ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩১, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

শ্রেষ্ঠ রাঁধুনি পুরস্কার

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৪, ১১:৫৯ এএম
আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২৪, ১১:৫৯ এএম
শ্রেষ্ঠ রাঁধুনি পুরস্কার
অলংকরণ: মাসুম

গত সংখ্যার পর

বন্ধুকে কৃত্রিম রাগে শাসায় রুকু। কিন্তু পায়েল থামে না। বলে 
-ওই দেখ, দুপাশের দোকানির দল দোকানদারি ভুলে কেমন তাকিয়ে আছে। 
রুকু সেদিকে তাকায় না। তবে সে জানে বাড়ির রাস্তার মোড় থেকে আদর্শ কলেজ পর্যন্ত রাস্তার পাশের দোকানিরা তাকে চেনে। সে যখন কলেজে যায় অথবা কলেজ থেকে বাড়িতে ফেরে, তারা তার দিকে, তার সৌন্দর্যের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকে। তবে তাদের এই সৌন্দর্য দর্শনে ঔৎসুক্য আছে, উত্তেজনা নেই সে বেশ বুঝতে পারে। বুঝতে পারে, এইসব লোক তার সৌন্দর্যের পূজারি। তারা কোনোদিন পূজারির গণ্ডি ছাড়িয়ে তাদের স্পর্ধিত হাত সামনে অগ্রসর করবে না। তাই তাদের এই বিভোল চাওয়া সে উপভোগ করে, উপভোগ করে আপ্লুত হয়। 

রাস্তার দুপাশে শিক্ষার্থীরা লাইন ধরে স্কুল-কলেজে যাচ্ছে। তাদের বিচিত্র পোশাক আর বিচিত্রতর কলহাস্যে বোয়ালভাসা নদীর দুই তীর উপচে পড়ছে। দোকানিরা এ সময় বিকিকিনি ভুলে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকেন। স্থানীয় সুশীল সমাজ এ ব্যাপারে ইভ টিজিংকে সংশ্লিষ্ট করে অনেক বিবৃতি দেয় কিন্তু নিছক সৌন্দর্যের প্রতি পক্ষপাতবিহনে এদের অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই- সাফ রায় দিয়ে বাজার সমিতি তথা আদর্শপাড়ার চেয়ারম্যান দোকানিদের অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস দিয়ে দেন- তিনি নিজেও এ দলের একজন কি না। 
রুকু আর পায়েল ধীরে, অতি ধীরে সামনে এগোতে থাকে। 

সূর্য পুকুরপাড়ে অর্জুন কি অশোকগাছের সারি বোয়ালভাসা নদীকে রাস্তার আড়ালে নিয়ে গেছে। পথ এখানে নির্জন। মেয়েদের গতি হয় দ্রুত। রুকু এবং পায়েলও জোর কদমে চলতে থাকে। যেন-বা সাফা মারওয়া পাহাড়ের মাঝখানে চলনশীল মা হাজেরার পায়ের গতি জমজম দর্শনে আচম্বিতে বেড়ে গেছে। 

বনানীর শেষ প্রান্তে মহাসড়কের বাসগুলো দাঁড়িয়ে থাকে। কিছুটা যাত্রী ধরার আশায় আর বেশির ভাগ সাত সকালে চলাচলরত স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের দেখার জন্য। 

তাদের সহজ বক্তব্য- 
ছাত্রীদের চলাচলের সুবিধার্থে তারা বাসের গতি কমিয়ে দেয় অথবা থেমে যায়। কিন্তু চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি রোডে চলা বাসের স্বল্পশিক্ষিত ড্রাইভাররা, তাদের হেলপাররা সুবেশী ছাত্রীদের সঞ্চরণ, তাদের কলহাস্য, চোখের অপাঙ্গে জমা ভ্রূকুটি যে নির্মল আনন্দভরে অনুভব করে তা ছাত্রীরা যেমন জানে, রাস্তার প্রতিটি মানুষও জানে। কিন্তু কেউ কিছু বলে না। 

দীর্ঘদিনের অভ্যাসে এখানকার ছাত্রীরাও বাংলাদেশের অন্য দশটি এলাকার ছাত্রীদের চেয়ে আলাদা হয়ে উঠেছে। একমাত্র রুকু ছাড়া, যে তার সৌন্দর্যের সুবাদে এমনিতে সর্বপরিচিতা হয়ে গেছে, প্রায় সব ছাত্রী নিজেদের নিত্যনতুন উপস্থাপনায় পারদর্শী হয়ে উঠেছে। প্রথম প্রথম তা ছিল বাড়তি বিড়ম্বনা, নারীত্বের নতুন পরিহাস- কিন্তু কালের বিবর্তনে তা এলাকার রসমে পরিণত হয়েছে। এটাই প্রাত্যহিক ব্যাপার এখন। এজন্য ছাত্রীদের মধ্যে নতুন কোনো আনন্দ কি উত্তেজনা ঝিলিক মেরে ওঠে না আর। যেন এভাবেই সেজে বের হতে হয়, এই র্যাম্পের মডেলের মতো সড়কের পাশ দিয়ে আলস্য বিলাসে চলতে হয় বলেই চলা। 

অবশ্য রাস্তা এবং রাস্তার পাশের দর্শক-শ্রোতা, বাসের ড্রাইভার, কন্ডাক্টর আর দোকানি- তাদের উদ্যমে এতটুকু ভাটার টান লেগেছে বলে মনে হয় না। ছাত্রীদের দেখাদেখি নিজেরাও টেরি কেটে, বডি স্লিম শার্ট গায়ে বাসে কি দোকানে এসে সাতসকালে হাজির হয়ে যায়। তারপর চলতে থাকে অপেক্ষার পালা। 

সাড়ে আটটা নাগাদ ছাত্রীদের পথচলা শুরু হয়। নয়টা বাজতে না বাজতে তাদের কলহাস্যে মহাসড়কের দু-কূল উদ্বেলিয়া ওঠে। নতুন ছাত্রীরা নবরসের নতুন আনন্দে বরষার প্রথম বৃষ্টিপাতে উচ্ছল মরালীর মতো গ্রীবা উন্নত করে বিলম্বিত লয়ে মঞ্চে হাঁটার মতো পথ চলতে থাকে। পুরনোরা মুখস্থ গতিতে পথটুকু পার হয় নির্বিকার। কিন্তু দর্শকরা বরাবরের মতো অটল একাগ্রতায় তাদের পথচলা আবিরল অবলোকন করতে থাকে।

তারা শত মেয়েদের মধ্যে কয়েক জনকে অবশ্য আলাদা করতে পারে। আলাদা করেছেও। নাম জানা নেই কারও। তবে তাতে তাদের থোড়াই আসে-যায়। যেমন প্রত্যেকে চেনে কাজী বিলের মাঝামাঝি ধূর দিয়ে যে মেয়েটি বোয়ালভাসার পূর্ব তীরে ওঠে আসে, ‘মালকা বানু’র মতো চেহারা তার আর হাঁটে ‘আনোয়ারা’র মতো। মহাকবি আলাওলের সোনার প্রতিম মেয়ে মালকা বানু আর নজিবুর রহমান সাহিত্যরত্নের ‘আনোয়ারা’ উপন্যাসের নায়িকার বাইরে তাদের কল্পনা বিস্তৃত হতে পারে না। আরেকজনের কথা ইদানীং তারা বলে, ব্রাহ্মণবাড়ি থেকে ঠিক আটটার সময় উঠে আসে সে। লম্বা, বিলোল চাহনি। একেবারে মাটির দিকে তাকিয়ে অহল্যার মতো পথ চলে। তারা তার নাম দিয়েছে সাবিত্রী। 

অবশ্য রুকু এসবের মধ্যে আলাদা। তারা তার সঙ্গে অন্য কারও তুলনা করে না। বাছাই করা সুন্দরীদের প্রত্যেকের জন্য তাদের নিজস্ব সাংকেতিক নাম আছে; যেমন আনোয়ারা, জুলেখা, সাত ভাই চম্পা ইত্যাদি। কিন্তু রুকুকে ওরা নাম দিয়েছে ‘সেই মেয়েটি’। অবশ্য যাকে ঘিরে এ আনন্দ উল্লাস চলে, নিত্য রচিত হয় প্রেমোপাখ্যান, বিংশতি বর্ষীয়া রুকু নামের মেয়েটি আনন্দ-বেদনার এ কাব্যের কিছুই জানতে পারে না। তার দিন যায় দিন যাপনের দায় মেটাতে। 

অশোকবাগানের পর খাঁ সাহেবের বাড়ি। বেড়া দেওয়া উপবনের পেছনে প্রাচীন দোতলা বাড়ি। বনে বিলিম্বি আর বহেরা ধরে থাকে সারা বছর। তার চেয়েও বড় ব্যাপার, বহেরাবৃক্ষ তলে খাঁ সাহেব আরাম চেয়ারে বসে থাকেন দিনের পর দিন। তাঁর কী রোগ- বাত না প্যারালাইসিস- পড়ুয়ারা ঠাহর করতে পারে না। রুকু জানত না, যদি না নিম্নলিখিত কাহিনি ঘটত একদিন : 

এসএসসি পরীক্ষার পর দীর্ঘ বিরতি চলছে। রুকুদের এমন কোনো আত্মীয় নেই যে অন্য সবার মতো সে বেড়াতে যাবে। তা ছাড়া বৃদ্ধ পিতাকে একলা ফেলে সে কোথায় যায়। অগত্যা বাড়িতেই দিন কাটছিল তার। তবে শুধু শুধু দিন কাটানোর মেয়ে রুকু কোনো দিন ছিল না। তার দিন কাটছে সীমিত সাধ্যের মধ্যে যতটুকু সম্ভব সেরা রাঁধুনি হওয়ার স্বপ্নে বিভিন্ন রেসিপির অনুশীলনে আর অতি অবশ্যই কবি পিতার লেখা নতুন নতুন গানে কণ্ঠ দেওয়াতে। 

সেরকম একদিন ভোরবেলা। রাগ খামাজের ওপর পিতার লেখা অসাধারণ এক গানে কণ্ঠ দিচ্ছিল রুকু-
-যারে ভালোবাসি আমি
কেমনে বোঝাই তাহারে-
ভালোবাসা যায় শুধু, 
বলা যায় না রে-
প্রথম অন্তরাতে গিয়ে কবি হাসান আলী টের পেলেন তিন তালে গানটি জমবে ভালো। মেয়ে বলল, কাহারবাতে গাই বাবা? গানের তাল কি সুর পিতা পুত্রীর আবদারের বিষয় কি না ভাবছেন কবি। পাশে নোরা নামের বিড়ালকে জিজ্ঞেস করলেন- 

-তুই কী বলিস? গান কি এভাবে বাপ-বেটির ইচ্ছাতে চলে? 
বিড়াল কী একটা অব্যক্ত আওয়াজ তোলে রুকুর কোলঘেঁষে আরও জাঁকিয়ে বসল। ডানাভাঙা কাকটি গুটিপায়ে এগিয়ে আসে। বোদ্ধা শ্রোতার মতো বসে থাকে লেঝঝোলা পাখিটি। কবি পশু-পাখিদের ভাষা বোঝেন না, তবুও আবেগের বসে বলেন, কী বলিস তোরা? তারপর নিজেই কাহারবা তালে অন্তরা আর সঞ্চারীটুকু দোতারায় ফুটিয়ে তোলেন-

আমি গাইতে পারি মুখের কথা
সইতে পারি বুকের ব্যথা 
কইতে নারি ভালোবাসি রে...
রাতে বন্ধু জাগি একা 
ভাবি যদি হয় গো দেখা 
সকল কিছু দিতাম তাহারে। 
জানি সেও আমারে ভাবে 
ভালোবাসি কে বলিবে 
এমন দ্বন্দ্বে জীবন গেল রে। 

রুকুর মুখ খুশিতে উদ্ভাসিত হয়। অন্তরাটুকু পিতার মনের মতো করে গেয়ে ফেলে। কিন্তু যেই সঞ্চারীতে নামল, গেটে কড়া নাড়ল কেউ। 
পিতা-পুত্রী দুজনই ব্যাকুল আগ্রহে বাড়ির গেটের দিকে তাকিয়ে থাকে। আজ এই অবেলায় কে আসতে পারেন? ওর তো পরীক্ষা কেবল শেষ হলো। এক মাস আগে ফল ঘোষণার কথা নয়। কে হতে পারেন? কী সংবাদই-বা তিনি বহন করে নিয়ে এসেছেন? 

গেট খুলে আবাক হয়ে গেলেন কবি হাসান আলী। হুইলচেয়ারে বসে আছেন খাঁ বাড়ির ইবরাহিম খাঁ। কবি সালাম দেওয়ার আগেই প্রশ্নের মুখোমুখি হলেন-

-আপনার মেয়ে কোথায়? তার কী হয়েছে? 
কবি প্রথমে ভয় পেয়ে গেলেন। মেয়ের কোনো বিপদ হয়নি তো! পরে সাহস সঞ্চয় করে বললেন-ওই তো, আমারা দুজন মিলে একটা গান তুলছিলাম, বলতে বলতে লজ্জায় তার কণ্ঠ খাদে নেমে আসে। 

খাঁ সাহেব বললেন, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ বাঁচানেওয়ালা। 
বাপ-বেটি দুজনই দুই আগন্তুকের দিকে অদ্ভুত তাকিয়েছিল। তারপর আগন্তুক হাসিতে ভেঙে পড়লেন। তাঁর মেয়েই কাহিনি সবিস্তারে বলল- 
-ক্লাস সিক্স থেকে ক্লাস টেন পর্যন্ত টানা ছয় বছর প্রতি দিন একই সময়ে ঠিক সাড়ে আটটার সময় তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে স্কুলে গেছে রুকু। পক্ষাঘাতগ্রস্ত খাঁ সাহেব বাড়ির সামনে ভোরের রোদে অপেক্ষা করতেন প্রতিদিন আর রুকুকে দেখলে হাঁক দিয়ে বলতেন, মেয়েটি গেল, আমার ওষুধ নিয়ে আয় মা। 

রুকু আর তার পিতা হাসান আলী তন্ময় হয়ে শুনছিল- 
রুকু ছিল খাঁ সাহেবের কাছে ঘণ্টার মতো। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর এ ঘণ্টায় অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। অথচ তার পরিচয় পর্যন্ত তিনি জানতেন না অথবা জানার তাগিদ বোধ করেননি কোনো দিন। তাঁর নিশ্চিত বিশ্বাস ছিল, সে যুগ যুগ ধরে এভাবে প্রতিদিন ঠিক সাড়ে আটটার সময় স্কুলে যেতে থাকবে আর তিনি তার আগমনের ঘণ্টা ধরে সকালের ওষুধ খেতে থাকবেন। মেয়েটি যে একদিন বড় হবে, তার স্কুলের পড়াশোনার একদিন হবে সমাপ্তি অথবা বিয়ে থা হয়ে অন্যত্র সে করবে ঘরবসতি- এসব তাঁর চিন্তাতেই ছিল না। 

চলবে...

প্রথম পর্ব

দ্বিতীয় পর্ব

তৃতীয় পর্ব

চতুর্থ পর্ব

পঞ্চম পর্ব

ষষ্ঠ পর্ব

সপ্তম পর্ব

অষ্টম পর্ব

নবম পর্ব

দশম পর্ব

সুবর্ণরেখা

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪, ০১:০৮ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৪, ০১:০৮ পিএম
সুবর্ণরেখা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্যের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই বাংলা উপন্যাসের সার্থক রূপায়ণ ঘটে। ইতিহাস ও রোমান্সকে তিনি উপন্যাসের বিষয়বস্তু হিসেবে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। মনস্তাত্ত্বিকতাও তার উপন্যাসে গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলা ভাষাভাষী পাঠক তার উপন্যাসের মাধ্যমে এক নতুন জগতের সন্ধান পান। যে জগৎ তাদের নিজস্ব। কিন্তু তা অচেনা ও অজানা ছিল। অথবা প্রকাশের আড়ালেই পড়েছিল। তিনিই সর্বপ্রথমে হাস্যরসকে সাহিত্যের উচ্চশ্রেণিতে উন্নীত করেন। তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের সাহিত্য সম্রাট। সাহিত্য সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘যদি মনে এমন বুঝিতে পারেন যে, লিখিয়া দেশের বা মনুষ্যজাতির কিছু মঙ্গল সাধন করিতে পারেন, অথবা সৌন্দর্য সৃষ্টি করিতে পারেন, তবে অবশ্য লিখিবেন। যাঁহারা অন্য উদ্দেশ্যে লেখেন, তাঁহাদিগকে যাত্রাওয়ালা প্রভৃতি নীচ ব্যবসায়ীদিগের সঙ্গে গণ্য করা যাইতে পারে।’...

এই সপ্তাহের নতুন বই

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪, ০১:০৬ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৪, ০১:০৬ পিএম
এই সপ্তাহের নতুন বই

বই এমনই এক দর্পণ, যা মনের ইতিহাস সঞ্চয় করে। যারা সাধারণের ঊর্ধ্বে উঠতে চায় তাদের জন্য বই পড়ার বিকল্প নেই। ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক প্রতিভা বসু বলেছেন, ‘বই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ আত্মীয়, যার সঙ্গে কোনদিন ঝগড়া হয় না, কোনদিন মনোমালিন্য হয় না।’...

আমাদের চিন্তাচর্চার দিক্-দিগন্ত
যতীন সরকার
শ্রেণি: সাহিত্য ও সাহিত্যিক বিষয়ক প্রবন্ধ
প্রকাশনী: সৌম্য প্রকাশনী, ঢাকা
প্রকাশকাল: প্রথম প্রকাশ, ২০২৪
পৃষ্ঠা: ১৬০; মূল্য: ৪৫০ টাকা

দুর্দান্ত পাণ্ডিত্যপূর্ণ, দুঃসাধ্য সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ থাকে যেসব গ্রন্থে, সেসবেরই পরিচিতি ‘গবেষণামূলক গ্রন্থ’ রূপে। অপণ্ডিত জনসাধারণ সেসব গ্রন্থের পাতা উল্টাতেও সাহসী হয় না, গ্রন্থাকারদেরও দূর থেকেই ভীতিমিশ্রিত ভক্তি প্রদর্শন করে। পাণ্ডিত্যের প্রতি ভীতি তো চিরকালই অপণ্ডিতদের মজ্জাগত। পণ্ডিত গ্রন্থাকারগণও ‘জনতার জঘন্য মিতালি’ মোটেই পছন্দ করেন না। আমজনতার ছোঁয়া বাঁচিয়ে তারা অবস্থান করেন পাণ্ডিত্যের খাশ কামরায়। গবেষক ও গবেষণাগ্রন্থ সম্পর্কে প্রচলিত এই ধারণাগুলো মোটেই অমূলক নয়। তবে সব ক্ষেত্রেই ব্যতিক্রম আছে। এমন কিছু গবেষকও আছেন যারা পাণ্ডিত্যের উঁচু মিনারে বসে থেকে জনতার প্রতি অবজ্ঞার দৃষ্টিতে তাকান না, বরং জনতার প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই তারা গবেষণাকর্মে নিরত হন। এই গবেষণা গ্রন্থে ১১টি প্রবন্ধ রয়েছে, যা পাঠককে আকৃষ্ট করবে।...

বাংলার এবং জীবনানন্দের শালিকেরা
সৌরভ মাহমুদ
শ্রেণি: পরিবেশ ও প্রকৃতি: প্রবন্ধ ও অন্যান্য
প্রকাশনী: মাছরাঙা প্রকাশন, ঢাকা
প্রকাশকাল: প্রথম প্রকাশ, ২০২৪
পৃষ্ঠা: ৯৬; মূল্য: ৩৯০ টাকা

‘শালিক শালিক শালিক/ ওরা রোদে পোড়ে ছায়ায় ঘোরে/ ওরা রৌদ্র ছায়ার মালিক’। শামসুর রাহমান ওদের রৌদ্র ছায়ার মালিক বানালেও আসলে ওরা সমগ্র রূপসী বাংলার মালিক। কোথায় শালিক নেই! ওদের বিচরণ সর্বত্র। শালিক বাংলার এক প্রধান গায়ক পাখিও। ওদের সুরেলা সংগীত বনের নিবিড়তাকে মধুময় করে তোলে। জীবনানন্দের কবিতায় সেই ব্যাকুলতা ফুটে উঠেছে বারবার। তার লেখায় অসংখ্যবার শালিকের প্রসঙ্গ এসেছে। সৌরভ মাহমুদ এ কথাগুলোই তুলে এনছেন তার ‘বাংলার এবং জীবনানন্দের শালিকেরা’ গ্রন্থে।...

হাওয়ার বকেয়া হিসাব
মোস্তাফিজ জুয়েল
শ্রেণি: কাব্যগ্রন্থ
প্রকাশনী: দেশ পাবলিকেশন্স, ঢাকা
প্রকাশকাল: প্রথম প্রকাশ, ২০২৪
পৃষ্ঠা: ৬৪; মূল্য: ২০০ টাকা

‘হাওয়ার বকেয়া হিসাব’ গ্রন্থে সংকলিত কবিতাগুলোর ভাষা সহজ-সরল। সব শ্রেণির পাঠকের সঙ্গে সহজেই সংযোগ স্থাপনে সমর্থ। বিষয়বস্তু জীবনঘনিষ্ঠ, যাপিত জীবনের নির্যাস। পাঠ করলেই বোঝা যায় ভবিষ্যতের মানুষের জন্য বর্তমান সময়কে লিখে রাখা হয়েছে গদ্য ছন্দে। এই সময়ের পাঠক কবিতাগুলো পাঠের মধ্য দিয়ে বর্তমান সময়কে পুনর্মূল্যায়ন করার প্রসঙ্গ খুঁজে পেতে পারেন। ভবিষ্যতের পাঠক কবিতার রসের মধ্য দিয়ে পাবেন ইতিহাস আবিষ্কারের আনন্দ। এই সময়ের মানুষের ভাবনা, সভ্যতার বিনির্মাণ, মানুষের মন, প্রেম ও ভালোবাসা এমনকি ভাষাহীন প্রাণের কথাও ধরা হয়েছে এই কাব্যগ্রন্থে, ধরা হয়েছে বাঙালির ইতিহাস, আকাঙ্ক্ষা ও প্রাপ্তির তফাৎ।…

The Housemaid is Watching 
দ্য হাউসমেইড ইজ ওয়াচিং
ফ্রিডা ম্যাকফাডেন
প্রকাশনী: বুকাউচার, আমেরিকা    
প্রকাশকাল: ১১ জুন ২০২৪
পৃষ্ঠা: ৩৬৪; মূল্য: ৫.৯৯ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের কথাসাহিত্যিক ফ্রিডা ম্যাকফাডেন পেশায় একজন চিকিৎসক। ব্রেইন বিশেষজ্ঞ ম্যাকফাডেন প্রধানত সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার লিখে থাকেন। তার সব উপন্যাসই বেস্ট সেলার। তার নতুন উপন্যাসের নাম ‘দ্য হাউসমেইড ইজ ওয়াচিং’। এ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র মিলি হাউসমেইডের কাজ ছেড়ে দিয়ে স্বামী-সন্তান নিয়ে উপশহরের দিকে নিরিবিলি জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নেয়। প্রতিবেশীদের চেনাজানার উদ্দেশে তার এক প্রতিবেশী মিসেস লোয়েলের বাড়িতে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেয় মিলি। সেখানে এক মহিলা মিলিকে প্রতিবেশীদের সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়। মিলির মনে খটকা লাগে: এত সুন্দর একটা স্বর্গীয় জায়গাও বিপজ্জনক হতে পারে!

Swan Song
সোয়ান সং
এলিন হিল্ডারব্যান্ড
প্রকাশনী: লিটল ব্রাউন অ্যান্ড কোম্পানি, আমেরিকা    
প্রকাশকাল: ১১ জুন ২০২৪
পৃষ্ঠা: ৩৮০; মূল্য: ১৪.৯৯ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের কথাসাহিত্যিক এলিন হিল্ডারব্যান্ড এক সময় প্রকাশনা ও শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ পর্যন্ত ৩০টির বেশি উপন্যাস লিখেছেন তিনি। তার বেশির ভাগ উপন্যাসই বেস্ট সেলার। তার সাম্প্রতিক উপন্যাসের নাম ‘সোয়ান সং’। প্রধান চরিত্র এড কাপানেশের ঘটনা নিয়ে তৈরি হয়েছে এ উপন্যাসের কাহিনি। নানটাকেটের পুলিশ প্রধান হিসেবে ৩০ বছর কাজ করার পর আর কয়েক দিনের মধ্যেই অবসরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এড। নানটাকেটে আসার পর থেকে এখানকার ক্লাবে প্রবেশের জন্য সাধ্যমতো অনেক কিছুই করার চেষ্টা করে যাচ্ছে রিচার্ডসন পরিবার। তাদের ইয়টে পার্টির আয়োজন করে রিচার্ডসন পরিবার। তখনই দেখা যায়, তাদের বাড়িটা পুড়ে ছাই হয়ে গেল। এডের ব্যক্তিগত সহকারী এবং তার মেয়ের বন্ধুকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। এড এবার অবসরে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা বাতিল করে। তদন্তের কাজ নিজে করার চিন্তা করে সে।

ঘুমের নদী

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪, ১২:৫১ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৪, ১২:৫১ পিএম
ঘুমের নদী
অলংকরণ: নাজমুল আলম মাসুম

১.
শিয়রে থাকা ঘুমের নদীটার নাম চন্দনা
সে একা চুপচাপ থাকে
হিজলের রেণু, ঘ্রাণ গায়ে মাখে
কচুরি ফুলের শোভায় শোভিত হয়, মন্দ না।

ডাহুকেরা ছানা লয়ে সাঁতরে যায় এপাড় হতে
লতাগুল্মে কত পাখি বাঁধে ঘর
স্বপ্ন ফলায় রাশি রাশি কিষানির চর
নাইতে নেমে কিশোরীরা ভেলা টানে উল্টো স্রোতে।

২.
লালকোর্তা পরে মাষকলাইর খেতে শুয়ে
লাল-সবুজের পতাকা হতে চেয়েছি
রমণীর কপালের ফোঁটায় পেয়েছি
গোধূলির সূর্য আঁকা বাংলার প্রতিচ্ছবি।

পাখিদের ঘরে ফেরা, পাখা ঝাঁপটানো শেষে
ষোড়শীর কোলে আনা ছাগলের বাছুর
পথিকের মন ভেঙে চুরমাচুর
ফাগুনে আগুন লাগে বনে, ফুল গতরে মেশে।

খুন হয় কত স্বপ্ন নারঙ্গী কাঁটায়
প্রেমিক রূপে কত ন্যাকামি
আসলে কে মন খাটায়!

একাল সেকালের শীতরজনী

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪, ১২:৪৯ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৪, ১২:৪৯ পিএম
একাল সেকালের শীতরজনী
অলংকরণ: নাজমুল আলম মাসুম

গভীর শীতের রাতে ব্যালকনিতে দাঁড়ালেই 
কোনো বহুদূরবর্তী দেশ-দেশান্তর পেরিয়ে, 
ভুলে যাওয়া কবেকার কোনো প্রিয় মানুষের 
এক চিলতে নিশ্বাস মিশিয়ে, 
কুয়াশার গন্ধ গায়ে মেখে 
তিরতির করে আসে 
হৃদয় কাঁপিয়ে দেওয়া শীতল বাতাস। 
কফির মগে চুমুক দিতে হয় কাঁপুনি নিয়েই
আকাশটাও যেন মহাকাশ পরিমাণ 
অনিশ্চয়তা নিয়ে মাথার ওপর 
ঠায় দাঁড়িয়ে। 

আজ থেকে এক শ বছর আগে 
আমাদেরই অগ্রজ বংশধররা
ঠিক এই জায়গায় দাঁড়িয়ে কফির কাপে 
উষ্ণতা খুঁজতে খুঁজতে এভাবেই উপভোগ
করেছিলেন শীতের রজনী। 

একইরকমভাবে আর মাত্র এক শ বছর পর 
একই অনুভূতি রচিত হবে অন্য প্রজন্মের হাতে। 
অন্য কোনো উপমায় সেজে উঠবে 
ঠিক এই রাতটাই! 

শতবর্ষ পরে নতুন প্রজন্ম, প্রকৃতি পরিবেশ ও
নতুন ভাষার আনাগোনা 
নতুন কবিতায় ভর করে
তখনও কি রবীন্দ্রনাথ নজরুল কথা কবে।
নতুন ভাষার শিশু বোল কি
আমি কি দেখতে পাব বা
শুনতে পাব?

ভ্যানগগের দুর্গ

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪, ১২:৪৭ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৪, ১২:৪৭ পিএম
ভ্যানগগের দুর্গ
অলংকরণ: নাজমুল আলম মাসুম

ভ্যানগগ নিজের জন্য বানালেন এক দুর্গ
তার ভিতগুলো মেঘের
দেয়াল নক্ষত্রের 
আকাশের টুকরো দিয়ে ছাদ
চাঁদ দিয়ে চিমনি
আর আঙিনা পাথরের ঢেউ দিয়ে
এবং সূর্যরশ্মি দিয়ে জানালা
বৃষ্টি দিয়ে প্রাচীর 

গাছগুলো শিশিরের 
সিংহদ্বার হলো রঙধনুর
শূন্যতা দিয়ে ঝাড়বাতি 
প্রবেশ পথের দুপাশে বুনে দেওয়া হলো বরফের ঘাস
নিযুক্ত হলো বাতাসের প্রহরী 
আর নৈঃশব্দ্য দিয়ে তৈরি হলো ঘণ্টা 
বজ্রনিরোধক বিস্ময় দিয়ে

শেষ হলো সব কাজ
কিন্তু তিনি ঢুকলেন না দুর্গে
বেরিয়ে পড়লেন চিরদিনের জন্য উত্তরমেরুর নিঃসঙ্গ পৃথিবীতে