কোন প্রকার সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনা ছাড়াই লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী গোলাম ফারুক পিংকু বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৫৯৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী জাতীয় পার্টির মো. রাকিব হোসেন রাকিব পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৪৬ ভোট।
সর্বোচ্চ ভোট পাওয়ায় রবিবার (৫ নভেম্বর) লক্ষ্মীপুর টাউন লাইব্রেরী মিলনায়তনে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী গোলাম ফারুক পিংকুকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন। এ সময় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
এ নির্বাচনে জাকের পার্টির প্রার্থী আ.ন.ম সামছুল করিম খোকন গোলাপ ফুল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২ হাজার ১২৬ ভোট এবং অপর প্রার্থী ন্যাশনাল পিপলস পাটির সেলিম মাহমুদ (আম প্রতীক) পেয়েছেন ৫১৩ ভোট।
গোলাম ফারুক পিংকুর প্রতিদ্বন্ধী অপর ৩ প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. রাকিব হোসেন (লাঙ্গল প্রতীক) ও জাকের পার্টির প্রার্থী আ.ন.ম সামছুল করিম খোকন (গোলাপ ফুল) এ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর লোকজনের বিরুদ্ধে ব্যাপক জাল ভোট প্রদান ও এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে রবিবার দুপুরে প্রেসক্লাবে পৃথক পৃথক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়।
লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারেক বিন রশিদ জানান, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে চারস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় ২৩টি মোবাইল টিম, ৭টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, ৪টি স্ট্যান্ড বাই টিম কাজ করছে।
এছাড়া র্যাবের ৭টি পেট্রোল টিম, ৬ প্লাটুন বিজিবি ও ১৪০০ আনসার সদস্য কাজ করছে। উৎসবমুখর পরিবেশে মানুষ ভোট দিতে পারছে। কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩ হাজার ৭৪৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৯ হাজার ৯৬ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৪৮ জন।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ সেপ্টেম্বর বার্ধক্যজনিত কারণে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শাহজাহান কামাল মারা যান। তার মৃত্যুতে ৪ অক্টোবর আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
আ.রহিম/