ঢাকা ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী অবশেষে ইরানকে ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়তে বাধ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র কাতারে আটকে থাকা অর্থে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনবে ইরান এইচএসসির আগেই থেমে যাচ্ছে শিক্ষা সোনারগাঁয় ফুটপাত দখল করে পার্কিং করায় ১৪ জনকে কারাদণ্ড মুক্তির আগেই বাজিমাত চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থীর বিষয়ে আদালতের রায় দেখে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন আত্মিক প্রশান্তি লাভের দারুণ উপায় ৫৪ বছরে প্রথমবার জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যে সরকার-বিরোধী দল: চিফ হুইপ তিস্তা প্রকল্প বাংলাদেশ যত দ্রুত চাইবে চীন সেভাবে কাজ করবে: রাষ্ট্রদূত ফরিদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত অন্তত ২০ দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যা, স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড ভার্চুয়াল শত্রুতার বলি আমার প্রিয় ঠিকানা হালদা নদীর সব মাছেই মিলছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কণা বর্তমান কোচিং স্টাফ থাকলে দলে ফিরবেন না পেপে গুয়ে! ঢাবিতে ২৭৭ প্রজাতির ১৭ হাজারের বেশি গাছ আছে বর্ষাকালের ভাইরাল জ্বর বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র ফিনিক্স সামিটে দেশের সেরা জাককানইবি সাইবার সিকিউরিটি ক্লাব এক বছরের সাজা এড়াতে ৯ বছর পলাতক আসামি বরিশালের সাবেক ডিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ঝাড়ু মিছিল ভূমিরূপ পরিবর্তন অধ্যায়ের ১৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র সন্তানের সবচেয়ে বড় যা প্রয়োজন রোনালদোর চেয়েও ছোট! পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে কে এই রহস্যময় রেফারি? ব্যাংককে আকিজ সিমেন্টের বিজনেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত সিলেটে ওসমানী হাসপাতালে ডিউটিরত ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থীদের ওপর ওয়ার্ড বয়দের হামলা এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের চূড়ায় বাগ্‌দান, পরে গ্রেপ্তার দম্পতি রপ্তানি বাড়াতে পণ্যে বৈচিত্র্য বাড়াতে হবে ঘাটাইল উপজেলায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ হাম উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ শিশুর মৃত্যু

শান্তি পরিবহনে জিম্মি খাগড়াছড়িবাসী

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:০০ এএম
আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:২৪ পিএম
শান্তি পরিবহনে জিম্মি খাগড়াছড়িবাসী
খাগড়াছড়িবাসীতে একমাত্র দূরপাল্লার বাস বলতে আছে কেবল শান্তি পরিবহন। ছবি : খবরের কাগজ

খাগড়াছড়িতে চলছে শান্তি পরিবহনের একচ্ছত্র আধিপত্য। এই পরিবহনের বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। চালক ও স্টাফদের অসদাচরণ, চেয়ারকোচ গাড়িতে যত্রযত্র যাত্রী ওঠানামা ও পণ্য পরিবহন, খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম রুটে একচেটিয়া যাতায়াত ব্যবস্থা, গাড়ি চালানো অবস্থায় চালকের ধূমপান, বেপরোয়া গতির ফলে দুর্ঘটনার কবলে পড়া, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালানো-এমন অভিযোগের পাহাড় রয়েছে এই পরিবহনটির বিরুদ্ধে। 

জানা যায়, ১৯৯০ সালে ‘খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি’ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় শান্তি পরিবহনের পথচলা। তখন খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কে চলতো এই পরিবহনের হাতেগোনা কয়েকটি মিনিবাস। ২০০৩ সালে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়কে চারটি চেয়ার কোচ সংযোজনের মাধ্যমে পরিবহনটির নবযাত্রা শুরু হয়। ২০০৪ সালে খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নাম পরিবর্তন করে ‘খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ’ নামকরণ করা হয়। এরপর একে একে এই গ্রুপে যুক্ত হতে থাকেন নবীন পরিবহন ব্যবসায়ীরা। ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে সংগঠনের কলেবর। বাড়তে থাকে নতুন পরিবহনের সংখ্যা।

বর্তমানে খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ছাড়াও ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ময়মনসিংহ, বরিশাল, রংপুর, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম ও সিলেটসহ ৫০টির বেশি জেলায় নিয়মিত যাতায়াত করছে শান্তি পরিবহনের চেয়ার কোচ। 

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য মতে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এখন তাদের নিয়মিত চলাচল করা পরিবহনের সংখ্যা আছে ১৮০টি। এর মধ্যে চেয়ার কোচ ১৪০টি এবং মিনিবাস রয়েছে ৪০টি। এরমধ্যে প্রতিদিন ২২টি নৈশকোচ যাতায়াত করছে খাগড়াছড়ি-ঢাকা রুটে। এই পরিবহনে চালক, সুপারভাইজার, সহকারী এবং কাউন্টারের কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে অন্তত আড়াই হাজার মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। এর বেশির ভাগই খাগড়াছড়ির বাসিন্দা। 

অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের সংগঠন হওয়ায় নিজেদের খেয়াল খুশিমতো পরিবহন পরিচালনা করছেন তারা। সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি ও অভিযোগের কথা কেউই আমলে নিচ্ছে না। তবে এমন পরিবহন চায় না যাত্রী সাধারণ। তাদের চাওয়া নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও সৌহার্দপূর্ণ আন্তরিক সেবা। 

চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবী মাসুদ রানার বাড়ি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায়। শান্তি পরিবহনের নিয়মিত এই যাত্রী বলেন, ‘খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়কে শান্তি ছাড়া আর কোনো পরিবহন চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না। একচ্ছত্র আধিপত্যের কারণেই যাত্রীসেবার মান উন্নত হচ্ছে না। সব ধরনের পরিবহনকে এই সড়কে চলাচলের অবাধ সুযোগ দেওয়া হলে প্রতিযোগিতামূলক বাজার সৃষ্টি হবে। যাত্রীরাও ভালো সেবা পাবেন।’

খাগড়াছড়ি সদরের বাসিন্দা মো. ফরহাদ মিয়া বলেন, ‘প্রায়ই দেখা যায় অদক্ষ ড্রাইভার দিয়ে গাড়ি চালায় এই পরিবহনটি। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় হতাহতদের কখনো হাসপাতালে গিয়ে খোঁজখবরও নেয় না পরিবহন সংগঠনটির নেতারা। এমনকি চিকিৎসার জন্য কোনো রকম সহায়তাও দেওয়া হয় না।’

দীঘিনালা উপজেলার বাসিন্দা আফিফা আফনান বলেন, ‘শান্তি পরিবহনের চালক ও স্টাফদের ব্যবহার খুবই অশালীন। এ ছাড়া গাড়ি চলা অবস্থায় চালক সিটে বসেই ধূমপান করেন। এটি নারী যাত্রীদের জন্য বেশ অস্বস্তিকর ব্যাপার।’

সজীব আহমেদ নামে আরেক যাত্রী বলেন, ‘চেয়ার কোচ বাস হওয়া সত্ত্বেও ট্রাকের মতোই এ পরিবহনে মালামাল নেওয়া হয়। এমনকি যাত্রীদের সঙ্গে কোনো পণ্য থাকলে সেটার জন্যও জোর করে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করেন তারা।’

গ্রিন লাইন পরিবহনের কেন্দ্রীয় মহাব্যবস্থাপক আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘আমরা খাগড়াছড়ি থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত যাত্রীসেবা চালু করতে চেয়েছিলাম। প্রায় দেড় বছর আগে জেলা আঞ্চলিক পরিবহন কমিটি (আরটিসি) অনুমতিও দিয়েছিল। তবে খাগড়াছড়ি পরিবহন মালিক গ্রুপের নানামুখী বাধার কারণে এখন পর্যন্ত তা আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি।’ 

ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) সুপ্রিয় দেব বলেন, ‘শান্তি পরিবহনের যেসব গাড়ি খাগড়াছড়ি রুটে চলাচল করছে তার মধ্যে কয়েকটি গাড়ির ফিটনেস নেই। চলতি বছরে ফিটনেস, রুট পারমিট ও টেক্স টোকেনসংক্রান্ত অসংগতির কারণে এই পরিবহনের বাস ও চালকদের বিরুদ্ধে ৩০টিরও বেশি মামলা হয়েছে।’

খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় দাশ বলেন, ‘এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, পরিবহনে কিছু সংকট ও সমস্যা আছে। যাত্রীদেরও কিছু অভিযোগ, অনুযোগ রয়েছে। তবে চাইলেই এক দিনে সব সমস্যার সমাধান করা যায় না।’ 

বিআরটিএ খাগড়াছড়ি সার্কেলের সহকারী পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, ‘শান্তি পরিবহনের বেশিরভাগ বাসই ঢাকা থেকে রেজিস্ট্রেশন নেওয়া। চালকদের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেসব চালক মাদকাসক্ত হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে তাদের লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে না।’

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক ও জেলা আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির সভাপতি মো. সহিদুজ্জামান বলেন, ‘খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রামসহ অন্য রুটেও সব কোম্পানির বাস চলাচল করতে পারবে। এর আগে যেসব পরিবহন কোম্পানি এসব রুটে বাস চলাচলের অনুমতি পেয়েছিল বা অনুমতির জন্য আবেদন করেছিল, তাদের শিগগিরই এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হবে।’

এমএ/এআর

সোনারগাঁয় ফুটপাত দখল করে পার্কিং করায় ১৪ জনকে কারাদণ্ড

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:২২ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
সোনারগাঁয় ফুটপাত দখল করে পার্কিং করায় ১৪ জনকে কারাদণ্ড
ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় ফুটপাত দখল এবং সড়কে অবৈধভাবে অটো ও সিএনজি পার্কিং করায় ১৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ১৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং একজনকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাতের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান চালায়। অভিযানে সোনারগাঁ থানা পুলিশ, আনসার, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং জনপ্রতিনিধিরা অংশ নেন।

প্রশাসন জানায়, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফিডার রোড দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল এবং যত্রতত্র অটো-সিএনজি পার্কিংয়ের কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল। বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে রাস্তা দখল করে ব্যবসা পরিচালনা এবং সড়কে অবৈধভাবে যানবাহন পার্কিংয়ের দায়ে ১৫ জন দোকানদার ও অটো-সিএনজি চালককে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৩ জনকে পাঁচ দিনের এবং একজনকে তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচশ টাকা অর্থদণ্ড দেন। এ ছাড়া সড়ক পরিবহন আইনে একজনকে তিন হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন, সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

ইউএনও আসিফ আল জিনাত বলেন, অবৈধ দখল ও সড়কে যত্রতত্র পার্কিং বন্ধে একাধিকবার মাইকিং ও সতর্ক করা হয়েছে। অটো-সিএনজির জন্য নির্ধারিত স্ট্যান্ড থাকা সত্ত্বেও চালকেরা নিয়ম মানছেন না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে সচেতন করার পরও তারা আইন অমান্য করেছেন। বুধবারও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় বৃহস্পতিবার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আজকের অভিযান সতর্কতামূলক। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পরবর্তী সময়ে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, মোগরাপাড়া চৌরাস্তার দুই পাশে প্রতিনিয়ত যানজট সৃষ্টি হচ্ছিল। জনদুর্ভোগ কমাতে পরিচালিত অভিযানে ১৫ জনকে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং একজনকে অর্থদণ্ড দেন। পরে সাজাপ্রাপ্তদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ইমরান/নাঈম

চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থীর বিষয়ে আদালতের রায় দেখে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম
চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থীর বিষয়ে আদালতের রায় দেখে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল-সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। রায় হাতে পাওয়ার পরই পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনাররা।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদ ও আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় না দেখে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। রায় প্রকাশের পর কমিশন আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

এর আগে গত মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ ঋণখেলাপির দায়ে চট্টগ্রাম-৪ আসনে জয়ী বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেন। এ রায়ের ফলে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না। তবে ওই আসনে পুনর্নির্বাচন হবে, নাকি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে— সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের ওপর নির্ভর করছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী বিজয়ী হলেও আপিল বিভাগের পূর্ববর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী তার নির্বাচনের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে হাইকোর্টের এক আদেশে তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। সেই আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকী আপিল করেন। তার অভিযোগ ছিল, ঋণখেলাপি হওয়ায় আসলাম চৌধুরীর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আইনগত সুযোগ ছিল না।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে আপিল বিভাগ আসলাম চৌধুরীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিলেও, আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম-৪ আসনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ না করার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ১৫ জুন রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করা হয় এবং মঙ্গলবার আপিল বিভাগ চূড়ান্ত রায়ে তার প্রার্থিতা বাতিল করেন। এখন নির্বাচন কমিশনের নজর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের দিকে। সেই রায়ের ভিত্তিতেই চট্টগ্রাম-৪ আসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।

এলিস/নাঈম

ফরিদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত অন্তত ২০

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম
ফরিদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত অন্তত ২০
ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুরের ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের করিমপুর এলাকায় যাত্রীবাহী দুইটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী রয়েল পরিবহন ও ফরিদপুর থেকে ছেড়ে আসা মাগুরাগামী আপন পরিবহনের দুটি বাস করিমপুর এলাকায় পৌঁছালে এ সংঘর্ষ হয়। এ সময় উভয় বাসের অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও হাইওয়ে থানা পুলিশের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুইটি রাস্তা থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

নয়ন/এএফ

এক বছরের সাজা এড়াতে ৯ বছর পলাতক আসামি

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম
এক বছরের সাজা এড়াতে ৯ বছর পলাতক আসামি
ছবি: খবরের কাগজ

নাটোরের লালপুর উপজেলার উত্তর লালপুর এলাকার এক গৃহিনী এক বছরের সাজা এড়াতে ৯ বছর পলাতক ছিলেন। দীর্ঘ ৯ বছর পর রংপুর জেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই)  দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আসামি উত্তর লালপুুর এলাকার বাসিন্দা।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অর্থ ঋণ সংক্রান্ত একটি মামলায় নাটোর জেলা ও দায়রা জজ ৯ বছর আগে তাকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডসহ ৬ লাখ ১০ হাজার  টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

কিন্তু সাজা এড়াতে তিনি আত্নগোপনে ছিলেন দীর্ঘ ৯ বছর। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (১ জুলাই) রাতে ১২ টার দিকে রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানার আলমনগর মহাদেবপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

কামাল/এএফ

বরিশালের সাবেক ডিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ঝাড়ু মিছিল

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
বরিশালের সাবেক ডিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ঝাড়ু মিছিল
ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ করছেন ছিন্নমূল নারীরা। ছবি: খবরের কাগজ

বরিশালের সদ্য সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে সেবা বঞ্চনা, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ করেছেন ছিন্নমূল নারীরা।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভ চলাকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের একটি বৈঠক চলছিল। এ সময় বিক্ষোভের খবর পেয়ে খায়রুল আলম সুমন বৈঠকস্থল ছেড়ে সরকারি বাংলোয় চলে যান।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বিভিন্ন সহায়তার জন্য আবেদন করেও তারা কোনো সহযোগিতা পাননি। দায়িত্ব পালনকালে খায়রুল আলম সুমন ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছিলেন। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শাহানুর বেগম বলেন, বহুবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়েও আমরা কোনো সহায়তা পাইনি। উল্টো আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে।

আরেক বিক্ষোভকারী পিয়ারা বেগম বলেন, ‘আমরা এমন একজন মানবিক জেলা প্রশাসক চাই, যিনি সুইপার থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা— সবার কথা শুনবেন। জেলার অভিভাবক হিসেবে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে দাঁড়াবেন। কিন্তু সাবেক ডিসি সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের কথা শুনতেন না। এমনকি গণশুনানির সময়ও আমাদের তার কক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হতো না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, খায়রুল আলম সুমন ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর বরিশালের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব পালনকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে সরকারি অর্থ ব্যয়ে অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। অতিরিক্ত ভোটকক্ষ ও দুর্গম কেন্দ্র দেখিয়ে বরাদ্দ নেওয়া, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি এবং বিভিন্ন খাতে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জেলা প্রশাসনের ভেতরেও অসন্তোষ তৈরি হয়। এ- সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর তথ্য ফাঁসের সন্দেহে
জেলা প্রশাসনের প্রায় ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে একযোগে বদলি করা হয়।

এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার সরকার তাকে বরিশালের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে পরবর্তী পদায়নের জন্য মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করে।

একই সঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মামুন খন্দকারকে বরিশালের নতুন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পদায়ন করা হয়।

সার্বিক বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে খায়রুল আলম সুমন কোনো মন্তব্য না করে সরকারি গাড়িযোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর ত্যাগ করেন।

সবুজ/নাঈম