লক্ষ্মীপুরে নৌকার স্লোগার দিতে দিতে অস্ত্রের মুখে স্কুলছাত্রী জান্নাতুন নাঈমকে (১৪) দ্বিতীয় দফা অপহরণ করা হয়েছে। তবে ঘটনার ছয় দিনেও উদ্ধার করতে পারেনি চন্দ্রগঞ্জ থানা-পুলিশ। গত ২৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সদর উপজেলার পাঁচপাড়া গ্রামের নানার বাড়ি থেকে মামলার মূল আসামি কথিত ছাত্রলীগ নেতা রাসেল হোসেন ওরফে অপু ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি দল অস্ত্রের মুখে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করে।
অপহৃত স্কুলছাত্রীর মা বিবি ফাতেমা বেগম খবরের কাগজকে জানান, এর আগে ১ অক্টোবর ২০২২ সালে চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন প্রতাপগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে জান্নাতুন নাঈমকে অপহরণ করে নিয়ে যায় অপু ভূঁইয়া। এ ব্যাপারে তিনি বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি অপহরণ মামলা করলে ৩ অক্টোবর পাশের চাটখিল থানা এলাকা থেকে অপু ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার ও স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় অপু ভূঁইয়াকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
এদিকে আসামি ও তার স্বজনদের হুমকি-ধমকির কারণে প্রাণভয়ে স্কুলছাত্রী জান্নাতুন নাঈমকে নিয়ে তার পরিবার ঢাকায় চলে যায়। সেখানে তারা বাসা ভাড়া নিয়ে স্থানীয় রায়েরবাগ হাজী শরীয়তউল্যাহ আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে মেয়েকে ভর্তি করেন। সম্প্রতি তার অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা শেষে নানার বাড়িতে বেড়াতে আসে।
স্থানীয়রা জানান, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর পরিবারের সদস্যরা ঘরে অবস্থান করছিলেন। এ সময় অপু ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ২০-২৫ জন যুবক নৌকা প্রতীকের স্লোগান দিতে দিতে ওই বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় তারা অস্ত্রের মুখে ঘরে থাকা লোকজনকে জিম্মি করে জান্নাতুন নাঈমকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং স্কুলছাত্রীকে উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আনোয়ার হোসেন ও রুবেল পাটোয়ারীকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠায়। এ ব্যাপারে স্কুলছাত্রীর মা বিবি ফাতেমা বেগম আগের অপহরণ মামলার প্রধান আসামি অপু ভূঁইয়াসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি অপহরণ মামলা করেছেন।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমদাদুল হক বলেন, অপহরণের ঘটনার সত্যতা মিলেছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত রাসেল হোসেন ওরফে অপু ভূঁইয়াসহ অন্য আসামিদের ধরতে ও অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধারের অভিযান চলছে।