সিলেটের কানাইঘাটে শিশু মুনতাহা আক্তার জেরিন (৬) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১০ নভেম্বর) তাদের কানাইঘাট বীরদল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহত শিশু মুনতাহার মরদেহ রবিবার বাদ আছর দাফন করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আলিফজান (৫৫), শামীমা বেগম মার্জিয়া (২৫), ইসলাম উদ্দিন (৪০), নাজমা বেগম (৩৫),
সিলেট জেলা পুলিশ জানায়, মুনতাহা গত ৩ নভেম্বর বেলা ২টায় নিজ বাড়িতে খোলাধুলা করার সময় নিখোঁজ হয়। এই সংক্রান্তে মুনতাহার পিতা শামীম আহমদ থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নি.) শামসুল আরেফিন জিহাদ ভূইয়া ভিকটিমকে উদ্ধারে ভিকটিমের ছবিসহ নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে খোজাখুজি করাসহ স্যোসাল মিডিয়া এবং স্থানীয় পত্রিকায় নিউজ প্রকাশ করা হয়। যা দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে ভিকটিমের পিতা শামীম আহমদ অজ্ঞাতনামা বিবাদী/বিবাদীগণের বিরুদ্ধে মুনতাহাকে অপহরণ করেছে মর্মে এজাহার দায়ের করলে কানাইঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৩০ মামলা রুজু হয়।
এসআই (নি.) শামসুল আরেফিন জিহাদ ভূইয়া মামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শামীমা বেগম মার্জিয়াকে (২৫) গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে ভিকটিম মুনতাহাকে আসামি আলিফজান (৫৫), ইসলাম উদ্দিন (৪০), নাজমা বেগম (৩৫) এর সহায়তায় খুন করার কথা স্বীকার করে এবং তারা মার্জিয়ার বসতঘর সংলগ্ন পানি নিষ্কাশনের নালার কাদা মাটির নিচে মুনতাহাকে গুম করে রাখে বলে স্বীকার করে।
শামিমা বেগমকে থানা পুলিশ গ্রেপ্তারের বিষয়টি অপর আসামি আলিফজান বুঝতে পেরে মুনতাহার লাশ পুনরায় মাটির নিচ থেকে বের করে পুকুরের পানিতে ফেলার সময় জনৈক আব্দুল ওয়াহিদ স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে আটক করে। পরে থানা পুলিশকে সংবাদ দিলে কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃত মুনতাহার লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে লাশ ময়না তদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে প্রেরণ করে এবং আসামি আলিফজানসহ ইসলাম উদ্দিন (৪০) ও নাজমা বেগম (৩৫) কে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আউয়াল বলেন, মুনতাহার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রতিবেশী মর্জিয়া ও তার মা আলিফজানসহ চার জন মিলে তাকে হত্যা করেছে। তারা কেন হত্যা করল এ ব্যপারে বিভিন্ন কারণ বলছে। আমরা বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখছি। মার্জিয়ার নানীকে তাদের সঙ্গে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। তিনি অনেক বেশি বৃদ্ধ। গ্রেপ্তারদের থানা হাজতে রাখা হয়েছে। সোমবার তাদের আদলতে প্রেরণ করা হবে।
শাকিলা ববি/এমএ/