যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের এক দম্পতি ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হিমায়িত (ফ্রোজেন) ভ্রূণ থেকে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে হিমায়িত থাকা কোনো ভ্রূণ থেকে সফলভাবে জন্ম নেওয়া শিশু।
লিন্ডসে ও টিম পিয়ার্স ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) পদ্ধতির মাধ্যমে সন্তান ধারণের চেষ্টা করেন। পরে ‘ভ্রূণ দত্তক’ বা এমব্রিও অ্যাডপশন পদ্ধতির সাহায্য নেন। তারা ১৯৯৪ সাল থেকে হিমায়িত অবস্থায় থাকা কয়েকটি ভ্রূণ দত্তক হিসেবে গ্রহণ করেন। চলতি মাসের শুরুতে তাদের সদ্যোজাত ছেলেটি ১১ হাজার ১৪৮ দিন ধরে হিমায়িত ছিল, যা ৩০ বছর ৫ মাস ৯ দিনের সমান।
‘ভ্রূণ দত্তক’ ধারণাটি যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৯০-এর দশক থেকে প্রচলিত থাকলেও সম্প্রতি এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া অব্যবহৃত ভ্রূণ ফেলে দেওয়ার বিরোধিতা করেন অনেকে। বিশেষ করে খ্রিষ্টানভিত্তিক বিভিন্ন সংস্থা মনে করে, ভ্রূণও একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনের অংশ এবং তাদের একটি পরিবারের সান্নিধ্য পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
এই ভ্রূণ দান করেছেন ৬২ বছর বয়সী লিন্ডা আর্চার্ড। তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় অনুভব করেছি, এই ছোট্ট ভ্রূণগুলোর বেঁচে থাকার অধিকার আছে। এগুলোর আমার মেয়েদের মতো বেঁচে থাকার অধিকার আছে।’
লিন্ডা ১৯৯৪ সালে আইভিএফ পদ্ধতির সাহায্য নেন। তখন তিনি চারটি ভ্রূণ তৈরি করান। প্রথম কন্যাসন্তানের জন্মের পর তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ায় বাকি ভ্রূণগুলো আর ব্যবহার করা হয়নি। কয়েক দশক ধরে হিমায়িত ভ্রূণগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি অপরাধবোধে ভুগছিলেন। অবশেষে তিনি ‘স্নোফ্লেকস’ নামের একটি দত্তক সংস্থার মাধ্যমে পিয়ার্স দম্পতির খোঁজ পান।
প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল ছিল। লিন্ডাকে তার চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাগজপত্র খুঁজে বের করতে হয়েছে। এরপর ভ্রূণগুলো অরেগন থেকে টেনেসিতে পিয়ার্স দম্পতির চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়। লিন্ডা মোট তিনটি ভ্রূণ দান করেছিলেন। এর মধ্যে একটি ভ্রূণ সংরক্ষণের পর ব্যবহারযোগ্য ছিল না। বাকি দুটি লিন্ডসের জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়, যার মধ্যে একটি সফলভাবে প্রতিস্থাপিত হয়ে জন্ম নেয় এই শিশু।
চিকিৎসক ড. জন ডেভিড গর্ডন জানিয়েছেন, প্রায় ৩১ বছর ধরে হিমায়িত থাকা ভ্রূণ থেকে সফলভাবে শিশু জন্মদানের ঘটনা এটিই প্রথম। মজার বিষয় হলো, এর আগের রেকর্ডটিও তার ক্লিনিকের ছিল। তখন ৩০ বছর বা ১০ হাজার ৯০৫ দিন ধরে হিমায়িত ভ্রূণ থেকে যমজ শিশুর জন্ম হয়েছিল।
ড. গর্ডন বলেন, ‘এই গল্পগুলো মানুষের কল্পনাকে নাড়া দেয়। তবে এটি একটি সতর্কবার্তাও দেয়—কেন এত ভ্রূণ বছরের পর বছর ধরে সংরক্ষণাগারে পড়ে আছে?’
পিয়ার্স দম্পতি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা কোনো রেকর্ড গড়ার কথা ভেবে এই পথে আসিনি, আমরা শুধু একটি সন্তান চেয়েছিলাম।’
অন্যদিকে ভ্রূণদাতা লিন্ডা আর্চার্ড এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি আবেগঘন রোলার কোস্টার যাত্রা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করছি, ওরা শিশুর ছবি পাঠাবে। কোনো একদিন ওদের সঙ্গে এবং শিশুটির সঙ্গে দেখা করতে পারলে আমার স্বপ্ন সত্যি হবে।’


