ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পিক্সেল স্টুডিও অ্যাপ বন্ধ করল গুগল শর্তসাপেক্ষে জামিন পেলেন জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বারকাত আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে কারণ দর্শানোর সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাউদকান্দিতে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের ঝটিকা মিছিল গরম গরম শিঙাড়া বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবস আজ, জানুন এর বিভিন্ন দিক চার লাখ টাকার বেশি বেতনে চাকরি দিচ্ছে টিআইবি যশোরে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা হাজার বছরের রহস্য, উত্তর মিলল পায়রার যকৃতে! জীবের বৃদ্ধি ও বংশগতি অধ্যায় থেকে ৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান তেল আবিবের হামলায় পাল্টা আক্রমণ তেহরানের আজকের মুদ্রার বাজার: ৮ জুন, ২০২৬ ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উদযাপনে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিজিবির অভিযানে ৬ টন ভারতীয় জিরা জব্দ কাফনে রক্তের দাগ দেখে জানাজা স্থগিত মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হলেন ড. তোজাম্মেল হোসেন ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ঘাঁটির কাছে গোলাগুলি, আহত ৯ দেশে প্রথমবার রোবোটিক অ্যাসিস্টেড এমআরআই-ইউএসজি ফিউশন প্রোস্টেট বায়োপসি সম্পন্ন বাংলাদেশ সিরিজের আগে জোড়া ধাক্কা খেল অস্ট্রেলিয়া ইসরায়েলের পাল্টা হামলায় তেহরান-তেল আবিবে নতুন উত্তেজনা বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বাধা’ নিয়ে ক্ষোভ, মেক্সিকোয় পৌঁছেছে ইরান দল হামে ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ মেডিকেলে ১ শিশুর মৃত্যু, ভর্তি ২৯ বিশ্ববাজারে ফের কমল স্বর্ণের দাম ভুয়া কমিটি ঘোষণা নিয়ে বিএনপি মিডিয়া সেলের সতর্কবার্তা ৯ অঞ্চলে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আভাস স্পেন ও ইয়ামালের মাঝে বার্সা গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন সৌরভ-ইউসুফ, মমতার জন্য এমপি পদ ছাড়ার দাবি অস্বীকার বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ স্মারক গ্রন্থের জন্য লেখা আহ্বান মানিকগঞ্জে চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে নিহত ১
Nagad desktop

মহাকাশে ৯ মাস : মানবদেহে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা

প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২৫, ১০:১০ এএম
মহাকাশে ৯ মাস : মানবদেহে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা
মহাকাশ থেকে ফেরার পর নভোচারী বুচ উইলমোর ও সুনীতা উইলিয়ামস। ছবি: সংগৃহীত

মহাকাশ থেকে পৃথিবীর অনন্য দৃশ্য দেখা অনেকের স্বপ্ন। পৃথিবীর বাইরে মহাকাশে দীর্ঘ সময় কাটানো এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। তবে মানুষের শরীর পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণে অভ্যস্ত, তাই শূন্য মাধ্যাকর্ষণের পরিবেশে দীর্ঘ সময় কাটানোর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে অনেক বছর লেগে যেতে পারে।

সম্প্রতি নাসার দুই নভোচারী সুনীতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোর আট দিনের জন্য আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) গেলেও, অপ্রত্যাশিতভাবে তাদের সেখানে ৯ মাস থাকতে হয়। অবশেষে তারা পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন। এখন তাদের সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

মহাকাশে শরীরের পরিবর্তন 
ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ওয়েলসের মানব শরীরতত্ত্বের অধ্যাপক ড্যামিয়ান বেইলি বলেন, ‘মহাকাশ মানুষের জন্য সবচেয়ে চরম পরিবেশগুলোর একটি, যেখানে টিকে থাকার জন্য মানব শরীর বিবর্তিত হয়নি।’

মহাকাশে প্রবেশ করার পর মানব শরীরে কিছু পরিবর্তন আসে, যা প্রাথমিকভাবে আনন্দদায়ক মনে হতে পারে। নভোচারী টিম পিক ২০১৫ সালে আইএসএস সফরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, ‘মহাকাশে থাকাটা প্রথমে যেন ছুটির মতো মনে হয়। পেশি ও হাড়ের ওপর তেমন চাপ পড়ে না। মহাকাশ স্টেশনে ভারহীন পরিবেশে ভেসে বেড়ানো এক চমৎকার অনুভূতি।’ 

কল্পনা করুন কয়েক সপ্তাহ ধরে বিছানায় শুয়ে আছেন এবং ওঠার প্রয়োজন হচ্ছে না। বিজ্ঞানীরা ঠিক এভাবে ভারহীনতার প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেন। 

তবে পেশির ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। দীর্ঘদিন মাধ্যাকর্ষণের প্রভাব ছাড়া থাকলে পেশি দুর্বল হয়ে যায়। শূন্য মাধ্যাকর্ষণে দাঁড়িয়ে থাকার জন্য কোনো পেশি ব্যবহার করতে হয় না, ফলে তা ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে শুরু করে।

দ্রুত বার্ধক্য 
হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালিগুলোরও একই অবস্থা হয়। মাধ্যাকর্ষণের বিরুদ্ধে রক্ত পাম্প করার প্রয়োজন না হওয়ায় সেগুলো দুর্বল হতে শুরু করে। হাড়ও দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। পুরোনো হাড় ভেঙে নতুন হাড় তৈরির মধ্যে একটি ভারসাম্য থাকা জরুরি। তবে মাধ্যাকর্ষণের অভাবে সেই ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। অধ্যাপক বেইলি বলেন, ‘প্রতি মাসে নভোচারীদের প্রায় ১ শতাংশ হাড় ও পেশি ক্ষয় হতে থাকে। এটি এক ধরনের দ্রুত বার্ধক্য প্রক্রিয়া।’ 

পৃথিবীতে ফেরার পর বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ভিডিওতে দেখা যায়, নভোচারীদের ক্যাপসুল থেকে বের করে স্ট্রেচারে শুইয়ে দেওয়ার জন্য সাহায্যের প্রয়োজন হচ্ছে। 

মহাকাশে থাকার সময় নভোচারীদের প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে শরীরচর্চা করতে হয়। তারা দৌড়ানোর জন্য ট্রেডমিল, সাইক্লিং ও ওয়েট লিফটিংয়ের মাধ্যমে যতটা সম্ভব পেশি ও হাড়ের স্বাস্থ্য ধরে রাখার চেষ্টা করেন। 

দীর্ঘ সময় পর পৃথিবীতে ফেরার পর স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সহজ নয়। সুনীতা ও বুচ তাদের হারানো শারীরিক সক্ষমতা ফিরে পেতে নিয়মিত ব্যায়াম করবেন। প্রথম ব্রিটিশ নভোচারী ড. হেলেন শারমান বলেন, ‘পেশির স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ফিরে পেতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। আর হাড়ের ঘনত্ব পুনরুদ্ধার হতে কয়েক বছর সময় লাগে। পৃথিবীতে ফিরে আসার পর হাড়ে কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তন দেখা যায়, যা কখনো সম্পূর্ণরূপে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে না।’ 

শুধু হাড় ও পেশি নয়, মহাকাশে থাকলে পুরো শরীরের গঠন পরিবর্তিত হয়। এমনকি শরীরে বসবাসকারী উপকারী ব্যাকটেরিয়াও পরিবর্তিত হয়ে যায়। মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে শরীরের তরল পদার্থও স্থানান্তরিত হয়। শরীরের তরলগুলো স্বাভাবিকভাবে নিচের দিকে নেমে যায় না, বরং উপরের দিকে উঠে যায়, ফলে মুখ ফুলে যায়। 

মস্তিষ্কে তরল জমে যাওয়ায় মাথাব্যথা ও দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এমনকি চোখের আকৃতিও পরিবর্তিত হতে পারে। এই ‘স্পেসফ্লাইট-অ্যাসোসিয়েটেড নিউরো-অকুলার সিন্ড্রোম’-এর কারণে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া ও স্থায়ী ক্ষতিও হতে পারে। 

ভারসাম্য হারানোর সমস্যা 
মহাকাশে থাকাকালীন ভারসাম্য রক্ষার সিস্টেম পরিবর্তিত হয়। মাইক্রোগ্র্যাভিটি ভেস্টিবুলার সিস্টেমকেও বিকৃত করে দেয়, যা ভারসাম্য রক্ষা করে এবং উপর ও নিচের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে। মহাকাশে কোনো উপর-নিচ বা পাশ নেই। উপরে গেলে যেমন দিক হারানোর অনুভূতি হয়, তেমনি পৃথিবীতে ফিরে আসার পরও একই রকম অনুভব হতে পারে। 

নভোচারীরা পৃথিবীতে ফেরার পর প্রথম কয়েক দিন মাথা ঘোরা ও ভারসাম্য হারানোর সমস্যায় ভোগেন। টিম পিক বলেন, ‘মাথা ঘোরা বন্ধ হওয়া, ভারসাম্য ফিরে পাওয়া এবং স্বাভাবিকভাবে হাঁটার শক্তি ফিরে পাওয়ার প্রাথমিক পর্যায়টি মাত্র দুই-তিন দিনের ব্যাপার। পৃথিবীতে ফিরে আসার প্রথম দুই-তিন দিন সত্যিই কঠিন হতে পারে।’ 

সুনীতা ও বুচের মতো নভোচারীরা পৃথিবীতে ফেরার পর অনেক বেশি শরীরচর্চার মাধ্যমে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার চেষ্টা করবেন। তাদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত চলতে পারে। 

মহাকাশ গবেষণার অগ্রগতির ফলে ভবিষ্যতে দীর্ঘ সময় মহাকাশে থাকার প্রভাব কমানোর উপায় বের করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এখনো, মহাকাশ ভ্রমণের পর পৃথিবীতে ফেরার চ্যালেঞ্জ বড় এক বাস্তবতা।

মহাকাশে যাচ্ছেন প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী নভোচারী

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
মহাকাশে যাচ্ছেন প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী নভোচারী
ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির নভোচারী প্যানেলের সদস্য জন ম্যাকফল। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের একজন প্যারালিম্পিয়ান ও সার্জন বিশ্বের প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে মহাকাশে গিয়ে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন। মার্কিন প্রতিষ্ঠানের তৈরি ছোট বাণিজ্যিক মহাকাশ স্টেশনে থাকার বিষয়ে সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকার একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির (ইসা) নভোচারী প্যানেলের সদস্য জন ম্যাকফল গত বছর মহাকাশে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। ২০২৭ সালে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তাবিত ‘হেভেন-১’ মহাকাশ স্টেশনে তিনি একটি অভিযানে অংশ নিতে পারেন। ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন প্রতিষ্ঠান ‘ভাস্ট’ এই হেভেন-১ স্টেশনটি তৈরি করছে। একটি একতলা বাসের চেয়ে কিছুটা ছোট এই স্টেশনে চারজন নভোচারী থাকতে পারবেন। এর ভেতরে রয়েছে ম্যাপল কাঠের আস্তরণ, পৃথিবী দেখার জন্য একটি বড় জানালা এবং একটি গবেষণাগার।

ম্যাকফল বলেন, এটি একটি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর সুযোগ। দুই সপ্তাহের এই অভিযানে মহাকাশের পরিবেশ তার শরীরে কেমন প্রভাব ফেলে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া আধুনিক কৃত্রিম অঙ্গ বা প্রস্থেটিক লিম্বসের ওপর মহাকাশের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করা হবে। এই আধুনিক কৃত্রিম অঙ্গগুলো সাধারণত সেন্সর এবং মাইক্রোপ্রসেসরের সাহায্যে কাজ করে।

ম্যাকফলের এই গবেষণাটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বড় সুবিধা নিয়ে আসতে পারে। এটি হালকা এবং সহজে মানিয়ে নেওয়া যায় এমন কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির নকশায় সাহায্য করবে। এছাড়া হাড়ের ক্ষয় ও পেশি কমে যাওয়ার মতো শারীরিক সমস্যাগুলো বুঝতে এটি অবদান রাখবে। অঙ্গ হারানোদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া আরও উন্নত করতে এই গবেষণা পথ দেখাবে।

বিজ্ঞানের লক্ষ্য ছাড়াও ম্যাকফল মনে করেন এই অভিযান প্রতিবন্ধী মানুষের কাজের পরিধি সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা বদলে দেবে। তিনি বলেন, আমরা দেখাতে চাই যে, শারীরিক প্রতিবন্ধীরাও নভোচারী হতে পারেন। আমরা প্রমাণ করেছি যে, এটি সম্ভব এবং সুযোগ দিলে তারাও সমান পারদর্শী।

ইউকে স্পেস এজেন্সি এই অভিযানের জন্য তহবিল সংগ্রহে ভাস্টকে সহায়তা করবে। ম্যাকফল ও অন্য নভোচারীরা স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুলে করে ফ্যালকন ৯ রকেটের মাধ্যমে হেভেন-১ স্টেশনে যাবেন। এছাড়া আগামী বছর আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) ভাস্টের একটি ব্যক্তিগত অভিযানে অংশ নেওয়ার বিকল্প সুযোগও তার রয়েছে।

৪৫ বছর বয়সী ম্যাকফল ১৯ বছর বয়সে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তার ডান পা হারান। হাসপাতাল ছাড়ার পর তিনি খেলাধুলায় মনোযোগ দেন এবং ২০০৮ সালের বেইজিং প্যারালিম্পিকে ১০০ মিটার দৌড়ে ব্রোঞ্জ জেতেন। পরে তিনি একজন অর্থোপেডিক সার্জন হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেন। ২০২২ সালে তিনি ইসার ‘ফ্লাই’ প্রকল্পের জন্য নির্বাচিত হন।

ম্যাকফল বলেন, একজন ভালো নভোচারী হওয়া এবং নিজের কাজ সঠিকভাবে করা আমার মূল অগ্রাধিকার। আমি এটিকে কোনো প্রচারণার অংশ বানাতে চাই না। আমি একজন পথপ্রদর্শক হিসেবে নতুন কিছু করতে পেরে আনন্দিত। তবে সবার আগে আমি এমন কাজ করতে চাই যা মহাকাশ বিজ্ঞান এবং পৃথিবীর সমাজ উভয়ের জন্য মূল্যবান হয়।

এই অভিযান সফল হলে ২০১৬ সালের পর ম্যাকফল হবেন মহাকাশে যাওয়া প্রথম ব্রিটিশ নাগরিক। তার এই যাত্রাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক মানব মহাকাশ অভিযানের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

/আবরার জাহিন

থিয়েনচিনের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে নতুন যা দেখা গেল

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
থিয়েনচিনের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে নতুন যা দেখা গেল
থিয়েনচিনে হয়ে গেল ২০২৬ বিশ্ব বুদ্ধিমান শিল্প এক্সপো

চীনের উত্তরাঞ্চলীয় থিয়েনচিনে হয়ে গেল ২০২৬ বিশ্ব বুদ্ধিমান শিল্প এক্সপো। চার দিনের এই আয়োজন যৌথভাবে আয়োজন করেছে থিয়েনচিন ও ছোংছিং প্রশাসন। স্মার্ট ইন্ডাস্ট্রি খাতে ক্ষেত্রে জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে এই প্রদর্শনী।

 

 

এবারের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে ছিল ছয়টি থিমভিত্তিক অঞ্চল—যার মধ্যে ছিল কোর এআই প্রযুক্তি, এমবডিড ইন্টেলিজেন্স ও স্মার্ট লিভিং। পাশাপাশি ছিল একটি নিমজ্জিত অভিজ্ঞতা অর্জনের অঞ্চল, যেখানে স্মার্ট প্রযুক্তির সবচেয়ে সর্বাধুনিক উদ্ভাবন ও পণ্য প্রদর্শিত হয়েছে।

থিয়েনচিন মিউনিসিপ্যাল ব্যুরোর শিল্প ও তথ্য প্রযুক্তি গবেষণা অফিসের পরিচালক শেন মামাও জানালেন, ‘এই বছরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি একই সঙ্গে পেশাদার ও সর্বজনীন। একজন পেশাদার ক্রেতা কিংবা একজন বিজ্ঞানী—উভয়েই এখানে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তি খুঁজে পাবেন।’

এক্সপোয় অংশ নিয়েছিল ফরচুন গ্লোবাল-৫০০ কোম্পানির ২৮টি প্রতিষ্ঠান, ৩৭টি চীনের শীর্ষ ৫০০ প্রতিষ্ঠান এবং ৪০০টিরও বেশি স্মার্ট ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানি।

এবারের আয়োজনে আরও ছিল এআই থিম ডে, এন্টারপ্রাইজ ইকোলজি কনফারেন্স, বাজারভিত্তিক ফোরাম, ব্র্যান্ড প্রতিযোগিতা, বিনিয়োগ প্রচার এবং চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। এক্সপো চলাকালে থিয়েনচিনে ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

কাঠামোনির্ভর বুদ্ধিমত্তা বা এমবডিড এআই, মূল এআই প্রযুক্তি, বুদ্ধিমান সংযুক্ত যানবাহন, নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক মহাকাশ অনুসন্ধান, ইন্টেলিজেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং এবং স্মার্ট লিভিং-এর জন্য ছয়টি বিশেষ জোন ছিল প্রদর্শনীতে।

 

 

নজর কেড়েছে এমন কিছু রোবট, যেগুলো কফি তৈরি, সকালের নাস্তা বানানো, রান্না করা ও ক্লাসিক্যাল চীনা বোর্ড গেম ‘গো’ খেলতে পারে। এমনকি বক্সিং করতে সক্ষম রোবটও ছিল এতে। আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল সিঁড়ি বেয়ে উঠতে সক্ষম একটি হুইলচেয়ার।

স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতি এবং ইন্টেলিজেন্ট টার্মিনালের মতো ক্ষেত্রগুলোর উদ্ভাবনী সাফল্যও তুলে ধরা হয়। প্রদর্শনী এলাকায় ছিল বেশ কয়েকটি ব্রেইন-কম্পিউটার-ইন্টারফেস (বিসিআই) পণ্য। এগুলোয় ছিল স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, চোখ পরীক্ষা, খেলাধুলায় সহায়তা এবং পুনর্বাসন প্রশিক্ষণের সুবিধা।

 

 

হাইহ্য ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন গবেষণাগার ও মানব-যন্ত্র সমন্বিতকরণ বিভাগের উপ-পরিচালক লিউ সিয়ুইয়ুন জানালেন, ‘মস্তিষ্ক-কম্পিউটার ইন্টারফেস একটি বহুশাস্ত্রীয় গবেষণার ক্ষেত্র। আমাদের বিভিন্ন শাখার বিজ্ঞানীদের একত্রিত হয়ে মতামত বিনিময় করে নতুন ধারণা তৈরি করতে হবে এবং এই ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

মস্তিষ্কের প্রযুক্তি শিল্পের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে, তা জানতে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের এক ছাদের নিচে এনেছে এই এক্সপো। সূত্র: সিএমজি

মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে নজর চীনের

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে নজর চীনের
দীর্ঘমেয়াদে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশ থেকে তারবিহীন পদ্ধতিতে সরাসরি পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠানো সম্ভব হবে।

বিশ্ব সৌরশক্তি খাতে নিজেদের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করতে চীনের শীর্ষস্থানীয় ফোটোভোল্টাইক কোম্পানিগুলো এখন মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রযুক্তিতে নজর দিচ্ছে। মঙ্গলবার শাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত ১৯তম আন্তর্জাতিক ফোটোভোল্টাইক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও স্মার্ট এনার্জি সম্মেলন ও প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১৩টি শীর্ষ সৌর ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে স্পেস এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অ্যালায়েন্স গঠন করা হয়।

জোটটির লক্ষ্য সৌরবিদ্যুৎ, শক্তি সঞ্চয়, হাইড্রোজেন শক্তি, কম্পিউটিং এবং চার্জিং প্রযুক্তিকে একত্রিত করে মহাকাশ শিল্প ও সবুজ জ্বালানি খাতের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ও দিন-রাতের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই মহাকাশে সৌরশক্তি সংগ্রহ করা সম্ভব। একই সঙ্গে পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তির উন্নতির কারণে উৎক্ষেপণ ব্যয়ও কমছে, যা মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পকে অর্থনৈতিকভাবে বাস্তবসম্মত করে তুলছে।

বিকিরণ-প্রতিরোধী প্রযুক্তির পরীক্ষাগুলো সফল হলে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে মহাকাশে সৌরবিদ্যুতের বাস্তব প্রয়োগ শুরু হতে পারে বলে জানান তারা।

দীর্ঘমেয়াদে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশ থেকে তারবিহীন পদ্ধতিতে সরাসরি পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠানো সম্ভব হবে। এতে দীর্ঘ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন বা গ্রিডের প্রয়োজন কমে যাবে এবং দুর্গম এলাকায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে। সূত্র: সিএমজি

ভুট্টায় প্রোটিন বাড়ানোর জিন আবিষ্কার

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
ভুট্টায় প্রোটিন বাড়ানোর জিন আবিষ্কার
ছবি চায়না ডেইলি

চীনের বিজ্ঞানীরা ভুট্টায় প্রোটিন উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ জিন শনাক্ত করেছেন। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার ভুট্টার পুষ্টিমান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে এবং পশুখাদ্যের জন্য আমদানিকৃত সয়াবিনের ওপর চীনের নির্ভরতাও কমাবে।

চীনের বিজ্ঞান একাডেমির সেন্টার ফর এক্সেলেন্স ইন মলিকুলার প্ল্যান্ট সায়েন্সেস, শাংহাইয়ের নরমাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিছুয়ান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণা দলের ১৫ বছরের গবেষণার ফলাফল বুধবার বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন আবিষ্কৃত টিএইচপি৩-টি নামের জিনটি ২০২২ সালে আবিষ্কৃত টিএইচি৯-টি নামের আরেকটি জিনের সঙ্গে একত্রে ব্যবহার করলে সাধারণ ভুট্টার প্রোটিনের পরিমাণ ১০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। একই সঙ্গে চীনে ব্যাপকভাবে চাষ হওয়া বাণিজ্যিক হাইব্রিড ভুট্টার প্রোটিনের পরিমাণ ৮ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১২–১৩ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

গবেষক উ ইয়োংরুই জানান, টিএইচপি৩-টি জিনটি নাইট্রোজেন বিপাক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি উদ্ভিদকে আরও দক্ষতার সঙ্গে নাইট্রোজেন গ্রহণ ও ব্যবহার করতে সাহায্য করে, ফলে বেশি অ্যামিনো অ্যাসিড ও প্রোটিন উৎপাদন সম্ভব হয়।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, এই দুই জিন একসঙ্গে কাজ করলে ভুট্টা কম নাইট্রোজেনযুক্ত মাটিতেও উচ্চ প্রোটিন উৎপাদন করতে পারে। এতে রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রয়োজনও কমবে। বর্তমানে চীনে পশুখাদ্যে ব্যবহৃত প্রোটিনের প্রধান উৎস সয়াবিন, যার প্রায় ৮০ শতাংশই চীন আমদানি করে। 

বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, যদি সারা দেশে পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত ভুট্টার প্রোটিনের পরিমাণ গড়ে ৪ শতাংশ বাড়ানো যায়, তাহলে বছরে প্রায় ৩ কোটি টন সয়াবিন আমদানির প্রয়োজন কমে যেতে পারে।

গবেষকদের মতে, উচ্চ প্রোটিন ভুট্টা পশুখাদ্যে ব্যবহৃত সয়াবিন মিলের ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিস্থাপন করতে পারবে। হাঁস-মুরগির খামারেও সয়াবিনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। সূত্র: চায়না ডেইলি

এআই-চালিত বিশ্বের প্রথম ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র বানাল চীন

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
এআই-চালিত বিশ্বের প্রথম ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র বানাল চীন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত ট্রান্সমিশন ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ

বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত ট্রান্সমিশন ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ (টিইএম) সিস্টেম তৈরি করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। সিস্টেমটি যৌথভাবে তৈরি করেছে তালিয়ান রাসায়নিক পদার্থবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও শেনইয়াং ইনস্টিটিউট অব অটোমেশন।

সম্প্রতি বেইজিংয়ে চায়না পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি ফেডারেশন পরিচালিত প্রযুক্তিগত মূল্যায়নে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয় অণুবীক্ষণ যন্ত্রটি। বিশেষজ্ঞরা একে বিশ্বের প্রথম এআই-চালিত ট্রান্সমিশন ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ সিস্টেম হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

এ আবিষ্কারের জন্য গবেষকদের পাঁচটি মূল প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হয়েছিল—উচ্চ-বায়ুশূন্য পরিবেশে নমুনা স্থানান্তর, স্বয়ংক্রিয় ইলেকট্রন অপটিক্স সমন্বয়, ন্যানোস্তরে নির্ভুল অবস্থান নির্ধারণ, স্বয়ংক্রিয় চিত্র গ্রহণ ও বিশ্লেষণ এবং বুদ্ধিমান সময়সূচি ব্যবস্থাপনা।
গবেষণা দলের প্রধান অধ্যাপক তং তেহুই জানান, এআই-১ নমুনা সরবরাহ, চিত্র গ্রহণ এবং তথ্য বিশ্লেষণের পুরো প্রক্রিয়া মানবহীনভাবে পরিচালনা করতে পারে। এর চিত্র বিশ্লেষণ ক্ষমতা মানুষের তুলনায় ৩০০ গুণেরও বেশি দ্রুত।

পরীক্ষামূলক ব্যবহারে দেখা গেছে, এআই-১ প্রতিদিন গড়ে ১৬৮টি নমুনা বিশ্লেষণ এবং চার হাজারের বেশি ছবি সংগ্রহ করতে সক্ষম। মাত্র দুই সপ্তাহে এটি যে পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, তা প্রচলিত ব্যবস্থার এক বছরের কাজের সমতুল্য। নতুন এই প্রযুক্তি জিনোমিক্স, সবুজ জ্বালানি ও জীবনবিজ্ঞান গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে বলে আশা করছেন গবেষকরা। সূত্র: সিএমজি