চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিজয় স্মরণী কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষার পদার্থ বিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষায় দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন বিলি ও দুই ঘন্টা পর পরীক্ষা শুরুর ঘটনায় পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দেওয়া হবে আগামীকাল (১৪ জুলাই)।
এই প্রতিবেদনে অভিযুক্তরা হচ্ছেন সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসমত আরা বেগম, কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ শিবশঙ্করসহ আরও তিনজন৷
শনিবার (১৩ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম রফিকুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘রবিবার এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়া হবে। গঠিত কমিটি সেই প্রতিবেদন জমা দেবে। আমরা তদন্তে জানতে পেরেছি যে পরীক্ষার দিন প্রশ্নপত্র বাচাইয়ে তাদের গাফিলতি ছিল। এমনকি তিনটি স্তরেই তাদের গাফিলতি ধরা পড়েছে। অথচ পরীক্ষার দিনও প্রশ্নপত্র ঠিক করার এক ঘন্টা সুযোগ থাকে। কিন্তু তারা তা করেননি। এই ঘটনার দায় কেন্দ্রসচিব ও কলেজটির অধ্যক্ষ শিবশঙ্করের ওপর বর্তায়।’
বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সকাল ১০টায় সীতাকুণ্ডের বিজয় স্মরণী কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষার পদার্থ বিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষার দিন দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের হাতে। ওইদিন বেশ কিছুক্ষণ পর সেই প্রশ্ন তুলে নেওয়া হয়। পরে দুই ঘন্টা পর নতুন প্রশ্নে পরীক্ষা শুরু হয়। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রামজুড়ে তোলপাড় হয়।
প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রের কোড নম্বর থাকার কথা ছিল ১৭৪। কিন্তু প্রশ্ন এসেছে ১৭৫ এর। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও বিষয়টি ওঠে এসেছে। প্রশ্ন পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানোর আগে অন্ততপক্ষে তিন স্তরে ক্রসচেক হয়ে থাকে। কিন্তু ভুলের বিষয়টি কোনো স্তরেই ধরা পড়েনি।
এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলাউদ্দিন জানান, পরীক্ষা শুরুর প্রায় এক মাস আগে ঢাকার বিজি প্রেস থেকে জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে প্রশ্ন চলে আসে। ট্রেজারিতে প্রশ্নগুলো আসার পর ট্রেজারির দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার একটি রুটিন করে দেন। সেই রুটিনে নুন্যতম ১৭ কার্যদিবস আগে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর প্রতিনিধি টিম ট্রেজারি অফিসে গিয়ে বিজি প্রেস থেকে আসা প্রশ্নগুলো বাছাই করে পরীক্ষার রুটিন অনুযায়ী বিষয় ও বিষয়কোড অনুযায়ী পৃথক পৃথক খাম তৈরি করেন। সেই খামে রুটিন অনুযায়ী নির্ধারিত দিনের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র থাকে। পরবর্তীতে পরীক্ষার দিন সকালে নির্ধারিত দিনের খাম ট্রেজারি অফিস থেকে কেন্দ্রের সচিবের প্রতিনিধিরা নিয়ে আসেন এবং কেন্দ্রে এনে খাম খুলেন। খাম খোলার পর ফয়েল পেপারের (যে খামে প্রশ্ন থাকে) উপরে লেখা বিষয় কোড যাচাই করেন।
পরীক্ষার রুটিন অনুযায়ী ফয়েল পেপারের উপরের বিষয় কোড সঠিক হলে ফয়েল পেপার কেটে প্রশ্নপত্র বের করে কক্ষভিত্তিক বন্টন করা হয়। যদি পরীক্ষার বিষয়ের সঙ্গে ফয়েল পেপারের উপরের বিষয় কোডের মিল না থাকে সেক্ষেত্রে ফয়েল পেপার কাটা হয় না। আর এই পুরো কাজটি সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের পরীক্ষা কমিটি সম্পাদন করে থাকেন। আর কমিটিকে নির্দেশনা দিয়ে থাকেন কেন্দ্রসচিব। কিন্তু এ সব কাজে গাফিলতি ও ভুল করেছেন সংশ্লিষ্ট পাঁচজন।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মুজিবুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘পরীক্ষার দিন সকালে ফয়েল পেপার কাটার আগে বিষয় কোড মিলিয়ে নিলেও এই ভুল হতো না। কারণ ফয়েল পেপারের উপরে বিজি প্রেস থেকে বিষয়, পত্র ও বিষয় কোড লেখা থাকে।’
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘যেহেতু দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে গেছে তাই বিকল্প প্রশ্নপত্রে পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।’
এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজয় স্মরণী কলেজ কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৬৩৩ জন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার পদার্থ বিজ্ঞানের পরীক্ষার্থী ছিল ৩৬০ জন।
এস এম ইফতেখারুল/জোবাইদা/অমিয়/