ঢাকা ৬ বৈশাখ ১৪৩১, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও স্মার্ট দেশ হিসেবে সম্মানিত হবে: স্পিকার

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৪, ০২:১৭ পিএম
বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও স্মার্ট দেশ হিসেবে সম্মানিত হবে: স্পিকার
স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী

বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত, সুখী, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট দেশ হিসেবে বিশ্বদরবারে সম্মান অর্জন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বে এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে চলছে।

বুধবার (২৮ মার্চ) জেনেভায় বিশ্ব মেধাস্বত্ব সম্পদ সংস্থার (WIPO) সদর দপ্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মিশন আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্পিকার। 

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দারিদ্র্য হার হ্রাস, শতভাগ বিদ্যুতায়ন, আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও সর্বক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে ২০২১ সালের মধ্যে প্রতিশ্রুত ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন বাস্তবে রূপ দিয়েছে। 

স্পিকার বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসামান্য অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। এ সময় তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা অভিকল্প বাস্তবায়নে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার আহ্বান জানান।

সংবর্ধনা সভায় উপস্থিত অতিথিদের বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানান স্পিকার। 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে জাতিসংঘের জেনেভা কার্যালয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সুফিউর রহমান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সদীপ্ত পদচারণা ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য তুলে ধরেন।  

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের ঈর্ষণীয় সাফল্য সম্বন্ধে সবাইকে অবহিত করেন। তিনি বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব ও পরিবেশ-দায়িত্বশীল ও জ্বালানি সাশ্রয়ী উৎপাদন ব্যবস্থা ও অর্থনীতির বিষয়টির ওপর আলোকপাত করেন। বহুপাক্ষিক কূটনীতি এবং শান্তির লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রয়াস ও অবদান তুলে ধরেন। 

মানবিক কারণে ১.১ মিলিয়ন বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনে সহায়তা করতে তিনি বিশ্বসম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করেন।

মিশন আয়োজিত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার শুরুতে মিশন প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমান। 

তারপর মিশনের কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ কম্যুনিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে নিরবচ্ছিন্ন গণতন্ত্র চর্চা এবং অর্থনৈতিক অভিযাত্রার সুফল পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশের জনগণ। অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রযাত্রা বাস্তবায়নে দেশকে বহুমুখী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ভঙ্গুরতা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা।
 
এ সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধকে উপজীব্য করে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং দেশ ও জনগণের সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। 

সংবর্ধনা সভায় সংসদের চিফ হুইপ, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, সরকারি কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্যরা যোগ দেন। 

প্রায় ৪০০ অতিথি মনোমুগ্ধকর এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে পাঁচজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মান জানানো হয়।

ইসরাত চৈতী/অমিয়/

বাহরাইনে বাংলা নববর্ষ-১৪৩১ উদযাপন

প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:১৭ পিএম
বাহরাইনে বাংলা নববর্ষ-১৪৩১ উদযাপন
মানামায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ ১৪৩১ উদযাপন করা হয়।

বাহরাইনের মানামায় বাংলাদেশ দূতাবাসের আয়োজনে আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ-১৪৩১ উদযাপন করা হয়েছে।

রবিবার (১৪ এপ্রিল) ফন্টানা মাল্টিপারপাস মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাহরাইন পররাষ্ট্র ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, তুরস্ক, নেপাল, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, ব্রাজিল, ইরাক, ফিলিপাইন, মিশর, ইথিওপিয়া, মরক্কো ও জাপানের রাষ্ট্রদূত, আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিইওসহ বিদেশিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। 

এ ছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশি, সাংবাদিক, দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং তাদের পরিবারবর্গ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

নববর্ষ উপলক্ষে বাঙালি সংস্কৃতিকে তুলে ধরার জন্য দূতাবাস মিলনায়তন ও এর আশেপাশে বর্ণিল আল্পনা, ব্যানার, ফেস্টুন, বেলুন ইত্যাদি দিয়ে সুসজ্জিত করা হয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশের জামদানি শাড়ি এবং পান্তা-ইলিশসহ বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প সামগ্রী প্রদর্শন করা হয়। 

বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে সঙ্গে নিয়ে দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স একেএম মহিউদ্দিন কায়েস নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে কেক কাটেন।

চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স তার বক্তব্যে সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলা নতুন বছর সবার জন্য নতুন আশা, সুখ-সমৃদ্ধি ও শান্তি বয়ে নিয়ে আসবে।

বর্ষবরণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক পর্বে বাহরাইনে বাংলাদেশ স্কুলের শিক্ষার্থীরা ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বাংলা নতুন বছরকে স্বাগতম জানান। 

এ পর্বে বাংলা গানের সঙ্গে মনোনুগ্ধকর নৃত্য আমন্ত্রিত অতিথিদের বিমোহিত করে। এছাড়া এ অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ফুসকা ও চটপটির লাইভ স্টেশন এবং সেইসঙ্গে সবাইকে বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠা, মিষ্টান্ন, দইসহ দেশীয় খাবার পরিবশন করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের হাতে হাতে দেশীয় পণ্যের উপহার তুলে দেওয়া হয়।

বিদেশি অতিথিরা এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলার সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে অনেক নতুন তথ্য জানতে পেরেছেন বলে জানান এবং তারা পরিপূর্ণ একটি উৎসবমুখর দিন উদযাপন করেছে মর্মে তাদের মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। 

সবশেষে আমন্ত্রিত অতিথিরা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা দূতাবাসের এমন বর্ণাঢ্য উৎসব আয়োজনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে দূতাবাসকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

সাদিয়া নাহার/অমিয়/

নিউইয়র্কে ১০ সহস্রাধিক মানুষের অংশগ্রহণে বাংলা বর্ষবরণ

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০১:১১ পিএম
নিউইয়র্কে ১০ সহস্রাধিক মানুষের অংশগ্রহণে বাংলা বর্ষবরণ
নিউইয়র্ক টাইমস স্কয়ারে সহস্রকন্ঠে বিশ্ব বাঙালি ১৪৩১ বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে সহস্রাধিক দর্শনার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক টাইমস স্কয়ারে দশ সহস্রাধিক মানুষের উপস্থিতিতে হয়ে গেলো ১৪৩১ বঙ্গাব্দ বরণ। বাঙালির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সহস্রকণ্ঠের গানে বরণ করে নেওয়া হয় বাংলা নতুন বছর। 

বাংলাদেশ সময়ের সঙ্গে মিল রেখে ১৩ এপ্রিল (শনিবার) স্থানীয় সময় দুপুরে টাইমস স্কয়ারে মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে শুরু হয় বর্ষবরণ আয়োজন।

এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের দুই দিনব্যাপী আয়োজন শেষ হয় ১৪ এপ্রিল মধ্যরাতে জ্যাকসন হাইসের ডাইভারসিটি প্লাজায়। 

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের এ আয়োজনে বাংলাদেশিদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন ভারত, থাইল্যান্ড এবং নেপালের শিল্পী ও দর্শনার্থীরা।

বাংলাদেশ থেকে ফোক সম্রাজ্ঞী মমতাজ বেগম এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে এসেছিলেন পার্বতী দাস বাউল। 

একই ডিজাইনের পোশাকে সহস্র মানুষ মেতে উঠেছিলেন আনন্দ উৎসবে। 

নিউ ইয়র্ক টাইমস স্কয়ারে সহস্রকণ্ঠে বিশ্ব বাঙালির ১৪৩১ বাংলা বর্ষবরণের আহ্বায়ক সৈয়দ হাসান ইমাম মঙ্গল শুভাযাত্রা অনুষ্ঠানের উদ্বোধনে বলেন, ‘টাইমস স্কয়ারে হাজার হাজার বাঙালির উপস্থিতিতে মঙ্গল শোভাযাত্রা এবং সহস্র কন্ঠে বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার যে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে বাঙালি অভিবাসীরা, তা অবিস্মরণীয়। এ আয়োজন দেখে পৃথিবীর নানান দেশের বাঙালিরা বর্ষবরণ উদযাপন করবেন সেই স্বপ্ন দেখছি।’

ফোক সম্রাজ্ঞী মমতাজ বেগম রাত পৌনে ১০টায় টাইমস স্কয়ারের মঞ্চে উঠে দর্শক দেখে অভিভূত হয়ে বলেন, কনকনে শীতের মধ্যে হাজার দশেক মানুষ আমার গান শুনতে দাঁড়িয়ে আছেন এটা আমার জন্য অসম্ভব সম্মানের। 

রাত ১০টা পর্যন্ত অনুমতি ছিল সাউন্ডের। অগণিত মানুষের আনন্দ এবং মমতাজ বেগমের গানে মুগ্ধ হয়ে টাইম স্কয়ার পুলিশ ইউনিটের সার্জেন্ট মোহাম্মদ খান মঞ্চে এসে বলেন, আমেরিকায় আপনি বাংলা গানের অ্যাম্বাসেডর। আপনার সম্মানে আমরা সময়ের সীমা তুলে নিলাম। আপনি যতক্ষণ পারেন গান করেন, আমরাও শুনবো। পরে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে মমতাজের গান।

নিউইয়র্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল নাজমুল হুদা বলেন, ইতিহাস সৃষ্টিকারী এই আয়োজন আগামী প্রজন্মকে বাংলা সংস্কৃতি চর্চায় উদ্বুদ্ধ করবে। 

আয়োজক সংগঠন এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল লিটনের চালনায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্ক সিটি মেয়র অফিসের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মীর বাসার। 

তিনি মেয়র এরিক এডামের পক্ষ থেকে বলেন, ‘বাঙালির সর্বজনীন উৎসবের বর্ণাঢ্য এই আয়োজন দেখে আমরা অভিভূত। সকল ধর্ম বর্ণ জাতি গোষ্ঠীর মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিউইয়র্ক সিটিকে আমরা আরও প্রাণবন্ত এবং আনন্দমুখর গড়ে তুলব।’

এ সময় অতিথি হিসেবে নিউইয়র্ক সিটির আরও কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের এম্বাসেডররা বক্তব্য রাখেন। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে, সহস্রকন্ঠে বিশ্ব বাঙালির ১৪৩১ বাংলা বর্ষবরণের প্রধান পৃষ্ঠপোষক আইএফআইসি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সারওয়ার বলেন, ‘বাংলাদেশের কল্যাণে বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশে আইএফআইসি ব্যাংক সব সময় সঙ্গে আছে। আমেরিকার অভিবাসীরা টাইমস স্কয়ারে যে অভূতপূর্ন আয়োজন করেছেন তার সাক্ষী এবং সম্পৃক্ত থাকতে পেরে আমরা গর্বিত।’  

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গোল্ডেন এজ হোম কেয়ারের কর্ণধার শাহনেওয়াজ বলেন, আমেরিকায় বাংলাদেশিরা স্বতন্ত্র একটি অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে। টাইম স্কয়ারের বিশাল এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা বিশ্ববাসীকে বাঙালি সংস্কৃতি সম্পর্কে জানাতে পেরেছি। 

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, ‘গত বছর আমরা শতকন্ঠে নতুন বছরকে বরণ করেছিলাম। এবার হয়েছে সহস্রকন্ঠে। এ আনন্দ আয়োজন অব্যাহত থাকবে। গত তিন মাস ধরে মহিতোষ তালুকদার তাপসের নেতৃত্বে মহড়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে শিল্পী এবং দর্শনার্থীরা অংশগ্রহণ করেছেন। আবহমান বাংলার ঐহিত্যবাহী সংস্কৃতি, নাচ গান ও যাত্রাপালা, কোনো কিছুই বাদ ছিল না আমাদের আয়োজন।’  

তিনি আরও বলেন, ১৪ এপ্রিল জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় সকাল ১১টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ছিল বর্ষবরণ এবং বৈশাখী মেলা। লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশিদের প্রাণকেন্দ্র জ্যাকসন হাইটস। ইতিহাস সৃষ্টিকারী এই আয়োজন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী বাঙ্গালিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল।

অমিয়/

ফিনল্যান্ডে বাংলা নববর্ষ উদযাপন

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:২১ পিএম
ফিনল্যান্ডে বাংলা নববর্ষ উদযাপন

বাংলা নববর্ষ ১৪৩১ উপলক্ষে ফিনল্যান্ডের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘উৎসবে বাঙালি’ আয়োজন করেছে এক মনোরম সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার। 

রবিবার (১৪ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেলে ভানতা মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে থরে থরে সাজানো রকমারি দেশিয় খাবার নিয়ে হাজির হয়েছিলেন প্রবাসী বাঙালিরা। দেখে বলার উপায় নেই এটি দেশ থেকে হাজারো মাইল ‍দূরে বাংলার কোনো আয়োজন।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গানে গানে ফিরে এসেছে দেশের কথা, বৈশাখ বরণের নানা প্রসঙ্গ। এর ফাঁকেই আড্ডা, স্মৃতি রোমন্থন আর কাজের ব্যস্ততায় বহুদিন পর কাউকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশের হইচই আর আনন্দ মেতেছিলেন প্রবাসীরা। 

আধুনিক বাংলা, ফোক, আর বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ডের বাছাই করা গান পরিবেশনের মাধ্যমে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রেখেছিলেন ফিনল্যান্ড প্রবাসী শিল্পীরা। আর স্থানীয় প্রবাসী শিল্পীদের বাদ্যযন্ত্রের মিষ্টি সুর জ্যোতি ছড়িয়েছে পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে।

‘মেলায় যাইরে, মেলায় যাইরে’ এই জনপ্রিয় গানটিতে কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে এক টুকরো বাংলাদেশকে ভানতা মিলনায়তনে নিয়ে এসেছিলেন সহস্র দর্শক।

১৪ এপ্রিলের অনুষ্ঠানে পুরুষদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। নানা ব্যস্ততার মাঝেও নিজ হাতে খাবার, কারুকাজের পিঠা নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বিরিয়ানি, মোরগ চিতই, জিলিপি, আলুর চপ, সবজি পিঠা, নানা জাতের মিষ্টির সমাহার পুরো আয়োজনকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।

প্রতিবারই এমন আয়োজনে বৈশাখকে বরণ করে নেয় ফিনল্যান্ডের প্রবাসীরা।

আভিজাত্যে ও চমকে ভরা এই অনুষ্ঠানের আয়োজনে ছিলেন অনুরূপ কান্তি দাস টিটু, অলক কুমার, বিজয়শ্রী দত্ত, বিপ্লব কুমার।  সঞ্চালনায় ছিলেন মাহফুজ আলম। 

অনুষ্ঠান সহযোগিতায় ছিল সংবাদ২১ডটকম ও ইন্টারন্যাশনাল জার্নালিস্ট অব ইউরোপ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কামরুল হাসান জনি, সুরাইয়া হাসান নাহিন, জাহাঙ্গীর আলম, আফসনা আলম, জামান সরকার, খাদিজা পারভীন, গাজী সামসুল আলম, ইমন আহমেদ, মাহমুদা আক্তার সুমি, জামান ভূঁইয়া, তাসলিমা আক্তার জামান, মহি খান, ইভা খান, জাহিদ ভূইয়া রকি, স্বপ্নীল, লিউ খান, মনিকা খান, শামীম বেপারী, রফিকুল ইসলাম, তায়েবা ইসলাম, সাবরিনা, শাহেদ আলম, নাফরিন নাহিদা, সাইদুর রহমান, অদিতি  প্রমুখ।

জামান সরকার/অমিয়/

অটোয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে নববর্ষ উদযাপন

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:৫৫ পিএম
অটোয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে নববর্ষ উদযাপন
কানাডার অটোয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনায় বাংলা নববর্ষ-১৪৩১ উদযাপন করা হয়েছে।
 
রবিবার (১৪ এপ্রিল) এ উপলক্ষে হাইকমিশনের মিলনায়তনে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. খলিলুর রহমান।
 
এ সময় হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
 
অনুষ্ঠানের শুরুতে হাইকমিশনের কর্মকর্তারা পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ-১৪৩১ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন।
 
অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার তার বক্তব্যে বলেন, পহেলা বৈশাখ একটি সর্বজনীন লোকউৎসব হিসেবে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্যের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ২০১৬ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা মানবজাতির অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া বাংলা নববর্ষ উদযাপনে নতুনমাত্রা যোগ করেছে।
 
তিনি বলেন, বহুত্ববাদ এবং ধর্মনিরপেক্ষতাকে প্রচারের মাধ্যমে মঙ্গল শোভাযাত্রা একটি আবহ গড়ে তুলতে অবদান রাখে যেখানে বিভিন্ন ধর্ম ও জাতি নির্বিশেষে সকলে সহাবস্থান করতে পারে।
 
হাইকমিশনার বলেন, পহেলা বৈশাখ ধর্মীয় উগ্রবাদ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। এই উৎসব আমাদের সমাজের বৈচিত্র্যকে আলিঙ্গন করে বিভক্তির উপর ঐক্য ও সহনশীলতার জয়ের সুস্পষ্ট বার্তা পাঠায়। এই উৎসব একটি অন্তর্ভুক্তির পরিবেশ গড়ে তুলতে সাহায্য করে যেখানে বিভিন্ন মতের মানুষ ঐতিহ্য উদযাপন করতে একত্রিত হয়। এটি পরস্পর সহমর্মিতা জাগায় যা ধর্মীয় উগ্রবাদের উত্থান রোধে অপরিহার্য। বিশ্বব্যাপী পহেলা বৈশাখের বর্ষবরণে বাঙালি জাতি হিসেবে আমাদের মধ্যে স্বজাত্যবোধ এবং বাঙালিয়ানা নতুন করে প্রাণ পায় ও উজ্জীবিত হয়।
 
পরে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
 
অমিয়/

ফিনল্যান্ডে উদযাপিত হচ্ছে ঈদুল ফিতর

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:১২ পিএম
ফিনল্যান্ডে উদযাপিত হচ্ছে ঈদুল ফিতর
ছবি: সংগৃহীত

ঈদ মানেই উৎসব আর আনন্দ। বছর ঘুরে আবার এসেছে ঈদুল ফিতর। এক মাস রোজা রাখার পর ফিনল্যান্ড জুড়ে মুসলমানরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য আর উৎসাহের মধ্য দিয়ে উদযাপন করছেন ঈদুল ফিতর।      

বুধবার (১০ এপ্রিল) ৩০ রোজা পূর্ণ করে ফিনল্যান্ড জুড়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের দিনটি অশেষ তাৎপর্য ও মহিমায় অনন্য। ঈদ আনন্দের আবাহনে আজ ঈদের সকালে সবাই নতুন পোশাক পরেছে। শিশুদের চোখমুখে ফুটে উঠেছে আনন্দ আর উচ্ছ্বাস। তারা সবাই তো এই দিনটিরই প্রতীক্ষায় ছিল গত এক মাস। অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান হলো আজ ১০ এপ্রিল ঝলমল রোদ্দুর উঁকি ও বসন্তের প্রকৃতির রঙে রঙিন হয়ে ফিনল্যান্ডের হেলসিংকি প্রবাসী বাংলাদেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা সমবেত হন ঈদের জামাতে।

ইসলামি রীতি অনুযায়ী রাজধানী হেলসিংকিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঈদের প্রধান দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় মসজিদের আয়োজনে প্রথম জামাতটি হয় সকাল ৮টা ১৫মিনিটে ভানতা কামপো স্পোর্টস সেন্টারে। এতে ইমামতি করেন মসজিদের খতিব মাওলানা বশির আহমেদ।

সকাল ৯টায় অপর জামাতটি অনুষ্ঠিত হাকানিয়েমির মেরি হাকা পাল্লোহাল্লিতে। এতে ইমামতি করেন হেলসিংকির দারুল আমান মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস খান।

ঈদের জামাত শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া মোনাজাত করা হয়। হেলসিংকির সর্বস্তরের প্রবাসী বাংলাদেশিরা জামাত দুটিতে অংশ নেন।

ঈদ জামাতে উল্লেখযোগ্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লিমন চৌধূরী, মো. কামরুল আলম কমল, নাজমুল হুদা, নাসির খান, মাহবুবুল আলম, ফয়েজ আহমেদ ঢালী, মহি খান, আরিফ আহমেদ, রুবেল ভূঁইয়া, কামরুল হাসান জনি, জামান সরকার, জাহাঙ্গীর আলম, আবদুর রশিদ, গাজী সামসুল আলম, শামীম বেপারী, লিও খান, হামিদুল ইসলাম, বদরুল মনির, তাসাওয়াল কবির তারেক, সালেহ আহমেদ সালেক, আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, শেরওয়ান আহমেদ, কামরান আহমেদ, আলুটন মইন, ফাতা মিয়া, আবদুস সহিদ, আনসার আহমেদ রাজু, আবদুল আলি, এরশাদুর রহমান, হাসান আহমেদ, আতাউর রহমান রুহেল, লিটন, মাসুদ, স্বপ্নিল, রাফাত আলী, দবির হোসেন, জিকু, মো. রকিবুল ইসলাম রুবেল, ইমন আহমেদ, নাজিরুল আলম স্বপন, সাব্বির আহমেদ লস্কর, ইমু খান, আবুল কালাম শহিদুল, মো. মহসীন, লাবীব, তাসিন, সালাউদ্দিন, লিমন চৌধূরী, আতাউর রহমান, আকরাম হোসেন প্রমুখ।

বরাবরের মতো এবারও বাংলাদেশিদের ঈদ উৎসবে আছে বিভিন্ন ধরনের দেশি-বিদেশি খাবার। একে অপরের বাড়িতে নিমন্ত্রণ খাওয়া। মাতৃভূমি বাংলাদেশে টেলিফোন করে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও খোঁজ-খবর নেওয়া ইত্যাদি। ঈদের এই আনন্দে একে অপরের বাড়িতে নিমন্ত্রণ খাওয়ার রেওয়াজ একাধারে তিন–চার দিন চলতে থাকে।

মোটকথা মাতৃভূমির মায়া আর দেশে ফেলে আসা স্বজনদের জন্য ভালোবাসা বুকে চেপে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের প্রবাসীরা সবাই পরস্পর ভাগাভাগি করছেন আনন্দ। সুযোগ মতো ফোন, ইন্টারনেটে যোগাযোগ হচ্ছে নিজ নিজ দেশে। অনেকেই অশ্রুসজল হয়ে পড়ছেন শয্যাশায়ী মা-বাবার জন্য, কেউ সন্তানের মুখ মনে করে চোখ মুছছেন। তবে সবকিছু ছাপিয়ে সবাই হাসিমুখেই উদযাপন করছেন ঈদ। 

ইসরাত চৈতী/অমিয়/