আমদানি করা ১০০ টন ও ১১০ টন গুঁড়ো দুধের দুটি লট এবং সাড়ে ২৩ টন আদার একটি লট প্রকাশ্যে নিলামে তোলে চট্টগ্রাম কাস্টম। এর মধ্যে ১০০ টন গুঁড়ো দুধ ও সাড়ে ২৩ টন আদা নিলামে বিক্রি করা হয়েছে।
সোমবার (৬ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তিনটি লটের মধ্যে গুঁড়ো দুধের একটি লট স্থগিত করা হয়। বাকি দুটি লটের একটিতে আদা, অপরটিতে গুঁড়ো দুধ নিলাম হয়। এতে মাসুম এন্টারপ্রাইজ ১০০ টন গুঁড়ো দুধের লট ৯৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা সবোর্চ্চ দর দিয়ে কিনে নেয়। আদার লটটি ১২ লাখ ৭০ টাকায় কেনে মেসার্স মহিউদ্দিন জাবেদ ট্রেডিং।
নিলাম সূত্র জানায়, এক লটে ২৩ হাজার ৫৮০ কেজি আদা রয়েছে। যার মূল্য ২৩ লাখ ২৪ হাজার ১৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রতি কেজির দাম পড়েছে ৯৮ টাকা ৫৭ পয়সা।
অন্যদিকে, একটি ১০০ টন ও আরেকটি ১১০ টন গুঁড়ো দুধের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ কোটি ২৩ লাখ ৩ হাজার ৮৫৮ টাকা। সে অনুযায়ী প্রতি কেজির দাম পড়েছে ২৯৬ টাকা ৬৮ পয়সা।
কাস্টম নিয়ম অনুযায়ী, সংরক্ষিত মূল্যের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পণ্য নিলামে বিক্রি করার বিধান রয়েছে। রবিবার আশপাশের এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে নিলামের ঘোষণা দেয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
কাস্টম হাউস নিলাম শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান নান্না বলেন, ‘১১০ টনের গুঁড়ো দুধের লটটি স্থগিত করা হয়েছে। অপর ১০০ টনের দুধের একটি লট বিক্রি হয়েছে ৯৯ লাখ টাকায়। আদার লটটি ১৩ লাখ টাকায় বিক্রি হয়। যেহেতু এটি পচনশীল পণ্য, তাই স্পট নিলামের মাধ্যমে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
কাস্টমসের সূত্রমতে, এই বছরের ২১ জানুয়ারি নিলামের জন্য নির্ধারিত তালিকায় আদার চালান তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। আমদানীকৃত চালানের মূল দেশ উক্ত তালিকায় উল্লেখ নেই। একটি ৪০ ফুট রিফার কনটেইনারে (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনটেইনার) আসা চালানটি ঢাকার কোম্পানি কাবা এন্টারপ্রাইজ আমদানি করেছিল। পণ্যের চালান বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে রয়েছে।
দুটি পৃথক স্কিমড মিল্ক পাউডার চালান গত বছরের ৪ জুলাই নিলামের জন্য নির্ধারিত রিমুভাল লিস্টে (আরএল) তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। এই মিল্ক পাউডার চালান ভারত থেকে আমদানি করা হয়। অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রি ১১০ টন এবং সিটি কমোডিটি ১০০ টন গুঁড়ো দুধ আমদানি করে। তবে এ দুটি চালান কবে বন্দরের আনা হয়েছিল তা উল্লেখ নেই।
এর মধ্যে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রি ১১০ টন গুঁড়ো দুধের নিলাম স্থগিত করে কাস্টম হাউস। এর কারণ জানাতে পারেননি ওই রাজস্ব কর্মকর্তা।
আবদুস সাত্তার/ইসরাত/অমিয়/