সূর্যেও ঝড় হয়। আর সে ঝড় হতে পারে পৃথিবীর জন্যও বিপজ্জনক। এখন আগাম যদি এ ঝড়ের বিষয়ে জানা যায়, তবে ক্ষয়ক্ষতি হয়তো কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। নতুন এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন, সৌরঝড়ের প্রতিক্রিয়া পৃথিবীতে পৌঁছানোর আগেই এর ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার গবেষকরা সৌরঝড়ের প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থা তৈরি করতে সৌরঝড়ের ডেটা দিয়ে একটি কম্পিউটার সিম্যুলেশন তৈরি করেন। যেখানে তাদের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল প্রয়োগ করে দেখেছেন, সম্ভাব্য বিধ্বংসী সৌরঝড় একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে আঘাত হানার প্রায় ৩০ মিনিট আগে সতর্ক বার্তা দিচ্ছে।
মূলত সৌরঝড়ের ফলে সূর্য থেকে বেরিয়ে আসা সৌর পদার্থের চেয়ে আলো দ্রুত ভ্রমণ করতে পারে। আলোর গতিবেগ সেকেন্ডে ৩ লাখ কিলোমিটারেরও বেশি। ফলে পৃথিবীতে সৌরঝড়ের প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট পদার্থের প্রভাব পড়ার আগেই আলো পৌঁছে যায়। আর সেটাই আগেভাগে শনাক্ত করে বিশ্লেষণ করা সম্ভব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের পরীক্ষা এমনটাই বলছে।
আজ থেকে ৩৫ বছর আগে কানাডার কুইবেক নগরী সৌরঝড়ের প্রভাবে কয়েক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ক্যারিংটনেও আজ থেকে দেড় শ বছর আগে সৌরঝড়ের প্রভাবে বৈদ্যুতিক ও যোগাযোগ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই এ সমস্যাটি সম্পর্কে জানেন এবং তারা ক্ষতি কমিয়ে আনতে কাজও করছেন। সংশ্লিষ্ট গবেষকরা বলছেন, মহাবিশ্বে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে প্রচুর স্যাটেলাইট সূর্যের দিকে তাকিয়ে আছে। যেগুলোকে সৌর বিস্ফোরণ বা ঝড় শনাক্তে ব্যবহার করা যেতে পারে।
সূর্যকে পর্যবেক্ষণকারী নাসার স্যাটেলাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে এজ, উইন্ড, ইমপি-৮, জিওটেইল। এগুলো প্রতিনিয়ত সংস্থাটিকে সূর্যকেন্দ্রিক ডেটা সরবরাহ করতে থাকে। নতুন এ গবেষণা বলছে, এআই গবেষকদের পক্ষে এমন মডেল তৈরি সম্ভব- যার মাধ্যমে সৌরঝড়ের প্রভাব পড়তে শুরু করার আগেই এসব স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ডাটার আলোকে আগাম সতর্কতা দেওয়া যায়।
তবে একটি সৌরঝড় আসার ভবিষ্যদ্বাণীর পাশাপাশি এটাও জানা জরুরি যে, এটি পৃথিবীতে আঘাত হানলে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তাই গবেষকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বিশ্লেষণের জন্য ভূ-পৃষ্ঠকেন্দ্রিক স্টেশনগুলো থেকেও তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন- যেগুলোয় সৌরঝড়ের প্রভাব পড়েছিল।
ভারতের ইন্টার-ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমির বিজ্ঞানীরা পরে প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে ড্যাগার নামের একটি ডিপ লার্নিং মডেলকে (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রশিক্ষিত করেছেন।
তারা দাবি করেছেন, তাদের প্রশিক্ষিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেকেন্ডের মধ্যে সৌরঝড়ের তীব্রতা ও প্রভাব সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে এবং এটিকে ডেটা সরবরাহ করা হলে প্রত্যেক মিনিটে এর পক্ষে ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব। সূত্র : সায়েন্স অ্যালার্ট