দীর্ঘ সাত বছর পর কুমিল্লার সদর দক্ষিণের কৃষ্ণনগরের চার বছরের শিশু নাবিলা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি মেহরাজ হোসেন তুষারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া আসামিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লা জেলা নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক নাজমুল হল শ্যামল এ রায় দেন।
ন্যায়বিচার পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নাবিলার পরিবার ও আইনজীবীরা।
আসামি মেহরাজ কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কুলিয়ারা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর এলাকার আলী আশরাফের ছেলে। নিহত নাবিলা একই এলাকার কাতার প্রবাসী আবুল কালামের মেয়ে।
বাদি পক্ষের আইনজীবী মো. শরীফুল ইসলাম জানান, ২০১৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর চকলেটের লোভ দেখিয়ে শিশু নাবিলাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে পার্শ্ববর্তী একটি নির্মাণাধীন বাড়ির কার্নিশে সিমেন্টের ব্যাগে মুড়িয়ে ফেলে রাখে মেহেরাজ। সেদিন নাবিলাকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়। পরদিন সকালে খোঁজাখুঁজির সময় নাবিলার মরদেহ পাওয়া যায়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় নাবিলার দাদা আবদুল আজীজ বাদি হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। পরে তদন্তের মাধ্যমে ১৪ দিন পর আসামি মেহরাজ হোসেন তুষারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রিমান্ড ছাড়াই মেহরাজ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং সে ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন বলে তার জবানবন্দিতে বলেছেন বলেও জানিয়েছেন অ্যাডভোকেট শরীফুল।
কুমিল্লা নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালের পিপি বদিউল আলম সুজন জানান, দীর্ঘ ৭ বছর মামলাটি বিচারকার্য চলাকালে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ বিচারক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। আসামি মেহরাজ জবানবন্দিতে নাবিলাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছে। যে রায় হয়েছে এতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে আমরা মনে করি।
তিনি আরও বলেন, আসামি মেরাজ তার পলিটিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড ব্যবহার করে মামলাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি।
নাবিলার মা হালিমা আক্তার বলেন, যে সন্তান হারায় সে জানে সন্তান হারানোর কষ্ট কী! গত সাত বছর যাবত মেয়ে হত্যার বিচারের জন্য আমি আদালতে ঘুরেছি। অবশেষে আসামি মেহরাজের ফাঁসির আদেশ হয়েছে। আমি সন্তুষ্ট কিন্তু দ্রুত সময়ের মধ্যে এই রায় কার্যকর চাই।
আদালতে আসামি মেহরাজের পাশে তার স্বজনদের কাউকে দেখা যায়নি। পুলিশ তাকে পরে কারাগারে নিয়ে যায়।
জহির শান্ত/মেহেদী/এমএ/