সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরিতে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন আপিল বিভাগের রায়ের আলোকে জারি করেছে সরকার। প্রজ্ঞাপনে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ৯৩ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ, ১ শতাংশ ক্ষুদ্র ও নৃগোষ্ঠী এবং ১ শতাংশ প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য রাখা হয়েছে। ৯ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সরাসরি পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগের ক্ষেত্রে এই কোটাব্যবস্থা কার্যকর হবে। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা পুনর্বহাল-সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় সামগ্রিকভাবে বাতিল (রদ ও রহিত) করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। নারী ও জেলা কোটা বাদ দেওয়া হয়েছে। চাকরিতে নারীদের জন্য কোটা না থাকলে বৈষম্য আরও বাড়বে বলে মনে করছেন দেশের বিভিন্ন নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, গবেষক ও শিক্ষাবিদরা। তারা মনে করেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাগুলোর (এসডিজি) একটি হলো নারী-পুরুষের সমতা। সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে নারী কোটা অবশ্যই প্রয়োজন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, দপ্তর, করপোরেশন ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সাড়ে ১৪ লাখের বেশি কর্মচারী কর্মরত। এর মধ্যে নারীর সংখ্যা ৪ লাখ ৯ হাজার ৬৮। আর পুরুষ ১০ লাখ ৩৪ হাজার ৪৫০ জন।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার করে আপিল বিভাগের দেওয়া রায়কে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন অনেকে। বিভিন্ন মহল থেকে সরকারের এই সিদ্ধান্তে সাধুবাদ জানানো হয়েছে। দেশের চলমান সংকটময় মুহূর্তে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গতকাল আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এক সংবাদ সম্মেলনে রায়ের প্রজ্ঞাপন পড়ে শোনান। প্রজ্ঞাপনের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘কোটা সংস্কারের যে রায় সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ দিয়েছেন, সরকার তা প্রতিপালন করেছে। সব ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ ছাত্রছাত্রী যারা আহত হয়েছেন তাদের চিকিৎসার ব্যাপারে সরকার দেখভাল করবে। সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মামলাও সরকার দেখবে। শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং সব ছাত্রছাত্রীর সুরক্ষা ও নিরাপত্তার পরিবেশ সরকার নিশ্চিত করবে। সরকার ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করার জন্য যথেষ্ট সজাগ। কোটা সংস্কার নিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল। সরকার তা পূরণ করেছে। অতএব, শিক্ষার্থীদের কর্তব্য তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে ফিরে যাওয়া। সর্বোচ্চ আদালত অত্যন্ত বিচক্ষণ একটি রায় দিয়েছেন।’
তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেছেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্যে সহিংসতা ঢোকানোর পরিকল্পনা অপশক্তির আগে থেকেই ছিল। ডেটা সেন্টার জ্বালিয়ে দিয়ে ইন্টারনেট থেকে দেশকে বিচ্ছিন্ন করেছে তারা। সারা বিশ্বে তারা একটা ভুল বার্তা পৌঁছে দিয়েছে এই সুযোগে। তিনি গণমাধ্যমকে ঘটনার সঠিক তথ্য তুলে ধরার অনুরোধ জানান।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের আন্দোলন ঘিরে দেশে সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় স্থগিত করতে হয়েছে বিভিন্ন পরীক্ষা। এরই মধ্যে তিন শতাধিক পরীক্ষা পিছিয়ে গেছে। একাডেমিক, পাবলিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষাও পেছাতে হচ্ছে। ফলে পরীক্ষায় জট তৈরির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সম্মান জানিয়ে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে ফিরে যেতে হবে। সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ সুনিশ্চিত করবে। দ্রুত ইন্টারনেট সেবা উন্মুক্ত করে দিতে হবে। কারফিউ তুলে দিয়ে জনজীবনের শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে হবে। যারা নাশকতা, সহিংসতা ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতি করেছে, তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।