দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভুটান। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বেশ বিখ্যাত দেশটি। ২০০৯ সালে বিশ্বের প্রথম কার্বন নেতিবাচক দেশ হিসেবে নিজেকে ঘোষণা করে ভুটান। তাই বলা যায় ভুটান বেশ পরিবেশ সচেতন দেশ।
হিমালয়ের পাদদেশে থাকা ছোট্ট দেশটি পরিবেশ সংরক্ষণকে বেশ গুরুত্ব দেয়। এটি তাদের রাজনৈতিক দায়িত্ববোধ হিসেবেও দেখা হয়। দেশটিতে সংবিধান অনুসারে সর্বদা এর ন্যূনতম ৬০ শতাংশ জমি বনের আওতায় থাকা আবশ্যক, এমন নীতি চালু করতে চায় সরকার। বর্তমানে এটি ৭২ শতাংশ, দেশটির অর্ধেকেরও বেশি জাতীয় উদ্যান, প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নেটওয়ার্ক দিয়ে আচ্ছাদিত। এই আধুনিক যুগেও, ভুটান বিশ্বের কয়েকটি জীববৈচিত্র্যের মধ্যে একটি।
দেশটি নিজেকে কার্বন নেতিবাচক দেশ হিসেবে হিসেবে ঘোষণা দেয়, কারণ পুরো দেশ প্রতি বছর ২ দশমিক ২ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করে কিন্তু বন ৬০ লাখ টনেরও বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড জব্দ করে। ‘গ্রিন ভুটান’ হওয়ার লক্ষ্যে কাজ করা ভুটান একাই ২০১৬ সালে ১০ লাখের মতো গাছ লাগিয়েছিল। যা তখন বেশ সাড়া ফেলেছিল।
.jpg)
২০১৬ সালে ভুটানে প্রায় ১ লাখেরও বেশি গাছ রোপণ করা হয়। যা ছিল তাদের রাজপুত্রের জন্মদিন উপলক্ষে। ভুটানের নাগরিকরা তাদের রাজা ও রানির নতুন নবজাতককে স্বাগত জানাতে ২০১৬ সালে দেশজুড়ে গাছ রোপণ করেন। ভুটানের রাজা খেসার এবং রানি জেটসুন ৫ ফেব্রুয়ারি তাদের প্রথম সন্তানের জন্মের ঘোষণা দেওয়ার প্রায় এক মাস পর, ৬ মার্চ দেশজুড়ে গাছ লাগানো ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবকের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে, তার তিন মন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় নেতাও ছিলেন। নাগরিকরা রাজপুত্রের জন্মদিন উদযাপন করেছিলেন প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার গাছ লাগিয়ে। যা এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হয়। এই গাছ রোপণ ভুটানের বনাঞ্চল সংরক্ষণে আরও বেশি ভূমিকা রাখে। এর মধ্যে ৮২ হাজার পরিবার একটি করে গাছ রোপণ করেছে, বাকি ২৬ হাজার গাছ ১৪টি জেলায় সরকারিভাবে রোপণ করা হয়েছে। এসব গাছের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের গাছ ছিল। সেগুন, ওক, ডগউড থেকে শুরু করে পাইন পর্যন্ত, যা পরিবেশগত উপযুক্ততা নিশ্চিত করে।
আরো পড়ুন: জাপানের ওবন উৎসব
হিমালয়ের দেশ ভুটান বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী প্রধান দেশ। বৌদ্ধ ধর্মে বৃক্ষরোপণকে শুভ লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় কারণ, বৃক্ষ থেকে জীবের জোগান এবং পুষ্টি পাওয়া যায়। বৌদ্ধ ধর্মে বিশ্বাস করা হয় বৃক্ষ সব উদ্দেশ্য পূরণ করে এবং দীর্ঘায়ু, স্বাস্থ্য, সৌন্দর্য এবং এমনকি করুণার প্রতীক হিসেবে, আশীর্বাদ হিসেবে প্রমাণিত হয়। বৃক্ষরোপণের উচ্চ আধ্যাত্মিক তাৎপর্য রয়েছে এবং বুদ্ধ যখন থেকে বটবৃক্ষের নিচে জ্ঞান লাভ করেন, তখন থেকেই এটি পবিত্র বলে বিবেচিত হয়। তাই রাজপুত্রের জন্মদিনে ভুটানজুড়ে গাছ রোপণ করা হয়। রোপিত গাছের সংখ্যা ঠিক ১ লাখ ৮ হাজার ছিল, কারণ বৌদ্ধ ধর্মে ‘১০৮’ কে একটি পবিত্র সংখ্যা মনে করা হয়, যা ১০৮টি অপবিত্রতা দূর করে এবং মানুষকে জ্ঞানার্জনে এগিয়ে নেয় বলে বিশ্বাস করা হয়।
হিমালয়ের পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত মাত্র ৭ লাখের মতো জনসংখ্যার একটি ছোট দেশ ভুটান, যা ৪ হাজার বছর ধরে জনবহুল চীন এবং ভারতের মধ্যে অবস্থিত এবং এখন ধীরে ধীরে বিশ্বের টেকসই জীবিকা এবং পরিবেশগত নীতিশাস্ত্রের অন্যতম সেরা মডেল হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।
তারেক/
.jpg)
.jpg)
.jpg)