বড় আকারের প্রাণীদের মধ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি ছোট প্রাণীদের তুলনায় বেশি হয়, তবে এই ঝুঁকি প্রত্যাশার তুলনায় কম। এটি ইঙ্গিত দেয়, বড় প্রাণীগুলো ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে বিশেষ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। ২৬৩ প্রজাতির প্রাণী নিয়ে করা ওই গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
বিশাল আকৃতির প্রাণীরা দীর্ঘসময় ধরে বেঁচে থাকে এবং তাদের শরীরে বেশি কোষ থাকে, যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার আশঙ্কা বেশি থাকে। এ কারণে তাদের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি হওয়ার কথা। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু বড় প্রাণী এ ঝুঁকি কমানোর জন্য বিবর্তনীয় কৌশল তৈরি করেছে।
ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষক জর্জ বাটলার বলেন, ‘আমরা প্রথমবারের মতো প্রমাণ পেয়েছি যে, দেহের আকার ও ক্যানসার বিস্তারের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। বড় আকারের প্রজাতির প্রাণীদের ক্যানসারের হার ছোটদের তুলনায় বেশি হয়।’
আগের অনেক গবেষণায় বড় আকার ও ক্যানসারের হারের মধ্যে কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে সেসব গবেষণায় কম প্রজাতি নিয়ে কাজ করা হয়েছিল বলে জানান বাটলার।
বাটলার ও তার সহকর্মীরা ৭৯ প্রজাতির পাখি, ৯০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৬৩ প্রজাতির সরীসৃপ এবং ৩১ প্রজাতির উভচর প্রাণীর আকার ও ক্যানসারের হার বিশ্লেষণ করেছেন। এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে চিড়িয়াখানা ও অ্যাকোয়ারিয়ামে মারা যাওয়া প্রাণীদের ময়নাতদন্তের নথি থেকে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ছোট প্রাণীদের তুলনায় বড় প্রাণীদের মৃত্যুর সময় ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা সামান্য বেশি ছিল। পাখি ও স্তন্যপায়ীদের ক্ষেত্রে দেহের ওজন ১ শতাংশ বাড়লে ক্যানসারের হার গড়ে ০.১ শতাংশ বাড়ে। সরীসৃপ ও উভচর প্রাণীদের শরীরের ওজনের তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই গবেষক দলটি শরীরের দৈর্ঘ্য ব্যবহার করেছে। সরীসৃপ ও উভচরের ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্যের প্রতি ১ শতাংশ বৃদ্ধিতে ক্যানসারের হার মাত্র ০.০০৩ শতাংশ বাড়ে।
গবেষকরা তাদের ফলাফলে পেটোর প্যারাডক্স নামে পরিচিত এক দীর্ঘস্থায়ী ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পেটোর প্যারাডক্স অনুযায়ী বড় দেহের প্রাণীদের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি হওয়ার কথা, তবে বাস্তবে তা প্রমাণিত হয়নি।
নিউইয়র্কের রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ভেরা গর্বুনোভা বলেন, ‘বড় প্রাণীদের ক্যানসারের হার খুবই নগণ্য, তা দেহের আকারের সঙ্গে আনুপাতিক নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা যে ঝুঁকি বাড়ার তথ্য পেয়েছেন, তা খুব সামান্য এবং এটি শরীরের আকারের সঙ্গে একেবারে সমানুপাতিক নয়। যেমন একটি ছোট প্রাণী ইঁদুরের তুলনায় একজন মানুষ সম্ভবত ১০০ গুণ বড় বা একটি হাতি ১০০০ গুণ বড় হয়। তবে মানুষের মধ্যে ক্যানসারের হারের পার্থক্য ১০০ গুণ বেশি নয় বা হাতির মধ্যে ১০০০ গুণ বেশি নয়।’
গর্বুনোভা বলেন, বড় প্রাণীরা নিজেদের সুরক্ষার জন্য বিশেষ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছে। হাতি ও তিমির মধ্যে এমন জিনগত অভিযোজন দেখা গেছে, যা ডিএনএ মেরামত ও ত্রুটিপূর্ণ কোষ বিভাজন বন্ধ করে ক্যানসার থেকে রক্ষা করতে পারে।
গবেষকরা আশা করছেন, বড় প্রাণীদের এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে আরও জানলে মানুষের জন্য নতুন ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধক ওষুধ উদ্ভাবন করা সম্ভব হতে পারে। গর্বুনোভা বলেন, ‘যদি আমরা এসব প্রাণীর মধ্যে ক্যানসার প্রতিরোধের বিশেষ উপায়গুলো খুঁজে বের করতে পারি, তবে সেগুলো ব্যবহার করে এমন ওষুধ তৈরি করা যাবে, যা হয় ক্যানসার কোষকে ধ্বংস করবে বা ক্যানসার প্রতিরোধ করবে।’
গবেষণাটি ক্যানসার প্রতিরোধে নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
/ফারজানা ফাহমি


