মানুষ কি কখনো পৃথিবী ছেড়ে কয়েক প্রজন্ম ধরে চলা মহাকাশ যাত্রায় বেরিয়ে পড়তে পারবে? একবার ভাবুন তো, ৪০০ বছর দীর্ঘ এক মহাকাশযাত্রার কথা, যার গন্তব্য নিকটতম নক্ষত্রমণ্ডল আলফা সেন্টোরি। এটি এমন এক যাত্রা, যেখান থেকে পৃথিবীতে ফেরার কোনো সুযোগ নেই। এমনই এক কল্পনা ঘিরে তৈরি হয়েছে ‘ক্রাইসালিস’ নামের মহাকাশযানের ধারণা।
সম্প্রতি প্রকৌশলীদের এক নকশা প্রতিযোগিতায় এমনই এক কাল্পনিক মহাকাশযানের ধারণা বিজয়ী হয়েছে। এটি প্রায় ২ হাজার ৪০০ মানুষকে নিয়ে ২৫ ট্রিলিয়ন মাইল দূরের পথ পাড়ি দিতে পারবে। যদিও এটি নিছকই একটি ধারণা। তবে এটি আমাদের সামনে প্রশ্ন দাঁড় করায়: আপনি কি এমন একটি অসাধারণ যাত্রার অংশ হতে ইচ্ছুক?
প্রকল্পটি এখনো সম্পূর্ণ কল্পনানির্ভর। তবে ‘ক্রাইসালিস’ নামের এই কাল্পনিক মহাকাশযানের নকশাটি এ বছরের ‘প্রজেক্ট হাইপেরিয়ন ডিজাইন কম্পিটিশন’-এ প্রথম স্থান অর্জন করেছে। এই প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি মহাকাশযানের নকশা তৈরি করা, যা কয়েক প্রজন্ম ধরে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ মানবসমাজকে টিকিয়ে রেখে আন্তঃনাক্ষত্রিক ভ্রমণ করতে পারে। প্রকৌশলীরাও এমন মহাকাশযানের নকশা দিয়েছেন, যেখানে কয়েক প্রজন্ম টিকে থেকে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মহাশূন্যে ভ্রমণ করতে পারে।
ক্রাইসালিস পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, মহাকাশযানটি প্রায় ৪০ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার দূরের ‘প্রক্সিমা সেন্টোরি বি’ নামের এক্সোপ্ল্যানেটে যাত্রীদের নিয়ে যাবে। এটি সৌরজগতের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থিত, যাকে জীবনধারণের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে ধরা হয়।
এই যাত্রার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি হবে ‘মাল্টিজেনারেশনাল বা বহু প্রজন্মের’ যাত্রা। এর অর্থ হলো, যারা পৃথিবী থেকে যাত্রা শুরু করবেন, তারা বা তাদের সন্তানরাও হয়তো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন না। হয়তো তাদের নাতি-নাতনি বা তারও পরের কোনো প্রজন্ম সেই নতুন গ্রহে পা রাখবে। বর্তমানে এমন দীর্ঘ ভ্রমণের প্রযুক্তি মানুষের কাছে নেই। তবে এই ধরনের প্রকল্পগুলো প্রকৌশলীদের ভবিষ্যতে মহাকাশ ভ্রমণের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে ভাবতে এবং নতুন নতুন সমাধানের পথ খুঁজতে উৎসাহিত করে।
আপনি কি এমন এক যাত্রায় যোগ দিতে প্রস্তুত, যেখানে পৃথিবীতে আর ফেরা সম্ভব নয়? গবেষকরা বলছেন, মহাকাশে স্থায়ী বসতি গড়ার ভাবনা যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি তা মানবজীবনের চিরাচরিত ধারা বদলে দেবে।
আলফা সেন্টোরির উদ্দেশে এ ধরনের কল্পিত যাত্রা মানবজাতির ভবিষ্যৎ অনুসন্ধানের দিগন্ত প্রসারিত করছে। তবে বাস্তবে তা সম্ভব হতে কত সময় লাগবে, সে উত্তর এখনো অজানা। সূত্র: লাইভ সায়েন্স


