বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা অসহযোগ আন্দোলনে গিয়ে নিহত হন শিক্ষক মো. শফিউল ইসলাম সেলিম রেজা। তার মৃত্যুতে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছেন স্ত্রী জেসমিন আক্তার জিমা। এ অবস্থায় দেড় বছরের সন্তান মো. তাসরিফের ভবিষ্যৎ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।
সেলিম রেজা বগুড়া লাইট হাউস স্কুল ও কলেজের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তার বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার পানিকান্দা গ্রামে। তবে তিনি স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বগুড়া পৌরসভার ছিলিমপুর এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকতেন।
জেসমিন আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামীর আয় দিয়ে সংসার চলত। এখন আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। মাস শেষে বাড়ি ভাড়া গুনতে হবে ৪ হাজার টাকা। শিশুটির ভবিষ্যৎ কী হবে? সংসার চলবে কীভাবে? এসব নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ৪ আগস্ট বেলা ১১টায় বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেলেন সেলিম। আমি বললাম কোথায় যাচ্ছ? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘শহরে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ চলছে। সারা দিন তাদের সঙ্গে থাকব।’ তিনি আগেও কয়েকবার আন্দোলনে গেছেন। ফিরেও এসেছেন। তবে সেদিন ফিরেছেন লাশ হয়ে।’
এরপর কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘ওই দিন দুপুরে সেলিম রেজা আমাকে কল দিয়েছিলেন। তবে আমি কলটি রিসিভ করতে পারিনি।’
নিহত সেলিম রেজার ছাত্র জিসান বাবু বলেন, ‘ওই দিন হইচই শুনে কাছে গিয়ে দেখি আমার স্যার আহত অবস্থা পড়ে আছেন। একটি রিকশায় করে তাকে হাসপাতালে নিই। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার সামনে তিনি মারা যান। স্যারের মাথা, কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল।’
জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে শহরের সাতমাথায় পুলিশ ধাওয়া দিলে সেলিম রেজা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর পাশে একটি ঘরে আশ্রয় নেন। সেখানেই তার ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে আন্দোলনবিরোধীরা।
এদিকে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লাইট হাউসের নির্বাহী পরিচালক মো. হারুন উর রশিদ বলেন, ‘নিহতের স্ত্রীকে স্কুলে চাকরি করার প্রস্তাব করা হয়েছে। উনি রাজি হলে নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।’