ঢাকা ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Khaborer Kagoj

ডেইলি স্টারের সাংবাদিকের বাসার গৃহকর্মীর মৃত্যু : কারণ জানতে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:৩৭ এএম
ডেইলি স্টারের সাংবাদিকের বাসার গৃহকর্মীর মৃত্যু : কারণ জানতে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ
ছবি : খবরের কাগজ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি বহুতল ভবনের নবম তলার বারান্দা থেকে পড়ে গৃহকর্মী প্রীতি উরাংয়ের (১৫) মৃত্যুর ঘটনায় কারাগারে থাকা ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল হক ও তার স্ত্রী তানিয়া খন্দকারকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। 

সূত্র জানায়, গত ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তাদের কাছে একই ঘটনা কেন বারবার হচ্ছে এর কারণ জানতে চেয়েছে পুলিশ।

জানা যায়, গত ৬ ফেব্রুয়ারি গৃহকর্মী প্রীতি উরাং নবম তলা থেকে পড়ে মারা যাওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। এই ঘটনার ছয় মাস আগে আরেক গৃহকর্মী সাত বছর বয়সী ফেরদৌসী একইভাবে আট তলা থেকে পড়ে যাওয়ার রহস্য উদ্ঘাটন করতেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। 

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এইচএম আজিমুল হক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, গৃহকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় সৈয়দ আশফাকুল হক ও তানিয়া খন্দকারকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছিলেন আদালত। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

তদন্তসূত্র জানান, কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সৈয়দ আশফাকুল হক ও তানিয়া খন্দকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একই বাসায় বারবার কেন গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে এবং এর নেপথ্যে কী কারণ, তা বের করার জন্যই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

তা ছাড়া, মারা যাওয়া প্রীতি উরাংকে কেন হাত বেঁধে বাসায় আটকে রাখা হয়েছিল তা জানতে চাওয়া হয়েছে আশফাক ও তানিয়া দম্পতির কাছে। 

একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় অবহেলাজনিত মৃত্যু ঘটানোর ধারায় মামলা করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছেন। তদন্তে সরাসরি হত্যার প্রমাণ বা অন্য কিছু পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া চালানো হবে। 

কারণ, বারবার একই ধরনের ঘটনা ঘটার কথা নয়। বাসা থেকে কেউ ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে কি না, এই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গৃহকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় গত ৬ ফেব্রুয়ারি সৈয়দ আশফাকুল হক ও তানিয়া খন্দকারসহ ছয়জনকে আটক করে পুলিশ। পরদিন দুপুর ১২টার দিকে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন নিহত প্রীতির বাবা লোকেশ উরাং। মামলায় ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল হক (৬৫), তার স্ত্রী তানিয়া খন্দকারকে (৪৭) আসামি করা হয়। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। আটক অন্যদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওইদিন (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টায় মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের জেনেভা ক্যাম্পসংলগ্ন একটি ভবনের নবম তলা থেকে পড়ে মারা যায় গৃহকর্মী প্রীতি উরাং (১৫)। পড়ে যাওয়ার আগে বেশ কিছুক্ষণ জানালার গ্রিল ধরে ঝুলে ছিল প্রীতি। এরপর ওই ভবন থেকে নিচে পড়ে যায়। মেয়েটা পড়ার পর অনেক লোক ভিড় করেন। দ্রুত ভবনের নিরাপত্তাকর্মীদের বিষয়টি জানানো হলেও তারা প্রথমে দরজা খুলতে চাননি। যখন ওপর থেকে মেয়েটা পড়ে যায়, পাশের ভবনের নিরাপত্তাকর্মী আনাসসহ আরও কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

খবর পেয়ে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ মেয়েটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। 

এই ঘটনার পর স্থানীয়রা ওই বাড়ির ফটকে জড়ো হয়ে মেয়েটিকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে পুলিশ আশফাক, তানিয়াসহ তাদের পরিবারের ছয়জনকে থানায় নিয়ে যায়।

আলোচিত এ ঘটনায় প্রীতির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা মোহাম্মদপুর থানার এসআই সাদিয়া সংবাদমাধ্যমকে জানান, পড়ে গিয়ে শরীরের অবস্থা এমন হয়েছে যে সাধারণভাবে এসব দাগ আলাদা করে নির্ণয় করা কঠিন। ময়নাতদন্তে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। 

প্রীতির গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মিত্তিঙ্গায়। অভাবের কারণে দুই বছর আগে মিন্টু নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে সাংবাদিক আশফাকুল হকের বাসায় ছোট মেয়েকে গৃহকর্মীর কাজে পাঠিয়েছিলেন বলে জানান প্রীতির বাবা। কাজে পাঠানোর পর থেকে গত দুই বছরেও মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি আশফাকুল হকের পরিবার। মাসে দু-একবার গৃহকর্তার মোবাইলে যোগাযোগ করে কথা বলিয়ে দিতেন তারা।

ঘটনা প্রসঙ্গে গত ৬ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহফুজুল হক ভূঞা জানিয়েছিলেন, গত বছরের ৬ আগস্ট একই গৃহকর্তার বাসা থেকে ফেরদৌসী নামে এক গৃহকর্মী রহস্যজনকভাবে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন সে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ছিল। এ ঘটনায় আহত গৃহকর্মীর মা জোছনা বেগম তিনজনের নাম উল্লেখ করে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার আসামি ছিলেন সৈয়দ আশফাকুল হক, তার স্ত্রী তানিয়া খন্দকার ও আসমা আক্তার শিল্পী নামের আরেকজন।

ওসি মাহফুজুল হক বলেন, একটি জায়গা থেকে বারবার একই ধরনের ঘটনা ঘটছে, বিষয়টি আমাদের কাছে রহস্যজনক মনে হচ্ছে। এর আগে ফেরদৌসী নামে ওই গৃহকর্মী প্রাণে বেঁচে গেলেও আজ প্রীতি নামের ওই গৃহকর্মী একই কায়দায় নিচে পড়ে যায় এবং সে মারা যায়। নিহত প্রীতি দুই বছর ধরে সৈয়দ আশফাকুল হক ও তার শাশুড়ির বাসায় কাজ করত।

পূর্ববর্তী মামলাটির আসামিরা বাদীর সঙ্গে আদালতে আপস করেছিলেন। তদন্ত কর্মকর্তা সেই সময় আপসনামার ভিত্তিতে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

আরও পড়ুন:

> ডেইলি স্টারের সাংবাদিকের বাসার গৃহকর্মীর মৃত্যুতে মৌলভীবাজারে বিক্ষোভ

> মোহাম্মদপুরে গৃহকর্মী মৃত্যু : ডেইলি স্টারের সাংবাদিক ও তার স্ত্রীর রিমান্ড আবেদন

> মোহাম্মদপুরে বহুতল ভবন থেকে পড়ে গৃহকর্মীর মৃত্যু, আটক ৬

অমিয়/

ধারের টাকা শোধ না করে উল্টো গলাকেটে হত্যা!

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:৫৩ পিএম
ধারের টাকা শোধ না করে উল্টো গলাকেটে হত্যা!
গণমাধ্যমকে ব্রিফ করছেন র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ। ছবি : সংগৃহীত

ব্যবসার জন্য ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা ধার করে এনে আরেক অংশীদার তাজুলকে দিয়েছিলেন সাইফুল ইসলাম। শর্ত ছিল ১ মাসের মধ্যেই পুরো টাকা শোধ দিতে হবে। কিন্তু সেই টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো সাইফুল ইসলামকেই গলাকেটে এবং মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল, হত্যার দায় চাপানো হবে যারা টাকা ধার দিয়েছেন তাদের ওপর। পরিকল্পনা অনুযায়ী গা ঢাকা দিয়েছিলেন সবাই। তবে শেষ পর্যন্ত রক্ষা হয়নি। শুরুতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে এবং পরে র‌্যাব-৩ এর হাতে আটক হয়েছেন ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী।

সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে র‍্যাব-৩ এর কার্যালয়ে ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, নরসিংদী জেলার শিবপুর এলাকায় গলাকেটে মাথা বিচ্ছিন্ন করে সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার প্রধান আসামি মো. জুনায়েদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় র‍্যাব-৩ গাজীপুর জেলার টঙ্গী থানাধীন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মূলত, গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর নরসিংদী জেলার শিবপুর থানা এলাকায় গরুর ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামকে গলাকেটে এবং মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করা হয়। হত্যার পরদিন সাইফুলের স্ত্রী বাদী হয়ে ব্যবসায়িক অংশীদার তাজুল ইসলাম ও অজ্ঞাতপরিচয় বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে তিনি জানান, ভিকটিম সাইফুল এবং আসামি তাজুল নরসিংদী জেলার শিবপুর একই এলাকার বাসিন্দা। তারা দু'জনেই দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে গরুর ব্যবসা করতেন। ব্যবসার জন্য ভিকটিম সাইফুল অপর দুই ব্যবসায়ী হাসিম ও মোমেনের কাছ থেকে এক মাস পরে পরিশোধ করবেন এমন শর্তে ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা ধার করে এনে অংশীদার তাজুলকে দেয়। শর্ত অনুযায়ী ১ মাস শেষে তাজুলের কাছে  টাকা চাইলেই সমস্যার শুরু হয়।

অপরদিকে হাসিম ও মোমেন তাদের পাওনা টাকা পরিশোধ না করার কারণে ভিকটিম সাইফুলকে চাপ প্রয়োগ ও কটূক্তি করতে থাকেন। ফলে ভিকটিম সাইফুল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরে তিনি (সাইফুল) এলাকার স্থানীয় লোকজনদের সহযোগিতায় একটি গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে তাজুলের সঙ্গে টাকা পরিশোধের বিষয়টি স্ট্যাম্পের মাধ্যমে চুক্তি করে নেয়। এতে শর্ত থাকে ১৫ দিনের মধ্যে তাজুল সাইফুলকে সব টাকা পরিশোধ করে দেবেন। তবে চুক্তির স্ট্যাম্পে সই হওয়ার পর তাজুল ক্ষিপ্ত হয়ে সালিশ থেকে উঠে যায় এবং সাইফুলকে দেখে নেবে বলে হুমকি দেয়।

পরে এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ সেপ্টেম্বর তারিখে নিহত সাইফুল স্থানীয় ত্রিশা বাজারে একটি চায়ের দোকান থেকে ফোন পেয়ে উঠে চলে যান। এরপর থেকে ভিকটিম সাইফুলের পরিবার তার ফোন বন্ধ পায়। পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর সকালে নোয়াদিয়া কান্দাপাড়া পঞ্চগ্রাম ঈদগাঁ মাঠে সাইফুলের গলাকাটা ও মাথা বিচ্ছিন্ন মরদেহ পাওয়া যায়।

সাইফুলকে হত্যা করে দায় হাসিম ও মোমেনের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা অপরাধীদের ছিল জানিয়ে আরও জানানো হয়, নিহত সাইফুলের সঙ্গে তাজুলের টাকা-পয়সা লেনদেন নিয়ে মনোমালিন্যের কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সাইফুলকে হত্যা করে পাওনাদার দায় হাসিম ও মোমেন এর ওপর চাপিয়ে দেবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী তাজুল, জুনায়েদ, সোলাইমান, শাকিল ঈদগাঁ মাঠে অবস্থান করেন। পরে সাইফুলকে ব্যবসার কথা বলে ফোন করে ঈদগাঁ মাঠে ডেকে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাজুল ও সাইফুল কথা কাটাকাটি করতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে তাজুল সাইফুলের গলায় থাকা গামছা পেঁচিয়ে ধরেন। সেইসঙ্গে জোনায়েদ এবং শাকিল সাইফুলকে জাপটে ধরে। এতে করে সাইফুল অজ্ঞান হয়ে যায়। ওই অবস্থায় ভিকটিম সাইফুলকে এই মামলার আসামি জুনায়েদের সহায়তায় তাজুল দা দিয়ে কুপিয়ে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে এবং পরে ঘটনাস্থল থেকে সবাই পালিয়ে যায়।

এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাজুল ইসলামের সঙ্গে সরাসরি জড়িত অন্যান্য আসামিদের অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে দেওয়া হয়েছে। পরে তাজুল এবং সোলাইমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়। তাজুলের স্বীকারোক্তি এবং সোলাইমানের জবানবন্দিতে এই নৃশংস হত্যার অন্যতম সহযোগী জোনায়েদ এবং শাকিলের নাম প্রকাশ পায়। ঘটনার পর থেকেই জোনায়েদ এবং শাকিল পলাতক ছিলেন।

একইসঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানানো হয়েছে।

খাজা/এমএ/

কোচিং সেন্টারে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা এসএসসি পরীক্ষার্থী মারা গেছে

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:৩৮ পিএম
কোচিং সেন্টারে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা এসএসসি পরীক্ষার্থী মারা গেছে

চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার ‘শিক্ষাশালা’ কোচিং সেন্টারে ধর্ষণের ফলে অন্তঃসত্ত্বা এসএসসি পরীক্ষার্থী মারা গেছে। 

রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানায়, ঘুমের ওষুধ খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৫ ফেব্রুয়ারি তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ওই ছাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর তার বাবা চান্দগাঁও থানায় মামলা করেন।

জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এই মামলায় আসামি করা হয় কক্সবাজারের মহেশখালীর পশ্চিমপাড়ার বাবুল মিয়ার ছেলে হামিদ মোস্তফা জিসানকে। তিনি এই কোচিং সেন্টারের শিক্ষক ও মালিক।

পরে ১৭ ফেব্রুয়ারি শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে একদিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়।

চান্দগাঁও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবীর খবরের কাগজকে বলেন, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর কোচিং সেন্টারের ভেতরে ওই শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে জিসান। এ সময় আপত্তিকর অবস্থায় ছবিও ধারণ করে সে। পরবর্তীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে তার সাথে কয়েক দফায় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী অসুস্থবোধ করলে তাকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি জানান। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ঘুমের ওষুধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় ধর্ষিতাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইফতেখার/অমিয়/

হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:০৮ পিএম
হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
ছবি : সংগৃহীত

হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি রফিকুল ওরফে অফিয়ালকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১০)। ২০০৮ সালে মামলা দায়েরের পর থেকে তিনি মুন্সীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। 

শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান র‌্যাব-১০ এর সহকারী পুলিশ সুপার এম জে সোহেল।

তিনি জানান, গ্রেপ্তার রফিকুল ২০০৮ সালের কুড়িগ্রামের উলিপুর থানায় দায়ের করা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। 

র‌্যাবের অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ৩৭ সদস্য আটক

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:৩৪ পিএম
র‌্যাবের অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ৩৭ সদস্য আটক
ছবি : খবরের কাগজ

গাজীপুর ও রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে ছয়টি কিশোর গ্যাং গ্রুপের দলনেতাসহ ৩৭ জন সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১)। গত বৃহস্পতিবার রাতে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫০০ গ্রাম গাঁজা, ২৪টি মোবাইল, ১টি ব্লেড, ১টি কুড়াল, ১টি পাওয়ার ব্যাংক, ৫টি রড, ১৬টি চাকু, ৩টি লোহার চেইন, ১টি হাতুড়ি, ১টি মোটরসাইকেলসহ ২৪ হাজার ২৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর উত্তরায় র‌্যাব-১-এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাক আহমেদ।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর মহাখালী, বনানী, বিমানবন্দর এবং টঙ্গী ও গাজীপুর এলাকায় একাধিক অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব-১। অভিযানে জিরো জিরো সেভেন গ্রুপের দলনেতা আল-আমিন (২৪), জাউরা গ্রুপের দলনেতা মাহাবুব (১৯), বাবা গ্রুপের দলনেতা সাদ (২২), ভোল্টেজ গ্রুপের মনা (২৮), ডি কোম্পানির আকাশ ও আমির হোসেন, জাহাঙ্গীর গ্রুপের বয়রা জাহাঙ্গীরসহ বিভিন্ন গ্রুপের ৩৭ জনকে আটক করা হয়।

র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্তমানে কিশোর গ্যাং, গ্যাং কালচার, উঠতি বয়সী ছেলেদের মধ্যে ক্ষমতা বিস্তারকে কেন্দ্র করে মারামারি বহুল আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। গ্যাং সদস্যরা এলাকায় নিজেদের অস্তিত্ব জাহির করার জন্য উচ্চশব্দে গান বাজিয়ে দল বেঁধে ঘুরে বেড়ায়, বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালায়, পথচারীদের উত্ত্যক্ত করে এবং ছোটখাটো বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হয়ে হাতাহাতি-মারামারি করে। এ ছাড়া তারা নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার জন্য একই এলাকায় অন্যান্য গ্রুপের সঙ্গে প্রায়ই কোন্দলে লিপ্ত হয়। তাদের এই ধরনের চলাফেরার কারণে সাধারণ লোকজন তাদের অনেকটাই এড়িয়ে চলে। এই এড়ানোর বিষয়টিকে তারা তাদের ক্ষমতা হিসেবে ভাবে এবং কোনো ঘটনায় কেউ কোনো প্রতিবাদ করলেও ক্ষমতা জাহির করতে মারামারি করাসহ অনেক সময় খুন করতেও দ্বিধাবোধ করে না।

‘আটকদের মধ্যে ১৭ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক, অস্ত্র, ধর্ষণ, হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।’

কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের নেতাদের ছত্রছায়ায় বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক মিছিল মিটিংয়ে দেখা যায়। এসব মদদদাতাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘আমি সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই অপরাধীদের কোনো দল বা ঠিকানা থাকতে পারে না। তাদের কোনো পরিচয় বিষয় না। তারা কার হয়ে কাজ করে সেটিও বিবেচ্য বিষয় নয়। কোনো অপরাধ করলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’  

এমএ/

প্রতারণার মামলায় ট্রান্সকম গ্রুপের ৫ শীর্ষ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৩৭ এএম
প্রতারণার মামলায় ট্রান্সকম গ্রুপের ৫ শীর্ষ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

প্রতারণার মামলায় ট্রান্সকম গ্রুপের ৫ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তাররা হলেন ট্রান্সকম গ্রুপের আইন উপদেষ্টা ফখরুজ্জামান ভূঁইয়া, করপোরেট ফাইন্যান্সের পরিচালক মো. কামরুল হাসান, করপোরেট ফাইন্যান্সের পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন, ব্যবস্থাপক আবু ইউসুফ মো. সিদ্দিক ও অ্যাসিস্ট্যান্ট কোম্পানি সেক্রেটারি মোহাম্মদ মোসাদ্দেক। 

গ্রুপটির পরিচালক শাযরেহ হকের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শাযরেহ হক মামলায় তার বড় বোন সিমিন রহমান, তার মা ও ছেলেকে আসামি করেছেন। 

এর আগে বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গ্রুপটির পরিচালক শাযরেহ হক গুলশান থানায় মামলা করেন। 

এ বিষয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম খবরের কাগজকে জানান, ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত লতিফুর রহমানের ছোট মেয়ে শাযরেহ হক বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি প্রতারণার মামলা করেন। মামলায় ট্রান্সকম গ্রুপের ১০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, সম্পত্তি দখল এবং অবৈধভাবে কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তর করার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশে পিবিআইয়ে হস্তান্তর করা হয়। 

এ বিষয়ে পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম খবরের কাগজকে জানান, গুলশান থানার মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

দেশের অন্যতম বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ট্রান্সকম গ্রুপ। গ্রুপটির অধীনে পরিচালিত কোম্পানিগুলোর মধ্যে এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস, ট্রান্সকম বেভারেজেস, ট্রান্সকম ডিস্ট্রিবিউশন, ট্রান্সকম কনজিউমার প্রোডাক্টস, ট্রান্সকম ফুডস, ট্রান্সকম ইলেকট্রনিকস, ট্রান্সক্রাফট, মিডিয়াস্টার অন্যতম।