প্রাচীন মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে চাঁদের চারপাশে উপগ্রহ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাজ্যের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ব্লু স্কাইস স্পেস। ইতালিয়ান স্পেস এজেন্সির অর্থায়নে এক প্রকল্পে প্রতিষ্ঠানটি এমন একাধিক উপগ্রহ ডিজাইন করছে, যা চাঁদের দূরবর্তী অংশ আবর্তনের মাধ্যমে মহাবিশ্বের সূচনালগ্নের ক্ষীণ রেডিও সংকেত শনাক্ত করতে পারবে।
পৃথিবী থেকে মানবসৃষ্ট রেডিও তরঙ্গের কারণে এ সংকেতগুলো শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব। তবে চাঁদের দূরবর্তী অংশ এই রেডিও গোলযোগ থেকে মুক্ত, তাই সেখানে এই সংকেত শনাক্ত করা সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ব্লু স্কাইস স্পেসের প্রধান নির্বাহী মার্সেল টেসেনি বলেন, ‘আমরা মহাবিশ্বের ‘ডার্ক এইজ’ বা অন্ধকার যুগে চোখ রাখতে চাই। আদি মহাবিশ্বের বৃহৎ কাঠামো সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে চাই। পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে এটি করা খুব কঠিন।’
ইতালীয় মহাকাশ সংস্থা ২ লাখ ইউরোর এই প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন করেছে। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য চারটি বা তার বেশি স্যাটেলাইটের একটি বহর রেডিও সংকেত শনাক্ত করতে পারবে কি না, তা খুঁজে বের করা। এই সংকেতগুলো মূলত এফএম রেডিও তরঙ্গের সীমার মধ্যে পড়ে। বিগ ব্যাংয়ের ১০ লাখ বছরেরও কম সময়ের পুরোনো এই সংকেতগুলো প্রথম নক্ষত্র গঠনের আগের সময়কালের তথ্য দিতে পারে, যখন মহাবিশ্ব মূলত হাইড্রোজেন গ্যাসে পরিপূর্ণ ছিল।
চাঁদের দূরবর্তী অংশ, অর্থাৎ পৃথিবী থেকে সব সময় আড়ালে থাকে, সেখানে এই সংকেত শনাক্তের জন্য সবচেয়ে উপযোগী বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
নাসা চাঁদে প্রথম সফলভাবে রেডিও টেলিস্কোপ ব্যবহার করেছে। ২০২৪ সালে ওডিসিউস ল্যান্ডারে তারা রোলসেস-১ (ROLSES-1) টেলিস্কোপ স্থাপন করেছিল। এটি অবতরণের সময় কাত হয়ে গেলেও যন্ত্রটি কার্যকর ছিল। এ বছর নাসা আরও একটি ক্ষুদ্র টেলিস্কোপ লুসি-লাইট (LuSEE-Lite) উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করেছে। ভবিষ্যতে একটি বৃহৎ টেলিস্কোপ চাঁদের গহ্বরে স্থাপনেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে ব্লু স্কাইস স্পেস সহজ ও কম খরচের কিউবস্যাট ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে। এটি চাঁদের কক্ষপথে ঘুরবে ও ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির ‘মুনলাইট’ প্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এই উপগ্রহের সাহায্যে মহাকাশ পর্যবেক্ষণের সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করা ও পৃথিবীতে তথ্য পাঠানো সহজ হবে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ মহাবিশ্বের গঠনের প্রাথমিক ধাপ সম্পর্কে নতুন তথ্য এনে দেবে।


