ঢাকা ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০, শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪
Khaborer Kagoj

জ্বর থেকে নিরাপদে থাকুন

প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৩, ১০:২২ এএম
জ্বর থেকে নিরাপদে থাকুন

হঠাৎ করে জ্বর হওয়ার অভিজ্ঞতা কম-বেশি সবারই আছে। অনেকের জ্বর দুই বা তিন দিন পরে ভালো হয়ে যায়। অনেককে দীর্ঘদিন ভুগতে হয়। জ্বরের কারণে হাসপাতালে ভর্তির অভিজ্ঞতাও রয়েছে কারও কারও। বিবিসি অবলম্বনে জ্বর নিয়ে জানাচ্ছেন ফখরুল ইসলাম।

জ্বর কী?
শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে বা উচ্চ তাপমাত্রাকে জ্বর বলা হয়। মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শরীরের তাপমাত্রা এর বেশি হলেই তখন তাকে জ্বর বলা হয়ে থাকে। চিকিৎসকরা বলেন, জ্বর আসলে কোনো রোগ নয়, বরং এটি রোগের একটি লক্ষণ বা উপসর্গ। ফলে জ্বর হওয়াকে শরীরের ভেতরের কোনো রোগের সতর্কবার্তা বলা যেতে পারে। অনেক সময় সেটা সর্দি-কাশির মতো সাধারণ সংক্রমণের কারণে হতে পারে, আবার অনেক সময় গুরুতর কোনো রোগের উপসর্গও হতে পারে।

জ্বর কেন হয়?
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শরীরের ভেতরে যখন কোনো জীবাণু আক্রমণ করে, সেটা ঠেকাতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বিভিন্ন কোষ থেকে পাইরোজেন নামক এক ধরনের পদার্থ নিঃসরণ করে তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে লড়াই করতে শুরু করে। এ কারণে জ্বরের অনুভূতি হয়। এ ছাড়া অনেক কারণে জ্বর হতে পারে। সবচেয়ে কমন হলো ঠাণ্ডা লেগে জ্বর হওয়া বা সর্দি-কাশির কারণে জ্বর।

এর বাইরে শরীরের ভেতরে কোনো কারণে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের আক্রমণ হলে, অর্থাৎ ইনফেকশন হলে জ্বর হতে পারে। প্রোটোজোয়া বা ফাঙ্গাস ইনফেকশনের কারণেও জ্বর হতে পারে। যেকোনো ধরনের ম্যালিগনেন্সি বা ক্যানসারের কারণেও জ্বর হতে পারে। টিকা নিলে, ফোঁড়া বা টিউমার হলে, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, প্রস্রাবের রাস্তায় ইনফেকশন হলে, পিরিয়ডের কারণে, আকস্মিক ভয় পেলে বা মানসিক আঘাত পেলেও জ্বর হতে পারে। করোনাভাইরাস, ডেঙ্গু, টাইফয়েড বা ম্যালেরিয়ার মতো রোগেরও প্রাথমিক লক্ষণ জ্বর আসা।

জ্বরের প্রকার ভেদ
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় জ্বরকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
কন্টিনিউড: কেউ জ্বরে আক্রান্ত হলে ২৪ ঘণ্টায় যখন শরীরের তাপমাত্রা এক ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বা ১.৫ ফারেনহাইট তারতম্য হয়, কিন্তু জ্বর পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় আসে না, সেটাকে বলা হয় কন্টিনিউড জ্বর।
রেমিটেন্ট: যখন ২৪ ঘণ্টায় জ্বরের মাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৩ ফারেনহাইটের মধ্যে তারতম্য হয়, সেটাকে বলে রেমিট্যান্ট জ্বর।
ইন্টারমিটেন্ট: যখন জ্বর দৈনিক কয়েক ঘণ্টা করে শরীরে থাকে, আসে এবং যায়, তখন তাকে বলে ইন্টারমিটেন্ট জ্বর।

কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে?
অনেক সময় জ্বরের কারণ রোগী নিজেই বুঝতে পারেন। যেমন বৃষ্টিতে ভেজার কারণে জ্বর এলে, ঋতু পরিবর্তনের সময় সর্দি-কাশির সঙ্গে জ্বর থাকলে- সেটা কয়েকদিন পরেই ভালো হয়ে যায়। এ ধরনের জ্বরের সঙ্গে সর্দি, কাশি বা ঠাণ্ডা থাকতে পারে। এ রকম জ্বরে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

তবে আপাতদৃষ্টিতে কোনো কারণ ছাড়াই যদি জ্বর হয়, তখন সেটাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। কারণ সেটা গুরুতর কোনো রোগের উপসর্গ হতে পারে। যদি দেখা যায়, একটানা অনেকদিন জ্বর থাকছে অথবা শরীরের তাপমাত্রা খুব বেশি হয়ে যাচ্ছে, তখন দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া কতটা ঠিক?
জ্বর হলে নিজে নিজে প্যারাসিটামল বা অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ অনেকেই কিনে খান। জ্বরের প্রথমদিকে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ অনেক সময় চিকিৎসকরাও খাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ কোনো ক্রমেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া উচিত নয়।

তাপমাত্রা স্বাভাবিক কিন্তু জ্বর জ্বর ভাব কেন হয়?
অনেক সময় জ্বর জ্বর ভাব লাগে কিন্তু থার্মোমিটারে মাপলে জ্বর আসে না। এ ধরনের রোগকে ফিভারিশ ফিলিং বলা হয়। রক্তশূন্যতার কারণে এ রকম হতে পারে। উদ্বেগ বা অতিরিক্ত চিন্তার কারণে সেটা হতে পারে। আবার অনেক সময় শুধুমাত্র মানসিক কারণেও হতে পারে।

মাথায় পানি দেওয়া বা গোসল করা
শুধু মাথায় পানি দিলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে আসে না। জ্বর হলে সারা শরীর সাধারণ ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে দিতে হবে। কারণ সারা শরীরের মধ্যে মাথা খুব ছোট একটি অংশ। ফলে শুধু মাথায় পানি দিলে উপকার পাওয়া যাবে না। সংক্রমণের ঝুঁকি না থাকলে সাধারণ জ্বরে গোসল করলে কোনো ক্ষতি হয় না।

জ্বরের ক্ষেত্রে পরামর্শ
যে কারণেই জ্বর হোক, চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হওয়া পর্যন্ত নিজেকে নিরাপদ রাখতে যা করতে হবে।

বিশ্রামে থাকা: জ্বর হলে শরীরের ভেতরে থাকা জীবাণুর বিরুদ্ধে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা লড়াই করতে শুরু করে। এ সময় শরীরকে পরিপূর্ণ বিশ্রাম দেওয়া উচিত।
প্রচুর পানীয় পান করা: প্রচুর পরিমাণে পানি ও ফলের রস পানের মাধ্যমে শরীরের পানিশূন্যতা রোধ করা যায়। বিশেষ করে লেবুর পানি ও গরম পানি পান করা যেতে পারে।
পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ: জ্বরের সময় অরুচি ভাব তৈরি হলেও ফলমূল বা পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত। তাহলে শরীর রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো শক্তি পায়।
উষ্ণ পরিবেশে থাকা: জ্বরের সময় শুষ্ক ও উষ্ণ পরিবেশে থাকতে হবে। এই সময় পরিষ্কার ও উষ্ণ পোশাক পরতে হবে। বিশেষ করে প্রসূতি বা অস্ত্রোপচারের পর অবশ্যই পরিষ্কার ও উষ্ণ কক্ষে থাকতে হবে।

জাহ্নবী

কিডনি ভালো আছে কি না জানুন

প্রকাশ: ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৫০ পিএম
কিডনি ভালো আছে কি না জানুন

কিডনির কাজ

কিডনি প্রধানত রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ, অতিরিক্ত পানি এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক পদার্থ শোধন করে। এই টক্সিনগুলো প্রথমে মূত্রাশয়ে জমা হয়, যা পরে প্রস্রাব আকারে বের হয়। এ ছাড়া রক্তের পটেনশিয়াল অব হাইড্রোজেন ব্যালান্স (পিএইচ) বজায় রাখে, যা সুস্থ থাকার জন্য খুব জরুরি।

এ ছাড়া কিডনির কাজ হলো লবণ ও পটাসিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, হরমোন তৈরি করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, লাল রক্ত কোষের উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ, ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করা ইত্যাদি।

কিডনির ক্ষতি হয় যখন 
অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ওষুধজনিত, বংশগত, বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি কিছু অসুখের কারণে কিডনির ক্ষতি হতে পারে বা কিডনির রোগ হতে পারে। কিডনি রোগের কারণে দুর্বল হাড়, স্নায়ুর ক্ষতি এবং অপুষ্টিসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যাও তৈরি হতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রোগটি আরও খারাপ হলে কিডনি তার কাজ পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে।

কিডনিতে পাথর, গ্লুমেরুলোনফ্রাইটিস (কিডনির ফিল্টার স্ফীত হয়ে দাগ পড়া), পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিজ (বংশগত), মূত্রনালির নিম্নাংশ আক্রান্ত হওয়া বা সিস্টাইটিস, মূত্রনালির ঊর্ধ্বাংশ আক্রান্ত হওয়া বা পায়লোনেফ্রাইটিস ইত্যাদি হলো কিডনির কিছু রোগ।

নীরব ঘাতক
প্রথম দিকে তেমন উপসর্গ থাকে না বলে কিডনি রোগকে নীরব ঘাতক বলা হয়। যখন জটিলতা তৈরি হয় তখন মূলত লক্ষণ প্রকাশ পায়। সাধারণত দুটি কিডনির সত্তর থেকে পঁচাত্তর ভাগ কার্যকারিতা নষ্ট হওয়ার পরই কিছু উপসর্গ যেমন- ক্ষুধামান্দ্য, খাবারে অরুচি, রাতে প্রস্রাব করার প্রবণতা, বমি বমি ভাব বা বমি, শরীর ক্রমান্বয়ে ফ্যাকাশে হওয়া, শারীরিক দুর্বলতা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়।

এ ছাড়া কোনোরকম চর্মরোগের উপসর্গ ছাড়াই শরীর চুলকায়, অতিরিক্ত হেঁচকি ওঠে এবং অনেক ক্ষেত্রে খিঁচুনি হতে পারে। শেষ পর্যায়ে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, ঝিমানো ভাব হয়, এমনকি রোগী জ্ঞানও হারিয়ে ফেলতে পারে।

ধাপ পাঁচটি
কিডনি রোগের পাঁচটি স্টেজ বা ধাপ রয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে উপযুক্ত চিকিৎসা নিলে কিডনি রোগ সম্পূর্ণ সেরে যায়। তবে পরবর্তী জীবনে জীবনধারা পরিবর্তন করে চলতে হয়। যেমন কম লবণযুক্ত খাবার, চিনি, ফাস্টফুড এড়িয়ে চলা, চিকিৎসকের পরামর্শে নির্দিষ্ট ওষুধ সেবন ইত্যাদি করতে হয়।

তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপে পৌঁছে গেলে কিডনি রোগ পুরোপুরি ভালো করা যায় না। তবে সঠিক চিকিৎসায় পাঁচ থেকে সাত বছরের জন্য রক্তের ক্রিয়েটিনিনের মাত্রার বৃদ্ধি ঠেকানো যায়।

পঞ্চম ধাপ হলো, এন্ড স্টেজ রেনাল ফেইলিওর (ইএসআরডি) বা কিডনি বিকলের সর্বশেষ ধাপ। এই ধাপে পৌঁছে গেলে রোগটির বিস্তার আর রোধ করা যায় না। তখন প্রচলিত মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন অনুযায়ী নিকটাত্মীয় কিডনিদাতার কাছ থেকে কিডনি নিয়ে প্রতিস্থাপন করা যায় (তবে টিস্যু টাইপিংয়ে মিল থাকতে হয়)। আর কিডনিদাতা না পেলে আমৃত্যু হেমোডায়ালিসিস অথবা সিএপিডি চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি চিকিৎসা পদ্ধতি।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা
কারও কিডনি রোগ হোক বা না হোক, কিডনির কার্যকারিতা ঠিক আছে কি না তা জানা দরকার। এ জন্য বছরে অন্তত একবার নিচের পরীক্ষাগুলো প্রতিটি মানুষের করা উচিত।

সিরাম ক্রিয়েটিনিন: কিডনি কতটুকু কাজ করছে এটা জানতে সিরাম ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একে বলা হয় কিডনি মার্কার। এই পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যায় কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না অথবা কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রক্তের এই পরীক্ষাটির জন্য কোনো পূর্বপ্রস্তুতির দরকার হয় না। যেকোনো সময় করা যায়। ২০০ থেকে ৪০০ টাকা খরচ করে এই পরীক্ষা করা সম্ভব।

ইউরিন আর/ই: প্রস্রাবের সঙ্গে অ্যালবুমিন যেতে থাকলে বা নির্গত হলে তা কিডনির জন্য বেশ ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন পর্যন্ত অ্যালবুমিন নির্গত হতে থাকলে একপর্যায়ে কিডনি বিকল হয়ে যায়।

সমস্যা হলো, প্রস্রাব করার সময় এটা বোঝার উপায় নেই যে প্রস্রাবের সঙ্গে আদৌ কারও অ্যালবুমিন নির্গত হচ্ছে কি না। এটা কোনো অনুভূতিরও সৃষ্টি করে না, এর কোনো রংও নেই। শুধু ল্যাবরেটরিতে মূত্র পরীক্ষার মাধ্যমে এটা জানা যায়। মূত্র পরীক্ষায় সমস্যা পাওয়া গেলে এবং শুরুতে চিকিৎসা নিলে ভালো থাকা যায়। ইউরিন যেকোনো সময় পরীক্ষা করা যায়, খরচও কম।

আল্ট্রাসনোগ্রাম: কিডনি সুস্থ রয়েছে কি না, তা জানার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা কিডনির আল্ট্রাসনোগ্রাম করা। এর মাধ্যমে জানা যায়, কিডনিতে কোনো পাথর রয়েছে কি না, কিডনিতে কোনো ধরনের সিস্ট রয়েছে কি না, কিডনির আকার কেমন বা এর কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না ইত্যাদি।

প্রস্তুতি হিসেবে সকালে খালি পেটে প্রস্রাবের বেগ নিয়ে এই পরীক্ষাটি করাতে পারলে ভালো।

আরও কিছু পরীক্ষা: এ ছাড়া কারও ডায়াবেটিস আছে কি না, তা জানতে অভুক্ত অবস্থায় ও খাওয়ার পর রক্ত পরীক্ষা করা উচিত। তিনি উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন কি না, তাও পরীক্ষা করতে হবে। কেননা ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে তেমন জটিলতা প্রকাশ পায় না। এগুলো নীরব ঘাতকের মতো কাজ করে।

এগুলো খুবই সাধারণ পরীক্ষা এবং তা দেশের যেকোনো স্থান থেকেই করা সম্ভব। দরকার শুধু সচেতনতা। ইচ্ছা করলে পরিবারের সবাই বছরে অন্তত একবার উপরোক্ত পরীক্ষাগুলো করাতে পারেন।

অনুলিখন: হৃদয় জাহান

লেখক: প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি
কিডনি ফাউন্ডেশন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট

জাহ্নবী

 

রোধ করুন মুখের ঘা

প্রকাশ: ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৪৫ পিএম
রোধ করুন মুখের ঘা

মুখের ঝিল্লি খুব সংবেদনশীল এবং স্পর্শকাতর। বিভিন্ন কারণে এই ঝিল্লিতে আলসার বা ঘা হতে পারে। খুব সহজেই শারীরিক পরীক্ষা করে এগুলো নির্ণয় করা যায়। এমনকি কোনো ধরনের রক্ত পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয় না। মাই উপচার অবলম্বনে বিস্তারিত জানাচ্ছেন মো. রাকিব

মুখের ঘায়ের উপসর্গ
গালের বা ঠোঁটের ভেতরের দিকে, এমনকি জিভের ওপরে মাউথ আলসার দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে একই সঙ্গে একাধিক মাউথ আলসার হতে পারে। এটা হলে সাধারণত জায়গা ফুলে ওঠে, ক্ষতের চারপাশে লাল হয়ে ওঠে। ক্ষতটির কেন্দ্রটি হলুদ বা ধূসর রঙের হয়ে থাকে।

মাউথ আলসারের অত্যন্ত সাধারণ উপসর্গের মধ্যে থাকে মুখের ভেতরে নরম লাল ক্ষত। এ ছাড়া কথা বলা বা খাওয়ার সময় ব্যথা। জ্বালার অনুভূতি। প্রদাহ। অতিরিক্ত মাত্রায় লালা নির্গত হওয়া। ঠাণ্ডা খাবার অথবা পানীয় খেলে সাময়িক স্বস্তি। এবং শিশুদের ক্ষেত্রে অস্বস্তিকর অনুভূতি।

কখন চিকিৎসা নিতে হবে
মুখের মধ্যে আলসার বা ঘা সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে নিজ থেকেই সেরে যায়। তবে যদি নিম্নোক্ত অবস্থা দেখা যায় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। এর মধ্যে আছে ক্ষতের অনুরূপ চেহারা দেখা যাচ্ছে কিন্তু সেখানে কোনো যন্ত্রণা নেই। নতুন এলাকায় আলসার ছড়িয়ে যাচ্ছে। ক্ষত ২ থেকে ৩ সপ্তাহের বেশি ধরে থাকছে। যেসব আলসার বা ঘা আকারে বড় হয়ে যাচ্ছে। ক্ষতের সঙ্গে জ্বর আসছে। আলসারের সঙ্গে রক্তক্ষরণ হচ্ছে, ত্বকে র‌্যাশ দেখা দিচ্ছে বা গিলতে অসুবিধা হচ্ছে।

কী করতে হবে?
মুখে ঘা হলে দাঁত পরিষ্কার করার জন্য নরম দাঁড়ার, উন্নতমানের ব্রাশ ব্যবহার করুন। দিনে দুবার ব্রাশ করুন। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন ভিটামিন এ, সি এবং ই-সমৃদ্ধ খাবার, উদাহরণস্বরূপ অন্যান্য খাবারের সঙ্গে সাইট্রাস ফল, পেঁপে, আম, গাজর, লেবু, পেয়ারা, রঙিন ক্যাপসিকাম, কাঠবাদাম, আমলকী খান।  যেসব খাবার চিবোতে সুবিধা হয়, সেসব খাবার খান। এ ছাড়া বেশি করে পানি পান করাও জরুরি।

কী করা চলবে না?
মশলাদার বা অম্লজাতীয় (অ্যাসিডিক) খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে। এ ছাড়া সোডা খাওয়া, কড়া মাউথওয়াশ বা টুথপেস্ট ব্যবহার করা, মুখের আলসার টিপে পুঁজ বের করার চেষ্টা, বারবার মুখের ক্ষতে হাত দেওয়া, মদ্যপান বা ধূমপান, খুব গরম পানীয় খাওয়া এড়িয়ে যেতে হবে।

বেশি মাত্রায় চকলেট এবং বাদাম খাওয়া এবং দিনের মধ্যে বারবার কফি পান করাও চলবে না।

ঘরোয়া সমাধান
ভিটামিন: যেকোনো রকম সংক্রমণ দূর করতে এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। শুধু ভিটামিন সি নয়, খেতে হবে ভিটামিন বি-ও। দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, মটরশুঁটি, ডাল ও পালংশাক খেতে পারেন নিয়মিত।

জিংক: কাজুবাদাম, সূর্যমুখীর বীজ, কুমড়ার বীজ ও বিটের মতো সবজি খেতে পারেন। এ ধরনের খাবারে প্রচুর পরিমাণ জিংক থাকে। ফলে জিংকের ঘাটতি থেকে ঘা হলে সেরে যাবে সেই ঘা।

নারকেল তেল: মুখের ঘা সারাতে নারকেল তেল দিয়ে কুলকুচি করতে পারেন। উপকার পাবেন।

তুলসী ও লবণ: মুখের ঘা সারাতে তুলসীপাতা চিবিয়ে খান কিংবা দিনে দুবার তুলসী ফোটানো গরম পানি দিয়ে গার্গল করুন। এ ছাড়া লবণ পানিতে গার্গল করাও ভালো। লবণ পানি মুখের দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া কমায়।

মধু: মুখের ঘা সারাতে মধু ব্যবহার করতে পারেন। এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য মুখের আর্দ্রতা বজায় রাখে ও শুষ্কতা দূর করে। মধুর সঙ্গে এক চিমটি হলুদ মিশিয়েও মুখের ঘায়ে ব্যবহার করতে পারেন।

জাহ্নবী

ভাইরাস-ঘটিত রোগ ইনফ্লুয়েঞ্জা

প্রকাশ: ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৪২ পিএম
ভাইরাস-ঘটিত রোগ ইনফ্লুয়েঞ্জা

ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু হলো ভাইরাস-ঘটিত একটি সাধারণ সংক্রমণ, যা কাশি এবং হাঁচির মাধ্যমে ছড়ায়। মায়ো ক্লিনিক অবলম্বনে জানাচ্ছেন ফারজানা আলম

বছরের যেকোনো সময় ফ্লু হতে পারে। আরএনএ ভাইরাস নামের একটি জীবাণু এর জন্য দায়ী। ৫ বছরের কম বয়সী শিশু এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের ইনফ্লুয়েঞ্জা হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। গর্ভবতী মহিলা, যেসব ব্যক্তির শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে কাজ করেন- এমন ব্যক্তি এবং দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসযন্ত্রের অসুখে ভুগছেন, এ রকম ব্যক্তিদের ইনফ্লুয়েঞ্জায় সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এটা এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই সেরে যায়।

ফ্লুর লক্ষণ: প্রাথমিকভাবে ফ্লু সাধারণ ঠাণ্ডা লাগার মতোই মনে হতে পারে। গলা ব্যথা, নাক দিয়ে পানি পড়া বা সর্দি এবং হাঁচি - এগুলো দেখা দেয়। ঠান্ডা লাগা এবং ফ্লুর মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো ঠাণ্ডা লাগার চেয়ে ফ্লু খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। উপসর্গগুলো সাধারণত ১ থেকে ৩ দিনের মধ্যে বৃদ্ধি পায় এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।

এ ছাড়া আরও যেসব লক্ষণ দেখা দেয় তার মধ্যে আছে হঠাৎ করে ১০০.৪ ফারেনহাইট বা তার বেশি জ্বর। পাশাপাশি গলা ব্যথা, খিদে কমে যাওয়া, মাথার যন্ত্রণা, শুকনো কাশি, ডায়রিয়া, বমিভাব থাকতে পারে। এ ছাড়া নাক বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

প্রধান কারণ: ভাইরাসের কারণে ফ্লু হয় এবং এর ধরন তিনটি। সেগুলো হচ্ছে ইনফ্লুয়েঞ্জা এ, বি এবং সি। ভাইরাসটি সংক্রমিত ব্যক্তির থেকে অন্য একজন সুস্থ ব্যক্তির মধ্যে হাঁচি, কাশি এবং সামনাসামনি কথা বলার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কখনো কখনো এই ভাইরাসে সংক্রমিত তরলের ফোঁটা সরাসরি নিঃশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করে আক্রান্ত হতে পারে। আবার ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসে দূষিত জায়গাগুলো ছুঁলেও সংক্রমণ হতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের নিয়মিত বদল বা রূপান্তর হয় বা মিউটেশন হয়। ফলে সারা জীবন আপনার ভাইরাল সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতাও বেড়ে যায়।

মনে রাখুন: রোগীকে বাড়িতে বিশ্রাম নিতে হবে এবং প্রচুর পরিমাণ পানি পান করতে হবে, যাতে শরীরে পানির পরিমাণ ঠিক থাকে। শিশুদের ক্ষেত্রে শরীরে সঠিক পানির মাত্রা বজায় রাখার জন্য ঘন ঘন স্তন্যপান করাতে হবে।

জাহ্নবী

বমি বমি ভাব: কারণ চিকিৎসা এবং প্রতিরোধ

প্রকাশ: ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৩৫ পিএম
বমি বমি ভাব: কারণ চিকিৎসা এবং প্রতিরোধ

বমি বমি ভাব এবং বমি হচ্ছে এমন উপসর্গ যা আমরা প্রত্যেকেই কোনো না কোনো সময় অনুভব করেছি। এগুলো শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক যে কারও হতে পারে। তবে গর্ভবতী মহিলা এবং যারা ক্যানসারের চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। অ্যাপোলো হসপিটালস অবলম্বনে জানাচ্ছেন ফখরুল ইসলাম

বমি বমি ভাব এবং বমি কী?
বমি বমি ভাব হলো পেটের অস্বস্তিকর অনুভূতি, যা বমি হওয়ার অনুভূতি দিয়ে থাকে। বমি হলো মুখের মাধ্যমে পেটের বিষয়বস্তুর অনৈচ্ছিক বা স্বেচ্ছায় বেরিয়ে আসা। বমি শুধু পেটের সমস্যার কারণেই হয়, এমনটা নয়। এটি মাথা ঘোরা, ভ্রমণ জটিলতা, এমনকি মস্তিষ্কের আঘাত, মস্তিষ্কের সংক্রমণ, টিউমার এবং মাইগ্রেনের মাথাব্যথা থেকেও হতে পারে।

এটি কীভাবে নির্ণয় এবং চিকিৎসা করা হয়?
বমি বমি ভাব এবং বমি করার অনেক কারণ হতে পারে। তাই সঠিক চিকিৎসা করার জন্য নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে বের করাটা জরুরি। এই উপসর্গগুলো কী কারণে দেখা দিচ্ছে তা বোঝার জন্য রোগীর চিকিৎসার ইতিহাস এবং তার ব্যক্তিগত ইতিহাস জানতে হতে পারে। অন্য নির্দিষ্ট উপসর্গগুলোও রোগের কারণ বুঝতে সাহায্য করে। ইমেজ স্টাডিং, রক্ত পরীক্ষা বা কোনো নির্দিষ্ট রোগের জন্য পরীক্ষা করা যেতে পারে, যাতে ডাক্তার রোগের অবস্থা জানতে পারেন।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?
সাধারণত বমি বমি ভাব বা এ-জাতীয় সমস্যা কিছু সময়ের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। যেমন- কয়েক দিন ধরে এই সমস্যা থাকলে এবং নিজে থেকে সেরে না উঠলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। এ ছাড়া নিয়মিত অথবা ঘন ঘন এমন সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তার দেখানো যেতে পারে। ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সমস্যার কারণ চিহ্নিত করবেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে পারবেন।

জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে যেতে হবে কখন? 
যদি হঠাৎ করে বমি বমি ভাব হয় এবং সেই সঙ্গে এমনভাবে বুকে ব্যথা হতে থাকে, যাতে মনে হয় যে বুকে কিছু একটা চাপ দিয়ে আছে অথবা বুক ভার হয়ে আছে- তাহলে হাসপাতালে যেতে হতে পারে। এ ছাড়া বুকের ব্যথাটি যদি হাতে, পিঠে, গলায়, ঘাড়ে অথবা চোয়াল পর্যন্ত ছড়াতে থাকে- তাহলেও হাসপাতালে যেতে হবে। বমির সঙ্গে দম বন্ধ হয়ে এলে অথবা নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হলে সেটা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে। তাই এমন অবস্থায় দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে বা ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।

বমি বমি ভাব নিয়ন্ত্রণ
বমি বমি ভাব শুরু হলে অল্প পরিমাণে খাবার খাওয়া যেতে পারে। খাবারটি প্রোটিনসমৃদ্ধ হতে পারে। পনির, চর্বিহীন মাংস বা বাদাম (ঘুমাতে যাওয়ার আগে) খেতে পারেন। মসলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন। কারণ এটা পেটকে আরও খারাপ করতে পারে। গরম পানীয়ের বদলে ঠাণ্ডা পানীয় নিন। খাওয়ার পর মাথা উঁচু করে বিশ্রাম নিন।

দূর করার উপায়
বমি বমি ভাব দূর করতে খোলা হাওয়া বা বিশুদ্ধ বাতাসে বুকভরে শ্বাস নিতে পারেন। এ ছাড়া অন্যদিকে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। যেমন- গান শোনা, বই পড়া অথবা কোনো মুভি দেখা। এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি নিয়ে তাতে কিছুক্ষণ পরপর চুমুক দিতে পারেন। অনেকের ক্ষেত্রে কোক, ফান্টা বা এ-জাতীয় কোমল পানীয় পান করলে বমি বমি ভাব সেরে যায়।

আদা বা পুদিনা / পেপারমিন্ট দিয়ে চা খেতে পারেন। ভালো পরিমাণে আদা আছে এমন খাবার খেতে পারেন। যেমন- বাজারে জিনজার বিস্কুট পাওয়া, আদার ফ্লেভার যুক্ত কিছু পানীয়ও পাওয়া যায়। একসঙ্গে বেশি পরিমাণে খাবার খাওয়া পরিহার করা উচিত। এর পরিবর্তে ঘন ঘন ও কম পরিমাণে খাবার খাওয়া যেতে পারে।

যা এড়িয়ে চলতে হবে
বমি বমি ভাব হলে খুব তীব্র গন্ধযুক্ত খাবার রান্না করলে বা খেলে বমি ভাব বেড়ে যেতে পারে। তাই এগুলো পরিহার করতে হবে। খুব গরম, ভাজা-পোড়া অথবা তেল চুপচুপে খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে। খাওয়ার সময় আস্তে-ধীরে খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। তাড়াহুড়ো করা যাবে না।

খাওয়ার সঙ্গে বা খাওয়ার পরে খুব বেশি পরিমাণে পানি বা পানীয় পান করা যাবে না। খাবার খাওয়ামাত্র শুয়ে পড়া উচিত নয়। পেটের দিকে টাইট হয়ে থাকে এমন কাপড় বা টাইট প্যান্ট/পায়জামা পরলে অস্বস্তি থেকে বমি বমি ভাব হতে পারে। তাই এ সমস্যা থাকলে এমন কাপড় পরা থেকে বিরত থাকা উচিত।

জাহ্নবী

চেম্বার-ডায়াগনস্টিকে অ্যানেসথেশিয়া দেওয়া যাবে না

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:২৫ পিএম
চেম্বার-ডায়াগনস্টিকে অ্যানেসথেশিয়া দেওয়া যাবে না
ছবি : সংগৃহীত

সুনির্দিষ্ট শর্তযুক্ত নিবন্ধিত হাসপাতাল ও ক্লিনিক ছাড়া কোনো চেম্বারে অথবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অ্যানেসথেশিয়া দেওয়া যাবে না। বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে ১০টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন, এখন থেকে সরকারের নির্দিষ্ট শর্ত মেনে বেসরকারি মেডিকেল/ক্লিনিক/ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালাতে হবে। এর কারণ কিছু অসাধু মানুষ সরকারের কোনো রকম নিয়মের তোয়াক্কা না করে শুধু ব্যবসায়িক স্বার্থের জন্য যত্রতত্র নামমাত্র হাসপাতাল/ক্লিনিক/ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলে মানুষের জীবন নিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছেন। নিয়মের বাইরে গিয়ে এগুলো আর চলতে পারবে না। এখনো ১ হাজার ২০০টির ওপর প্রাইভেট স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নিবন্ধন নেই। এদের কাছে ভালো ডাক্তার নেই, নার্স নেই, টেকনিশিয়ান নেই। এরা হাসপাতাল চালাচ্ছে কী দিয়ে? 

মন্ত্রী বলেছেন, প্রায় ১ হাজারটি অনিবন্ধিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং এ রকম অনিবন্ধিত অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রও বন্ধ করার কাজ চলমান। আজকেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে পরিচালক (প্রশাসন) কর্তৃক স্বাক্ষরিত ১০টি বিশেষ নির্দেশনাসহ একটি অফিস আদেশ দেওয়া হয়েছে। এই অফিস আদেশ প্রতিটি প্রাইভেট মেডিকেল/ক্লিনিক/ ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে অবশ্যই মেনে হাসপাতাল চালাতে হবে। এটির অমান্য হলেই নিবন্ধন বাতিলসহ কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেনের নির্দেশে জারি করা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত বেসরকারি মেডিকেল/ক্লিনিক/ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পালনীয় শর্তাবলির অফিস আদেশটি মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশ করা হয়েছে।

১০ নির্দেশনা-

১. বেসরকারি ক্লিনিক/হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্সের কপি ওই প্রতিষ্ঠানের মূল প্রবেশপথের সামনে দৃশ্যমান স্থানে অবশ্যই স্থায়ীভাবে প্রদর্শন করতে হবে;

২. সব বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় তথ্যাদি সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য একজন নির্ধারিত দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা/কর্মচারী থাকতে হবে এবং তার ছবি ও মোবাইল নম্বর দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে;

৩. যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম ডায়াগনস্টিক ও হাসপাতাল হিসেবে আছে, কিন্তু শুধু ডায়াগনস্টিক অথবা হাসপাতালের লাইসেন্স রয়েছে, তারা লাইসেন্স ছাড়া কোনোভাবেই অন্য সেবা দিতে পারবে না;

৪. ডায়াগনস্টিক সেন্টার/প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরির ক্ষেত্রে যে ক্যাটারগরিতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত, শুধু সেই ক্যাটাগরিতে নির্ধারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া কোনোভাবেই অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাবে না এবং ক্যাটাগরি অনুযায়ী প্যাথলজি/মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি ও রেডিওলজি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করতে হবে;

৫. বেসরকারি ক্লিনিক/হাসপাতালের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের প্রকারভেদ ও শয্যাসংখ্যা অনুযায়ী শর্তাবলি বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে;

৬. হাসপাতাল/ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়োজিত সব চিকিৎসকের পেশাগত ডিগ্রির সনদসমূহ, বিএমডিসির হালনাগাদ নিবন্ধন ও নিয়োগপত্রের কপি অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে;

৭. হাসপাতাল/ক্লিনিকের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের অপারেশন/সার্জারি/প্রসিডিউরের জন্য অবশ্যই রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসককে সার্জনের সহকারী হিসেবে রাখতে হবে;

৮. কোনো অবস্থাতেই লাইসেন্সপ্রাপ্ত/নিবন্ধিত হাসপাতাল ও ক্লিনিক ছাড়া চেম্বারে অথবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অ্যানেসথেশিয়া দেওয়া যাবে না। বিএমডিসি স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ অবেদনবিদ ছাড়া যেকোনো ধরনের অপারেশন/সার্জারি/ প্রসিডিউর করা যাবে না;

৯. সব বেসরকারি নিবন্ধিত হাসপাতাল/ক্লিনিকে  প্রসব কক্ষ প্রটোকল অবশ্যই মেনে চলতে হবে এবং

১০. নিবন্ধিতপ্রাপ্ত হাসপাতাল/ক্লিনিকে অপারেশন থিয়েটারে অবশ্যই নির্ধারিত শর্ত মেনে চলতে হবে।