি গাড়ির ফিটনেস নেই। চলতি বছরে ফিটনেস, রুট পারমিট ও টেক্স টোকেনসংক্রান্ত অসংগতির কারণে এই পরিবহনের বাস ও চালকদের বিরুদ্ধে ৩০টিরও বেশি মামলা হয়েছে।’

খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় দাশ বলেন, ‘এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, পরিবহনে কিছু সংকট ও সমস্যা আছে। যাত্রীদেরও কিছু অভিযোগ, অনুযোগ রয়েছে। তবে চাইলেই এক দিনে সব সমস্যার সমাধান করা যায় না।’ 

বিআরটিএ খাগড়াছড়ি সার্কেলের সহকারী পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, ‘শান্তি পরিবহনের বেশিরভাগ বাসই ঢাকা থেকে রেজিস্ট্রেশন নেওয়া। চালকদের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেসব চালক মাদকাসক্ত হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে তাদের লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে না।’

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক ও জেলা আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির সভাপতি মো. সহিদুজ্জামান বলেন, ‘খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রামসহ অন্য রুটেও সব কোম্পানির বাস চলাচল করতে পারবে। এর আগে যেসব পরিবহন কোম্পানি এসব রুটে বাস চলাচলের অনুমতি পেয়েছিল বা অনুমতির জন্য আবেদন করেছিল, তাদের শিগগিরই এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হবে।’

এমএ/এআর

ঈশ্বরদীতে অবৈধভাবে মাটি কাটায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
ঈশ্বরদীতে অবৈধভাবে মাটি কাটায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
বুধবার মধ্যরাতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান। ছবি : ঈশ্বরদী প্রতিনিধি, খবরের কাগজ।

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রাজাপুর এলাকায় ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করার অভিযোগে সোহাগ হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে ফসলি জমি থেকে কাটা মাটি।

বুধবার (১ জুলাই) রাত ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের হাকিম ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসাদুজ্জামান সরকার।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সুত্র জানায়, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র এলাকায় ফসলি জমির মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করে আসছিল। জমির উপরিভাগ থেকে মাটি কেটে নেওয়ার ফলে ফসলি জমির উর্বরতা নষ্ট হয়। এ ছাড়া ট্রাকে মাটি বহন করে নিয়ে যাওয়ার সময় গ্রামীণ রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। এলাকাবাসীর অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত বুধবার রাতে রাজাপুর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে সোহাগ হোসেনকে মাটি কাটার সময় আটক করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের হাকিম মো. আসাদুজ্জামান সরকার জানান, অবৈধভাবে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার অপরাধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ অনুযায়ী সোহাগ হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় একটি ট্রাকভর্তি মাটিও জব্দ করা হয়।

জাহাঙ্গীর হোসেন/তামান্না রুপা/

সিলেট বিভাগে ৯৬টি কেন্দ্রে  প্রথম দিনের এইচএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০২:২২ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
সিলেট বিভাগে ৯৬টি কেন্দ্রে  প্রথম দিনের এইচএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন
আজ থেকে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা। পরীক্ষা শুরুর আগে কেন্দ্রের সামনে শেষ বারের মত বই চোখ ভুলিয়ে নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ছবিটি সিলেট নগরীর সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ এর সামন থেকে তোলা। ছবি মামুন হোসেন

সিলেট বিভাগের চার জেলার ৯৬টি কেন্দ্রে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের প্রথম দিনের পরীক্ষা শেষ হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে ৯৬টি কেন্দ্রে একযোগে শুরু হয় পরীক্ষা। পরীক্ষা শেষ হয় দুপুর ১টায়। প্রথম দিন বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সিলেট বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সিলেট শিক্ষাবোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় ৭২ হাজার ৭৪৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। গত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থী বেড়েছে ৩ হাজার ৫৭৩ জন।

এবার মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৯ হাজার ২১৭ জন ছাত্র এবং ৪৩ হাজার ৫২৮ জন ছাত্রী। এ বছর নিয়মিত ৫২ হাজার ৫৪০ জন। বাকিরা অনিয়মিত, মানোন্নয়ন ও প্রাইভেট পরীক্ষার্থী।

গত বছর পরীক্ষার্থী ছিলেন ৬৯ হাজার ১৭২ জন। তাদের মধ্যে ২৭ হাজার ৭৬৪ জন ছাত্র এবং ৪১ হাজার ৪০৮ জন ছাত্রী ছিলেন।

জেলাওয়ারি তথ্য অনুযায়ী, এবার সিলেট জেলার ১৫৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৩১ হাজার ২১৫ জন শিক্ষার্থী ৩৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন। একইভাবে সুনামগঞ্জ জেলার ৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১৩ হাজার ৮৭০ জন শিক্ষার্থী ২২টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেন। মৌলভীবাজার জেলার ৫৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৪ হাজার ৭৩৯ জন শিক্ষার্থী ১৬টি কেন্দ্রে, এবং হবিগঞ্জ জেলার ৫৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১২ হাজার ৯২১ জন পরীক্ষার্থী ২০টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর বিলকিস ইয়াছমীন বলেন, ‘এবার সিলেট বিভাগের চার জেলার ৩৩৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৭২ হাজার ৭৪৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ২৯ হাজার ২১৭ জন ছাত্র ও ৪৩ হাজার ৫২৮ জন ছাত্রী। বিভাগের ৯৬টি কেন্দ্রে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ কতজন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন সেটা বিকালে জানা যাবে।’

এদিকে, এইচএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে সিলেট নগরীর ২৫টি পরীক্ষাকেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে সব ধরনের জনসমাবেশ, মিছিল, উচ্চশব্দ ও মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

আজহার/

শার্শায় মাদরাসাছাত্রীকে কুপ্রস্তাব শিক্ষকের, থানায় অভিযোগ

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০২:১১ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম
শার্শায় মাদরাসাছাত্রীকে কুপ্রস্তাব শিক্ষকের, থানায় অভিযোগ
মমিনুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

যশোরের শার্শা উপজেলার একটি ফাজিল মাদরাসার প্রধান শিক্ষক (সুপার) মমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক।

এ ঘটনায় গতকাল বুধবার ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, উপজেলার সামটা ছিদ্দিকীয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার এক ছাত্রীকে একই প্রতিষ্ঠানের সুপার মমিনুল ইসলাম বিভিন্ন সময়ে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী ভয়ে দীর্ঘদিন পরিবারের কাছে বলতে পারেনি। পরে অভিযুক্তের আচরণ অসহনীয় হয়ে উঠলে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান।

এতে আরও বলা হয়, অভিযুক্তের প্রস্তাবে রাজি না হলে পরীক্ষায় অংশ নিতে না দেওয়া, বিভিন্নভাবে ক্ষতি করার হুমকি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এমনকি ১৮ জুন রাতে অভিযুক্ত বাড়িতে গিয়ে ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তিনি জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশের চেষ্টা এবং ছাত্রীর হাত ধরে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলেও অভিযোগ করেন।

এরপর ২৯ জুন অভিযুক্ত মাদরাসা সুপার ছাত্রীর বাবার হাতে টিসি দিয়ে তার মেয়ের নাম প্রতিষ্ঠান থেকে কেটে দেওয়া হয়েছে বলে জানান।

বর্তমানে ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, এর আগেও একই সুপারের বিরুদ্ধে নিজ প্রতিষ্ঠানের দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। নতুন করে থানায় লিখিত অভিযোগ করায় বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নজরুল ইসলাম/আজহার/

চাঁদপুরে ঝুঁকিতে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধ সড়ক

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০২:১১ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০২:৪১ পিএম
চাঁদপুরে ঝুঁকিতে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধ সড়ক
বেড়িবাঁধ সড়কে গর্ত

চাঁদপুরের মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধ সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারী যানবাহনের চাপ, টানা বৃষ্টি এবং দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের অবস্থা দ্রুত অবনতি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা মৌসুমে দ্রুত সংস্কার না হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়বে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৬৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি নির্মাণের পর বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সময়মতো স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় গর্তগুলো বড় আকার ধারণ করেছে।

সম্প্রতি ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকায় অন্তত ১০ থেকে ১২টি বড় গর্ত এবং ৪০ থেকে ৫০টি ছোট গর্ত তৈরি হয়েছে। অনেক স্থানে কার্পেটিং উঠে ফাটলও দেখা দিয়েছে। গত বছর বালুভর্তি বস্তার উপর ঢালাই দিয়ে কিছু অংশ মেরামত করা হলেও তা টেকেনি।

এখলাছপুর এলাকার বাসিন্দা ওবায়েদ উল্যাহ বলেন, আগের সংস্কার দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এখন আবার মাটি দিয়ে গর্ত ভরাট করা হচ্ছে। 

একই এলাকার ইকবাল হোসেন বলেন, গর্তের কারণে বিশেষ করে রাতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়েছে।

সানকিরভাঙ্গা গ্রামের নুরুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির পাশাপাশি ভেকু ও মালবাহী ট্রাকসহ ভারী যানবাহন চলাচলের কারণেও সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

মেঘনা-ধনাগোদা পওর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম শাহেদ বলেন, বৃষ্টি ও ভারী যানবাহনের কারণে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে এবং সওজ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা চলছে।

চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউনুস আলী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। লোকবলের সংকট থাকলেও দ্রুত সড়কটি চলাচল উপযোগী করতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ফয়েজ আহমেদ/তামান্না রুপা/

গরীব ছাত্রের জন্য বরাদ্দ সাইকেল নাতিকে উপহার দিলেন জামায়াত নেতা

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০২:০৫ পিএম
গরীব ছাত্রের জন্য বরাদ্দ সাইকেল নাতিকে উপহার দিলেন জামায়াত নেতা
ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দে কেনা মালামাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। গরীব মাদরাসাছাত্রের নামে বরাদ্দ বাইসাইকেল জালিয়াতির মাধ্যমে নিজে স্বাক্ষর করে নাতিকে উপহার দিয়েছেন কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম।

বিষয়টি জানাজানি হলে জেলাজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমানের নির্দেশে বুধবার (১ জুন) সাইকেলটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ফেরত দিতে বাধ্য হন তাজুল ইসলাম।

এডিপির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিশেষ বরাদ্দে বাইসাইকেল, ছাগল, স্প্রে মেশিন, সেলাই মেশিন, ফুটবল ও হুইল চেয়ারসহ বিভিন্ন সামগ্রী কেনা হয়।
সরকারি বরাদ্দে কেনা এসব সামগ্রী স্থানীয় জামায়াত ও বিএনপি নেতারা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেন।

কোটচাঁদপুর কামিল মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সাইমুন ইসলামের নামে একটি বাইসাইকেল বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সাইকেল তাকে দেওয়া হয়নি। কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম নিজেই মাস্টাররোলে স্বাক্ষর করে বাইসাইকেলটি তার মেয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

সাইমুন জানায়, তার নামে বরাদ্দ হওয়া সাইকেলটি প্রথমে তাকে দেওয়া হয়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে বুধবার দুপুরে সাইকেলটি তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

জামায়াত আমিরের পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি নেতারাও সরকারি বরাদ্দের সাইকেল, সেলাই মেশিন ও স্প্রে মেশিন নিজেদের স্বজনদের মাঝে ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছেন।

মাওলানা তাজুল ইসলাম দাবি করেন, সাইকেলটি তার প্রতিবেশী এক ছেলেকে দেওয়া হয়েছিল।

তবে পরে বক্তব্য বদলে তিনি বলেন, ‘তার ছেলে বেকার এবং আর্থিকসংকটে থাকায় সাইকেলটি তার নাতনি মারিয়াকে দেওয়া হয়েছিল।’

একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, ‘বরাদ্দের এসব সরকারি মালামাল স্থানীয় জামায়াত ও বিএনপি নেতারা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।’

সাবেক পৌর মেয়র ও কোটচাঁদপুর উপজেলা বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন বুলবুল সিডল সরকারি মালামাল দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ভাগাভাগি ও অনিয়মের বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘স্থানীয়দের মাঝে যা শোনা যাচ্ছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।’

তাজুল ইসলামের এমন কর্মকাণ্ডে দুঃখ প্রকাশ করে জামায়াত সমর্থক ও সাবেক মাদরাসাশিক্ষক শের আলী বলেন, ‘মাওলানা তাজুল ইসলাম একজন সচ্ছল মানুষ। তিনি কোটচাঁদপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। একজন দায়িত্বশীল মানুষের দরিদ্র ছাত্রের নামে বরাদ্দ করা এডিপির টাকায় কেনা বাইসাইকেল জালিয়াতি করে নেওয়া মোটেও ঠিক হয়নি।’

সাইকেল কেলেঙ্কারির বিষয়টি ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমানের নজরে আসলে তার নির্দেশে সাইকেলটি উপজেলা নির্বাহী অফিসে ফেরত আনা হয়।

কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপা রানী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘বাইসাইকেল বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠেছিল। সাইকেলটি ফেরত আনা হয়েছে এবং এটি নতুন করে প্রকৃত উপকারভোগীর মাঝে বিতরণ করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, এডিপির বরাদ্দে কেনা বাইসাইকেল ছাড়াও অন্যান্য সামগ্রী বিতরণে আর কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাহফুজুর রহমান/অদিতি/