প্লাস্টিকের ক্ষুদ্রতম কণাকে বলা হয় মাইক্রোপ্লাস্টিক, যা মূলত শূন্য দশমিক ২ ইঞ্চি বা ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ক্ষুদ্র কণার প্লাস্টিক। মাইক্রোপ্লাস্টিক বড় আকৃতির প্লাস্টিক থেকে তৈরি হয়, যা নারডল নামে পরিচিত। প্লাস্টিক দূষণের মধ্যে ভয়াবহ হলো মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ।
সারা বিশ্বেই মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের দূষণ মানুষের মধ্যে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর আগে লবণ, চিনি ও মসলার মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সন্ধান পেয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। এবার টি ব্যাগের মধ্যেও এই কণার সন্ধান পেয়েছেন তারা।
স্পেনের অটোনোমাস ইউনিভার্সিটি অব বার্সেলোনা এ নিয়ে গবেষণা করে তাদের রিপোর্ট জানিয়েছে। কেবল এই বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বিশ্বের আরও অনেক গবেষণা সংস্থা দাবি করেছে, সব না হলেও অনেকগুলো ব্র্যান্ডের টি ব্যাগেই নাকি সূক্ষ্ম প্লাস্টিকের কণা পাওয়া গেছে। আরও নানা রকম রাসায়নিকের খোঁজও পাওয়া গেছে, যা মানুষের শরীরের জন্য বিপজ্জনক।
বিজ্ঞানীদের ভাষ্য, কিছু টি ব্যাগ তৈরি হয় প্লাস্টিক দিয়েই। সাধারণত তিন ধরনের প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়- পলিপ্রোপেলিন, নাইলন-৬ ও সেলুলোজ। প্লাস্টিকের টি ব্যাগ যখন গরম পানিতে ডোবানো হয়, তখন তার থেকে সূক্ষ্ম প্লাস্টিকের কণা মিশে যায় পানিতেও। দাবি করা হয়েছে, পলিপ্রোপেলিন দিয়ে তৈরি টি ব্যাগ একবার পানিতে ডোবালে তার থেকে প্রায় ১২০ কোটি প্লাস্টিকের কণা বেরিয়ে পানিতে মিশে যায়। সেলুলোজের তৈরি টি ব্যাগ থেকে বেরোতে পারে প্রায় ১৩ কোটি প্লাস্টিকের কণা এবং নাইলন-৬ প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি টি ব্যাগগুলো একবার পানিতে ডোবালে প্রায় ৮০ লাখের মতো মাইক্রোপ্লাস্টিক বের হতে পারে। প্রতি চুমুকেই শরীরে ঢুকছে এসব প্লাস্টিক।
অটোনোমাস ইউনিভার্সিটি অব বার্সেলোনার গবেষক রিকার্ডো মার্কোস জানাচ্ছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিকের থেকে সূক্ষ্ম ন্যানোপ্লাস্টিকও পাওয়া গেছে কয়েক ধরনের টি ব্যাগে। তবে এ টি ব্যাগগুলো কোন ব্র্যান্ডের, তা জানাননি তিনি। মার্কোস সতর্ক করে বলেছেন, দিনে যদি ঘন ঘন চা খাওয়ার অভ্যাস থাকে এবং প্রতিবারই টি ব্যাগ ডুবিয়ে চা তৈরি করেন, তাহলে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ লাখ লাখ প্লাস্টিকের কণা মিশছে চায়ে, যা খুব তাড়াতাড়ি রক্তে মিশে যেতে পারে। এসব প্লাস্টিক কণা জটিল রোগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। প্লাস্টিক রক্তে মিশলে ইনসুলিনের ক্ষরণে প্রভাব ফেলে। পরবর্তী সময়ে ডায়াবেটিসের কারণ হয়ে উঠতে পারে। শরীরে হরমোনের ভারসাম্যও বদলে দিতে পারে। অধিক মাত্রায় প্লাস্টিক-কণা শরীরে জমলে পুরুষদের শুক্রাণুর পরিমাণ কমে যেতে পারে। লিভারের সমস্যা, হার্টের রোগ, কিডনির জটিলতাও দেখা দিতে পারে এতে। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা


