ঢাকা ২ বৈশাখ ১৪৩১, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

মানামায় বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উদযাপন

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৪, ১১:৩৬ এএম
মানামায় বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উদযাপন
ছবি-সংগৃহীত

বাহরাইনের মানামায় বাংলাদেশ দূতাবাসে ঐতিহাসিক ‘বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ উদযাপন করা হয়েছে। 

বুধবার (১০ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায় দূতাবাস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। 

অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ, উন্মুক্ত আলোচনা এবং বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের ওপর নির্মিত একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

এ সময় চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স একেএম মহিউদ্দিন কায়েস বলেন, ‘আজকের এই দিনে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এবং আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। দীর্ঘ ৯ মাস ১৪ দিন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দিজীবন শেষে ১৯৭২ সালের এই দিনে জাতির পিতা স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পূর্ণতা পেয়েছিল ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ ফেরার মাধ্যমে। তাই এই দিনটি বাঙালি জাতির জীবনে অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের। জাতির পিতা পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য দীর্ঘ ২৪ বছর সংগ্রাম করেছেন। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রামে সকল ক্ষেত্রেই তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। গৌরবময় স্বাধীনতা আমরা যার নেতৃত্বে অর্জন করেছি তিনি হলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।’ 

চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স তার বক্তব্যে বলেন, ‘জাতির পিতার নির্দেশিত পথ অনুসরণ করে তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত ও স্মার্ট রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আজ বাংলাদেশ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে বিশ্বব্যাপী উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।’ 

এ ছাড়া, তিনি প্রবাসে বসবাসরত সবাইকে দল ও মতের বিভেদ ভুলে একযোগে জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলাদেশ’ তথা প্রধানমন্ত্রীর ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে কাজ করার আহ্বান জানান। 

পরিশেষে, বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহিদ সদস্যদের পাশাপাশি বাঙালির স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনের সব শহিদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। 

বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

ইসরাত চৈতি/অমিয়/ 

ফিনল্যান্ডে উদযাপিত হচ্ছে ঈদুল ফিতর

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:১২ পিএম
ফিনল্যান্ডে উদযাপিত হচ্ছে ঈদুল ফিতর
ছবি: সংগৃহীত

ঈদ মানেই উৎসব আর আনন্দ। বছর ঘুরে আবার এসেছে ঈদুল ফিতর। এক মাস রোজা রাখার পর ফিনল্যান্ড জুড়ে মুসলমানরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য আর উৎসাহের মধ্য দিয়ে উদযাপন করছেন ঈদুল ফিতর।      

বুধবার (১০ এপ্রিল) ৩০ রোজা পূর্ণ করে ফিনল্যান্ড জুড়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের দিনটি অশেষ তাৎপর্য ও মহিমায় অনন্য। ঈদ আনন্দের আবাহনে আজ ঈদের সকালে সবাই নতুন পোশাক পরেছে। শিশুদের চোখমুখে ফুটে উঠেছে আনন্দ আর উচ্ছ্বাস। তারা সবাই তো এই দিনটিরই প্রতীক্ষায় ছিল গত এক মাস। অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান হলো আজ ১০ এপ্রিল ঝলমল রোদ্দুর উঁকি ও বসন্তের প্রকৃতির রঙে রঙিন হয়ে ফিনল্যান্ডের হেলসিংকি প্রবাসী বাংলাদেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা সমবেত হন ঈদের জামাতে।

ইসলামি রীতি অনুযায়ী রাজধানী হেলসিংকিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঈদের প্রধান দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় মসজিদের আয়োজনে প্রথম জামাতটি হয় সকাল ৮টা ১৫মিনিটে ভানতা কামপো স্পোর্টস সেন্টারে। এতে ইমামতি করেন মসজিদের খতিব মাওলানা বশির আহমেদ।

সকাল ৯টায় অপর জামাতটি অনুষ্ঠিত হাকানিয়েমির মেরি হাকা পাল্লোহাল্লিতে। এতে ইমামতি করেন হেলসিংকির দারুল আমান মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস খান।

ঈদের জামাত শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া মোনাজাত করা হয়। হেলসিংকির সর্বস্তরের প্রবাসী বাংলাদেশিরা জামাত দুটিতে অংশ নেন।

ঈদ জামাতে উল্লেখযোগ্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লিমন চৌধূরী, মো. কামরুল আলম কমল, নাজমুল হুদা, নাসির খান, মাহবুবুল আলম, ফয়েজ আহমেদ ঢালী, মহি খান, আরিফ আহমেদ, রুবেল ভূঁইয়া, কামরুল হাসান জনি, জামান সরকার, জাহাঙ্গীর আলম, আবদুর রশিদ, গাজী সামসুল আলম, শামীম বেপারী, লিও খান, হামিদুল ইসলাম, বদরুল মনির, তাসাওয়াল কবির তারেক, সালেহ আহমেদ সালেক, আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, শেরওয়ান আহমেদ, কামরান আহমেদ, আলুটন মইন, ফাতা মিয়া, আবদুস সহিদ, আনসার আহমেদ রাজু, আবদুল আলি, এরশাদুর রহমান, হাসান আহমেদ, আতাউর রহমান রুহেল, লিটন, মাসুদ, স্বপ্নিল, রাফাত আলী, দবির হোসেন, জিকু, মো. রকিবুল ইসলাম রুবেল, ইমন আহমেদ, নাজিরুল আলম স্বপন, সাব্বির আহমেদ লস্কর, ইমু খান, আবুল কালাম শহিদুল, মো. মহসীন, লাবীব, তাসিন, সালাউদ্দিন, লিমন চৌধূরী, আতাউর রহমান, আকরাম হোসেন প্রমুখ।

বরাবরের মতো এবারও বাংলাদেশিদের ঈদ উৎসবে আছে বিভিন্ন ধরনের দেশি-বিদেশি খাবার। একে অপরের বাড়িতে নিমন্ত্রণ খাওয়া। মাতৃভূমি বাংলাদেশে টেলিফোন করে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও খোঁজ-খবর নেওয়া ইত্যাদি। ঈদের এই আনন্দে একে অপরের বাড়িতে নিমন্ত্রণ খাওয়ার রেওয়াজ একাধারে তিন–চার দিন চলতে থাকে।

মোটকথা মাতৃভূমির মায়া আর দেশে ফেলে আসা স্বজনদের জন্য ভালোবাসা বুকে চেপে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের প্রবাসীরা সবাই পরস্পর ভাগাভাগি করছেন আনন্দ। সুযোগ মতো ফোন, ইন্টারনেটে যোগাযোগ হচ্ছে নিজ নিজ দেশে। অনেকেই অশ্রুসজল হয়ে পড়ছেন শয্যাশায়ী মা-বাবার জন্য, কেউ সন্তানের মুখ মনে করে চোখ মুছছেন। তবে সবকিছু ছাপিয়ে সবাই হাসিমুখেই উদযাপন করছেন ঈদ। 

ইসরাত চৈতী/অমিয়/

বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও স্মার্ট দেশ হিসেবে সম্মানিত হবে: স্পিকার

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৪, ০২:১৭ পিএম
বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও স্মার্ট দেশ হিসেবে সম্মানিত হবে: স্পিকার
স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী

বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত, সুখী, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট দেশ হিসেবে বিশ্বদরবারে সম্মান অর্জন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বে এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে চলছে।

বুধবার (২৮ মার্চ) জেনেভায় বিশ্ব মেধাস্বত্ব সম্পদ সংস্থার (WIPO) সদর দপ্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মিশন আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্পিকার। 

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দারিদ্র্য হার হ্রাস, শতভাগ বিদ্যুতায়ন, আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও সর্বক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে ২০২১ সালের মধ্যে প্রতিশ্রুত ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন বাস্তবে রূপ দিয়েছে। 

স্পিকার বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসামান্য অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। এ সময় তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা অভিকল্প বাস্তবায়নে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার আহ্বান জানান।

সংবর্ধনা সভায় উপস্থিত অতিথিদের বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানান স্পিকার। 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে জাতিসংঘের জেনেভা কার্যালয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সুফিউর রহমান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সদীপ্ত পদচারণা ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য তুলে ধরেন।  

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের ঈর্ষণীয় সাফল্য সম্বন্ধে সবাইকে অবহিত করেন। তিনি বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব ও পরিবেশ-দায়িত্বশীল ও জ্বালানি সাশ্রয়ী উৎপাদন ব্যবস্থা ও অর্থনীতির বিষয়টির ওপর আলোকপাত করেন। বহুপাক্ষিক কূটনীতি এবং শান্তির লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রয়াস ও অবদান তুলে ধরেন। 

মানবিক কারণে ১.১ মিলিয়ন বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনে সহায়তা করতে তিনি বিশ্বসম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করেন।

মিশন আয়োজিত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার শুরুতে মিশন প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমান। 

তারপর মিশনের কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ কম্যুনিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে নিরবচ্ছিন্ন গণতন্ত্র চর্চা এবং অর্থনৈতিক অভিযাত্রার সুফল পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশের জনগণ। অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রযাত্রা বাস্তবায়নে দেশকে বহুমুখী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ভঙ্গুরতা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা।
 
এ সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধকে উপজীব্য করে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং দেশ ও জনগণের সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। 

সংবর্ধনা সভায় সংসদের চিফ হুইপ, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, সরকারি কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্যরা যোগ দেন। 

প্রায় ৪০০ অতিথি মনোমুগ্ধকর এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে পাঁচজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মান জানানো হয়।

ইসরাত চৈতী/অমিয়/

বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাসে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৪, ১১:১৪ এএম
বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাসে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

লেবাননের বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাসে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) লেবাননে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এয়ার ভাইস মার্শাল জাভেদ তানভীর খান সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করে দিবসের কর্মসূচি সূচনা করেন। 

পরবর্তী সময়ে দূতাবাস প্রাঙ্গণে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।

পরে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাস ও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন তুলে ধরে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। এর পর স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্যের ওপর উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। 

লেবাননে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিরা ও দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ আলোচনায় অংশ নেন। 

রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে বলেন, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর চরম বৈষম্য ও অত্যাচার-নিপীড়ন হতে বাঙালি জাতিকে মুক্তি দিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সময়ে নানাবিধ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেছেন এবং ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। 

তিনি জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গঠনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ওপর আলোকপাত করেন।

রাষ্ট্রদূত স্বাধীনতার মর্মার্থ অনুধাবন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় অধিকতর অবদান রাখার জন্য লেবাননে বসবাসরত সব প্রবাসী বাংলাদেশিকে আহ্বান জানান। 

অমিয়/

অটোয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৪, ১০:১৮ এএম
অটোয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

কানাডার অটোয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে ৫৪তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ হাউজে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. খলিলুর রহমান।

এ সময় হাইকমিশনের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। 

পতাকা উত্তোলন শেষে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদের আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। 

দিবসের পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে দুপুর ১২টায় হাইকমিশনের অডিটোরিয়ামে বিশেষ আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়।

হাইকমিশনার ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই আলোচনাসভায় হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কানাডায় বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে হাইকমিশনারের নেতৃত্বে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়। 

এরপর হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন।

এরপর দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা থেকে পাঠানো একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। 

হাইকমিশনার আলোচনাসভায় উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মঞ্চে আহ্বান করেন এবং তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।

এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধারা মহান স্বাধীনতাকে বাঙালি জাতির সবচেয়ে বড় অর্জন বলে উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। তাছাড়া বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। 

এ সময় তারা কানাডায় বসবাসরত দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশিদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে একসঙ্গে কাজ করার শপথ নেন। 

সভাপতির বক্তব্যে হাইকমিশনার ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি গণ-আন্দোলনে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করেন। 

তিনি বলেন, পাকিস্তানি শাসকদের ষড়যন্ত্রের বিষয়যটি বুঝতে পেরে বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে ৭ মার্চের ভাষণে সবাইকে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুতির নির্দেশনা দেন। ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আক্রমণ ও গণহত্যা শুরু করলে বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। 

হাইকমিশনার মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহিদের আত্মত্যাগ ও সম্ভ্রমহারা দুই লাখ মা-বোনকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। এ সময় তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ধারণ করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

হাইকমিশনার ড. খলিলুর রহমান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বুকে ধারণকারী তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়তে দেশ-বিদেশে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। 

তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে কানাডার সরকার ও জনগণের সমর্থনের জন্য দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 

কানাডা ১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হওয়ার পর থেকে দুই দেশ মানবাধিকার, উন্নয়ন, চরমপন্থা মোকাবিলা, নারীর ক্ষমতায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে বলে হাইকমিশনার তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যকার ঐতিহাসিকভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বাণিজ্যসহ অন্যান্য সব ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে।

অমিয়/

বাহরাইনে বাংলাদেশ দূতাবাসে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৪, ০৯:৫৬ এএম
বাহরাইনে বাংলাদেশ দূতাবাসে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

বাহরাইনের মানামায় বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও আনন্দমুখর পরিবেশে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ৫৩তম বার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় দূতাবাস প্রাঙ্গণে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স এ কে এম মহিউদ্দিন কায়েস বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতা, সাংবাদিক, বিদেশি অতিথি ও দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা করেন। 

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাণী পাঠ, উন্মুক্ত আলোচনা এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স তার বক্তব্যের শুরুতে গভীর শ্রদ্ধায় স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহিদ এবং দুই লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোনকে স্মরণ করেন। 

তিনি বলেন, আমাদের এই লাল-সবুজের পতাকা খুব সহজেই অর্জিত হয়নি, বরং লাখ লাখ শহিদের বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। এই স্বাধীনতার পিছনে ছিল বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগ, বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর, দূরদর্শী নেতৃত্ব, অপরিসীম সাহস এবং সঠিক দিকনির্দেশনা। জাতির পিতার নির্দেশিত পথ অনুসরণ করে তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত ও স্মার্ট রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

এ ছাড়া তিনি বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়নসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। 

চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স প্রবাসী বাংলাদেশিদের দল ও মতের বিভেদ ভুলে একযোগে জাতির পিতার স্বপ্নের উন্নত, সমৃদ্ধ ও আত্মমর্যাদাশীল ‘সোনার বাংলাদেশ’ তথা প্রধানমন্ত্রীর ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে কাজ করার আহ্বান জানান।

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দূতাবাসের পৃষ্ঠপোষকতায় বাহরাইনের বহুল প্রচারিত ইংরেজি Gulf Daily News (GDN) পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। এতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের বাণী রয়েছে। 

চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স তার বাণীতে বাংলাদেশ ও বাহরাইনের মধ্যকার ৫০ বছরের বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত নিয়ে আলোকপাত করেন।

এ ছাড়া, বাহরাইনের মহামহিম বাদশা এবং ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা বাণী পাঠিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের যারা শাহাদাতবরণ করেছে এবং বাঙালির স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনের সকল পর্যায়ে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনকারী সকল শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

অমিয়/