ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
কোচের সিদ্ধান্তে আস্থা রাখছেন এনড্রিক রাজশাহীতে নদী রক্ষায় ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হরিণাকুণ্ডুতে মাদরাসাছাত্রীকে নিয়ে শিক্ষক উধাও, ৩৫ দিনেও সন্ধান মেলেনি বিয়ে করছেন আমির খান সিংগাইরে রাজমিস্ত্রির ঠিকাদারের মরদেহ মিললো পেঁপে খেতে নরওয়ে ম্যাচে খেলবে না পাকুয়েতা মতলবে ২ মাস ধরে গ্যাস পাইপ লিকেজ, আতঙ্কে এলাকাবাসী ‘মাদক ছাড়ুন, না হলে বিপদে পাশে কাউকে পাবেন না’ শিয়াল ও ছাগল বিশ্বকাপের তারকা ট্রিওন্ডা প্রজাপতির অভিমান মেসির গল্প এখনো শেষ হয়নি: কার্লোস তেভেজ ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু শ্রীপুরে ট্রাকচাপায় দুই বন্ধু নিহত পড়াশোনা ও শখের চমৎকার ভারসাম্য মাত্র ১০ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় খুন, অবশেষে ধরা মূল আসামি এলপিজি সিলিন্ডারের মতো তেলের দামও কমবে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী পক্ষপাতিত্বের প্রশ্নের আর্জেন্টিনা কোচের কড়া জবাব নিয়োগ দেবে মীনা বাজার ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির আবেদন শুরু আগস্টে শিবচরে কাভার্ড ভ্যানেরচাপায় নিহত ২, আহত ২ মাতামুহুরীতে ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সহোদরের মৃত্যু জাপানে ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্প শক্তিশালী এল নিনোর আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ ‘প্রাকৃতিক সুস্থতার জন্য হিজামা একটি অনন্য সুন্নত’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবিক নেতায় পরিণত হয়েছেন: এমপি ফখরুল স্বাধীন সাংবাদিকতায় অপতথ্য ও গুজব বড় চ্যালেঞ্জ: প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এআই দিয়ে প্রবেশপত্র তৈরি, পরীক্ষার্থীসহ সহযোগীকে অর্থদণ্ড চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার পেলেন ৬ লেখক নিয়োগ দেবে এসএমসি, রয়েছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা

বিশ্বব্যাংকের এমডিএসপি প্রকল্প ছয় স্কুল নির্মাণে ধীরগতি

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ১১:২৮ এএম
আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:২৯ এএম
ছয় স্কুল নির্মাণে ধীরগতি
স্কুলের ভবন নির্মাণাধীন থাকায় শিক্ষার্থীদের বাঁশ দিয়ে বানানো ঘরে ক্লাস করতে হচ্ছে। ছবিটি সীতাকুণ্ডের মধ্যেরধারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সম্প্রতি তোলা।

ভাঙাচোরা সড়কের পাশে একচালা একটি ঘর। ঠিক ঘর বললে ভুল হবে। কোথাও বাঁশের তৈরি বেড়া আছে, আবার কোথাও তাও নেই। দুয়েক জায়গায় মাথার ওপরের টিনও উধাও। ছোট ছোট শিশু ঝাড়ু হাতে মেঝে পরিষ্কার করছে। দূর থেকে দেখে যে-কেউ গোয়ালঘর ভাবতে পারেন। কিন্তু এটি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার প্রত্যন্ত সৈয়দপুর ইউনিয়নের এই স্কুলটির নাম মধ্যেরধারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ২০২০ সালের শুরুর দিকে স্কুলটির নতুন ভবনের কাজ শুরু হয়। এরপর থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভাগ্যে বেজে ওঠে দুর্ভোগের ঘণ্টা। নতুন ভবনে হেসে-খেলে শিক্ষাজীবন পার করবেন শিক্ষার্থীরা, এমন প্রত্যাশা থাকলেও তিন বছরেও তা পূরণ হয়নি। অস্থায়ী ঝুপড়ি ঘরেই ক্লাস করতে হচ্ছে তিনশতাধিক শিক্ষার্থীকে। স্কুলের পরিবেশ ভালো নয়, তাই কোনো শিক্ষকও সেখানে বদলি হয়ে আসতে চান না। এ জন্য শিক্ষকসংকট আর ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই টেনেটুনে চলছে পাঠদান কার্যক্রম।

শুধু মধ্যেরধারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ই নয়, এ উপজেলার আরও পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র ঠিক একই রকম। বর্ষা এলেই বন্ধ থাকে ক্লাস-পরীক্ষা। নেই শৌচাগার, টিউবওয়েল, ফ্যান, বাতিসহ শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ। এতে ঋতুভেদে সীমাহীন ভোগান্তিতে শিক্ষাজীবন পার করতে হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুন মাসে এই ছয় স্কুলের ভবন নির্মাণ কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৩০ শতাংশ কাজও এখনো শেষ হয়নি। দুটি স্কুলের কাজ এখনো শুরুই হয়নি। এতে কবে নাগাদ শিক্ষার্থীরা নতুন ভবনে ফিরতে পারবে তা নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। 

উপজেলা এলজিআরডি সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০১৫ সালে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে আশ্রয়ণ প্রকল্প কাম স্কুল নির্মাণের কাজ শুরু হয়। 

বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র প্রকল্পের (এমডিএসপি) এ কাজটি সম্পন্ন করছে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়। এ প্রকল্পের আওতায় সীতাকুণ্ড উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় মোট ছয়টি বহুমুখী আশ্রয়ণকেন্দ্র কাম প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণের টেন্ডার হয়। এসব ভবনের নিচতলায় থাকবে ফাঁকা মেঝে, দ্বিতীয় তলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় গবাদিপশু রাখার ব্যবস্থা, তৃতীয় তলায় দুর্যোগকবলিত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র আর চতুর্থ তলায় সুপেয় পানি ও খাবারের ব্যবস্থা। ছাদে থাকবে সোলার সিস্টেম। অন্যান্য ফার্নিচারের সুবিধাও রাখা হবে এসব ভবনে।  

ভবনগুলোর নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়াহেদ গ্রুপ। ২০২০ সালের শুরুর দিকে মধ্যেরধারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম আশ্রয়ণ কেন্দ্রসহ ছয়টি ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের আওতায় অন্য ভবনগুলো হলো- উপজেলার পশ্চিম বহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব লালানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এস এম পাইলট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ বাঁশবাড়িয়া রহমতের পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কেশবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। 

কিন্তু এরই মধ্যে চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাজ শুরু হলেও দক্ষিণ বাঁশবাড়িয়া রহমতের পাড়া ও কেশবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাজ আজও শুরু হয়নি। অন্য চারটি ভবনের কেবল ফাউন্ডেশন স্তরের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজও চলছে অনেকটা কচ্ছপ গতিতে। 

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষা কর্মকর্তা, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিসহ স্থানীয় এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ- ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের গাফিলতির কারণে দীর্ঘ সময়ও ভবনগুলোর কাজ শেষ হয়নি। এতে ব্যাহত হচ্ছে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন। মানসম্মত পরিবেশ না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা স্কুলের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে।

মধ্যেরধারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘স্কুলের তিন শিক্ষকের মধ্যে একজন চাকরি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। সাড়ে ৩০০ শিক্ষার্থীকে দুজন শিক্ষক কীভাবে সামাল দেবেন তা নিয়ে চিন্তায় আছি। আজ তিন বছর পার হলেও নতুন ভবনে যেতে পারলাম না।’ 

জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুচ্ছাফা খবরের কাগজকে বলেন, ‘কাজের গতি একেবারে মন্থর। আমরা এ বিষয়ে এলজিইডিকে বলেছি, আপনারা না পারলে লিখে দিন। আমরা ব্যবস্থা নেব। কাজের অগ্রগতি মোটেও সন্তোষজনক নয়। কোথাও একবার কাজ শুরু হলে আবার বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি কোথাও কোথাও রডে মরিচা ধরে গেছে। অন্য মালামালও নষ্ট হচ্ছে।’ 

তিনি বলেন, ‘মূল ঠিকাদার কাজ না করে উপ-ঠিকাদার দিয়ে কাজ করিয়ে নিচ্ছেন। সবেমাত্র বেইসের কাজ শেষ হয়েছে। কখন যে চারতলা ভবন হবে তার কোনো ঠিক নেই। ছয়টি স্কুলের পাঠদান চলছে অস্থায়ী ভবনে। ওই ভবন যেখানে নির্মাণ করা সেসব ভূমির মালিকের সঙ্গে চুক্তিও শেষ হয়ে গেছে। এখন জটিলতা বাড়ছে।’ 

জানতে চাইলে অভিযোগ স্বীকার করে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়াহেদ গ্রুপের জি এম মিনহাজ হোসাইন বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারণে কয়েকটি প্রকল্পের কাজ বন্ধ ছিল। এখন সবকিছু ঠিক করা হয়েছে। ফের কাজ শুরু করেছি। আশা করি, আগামী বছরের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারব।’ 

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনির হায়দার খবরের কাগজকে বলেন, ‘কাজের অগ্রগতি বাড়াতে ঠিকাদারকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। এখন কাজ চলছে। নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন কাজ খুব ধীরে হয়েছিল। মাঝখানে বন্ধও ছিল। কখনো শ্রমিকসংকট ছিল।’ 

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম এলজিআরডি কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসান আলী খবরের কাগজকে বলেন, ‘কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য বলা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা তৎপর রয়েছি।’

রাজশাহীতে নদী রক্ষায় ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
রাজশাহীতে নদী রক্ষায় ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত
ছবি: খবরের কাগজ

ঐতিহাসিক পদ্মা নদীসহ দেশের সব নদ-নদী রক্ষা, নাব্যতা সংকট দূর, নদীদখল ও দূষণ প্রতিরোধ এবং আন্তর্জাতিক অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ৬টায় নগরের লালনশাহ মুক্তমঞ্চ থেকে সাড়ে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ম্যারাথনের উদ্বোধন করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।

মিনি ম্যারাথনটি লালনশাহ মুক্তমঞ্চ থেকে শুরু হয়ে ফুড অফিস মোড় ঘুরে আবার মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন বয়সের প্রায় ৫৫০ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১৩৫ জন ছিলেন নারী প্রতিযোগী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথনের উপদেষ্টা লিয়াকত আলী, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সংগঠনের উপদেষ্টা গোলাম মোস্তফা মামুন, উপদেষ্টা রিক্তা পারভীন, আহ্বায়ক মো. জুলফিকার আলী হায়দার, যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন বিন মোস্তফা, সদস্য সচিব মো. জাহিদুল ইসলাম সানিসহ আয়োজক কমিটির সদস্যরা।

আয়োজকরা জানান, ‘রান ফর পদ্মা’ কেবল রাজশাহীর নয়, বরং বাংলাদেশের পরিবেশ, নদী ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার একটি গণসচেতনতামূলক উদ্যোগ। নদী রক্ষার দাবি শুধু পরিবেশগত নয়, এটি কৃষি, জীববৈচিত্র্য, জনজীবন ও দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তরুণ প্রজন্মসহ সাধারণ মানুষকে নদী রক্ষার আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতেই এ মিনি ম্যারাথনের আয়োজন করা হয়েছে।

এনায়েত/এএফ

হরিণাকুণ্ডুতে মাদরাসাছাত্রীকে নিয়ে শিক্ষক উধাও, ৩৫ দিনেও সন্ধান মেলেনি

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
হরিণাকুণ্ডুতে মাদরাসাছাত্রীকে নিয়ে শিক্ষক উধাও, ৩৫ দিনেও সন্ধান মেলেনি
ইকরামুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে মাদরাসাছাত্রীকে নিয়ে শিক্ষক উধাও, ৩৫ দিনেও সন্ধান মেলেনি অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর। 

এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা উকিল উদ্দিন বাদী হয়ে গত শুক্রবার (৫ জুন) অভিযুক্ত শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের নামে হরিণাকুণ্ডু থানায় মামলা করেছেন।

মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনকে আসামি করা হয়েছে।

একই মাদরাসার শিক্ষক ছাত্রীকে নিয়ে উধাও হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকলেও এখনো ওই ছাত্রীর সন্ধান পায়নি পরিবার।

জানা গেছে, উপজেলার শিতলী রোকেয়া খাতুন মাদরাসার শিক্ষক ইকরামুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে একই মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ইশিতা আক্তার ইভাকে (১৪) উত্ত্যক্ত করতেন। প্রেমের প্রস্তাবও দিতেন বলে পরিবারের দাবি।

ছাত্রীর পরিবার জানায়, ঈদুল আজহার দিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ইভা তার বান্ধবী সাদিয়ার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। অনেক সময় পার হলেও বাড়ি না ফেরায় তারা সাদিয়ার বাড়িতে খোঁজ নিতে যান। এ সময় সাদিয়ার মা জানান, ইভা তাদের বাড়িতে আসেনি। পরে আত্মীয়-স্বজন ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পরে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, উপজেলার মান্দিয়া গ্রামের আমিরুল ইসলামের বাড়ির সামনের পাকা রাস্তা থেকে মাদরাসার শিক্ষক ইকরামুল ইসলাম কয়েকজন সহযোগীর সহায়তায় ইভাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে মোটরসাইকেলে তুলে ঝিনাইদহ শহরের দিকে নিয়ে যান।

অভিযুক্ত শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ইকরামুল ইসলাম যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সারুটিয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হরিণাকুণ্ডু উপজেলার শিতলী রোকেয়া খাতুন মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন।

এ বিষয়ে মাদরাসার পরিচালক মুফতি বুরহান উদ্দীন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে দীর্ঘ ৩৫ দিন পার হলেও মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত ইভার সন্ধান এবং নিরাপদে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

পরিবারের অভিযোগ, থানায় মামলা করার পরও তাদের মেয়েকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।

হরিণাকুণ্ডু থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফজলুল হক জাহিদ বলেন, ওই ছাত্রীকে উদ্ধারে মাদরাসার শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের যশোরের কেশবপুরের বাড়িসহ সম্ভাব্য সব স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। ওই শিক্ষকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় ট্র্যাকিং করতে সমস্যা হচ্ছে।

তবে দ্রুতই নিখোঁজ ছাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) অসিত কুমার রায় বলেন, মাদরাসাছাত্রীকে নিয়ে শিক্ষক উধাওয়ের ঘটনায় মামলা হয়েছে। ছাত্রীকে উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এখনো তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

মাহফুজুর রহমান/রিফাত/

সিংগাইরে রাজমিস্ত্রির ঠিকাদারের মরদেহ মিললো পেঁপে খেতে

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
সিংগাইরে রাজমিস্ত্রির ঠিকাদারের মরদেহ মিললো পেঁপে খেতে
ছবি: খবরের কাগজ

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের মেদুলিয়া গ্রামে শামসুদ্দিন ওরফে সাম্বু (৪৮) নামে এক রাজমিস্ত্রির ঠিকাদারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক চাপে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।

শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোরে বাড়ির অদূরে নিজের লাগানো পেঁপে খেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।

নিহত শামসুদ্দিন ওরফে সাম্বু মৃত আমজাদ হোসেন ওরফে আমনের ছেলে। তিনি তিন সন্তানের জনক এবং রাজমিস্ত্রির ঠিকাদারের কাজ করতেন।

নিহতের স্ত্রী কাঞ্চনমালা জানান, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে পরিবারের সঙ্গে খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। এরপর রাতে আর ফিরে আসেননি। পরদিন শুক্রবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা পেঁপে খেতে তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পরিবারকে খবর দেন। পরে এলাকাবাসী মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

স্থানীয়রা জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই নানা পারিবারিক সমস্যায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন শামসুদ্দিন। বিভিন্ন পারিবারিক সংকটে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল করে। প্রাথমিকভাবে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আসাদ/এএফ

মতলবে ২ মাস ধরে গ্যাস পাইপ লিকেজ, আতঙ্কে এলাকাবাসী

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
মতলবে ২ মাস ধরে গ্যাস পাইপ লিকেজ, আতঙ্কে এলাকাবাসী
বাখরাবাদ গ্যাসের আবাসিক পাইপলাইনের একটি অংশে লিকেজ হয়ে পানির নিচ থেকে বুদবুদের আকারে গ্যাস বের হচ্ছে। ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় প্রায় দুই মাস ধরে গ্যাস পাইপলাইনে লিকেজ হয়ে গ্যাস বের হচ্ছে। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও মেরামতের উদ্যোগ না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে সরেজমিনে উপজেলার নবকলস এলাকায় দেখা যায়, বাখরাবাদ গ্যাসের আবাসিক পাইপলাইনের একটি অংশে লিকেজ হয়ে পানির নিচ থেকে বুদবুদের আকারে গ্যাস বের হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৬০ দিন ধরে এভাবে গ্যাস বের হলেও এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, যেই এলাকায় এই লিকেজ হয়েছে তা একটি জনগুরুত্বপূর্ণ স্থান। এর পাশ দিয়ে চলাচল শত শত মানুষের। এছাড়া পাশেই রয়েছে মতলব সরকারি কলেজ। এমন অবস্থায় যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই আতঙ্কে দিন কাটছে এলাকাবাসীর।

রাসেল নামের এক বাসিন্দা বলেন, গ্যাস পাইপটি কিছু অংশ পানির উপর, কিছু অংশ পানির নিচে। তবে হালকা পানির নিচে যেই অংশটা ওই জায়গা দিয়ে গ্যাস বের হচ্ছে। সারাক্ষণ বুদবুদ করে বের হচ্ছে গ্যাস। গ্যাস লাইনের পাইপ দ্রুত মেরামত করতে হবে। না হয় বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। মেরামত করার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

চাঁদপুর বাখরাবাদ গ্যাস আঞ্চলিক বিতরণ কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বিক্রয়) প্রকৌশলী মীর ফজলে রাব্বি বলেন, এ ব্যাপারে আমি অবগত ছিলাম না। এখন জেনেছি অবশ্যই দ্রুত গ্যাস লাইন মেরামত করা হবে।

এএফ/

শ্রীপুরে ট্রাকচাপায় দুই বন্ধু নিহত

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম
শ্রীপুরে ট্রাকচাপায় দুই বন্ধু নিহত
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহে বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার গাজীপুরের শ্রীপুরে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই বন্ধু মারা গেছেন। 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত দুইটার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহের ত্রিশালে বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. সোলেমান সিকদার (২২) কেরানীগঞ্জে ব্যবসা করতেন এবং কাওসার হোসেন (২৮) চাকরি করত। ফলে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।

নিহত কাওসার হোসেনের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আলী শান্ত জানায়, চার বন্ধু সাজ্জাদ, আরিফ, সোলেমান সিকদার ও কাওসার দুই মোটরসাইকেলে করে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহের ত্রিশালের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তারা মোটরসাইকেলে গাজীপুরের শ্রীপুরের জৈনাবাজার এলাকায় পৌঁছলে, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক কাওসার ও সোলেমানের মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তারা মারা যান।

মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান খবরের কাগজকে জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ট্রাক ও মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। তবে ট্রাকচালক পালিয়ে গিয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পলাশ প্রধান/থিওটোনিয়াস/রিফাত/