ঢাকা ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০, শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪
Khaborer Kagoj

নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলুন

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৩, ১১:২৮ এএম
নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলুন

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বেড়েই চলছে প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা। মিছিল-শোডাউন, সভা-সমাবেশ করতে দেখা যাচ্ছে অনেককে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অমান্য করে নির্বাচনী এলাকাগুলোয় সম্ভাব্য প্রার্থীরা পোস্টার-ব্যানার টানিয়েছেন। তফসিল ঘোষণার পরও তারা সেগুলো অপসারণ করেননি। এ ব্যাপারে সম্প্রতি কমিশনের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হলেও তাতে কোনো ফল মিলছে না। দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহে মিছিল ও শোডাউন নিয়ে রাজপথ কাঁপাচ্ছেন অনেকে, যা নির্বাচনী আচরণের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদের তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে ১৮ ডিসেম্বর, যা চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। সরেজমিনে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা গণসংযোগ করছেন। 

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার আমলে ২০০৮-এ প্রণীত এই বিধিমালা ২০১৪ সালে দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সংশোধন করা হয়। সংশোধিত বিধিমালায় নির্বাচনপূর্ব সময় বলতে চিহ্নিত করা হয়েছে সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা থেকে নির্বাচনের ফল গেজেট আকারে প্রকাশিত হওয়ার আগ পর্যন্ত।

আচরণবিধির ৮ ধারায় বলা আছে, ‘কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বা তার মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী বা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি (ক) কোনো ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান, ট্রেন বা অন্য কোনো যান্ত্রিক যানবাহনসহ মিছিল কিংবা মশাল মিছিল বের করতে পারবেন না বা কোনোরূপ শোডাউন করতে পারবেন না। (খ) মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় কোনো প্রকার মিছিল বা শোডাউন করতে পারবেন না।’

এই বিধিমালার ১২ ধারায় স্পষ্টভাবে প্রচারের সময় সুনির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বা তার মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি ভোট গ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের তিন সপ্তাহ সময়ের আগে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে পারবেন না।

ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজের এক ওয়েবিনারে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এই কমিশন নিজেদের থেকে তফসিল দিয়েছে কি না, সে প্রশ্ন রয়েছে। যেভাবে আচরণবিধি ভাঙা হচ্ছে, সে বিষয়ে কমিশনের কোনো ভূমিকা নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তখন ইসির অধীনে গেছে কি না, সেটা জানা যায়নি।’ 
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন খবরের কাগজকে বলেন, ‘কমিশনের উচিত হবে, প্রার্থীদের আচরণবিধি মানতে বাধ্য করতে সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া। 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়িয়ে তাদের শাস্তির ভয়ভীতি দেখানোর ব্যবস্থা করা। একই সঙ্গে সব দলের প্রার্থীদের অংশগ্রহণে ভোটের আমেজ ও উৎসবের পরিবেশ নিশ্চিত করা।’ এ বিষয়ে কমিশনের ভূমিকা সম্পর্কে ইসি সচিব জাহাংগীর আলম খবরের কাগজকে বলেন, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা এসব ঘটনা আমরাও প্রত্যক্ষ করছি। আইনে আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীর অপরাধের ধরন অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা ছয় বছরের জেল হতে পারে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া আছে।’

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় সরকারের অধীনে পরিচালিত প্রশাসনের ওপর ইসির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রধান উপায় হচ্ছে আচরণবিধি প্রতিপালনে কঠোর অবস্থান গ্রহণ। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে ইসি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি সবার মধ্যে ফুটিয়ে তুলতে পারে। শুরুতেই আচরণবিধি লঙ্ঘন ঠেকানোর বিষয়ে শিথিল মনোভাব প্রদর্শন করা পুরো নির্বাচনব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বর্তমানে প্রার্থীদের আচরণবিধি ভঙ্গ করার মতো ঘটনা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের আগে এ ধরনের প্রচার-প্রচারণা নিয়মের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দায়িত্বরত রিটার্নিং অফিসারের এগুলো দেখা উচিত। নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনী বিধিবিধান কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। প্রার্থীদের আচরণবিধি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে পত্রপত্রিকা, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা বাড়িয়ে প্রার্থীদের সচেতন করতে হবে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তবেই প্রার্থী এই প্রবণতা থেকে বের হয়ে আসতে পারবেন।’

অগ্নিকাণ্ড নিবারণে সচেতনতা জরুরি

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৪, ১০:৫২ এএম
অগ্নিকাণ্ড নিবারণে সচেতনতা জরুরি

দেশে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এতে ঝরে পড়ছে অসংখ্য প্রাণ। রাজধানী ঢাকা যেন অগ্নিকুণ্ডের ওপর অবস্থান করছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার প্রাণচঞ্চল ও ব্যস্ততম বেইলি রোডের বহুতল ভবনে আগুন লাগে। এতে প্রাণ হারান প্রায় ৪৬ জন। রাতেই ঢাকা শহরে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের আহাজারি ও বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে ঢাকার বাতাস। দেশের মানুষ কি এভাবেই পুড়ে অঙ্গার হবে? এর কি কোনো প্রতিকার নেই? 

বেইলি রোডে আগুন লাগার অব্যবহিত পর ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগের সামনে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন খবরের কাগজকে বলেন, অগ্নিদগ্ধ যাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে আসা হয়েছে তাদের মধ্যে ৩৩ জন এবং শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে ১০ জন মারা গেছেন। গতকাল আরেকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে চট্টগ্রামে বাকলিয়ার সৈয়দ শাহ রোডের একটি বহুতল ভবনে।

এর আগে ২০২৩ সালে ভোররাতে আগুনে ভস্মীভূত হয় বঙ্গবাজার মার্কেট। তখনকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান জানিয়েছিলেন, আগুনে প্রায় ৫ হাজার দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর ব্যবসায়িক ক্ষতির অঙ্ক হিসাবের বাইরেই থেকে যায়।

২০২২ সালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে ঘটনাস্থলের আশপাশের অন্তত চার বর্গকিলোমিটার এলাকা। ভয়াবহ ওই আগুন ৮৭ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এলেও এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ৯ জন সদস্যসহ পুড়ে মারা যান প্রায় অর্ধশত মানুষ। এ ছাড়া ২০১৯ সালের ২৮ মার্চ বনানীতে এফআর টাওয়ারে আগুন লাগে। ওই ঘটনায় ২৭ জনের প্রাণহানি ঘটে। এসব দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এ রকম বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ডের পেছনে মানুষের অসাবধানতা ও অজ্ঞতাকে দায়ী করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের ফায়ার সার্ভিসকে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা ভবনমালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না। আবার তারা যেসব ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে ঘোষণা দেন, সেসব ভবনের বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতেও দেখা যায়নি। 

অগ্নিনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ব্রিগেডিয়ার (অব.) আলী আহমেদ খান বলছেন, ‘সরকারিভাবে ফায়ার সার্ভিসকে তেমন ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা, জরিমানা করা বা আইনি কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। সেই সুযোগটাই অনেকে নিয়ে থাকে।’ 

প্রত্যেক মানুষকে দেশের অগ্নিকাণ্ড রোধে সচেতন হতে হবে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। যেকোনো ভবন নিরাপদ করতে ভবন নির্মাণ বিধিমালা বা বিল্ডিং কোড অনুসরণ করে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি শিল্প-কারখানায়, সরকারি ও বেসরকারি ভবনে অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন ও বিধি অনুযায়ী অগ্নি প্রতিরোধব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে হবে। অটো ফায়ার অ্যালার্মিংয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে যেন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গেই সবাই সতর্ক হতে পারে। মূলত যেসব কারণে অগ্নিকাণ্ড ঘটে, সেসব কারণ সম্পর্কে সবাইকে জানাতে হবে। ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে নির্গমন পথপ্রদর্শক চিহ্ন থাকতে হবে যেন তা অন্ধকারেও দেখা যায়। ফায়ার সার্ভিসকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তাদের জনবল এবং উন্নত যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া ভবনের বাসিন্দাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করাও জরুরি। সরকারকে আধুনিক সরঞ্জামসহ ফায়ার সার্ভিসকে সুসংগঠিত করতে হবে। অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

শব্দদূষণ রোধে ব্যবস্থা নিন

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৪, ১০:৪৮ এএম
শব্দদূষণ রোধে ব্যবস্থা নিন

শব্দদূষণ মারাত্মক রূপ নিয়েছে। সঠিক অনুধাবনের অভাবে দিন দিন এই দূষণের মাত্রা বেড়েই চলেছে। অনেক পরিবেশবিদ বাংলাদেশের শব্দদূষণকে ‘শব্দসন্ত্রাস’ বলে অভিহিত করেছেন। ঢাকা শহরের রাস্তাঘাটে, বাড়িতে, অফিসে আমরা প্রতিনিয়ত শব্দদূষণের শিকার হচ্ছি। রাস্তাঘাটে যেভাবে হর্ন বাজানো হচ্ছে, তাতে মানুষ নীরবেই বধির হয়ে যাচ্ছে। যেখানে বিশ্বব্যাপী মানুষ পরিবেশদূষণ রোধে সোচ্চার, সেখানে বাংলাদেশে শব্দদূষণের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলছে।  

বিধিমালা অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় রাত ৯টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত শব্দের মাত্রা ৪৫ ডেসিবেল এবং দিনের অন্য সময়ে ৫৫ ডেসিবেল অতিক্রম করতে পারবে না। বাণিজ্যিক এলাকায় তা যথাক্রমে ৬০ ও ৭০ ডেসিবেল। কিন্তু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে এই মাত্রা সব সময় অতিক্রম করে যাচ্ছে।

হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালতের আশপাশে ১০০ মিটার পর্যন্ত নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে রাতে ৪০ ও দিনে ৫০ ডেসিবেল শব্দমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া আছে। অথচ ঢাকা শহরে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রায়ই দেখা যায় দিন নেই, রাত নেই পাইলিংয়ের কাজ, ইট ভাঙার যন্ত্র, সিমেন্ট মিক্সারের যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে। এসব দেখার যেন কেউ নেই। ২০১৭ সালে সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তরের এক জরিপে শহরগুলোতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইনের বাস্তবায়ন, প্রতিপালন, পরিকল্পনা, প্রযুক্তির ব্যবহারে রাষ্ট্রীয়, প্রাতিষ্ঠানিক, সামাজিক ও ব্যক্তি পর্যায়ে পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা জানান, শব্দদূষণকে বলা হয় নীরব ঘাতক। শব্দদূষণের সঙ্গে বধিরতার সম্পর্ক রয়েছে। আকস্মিক তীব্র শব্দে অন্তকর্ণের ক্ষতির কারণে মানুষ আংশিক বা সম্পূর্ণ বধির হয়ে যেতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, প্রতি ১ হাজার জনের মধ্যে একজন জীবনের কোনো না কোনো সময় বধির হয়ে যেতে পারে। শব্দদূষণ থেকে বধিরতা ছাড়াও নানা জটিল রোগের সৃষ্টি হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, ৩০টি কঠিন রোগের কারণ ১২ রকমের দূষণ, যার মধ্যে শব্দদূষণ অন্যতম। শব্দদূষণের কারণে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ছাড়াও রক্তচাপ বৃদ্ধি, হৃৎস্পন্দনে পরিবর্তন, হৃৎপিণ্ড ও মস্তিষ্কে অক্সিজেন কমে যেতে পারে। এ জন্য শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, বমি হওয়া, দিক ভুলে যাওয়া, দেহের নিয়ন্ত্রণ হারানো, মানসিক ক্ষতিসহ বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতা সৃষ্টি করে।

এ প্রসঙ্গে ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, বেশি মাত্রার শব্দদূষণের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় স্নায়ুর। সেখান থেকে শ্রবণশক্তির ওপর প্রভাব পড়ে। সেই সঙ্গে অনিদ্রা দেখা দেয়। মস্তিষ্কের কোষে অস্বস্তিকর প্রভাবের ফলে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, মাথায় যন্ত্রণা হয়, খাওয়ার রুচি কমে যায়। ফলে ধারাবাহিকভাবে আরও অনেক জটিলতার সৃষ্টি হয়। 

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের নাক, কান, গলা বিভাগের অধ্যাপক মনিলাল আইচ লিটু খবরের কাগজকে বলেন, ‘দেশে বিশেষ করে ঢাকা মহানগরীতে শব্দদূষণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা মানুষের কেবল শ্রবণশক্তিই নয়, শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গেরও ক্ষতি করছে। অন্য অনেক রোগের কারণও হয়ে উঠেছে। এমনকি হৃদরোগ, স্মৃতিভ্রম, স্নায়ুর সমস্যাও হচ্ছে মানুষের। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিশেষ কিছু পেশার মানুষের মধ্যে শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব খুবই বেশি দেখা যাচ্ছে।’

শব্দদূষণ রোধ করতে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া ও প্রশাসনের তৎপরতা বৃদ্ধি করা অতি জরুরি। বৃক্ষ অনেকটা শব্দ প্রতিরোধ করে এর তীব্রতা কমিয়ে দেয়। তাই শহরাঞ্চলে ও গ্রামে রাস্তার দুই পাশে বেশি বেশি বৃক্ষ লাগিয়ে শব্দের তীব্রতা কমানো যেতে পারে। আর সবচেয়ে বেশি দরকার জনসচেতনতা। মানুষকে বুঝতে হবে, জানতে হবে কোনটা খারাপ আর কোনটা ভালো।

শব্দদূষণ রোধ করতে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। সড়কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে একটি সুন্দর সমাধান করতে 
হবে কর্তৃপক্ষকে। তাহলে পরিবেশের মারাত্মক এই দূষণ থেকে মানুষকে মুক্ত রাখা সম্ভব হবে।

গ্রাহকদের বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়াতে হবে

প্রকাশ: ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:৪৭ এএম
গ্রাহকদের বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়াতে হবে

করোনার প্রভাব, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ- সব মিলিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতি অনেকটা নাজুক। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডলারসংকট। দেশে ডলারসংকট শুরু হওয়ার পর গত দেড় বছরে ইউএস ডলার বন্ডে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ হারিয়েছে সরকার। বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তার প্রভাবে নিজ দেশে ডলারসংকট ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ধারাবাহিক পতন ডলার বন্ডে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে। সময়ে অনিবাসী বাংলাদেশি ও প্রবাসী গ্রাহক ডলার বন্ডে তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থ তুলে নিয়েছেন। এর বিপরীতে নতুন করে বিনিয়োগ কমে গেছে উল্লেখযোগ্য হারে। দুটি কারণে ইউএস ডলার বন্ডে গত দেড় বছরে বিনিয়োগ কমেছে। তার একটি হলো, বিশ্বব্যাপী মন্দা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি। ফলে গ্রাহক ব্যয়ের সঙ্গে আয় মেলাতে না পেরে বিনিয়োগ ভেঙে ফেলছেন। অন্যটি হলো বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে ডলারসংকট অব্যাহত থাকা এবং এ থেকে উত্তরণের তেমন কোনো উপায় দৃশ্যমান না হওয়া। এতে গ্রাহক সরকারের ওপর আস্থা হারাচ্ছেন। গ্রাহকদের ধারণা, বিনিয়োগকৃত ডলার তিনি আর বৈদেশিক মুদ্রায় ফেরত পাবেন না। ইতোমধ্যে ডলার বন্ডে বিনিয়োগকারীদের অনেককে তাদের পাওনা ডলারে না দিয়ে টাকায় পরিশোধ করায় অসন্তোষ প্রকাশের মতো ঘটনাও ঘটছে।

অনিবাসী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের আর্থিক নিরাপত্তা দেওয়ার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সরকার ১৯৮৮ সালে প্রথম ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড প্রতিষ্ঠা করে। এরপর ২০০২ সালে এসে ইউএস ডলার বন্ডের সূচনা করে। মোট দুই ধরনের ডলার বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ পান অনিবাসী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এর একটি ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, অন্যটি ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড। 

জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্য বলছে, ২০২২-এর জুলাই থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত গ্রাহকরা ডলার বন্ডের বিনিয়োগ থেকে প্রায় ৫০ কোটি ডলার বা সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। এর মধ্যে জুলাই ২০২২ থেকে জুন ২০২৩ পর্যন্ত গ্রাহকরা তুলে নিয়েছেন ৪ হাজার ১৪০ কোটি টাকা। আর চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৩ সময়ে তুলে নিয়েছেন ১ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা। দেড় বছরে মোট তুলে নেওয়া নিট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। ডলারে এর মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৫০০ মিলিয়ন বা ৫০ কোটি।

ডলারসংকটে দেশের আমদানি বাণিজ্য সীমিত হয়ে পড়েছে। অর্থনীতিবিদরা এ ধরনের নিয়ন্ত্রিত আমদানি ব্যয়কে উচ্চ মূল্যস্ফীতির অন্যতম কারণ হিসেবে শনাক্ত করেছেন। বৈদেশিক ঋণের প্রবাহে গতিশীলতা সৃষ্টির তাগিদও দেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। সরকার অনেক উদ্যোগের মধ্যে ১৫ জানুয়ারি ২০২৪ ডলার বন্ডে বিনিয়োগের সুদহারও বাড়ায়। সরকার প্রত্যাশা করে, দেশের সংকটময় সময়ে অনিবাসী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা ডলার বন্ডে বিনিয়োগ বাড়াবেন। ডলার বন্ডে সুদহার বাড়ানোর ফলে বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব আসতে পারে। সারা বিশ্বেই ডলার এখন শক্তিশালী।

ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড স্কিম দুটির রিটার্ন ডলারের পাশাপাশি টাকায় নেওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে। তবে এ ক্ষেত্রে বিনিময় হারের বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। আর পাঁচ বছর মেয়াদি ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ডে সুদহার আগের মতোই সাড়ে ১২ শতাংশ রাখা হয়েছে। দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকে এ সার্কুলার পাঠিয়ে সর্বশেষ সুদহারের বিষয়টি গ্রাহককে অবগতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুটি বন্ডেই বিনিয়োগকৃত অর্থ ডলারে প্রাপ্য। প্রতি ষাণ্মাসিক ভিত্তিতে মুনাফা বিতরণ, বন্ডের বিপরীতে ঋণ গ্রহণের সুবিধাও রয়েছে। নমিনি পরিবর্তন ও বাতিল করা যায়। বন্ড হারিয়ে গেলে, পুড়ে গেলে বা নষ্ট হলে ডুপ্লিকেট বন্ড ইস্যুর সুযোগ রয়েছে। এ বন্ডে বিনিয়োগকৃত অর্থ ও অর্জিত মুনাফা আয়করমুক্ত। এ ছাড়া ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত মৃত্যুঝুঁকির সুবিধা রয়েছে। বিনিয়োগকৃত অর্থের জন্য মুনাফা বিনিয়োগকারীর ইচ্ছা অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় বা ডলারে প্রাপ্তিযোগ্য। গ্রাহকদের সরকারের ওপর আস্থা তৈরি করতে হবে।

এই সংকটকালে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে ইউএস ডলার বন্ডে বেশি বেশি বিনিয়োগ করতে প্রবাসী ও অনিবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো যেতে পারে। দেশমাতৃকার টানে সংকট উত্তরণে দেশপ্রেমিক নাগরিক নিশ্চয়ই সরকারের এই আহ্বানে সাড়া দেবেন। এ ছাড়া ইউএস ডলার বন্ডে বিনিয়োগ যে লাভজনক, সে সম্পর্কে তাদের অবহিত করতে হবে। ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, মধ্যপ্রাচ্য, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় এ প্রচার ডলার বন্ডে বিনিয়োগ বাড়াতে সহযোগিতা করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গলদ দূর করুন

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:৩৬ এএম
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গলদ দূর করুন

পত্রিকা খুললেই চোখ আটকে যায় স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের খবরে। চিকিৎসা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হননি এমন কম লোকই আছেন সমাজে। একদিকে অসুস্থ রোগীকে নিয়ে আত্মীয়-পরিজন থাকেন চিন্তিত, অপরদিকে কিছু হাসপাতালের সেবাদানকারীর দুর্ব্যবহার রোগী ও তার আত্মীয়স্বজনদের মন বিষিয়ে তোলে। এমনই হাজারও অভিযোগ এখন হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে। কয়েক দিন আগে সুন্নতে খতনা করাতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু। ভুলভাল চিকিৎসাসেবা এবং ওষুধের যথেচ্ছ ব্যবহার ইত্যাদি কর্মকাণ্ডে সমালোচনার ঝড় বইছে। ওষুধের যে ফর্দ তা নিয়ে ফার্মেসি থেকে ফার্মেসি ঘুরতে ঘুরতে হয়রান হতে হয়। এর ওপর ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি। একসময় বয়স হলে মুরব্বিদের হাতে শোভা পেত পানের বাটা। এখন ওই বয়সী মানুষের হাতে দেখা যায় ওষুধের বাক্স। খাদ্যচক্রেও ঢুকে পড়েছে বিষ। যার প্রভাবে মানুষ দিন দিন অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। জটিল রোগ এখন মানুষের দেহে বাসা বাঁধছে। খবরের কাগজ পত্রিকার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ‘নির্দেশনার আড়ালে চাপা পড়ে আছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গলদ’!

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরোনো নির্দেশনা নতুন করে দিলেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না; বরং গলদ দূর করতে হবে। নয়তো এর আড়ালে চাপা পড়ে থাকবে সব অপকর্ম। কেন শর্ত মানা হচ্ছে না কিংবা মানানো যাচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখে সেই অনুসারে পদক্ষেপ নিতে হবে। যখনই ঘটনা ঘটে তখনই বলা হয়, জনবলসংকটে মনিটরিং করা যায় না। বছরের পর বছর এমনটাই চলছে। জনবল বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয় না কেন, সেটাও খুঁজে দেখা দরকার।

বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ ১০ দফা নির্দেশনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই নির্দেশনার সবই পুরোনো। অর্থাৎ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স নেওয়ার সময়ই এসব শর্ত দেওয়া থাকে। কোন ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠানে কী করা যাবে, কী করা যাবে না তা উল্লেখ থাকে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিয়মের তোয়াক্কা না করে শুধু ব্যবসায়িক স্বার্থের জন্য যত্রতত্র নামমাত্র হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে প্রতারণা করছে। এখনো ১ হাজার ২০০টির ওপর প্রাইভেট স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নিবন্ধন নেই। প্রাইভেট চিকিৎসা সেক্টর এখন ‘সোনার ডিম’। যার ফল ভোগ করে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বেসরকারি উদ্যোক্তা চক্র। যদি আইন মেনে কঠোর মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা কার্যকর করা যায়, তবে এই সোনার ডিম ভেঙে যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখনই কোনো অঘটন ঘটে, তখনই এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে আর সেটি কার্যকর হয় কি না, তা দেখার কেউ নেই।

তথ্য বলছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনিস্টিক সেন্টার ব্যবস্থাপনা শাখার জনবল মাত্র ২০ জন। যারা সারা দেশের নানা ধরনের সমন্বয়ে কাজ করেন। নতুন নিবন্ধন দেওয়া, নবায়ন করা, যাচাই-বাছাই, পরিদর্শন, তদন্ত সবকিছুই করেন। সেই সঙ্গে ঢাকা মহানগরীর সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনাও দেখভাল করার মূল দায়িত্ব তাদের। শুধু ঢাকায়ই বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ৩ হাজারের বেশি। 

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল আমিন গত কয়েক দিনে দেশে স্বাস্থ্য খাতের অস্থিরতা প্রসঙ্গে খবরের কাগজকে বলেন, দেশের প্রাইভেট চিকিৎসাসেবা খাত এখন সরকারি চিকিৎসাসেবা খাতের চেয়ে অনেক বড় ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রায় সবাই ব্যস্ত সরকারি সেবা খাতে। বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের মনিটরিং করার মতো সামর্থ্য নেই অধিদপ্তরের। সেই সঙ্গে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য নানা ধরনের কারণে আইন-বিধি উপযুক্ত মাত্রায় কার্যকর হয় না। ফলে শুধু নির্দেশনা জারি করলেই লাভ হবে না। সরকারের উচিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে শক্তিশালী করা। সে জন্য প্রয়োজন এ খাতে ব্যবস্থাপনাগত সংস্কার। এই অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ যেসব গলদ রয়েছে সবার আগে তা চিহ্নিত করে দূর করতে হবে। আইন, বিধি, নির্দেশনা কার্যকর করার আগে দরকার কাজের স্বচ্ছতা। এটি করতে পারলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও বেশি গতিশীল হবে।

বিবাহবিচ্ছেদ ঠেকাতে কাউন্সেলিং সেবা জরুরি

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:০৪ এএম
বিবাহবিচ্ছেদ ঠেকাতে কাউন্সেলিং সেবা জরুরি

বাবা-মায়ের বিচ্ছেদে সন্তানদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) নতুন এক জরিপ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দেশে বিয়ের হার বেড়েছে। বেড়েছে তালাক বা বিবাহবিচ্ছেদও। কিন্তু বিচ্ছেদ হওয়া দম্পতিদের একটি বড় অংশের রয়েছে সন্তান। বিচ্ছেদের ফলে ওই মা-বাবার জীবনের সমস্যার সমাধান হলেও বড় সমস্যায় পড়ছে তাদের সন্তানরা। কারণ তারা মা-বাবা দুজনকেই চায়। তাদের কাছে মা-বাবা দুজনই সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং ভালোবাসার জায়গা। তাই মা-বাবার বিচ্ছেদ সন্তানদের জীবনের জন্য অনেক বড় ক্ষতির কারণ হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন ভেঙে যাওয়া পরিবারের সন্তানদের অনেকেই পরবর্তী সময় হতাশাগ্রস্ত হয়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। অনেকে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পরিবার সংকটে পড়ছে, এমনকি প্রাপ্তবয়স্ক হলেও পরবর্তী জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাদের সংসারেও এর প্রভাব পড়ছে।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন থেকে পাওয়া তথ্যমতে, ২০২৩ সালে দুই সিটি করপোরেশন মিলে তালাক হয়েছে ৯ হাজার ৩০৫টি। এ হিসাবে রাজধানীতে প্রতিদিন ভেঙে যাচ্ছে প্রায় ২৬টি দাম্পত্য সম্পর্ক। অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় তালাকের ঘটনা ঘটছে একটিরও বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনগতভাবে বাংলাদেশে বিচ্ছেদ প্রক্রিয়াটি খুব সহজ হওয়ায় তাদের সন্তানের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগেই বিচ্ছেদ হয়ে যাচ্ছে। ফলে পরবর্তী সময়ে অভিভাবকত্ব, ভরণ-পোষণ এবং মা-বাবা কে কীভাবে, কতখানি সময় দেবেন সন্তানের স্বাভাবিক জীবনের জন্য, তা নিয়ে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া চলতে থাকে।

বাবা-মায়ের সান্নিধ্য আর ভালোবাসা না পাওয়ায় অনেক শিশু মাদকাসক্তও হয়ে পড়ছে। এভাবে বিপন্ন শিশুদের পরিসংখ্যান দিন দিন দীর্ঘায়িত হচ্ছে। একটি শিশুর জীবনযাপনের ক্ষেত্রে মা-বাবার যে ভূমিকা, তা থেকে প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা গ্রহণে শিশুরা বঞ্চিত হওয়ার মারাত্মক প্রভাব তাদের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা তৈরি করে। সমাজে স্বাভাবিক নাগরিক হিসেবে বসবাসের ক্ষেত্রে পরিচয় তৈরি এবং পারিবারিক শাসনের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিত্ব গঠনের প্রক্রিয়াই এক ধরনের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, যা শিশুকে সব সময় মানসিক অস্থিরতার মধ্যে রাখে এবং শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাপনের ক্ষেত্রে নানাবিধ প্রতিকূলতা তৈরি করে। এই প্রতিকূলতা শিশুকে নির্মম জীবনযাপনে ঠেলে দেয় এবং নানাবিধ সহিংসতার মুখোমুখি করে।

বাংলাদেশ সাইকিয়াট্রিক কেয়ার, সাইকোথেরাপিস্ট অ্যান্ড সাইকোসোশ্যাল কাউন্সিলর, সায়ক লোহানী বলেন, ‘আমাদের দেশে কাউন্সেলিং এখনো এতটা পরিচিতি নয়, বিশেষ করে ম্যারেজ কাউন্সেলিং। বিবাহবিচ্ছেদ প্রক্রিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন তিন মাসের পরিবর্তে আরও বেশি হওয়া উচিত। ওই সময় অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা বা সম্পর্ক পুনর্গঠন করার বিষয়ে কাউন্সেলিং নেওয়া নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। অন্যদিকে সন্তান বর্তমান থাকলেও কাউন্সেলিং সেবায় আনা প্রয়োজন তাদের ভবিষ্যতের সুস্থ জীবনযাপনের জন্য। এই অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সেলিং সেবায় অনেক সময় ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক পুনর্গঠন সম্ভব।’

জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের চারটি মূল নীতির একটি হলো শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের ফলে শিশুর ওপর দীর্ঘ মেয়াদে প্রভাব ফেলে। এ জন্য শিশুবান্ধব আইন কার্যকর করতে হবে। যাতে শিশুদের জীবন বিপন্ন না হয়ে ওঠে। অন্যদিকে বিচ্ছেদ বা তালাক ঠেকাতে অন্তর্বর্তীকালীন সালিশ প্রক্রিয়াকে বাধ্যতামূলক করা অতি জরুরি। সালিশ পরিষদে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট অন্তর্ভুক্ত করতে পারলে তাদের সঠিক কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে একটি পরিবারকে বিচ্ছেদ থেকে বাঁচানো সম্ভব হবে।