বসন্তের শীতল বাতাসে পরাগায়নকারী পতঙ্গগুলোর জন্য উড়তে বের হওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। তবে কিছু ফুল সূর্যের তাপ শোষণ করে নিজেদের গরম রাখার মাধ্যমে পোকামাকড়কে আকৃষ্ট করে এবং তাদের জন্য উষ্ণ পরিবেশ তৈরি করে।
মাউন্টেন অ্যাভেন্সের সাদা ও কাপ-আকৃতির ফুলগুলো নিজেদের তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়িয়ে পোকামাকড়কে আকৃষ্ট করে। এই উষ্ণতা ফুলের মধুকে আরও মিষ্টি করে তোলে, যা পোকামাকড়কে আরও বেশি সময় ধরে ফুলে অবস্থান করতে উৎসাহিত করে। ফলে পরাগায়নের হার বৃদ্ধি পায়। আর পরাগায়ন ভালোভাবে হলে বীজও ভারী হয় এবং অঙ্কুরোদ্গম ভালো হয়। তাই উদ্ভিদ ও পোকামাকড় উভয়ের জন্য এটি লাভজনক। আর্কটিক পপিফুল সূর্যের দিক অনুসরণ করে সর্বোচ্চ পরিমাণ সূর্যালোক শোষণ করে। এটি আলো কমে গেলে পাপড়ি বন্ধ করে দেয় এবং উজ্জ্বলতা বাড়লে আবার খুলে যায়। এভাবে তারা নিজেদের উষ্ণ রাখে, যা পতঙ্গকে আকৃষ্ট করতে সাহায্য করে।
কিছু ফুল নিজেদের ক্ষুদ্র গ্রিনহাউসে পরিণত করে তাপ ধরে রাখে। যেমন- ইয়েলো র্যাটল ফুল স্বচ্ছ ব্র্যাক্ট বা পাতার সাহায্যে একটি বুদ্বুদ আকৃতির আবরণ তৈরি করে। এই কাঠামো অতিবেগুনি রশ্মি ফিল্টার করে এবং দীর্ঘতর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়। ফলে ফুলের ভেতরের বাতাস গ্রিনহাউসের মতো গরম হয়।
এভাবে ফুলগুলো নিজেদের এবং পোকামাকড়ের জন্য আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করে, যা তাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করে। পতঙ্গ উষ্ণতা ও মিষ্টি পরাগ রস পায়, আর গাছগুলো সফলভাবে পরাগায়িত হয়ে উন্নতমানের বীজ উৎপাদন করতে পারে। গবেষকরা বলছেন, ফুলের এই প্রাকৃতিক অভিযোজন পরাগায়নের হার বাড়িয়ে উদ্ভিদজগতের টিকে থাকার সম্ভাবনা আরও শক্তিশালী করছে।


