ঢাকা ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Khaborer Kagoj

নিউইয়র্ক টাইমস স্কয়ারে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের ঘোষণা

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৪, ১০:৫৪ এএম
নিউইয়র্ক টাইমস স্কয়ারে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে টাইমস স্কয়ারে বাংলা বর্ষ ১৪৩১ বরণের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশি অভিবাসীরা। 

বুধবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সাহিত্য-সংস্কৃতিমনা শত আলোকিত মানুষের উপস্থিতিতে জ্যাকসন হাইটসের এক রেস্টুরেন্টে সবার পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেন প্রবীণ সাংবাদিক মুহম্মদ ফজলুর রহমান। 

আয়োজক সংগঠন এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ঘোষণা করে নিউইয়র্কের টাইম স্কয়ার এবং জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজাতে ১৩ ও ১৪ এপ্রিল শতাধিক কণ্ঠে বরণ করে নেওয়া হবে বাংলা নতুন বছরকে। 

ঘোষণার পর শুরু হয় গানের মহড়া। 

এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের সভাপতি বিশ্বজিত সাহার সভাপতিত্বে ঘোষণা অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল লিটন। 

এ সময় বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ‍্যাপক হোসাইন কবির, অভিনেত্রী লুৎফুন নাহার লতা, শত কণ্ঠের মহড়া পরিচালক মহিতোষ তালুকদার তাপস প্রজন্ম ৭১ যুক্তরাষ্ট্রের সভাপতি শিবলী ছাদেক এবং আয়োজক সংগঠনের সহ-সাধারণ সম্পাদক তানভীর কায়সার। 

অনুষ্ঠানে বর্ষবরণ ঘোষণার সময় সাপ্তাহিক ঠিকানা পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মুহম্মদ ফজলুর রহমান বলেন, ‘নিউইয়র্কের টাইম স্কয়ার এবং জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজাতে ১৩ ও ১৪ এপ্রিল শতাধিক কণ্ঠে বরণ করে নেওয়া হবে ১৪৩১ বঙ্গাব্দকে। মঙ্গল শোভাযাত্রা, চিরায়ত বাংলার সংস্কৃতি পরিবেশনা এবং বৈশাখী মেলায় উপস্থিত থাকবেন দুই বাংলার জনপ্রিয় শিল্পীরা।’

বাঙালির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নিউইয়র্কের টাইম স্কয়ারে বাংলা বর্ষবরণ আয়োজন করা সংগঠন এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড। 

১৪৩০ বঙ্গাব্দ বরণের শত কণ্ঠের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মহীতোষ তালুকদার তাপস। এবারও হবে তার পরিচালনায়। 

মহড়া শুরুর সময় তিনি বলেন, ‘নিউইয়র্ক টাইম স্কয়ারের পাদদেশে ১৪৩০ বাংলা বর্ষবরণের অনুষ্ঠানটি আমাকে বিশ্ব বাঙালির কাছে পরিচিত করিয়ে দিয়েছে। এজন্য আয়োজক সংগঠন এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা। এবার আমরা আশা করছি গত বছরকে ছাড়িয়ে যাব।’ 

অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত অভিনেত্রী লুৎফুন নাহার লতা বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে হাজার মাইল দূরে থেকেও অভিবাসীরা হৃদয়ে ধারণ ও লালন পালন করেন বাংলা সংস্কৃতি এবং বাংলাদেশ। নিউইয়র্কে প্রচণ্ড ঠান্ডা ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে শত শিল্পীর উপস্থিতি প্রমাণ করে এখানে যারা এসেছেন তারা প্রত্যেকে প্রকৃত সংস্কৃতি কর্মী। তাদের হাত ধরেই বাংলা সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বব্যাপী।’ 

এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের সভাপতি বিশ্বজিত সাহা বলেন, ‘এবার তিন স্তরবিশিষ্ট অংশগ্রহণকারী নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করছি আমরা। অংশগ্রহণকারীর সঙ্গে যুক্ত হবে পরিবারের শিশু এবং কিশোর-কিশোরীরা। নিজেদের পরিবারে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চার বিকল্প নেই। এবার নিউইয়র্কের টাইম স্কয়ারকে সাজানো হবে রমনার বটমূলের আদলে।’ 

এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল লিটন বলেন, ‘গত বছরের ঐতিহাসিক বর্ষবরণ বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তৈরি করেছে। এবার আমরা প্রত্যাশা করছি যুক্তরাষ্ট্রের ৫২টি অঙ্গরাজ্যের বসবাসরত বাঙালি অভিবাসীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার। ইতোমধ্যে ২৫টি অঙ্গরাজ্য বরণ অনুষ্ঠানের যুক্ত হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। বাঙালি সংস্কৃতিপ্রেমী অভিবাসীরা শত কণ্ঠের এই আয়োজনকে সহস্র কণ্ঠে নিয়ে যাবেন সেই প্রত্যাশা করছি।’ 

ইসরাত চৈতি/অমিয়/

‘ন্যায়বিচার ও সাম্যের জন্য প্রয়োজন সকল ভাষার স্বীকৃতি ও সম্মান’

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:৫৩ পিএম
‘ন্যায়বিচার ও সাম্যের জন্য প্রয়োজন সকল ভাষার স্বীকৃতি ও সম্মান’

সকল ভাষার স্বীকৃতি ও সম্মানের মধ্যে সামাজিক ন্যায়বিচার, সাম্য প্রতিষ্ঠা হতে পারে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অঙ্গীকার বলে মন্তব্য করেছেন জেনেভাস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমান।

জেনেভায় বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের উদ্যোগে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন।

আলোচনার শুরুতে তিনি ভাষাশহিদ এবং ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যারা অবদান রেখেছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
 
বাংলা ভাষার সম্মান রক্ষায় সাংস্কৃতিক ও বাংলা ভাষাভাষীদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের রাজনৈতিক আন্দোলনে যুগপৎ নেতৃত্ব দেওয়ায় বঙ্গবন্ধুর প্রতি তিনি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।

দিবসটির তাৎপর্য ও গুরুত্ব তুলে ধরে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে স্থায়ী প্রতিনিধি সুফিউর রহমান কয়েক হাজার বছরে সংস্কৃত, প্রাকৃত ভাষার বিবর্তনের ধারায় বাংলা ভাষার বর্তমান অবস্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ‘বাংলাভাষী অঞ্চলসমূহের আশেপাশের এলাকার ভাষার সঙ্গে মিথষ্ক্রিয়ায় এবং ব্যাকরণ, চিন্তা, দর্শন আত্মীকরণ করে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধ হয়েছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘প্রবৃদ্ধি বা প্রগতির জন্য যে জ্ঞান দরকার, তা অর্জনের জন্য বাংলার চর্চা ও প্রসারের পাশাপাশি অন্য ভাষাকে সম্মান দিতে হবে, অন্য ভাষার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে।’ 

এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর শিশুরা যাতে প্রাথমিক পর্যায়ে নিজেদের ভাষায় আত্মগরিমায় শিক্ষালাভ করতে পারে, সে বিষয়ে অধিকতর সুযোগ সৃষ্টির জন্য সরকারি উদ্যোগের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমান বলেন, ‘দ্রুত নগরায়ন, বিশ্বায়ন ও ডিজিটালাইজেশনের কারণে আঞ্চলিক ও ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ভাষার অস্তিত্ব ক্রমশ হুমকির মুখে পড়ছে। আমাদের সতর্ক হতে হবে যাতে ভাষাগুলো কালের বিবর্তনে হারিয়ে না যায়।’ 

অনুষ্ঠানে মিশনের কমার্শিয়াল মিনিস্টারসহ দুইজন প্রবাসী বাংলাদেশিও বক্তব্য রাখেন।

মিশনের মিলনায়তনে মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্যদের অংশগ্রহণে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৪ পালিত হয়েছে। 

দিবসের শুরুতে মিশন ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হয়। এরপর দিবসটি উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। 

অনুষ্ঠানে ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। 

শহিদদের আত্মার মাগফেরাত এবং দেশের সুখ, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাতের ও বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। 

এরপর মহান ভাষা আন্দোলনের উপর নির্মিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও ভাষা আন্দোলন’ শীর্ষক একটি প্রামান্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

সাদিয়া নাহার/অমিয়/

বই প্রকাশ অনুষ্ঠান হয়ে উঠল বরিশালের পুনর্মিলনী

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৩৬ পিএম
বই প্রকাশ অনুষ্ঠান হয়ে উঠল বরিশালের পুনর্মিলনী
ছবি : খবরের কাগজ

উপলক্ষ্য ছিল বই প্রকাশ কিন্তু হয়ে গেল কলকাতায় বরিশাল জেলার একটি পুনর্মিলন উৎসব। বইটির লেখিকা এসেছিলেন বাংলাদেশের বরিশাল থেকে। তার বইয়ের উপজীব্যও ছিল প্রাক স্বাধীনতা আমলের বরিশাল এবং সেখানকার কৃতি সন্তানরা। তিনি চেয়েছিলেন, বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের মুহূর্তে উপস্থিত থাকুক এপার বাংলার বরিশালীরা। সে কারণে হলভর্তি করে এসেছিলেন সমাজের নানা অংশের মানুষ, যাদের কমন বিষয় হলো বরিশালের স্মৃতি।

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) কলকাতা প্রেস ক্লাবে বরিশালের প্রয়াত গুণীজন ব‌ইটির প্রকাশ হলো। 

ব‌ইটির সম্পাদনা করেছেন বাংলাদেশের লেখিকা রুসিলি রহমান চৌধুরী।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক সুজিত কুমার বসু,কল্যাণী কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক পবিত্র গুপ্ত, সাহিত্যিক সৈয়দ হাসমত জালাল, সাহিত্যিক বিতস্তা ঘোষাল, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুল কাফি, সাংবাদিক সুখরঞ্জন দাশগুপ্ত, চিকিৎসক ড. মিলন সেনগুপ্ত, চিত্রপরিচালক সুবীর মন্ডল, নজরুলের পৌত্র কাজী অরিন্দম এবং রুসেলি রহমান চৌধুরী।

দুই বাংলার মৈত্রীবন্ধনের আর একটি প্রয়াস ‘পারাপার’। এই সংস্থার মাধ্যমে এই বিশেষ বইটি রুসেলি রহমান চৌধুরীর ‘বরিশালের প্রয়াত গুণীজন’ প্রকাশিত হয়েছে।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা ও সঞ্চালনায় ছিলেন শ্রীমতী শুভ্রা সেনগুপ্ত ও বিবেক চট্টোপাধ্যায়। অনুষ্ঠান সহযোগিতায় ছিলেন মৌসুমী ঘোষাল, জুলি সিরাজ ও অপর্ণা ভট্টাচার্য।

অমিয়/

রোমানিয়ায় শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:৪৯ পিএম
রোমানিয়ায় শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত
ছবি : সংগৃহীত

রোমানিয়ায় বুখারেস্টে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পলিটেকনিকা যৌথভাবে গত ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে। 

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত ছাড়াও পলিটেকনিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হোরিয়া ইউভু, রোমানিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংস্কৃতি, শিক্ষা ও বিজ্ঞান অনুবিভাগের প্রধান আন্দ্রে লুকা ও রোমেনিয়ান কালচারাল ইনস্টিটিউটের ভাষা বিভাগের প্রধান রোকসানা প্রেদা বক্তব্য দেন।

দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন ভাষাভাষী শিল্পীদের সমন্নয়ে এক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের হয়ে দেশাত্মবোধক গানে নৃত্য পরিবেশন করেন সিলভিয়া ইসমেত প্রিয়তী। এ ছাড়া আরও অনেকে বাংলা গান, কবিতা ও অভিনয়ের মাধ্যমে ইউরোপের মাটিতে বাংলা ভাষা ও একুশে ফেব্রুয়ারির মর্ম তুলে ধরেন।  

খালেদ/সালমান/

কলকাতার উপ-হাইকমিশনে সাড়ম্বরে মহান ভাষাশহিদ দিবস পালিত

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:৫৫ পিএম
কলকাতার উপ-হাইকমিশনে সাড়ম্বরে মহান ভাষাশহিদ দিবস পালিত

ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন প্রাঙ্গণে দিনভর বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালিত হয়েছে মহান ভাষাশহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৪। উপ-হাইকমিশন চত্বরে ভাষাশহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে পতাকা উত্তোলন এবং অর্ধনমিতকরণের মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। পতাকা অর্ধনমিত করেন উপ-হাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস।

এরপর ভাষাশহিদদের বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। মিশন প্রাঙ্গণে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করা হয়। এরপর উপ-হাইকমিশন আয়োজিত প্রভাতফেরি শুরু হয়।

প্রভাতফেরিতে অংশ নেন কলকাতার কবি, সাহিত্যিক, রাজনীতিক ব্যক্তিত্ব ও বুদ্ধিজীবীরা। সঙ্গে ছিলেন উপ-হাইকমিশননের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তারা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনান।

মহান ভাষাশহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরতে আলোচনা সভা ও বহুভাষায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কলকাতায় চীন, জাপান, রাশিয়া, ফ্রান্স, থাইল্যান্ড ও নেপালের কনস্যুলেটের প্রতিনিধিরা তাদের নিজ নিজ ভাষায় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন।

সবশেষে উপ-হাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস তার বক্তব্যে বলেন, ‘পৃথিবীর সব ভাষাকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের। ভাষা না বাঁচলে সভ্যতা বাঁচবে না।’

বাহরাইনে বাংলাদেশ দূতাবাসে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৪:০৭ পিএম
বাহরাইনে বাংলাদেশ দূতাবাসে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

বাহরাইনে বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযথ মর্যাদায় ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। 

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স একেএম মহিউদ্দিন কায়েস দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির সূচনা করেন।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ওপর আয়োজিত চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা বাহরাইনের ৩০টি স্কুলের ৯০টি চিত্রকর্ম দিয়ে দূতাবাস প্রাঙ্গণে অত্যন্ত সুন্দর একটি প্রদর্শনীর মাধ্যমে দিবসটি পালনে এক অন্য মাত্রা যোগ করে।

এ চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা বাঙালির রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারে এবং এ চিত্রপ্রদর্শনীর মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের মহিমা ও তাৎপর্য সবার কাছে আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। 

চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স কায়েস চিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন।

এর পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভাষাশহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাণী পাঠ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং উন্মুক্ত আলোচনার আয়োজন করা হয়।

মহিউদ্দিন কায়েস বক্তব্যের শুরুতে ভাষা আন্দোলনে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন আমাদের মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নিজস্ব জাতিসত্তা, স্বকীয়তা ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষারও আন্দোলন। ভাষা আন্দোলনের মহিমা ও তাৎপর্য আজ শুধু আমাদের দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে তা আজ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি লাভ করেছে এবং সারাবিশ্বে প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।’

এ সময় তিনি নতুন প্রজন্মের মাঝে একুশের সুদূরপ্রসারী চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি বাংলা ভাষা শেখার প্রতি উৎসাহিত করেন। 

এ ছাড়া, তিনি প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার জন্য বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স ও দল-মতের বিভেদ ভুলে একযোগে জাতির পিতার স্বপ্নের উন্নত, সমৃদ্ধ ও আত্মমর্যাদাশীল ‘সোনার বাংলাদেশ’ তথা প্রধানমন্ত্রীর ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে কাজ করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।

দিবসটি উপলক্ষে বাহরাইনে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (BSMR)-বাংলাদেশ স্কুল’-এর ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে তারা কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করেন। 

চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের মাঝে উপহার বিতরণ করেন।

পরিশেষে ভাষাশহিদদের পাশাপাশি সব শহিদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। 

বাহরাইনে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

ইসরাত চৈতি/অমিয়/